Skip to main content

Posts

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...
Recent posts

প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী

মায়াজাল  উত্তম চৌধুরী কী যে এক রহস্যের মতো! দিনদিন বাড়ে ক্রমাগত  চোখ তাঁর, মুখ তাঁর, মন। নিভৃতেই ভাবছি যখন  আকাশের রামধনু রং হোলি খেলে হৃদয়ে আমার।  কী যে এক দীর্ঘ মায়াজাল  ছড়িয়ে রয়েছে দিকে দিকে! যত তাকে গোটাতে চেয়েছি  টেনে ধরে নিটোল সকাল। .................................. উত্তম চৌধুরী সারদাপল্লি,আলিপুরদুয়ার  ৭৩৬১২১

উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

উদভ্রান্ত আমি জয়িতা চট্টোপাধ্যায় একটা জীবন্ত আমি ঘুরে বেড়াই খাতার পৃষ্ঠায় ব্যর্থ প্রেম থেকে তুলে আনি নতুন অহংকার বস্তু কণার মতো ছড়িয়ে দিই দুঃখকে মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত গড়ে ওঠে একটা বিরাট পথ যা তুমি পেরুতে পারো না আবার সরাতেও পারো না আর আমি সমস্ত মানুষের থেকে আলাদা হয়ে হেঁটে বেড়াই নিজেরই কবিতার পংক্তিতে আমার দুহাতে এখন উপচে পড়ে দয়া গোটা পৃথিবীই মনে হয় ভীষণ আপন কেবল তুমি একদিন ফিরিয়ে দিয়েছিলে বলে... ============== জয়িতা চট্টোপাধ্যায় শ্যামনগর উত্তর চব্বিশ পরগনা ভারত

রিভিউ ।। উপন্যাসঃ এক নদী দুই স্রোত ।। লেখকঃ বিশ্বনাথ প্রামানিক ।। আলোচকঃ জয়শ্রী ব্যানার্জি

গভীর এক উপলব্ধির প্রেমের উপন্যাস 'এক নদী দুই স্রোত' জয়শ্রী ব্যানার্জি    এই গল্প গড়ে উঠেছে শ্রীমন্ত, লক্ষ্মী,হাসিনাকে কেন্দ্র করে। তাদের ত্রিকোণ প্রেমের বাতাবরণে যেমন এক গভীর গোপন ভালোবাসার জন্ম নিয়েছে তেমনই প্রকাশিত হয়েছে মানুষের মধ্যে ঈর্ষা, সংকীর্ণতা, দুর্বলের প্রতি সবলদের দম্ভ ! যেসব চরিত্রগুলো উঠে এসেছে তাদের সবাই আর পাঁচজনের মতোই আলো আঁধারে মিশে আছে । কখনও ভালো কখনও কিছু মন্দ দিক দেখি । শ্রীমন্ত যাকে ভালো শান্ত, পরোপকারী হিসাবে দেখি, হাসিনার প্রতি তার যে গোপন এক  ভালোবাসা, ভালোলাগা ..আবার লক্ষ্মীকেও সে ঠিক উপেক্ষা করতে পারে না, এর মধ্যে কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ঠিক যেনো পাড়ার ছেলেটি! তার ভালোবাসা স্বপ্ন, ইচ্ছা, হতাশা অভিমান, অপেক্ষা, রাগ ক্ষোভ তার বেকারত্ব  তার প্রতি কিছুজনের কটূক্তি বা উপেক্ষা তার ভিতরের পুরুষকে কখনো জাগিয়ে তোলে কখনও যেন দমিয়ে রাখে!  অপরদিকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা হাসিনাকে দেখি লাজুক, শান্ত পড়াশোনায় ভালো মেয়েটি । সেও যেনো খুব চেনা কোনো মেয়েটি । শ্রীমন্তর প্রতি তার যে আকর্ষণ তা পবিত্র লাগে । ওর জন্য নিজের জীবন দেওয়া হাসিনার...

গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার

গুচ্ছ কবিতা  অভিজিৎ হালদার   হলুদ প্রহরের দীর্ঘশ্বাস ও অবিনশ্বর দহন শহরের প্রতিটি ইটের পাঁজরে আজ পলাশেরা উদ্ধত রক্তিমতায় জেগে উঠেছে, যেন কোনো এক প্রাচীন যুদ্ধের বিজয় নিশান। আমি সেই চেনা গলির মোড়ে আজও খুঁজি সেই বিশেষ হলুদ প্রহরটি, যা একদা তোমার বাসন্তী শাড়ির ভাঁজে আর চঞ্চল হাসিতে মিশে ছিল। বসন্ত কি তবে কেবল বৃক্ষের নতুন করে সেজে ওঠা? নাকি এটি এক প্রচ্ছন্ন নীল বেদনা, যা হৃদয়ের নির্জনতম কোণে গোপনে জলসিঞ্চন করে ক্ষতকে সতেজ রাখে? প্রিয়তমা, এই যে দক্ষিণা বাতাস আজ অবাধ্য হয়ে বয়ে যাচ্ছে চারিপাশে— তাতে তোমার চুলের সেই পরিচিত ঘ্রাণ নেই, বরং আছে এক অস্থির বিচ্ছেদের হাহাকার। প্রেমিক আজ ভিড়ের মাঝেও একা, কারণ সে জানে এই রঙের উৎসবে তার কোনো অংশীদার নেই। প্রতিটি ঝরা পাতা যেন একেকটি না-বলা চিঠির বয়ান, যা মাটির বুকে আছড়ে পড়ে গুমরে মরে। এই হলুদ দহন থেকে মুক্তির কোনো পথ নেই, কারণ বসন্ত নিজেই এখানে দাহনকারী। নীল ডায়েরির পাতায় বিমূর্ত বিরহগাথা অভিজিতের কলম আজ থমকে গেছে এক অলীক শূন্যতার কিনারে, যেখানে শব্দেরা আর ছন্দ মেলাতে চায় না। বসন্তের এই প্রথম ভোরে সে আর প্রেমিকার কোমল হাত ছোঁয় না, বরং তা...

প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি

প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম আদিল হোসেন মাহি মানুষ পৃথিবীতে আসে অজ্ঞান, নিরপেক্ষ, নিঃশব্দ। কিন্তু সে শিখে—স্পর্শের ভাষা। মায়ের বুকে মুখ রাখলে যে নিশ্চিন্ত ঘুম আসে, তার মধ্যে ভেসে আসে প্রেমের প্রথম আলো। সেই আলো নীরব, নিঃসঙ্গ, কিন্তু শক্তিশালী; যা একবার জ্বলে গেলে মুছে যায় না। প্রেম তাই কোনো শিখানো বিদ্যা নয়; এটি মানুষের আত্মার ভিতরে জন্মানো এক প্রাথমিক সত্য। প্রেমকে আমরা প্রায়ই সংজ্ঞায় আবদ্ধ করতে চাই। কেউ বলে এটি আকর্ষণ, কেউ বলে এটি আবেগ, কেউ বা বলে এটি রসায়ন। কিন্তু প্রেম এসবের বাইরে। প্রেম হলো সেই অদৃশ্য শক্তি, যা মানুষকে তার সীমা অতিক্রম করতে শেখায়। যে মানুষ ভালোবাসতে জানে, সে নিজের স্বার্থের বাইরে ভাবতে পারে। প্রেম তাকে তার একক সত্তা থেকে বৃহত্তর মানবিক সত্তায় নিয়ে যায়। প্রেমের সবচেয়ে স্পষ্ট রূপ আমরা দেখি রোমান্টিক সম্পর্কের মধ্যে। কিন্তু প্রেম তার চেয়েও বহুগুণ গভীর। মায়ের নিঃশর্ত স্নেহ, পিতার নীরব ত্যাগ, বন্ধুর অকৃত্রিম পাশে থাকা, শিক্ষকের নিঃশব্দ পথপ্রদর্শন—এসবই প্রেমের বহুমাত্রিক রূপ। এমনকি একজন অচেনা মানুষের বিপদে এগিয়ে আসা—এটিও প্রেমেরই প্রমাণ। ...

অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী

অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️শিবাশিস মুখার্জী কলকাতার এক পুরনো বাড়িতে বসে জানলার ফাঁক দিয়ে ভিজে হাওয়া টেনে নিয়ে বাবাইদা একদিন আমাকে বলেছিল দেখিস, প্রেম হলো মেঘের মতো। আসবে যাবে কিন্তু বাতাসের মতো কাউকে না কাউকে স্পর্শ করবেই। সেদিন কথাটা শুনে হেসেছিলাম। তখনও বুঝিনি কিছু কথা সময়ের ভিতর নীরবে বেঁচে থাকে একদিন হঠাৎ সত্যি হয়ে ওঠার জন্য। বয়সে তখন বাবাইদা পঞ্চাশ ছুঁয়েছে। চুলে পাক ধরেছে চোখে কাচের চশমা তবু হাসলে মনে হতো এক তরুণ এখনও ভেতরে বেঁচে আছে। সময়ের ধুলো তাকে ছুঁতে পারেনি শুধু একটু ক্লান্ত করেছে। আর আমি তখন সদ্য লেখক প্রেম সম্পর্কে অল্প জানা জীবন সম্পর্কে অর্ধেক অন্ধ। একদিন হঠাৎ মেসেঞ্জারে একটা বার্তা এলো বাবাইদা কেন তুমি আমাকে ভালোবাসলে না তাহলে আমার জীবনটা অন্যরকম হত। লিখেছিল পরিণীতা। চব্বিশ বছরের এক তরুণী সফটওয়্যার কোম্পানিতে কাজ করে সকাল-সন্ধে ট্রাম-বাসে ছুটে চলে আর অন্তরে নিঃশব্দে কবিতা লেখে। বাবাইদা অনেক আগেই বুঝেছিল মেয়েটার ভেতরে আছে ঝড়। এক গভীর ভালোবাসার ক্ষমতা যা মানুষকে বাঁচায়, আবার শেষও করে দেয়। কিন্তু সেই ঝড়কে বুকে টেনে নেওয়ার সাহস তার নিজের মধ্যে ছিল না। বয়স অভিজ্ঞতা,...

গল্প ।। অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল

অসমাপ্ত শ্রুতি জয় মণ্ডল শিলিগুড়ির ঘিঞ্জি শহর ছাড়িয়ে গাড়িটা যখন কার্শিয়াং-এর কুয়াশার বুক চিরে উপরে উঠছিল, তখন অনিকেতের ল্যাপটপে একটা পুরোনো সুর বাজছিল। অনিকেত পেশায় একজন ফটোগ্রাফার। পাহাড় তার নেশা, আর একাকীত্ব তার স্বভাব। কিন্তু এবারের এই পাহাড় ভ্রমণটা ছিল একটু অন্যরকম। তার হাতে ছিল একটা মেরুন রঙের খাম, যা সে খুঁজে পেয়েছিল তার ঠাকুরদার পুরোনো ট্রাঙ্কে। চিঠিটা লেখা হয়েছিল ১৯৫৫ সালে। প্রেরক— মৃন্ময়ী। প্রাপক— অনিকেতের ঠাকুরদা, বিনায়ক। কিন্তু চিঠিটা কোনোদিন খোলা হয়নি। • কুয়াশার শহরে প্রথম দেখা:  কার্শিয়াং-এর এক জীর্ণ কিন্তু আভিজাত্যে ভরা হোমস্টে-তে অনিকেত উঠল। সেখানে তার পরিচয় হলো ইপ্সিতার সাথে। ইপ্সিতা সেখানকার স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষিকা। চশমার আড়ালে তার চোখ দুটো যেন সবসময় পাহাড়ের মেঘের মতো কিছু একটা লুকোতে চায়। অনিকেত যখন ডাইনিং হলে বসে সেই মেরুন খামটা নিয়ে নাড়াচাড়া করছিল, ইপ্সিতা পাশে এসে বসল।  "আপনিও কি পুরোনো চিঠির গন্ধ খুঁজছেন?" ইপ্সিতার গলায় এক অদ্ভুত মাদকতা ছিল। অনিকেত হাসল। "না, আমি এক অপূর্ণ প্রেমের শেষটা খুঁজতে এসেছি। আমার ঠাকুরদা আর মৃন্ময়ী— এঁদের গল্পটা হয়তো ...

রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র

ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড অভীক চন্দ্র প্রেম আসলে একটা স্টার্টআপ। পার্থক্য শুধু এই যে, এখানে আইডিয়া পিচ করতে হয় না; চোখের দৃষ্টি পিচ করলেই কাজ শুরু। বিনিয়োগকারীরা অদৃশ্য, কিন্তু ঝুঁকি একেবারে দৃশ্যমান। লাভ-লোকসানের হিসেব মেলাতে গেলে ক্যালকুলেটরের বদলে দরকার হয় টিস্যু। প্রথমে আসে 'আইডিয়া স্টেজ'। বাসে, লাইব্রেরিতে, অফিসের কফি মেশিনের সামনে হঠাৎ করে মনে হয়, "এই মানুষটিকে ছাড়া পৃথিবীটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা!" এই ভাবনাটাই হলো মিনিমাম ভায়াবল্‌ প্রোডাক্ট। এরপর শুরু হয় মার্কেট রিসার্চ। সে কী খায়, কী দেখে, কার পোস্টে লাইক দেয়। প্রাচীন যুগে মানুষ নক্ষত্র দেখে ভাগ্য বিচার করত; আধুনিক প্রেমিক তার টাইমলাইন দেখে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। তারপর আসে ফান্ডিং রাউন্ড। এখানে বিনিয়োগ হল সময়, ঘুম আর আত্মসম্মান। "না না, আমি এমনিই অনলাইনে ছিলাম," এই বাক্যটি হলো প্রেমের প্রথম ভুয়ো ব্যালেন্স শিট। ঘুম কমে যায়, চার্জারের প্রয়োজনীয়তা বাড়ে। মোবাইলের ব্যাটারি যেমন দশ পার্সেন্টে নামলেই লাল সতর্কতা দেখায়, তেমনই প্রিয়জনের 'সিন' হয়ে উত্তর না এলে হৃদয়ে লাল বাতি জ্বলে ওঠে। প্রেমের সিইও আসলে কেউ ন...

প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার

  প্রেমিক-জন্ম নবনীতা সরকার  নিদারুণ এক ভুলে ছিঁড়ে গেছে যাবতীয় বিশ্বাসের ডোর অনাকাঙ্ক্ষিত যাপনের যে ডানা সুই সূতোয় আটকে দিয়েছিল সমাজ তাতে লেগেছে চাপ চাপ রক্তের দাগ তুমি বলেছিলে মানুষ মাত্রই ভুল করে আদতে মানতে পারলে কই ! তোমার তীর্যক চাহনিতে লেগে থাকে তীক্ষ্ণ ছুড়ির ধার আহত হংসীর মতো পড়ে থাকি সারাবেলা নাভিমূলে একটু একটু করে বেড়ে ওঠে বোধিবৃক্ষ , ভেতরের ঈশ্বর জানে তা সময়ের অবিরাম অনভিপ্রেত ধারাপাত স্থানুবৎ করেছে সাংসারিক মনন যে চোখ ভুল দেখা সয়ে গ্যছে অথবা যে মন আয়ত্ত করেছে ভুল করার একশো একটি কৌশল, তার কাছে খোলা আকাশ আর জীবন সমার্থক এটুকুর উপলব্ধি জন্য একবার অন্তত প্রেমিক-জন্ম নিও প্রিয়... ***********   নবনীতা সরকার পবিত্র পাড়া জলপাইগুড়ি

সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত

সুব্রতাসম্ভব সহজ গান অর্ণব সামন্ত দ্রাঘিমাও থমকে, স্থির পরিপ্রেক্ষিতে আকাশের বুক  সুখ-দুঃখ সামলে রাখে আষ্টেপৃষ্ঠে জন্ম জন্মান্তরের ঋণ  ঢেউয়ে ঢেউয়ে দোলে স্রোতস্বিনী পিছুতে ভালবাসা নাছোড়  আজীবন মরণ মুহুর্মুহু তবু জীবনের চেয়েও বেশি জীবন  যাপনে আনো মধুরিমা, সৌন্দর্য, মন্ত্রমুগ্ধতা, সম্মোহন  একই সঙ্গে সৃজন প্রলয় আবার জীবনের অসীম বিস্তার  নয়নতারায় প্রথম আলো, জিভেপ্রথম শব্দ  অনন্ত অভিসার, যৌন সুখ, ব্ল্যাকহোল থেকে প্রথম প্রসব যন্ত্রণা  অক্ষরে অক্ষরে স্বরবর্ণ স্থাপনা, রঙিন ব্যঞ্জনবর্ণের অভিব্যক্তি  বিবর্তন ডেকে আনো চলনে, বলনে, ব্যবহারে  বিষুবরেখায় রাখো সুব্রতাসম্ভব সহজ গান কর্কটক্রান্তি, মকরক্রান্তিতে প্রেমের অধিক বিরহ যাপন  সুমেরু কুমেরু মিশে যায় একবিন্দুতে সিন্ধুসম্ভব উচ্ছল রাগরাগিনীতে  অনন্ত দ্রাঘিমা জুড়ে শুধু বেঁচে থাকে এক জীবনের জন্যে অন্য জীবনের কামনাবাসনা  এককের ঝংকারে মাধ্যাকর্ষণ অগ্রাহ্য করে ছুটে যায় এক অবাধ অবাধ্য সহজ কবিতা, সহজ গান  সুব্রতাসম্ভব যাপনে রাখে জীবনের চেয়েও বেশি জীবন !       ...

যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত

  যৌবনের বিগত ঋণ শম্পা সামন্ত মন ভালোর কিছু কথা তুমি বিছিয়ে রেখেছো রোদেলা শিউলির উচাটন আনন্দে উদবেগের আলোগুলি স্মৃতির সোপান বেয়ে উঠুক বহ্নিশিখা আমাদের সেই পুঞ্জিভূত ক্ষোভের পাহাড় খুঁড়ে রাস্তা নির্মাণ উপেক্ষায় পড়ে থাকা বাঁশিগুলি ধুলো ঝেড়ে তুলে রাখি আবার শলমা জড়ির চকমকি রাত, বৃষ্টি শেষে সোঁদাগন্ধের বিকেলে শরীর জড়ানো সুখের উপনিবেশ ঘোমটা উঠিয়ে তৃষ্ণায় মরিচিকার দু-চোখের পরিপূর্ণ ভ্রম বুকের ভরসা ঠেলে বেরিয়ে আসতে চায় অনুরাগের গরম লাভা একদিন এপথে পুষ্পবৃষ্টি হোক আবার বসন্ত মেখে নিক রঙিন পলাশে শিমুলে এখন মাঘের পিছুটান কচিপাতায় পেতে রাখে কিসিমের কাজল  যে পথে লিখে রাখে যাবতীয় ঋণ সে পথে বসন্তের উদ্ভ্রান্ত যৌবনের শুভমুক্তি হোক।   =============

দেখা ।। রাজশ্রী দে

দেখা  রাজশ্রী দে    অনুপমা দেবী  যাচ্ছেন কাশ্মীর ডলফিন ট্রাভেলসের সঙ্গে। দাদার ছেলে সৌভিক এসেছে ট্রেনে ওঠাতে। অনেকদিনের শখ কাশ্মীর ভ্রমণের। স্বামী অয়নের সঙ্গে  বহু দেশ দেখা হয়েছে  কিন্তু কাশ্মীর বাদ পরে গেছে। জঙ্গী হামলার ভয়ে অয়ন কাশ্মীর কিছুতেই যেতে চাইত না।  দু বছর হল অয়ন আর নেই।   অনুপমা থাকেন নিউ আলিপুরে, পাশের ব্লকে থাকেন দাদা, বৌদিরা।  ওনার ইচ্ছের  কথা জানতে  পেরে  সৌভিক যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। রাজধানী ছুটে চলেছে দিল্লীর দিকে,  সামনের পরিবারের সঙ্গে আলাপ হল। ট্রাভেল  এজেন্সির লোকেরাও  বার বার তদারকি করছে। ডিনার করে শুয়ে পড়ল অনুপমা।  দিল্লি থেকে  সম্পর্কক্রান্তি এক্সপ্রেসে উঠে পরলো সকলে, পাটা একটু  টন টন করছিল অনুপমার।   আর্নিকা টিউব থেকে বের করে পা দুটোতে মালিশ করলেন একটু। এবার যাওয়া হবে জম্বু, তারপর  শ্রীনগর। সামনের সিটে এখনও কেউ আসে নি।  কিছুক্ষন পরে  ডলফিনের একজন লোক নিয়ে এলেন  এক ভদ্রলোককে। এককালে বেশ হ্যান্ডসম ছিলেন বোঝাই যাচ্ছে।  বেশ চেনা চেনা...

খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি

খেলাঘর  অদিতি চ্যাটার্জি শনিবার দিনটা সোহিনী ঠিক করেছিলেন গড়িয়াহাট যাবেন চৈত্র  সংক্রান্তির সেল শুরু হয়েছে দিন দুই হলো, অন লাইনে কেনা কাটা করলেও ঐ বাড়ির পর্দা, কুশন কভার , বিছানার চাদর, দুটো কুর্তি গড়িয়াহাট থেকেই কিনবেন । দুটো দোকানে যাবেন, দশটা জিনিস হাতে নিয়ে দেখবেন, রঙবেরঙের মানুষ দেখবেন,তাঁদের গল্প কথা টুকরো টাকরা কানে নিয়ে সন্ধ্যায় ঘরে ফিরবেন । একা মানুষের একটা জমাটি শনিবার দিন কাটানো হবে। এইসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে অটো থেকে নামলেন বাসন্তী দেবী কলেজের সামনে।  ভাড়াটা মিটিয়ে ফুটে উঠতেই প্রায় ধাক্কাই দিলেন একজন ভদ্রলোক কে সোহিনী । ব্যাগটা সামলাতে সামলাতে বললেন   "আই অ্যাম সরি" কিন্তু একি! চশমা চোখে জিনস আর হলুদ রঙের টি-শার্টে ভদ্রলোকটাকে তো চেনা চেনা লাগছে ভীষণ। আবারও কি সোহিনী ডুবছে ঐ খয়েরি চোখের মণিতে। কোনো খড়কুটো পাচ্ছে না তো আঁকড়ে ধরার মতো। ভদ্রলোকটিও থতমত খেয়ে গেছে, কত বছর পর! প্রায় কুড়িটা বছর পেরিয়ে সোহিনী কে দেখছে । সোহিনী তো! সেদিনের সেই ছটফটে মেয়েটা আজ বেশ শান্ত, অবাক করা চোখ দুটোর কি পরিবর্তন হয়েছে! মনে তো হয় না কোনো! সেই নিমগাছ তলায় বিকেল শেষে স্কার্...

ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী

ক্ষণস্থায়ী  শ্যামল হুদাতী  কলকাতার সল্টলেকের সেই কাচঘেরা ভবনের ভেতর ঢুকলেই মনে হয় যেন জীবনের এক ধরণের রুটিন সিনেমা চলতে থাকে। লিফটের ধাক্কা, লবি থেকে ভেসে আসা কফির গন্ধ, ডিসপ্লে বোর্ডে টিমের নাম - সবকিছু একসাথে গুছিয়ে দেয় দিনের কাজ। শৌর্য প্রতি সকালে কষ্ট করে উঠে ট্রেনে করে আসে - সকালে শহরের কোলাহল, তারপর অফিসে ঢুকে সমস্ত মনোযোগ কাজে। তার চোখে এক ধরণের নির্জনতা আছে - পরিবার আছে, দায়িত্ব আছে, কিন্তু দেখা যায় কিচ্ছু কমে আছে হৃদয়ে। অপরদিকে আকৃতি - চটপট কাজ শেষ করে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে আসে, লোকাল ট্রেনে যাতায়াত - এ এক দৈনন্দিন ঘটনা। অফিসে সে ম্যানেজার হিসেবে কটাক্ষ করে, হাসি ঠাণ্ডা-তাপে রাখে; কাজের মাঝে ওর মিষ্টি আড্ডা টিমকে হালকা করে দেয়। তন্ময় যখন ব্যাঙ্গালোরে নতুন প্রজেক্টে ব্যস্ত—তখন আকৃতির জীবনটা ধরা পড়ে একধরনের স্থির গহ্বরের মতো। ভিডিওকল আছে, কথাও আছে—কিন্তু সেই কথাগুলো মাঝে মাঝে রুটিনের আওয়াজের মধ্যে হারিয়ে যায়। চা-স্টলে দাঁড়িয়ে শৌর্য ও আকৃতি প্রায়ই দেখা হয়। সেই প্রথম দিনের সাধারণ কথাবার্তায় যে স্নিগ্ধতা ছিল, তা ধীরে ধীরে বিশেষ রং ধারণ করে। প্রথমটা ছিল অল্...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

কবিতা ।। অন্ধমনে ।। সায়নী আচার্য্য

 অন্ধমনে  সায়নী আচার্য্য পথচলার প্রতিক্ষণে ধাওয়া করেছে বিপদ। জেতার জন্যে উন্মাদ হয়ে ভাঙতে চাইছে গরাদ। অন্ধমনে বদ্ধ ঘরে একলা বসে ভাবে। ভাগ্য কেন দুঃখ দেয়? বাঁচিয়ে রাখে ভবে। প্রবল তার মনের জোর, মানে না কোনো বারণ। মানে না কোনো বঞ্চনা, লড়বে আমরণ। ভাগ্য শুধু সুযোগ আনে, মনকে করে শক্ত। পায়ের বেড়ী ভেঙে দিয়ে বেরিয়ে আসে ভক্ত। অন্ধ কেবল সাহায্য চায় , পারে না কোনো কাজ। এমনভাবে ছোটো করা বন্ধ করো আজ। ===================       সায়নী আচার্য্য     ইলিয়াস রোড, আগর পাড়া                 কোলকাতা-৭০০০৫৮

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতা ।। অনিশ্চয়তা ।। মোঃ আব্দুল রহমান

অনিশ্চয়তা  মোঃ আব্দুল রহমান  নিশ্চিত শব্দেরা অনিশ্চয়তার  কবিতা আঁকে  বারে বারে ডাকে  হৃদে জপে  ফের ব্যর্থ হতে হতে বিলীন শূন্যে চিতায় অবয়ব যেভাবে  ছাই হয়ে নিস্তব্ধতায়  মিশে যায় হঠাৎ  আমিও বিলীন হচ্ছি অন্ধকারে  নির্জনে কবিতার দুয়ারে  অজানার সুরে  একাকী শব্দ কবিতা আমি  অদ্ভুত মিল! আঁধারে পুড়ে চলেছে আমার কবিতার চিতা  কেউ খোঁজ পাইনি তবুও কবিতা আমায় বড় ভালবাসে  আমিও তাকেই ভালবাসি এখন দুজনেই পুড়ি অনিশ্চয়তা আর উন্মত্ততার আগুনে! ============ মোঃ আব্দুল রহমান বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ  ভারত, পিনকোড- ৭৪২১৬৫

বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায়

বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য  সৈকত প্রসাদ রায়  জানালা দিয়ে ভোরের আলো এসে পড়েছে শৌনকের মুখে। কিন্তু তার চোখে ঘুম নেই,স্বপ্নটা এখনও যেন বুকের ভেতর কাঁপছে। সে উঠে দাঁড়িয়ে জানালার পাশে এসে দাঁড়াল। বাইরে শীতের সকাল, কুয়াশার চাদরে ঢাকা শহর। কিন্তু শৌনকের চোখে ভাসছে শুধু সেই লাল বেনারসি, সেই জলভরা চোখ। শৌনক চোখ বন্ধ করল। মনে পড়ল সেই দিনটা। তিন বছর আগে, ১৪ই ফেব্রুয়ারি, সকালবেলা ফোন করেছিল সোনিয়া,গলায় উচ্ছ্বাস। "শৌনক! আজ কী দিন জানিস?" "ভ্যালেন্টাইন্স ডে। আর আমাদের বিয়ের শপিং এর দিন!" শৌনক হেসেছিল। "ঠিক! দশটায় রেডি থাকবি। আমরা নিউ মার্কেট যাব। আমার বেনারসি শাড়ি দেখতে হবে, তোর শেরওয়ানি, আর..." "আর তোর অসংখ্য শপিংয়ের লিস্ট!" শৌনক হাসতে হাসতে বলেছিল। "হ্যাঁ! আর মা বলেছে লাল বেনারসি নিতে। ট্র্যাডিশনাল। তুই কী বলিস?" "তুই যেটা পরবি, সেটাই সবচেয়ে সুন্দর হবে সোনিয়া।" ফোনের ওপাশ থেকে সোনিয়ার খিলখিল হাসি ভেসে এসেছিল - " আচ্ছা, দশটায় আমার বাড়ির সামনে, দেরি করবি না কিন্তু!" শৌনক ঠিক সাড়ে নয়টায় পৌঁছে গিয়েছিল সোনিয়ার ...

কবিতা ।। জীবনের গন্ধ ।। চন্দন দাশগুপ্ত

জীবনের গন্ধ চন্দন দাশগুপ্ত  শব্দের শরীরে পাই জীবনের গন্ধ, খোলা জানালার বাইরে ঘুমোয় তারা ভরা রাত, আসল আর নকলের পার্থক্য ঘুচে যায়, দরবাড়ি কানাড়ায় ক্লান্ত সেতার বেজে যায়, তবু.......তবু শেষ হয় না কখনো, কিছু কিছু নেতাদের ক্ষমতার লোভ, আহা, ভুলে গিয়েছিলাম, ওরা তো বেতন পায়না, পায়না বোনাস, পিএফ, টুকরো-টাকরা গ্র্যাচুইটি, তাই ওদের টুকটাক চুরিকে চলুন ক্ষমাঘেন্না করে দিই, ওরা চিৎকার করে যাক মিটিং-এ, মিছিলে, আমরা বরং উপভোগ করি, মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল-আইপিএল, ফাঁকা পকেটে প্রেমিকার সাথে বাদাম চিবোই, মাঝেমধ্যে তার সাথে হোক চপ-ঘুগনি-বিড়ি, দেওয়ালে লিখি-আঁকি নেতাদের নাম-ছবি, ওরা ভোটে জিতলেই তো আমাদের লক্ষ্মীলাভ, আমাদের সংসার-সংস্কৃতি কিছু নেই, আমরা শুধু, বছরের পর বছর, নিদ্রাহীন রাতে, শব্দের শরীরে জীবনের গন্ধে ডুবে যাই........... ------------------------ চন্দন দাশগুপ্ত  সি/৩০/১, রামকৃষ্ণ উপনিবেশ, রিজেন্ট এস্টেট,  কলকাতা---৭০০ ০৯২

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ভালোবাসা ।। কাবেরী মিত্র

ভালোবাসা  কাবেরী মিত্র  তোমারে বেসেছি ভালো, শত বার শতরূপে। সেদিন চৈত্র মাস   তুমি এসেছিলে কৃষ্ণ চূড়া হাতে।  নিভৃতে সংগোপনে আমার ঐ  এলো চুলে মালাটি সাজায়ে দেবে বলে। আমি তোমার ঐ আলিঙ্গনে,  নিজেকে উজাড় করে,  কম্পিত হৃদয়ে লজ্জায়  অধোবদনে দুহাতে , মুখ রেখেছিলাম ঢেকে।   এরপর কত প্রেমালাপ, পূর্ণিমায় জোছনা সর্বাঙ্গে মেখে,  ছাতিম তলায় বসে, নিয়েছিলে,  মোরে ও দুটি বাহুডোরে ।  ক্ষনিকের তরে ওষ্ট দুটি ডুবে ছিল,  তোমার  ওই ওষ্ঠ মাঝে। কখনো বা কুয়াশা ভেজা ঘাসের  প'রে হাতের পরে হাত রেখে  হেটে ছিলাম অজানা পথ ধরে। কত রঙ্গীন স্বপ্ন এঁকে বিনিদ্র রাত্রি গেছে কেটে। সহসা কি হোলো আমারে  না জানায়ে কোথা গেলে    প্রিয় মোর হারায়ে!! আজও আমি একাকী,  নীরবে চোখের জলে ভাসি।  বসে আছি পথ চেয়ে,  এক বুক আশা লয়ে,  হয় তো আবার আসিবে ফিরে, আমার এ ভালোবাসার দ্বারে।  সব অভিমান ভুলে এবার, তোমারে রাখিব বেঁধে  এ ক্ষুদ্র হৃদয় পিঞ্জরে।। ................................ কাবেরী মিত্র  রাজারহাট, কলক...

খামবন্দী ।। প্রসেনজিৎ দাস

খামবন্দী প্রসেনজিৎ দাস কত স্বপ্ন বন্দি আছে, আকাঙ্ক্ষার খামে  না বলা মনের কথা, লেখা তোমারি নামে। নিঃশব্দে ফেরালে মুখ, প্রতিশ্রুতি ফেলে  নতুন মুখোশ দেখি তোমার, পুরোনোটা খুলে। কিছু খাম অ্যালবামে, কিছু বইয়ের মাঝে রাখা  সাপের খোলস ছিল তোমার, মনের পাইনি দেখা। ভাবনায় কখনো শিউরে উঠি, গ্রাস করে যে ভয়, "মনুষত্ব নিপাট গেলে, মানুষের এমনি হয়?" নেই অভিমান আর, কোন অনুযোগ ও নেই  কুটিলতার স্তবক লেখা, প্রেমের কবিতাতেই। আবেগগুলো ছেড়েও জানি, ভালো থাকা যায়  সম্পর্কের ভার নেওয়া, একার নয়তো দায়। অল্প করে রোজ, আমি কিছু স্মৃতি করেছি ছাই কালো মেঘে বিষের বৃষ্টি, আমি অবাক হয়ে যাই। পুষ্পসম স্বপ্ন ছিল, সাজানো তোমার নামে  বিকিয়ে দিলে স্বপ্নের ঘর, খুবই অল্প দামে।   ------------------------ PRASENJIT DAS C/O - "NIKUNJA CHHAYA" 28/1 NETAJI PALLY MAIN ROAD P.O. RABINDRA SARANI  CITY & P.S. : SILIGURI PINCODE - 734006 DIST - DARJEELING WEST BENGAL ᐧ

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। নবপ্রভাত ৮৫ ।। চৈত্র ১৪৩১ মার্চ ২০২৫

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। মরিয়ম মির্জাখানি: এক অনন্য গণিতসূর্য ।। ... নিবন্ধ ।। নারী দিবসে যা ভাবা উচিত ।। বিশ্বনাথ পাল প্রবন্ধ ।। প্রাচীনকাল থেকে নারীরা অবহেলিত, বঞ্চিত,... নিবন্ধ ।। আমার চোখে আদর্শ নারী ।। জয়শ্রী বন্দ্... ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখ... আফ্রিকার লোককথা ।। করোটিকে বিয়ে করা অবাধ্য মেয়েটি ... ছোটগল্প ।। মানবী ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল নিবন্ধ ।। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম নারী মু... নিবন্ধ ।। প্রিয় মহিলা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী ।। ... গল্প ।। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।। রবীন বসু প্রবন্ধ ।। নিপীড়িতা ।। শ্যামল হুদাতী ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত প্রবন্ধ ।। নারী সমাজ : তখন-এখন ।। তপন মাইতি নিবন্ধ ।। বহমান কালের ধারায় নারী ।। দীপক পাল গল্প ।। আমার দুর্গা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) গল্প ।। যোগ্য জবাব ।। সমীর কুমার দত্ত ছোটগল্প ।। আমি দুর্গাকে দেখেছি।। চন্দন দাশগুপ্ত গল্প ।। সম্পর্ক ।। গৌতম সমাজদার কবিতা।। নারী মানে ।। গোবিন্দ মোদক কবিতা।। নারী ।। সমর আচার্য্য ছড়া ।। নারী অসামান্যা ।। সৌমিত্র মজুমদার কবিতা ।। নারী দিবসে ।। বিবেকানন্দ নস্কর কবিতা ।। না...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রবন্ধ ।। বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার

নীরবতার মহাকাব্যকার:  বেলা তার ও চলচ্চিত্রের দর্শন উৎপল সরকার বিশ শতকের শেষ ভাগ ও একবিংশ শতকের শুরুর দিকের বিশ্ব চলচ্চিত্রের মানচিত্রে এমন কিছু নির্মাতার নাম উজ্জ্বল হয়ে আছে, যাঁরা মূলধারার বিনোদনমুখী সিনেমার বিপরীতে দাঁড়িয়ে সময়, নীরবতা ও অস্তিত্বের গভীর প্রশ্নকে চলচ্চিত্রের ভাষায় রূপ দিতে চেয়েছেন। হাঙ্গেরীয় চলচ্চিত্রকার বেলা তার ছিলেন সেই বিরল শিল্পীদের একজন, যাঁর সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা কেবল গল্পগ্রহণ দর্শননার আস্বাদন নয়—বরং ধৈর্য, মনোসংযোগ ও আত্মঅনুসন্ধানের এক দীর্ঘ যাত্রা।এই সেদিন ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি বুদাপেস্টে তাঁর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব চলচ্চিত্র হারাল ধীরগতির চলচ্চিত্র ধারার এক অগ্রপথিককে। ১৯৫৫ সালের ২১ জুলাই হাঙ্গেরির পেচ শহরে জন্ম নেওয়া বেলা তার কৈশোর থেকেই সমাজ ও মানুষের প্রতি গভীর আগ্রহ অনুভব করেছিলেন। তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ তাঁকে বাস্তবতার খুব কাছ থেকে জীবন দেখার সুযোগ দেয়। সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীকালে তাঁর চলচ্চিত্রে রূপ নেয় নিরাবরণ, নিষ্ঠুর অথচ মানবিক এক ভাষায়। তিনি ছিলেন কেবল একজন পরিচালক নন—একজন চিন্তাবিদ, যিনি ক্যামেরাকে ব্যবহার করেছেন দর্শনের অনুসন্ধানী ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো