Skip to main content

অন্তিম স্বীকারোক্তি ।। বিতস্তা বোস

প্রেম-নবপ্রভাত

অন্তিম স্বীকারোক্তি

বিতস্তা বোস


"আসবো ম্যাম?"— কনস্টেবল নন্দীর গলা পেয়ে ফাইল গুলোর থেকে মাথা তুলে তাকালো বহ্নিশিখা।
"ইয়েস প্লিজ"— গম্ভীর গলায় বললো সে।
কনস্টেবল নন্দী বহ্নিশিখার রুমে ঢুকে এসে ওর সামনে টেবিলের উপর একটা বড় সাদা কাগজ রাখলো।
বহ্নিশিখা কাগজটা হাতে নিতে নিতে বললো—"অবশেষে তাহলে বিশ্বাসঘাতকতাটা কে করল শুনি!"
কনস্টেবল নন্দীও বিন্দু মাত্র সময় নষ্ট না করে বলে উঠলো—"ওই যে ম্যাম, শেষ যে দুটো ছেলেকে নেপাল বর্ডার থেকে ধরা হলো তাদের মধ্যেই একজন। সে বলেছে সে মাত্র একবারই দেখেছে লোকটিকে, তাও নাকি দরজার আড়াল থেকে। ওর দেওয়া বর্ণনা শুনেই কোনরকমে আমাদের আর্টিস্টকে দিয়ে আঁকিয়েছি এই ছবিটা।"
বহ্নিশিখা কাগজে আঁকা ছবিটার দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বললো— "লোকটা ছদ্মবেশে ছিল। এই ছদ্মবেশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আসল লোকটাকে খুঁজে বের করা কিন্তু অতটাও সহজ কাজ হবেনা আমাদের জন্য।" তারপর একটু থেমে বললো— "আচ্ছা আপনি এখন আসুন। আমি দেখি এই ছবিটা দিয়ে আসল লোকটার কোনো ট্রেস পাওয়া যায় কিনা!"
বহ্নিশিখা, এস.পি. বহ্নিশিখা লাহিড়ী, বিশেষ তদন্তকারী অফিসার হিসেবে মাস দুয়েক হলো আলিপুরদুয়ারে বদলি হয়ে এসেছে। বেশ কয়েকমাস ধরে ডুয়ার্স-এর জঙ্গলে একদল পশু পাচারকারির খোঁজ চলছে। সেই কেসের তদন্তের জন্যেই তাকে এখানে বদলি করা হয়েছে। এস.পি. পদে উন্নতি হওয়ার পর এটাই তার প্রথম বড় কেস। রাত দিন এক করে সে এই পাচারকারীদের ধরার চেষ্টা করে চলেছে। বেশ কিছু চুনোপুটি ধরা পড়লেও এখনও মূল মাথার সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে আজ নেপাল বর্ডারে হাতির দাঁত পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়া একজনের দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী আঁকা একটি ছবি পাওয়া গেছে মূল মাথার। যদিও ছবিটিতে লোকটি একটি পাঞ্জাবির ছদ্মবেশে রয়েছে। বহ্নিশিখা নিশ্চিত লোকটি একই ছদ্মবেশে কখনও থাকেনা। ও ভালো করে তাকালো ছবিটির দিকে। এক মুখ দাড়ি, মাথায় পাগড়ি, চোখে চশমা— এই সবের আড়ালে লুকিয়ে থাকা চোখ দুটোর দিকে চেয়ে বহ্নিশিখার কেমন যেনো একটা অস্বস্থি হচ্ছিল। সেই অস্বস্তিটা মুখে বলে বোঝাতে পারবে না, সে নিজেও জানেনা এই অস্বস্তির কারণ। ছবিটি একটা পেপার ওয়েট দিয়ে চাপা দিয়ে তার জন্যে দিয়ে যাওয়া চায়ের কাপটা হাতে নিলো সে। চায়ের কাপে একটা চুমুক দিয়েই আবার সে ছবিটার দিকে তাকালো। ডাকাবুকো অফিসার বহ্নিশিখার চোখে প্রথমবার একটা অদ্ভুত ভয় দেখা দিলো। যা কিনা তার ভাবনার অতীত, যা সে কোনোদিন দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি সেটাই সত্যি হওয়ার ভয়…!

                               ***

সালটা ২০১৩, সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ বনি চলেছে আলিপুরদুয়ারের পথে এক আত্মীয়ের বিয়ের নিমন্ত্রণে। আলিপুরদুয়ারে ছিল তাদের সাত পুরুষের ভিটে। যদিও বাবার চাকরি সূত্রে বনির বেড়ে ওঠা কলকাতাতেই। তবে ছোটো বেলায় বহুবার গেছে সে আলিপুরদুয়ারে সেই বাড়িতে তার দাদু-ঠাকুরমার কাছে। প্রায় আট বছর আগে দাদু-ঠাকুরমা গত হওয়ার পর তার বাবা সেই বাড়ি বিক্রি করে সেখানকার পাট চুকিয়ে ফেলে। তারপর থেকে সেখানে আর তাদের যাওয়া হয়নি। এবারের এই নিমন্ত্রণটি এড়াতে না পেরে এক প্রকার বাধ্য হয়েই তাদের সেখানে আবার যেতে হচ্ছে।
কোচবিহার পর্যন্ত ফ্লাইটে গিয়ে সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে আলিপুরদুয়ার পৌঁছতে তাদের সন্ধ্যে হলো। পরদিন সকালে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সকলে হলুদ শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে হাজির হয়েছে। সকলের মাঝে অত্যন্ত বেমানান ভাবে একটি সবুজ শার্টে উপস্থিত হলো প্রায় ছফুট লম্বা, বছর কুড়ি–বাইশের একটি ছেলে। বৈশাখের ওই প্রচণ্ড গরমেও তার পায়ে মোজা এবং কভার শু। বনি ড্রেসের ব্যাপারে খুব পার্টিকুলার। তবু এই প্রথমবার একটা খারাপ প্রসাধন জ্ঞানের মানুষকে দেখেও ওর মনের মধ্যে এক অন্যরকম অনুভূতি হলো, যেন এক মুহূর্তর জন্য ওর হৃদস্পন্দন থমকে দাঁড়ালো। সন্ধ্যেতে বিয়ের সময়ও সেই একই ভাবে একটি নীল শার্টে উপস্থিত হলো সেই ছেলেটি। সকলের থেকে কেমন একটা বিচ্ছিন্ন হয়ে দাঁড়ালো একপাশে। বনির যেন এক অদ্ভুত আকর্ষণ জন্মেছে ওর প্রতি, ওর বড্ড ইচ্ছা করছিল ছেলেটির পরিচয় জানতে, তার সাথে আলাপ করতে। ওর মনের কথা বোধহয় ঠাকুর শুনতে পেয়েছিল। পরদিন সকালে বনি তার মা বাবার সাথে বসে জলখাবার খাচ্ছে এমন সময় এক ভদ্রলোক তাদের সামনে এসে তার বাবার উদ্যেশে বললো— "ভালো আছো ভুবন?" তার বাবা মাথা তুলে লোকটির মুখের দিকে চেয়ে হেসে বললো—"আরে! সমরেশদা যে। কতদিন পর দেখা।" সে বললো— "আজ তো সন্ধ্যেতে বধূবরণের আগে আর সেরকম কিছু নেই। জলখাবার খাওয়া শেষ করে ঘুরে যাও আমাদের বাড়ি থেকে। সে তো একসময় তোমাদেরই বাড়ি ছিল। দেখে যাও সেই বাড়িটিকে। এই পাশের গলিতেই তো।" বনিদের বাড়ি ওরাই কিনেছিল। অবশেষে তার জোরাজুরিতে তারা গেলো সেই বাড়িতে। বাড়িটা ঠিক আগের মতই আছে শুধু রংটা বদল হয়েছে। বাড়িতে ঢুকতেই সেই ছেলেটির সাথে আবার দেখা। সমরেশ বাবুর ছেলে ও। অবশেষে তার পরিচয় জানতে পারল বনি। খুব স্বল্পভাষী ছেলেটি, নাম শুভ্র বিশ্বাস। সদ্য বি.এ. পাস করে এখন এম.এ. পড়ার পরিকল্পনা করছে সে।
দেখতে দেখতে বিয়ে বাড়ির পর্ব শেষ করে তারা ফিরে এলো কলকাতায়। সারাটা রাস্তা এমনকি কলকাতায় ফিরেও শুভ্রকে ভুলতে পারছিল না বনি। বার-বার মনে হচ্ছিল যদি আর একটিবার তার সাথে দেখা হয়ে যায়। নিয়তির খেলা সত্যিই অদ্ভুত। মাস ছয়েক পর কলেজের বাইরে একদিন অপ্রত্যাশিত ভাবে আবার শুভ্রর সাথে দেখা তার। দুজন দুজনকে দেখা মাত্রই একে অপরের দিকে এগিয়ে এলো তারা। বনির মুখে হালকা হাসি গোধূলি আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
"তুমি এখানে?"— জিজ্ঞেস করলো সে।
"এইতো পাশের কলেজটাই তো আমার। তুমি বুঝি এই কলেজটায় পড়ো?"— বললো শুভ্র।
শুভ্রর চোখের দিকে চেয়ে, বনর তখন চোখের পলক পড়ছে না। তার প্রশ্নের উত্তরে শুধু হালকা ঘাড় নাড়ল। এবার থেকে তার সাথে প্রায়ই দেখা করার সুযোগ পাবে, মনে মনে ভাবলো বনি।
"আমি তো কলকাতার বিশেষ কিছুই চিনিনা। তুমি তো কলকাতারই মেয়ে। তোমার ফোন নাম্বারটা যদি পেতাম…"— শুভ্রর কথাটা যেন বনির মনের ইচ্ছাটাই পূরণ করলো।
এরপর থেকে কলেজের পর প্রায় দিনই দেখা করে তারা। শুভ্র কম কথা বলা ছেলে। তবে যেটুকু কথা বলতো বনি মুগ্ধ হয়ে শুধু শুনতো আর আরও বেশি করে ওর মায়ায় পড়ে যেতো। কি সুন্দর ওর কথা বলা। অল্প কথায় কি সুন্দর করে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে ও। ওর সব পছন্দগুলো বনির পছন্দের ঠিক উল্টো। তবু যেন সেগুলোকেই ওরও পছন্দ হতে শুরু করলো। ওর জঙ্গল ভালোলাগে আর বনির পাহাড়। শুভ্র ভালবাসে রবীন্দ্রসঙ্গীত আর বনির পছন্দ রক্। হাজার অমিলের মাঝেও যেন দুটি হৃদয় মিলেমিশে যেতে লাগলো। প্রিন্সেপ ঘাটে বসে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে দুজন দুজনের সাথে অনেক কথা ভাগ করতো। শুধু বনির নিজের মনের কথাটাই বলা হলো না। এভাবেই তিনটে বছর কেটে গেলো। শুভ্র তখন এম.এ. শেষ করে কলকাতাতেই একটি চাকরি করে। অপরদিকে বনিরও গ্র্যাজুয়েশন শেষ। এরপর সে মাস্টার্সের জন্য দিল্লির একটি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবে। সে মনে মনে ঠিক করে নিয়েছিল কলকাতা ছেড়ে যাওয়ার আগে শুভ্রর প্রতি ওর ভালোলাগার কথা ওকে জানিয়ে দেবে। কিন্তু শুভ্রর এতদিন সব কথার মধ্যে একটা কথা স্পষ্ট ছিল। প্রেম–ভালোবাসা এই সবের প্রতি ওর তীব্র অবিশ্বাস, নিজের মতো একা জীবন কাটাতে চাওয়া।
বনির কলেজে আজ কনভোকেশন। শুভ্রও এসেছিল কিন্তু শার্ট নয়, পাঞ্জাবিতে। অনেক গল্প করলো দুজন আর বনি শেষবারের মত দুচোখ ভরে দেখলো তার শুভ্রকে। কিন্তু সেদিনও নিজের মনের কথাটি আর জানিয়ে উঠতে পারল না সে। শুধুমাত্র শুভ্রর একা থাকতে চাওয়ার ইচ্ছেটাকেই যেন সম্মান জানিয়ে সেদিনও সে চুপ থাকলো। কাল সকালের ফ্লাইটেই সে দিল্লি চলে যাচ্ছে। আর কি কোনোদিন দেখা হবে না দুজনের? সেদিন বাড়ি ফেরার পথে একটা অদ্ভুত চাপা কষ্ট হচ্ছিল বনির। যে কোনোদিন তার ছিলই না তাকেই হারিয়ে ফেলার কষ্ট। দম বন্ধ হয়ে আসা এক যন্ত্রণা। এই তিন বছরে শুভ্র যেন তার অভ্যেস হয়ে গিয়েছিল। কি করে থাকবে সে শুভ্রকে ছাড়া? "আমি যত বেশি তোমার সাথে কথা বলব তত বেশি করে তোমার মায়ায় জড়িয়ে পড়বো", বনি ঠিক করলো দিল্লি চলে যাওয়ার পর সে আর শুভ্রর সাথে কোনো যোগাযোগ রাখবে না। "দেখি যদি এই ভাবে ভুলে থাকতে পারি তোমায়"— মনে মনে ভাবলো বনি।

                              ***

ট্র্যাফিক সিগন্যাল, রাজ্য এবং দেশের বর্ডার, বিমানবন্দর, রেল স্টেশন— এই সব জায়গাতেই লোকটির সেই আঁকা ছবিটি পাঠিয়ে দিয়েছে বহ্নিশিখা। যদিও সে জানে এই ছবিটি দিয়ে লোকটির সন্ধান সে এই সব জায়গা থেকে কোনো ভাবেই পাবে না। যে এত বড় পশু পাচার ব্যবসা চালাচ্ছে সে একই ছদ্মবেশে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর মত কাঁচা কাজ করবে না। এই সব প্রাথমিক পদক্ষেপ ছাড়া আর কি ভাবে তদন্তটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় তা বহ্নিশিখার মত একজন পোড় খাওয়া আই.পি.এস. অফিসার খুব ভালো করেই জানে। তবু যেন সে অনর্থক ধীরে চলছিল। কেনো সে এমনটা করছে, কাকে বাঁচাতে চাইছে সে— এর উত্তর বোধহয় ওর নিজের কাছেও নেই। বহ্নিশিখা অত্যন্ত উত্সর্গীকৃত তার কাজের প্রতি। তবু তার এহেন আচরণ যেনো তার নিজের কাছেই নিজেকে খুব অচেনা করে তুলছিল। এই ভাবেই সপ্তাহ খানেক কাটার পর বহ্নিশিখা আজ তদন্তের নতুন ধাপে পা ফেললো। তার নির্দেশে আজ তার তদন্তকারী দল বিভিন্ন সফ্টওয়ারের সাহায্যে সেই ছবিটির থেকে গোঁফ, দাড়ি, পাগড়ি সরিয়ে লোকটির আসল মুখটা খোঁজার কাজ শুরু করেছে। বেশ কয়েকটি ছবি এক এক করে তার সামনে এনে দেখানো হচ্ছে কিন্তু সে প্রত্যেকবার বলছে,"না এরকম নয়। আরেকবার চেষ্টা করো। এই চোখ ছবিতে আঁকা চোখের সাথে মিলছে না।" অবশেষে একটি ছবি তার সামনে হাজির করা হতেই তার মুখ কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে গেলো। "এই তো সেই চোখ"— মনে মনে ভাবলো বহ্নিশিখা। যতটা সম্ভব নিজের মনকে শক্ত করে সে বললো—"গাড়ি বের করো আর ফোর্সও তৈরি রাখো।"
কিছুক্ষণের মধ্যেই ফোর্স নিয়ে বহ্নিশিখা পৌঁছলো আলিপুরদুয়ারেই এক গৃহস্হ্ বাড়িতে। গাড়িতে যেতে যেতেই সে তার ফোর্সকে সেখানে পৌঁছে কি করতে হবে সমস্তটা বুঝিয়ে দিয়েছিল। বাড়িটির সামনে পৌঁছনো মাত্রই পুলিশ ফোর্স পুরো বাড়িটা ঘিরে ফেললো। কয়েকজন ভেতরে ঢুকে গিয়ে সার্ভিস রিভলবার বের করে সেখানে উপস্থিত সকলকে আদেশ করলো—"কেউ এক পাও নড়বেন না। যে যেখানে আছেন চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকুন।" বহ্নিশিখা বাড়িটায় ঢোকার মুখে দেখতে পেলো ফুল দিয়ে সাজানো বাড়িটার সদর দরজার উপরে থার্মকল দিয়ে লেখা 'শুভ্র ওয়েডস্ নিশা'। সেই বাড়ি যেখানে অষ্টাদশীর বনির প্রথম আলাপ হয়েছিল শুভ্রর সাথে। বহ্নিশিখা ভেতরে ঢুকে সোজা গিয়ে বন্দুক ধরলো সকলের চোখ এড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করা আসল অভিযুক্ত অর্থাৎ শুভ্রর মাথায়। হ্যাঁ, ছদ্মবেশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আসল মানুষটি ছিল শুভ্রই। বহ্নিশিখা সে ছবি দেখা মাত্রই তাকে চিনতে পেরেছিল। তার বাড়ি এসে যে স্বয়ং তাকেই হাতে নাতে ধরতে পারবে সেটা অবশ্য ভাবতে পারেনি সে। শুধুমাত্র যদি তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায় তার মা বাবার থেকে সেই আশাতেই এসেছিল সে।
"হ্যান্ডস আপ"— বহ্নিশিখার গলা পেয়ে ঘুরে তাকালো শুভ্র। দুজন দুজনের চোখে চোখ রাখল। আজ প্রায় দশ বছর পর তাদের দেখা। কিন্তু সেটা যে এরকম ভাবে হবে তা দুজনের কেউই কোনোদিন ভাবতে পারেনি। বহ্নিশিখার চোখে তখন একরাশ অভিমান আর অসহায়তা। "কেনো এমনটা করলে শুভ্র। তোমার সবটাই কি মিথ্যে ছিল? তোমার সেই বিয়ে না করে সারাটা জীবন একা কাটাতে চাওয়ার ইচ্ছা, তোমার মধ্যের সেই স্বচ্ছ মানুষটা যার প্রেমে আমি বার-বার পড়েছি? সবটাই কি নকল তুমি ছিলে নাকি এখন যা হচ্ছে সেই সব আমার তদন্তের ভুল?"— মনের মধ্যে হাজারটা অনুভূতি ঘুরপাক খেতে লাগলো তার। তারপর যতটা সম্ভব নিজের গলা না কাঁপিয়ে সে বললো —"ওকে গাড়িতে তোলো। সাথে যেন কড়া গার্ড থাকে, কোনোভাবেই যেনো পালাতে না পারে।" সঙ্গে সঙ্গে চারদিক থেকে শুভ্রকে পুলিশ ঘিরে ধরে টেনে বাইরে নিয়ে চাওয়ার চেষ্টা করলো। শুভ্র যাওয়ার সময় বলে উঠলো— "বনি…", কঠিন আই.পি.এস. অফিসারের বুকের মধ্যে যেন একটা ঝড় উঠলো— সেই কণ্ঠস্বর, সেই একই ভাবে তাকে 'বনি' বলে ডাকা— সে তো চাইলেই ছবিটির লোকটিকে আইডেন্টিফাই না করতে পারত, তবু কেন করল সে এমনটা! ন্যায়ের সাথে সে কোনোদিনও আপোষ করেনি আর তার ডিউটি কে সে সবার আগে রাখে, আজও তাই করলো। "আমি আর পালাবো না বনি। তোমার কাছে ধরা পড়ে গেছি যে"— এক অদ্ভুত বেদনা ভরা নিচু স্বরে বললো শুভ্র। বেড়িয়ে যাওয়ার আগে একবার পেছন ঘুরে বাড়িটিকে দেখে নিলো 'বনি' ওরফে এস.পি. বহ্নিশিখা লাহিড়ী।
দুদিনের মাথায় কেসটির প্রথম ট্রায়াল। কোর্ট রুমে অভিযুক্তকে আনা হলো। সাথে সেই কেসের সমস্ত তদন্তকারী অফিসার এবং বন্থিশিখাও উপস্থিত। অদ্ভুত ভাবে শুভ্র এক কথায় তার সব অপরাধ স্বীকার করে নিলো। সাজা স্বরূপ পঁচিশ হাজার টাকা জরিমানা সাথে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডর ঘোষণা করল কোর্ট।
তদন্তের কাজ সফল ভাবে শেষ হয়েছে। দোষীর শাস্তি হয়েছে। এবার যেন তাকে এই আলিপুরদুয়ার থেকে বদলি করা হয় সেই আবেদন জানিয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষকে মেল করল বন্থিশিখা। উত্তর স্বরূপ তাকে অভিনন্দন জানিয়ে মেল এলো যে খুব শিঘ্রই তাকে ভূপালে এক নতুন তদন্তের জন্যে বদলি করা হবে।
আলিপুরদুয়ারে আজ তার শেষ দিন। কিন্তু থানা থেকে খবর এলো অপরাধী শুভ্র বিশ্বাস তার সাথে অনেকবার দেখা করার অনুরোধ জানাচ্ছে। একজন আই.পি.এস. অফিসার কেন যাবে সামান্য একজন কয়েদির ডাকে তার সাথে দেখা করতে? কিন্তু চলে যাওয়ার আগে যে একবার তার শুভ্রর সাথে, তার দেখা করতে বড্ড ইচ্ছে করছে। সে গেল সংশোধনাগারে শুভ্রর সাথে দেখা করতে। মিনিট দশেকের কথপোকথনে শুভ্র তাকে বললো— "আমি জানি তোমার মনে আমাকে নিয়ে অনেকগুলো প্রশ্ন ঘুরছে। আমি আজ সব কিছুর জবাব দেবো। আমি যখন প্রথম কলকাতায় যাই তখন অলরেডী আমি একটি সামাজ বিরোধী চক্রের সাথে অনিচ্ছাকৃত ভাবেই জড়িয়ে গিয়েছি। অনেক চেষ্টা করেও আমি সেখান থেকে বেরোতে পারিনি। কলকাতায় গিয়ে তোমার সাথে মেলামেশা করে তোমায় খুব ভালোলাগে। তোমার মধ্যের সেই নির্ভেজাল প্রাণোচ্ছল মেয়েটার প্রেমে পড়ে যাই আমি। তোমার সাথে যখন কথা বলতাম, তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে খুব ইচ্ছা করতো তোমায় নিজের মনের কথা বলে দিতে। কিন্তু আমি চাইনি আমার এই অন্ধকার জীবনের সাথে তোমার জীবনকে জড়াতে। তাই তুমি গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে মাস্টার্স করতে দিল্লি চলে যাওয়ার পর, তোমার সাথে আর যোগাযোগ রাখিনি। আমি আমার সবটুকু দিয়ে আজও তোমাকেই ভালবাসি। শুধুমাত্র কাজের প্রয়োজনেই আমাকে অন্য একজনকে বিয়ে করতেও রাজি হতে হয়েছিল।" বহ্নিশিখা শুধু পাথরের মত দাঁড়িয়ে সবটা শুনছিল। ওর চোখে শুভ্রর প্রতি অবিশ্বাস স্পষ্ট ফুটে উঠছিল। "একটিবার আমায় বিশ্বাস করো বনি।" আজও শুভ্রর জন্য একবুক ভালবাসা লুকিয়ে রাখা বনি তো তাকে বিশ্বাস করতেই চায় কিন্তু এস.পি. বহ্নিশিখা লাহিড়ীর কঠোর মস্তিষ্ক যে আবেগে ভাসেনা। আলিপুরদুয়ার ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে শেষ কিছু ফর্মালিটিস্ সারতে সে থানায় এলো। সেখানে ঢোকার মুখে একজন কনস্টেবলের সাথে তার ধাক্কা লাগতে সেই কনস্টেবলের হাতে থাকা শুভ্রর জমা রাখা ঘড়ি আর মানিব্যাগটি মাটিতে পড়ে গেলো। বহ্নিশিখার অনেক কষ্টে শক্ত রাখা হৃদয় এক মুহূর্তে ঠুনকো কাচের মতো ভেঙে পড়লো, সেই মানিব্যাগে জ্বলজ্বল করতে থাকা কনভোকেশনের দিন বহ্নিশিখার অজান্তেই তোলা তার একটি ছবির দিকে চেয়ে।

.........................

বিতস্তা বোস
লারিকা টাউনশিপ, বারাসাত, কলকাতা

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা

  ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা (লেখা ও লেখকের নামে ক্লিক করলে লেখাগুলি পড়া যাবে) প্রবন্ধ একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার গল্প  দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ কবিতা আমন, সন্ধি, কৃষক উবাচ ।। বিকাশ দাশ (তিনজন লেখককে অভিনন্দন।  পূর্ব ঘোষণামতো নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।  –  সম্পাদক, নবপ্রভাত। ) ....................... ১০০তম সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/06/cover-n-contents.html ১০১তম সংখ্যার  পূর্ণাঙ্গ  সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/08/cover-n-contents.html

সামলে নেবে ।। আনন্দ বক্সী

সামলে নেবে  আনন্দ বক্সী অচিনপুরে যাবে খোকা  টাট্টুঘোড়ার পিঠে চড়ে, খুরের শব্দে মাতিয়ে দিক  লাগামখানি কষে ধরে। ভয় পাবে না মোটেও খোকা  থাকবে বসে বীরের মত, সামলে নেবে নিজেই খোকা  আসবে পথে বিপদ যত। কোনও বাধাই পারবে না যে  আজকে তাকে আটকে দিতে, পুরোপুরি প্রস্তুত যেন  তার দক্ষতার স্বাদটা নিতে। দৈত্য দানো রাক্ষস খোক্কস  যেই আসুক না পথের বাঁকে, হাতের চাবুক দিয়ে খোকা  বোঝাবে ঠিক সবক তাকে। ঘুরবে খোকা ইচ্ছেমত  অচিনপুরে পৌঁছে গিয়ে, লাগবে ভালো যে জিনিসটা  মায়ের জন্য আসবে নিয়ে।

কবিতাগুচ্ছ ।। গোবিন্দ সাহা

কবিতাগুচ্ছ ।। গোবিন্দ সাহা  উচাটন মন বালিকা তটিনীর যৈবতী স্রোত বর্ষার ঝিরঝিরে প্রেক্ষাপট। পাহাড়ের প্রগাঢ় সবুজ আঁচলে ডুকরে কাঁদে অবলা প্রেম।  ভেজা হাওয়ায় ভাসে প্রান্তর  শুষ্ক মরু তখনো ছন্নছাড়া মন।  কাজল-মেঘ জমেছে কিনারে ভিজিয়ে দেবে বড়ালের পাতা।  ধোঁয়াটে বৃষ্টির আরশিতে একা তুমি আর কতদিন দেখবে মুখশ্রী?  শাওনের উদ্বাস্তু পুঞ্জীভূত নীরদ ঢেকেছে অশ্রু সিক্ত বিরহী নয়ন। চেয়েছি তোমায়  ক্ষরণ শুধু হৃদয়ে নয় পাথরে টুপটাপ দুঃখ গুলো জলপ্রপাত। জংলী গাছের ডগডগে ফুল ভির্মি নেশা মস্তিষ্কের কোটরে। নিরাকার মেঘেদের ভিতর আবছা হয়েছে ধোঁয়াটে সবুজ। তীক্ষ্ণ বুনো বিহঙ্গের শিস্ শুনে মনে পড়ে বিগত জ...

আশা ও নতুন ভোর ।। জয়শ্রী দাস

আশা ও নতুন ভোর জয়শ্রী দাস ১. নতুন সূর্য রাত যতই দীর্ঘ হোক, ভোর তার পথ ভুলে না। অন্ধকারের বুক চিরে সূর্যের প্রথম আলো এসে বলে—সব শেষ হয়ে যায়নি। প্রতিটি সকাল যেন জীবনের নতুন একটি সুযোগ, যেখানে গতকালের ব্যর্থতা শুধু একটি স্মৃতি, আর আগামী দিনের সম্ভাবনা একটি উন্মুক্ত দরজা। ২. বৃষ্টির পর বৃষ্টি থেমে গেলে ভেজা পাতায় জমে থাকা জলের ফোঁটাগুলো আলোর সঙ্গে কথা বলে। তারা জানে, ঝড় স্থায়ী নয়। মানুষের জীবনও তেমনই—দুঃখ আসে, কষ্ট আসে, কিন্তু একদিন হাসিও ফিরে আসে। অপেক্ষা করতে জানতে হয়, বিশ্বাস রাখতে জানতে হয়। ৩. পথচলা সব পথ ফুলে ঢাকা থাকে না। কোথাও কাঁটা, কোথাও ধুলো, কোথাও ক্লান্তির দীর্ঘ ছায়া। তবু যারা থামে না, তারাই একদিন গন্তব্যে পৌঁছায়। কারণ পথের সৌন্দর্য শেষ প্রান্তে নয়, প্রতিটি সাহসী পদক্ষেপে লুকিয়ে থাকে। ৪. স্বপ্নের আলো স্বপ্ন কখনও চোখ বন্ধ করে দেখা যায় না; স্বপ্ন দেখতে হয় জেগে থেকে। প্রতিদিনের ছোট ছোট চেষ্টা, নীরব পরিশ্রম আর অটল বিশ্বাস একদিন সেই স্বপ্নকে বাস্তবের আলোয় দাঁড় করায়। তখন মানুষ বুঝতে পারে, অসম্ভব বলে কিছু ছিল না। ৫. জীবনের গান জীবন কোনো নিখুঁত ...

ছড়া।। নতুন দিশায় আগা ।। আনন্দ বক্সী

  নতুন দিশায় আগা  আনন্দ বক্সী  স্বাধীনতার জন্য যাঁরা করলো জীবন দান  ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল জীবনের জয়গান। রক্ত দিয়ে রুখলো যাঁরা এ দেশের সম্মান  আমাদের সে দেশের প্রতি আছে কি দরদ-টান? স্বাধীনতা দিবস এলেই স্মৃতির দুয়ার খুলি  ব্যান্ড বাজিয়ে ধূপ জ্বালিয়ে জাতীয় নিশান তুলি। স্বর চড়িয়ে মাইক্রফোনে শোনাই হাজার বুলি  দিনটা গেলে আমরা কেন আবার সে সব ভুলি? আজ কেউ চাইছে পিঠ বাঁচিয়ে গদি টিকিয়ে চলতে  কেউ বা ভয়ে গুটিয়ে থাকে ন্যায্য কথা বলতে। আজ  অসুর ঘোরে কলার তুলে সুররা থাকে গুটিয়ে  অসাধু আর অসৎ লোকে নিচ্ছে মজা চুটিয়ে। আজ ন্যায়ের কথা বলছে যাঁরা বলছি তাঁদের পালা  লুটছে যারা তাদের গলায় দিচ্ছি ফুলের মালা। আজ  মূল্যবৃদ্ধি আকাশ ছোঁয়া ছিটকে গ্যাছে লাগাম  সময়মতো কাজ চাইলে হচ্ছে দিতে আগাম।  আজ  বেকারত্বে ছেয়েছে দেশ কোথায় কাজ জুটছে? খেই হারিয়ে যুবসমাজ মন্দ পথে ছুটছে। আজ জাতপাত ও ধর্ম নিয়ে খেলছে বুড়োভামরা  স্বাধীনতার বয়স বাড়ে হই না বড় আমরা। আজ কেউ খাচ্ছে কোপ্তা-কাবাব কেউ পায়না অন্ন  অর্জিত এই স্বাধীনতা ...

ফেনাভাত ।। অনিন্দ্য পাল

ফেনাভাত অনিন্দ্য পাল ১. অফিসের কাঁচের দরজাটা ঠেলে বাইরে পা রাখতেই পুষ্পলের মনে হলো, সে বুঝি আস্ত একটা জ্বলন্ত চুল্লির মধ্যে ঢুকে পড়েছে। কলকাতার বৈশাখী দুপুর তার সমস্ত রুদ্ররূপ নিয়ে যেন ঝাঁপিয়ে পড়ল শরীরের ওপর। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরের কৃত্রিম ঠাণ্ডায় বসে বোঝার উপায় ছিল না যে, বাইরের পৃথিবীটা এভাবে গনগনে আগুনে রূপ নিয়েছে। পিচগলা রাস্তা থেকে একটা ভ্যাপসা গরম হাওয়া এসে চোখে-মুখে ধাক্কা মারল। পুষ্পল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাঁধের ব্যাগটা একটু গুছিয়ে নিয়ে শিয়ালদা স্টেশনের দিকে হাঁটতে শুরু করল। ঠিক তখনই বুক ঠেলে একটা টক ঢেকুর উঠে গলাটা যেন অ্যাসিডে পুড়িয়ে দিয়ে গেল। অম্বলের তীব্র জ্বালায় মুখটা তেতো হয়ে উঠল তার। মনে মনে নিজেকেই একটা গাল দিল পুষ্পল—দুপুরের টিফিনে ওই রাস্তার ধারের নোংরা কড়াইয়ে ভাজা শিঙাড়া আর কড়া লিকারের দুধ-চা-টা না খেলেই হতো। কিন্তু উপায়ও তো ছিল না। রুমিটা গত দুদিন ধরে জ্বরে শয্যাশায়ী। গা যেন পুড়ে যাচ্ছে ওর। রোজ সকালে রুমিই পরম যত্নে পুষ্পলের টিফিন গুছিয়ে দেয়। আজ আর তা হয়ে ওঠেনি। সকালে বেরোনোর সময় তড়িঘড়ি নিজেই চারটে পাঁউরুটি সেঁকে নিয়েছিল। শুকনো মুখে সেই রুটি চিবিয়েই সকাল কেটেছে। আর ...

দুটি কবিতা ।। ছন্দা দাম

দুটি কবিতা ।। ছন্দা দাম  জনমের লেনদেন কবিতার কলোনী ধরে বহুদূর বিদর্ভ নগরে আঁধার নামে কত পথ ঘুরে, ফেরে পথিক দু দণ্ড শান্তির খোঁজে, সন্ধ্যার শুকতারা পথ দেখিয়ে নিয়ে চলে চেনা মাটির গন্ধে, চেনা আঁধার চুঁইয়ে নামে ব্যথার বারিশ.... টালির চালের বুকের খাচা থেকে রাত ভর ঝরে যায়, কত কথার মাঝখানে শূন্যতার গল্প চুপ থেকে যায় সারা জনমের মতো, মুখামুখি বসে থাকা শুধু....কথাদের উষ্ণ শরীরের পালক ঝরে পরে, কার্নিশের মানি প্ল্যান্টটার তাকিয়ে থাকা অনিমেষ নয়নে...         কোন কথা নেই বয়ানে,     সামনে খুলে রাখা বনলতা সেন, পাখির নীড় উড়ে গেছে সে কবেই,এখন শুধু শূন্যতার একমুঠো খড়কুটো, রঙিন জানালার ওপার থেকে বড্ড চকচকে সব... সব ঝুটো,সব অর্থহীন কবিতার মতো দুমড়েমুচড়ে পড়ে থাকে ঘরের কোণে গার্বেজে, তবু কিছু কথা থেকে যায় বলবার... মুখোমুখি বসবার,থেকে যায় একটা জনমের লেনদেন।।   ভুলভাল আমি তুই আমি ভ...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

৩টি কবিতা ।। সমীর মন্ডল

কলেজ প্রেম সমীর মন্ডল বাবা মায়ের একটি মেয়ে  দেখা হলো কলেজে গিয়ে  প্রথম দিনেই প্রথম আলাপ টুকিটাকি তুচ্ছ কথায় এক সাথে কলেজ বদলে বাংলা ক্লাসে আবার দেখা তারপর কথা হয় না তেমন নবীন বরনে তোর কবিতা বুঝেছি মেয়ে রূপেতে না হোক গুনেতে সে লক্ষ্মী হবেই সত্যজিৎ বাবুর পদাবলী ক্লাসে সাক্ষাৎ হলো সেই, মেঘবালিকার সাথে রাধার মতো আবিষ্ট চোখে সেই প্রথম কৃষ্ণ হলাম মাঠে বসলে এক সারিতে একটু দূরে তুই বসেছিস লাইব্রেরিতে রিডিং রুমে বইয়ের র‍্যাকে,চোখে চোখ রেখেছিস সাইকেল স্ট্যান্ডে তোর টোকেন নিয়ে অপূর্ব এক খুশির মক্কায়, দিন কেটেছে পরীক্ষার হলেও পিছন ফিরে বারবার মুগ্ধ তোর হাসিতে সেই তোর দেখা পাইনি  সোস্যাল এলে এডুকেশন ট্যুরে মলিন আকাশে দুঃখ লুকিয়ে মনটা তখনও ভাঙেনি আমার গুজব ছড়ালো বন্ধু বাতাসে তোর নামেতে অনেকেই সুখী! সে...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা

  ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা (লেখা ও লেখকের নামে ক্লিক করলে লেখাগুলি পড়া যাবে) প্রবন্ধ একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার গল্প  দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ কবিতা আমন, সন্ধি, কৃষক উবাচ ।। বিকাশ দাশ (তিনজন লেখককে অভিনন্দন।  পূর্ব ঘোষণামতো নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।  –  সম্পাদক, নবপ্রভাত। ) ....................... ১০০তম সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/06/cover-n-contents.html ১০১তম সংখ্যার  পূর্ণাঙ্গ  সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/08/cover-n-contents.html

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...