Skip to main content

Posts

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...
Recent posts

প্রবন্ধ ।। আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার

আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে   উৎপল সরকার মানুষের সভ্যতার ইতিহাসের দিকে তাকালে একটি বিষয় খুব সহজেই চোখে পড়ে—মানুষ যতদিন ধরে প্রকৃতির মধ্যে বেঁচে আছে, ততদিন ধরেই সে প্রকৃতিকে বোঝার চেষ্টা করেছে। আকাশে সূর্যের উদয়-অস্ত, চাঁদের কলাবদল, ঋতুর পরিবর্তন, বৃষ্টি, খরা, ঝড়, গ্রহণ কিংবা রাতের আকাশে অসংখ্য আলোকবিন্দুর আবির্ভাব আদিম মানুষের মনে বিস্ময় সৃষ্টি করেছিল। সেই বিস্ময় থেকেই জন্ম নিয়েছিল প্রশ্ন। কেন সূর্য ওঠে? কেন চাঁদের আকার বদলায়? কখন বৃষ্টি আসবে? মানুষের জীবনের সঙ্গে আকাশের এই বিশাল জগতের কি কোনো সম্পর্ক রয়েছে? এই প্রশ্নগুলির অনেকগুলির উত্তর তখন মানুষের জানা ছিল না। ফলে অজানাকে ব্যাখ্যা করার জন্য মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা, কল্পনা, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং পর্যবেক্ষণকে মিলিয়ে নানা ধারণা তৈরি করেছিল। জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রাথমিক বিকাশকে এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের মধ্যেই বুঝতে হবে। তাই প্রাচীন জ্যোতিষকে কেবল নিছক প্রতারণা হিসেবে দেখলে তার সামাজিক ও ঐতিহাসিক উৎসটি বোঝা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কিন্তু একই সঙ্গে এটিও সত্য যে, আধুনিক বিজ্ঞানের বিকা...

সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয়

সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী তানভীর আহমেদ হৃদয়  বাংলা কবিতায় এমন কিছু কবি আছেন, যাঁদের জীবনকাল খুব দীর্ঘ নয়, কিন্তু তাঁদের উচ্চারণ সময়ের চেয়ে দীর্ঘজীবী। সুকান্ত ভট্টাচার্য তাঁদেরই একজন। মাত্র একুশ বছরের জীবনকে তিনি এমন এক তীব্র কাব্যিক অভিজ্ঞতায় রূপান্তর করেছিলেন, যেখানে ব্যক্তিগত অনুভূতির চেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল মানুষের জীবন, ক্ষুধা, শ্রম, যুদ্ধ, শোষণ এবং একটি নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন। তাঁর কবিতায় ফুল আছে, চাঁদ আছে, শিশুর মুখ আছে—কিন্তু সেই সৌন্দর্য কখনো বাস্তবের ক্ষুধা ও যন্ত্রণাকে অস্বীকার করে না। সুকান্তের কবিতাকে বুঝতে হলে প্রথমেই বুঝতে হয় তাঁর সময়কে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, ঔপনিবেশিক শাসন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যে তখন বাংলার সমাজ বিপর্যস্ত। ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ অনাহারে মৃত্যুবরণ করেছিল। সেই সময়ের কবির কাছে শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নিয়ে কবিতা লেখা এক ধরনের আত্মপ্রবঞ্চনা হয়ে উঠতে পারত। তাই সুকান্ত কবিতার মুখ ঘুরিয়ে দিলেন মানুষের দিকে। তাঁর কবিতায় ক্ষুধা শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়; ক্ষুধা হ...

নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান

নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া  আবু রাইহান আমাদের দেশের সরকারিভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস পড়লে এটা মনে হওয়া স্বাভাবিক,বিদেশি ইতিহাস লেখক এবং আমাদের দেশের ভাড়াটে ইতিহাস রচয়িতারা অত্যন্ত সচেতনভাবে ইতিহাসের পাতা থেকে ভারতে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলিমদের অবদানকে মুছে ফেলার চেষ্টায় অবিরাম লিপ্ত রয়েছে।ইতিহাসের এই বিকৃতি দেখে স্বাধীনতা সংগ্রামী সত্যেন সেন তাঁর ‘ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলমানদের ভূমিকা’ পুস্তকে লিখেছেন, ‘ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলিমদের অবদানকে অবহেলা করে বিস্তৃতির তলায় চাপা দেওয়া এক জাতীয় অপরাধ।’ সত্যানুসন্ধানী মনীষী এম আব্দুর রহমান চাপা পড়ে থাকা ইতিহাসের এই উজ্জ্বল অধ্যায়কে আমাদের সামনে তুলে ধরতে  তিনিই প্রথম আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখালেন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের আন্দোলনে অগ্নিযুগের বিপ্লবী হিসাবে দেশমাতৃকার শৃঙ্খলমোচনে কেবল মুসলিম পুরুষরা শুধু নয়, মুসলিম নারীরাও এগিয়ে এসেছিলেন।  দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে উপেক্ষিতা এই বীরাঙ্গণা মুসলিম মহিলাদের কথা তিনিই প্রথম স্বীকৃতির আলোয় তুলে ধরলেন। রংপুরে মি...

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

স্থানীয় কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি (পর্ব—আট) ।। অরবিন্দ পুরকাইত

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মগরাহাট ও সন্নিহিত এলাকার  স্থানীয় কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি (পর্ব—আট)   অরবিন্দ পুরকাইত স্থানীয় কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্্ধারা ইত্যাদির সংগ্রহ প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল রামচন্দ্র নস্কর সম্পাদিত 'চর্যা' পত্রিকায়, ২০১৬ সালে। সে সংগ্রহ যায় নিজের 'গাঁ-ঘরের কথা' পুস্তকে, ১৪২৩ সনে। পরে এই ব্লগজিনেও কিছু সংগ্রহ প্রকাশিত হয় ১৪২৮ সনের আশ্বিন মাসে, পৌষ ১৪২৯-এ, আষাঢ় ১৪৩০, নববর্ষ ১৪৩১, কার্তিক ১৪৩১ ও অগ্রহায়ণ ১৪৩২ সংখ্যায়। তার পরেও ধীরে ধীরে আরও কিছু সংগৃহীত হয়েছে, সেগুলিই এখানে রাখা হল। নিজের আগের সংগ্রহে এসে-যাওয়া শব্দ যদি এখানে এসে থাকে, তা বাড়তি বা ভিন্ন কিছু বলার প্রয়োজনেই। নিজের আগের সংগ্রহ খুব ভাল করে যে মিলিয়েছি তা নয়, পুরো সংগ্রহ একত্র করার সময় তা করা যাবে যতটা সম্ভব নিখুঁত করে। আগে আগে সংগ্রহ প্রসঙ্গে কিছু কথা বলা হয়েছে, বিশেষত প্রথম প্রকাশের সময় একটু বিশদভাবে। এখানে আর কিছু বলা নয়, কেবল সংগ্রহটাই তুলে ধরা গেল। অবযুত — অদ্ভুত, উদ্ভট। আড়াআড়ি — মন কষাকষি, ঝগড়া। ওর সঙ্গে কেন আড়াআড়ি কত্তি যাচ্চিস তুই!...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

এ যুগের নারী ।। সঞ্জয় বৈরাগ্য

  এ যুগের নারী সঞ্জয় বৈরাগ্য নই আর মোরা সত্তাবিহীন, সে যুগের মতো নই পরাধীন নই তো আমরা অবলা, কূপমন্ডকী সুযোগ, সুবিধা, শুধুই সুখভোগী। আমরা, এ যুগের নারী। মোরা ভয় করি নাকো ঝড়-তুফানে লক্ষ্য মোদের সদা জয় পানে। দিতে পারি মোরা দিক-দিগন্তে পাড়ি যুগ-যুগান্তের নৌকা ধরি। আমরা, এ যুগের নারী। আমরা ঘোচাবো ভাবনা মা, বাবা'র 'কন্যাদায়' --- এ কথাটি তাদের ভুলিয়ে দেবো, হয়ে যে অনন্যা আমরা যে যত সাহসী কন্যা। আমরা, এ যুগের নারী। পুরুষের থেকে কম নই মোরা আমরাই ভুবনে সৃষ্টির আধার।  পার হতে পাড়ি কাটিয়ে শত ভয়, সাগরের ঐ অতল জলরাশি; আমরা, এ যুগের নারী।   =============== সঞ্জয় বৈরাগ্য কৃষ্ণনগর, নদীয়া।

গল্প ।। আত্মরক্ষার অধিকার ।। রণেশ রায়

আত্মরক্ষার অধিকার রণেশ রায় উনার নাম সুমন বোস। বয়স পঞ্চান্ন ছাপ্পান্ন হবে।  চব্বিশপরগনার আমতলায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে স্ত্রী সুজাতা কন্যা কল্যাণীকে নিয়ে থাকেন। একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করেন। অবস্থা খুব ভালো না হলেও খারাপ নয়। দিব্বি চলে যায়। ভ্রমণ রসিক মানুষ। ছুটি পেলেই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাওয়া। স্ত্রী ঘর সামলান মেয়েকে নিয়ে। মেয়ে  দেখতে শুনতে তেমন না হলেও তার দৃপ্ত হাসিমুখ নজর কাড়ে। সে প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী নিকটবর্তী কলেজে বিষ্ণুপুর এলাকায়। পড়াশুনায় মোটামুটি। একটু বারমুখী ।  বাবার সঙ্গে খুব খাতির। ওর মায়ের অভিযোগ বাবার কাছে মেয়ে প্রশ্রয় পায় তাই পরশুনায় তেমন মন নেই। তবে মায়ের সাহায্যে যে সে তৎপর  সে বিষয়ে মায়েরও সন্দেহ নেই।  মেয়ে একটু  বহির্মুখী বলে মায়ের চিন্তা। বাবা মেয়ের এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত। আর সেটাই মেয়েকে একটু বেয়ারা করে তুলেছে বলে মায়ের ধারণা। সব নিয়ে ভালো মন্দে সুমনবাবুদের সংসার। সুমনবাবু মেয়ের বহির্মুখী কাজে উৎসাহ দেন সন্দেহ নেই। সেটা যেন তাঁর গর্ব আর সেটাই স্ত্রী সুজাতার রাগের কারণ। মেয়ে কল্যাণী পাড়ায় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় উৎস...

কবিতা ।। আটক ।। তাপসী লাহা

আটক তাপসী লাহা  সময়টি নিঃসন্দেহে অতি তরল, তরঙ্গময় ঘোরের বারান্দায় পাখি দাঁড় করিয়ে রাখা চমৎকার লৌহশানিত খাঁচা  বিড়ালিনীর শেষ রাতে চুপিসারে এঁটো করা দুগ্ধ পাত্রটি,  ঠনক্ শব্দে কেঁপে ওঠে নিত্যগৃহী, ঘুম গহ্বর থেকে অতর্কিতে ফিরে আসা নিঃসার ধ্বংসছ্যাক শোভাহীন শুকনো ফুলের তোড়া তবু তো মায়া! স্নেহ বিপন্ন বস্তুসুলভ গাছ...... আহারে মেছো প্রাণ ------ মাংস দাঁতটির কি হবে ভাবতে ভাবতে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে ধুলোদের ঘরকন্না। ============ Tapashi Laha  Birnagar  733134 Raiganj  Uttar Dinajpur 

প্রশান্ত ষন্নিগ্রহীর তিনটি কবিতা

  প্রশান্ত ষন্নিগ্রহীর তিনটি কবিতা  ১.   বসন্ত বিলাপ তোমার পলাশ লালে লাল রাঙা  তোমার পলাশে ফাগুন, আমার পলাশে শয়তান পোকা  আমার পলাশে আগুন। তোমার আকাশ আবির মাখানো  গাঁথে মিলনের মালা, আমার আকাশ মলিন মুখেতে  সহে দংশন জ্বালা। ওখানে ঋতুরা আসে আর যায়  আনে রকমারি ডালি, এখানে বিষাদে ঋতুর সময়  সব কেড়ে করে খালি। তোমার পলাশে খুশির জোয়ারে  রাশি রাশি ভালোবাসা, রক্ত মাখানো আমার পলাশে  জীবন সর্বনাশা। ২.    উনুন একটা একটা করে কাঠ গনগনে আগুনে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে জীবন্ত উনুনের ভেতর। আগুনে পোড়ে কাঠ , কাঠ পুড়িয়ে চাই করে উনুন। উনুনে পোড়ে কাঠ,উনুন পোড়ায় নিজেকে। শুদ্ধ করে গনগনে আগুনের বিশুদ্ধতায়। জীবনের ঘাত প্রতিঘাত সয়ে; শুদ্ধ হয় মানব জীবন। ৩.   নগ্নতা  সকালে হাঁটতে বেরিয়েই চোখে পড়লো  অদ্ভুত এক নগ্নতা সাগর নদী পাহাড় নগ্ন  মাঠ ঘাট জঙ্গল নগ্ন  এক বিচিত্র নগ্নতায় ঢাকা প্রকৃতি যেন লালসার ভোগ্য বস্তু। চারপাশ থেকে শত সহস্র লকলকে জিভ  লোলুপ দৃষ্টিতে দংশন করে লুটে নেয় সব সাতসকালে নগ্নতা লুটের হাট! ওরই মাঝে একটি শিশুকে দেখতে...

কবিতা ।। রক্ত গোলাপ ।। অমিত কুমার রায়

রক্ত গোলাপ  অমিত কুমার রায় এস অতুলপ্রসাদী গান গাই  'আ - মরি বাংলা ভাষা,  এসো, প্রতুলের গাওয়া গান গাই  'আমি বাংলার গান গাই  আমি বাংলায় গান গাই....." যারা মাতৃভাষায় কলঙ্ক লেপে উল্লাসে উঠেছে ক্ষেপে উপেক্ষা বাতাসে ভাসিয়ে দাও প্রতিবাদ ঝড় তীব্রতর হোক  তাদের বুকের ভেতর অশ্রদ্ধা উঠুক কেঁপে। এসো বাংলার ঘরে বাংলা স্বরে  বাংলা ভাষার ডিঙ্গা ভাষাই।  এসো বাংলার পথে বাংলার সত্য  ব্রতে লালনের গান গাই  লালনের গান গাই। এসো ফাগুনের কবি বৈশাখী রবি  আগুন শহীদ পাখি  এসো আগুনের ফুল ফাগুনের ফুল  আকাশের তারা আখি। ভাসে ভাষা ফুল মানবতাব গুল  রক্ত গোলাপে রাখী রক্ত গোলাপে ঢাকি।   ================== --- অমিত কুমার রায় হাওড়া  পশ্চিমবঙ্গ  ভারত

কবিতা ।। বিপরীত বসন্ত ।। মোহিত ব্যাপারী

বিপরীত বসন্ত মোহিত ব্যাপারী এ বসন্ত বসন্ত নয়। ব্যথা আর বেদনার দিনরাত। এ বসন্ত বসন্ত নয়। শুধু মন খারাপের নীরব অশ্রুপাত। এ বসন্ত বসন্ত নয়। শুধু বিগত বসন্তের স্মৃতির অভিঘাত। ফুরফুরে বাতাসের চলাচল। উচাটন মন করে আনচান। বেহায়া মন বড় চঞ্চল। এ বসন্ত কোনোভাবেই বসন্ত নয়। বুকে বাজে ঝরা পাতার মর্মর। যার ঘরে খাবার নেই বসন্ত তার দুর্ভিক্ষের ইতিহাস। মাথার উপরে যার ছাদ নেই তার কপালে শুধুই চিন্তার ছাপ। যে মায়ের বুকের দুধ শুকিয়ে গেছে তার সন্তানের মুখে ক্ষুধার আর্তনাদ। যে মেয়েটি লুট হয়ে গেছে রাস্তায় তার শরীরে গুটি বসন্তের দাগ। এ বসন্ত কোনোভাবেই বসন্ত নয়। এ বসন্ত কোকিলের কন্ঠের গান নয়। কোকিলের তারস্বরে অসহায় চিৎকার। কন্ঠের শিরা ফুলে ওঠে তার। তবু সঙ্গীর সাড়া নাহি পায়। কন্ঠে তার ঝরে পড়ে একরাশ অভিমান। ================== মোহিত ব্যাপারী ( MOHIT BAPARI )  VILL - NORTH KANCHDAHA PO - KANCHDAHA DIST - NORTH 24 PARGANAS PIN - 743247

ভারতের জাতীয় পতাকা নির্মাণে পিঙ্গালির অবদান ।। পিনাকী সরকার

আমাদের ৭৬তম স্বাধীনতা দিবস যা সারা দেশে জুড়ে আড়ম্বরের সহিত পালিত হল। চারিদিকে উড়ল ভারতীয় পতাকা। তবে দুঃখের বিষয় হল অনেকেই জানেন না কে এই পতাকার সৃষ্টি কর্তা, কার মাথা থেকে এসেছিল এই রূপ সুন্দর দৃশ্য মান পতাকার নক্সা। কতজন চেনেন ? যদি বা নাম শুনে থাকেন, কতটুকু জানা রয়েছে তাঁর সম্পর্কে?  অনেকেই জানেন না যে পতাকা তৈরির ও ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে।      আজ সেই ভারতীয় পতাকার রূপমানব পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া এবং ভারতীয় জাতীয় পতাকা তৈরি নিয়ে আলোচনা করব । পিঙ্গালি শুধু এই নামই নয়, একাধিক নামে পরিচিত ছিলেন তিনি।       ১৮৭৬ সালের দোসরা অগাষ্ট জন্ম পিঙ্গালির। অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা জেলার পেদাকালিপাটাল্লি গ্রামে জন্ম হয় তাঁর। তিনি সরকারি স্কুলে নিজের পড়াশোনা শেষ করেন। ছোট থেকেই স্বপ্ন পরাধীনতার বন্ধন থেকে দেশ-কে মুক্ত করার। মাত্র ঊনিশ বছর বয়সে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মিতে যোগদান করেন তিনি। স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গেও প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি ।      ঊনবিংশ শতাব্দীর আগে অবধি বিভিন্ন দেশীয় রাজ্যের শাসকেরা আলাদা আলাদা নকশার পতাকা ব্যবহার করতে...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

এ যুগের নারী ।। সঞ্জয় বৈরাগ্য

  এ যুগের নারী সঞ্জয় বৈরাগ্য নই আর মোরা সত্তাবিহীন, সে যুগের মতো নই পরাধীন নই তো আমরা অবলা, কূপমন্ডকী সুযোগ, সুবিধা, শুধুই সুখভোগী। আমরা, এ যুগের নারী। মোরা ভয় করি নাকো ঝড়-তুফানে লক্ষ্য মোদের সদা জয় পানে। দিতে পারি মোরা দিক-দিগন্তে পাড়ি যুগ-যুগান্তের নৌকা ধরি। আমরা, এ যুগের নারী। আমরা ঘোচাবো ভাবনা মা, বাবা'র 'কন্যাদায়' --- এ কথাটি তাদের ভুলিয়ে দেবো, হয়ে যে অনন্যা আমরা যে যত সাহসী কন্যা। আমরা, এ যুগের নারী। পুরুষের থেকে কম নই মোরা আমরাই ভুবনে সৃষ্টির আধার।  পার হতে পাড়ি কাটিয়ে শত ভয়, সাগরের ঐ অতল জলরাশি; আমরা, এ যুগের নারী।   =============== সঞ্জয় বৈরাগ্য কৃষ্ণনগর, নদীয়া।

গল্প ।। আত্মরক্ষার অধিকার ।। রণেশ রায়

আত্মরক্ষার অধিকার রণেশ রায় উনার নাম সুমন বোস। বয়স পঞ্চান্ন ছাপ্পান্ন হবে।  চব্বিশপরগনার আমতলায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে স্ত্রী সুজাতা কন্যা কল্যাণীকে নিয়ে থাকেন। একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করেন। অবস্থা খুব ভালো না হলেও খারাপ নয়। দিব্বি চলে যায়। ভ্রমণ রসিক মানুষ। ছুটি পেলেই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাওয়া। স্ত্রী ঘর সামলান মেয়েকে নিয়ে। মেয়ে  দেখতে শুনতে তেমন না হলেও তার দৃপ্ত হাসিমুখ নজর কাড়ে। সে প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী নিকটবর্তী কলেজে বিষ্ণুপুর এলাকায়। পড়াশুনায় মোটামুটি। একটু বারমুখী ।  বাবার সঙ্গে খুব খাতির। ওর মায়ের অভিযোগ বাবার কাছে মেয়ে প্রশ্রয় পায় তাই পরশুনায় তেমন মন নেই। তবে মায়ের সাহায্যে যে সে তৎপর  সে বিষয়ে মায়েরও সন্দেহ নেই।  মেয়ে একটু  বহির্মুখী বলে মায়ের চিন্তা। বাবা মেয়ের এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত। আর সেটাই মেয়েকে একটু বেয়ারা করে তুলেছে বলে মায়ের ধারণা। সব নিয়ে ভালো মন্দে সুমনবাবুদের সংসার। সুমনবাবু মেয়ের বহির্মুখী কাজে উৎসাহ দেন সন্দেহ নেই। সেটা যেন তাঁর গর্ব আর সেটাই স্ত্রী সুজাতার রাগের কারণ। মেয়ে কল্যাণী পাড়ায় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় উৎস...

কবিতা ।। আটক ।। তাপসী লাহা

আটক তাপসী লাহা  সময়টি নিঃসন্দেহে অতি তরল, তরঙ্গময় ঘোরের বারান্দায় পাখি দাঁড় করিয়ে রাখা চমৎকার লৌহশানিত খাঁচা  বিড়ালিনীর শেষ রাতে চুপিসারে এঁটো করা দুগ্ধ পাত্রটি,  ঠনক্ শব্দে কেঁপে ওঠে নিত্যগৃহী, ঘুম গহ্বর থেকে অতর্কিতে ফিরে আসা নিঃসার ধ্বংসছ্যাক শোভাহীন শুকনো ফুলের তোড়া তবু তো মায়া! স্নেহ বিপন্ন বস্তুসুলভ গাছ...... আহারে মেছো প্রাণ ------ মাংস দাঁতটির কি হবে ভাবতে ভাবতে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে ধুলোদের ঘরকন্না। ============ Tapashi Laha  Birnagar  733134 Raiganj  Uttar Dinajpur 

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...