সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু দীপক পাল গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং অফিসে ...
ঋতুবতী গোলাপ আজিজুল হক ঋতুবতী নারীর অন্তর্লীন আকাঙ্ক্ষার ধারা তোমার দিকে চুইয়ে পড়ে— প্রেম শুষে নেয় জলজ নিবেদন, জ্যোৎস্নার ভেজা অভিসারে। তোমার নিঃশ্বাসের ঢেউ-ফেরা ছন্দে, প্রেমের উন্মত্ত ঘূর্ণিপাকে দেওয়ালের ক্যানভাস জুড়ে আঁকব অমোঘ প্রেমের জ্যোতি-শিরোনাম। আমার অপার্থিব ভালোবাসার বিস্তারে তোমাকে করব নিবিড় বিলীন— জলছাপের নীল শিল্পকলায়, আমার মীনাক্ষী চোখের পাতায় পাতায় তোমার প্রতিচ্ছবি জেগে থাকবে দিবানিশি। হঠাৎ এক উন্মাতাল নিশীথের গভীর প্রহরে যখন তোমার জন্য হন্যে হয়ে এলোমেলো হয়ে উঠবে আমার সত্তা, তোমার উষ্ণ বুকে খুঁজে নেব চির-চেনা আশ্রয়। সেদিন তুমি জলের অতল গভীরে হয়ে উঠবে আমার নাবিক— চাইলে আমাকে নিয়ে ডুবে যেও নিরাকার নীল গভীরতার ভেতর। তারপর দেখবে— আমি আর তুমি পৃথক নই, নিরাকার জলের নীরব পাদদেশে আমরা মিশে গেছি এক অবিভাজ্য সত্তায়, এক অনন্ত প্রবাহে, একাকার হয়ে।