দুটি কবিতা
নীল ডায়েরি
সময়ের জলছবি
শহরের পিচগলা দুপুরে আজ ভীষণ একাকীত্ব,
ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে পড়া একমুঠো রোদ্দুর—
যেন কোনো প্রাচীন লিপির অস্পষ্ট পাঠোদ্ধার।
সবুজ সংকেত আসতেই তারা মিলিয়ে যায়,
ঠিক যেমন আমাদের শৈশব ভিড় করে স্মৃতির স্টেশনে।
আমি আজও খুঁজি সেই হারানো ডাকবাক্স,
যেখানে চিঠিরা অপেক্ষার হলুদ রঙ মেখে বসে থাকে।
অথচ এখন শুধু ইমেলের ইনবক্সে ডিজিটাল নীরবতা—
হৃদয়ের মানচিত্রে জমা হচ্ছে কেবলি ধূসর বালুচর।
সময় তো নদী নয়, সময় আসলে এক আয়না,
যেখানে আমরা প্রতিদিন অচেনা কাউকে দেখে চমকে উঠি।
মায়া ও মৃত্তিকা
মাটির ভাঁজে লুকিয়ে থাকে আদিম এক ঘ্রাণ,
সেখানে শিকড় চেনে তার নিজস্ব ঠিকানার হদিস।
আমরাও তো বৃক্ষের মতো ডালপালা মেলেছি আকাশে,
অথচ পায়ের তলায় মাটির স্পর্শ ছাড়া সবটাই অলীক।
কুয়াশার চাদর সরিয়ে যখন ভোরের আলো ফুটে ওঠে,
তখন মনে হয়, বেঁচে থাকাটাই আসলে এক আশ্চর্য শিল্প।
বুকের বাঁদিকে আজ এক অদ্ভুত জোনাকির আলো,
হয়তো কোনো প্রিয় মানুষের ফিরে আসার পদধ্বনি।
পাখিদের ডানায় লেগে থাকা বাতাসের গান শুনে—
বিকেলের বিষণ্ণতা মুছে যায় চেনা কোনো সুরের টানে।
জীবন মানে তো কেবল ফুরিয়ে যাওয়া নয়,
জীবন মানে ধুলোর পৃথিবীতে নতুন করে রঙ ছড়ানো।
==================
নীল ডায়েরি , নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

Comments
Post a Comment