সম্পাদকীয় ================== প্রকাশিত হল ব্লক-নবপ্রভাতের ২৯তম সংখ্যা। কোরোনাকালের এই ঘোরসংকটে আমরা সাহিত্যচর্চায় ব্রতী আছি। দরজার বাইরে উঁচিয়ে আছে ভয়। এখন সাহিত্য সৃষ্টিই আমাদের একান্ত নির্ভরতার স্থল। আমাদের বাঁচার, ভয়কে জয় করার নিরাপদ আশ্রয়। সকলে ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন -- এই একান্ত কামনা। ব্লগ-নবপ্রভাতের পাঠক লেখক শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আমাদের আবেদন, আপনারা প্রকাশিত লেখাগুলো পড়ুন এবং লেখার নিচে কমেন্ট বক্সে আপনাদের মন্তব্য জানান। লেখকরা উৎসাহিত হবেন। আমরাও প্রীত হব। লেখক বন্ধুদের কাছে বিশেষ অনুরোধ, আপনারা নিজের লেখা ছাড়াও অন্যের লেখাও পড়ুন। মতামত জানান। তাহলে আপনার লেখা সম্বন্ধে অন্যের মন্তব্য আশা করতে পারেন। আর একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা, লেখকলেখিকারা নিজের নিজের লেখার লিংক শেয়ার করুন -- ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে। কিন্তু কোন কোনভাবেই স্ক্রিনশট শেয়ার করবেন না। যদি নিজের লেখার লিংক না পেয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আমাদের জানান আমরা আপনার লেখার লিংক পাঠিয়ে দেব। আমরা চাই পাঠক-পাঠিকারা লিংকের মাধ্যমে ব্লগে আসুন এবং আপনার লেখার পাশ...
জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...