মাতৃভাষা
এস এ বিপ্লব
পৃথিবীর সব দেশেই নিজ নিজ ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কারন যার যার নাড়ির টান কিংবা নিজ ভাষার প্রতি আকর্ষণ একটা বিষয় কাজ করে থাকে। আর এই নাড়ির টান বা ভাষার প্রতি আকর্ষণ যাই বলি না কেন? এসব কিছুর জন্য দায়ী একমাত্র মা। তাই মাকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বলা হয় বা বলা যায়। জম্ম থেকে মা যে ভাষা শিখাবে সেই ভাষাতেই আমি, আপনি কথা বলব বা বলে থাকি। তাই আমরা মায়ের ভাষা কে সম্মান করব।মায়ের ভাষার জন্য যুদ্ধ করি,জীবন দেই নানা ভাবে মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠা করি।ছোট্ট শিশু জানে না সে হিন্দু না মুসলিম আর না বৌদ্ধ,খ্রিষ্টান। তাহলে কে শিখায়? মা শিখায়, মা বলে আল্লাহ, ভগবান ইত্যাদি শিশুও তাই শিখে। আবার আরবি, বাংলা, ই্যরেজী চিনত না শিশু, কে চিনিয়ে থাকে? মা চিনিয়ে থাকে। তাই মা, মাটি আর মায়ের ভাষা মাতৃভাষা কে আমাদের সম্মান করতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে কষ্টের বিষয় হলো এখানে মাকে বা মাতৃভাষা কে বছরে একবার খুব ধুমধাম করে স্মরন করে এরপর আর কোন খবর না রাখে। আর সেটা দেখা যায় একমাত্র বছর ঘুরে আমাদের ২১ ফেব্রুয়ারী যখন আসে। যেটা আমি, আপনি, আমরা কি কখনো ভুলতে পারি। মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা এটা সবার কাম্য। আর সেই ভালোবাসা সর্বদা থাকুক, এটা আমাদের সবার চাওয়া।কিন্তু এই ভালোবাসার কিছু টা পরিবর্তন হয়েছে মানুষের মাঝে। কেননা মানুষ এই দিনটি আসলেই কেবল মনে করে তাদের, মনে করে ২১ ফেব্রুয়ারী কে । কিন্তু কেন? বাকি দিন, মাস, বছর কি করল দোষ। তবে বলতে পারি যে, তবুও ভালো কারন এই একটি দিন অন্তত ভাষা শহীদদের স্মরণ করে হলেও এদেশের প্রতিটি শহীদ মিনার ধোঁয়া - মোছা করে পরিষ্কার করে থাকে , একটি দিনের জন্য। সারা বছর আর এই ভাবে ধোয়া- মোছা কিংবা পরিষ্কার করতে দেখা নাহি মিলে। এসব কথা বিবেচনা করে বলতে পারি যে, শহীদদের প্রতি যে ভালোবাসা দেখা যায় তা বাৎসরিক ভালোবাসা। এজন্যই কবি সাহিত্যিকরা বলেছেন আজকাল ভালোবাসার প্রকার ভেদ দেখা দিয়েছে। টাকার ভালোবাসা, সাপ্তাহিক ভালোবাসা, বাৎসরিক ভালোবাসা সহ আরো কত ধরনের ভালোবাসা দেখা যায়। কিন্তু সত্যি কারের ভালোবাসা আর এ যুগে তেমন একটা দেখা যায় না। দেখা যায় না বলেই, সারাবছর আমরা দেখি শহীদ মিনার গুলোর কি অবস্হা ময়লা - আবর্জনা, সবচেয়ে বেশি যেটা দেখা যায় সেটা হলো শহীদ মিনারে জুতা নিয়ে উঠতে। যা আজও আমরা এটা খেকে মুক্ত হতে কিংবা মুক্ত করতে পারিনি। বরং যুক্ত হতে দেখা যায় এবং নানা ধরনের কার্যকর দেখে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও কেন জুতা নিয়ে শহীদ মিনারে উঠবে আবার এই দৃশ্য টা আমাদের দেখতে হবে। আমরা বড়রা, শিক্ষিতরা যদি এই কাজ করি তবে কনিষ্ঠ দের কে শেখাবে আর তারাই বা কতটুকু মানবে।
সে দিকে আমাদের খেয়াল রেখে চলতে হবে। আর কত এ ধরনের দৃশ্য আমাদের দেখতে হবে। যতদুর জানি মানুষ ভালোবাসলে সব করতে পারে, সব করেও থাকে যদি ভালোবাসা টা হয নারী কেন্দ্রীক। কিস্তু রফিক,জব্বার, শফিক, সালাম, বরকত এদের কে ভালোবেসে কেউ কিছু করেছে সেটা দেখা যায় না। শুধু ২১ ফেব্রুয়ারী ছাড়া তাদেরকে নিয়ে আর কোন কথা বা আলোচনা শোনা যায় না। দিন মাস বা অন্য কোন সময়ে। তারা কিন্তু শুধু একদিনের জন্য দেশ স্বাধীন করে নি,একদিনের জন্য ভাষার জম্ম দেয় নি। তাদের রক্তের বিনিময়ে নিয়ে আসা ভাষা কিন্তু সারাজীবনের জন্য, আমরা কিন্তু আর শহীদদের দেওয়া ভাষা একদিনের জন্য ব্যবহার করি না। তাহলে তাদের কেন শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারীর ২১ তারিখ ছাড়া আর কোন দিন তাদের কোন আলোচনা, সভা বা অন্য কোন কিছু দেখা যায় না। মাঝে মাঝে মনে হয় তারা ভাষার জন্য যুদ্ধ করে বড় অপরাধ করে ফেলেছে। যার দরুন এই উপহার দেখা মিলে। তবে কি যে অবস্হা দেখি তাতে তো মনে হয় আগামী একশ বছর পর আরো ভুলে যাবে শহীদ দের। কথিত আছে, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। এর কারন হলো যারা রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করে তারা দেখে যেতে পারে না আর যারা রক্ষা করবে তারা স্বাধীনতার মর্ম বোঝে না।

Comments
Post a Comment