Skip to main content

Posts

Showing posts with the label গদ্য

মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন

    মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর বাসিরা খাতুন  মাতৃভাষা শুধু একটি ভাষা নয়, এটি মানুষের জীবনের প্রথম অনুভব, প্রথম পরিচয় এবং প্রথম ভালোবাসা। মানুষ জন্মের পর যখন চোখ খুলে পৃথিবীর আলো দেখে, তখন সে ভাষার অর্থ বুঝতে পারে না, কিন্তু মায়ের কণ্ঠের উষ্ণতা বুঝে যায়। শিশুর কান প্রথম যে শব্দ শোনে, সেই শব্দের ভেতর থাকে আদর, আশ্বাস, নিরাপত্তা এবং ভালোবাসা। সেই প্রথম শব্দগুলোই ধীরে ধীরে মাতৃভাষায় পরিণত হয়। মাতৃভাষা তাই কেবল কথাবার্তার মাধ্যম নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের ভিত, স্মৃতির মাটি, আর আত্মার শিকড়। আমরা যে ভাষায় কাঁদি, যে ভাষায় হাসি, যে ভাষায় ভালোবাসা প্রকাশ করি, যে ভাষায় অভিমান করি, যে ভাষায় স্বপ্ন দেখি—সেই ভাষাই মাতৃভাষা। পৃথিবীর বহু ভাষা আমরা শিখতে পারি, অনেক ভাষায় দক্ষ হতে পারি, কিন্তু মাতৃভাষার মতো করে আর কোনো ভাষা আমাদের মনের গভীরে পৌঁছাতে পারে না। কারণ মাতৃভাষা আমাদের শিখতে হয় না, মাতৃভাষা আমাদের ভেতরে জন্মায়।   মাতৃভাষা মানুষের পরিচয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ। মানুষকে শুধু পোশাক, ধর্ম, দেশ কিংবা জাতি দিয়ে চেনা যায় না; মানুষের আসল পরিচয় ধরা পড়ে তার ভাষার...

আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল

আমি বাংলাকে ভালবাসি সৌম্য পাল  শহরের কোলাহল পেরিয়ে যখন রাত নামে তখন অর্কর ঘরে অদ্ভুত এক নীরবতা ভর করে। সারাদিন ইংরেজি শব্দে ঘেরা জীবন—ইমেল কল মিটিং ও ডেডলাইন। কিন্তু রাত হলেই সে জানালার ধারে এসে দাঁড়ায় আর মনে মনে অজান্তেই ভেসে ওঠে কিছু বাংলা শব্দ। সেই শব্দগুলোর কোনো নির্দিষ্ট মানে নেই তবু তারা অর্ককে নিজের মতো করে জড়িয়ে ধরে। অর্কর জন্ম এক মফস্‌সলে। ছোট্ট শহর যেখানে সন্ধ্যেবেলা চায়ের দোকানে বসে মানুষ রাজনীতি থেকে রবীন্দ্রসংগীত—সব নিয়ে আলোচনা করত বাংলায়। স্কুলের প্রথম দিন প্রথম কবিতা আবৃত্তি প্রথম প্রেমপত্র—সবই লেখা ছিল বাংলায়। তখন সে জানত না এই ভাষাই একদিন তার পরিচয়ের সবচেয়ে শক্ত ভিত হয়ে দাঁড়াবে। কলেজে উঠে অর্ক শহরে আসে। ধীরে ধীরে বাংলার জায়গা দখল করে নেয় অন্য ভাষা। প্রথমে প্রয়োজনের তাগিদে পরে অভ্যাসে। বন্ধুমহলে বাংলা বললে অনেকে মজা করত এত আবেগ কেন? অর্কও হাসত কিন্তু কোথাও যেন কিছু একটা খসে পড়ত ভেতর থেকে। একদিন অফিসে এক সহকর্মী তাকে বলেছিল তোমাদের বাংলা ভাষাটা খুব মিষ্টি শোনায় কিন্তু প্রফেশনাল লাইফে তো ওটার দরকার পড়ে না। অর্ক সেদিন কোনো উত্তর দেয়নি। শুধু মনে মনে...

মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব

       মাতৃভাষা এস এ বিপ্লব পৃথিবীর সব দেশেই নিজ নিজ ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কারন যার যার নাড়ির টান কিংবা নিজ ভাষার প্রতি আকর্ষণ একটা বিষয় কাজ করে থাকে। আর এই নাড়ির টান বা ভাষার প্রতি আকর্ষণ যাই বলি না কেন?  এসব কিছুর জন্য দায়ী একমাত্র মা। তাই মাকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বলা হয় বা বলা যায়। জম্ম থেকে মা যে ভাষা শিখাবে সেই ভাষাতেই আমি, আপনি কথা বলব বা বলে থাকি। তাই আমরা মায়ের ভাষা কে সম্মান করব।মায়ের ভাষার জন্য যুদ্ধ করি,জীবন দেই নানা ভাবে মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠা করি।ছোট্ট শিশু জানে না সে হিন্দু না মুসলিম আর না  বৌদ্ধ,খ্রিষ্টান। তাহলে কে শিখায়? মা শিখায়, মা বলে আল্লাহ, ভগবান ইত্যাদি শিশুও তাই শিখে। আবার আরবি, বাংলা, ই্যরেজী চিনত না শিশু, কে চিনিয়ে থাকে?  মা চিনিয়ে থাকে। তাই মা, মাটি  আর  মায়ের ভাষা  মাতৃভাষা কে   আমাদের সম্মান করতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে কষ্টের বিষয় হলো এখানে মাকে বা মাতৃভাষা কে বছরে একবার খুব ধুমধাম করে স্মরন করে এরপর আর কোন খবর না রাখে। আর সেটা দেখা যায় একমাত্র  বছর ঘুরে আমাদের ২১ ফেব্রুয়ারী যখন আসে। যেটা আম...

স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র

    স্মৃতির স্বরলিপি সঙ্গীতা মহাপাত্র ​ শহরের নাম এথেলগার্ড। চারদিকে ঝকঝকে তুষারপাত আর অচেনা এক যান্ত্রিক ভাষার কোলাহল। অভিরূপ এখানে থিতু হয়েছে প্রায় সাত বছর। অফিস, বন্ধু-বান্ধব আর প্রাত্যহিক জীবনের সবটুকু এখন ভিনদেশি বুলিতে মোড়া। এমনকি ওর ভাবনার জগতটাও ইদানীং পরদেশি শব্দে সাজানো থাকে।   ​সেদিন অফিস থেকে ফেরার পথে পার্কের এক কোণে একটা ছোট্ট শিশুকে দেখল অভিরূপ। তার মা তাকে নিয়ে বেঞ্চে বসে আছেন। বাচ্চাটা পড়ে গিয়ে হাঁটু ছড়ে ফেলেছে, আর ফুঁপিয়ে কাঁদছে। মা তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন অন্য ভাষায়। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ থমকে দাঁড়াল অভিরূপ। ওর মনে হলো, বাচ্চাটা যখন যন্ত্রণায় কাঁদছে, সেই কান্নার সুরটা ঠিক ওর ছোটবেলার মতো।   ​বাচ্চাটা হঠাৎ হাউমাউ করে কেঁদে উঠে তার মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, "মা, লাগছে!"   ​অভিরূপের বুকটা এক নিমেষে কেঁপে উঠল। মা আর বাচ্চাটি আসলে বাঙালি পর্যটক। দীর্ঘ সাত বছর পর নিজের মাটির শব্দগুলো যখন কানে আছড়ে পড়ল, ওর মনে হলো ও এতক্ষণ কোনো এক যান্ত্রিক মরুভূমিতে ছিল। যে শব্দগুলো ও প্রতিদিনের ডায়েরিতে হারিয়ে ফেলেছিল, সেগুলোই আজ ওর রক্তে নাচন ধরিয়ে দিল।   ​সে রাত...

আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত

আমার প্রাণের ভাষা মানস কুমার সেনগুপ্ত 'আজি বাংলা দেশের হৃদয় হতে কখন আপনি, তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী ' । বঙ্গ জননীর রূপের মতো , মধুর বাংলা ভাষা মূর্ত হয়েছে দুই বাংলার অগনিত মানুষের প্রাণের ভাষায়। শুধুমাত্র ভাষার জন্য ওপার বাংলার অগনিত মানুষের আত্মবলিদানে, ২১শে ফেব্রুয়ারি দিনটি স্বীকৃতি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। দুই বাংলার প্রাণের কবি রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুল ইসলামের কাব্য, সঙ্গীত, সাহিত্যের সৃষ্টির উত্তরাধিকার বহনকারী অগনিত বাঙালি আত্মগরিমায় জারিত হয়েছে বাংলা ভাষা চর্চায়। কান্তকবি রজনীকান্ত, অতুলপ্রসাদ সেন, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের কাব্য, সঙ্গীত সমৃদ্ধ করেছে বাঙালির প্রাণের ভাষা চর্চার ইতিহাসকে। পঞ্চ কবির অফুরান সৃষ্টি বিশ্বের দরবারে বাংলা ভাষাকে গৌরবান্বিত করেছে।  বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় বাংলা ভাষার প্রাথমিক শিক্ষার সোপান। রবীন্দ্রনাথের সহজ পাঠ, যোগীন্দ্রনাথ সরকারের আদর্শলিপি এক ছন্দবদ্ধ স্মৃতিমেদুরতার জন্ম দেয়। বাঙালির সাহিত্য চর্চা সমৃদ্ধ হয়েছে বঙ্কিমচন্দ...

গদ্য ।। ওরে, ভোরের পাখি ।। অঙ্কিতা পাল

ওরে, ভোরের পাখি অঙ্কিতা পাল আমি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে সবার আগে সাধের সুন্দর ছাদ বাগান দেখতে যাই। সেখানে বিভিন্ন রংয়ের জবা ,অপরাজিতা, কাগজ ফুল ,দোপাটি, গোলাপ ,পদ্ম, ব্লিডিং হার্ড , লাল পাতা , টাইম ফুল , রেইন লিলি , মানি প্ল্যান , কলাবতী, সূর্যমুখী, ঝাউ , অলকানন্দা ইত্যাদি ফুল ও গাছের সমাহার রয়েছে। তাদের একদিনও না দেখলে যেন দিনটাই খারাপ এমন মনে হয়, মনটাও কেমন প্রফুল্ল চিত্তে নিজের কাজ শুরু করে।             এই তো মাসখানেক আগের কথা - আমি সকাল সাড়ে ছটা নাগাদ ছাদে গিয়েছিলাম দেখলাম দক্ষিণ পূর্ব দিগন্ত থেকে লাল সূর্য মামা কেবলি উঁকি দিচ্ছেন,  আর রক্তিম আকাশের বুক চিরে কিচিরমিচির করতে করতে উড়ে চলেছে পাখির দল।  সেই দৃশ্যটা আমার মনকে আরো শান্ত করে দিলো চোখ বন্ধ করে এক নির্মল শ্বাস বায়ু যেন অন্তরে প্রবেশ করেছিল। উফ: কি অদ্ভুত না সেই প্রাকৃতিক দৃশ্য! আমার জ্যেষ্ঠা কন্যা অহনার  English literature পাঠ্য পুস্তকের ৯৪ পাতায় - " Emily Dickinson " এর লেখা " A Bird Came Down the Walk " কবিতাটি রয়েছে। কবিতাটি আজও আমার মননে গাঁ...

গদ্য ।। স্বাধীনতা ও আমরা ।। কাজল আচার্য

স্বাধীনতা ও আমরা কাজল আচার্য স্বাধীন পেয়েছি দেখ দেখ অনেক বছর হয়ে গেলো কিন্তু প্রকৃত অর্থে এই স্বাধীনতা কতটা প্রসারিত হল জনমানুষে? এ প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে একটা ভিন্ন ছবি ফুটে ওঠে। এই স্বাধীনতার দুটি ধারা প্রথম ধারায় স্বাধীন কী কীভাবে তার বিস্তার ঘটেছে এই নিয়ে চর্চা চুল চেরা বিশ্লেষণ করে চলেছেন। অন্য ধারায় স্বাধীনতা কী খায় না মাথায় দেয় এ নিয়ে নিরুৎসাহ জিজ্ঞেসা। যারা দিন আনে দিন খায় তারা কখন এটা বাড়ছে কখনই কমছে এবিষয়ে চিন্তার অবকাশ নেই।  যারা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা লিখে গেল তাদেরই বা কী স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্নের অতি বর্তমান পরিস্থিতি দিকে নজর দেওয়া যাক, রাতের একটা নিদিষ্ট সময়ের পর একটি মেয়ে বাইরে  বের হতে গিয়ে স্বাধীনতা শব্দের অর্থ হাড়ে হাড়ে টের পায়। চাকরি বাকির ক্ষেত্রে স্বাধীনতা শব্দটি প্রায় ঝাপসা।  দলীয় রঙের বাইরে এলেবেলেদের চরম উপেক্ষা।  আর একদল বুদ্ধিদীপ্ত পন্থায় দারিদ্র্য বেচে খায়। লাভের কড়ির কোন অংশ এই প্রান্তিক মানুষগুলো জন্য নির্ধারিত হয় কী? বিজ্ঞাপনে জগতে সব কিছুই বিপণন সামগ্রী। কোন ব্যক্তি যখন 'স্বাধীন ও প্রান্তিক মানুষের জীবন যাপন' বিষয়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন তখন এর ...

মুক্তগদ্য ।। বলিদান ।। দীননাথ চক্রবর্তী

         বলিদান দীননাথ চক্রবর্তী বলিদান এর মধ্যে ভীষণভাবে থাকে ভোরের রাঙা সূর্যের ভাবনা। এই ভাবনায় জারিত নব প্রাণ -এর ভ্রূণ। এক কথায় কোন মহৎ উদ্দেশ্যকে গড়ে তোলা। কোন কিছু গড়ে তোলার জন্য দরকার তিনটি জিনিসের। এক ভাবনা। ভাবনা প্রাণ পায় বিশ্বাসে। আর বিশ্বাস প্রাণ পায় প্রত্যয় থেকে। তবেই একটা জিনিস গড়ে ওঠে। আগস্ট মাস সেই ভাবনার মাস। বিশ্বাস প্রত্যয় এর মাস। আগস্ট মাস স্বাধীনতার মাস। জীবনে স্বাধীনতার মত পরম সঙ্গী কিছু হতে পারে না।  সেই স্বাধীনতা লালিত পালিত হয় জন্মভূমিতে। সেই জন্মভূমির শৃঙ্খলে লংঘিত হয় স্বাধীনতা। জীবন তখন মরনেরই নামান্তর। সেই জন্মভূমি শুধুমাত্র ভৌগলিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। সমাজও সেই স্বাধীনতার ক্ষেত্র। মনের স্বাধীনতা না থাকলে পূর্ণতা পায় না সে স্বাধীনতা। বীর শহীদদের বলিদান তখন অর্থহীন হয়ে পড়ে। আজকে যেন তারই ইঙ্গিত। সকলকে বুঝতে হবে স্বাধীনতা মানে শুধু অধিকার নয়, কর্তব্যও। ====================== দীননাথ চক্রবর্তী কল্যাণীকুঞ্জ গ্রাম ও পোষ্ট, দুইলা, জেলা, হাওড়া সূচক,711302

মুক্তগদ্য ।। অগ্নিকন্যা ।। সুচন্দ্রা বসু

অগ্নিকন্যা সুচন্দ্রা বসু    দুধ আনতে বেরিয়েছিলাম সকালে। শুনলাম আজ স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছর উপলক্ষ্যে স্বদেশী গান বাজছে মাইকে। তা ছাপিয়ে এক অদৃশ্য স্বর এসে কানে ধাক্কা দিল। শুনলাম গান্ধীজী যেন কাকে ডেকে বললেন, কোথায় গেলি কমলা? লবণ আন্দোলনে আমার সঙ্গে ছিলি তোকে কি ভুলতে পারি? তাকিয়ে দেখলাম নেতাজীও গান্ধীর পেছনে চলেছেন । দেশবাসী জানে ব্রিটিশ পরাধীনতার শিকল ভাঙতে তোমার নেতৃত্বে, 'আইন অমান্য' ও 'অসহযোগ আন্দোলন'- 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনের ঢেউ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল সারা দেশে। কথাগুলো কানে যেতে মুখ ঘুরিয়ে গান্ধী বিস্মিত, সুভাষ তুমি?  আপনাকেই খুঁজছি বাপু।  জানতে চাইছিলাম  যেসব সংগ্রামী জনগণ দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিল, যাদের তাজা রক্তে ভারত স্বাধীন হয়েছে,তাদের কথা কি মানুষ  মনে রেখেছে?  এইদিনে কমলাকেও শ্রদ্ধা জানানোর কথা দেশবাসীকে বলতেই তো রেড রোডের দিকে যাচ্ছিলাম।  বাবা সরকারি আমলা হলেও,মা গিরিজাবাই  ছিলেন  স্বাধীনচেতা মহিলা। মায়ের আদর্শে কমলা উদ্বুদ্ধ ।  বাড়িতে আনাগোনা ছিল মহাদেব গোবিন্দ রানাডে, গোপাল কৃষ্ণ গোখলে, অ্যানি বেসান্ত, রাম...

গদ্য ।। কবিতার কথা ।। সুবীর ঘোষ

কবিতার কথা   সুবীর ঘোষ      একজন মা যেমন নিজের সন্তানকে কারো সঙ্গে তুলনা করে দেখতে চান না , তেমনি আমার কবিতার গায়ে আমি তত্ত্বায়নের লেবেল আঁটা পছন্দ করি না । ফলে কবিতার ক্রিয়াকরম রীতিপ্রণীতি ব্যাকরণ কিছুই জানা নেই আমার । জানি না কবিতার সংজ্ঞা ও ভূমিকা কুশল ও কৌশল । কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে কবিতা লিখি না , কোনো প্রাপ্তির জন্যও নয় , কোনো বার্তা দেবার জন্য তো নয়ই । কবিতায় আমি নিজের সঙ্গেই কথা বলি , এ আমার অফুরন্ত আনন্দের স্বরালাপ খেলা । কখনো চোখের আলোয় কোনো রৌদ্রপ্রতিমাকে দেখা যায় , যার সঙ্গে কথাও বলা যায় । কবিতা তখন কিছুটা দ্বিরালাপ হয়ে যায় ঠিকই তবে প্রকৃত দ্বিরালাপ তো কবির সঙ্গে পাঠকের কথা বলা ।   অনেকে অনেক কথা বলেছেন ---কবিতা হয়ে ওঠে , বেজে ওঠে । কেউ কেউ নির্মাণ – বিনির্মাণের কথাও বলেছেন । আমি মনে করি কবিতা এসে ওঠে । আমরা যেমন বেড়াতে গেলে কোনো হোটেলে গিয়ে উঠি তেমনি কবিতা অজানা কোনো স্বপ্নলোক থেকে এসে ওঠে সাদা কাগজের চৌকো ঘরটিতে । সেটিকেও সে শব্দে বর্ণে অর্থে ব্যঞ্জনায় আলোকিত করে তোলে ।   ...

গদ্য ।। রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন ।। অঙ্কিতা পাল

    রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন  অঙ্কিতা পাল   পলাশ পুর গ্রামের ছোট্ট মেয়ে নন্দিতা, একদিন তার বাবাকে বললো - বাবা এবার আমরা রবি ঠাকুরের জন্মদিন পালন করবো। তার বাবা অজিতবাবু একজন স্কুল শিক্ষক, তিনি এত মেয়ের এই অনুরোধে সম্মতি দিলেন। এরপর কিছু মাস কেটে যায়, নতুন বছর আসে। অজিত বাবু একদিন তার পাড়ার স্থানীয় ক্লাবে যান, সেখানে ক্লাবের সভাপতি রানা ঘোষ এর সাথে দেখা করেন এবং তাকে প্রস্তাব দেয় যে  - এ বছর আমরা ধুমধাম করে রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন করবো। রানা অজিতবাবুর প্রস্তাবে রাজি হয়ে বলে - এটা খুব ভালো প্রস্তাব মাস্টারমশাই, কিন্তু আমি কথা দিতে পারছি না অবশ্যই চেষ্টা করবো। এ দু চার দিন পর, রানা ও অন্যান্য সদস্যরা অজিতবাবুর বাড়িতে এসে রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে বলে। অজিত বাবু ও ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা মিলে রবীন্দ্রজয়ন্তীর আয়োজন করে। তারা আয়জনের কোন ত্রুটি রাখেনি, তৈরি হল বিরাট মঞ্চ তাকে ফুল দিয়ে সাজানো হলো। নিমন্ত্রিত রা হলেন - মাননীয় বিডিও সাহেব, থানার বড়বাবু, বিভিন্ন কলাকুশলী, স্থানীয় ও আশেপাশের গ্রামের লোকজনদের। অবশেষে সেই দিনটা এসে উপস্থিত হলো আমাদের...

গদ্য ।। রঙের খেলা ।। সুবীর ঘোষ

রঙের খেলা সুবীর ঘোষ   ছোটোবেলায় একটা গান শুনেছিলাম ---আকাশে আজ রঙের খেলা / মনে মেঘের মেলা । আশা ভোঁশলের গাওয়া ।   এই গানটা শুনলেই সন্ধের আকাশে ঘটে যাওয়া কত বিচিত্র রঙের সমাহার যা দেখেছি তার কথাই মনে পড়ে যায় । কিন্তু যে বিষয়ের ওপর লিখতে দেওয়া হয়েছে তা সন্ধ্যাকাশের রঙের খেলা নয় । বরং আমাদের যে বার্ষিক রঙের খেলা অর্থাৎ দোল উৎসব তার কথাই বলা হয়েছে । অতএব সেই কথাতেই আসি ।   ছোটোবেলা যে গ্রামে কাটিয়েছিলাম সেখানে প্রধান আরাধ্য দেবতা ছিলেন বলরাম । কৃষ্ণসখা । কৃষ্ণের সঙ্গে দোল উৎসবের ব্যাপক অনুষঙ্গ ছড়িয়ে আছে আমাদের প্রাচীন সাহিত্যে এবং পুরাণকথায় । সেই বলরাম মন্দির প্রাঙ্গণে দোল খেলা হত দোলের দিন বিকেলবেলা । আবির কম , গোলা রং বেশি । এ ব্যাপারে আমাদের উৎসাহ ছিল খুব । আমাদের এক একজনের নানা সাইজের পিচকারি থাকত । কাউকে কাছ থেকে রং দেবার একরকম পিচকারি তো দূর থেকে কাউকে দিতে আর এক রকম লম্বা পিচকারি । রঙ যখন ফুরিয়ে যেত তখন চলত স্রেফ জল ছোঁড়াছুড়ি । কুয়ো থেকে বালতি বালতি জল তুলে গায়ে মাথায় ঢালা । আমরা বড়দের বিশেষ ঘাঁটাতাম না । তাঁরা নিজেদের মধ্যে রং খেলতে...

মুক্তকথা ।। রঙের খেলা ।। শেফালি সর

  "রঙের খেলা" শেফালি সর আকাশ  চিত্রপটে যে ছবি আঁকা হয় প্রতিনিয়ত সকাল বিকাল সন্ধ‍্যা তাতে তো রঙের  ই খেলা হয়।কোন্ চিত্রকর যে সে ছবি আঁকে অলক্ষে‍্য থেকে  কে জানে! তার  রঙের  তুলির টান সত্যিই  অপরূপ কত মোহময়। পূর্ব দিগন্তে  প্রভাতক্ষণে যে ছবি আঁকা হয়  তা তো চিত্রকর তার  অনুরাগ  মিশিয়ে নবারুণের উদয়ের ছবি আঁকে। সে যেন কোনো কবির মনোজগতের লালিমাময় বৈচিত্র‍্যতায় ভরা অপূর্ব  সুন্দর  ছবি। সে বড়ো নয়নপ্রীতিকর  আবেশ মাখানো ছবি। একটার পর একটা  তুলির টানে নানা  রঙে ভরিয়ে তোলে পূবের  আকাশ। একসময়  সে ছবি বিলীন  হয়। তারপর আবারও  একটার পর আর  একটা  সাদা রঙে  এঁকে  যায় বিচিত্র সব ছবি। সেছবির রঙ ছড়িয়ে  পড়ে  দিকে  দিগন্তরে,বনে বনান্তরে-জলের ধারায়, কম্পিত ঝাঁউ শাখে-রূপসীর খোঁপার  ফুলে,ছায়াচ্ছন্ন অরণ‍্য প্রান্তরে, প্রজাপতির পাখায়, বালুতটে সর্বত্র। কখনো বা ক্ষুব্ধ চিহ্ন এঁকে  দিয়ে যায়  সিন্ধু বুকে। আবার রঙের  তরী নিয়ে  ভেসে চলে  পশ্চিম  দিগন্তে...

বসন্ত উৎসব ।। অঞ্জনা গোড়িয়া

  বসন্ত উৎসব  অঞ্জনা গোড়িয়া বসন্ত উৎসব!  এই নাম টা  আমাদের খুব পরিচিত। বসন্ত উৎসব মানেই  শান্তিনিকেতন আর শান্তিনিকেতন  মানেই  বসন্ত উৎসব।  এত দিন খবরে কাগজে  টিভি সংবাদে দেখে আসছি শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসবের কথা।  শুনে আসছি মানুষের  মুখে মুখে।  তখনও  কচিমনে   ইচ্ছে  করত একবার ঘুরে  আসতে। রবি ঠাকুরের  শান্তিনিকেতনে। বসন্ত উৎসবে। আবীরের উৎসবে।  ভালোবাসার উৎসবে।  কিন্তু ইচ্ছে   থাকলেও   কখনো যাওয়া  হয় নি।  ইচ্ছে  থাকলেও    সূচনা করতে    পারিনি। এমন ই এক উৎসবের আয়োজন করা হলো  এই বছর।  পেরেছি।  হ্যাঁ গো। ঠিক ই বলছি। এক বছর ধরে করোনা পরিস্থিতিতে  মানুষের মনে সুখ সাধ আনন্দ বিষাদে পরিনত হয়েছে। যদিও এখনো  আমরা করোনার আতঙ্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি।  তবু কিছু টা সময়  চেয়ে নিলাম একটু অন্যভাবে  কাটাতে। নবযুগের সূচনা  করতে।  আমার এক ছোট্ট  বোন এই গাঁয়ের ই বউ প্রীতি  যখন বলল,এমন ই এক উৎসবের...

গদ্য ।। লড়াই লড়াই লড়াই চাই ।। সুদীপ দাশ

লড়াই লড়াই লড়াই চাই সুদীপ দাশ      আমাদের তো সাতচল্লিশ সালে পাওয়া স্বাধীনতা।সেই স্বাধীনতা  এল দ্বিখন্ডিত দেশ নিয়ে। দেশের দুই প্রান্তে দুই প্রদেশে তখন দেশভাগের হাহাকার।সে সময়ের আগে পরে, কত যে হানাহানি,কত লড়াই, যা তখন কুখ্যাত ছিল 'রায়ট' নামে।বাঙালি জীবন তদবধি আজও  জাতি,ধর্ম দলে বিভাজিত।সেই ব্রিটিশ শাসনের সময় জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে থেকেই শুরু হল কম্যুনিস্ট পার্টি।কালে কালে তারও কত বিভাজন।নেতাজীও কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে করলেন ফরওয়ার্ড ব্লক,বললেন, 'এই দল ব্রিটিশের, সাম্রাজ্যবাদী শাসকের প্রকৃত বিরোধিতা করবে।' তাছাড়া সেই শতাব্দীপ্রাচীন ঘটি বাঙালের দ্বন্দ্ব তো রয়েছেই ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগানে।সেই সংঘাত ফুটবলের মাঠ থেকে পাড়ায় পাড়ায় ছড়িয়েছে।এমনকি মাঝে মাঝে রক্তক্ষয়ী রূপও নিয়েছে অতীতে।    পোকায় কাটা এক গণতান্ত্রিক দেশ উপহার পেলাম।সেখানে ডান,বাঁ উভয়েরই নিত্য নূতন দল উপদলের পত্তন।আবার একই দলে থেকে স্বার্থসংঘাতে তৈরী হতে থাকল বিভিন্ন গোষ্ঠী। বাঙালির অভিধানে এল নতুন শব্দ,-- 'গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা কোন্দল।'     ছোটবেলায় যখন মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে মামাবাড়িতে যেতাম,তখ...

মুক্তকথা ।। আবেগ কথা ।। আবদুস সালাম

 আবেগ কথা আবদুস সালাম           তাৎক্ষণিক আবেগ বাঙালির অন্যতম একটি স্বভাব ধর্ম। পরিব্যাপ্ত নেতা নেত্রীর রাজনীতি এ রাজ্যের প্রতিবাদ-বিরোধী রাজনীতি সমর্থক রূপে গৃহীত । উপরন্ত বাঙালি গণতন্ত্রকে দলতন্ত্র রূপে দেখতে অভ্যস্ত। জোর যার মুলুক তার , এই মাপ কাঠিতে     রাজ্যের রাজনীতির উত্তাপ পরিমাণ পরিমাপ করা হয়।  এলাকা   দখলের মতো মানসিকতা এই মানসিকতার ফসল ছাড়া আর কিছুই নয় । বর্তমানে দখল এবং পুনর্দখলের মতো ভাষা আমরা অভ্যাস করে ফেলেছি ।        বন্ ধ ডেকে , রাস্তা অবরোধ করে  জনজীবন স্তব্ধ করে দিয়ে রাজনৈতিক শক্তির পরীক্ষা যাচাই করায় এখন ভারতীয় গনতন্ত্রের অলিখিত সংবিধান । দলে বেনো জল ঠেকাবার কোন উদ্যোগ নেই। পাইয়ে দেওয়া ,ডানা ছেঁটে দেওয়ার মতো সরল  রাজনীতি বাংলার একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।  বিগত বছরগুলোতে বস্তাপচা বুলী শুনে শুনে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। কেবল দিতে হবে দিতে হবে এই শ্লোগানে মুখরিত দেশ । কেমন করে দিতে হবে ,কি দিতে হবে ? কেই বা দিবে এসব আমরা কিছুই জানি না। কোথায় ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

রিভিউ ।। উপন্যাসঃ এক নদী দুই স্রোত ।। লেখকঃ বিশ্বনাথ প্রামানিক ।। আলোচকঃ জয়শ্রী ব্যানার্জি

গভীর এক উপলব্ধির প্রেমের উপন্যাস 'এক নদী দুই স্রোত' জয়শ্রী ব্যানার্জি    এই গল্প গড়ে উঠেছে শ্রীমন্ত, লক্ষ্মী,হাসিনাকে কেন্দ্র করে। তাদের ত্রিকোণ প্রেমের বাতাবরণে যেমন এক গভীর গোপন ভালোবাসার জন্ম নিয়েছে তেমনই প্রকাশিত হয়েছে মানুষের মধ্যে ঈর্ষা, সংকীর্ণতা, দুর্বলের প্রতি সবলদের দম্ভ ! যেসব চরিত্রগুলো উঠে এসেছে তাদের সবাই আর পাঁচজনের মতোই আলো আঁধারে মিশে আছে । কখনও ভালো কখনও কিছু মন্দ দিক দেখি । শ্রীমন্ত যাকে ভালো শান্ত, পরোপকারী হিসাবে দেখি, হাসিনার প্রতি তার যে গোপন এক  ভালোবাসা, ভালোলাগা ..আবার লক্ষ্মীকেও সে ঠিক উপেক্ষা করতে পারে না, এর মধ্যে কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ঠিক যেনো পাড়ার ছেলেটি! তার ভালোবাসা স্বপ্ন, ইচ্ছা, হতাশা অভিমান, অপেক্ষা, রাগ ক্ষোভ তার বেকারত্ব  তার প্রতি কিছুজনের কটূক্তি বা উপেক্ষা তার ভিতরের পুরুষকে কখনো জাগিয়ে তোলে কখনও যেন দমিয়ে রাখে!  অপরদিকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা হাসিনাকে দেখি লাজুক, শান্ত পড়াশোনায় ভালো মেয়েটি । সেও যেনো খুব চেনা কোনো মেয়েটি । শ্রীমন্তর প্রতি তার যে আকর্ষণ তা পবিত্র লাগে । ওর জন্য নিজের জীবন দেওয়া হাসিনার...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

তোকে পাইনি বলে ।। সমীর মন্ডল

তোকে পাইনি বলে সমীর মন্ডল তোকে পাইনি বলে, আজো ভীষণ কষ্ট হয় সবুজ ঘাসে শিশিরের স্পর্শ, মুক্তময় হওয়ার পর যেমন আগের অবস্থায় ফিরে যায় তেমনি মরুভূমির বুকে সবুজ গালিচার প্রাচুর্য থেকে আবারও তুষার ঝড় আসার মতো ঘটনায় বার বার বদল হয়েছে, সুখ স্মৃতির। কেউ বুঝতেও পারে না, কিভাবে মা মাটির গভীরে, রহস্যময় পটপরিবর্তনে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে, দু- চারটি পাখি যারা সময়ের হিসাব না রেখে, গেয়ে যাচ্ছে গান উড়ে যাচ্ছে আকাশে,ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলছে বিচ্ছেদের নীহারিকা। কী করবো বল্? ওদের সাথেই কেটে যাচ্ছে, দুঃখ যাপনের সুখগুলি। ডেকে ডেকে যাকে পাওয়া যায় না সেই নিঠুরকে নিজেকে সমর্পণের পর আপসোস করা সত্যিই, বিলাসিতা! .............................. সমীর মন্ডল  শাঁকারীপাড়া, কাঞ্চননগর, পূর্ব বর্ধমান, পিন-৭১৩১০২

বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায়

বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য  সৈকত প্রসাদ রায়  জানালা দিয়ে ভোরের আলো এসে পড়েছে শৌনকের মুখে। কিন্তু তার চোখে ঘুম নেই,স্বপ্নটা এখনও যেন বুকের ভেতর কাঁপছে। সে উঠে দাঁড়িয়ে জানালার পাশে এসে দাঁড়াল। বাইরে শীতের সকাল, কুয়াশার চাদরে ঢাকা শহর। কিন্তু শৌনকের চোখে ভাসছে শুধু সেই লাল বেনারসি, সেই জলভরা চোখ। শৌনক চোখ বন্ধ করল। মনে পড়ল সেই দিনটা। তিন বছর আগে, ১৪ই ফেব্রুয়ারি, সকালবেলা ফোন করেছিল সোনিয়া,গলায় উচ্ছ্বাস। "শৌনক! আজ কী দিন জানিস?" "ভ্যালেন্টাইন্স ডে। আর আমাদের বিয়ের শপিং এর দিন!" শৌনক হেসেছিল। "ঠিক! দশটায় রেডি থাকবি। আমরা নিউ মার্কেট যাব। আমার বেনারসি শাড়ি দেখতে হবে, তোর শেরওয়ানি, আর..." "আর তোর অসংখ্য শপিংয়ের লিস্ট!" শৌনক হাসতে হাসতে বলেছিল। "হ্যাঁ! আর মা বলেছে লাল বেনারসি নিতে। ট্র্যাডিশনাল। তুই কী বলিস?" "তুই যেটা পরবি, সেটাই সবচেয়ে সুন্দর হবে সোনিয়া।" ফোনের ওপাশ থেকে সোনিয়ার খিলখিল হাসি ভেসে এসেছিল - " আচ্ছা, দশটায় আমার বাড়ির সামনে, দেরি করবি না কিন্তু!" শৌনক ঠিক সাড়ে নয়টায় পৌঁছে গিয়েছিল সোনিয়ার ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

দুটো কবিতা ✍️ সিদ্ধার্থ লাহা

    দুটো কবিতা ✍️ সিদ্ধার্থ লাহা   সোনালী শঙ্খচিল ডাইনে বা বামে , জানালা বা রাস্তার মোড়ে - দেখ নানা অজুহাতে, অনুভব করি বারেবার। কেন জানাওনি আমায় আকারে, ইঙ্গিতে, ভাষায়? আমি-ও জানতে চাইনি - এক সাতসকালে ঘুম থেকে উঠে বুঝি  - বুকের ভেতর খালি । রক্তক্ষরণের অনুভতি। জানলায় চেয়ে দেখি— তুমি, তুমি, তুমি। ও সোনালী শঙ্খচিল, ফুলে-ঢাকা কৃষ্ণচূড়া ডালে ঠুকরে ঠুকরে আনন্দে খাও, আমার হৃদয়খানি । এত, এত ক্ষুধা— কোনোদিন বলনি কেন? শোনো গো সোনালী শঙ্খচিল, পরের জন্মে হয়ো নোটন পায়রা— এস সাদা ঝোটন বেঁধে বনের ধারে, বুড়ো শিবের মন্দিরচূড়ে। রও না চুপ  - এ জন্মের মতো। দুজন মুখোমুখি - ঠোঁটের কাছে  এনে ঠোঁট, বলো অনেক, অনেক কথা - বকম বকম বকম। মনে থাকবে।     কচ্ছপ হৃদয়  ​তুমি চলে গেলে স্বর্ণমূর্তি রেখে— কনক মূর্তিতে কাজ নেই, রক্ত-মাংসের স্বর্ণকে  চাই। ​আকুল নয়নে রাস্তার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে রই। ​মুঠো মুঠো চুল আকাশে উড়িয়ে— হাসি-কান্নার স্বর্ণকে চাই। ​আগের মতো শীর্ণ হাত মোর বুকে ঠুকে বারবার, মাথা ঠুকে শতবার— বলবে বারে বারে, “হৃদয় তোমার কচ্ছপের মতো, শক্ত খোলাতে ঢাকা, শাওলা...

সুরঞ্জনা ।। অজিত কুমার সিংহ

সুরঞ্জনা অজিত কুমার সিংহ সুরঞ্জনা, নোতুন চরের মতো জেগে উঠেছে তোমার কনক কতোরা; আমি কি এখন থাকতে পারি তোমাকে ছাড়া। নদীর জলে চান করতে যখন দেখি তোমার ছায়া; জলকেলি করার জন্যে কাঁদে আমার কায়া। চৈত্রের মধ্যাহ্নে যখন দেখি তোমাকে বাড়ির উঠানে ; তোমার হৃদয় নিঙড়ানো সরবত খেতে চায় আমার পরানে।

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। নবপ্রভাত ৮৫ ।। চৈত্র ১৪৩১ মার্চ ২০২৫

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। মরিয়ম মির্জাখানি: এক অনন্য গণিতসূর্য ।। ... নিবন্ধ ।। নারী দিবসে যা ভাবা উচিত ।। বিশ্বনাথ পাল প্রবন্ধ ।। প্রাচীনকাল থেকে নারীরা অবহেলিত, বঞ্চিত,... নিবন্ধ ।। আমার চোখে আদর্শ নারী ।। জয়শ্রী বন্দ্... ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখ... আফ্রিকার লোককথা ।। করোটিকে বিয়ে করা অবাধ্য মেয়েটি ... ছোটগল্প ।। মানবী ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল নিবন্ধ ।। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম নারী মু... নিবন্ধ ।। প্রিয় মহিলা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী ।। ... গল্প ।। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।। রবীন বসু প্রবন্ধ ।। নিপীড়িতা ।। শ্যামল হুদাতী ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত প্রবন্ধ ।। নারী সমাজ : তখন-এখন ।। তপন মাইতি নিবন্ধ ।। বহমান কালের ধারায় নারী ।। দীপক পাল গল্প ।। আমার দুর্গা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) গল্প ।। যোগ্য জবাব ।। সমীর কুমার দত্ত ছোটগল্প ।। আমি দুর্গাকে দেখেছি।। চন্দন দাশগুপ্ত গল্প ।। সম্পর্ক ।। গৌতম সমাজদার কবিতা।। নারী মানে ।। গোবিন্দ মোদক কবিতা।। নারী ।। সমর আচার্য্য ছড়া ।। নারী অসামান্যা ।। সৌমিত্র মজুমদার কবিতা ।। নারী দিবসে ।। বিবেকানন্দ নস্কর কবিতা ।। না...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রবন্ধ ।। বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার

নীরবতার মহাকাব্যকার:  বেলা তার ও চলচ্চিত্রের দর্শন উৎপল সরকার বিশ শতকের শেষ ভাগ ও একবিংশ শতকের শুরুর দিকের বিশ্ব চলচ্চিত্রের মানচিত্রে এমন কিছু নির্মাতার নাম উজ্জ্বল হয়ে আছে, যাঁরা মূলধারার বিনোদনমুখী সিনেমার বিপরীতে দাঁড়িয়ে সময়, নীরবতা ও অস্তিত্বের গভীর প্রশ্নকে চলচ্চিত্রের ভাষায় রূপ দিতে চেয়েছেন। হাঙ্গেরীয় চলচ্চিত্রকার বেলা তার ছিলেন সেই বিরল শিল্পীদের একজন, যাঁর সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা কেবল গল্পগ্রহণ দর্শননার আস্বাদন নয়—বরং ধৈর্য, মনোসংযোগ ও আত্মঅনুসন্ধানের এক দীর্ঘ যাত্রা।এই সেদিন ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি বুদাপেস্টে তাঁর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব চলচ্চিত্র হারাল ধীরগতির চলচ্চিত্র ধারার এক অগ্রপথিককে। ১৯৫৫ সালের ২১ জুলাই হাঙ্গেরির পেচ শহরে জন্ম নেওয়া বেলা তার কৈশোর থেকেই সমাজ ও মানুষের প্রতি গভীর আগ্রহ অনুভব করেছিলেন। তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ তাঁকে বাস্তবতার খুব কাছ থেকে জীবন দেখার সুযোগ দেয়। সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীকালে তাঁর চলচ্চিত্রে রূপ নেয় নিরাবরণ, নিষ্ঠুর অথচ মানবিক এক ভাষায়। তিনি ছিলেন কেবল একজন পরিচালক নন—একজন চিন্তাবিদ, যিনি ক্যামেরাকে ব্যবহার করেছেন দর্শনের অনুসন্ধানী ...

রবীন্দ্রনাথের গান—"তাই তোমার আনন্দ আমার পর"—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল

রবীন্দ্রনাথের গান  "তাই তোমার আনন্দ আমার পর" — একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ভুবনেশ্বর মন্ডল  রবীন্দ্রনাথের গান শুনলে এবং পাঠ করলে একটা বিশেষ অনুভূতি জাগে মনের মধ্যে। রবীন্দ্র সংগীতের জন্ম যেন রবীন্দ্রনাথের হৃদয়ের অতল গভীর থেকে। আমার মনে হয় এ এই গান কৃত্রিমভাবে সাজানো কোন কথা নয়। এক বিশেষ মুহূর্তের বিশেষ উপলব্ধি জাত সত্য। কবি যেন ধ্যানতন্ময় হয়ে অনুভূতির গভীরে ডুবে হৃদয় সমুদ্র মন্থন করে থেকে রত্ন তুলে এনেছেন তাঁর গানে। রবীন্দ্রনাথের গান যেন কোন বিশেষ ব্যক্তির কথা নয়। এ এক বিশ্বজনীন অনুভূতি ও সত্য। বিশ্বের যে কোন মানুষই নিজেকে মেলাতে পারেন কবির ওই অনুভূতির সঙ্গে। তাঁর মনে হবে এ যেন আমারই কথা, আমারই অনুভব, আমারই উপলব্ধি জাত সত্য। রবীন্দ্রনাথের গানে রয়েছে এক মহাব্যাপ্তি। রবীন্দ্রনাথ তাঁর গানে যেন সত্য দ্রষ্টা ঋষি তুল্য। মনের সূক্ষ কোমল অনুভূতি গুলি নিয়ে নাড়াচাড়া করেছেন তাঁর গানে। গানগুলি স্বতঃস্ফূর্ত ঝর্ণাধারার মতো। কবি যেন আত্মসমাহিত। তাঁর বিভিন্ন পর্যায়ের গান রয়েছে। প্রেম, প্রকৃতি, পূজা,আনুষ্ঠানিক, স্বদেশ প্রেম মূলক ইত্যাদি। রবীন্দ্রনাথের উপর উপনিষদের গভীর প্রভাব...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

দুটি কবিতা ✍️ সিদ্ধার্থ লাহা

দুটি কবিতা ✍️ সিদ্ধার্থ লাহা নষ্ট চাঁদ   নষ্ট চাঁদ তুমি চলে গেলে। শিরায় শিরায় লবণ জলের জোয়ার,  বদ্যি দেখাতে হবে—তুমি ভাবেছো কখনো? সাদাকালো শীর্ণ জলছবিরা  ভেসে বেড়ায় এদিক সেদিক বেঁচে আছে , আছে বেঁচে তবু! কোন একদিন কোজাগরী চাঁদ দেখবে বলে,  নিজেরাও জেগে ফেরে আমাকেও  দেয় না ঘুমাতে। নষ্ট চাঁদ—আমার শরীরে লবণ জলের জোয়ার। গাল দিয়ে নেমে যায় সাগরে  মেশাবে বলে। কদম ছায়াতল তপ্ত মনের বালুকামাঝে —   সবুজ বনানী  আঁকে। বন্যার জলে—নৌকা বাড়িয়ে দেয়, সাঁতার জানো না বলে। রাত-গভীরে স্বপ্নের মাঝে প্রজাপতি হয়ে উড়ে— তুমি দুঃস্বপ্ন দেখো পাছে। তেষ্টা কালে মরু তৃষ্ণার শ্রাবণধারা হয়ে হৃদয় শীতল করে। তুমি  তাকে চিনেছো কি? রাস্তার ধারে কদম ছায়া তলে — হাতভর্তি  কদমফুল, চোখভর্তি আলো তোমা পানে চেয়ে। দিও না ফিরায়ে সে ফুল,  দিও না শুখায়ে যেতে। চেয়ে নিও দু’হাত ভোরে। আকাশ ভর্তি ভালোবাসা কাজলা কালো মেঘ হয়ে তোমার শুষ্ক মুখ দেবে মুছে। ফিরাওনা তারে । -------------------------- Siddhartha Sankar Laha, Durgapur

রিভিউ ।। উপন্যাসঃ এক নদী দুই স্রোত ।। লেখকঃ বিশ্বনাথ প্রামানিক ।। আলোচকঃ জয়শ্রী ব্যানার্জি

গভীর এক উপলব্ধির প্রেমের উপন্যাস 'এক নদী দুই স্রোত' জয়শ্রী ব্যানার্জি    এই গল্প গড়ে উঠেছে শ্রীমন্ত, লক্ষ্মী,হাসিনাকে কেন্দ্র করে। তাদের ত্রিকোণ প্রেমের বাতাবরণে যেমন এক গভীর গোপন ভালোবাসার জন্ম নিয়েছে তেমনই প্রকাশিত হয়েছে মানুষের মধ্যে ঈর্ষা, সংকীর্ণতা, দুর্বলের প্রতি সবলদের দম্ভ ! যেসব চরিত্রগুলো উঠে এসেছে তাদের সবাই আর পাঁচজনের মতোই আলো আঁধারে মিশে আছে । কখনও ভালো কখনও কিছু মন্দ দিক দেখি । শ্রীমন্ত যাকে ভালো শান্ত, পরোপকারী হিসাবে দেখি, হাসিনার প্রতি তার যে গোপন এক  ভালোবাসা, ভালোলাগা ..আবার লক্ষ্মীকেও সে ঠিক উপেক্ষা করতে পারে না, এর মধ্যে কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ঠিক যেনো পাড়ার ছেলেটি! তার ভালোবাসা স্বপ্ন, ইচ্ছা, হতাশা অভিমান, অপেক্ষা, রাগ ক্ষোভ তার বেকারত্ব  তার প্রতি কিছুজনের কটূক্তি বা উপেক্ষা তার ভিতরের পুরুষকে কখনো জাগিয়ে তোলে কখনও যেন দমিয়ে রাখে!  অপরদিকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা হাসিনাকে দেখি লাজুক, শান্ত পড়াশোনায় ভালো মেয়েটি । সেও যেনো খুব চেনা কোনো মেয়েটি । শ্রীমন্তর প্রতি তার যে আকর্ষণ তা পবিত্র লাগে । ওর জন্য নিজের জীবন দেওয়া হাসিনার...