Skip to main content

Posts

Showing posts with the label ১৬শ সংখ্যাঃ আষাঢ় ১৪২৬ জুন ২০১৯

কবিতা ।। অমর একুশের গান ।। সাদেকুল ইসলাম

অমর একুশের গান সাদেকুল ইসলাম  বছর ঘুরে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারী এসেই গেছে ভাই একুশ তারিখ প্রভাত ফেরিতে শহীদ মিনারে যাই। শহীদ মিনারে গিয়েই দেখি দিচ্ছে সবাই ফুল খালি পায়ে হাটছে সবাই হচ্ছে না কারোর ভুল। রফিক, শফিক, জব্বার, বরকত আরো নাম নাজানা অনেকে বাংলা ভাষার জন্য তারা  বিলিয়ে দিয়েছেন নিজেকে। ভাষা শহীদদের স্মৃতি স্মরণে পালন করছি নিরবতা বিশ্বের ইতিহাসে কোথাও নেই ভাষার জন্য করতে এমনটা। আমরা আজি বাঙালি হয়েও দিচ্ছি না ভাষার মান ২১শে ফেব্রুয়ারী চারিদিকে ভাসে মাতৃভাষার গান। বাংলা আমার মায়ের ভাষা  আমি বাংলার সন্তান নিজের জীবন দিয়ে হলেও রাখবো ভাষার মান।   ============= সাদেকুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী,বাংলাদেশ। 

কবিতা: মনীষা কর বাগচি

মজবুরী কিছু কষ্ট আছে যারা শেষ হতে হতেও হয়না। নতুন নতুন রূপ নিয়ে নতুন ভাবে আসে।বারবার আসে।          কখনও ফুলের রঙ ধরে আসে কখনও আগুনের, যে রূপেই আসুকনা কেন কালবৈশাখীর ঝড় ওঠে সমস্ত অস্তিত্বে।বিপন্ন হয় বেঁচে থাকার আশাটুকু। তার মধ্যেও ভোররাতের জ্যোৎস্না হ‌ই।           সেটা আমার মজবুরী ... ========================== Manisha Kar Bagchi Azadpur Delhi-33 9711839955

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র

ব্লগ নবপ্রভাত ১৬শ সংখ্যা আষাঢ় ১৪২৬ , জুন ২০১৯  -: সূচিপত্র :- প্রবন্ধ-নিবন্ধ : সঞ্জয় কুমার মল্লিক   রমলা মুখার্জী   অনিরুদ্ধ সুব্রত    রাণা চ্যাটার্জী   তন্ময় সিংহ রায় মুক্তগদ্য : শিবনাথ দত্ত     নিসর্গ নির্যাস মাহাতো     সুমিত্রা পাল     আবদুস সালাম     পিয়ালী মজুমদার     সুমিত মোদক     নন্দিনী লাহা সোম   রবীন বসু    সৌরভ দত্ত     বরুণ দুবে    শেফালী সর   সম্পা পাল গল্প/অণুগল্প : আকাশ নীল মাইতি   তুলি মণ্ডল    শ্যামাপদ মালাকার    ফরহাদ হোসেন   রণেশ রায়   অরুণ চট্টোপাধ্যায়   সান্ত্বনা চ্যাটার্জী রম্যরচনা :   তপন তরফদার কবিতাগুচ্ছ :    বনশ্রী রায় দাস   সুপ্রীতি বর্মন  রঞ্জন ভট্টাচার্য   দেবব্রত দাস  তাপসকিরণ রায়  দুটি কবিতা:  সৌগত রাণা কবিয়াল    আবির্ভাব ভট্টাচার্য  সবর্না চট্টোপাধ্যায় কবিতা/ছড়া ...

মুক্তগদ্যঃ পিয়ালী মজুমদার

অকিঞ্চিৎকরের ডায়েরি- ৪ --------------------------------------------------------- একটা আলুথালু দুপুর পেরোচ্ছি অপেক্ষার। বারোটা বেজে দশ কুড়ি....তিরিশ...  ঘড়ির কাঁটায় একটা নাকফুল স্পষ্ট হচ্ছে ক্রমশ। ঝিকমিক করে এগিয়ে আসছে এই সুরভিত রেস্তোরাঁর দিকে। এখানে জীবন বড়ো মাংসল। বিরিস্তা- কেশরে মাখামাখি। নতমুখে ঘ্রাণ নিচ্ছে তৃপ্ত যুবতী। উষ্ণ তন্দুরে লোভ ঝলসে নিচ্ছে অস্থির যুবক।  খুশবুদার, তুলতুলে কাবাবের সাথে একটা ঝুঁকিপূর্ণ শহরের হা-মুখের ভেতর  মিলিয়ে যাচ্ছে জোমাটোবালকেরা।  ক্রমাগত আসা- যাওয়ার চিলচিৎকার ব্রীজ পেরোতে থাকা রেলগাড়ির মতো ঝমঝম করে বাজছে ওদের মাথার ভেতর। রূপমতীর শীর্ণ আঙুল জ্বালা করে উঠছে উচ্ছিষ্ট হাড়ের খোঁচায়। ফুটন্ত ফিরনির মতো ক্ষুধা গাঢ় হচ্ছে  আবহে। সন্তানের মুখ ঢেকে যাচ্ছে চিমনির ধোঁয়ায়।  এমন সব দৃশ্যের পাশে পাত্তা না পেয়ে, একটু দূরে দাঁড়িয়ে ফ্যালফ্যাল তাকাচ্ছে গোলাপবিবি। হাতের প্লাস্টিকে ভাগের অন্ন। পাত পড়বে এক্ষুনি। লেজ নাড়াতে নাড়াতে এসে পড়েছে সবাই। ওদের অবোলা চোখে ছায়া ফেলছে বিষণ্ণ অন্নপূর্ণা....  এসে পড়েছে নাকফুলও। তার ভেজা ভ...

মুক্তগদ্য: নন্দিনী লাহা সোম

অলক্ষ্য রঙ লাগলো আমার অকারণের সুখে বসন্ত যে এসেছে, সে জানে কেবল এক পাগল কোকিল। অফিস ঢুকছি, কুউউউউ...লাঞ্চে নেমেছি, না, ঝুপস্-এ খেতে নয়, এমনি  এলোমেলো হাঁটতে, অমনি কুউউউউ....BSNL অফিস ছুটছি, আর্জেন্ট মিটিং, কুউউউউ... হ্যাঁ, আর বলবেন না আর কোথাও জায়গা পায় নি, আমারই অফিসের সামনের কোনো এক গাছে বাসা বেঁধেছে। এমনিই আমার ডেস্কের পিছনে দেওয়ালটা হঠাৎ শেষ হয়ে গেছে জানলায়। ঠিক যেখানে মেট্রোর সেক্টর ফাইভ স্টেশন আর উইপ্রো ফ্লাইওভার দুজনে দুজনকে না ছুঁয়ে ছুটে যাচ্ছে সেখানে আকাশ তার সমস্ত মন খারাপ নিয়ে থমকে থাকে, বলে "আয়"....তার মধ্যে ঐ কোকিল!!!  না, এই বসন্তে দিকশূণ্যপুর যাবার উপায় নেই, দিগন্ত ব্যাপী নীলে গুচ্ছ গুচ্ছ পলাশের লালের আগুন হয়ে জ্বলে থাকা যে এমনিই দেখতে পায় তার কাছে এ রোজকারের ব্যাপার, সে কি করে বুঝবে কালো কফিতে চুমুক দিতে থাকা আমি-র এই বারোতলার বদ্ধতা?....তাই বোধহয় ঐ এক দেওয়াল আকাশ, ঐ পাগল কোকিল আর অফিস থেকে ফেরার পথে "বসন্তের ঐ মাতাল সমীরণ"... এর মধ্যে একদিন হৃদি জানালো, তার স্কুলের অ্যাসেম্বলিতে এবারে "ওরে গৃহবাসী" গাইতে গাইতে, নাচতে নাচ...

মুক্তগদ্যঃ সুমিত মোদক

সনাতনী ভাবাবেগ মোড়কে ঢাকা খাজুরাহর কলঙ্কিত অধ্যায় হাজার বছর আগেকার ঘটনা । সে কারণে , সঠিক কোনো ইতিহাস নেই । প্রায় পুরোটাই দাঁড়িয়ে আছে মিথের উপর । বিশ্বাসেরব উপর । যেহেতু বিষয়টি সনাতনী হিন্দু ভাবাবেগ সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে  সে কারণে হয়তো সমসাময়িক ঐতিহাসিকগণ বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন । হয়তো বা স্পর্শকাতর হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত লাগবে ভেবেই । বা ঐতিহাসিকগণ মনে মনে করে ছিলেন বিষয়টির মধ্যে ঐতিহাসিক কোনো উপাদান নেই ।  # প্রতিবেদকের আধুনিক দৃষ্টিতে ধরা পড়েছে খাজুরাহর মন্দির সৃষ্টির নেপথ্যের এক কলঙ্কিত অধ্যায় । যৌবন ও যৌনতার অধ্যায় । সেটাকে ঢাকার জন্য মন্দির গাত্রে যৌন ভাস্কর্য । যেটা এক সময় ছিল দ্যা টেম্পল অফ সেক্স । সেটাকে বতর্মানে সারা বিশ্বকে দেখানো হচ্ছে দ্যা টেম্পল অফ লাভ । কেবল মাত্র বিশ্বায়নের জন্য । পর্যটন শিল্পের জন্য । # খাজুরাহর মিথটা হলো , রাজেব্রাহ্মনের কণ্যা হেতস্বী অপূর্ব সুন্দরী  । অল্প বয়সেই বিধবা হয়ে বাপের বাড়ি ফিরে আসেন। এক রাতে নদীতে স্নান করতে গিয়ে চন্দ্রদেবের আকাঙ্ক্ষার শিকার হন এবং দুজনের যৌন মিলন ঘটে । চন্দ্রদেব ও হেতস্বীর মিলনের ফলে ...

নিবন্ধঃ রমলা মুখার্জী

কৃষক-বন্ধু রবীন্দ্রনাথ প্রকৃতি আমাদের মা। পরম প্রকৃতির দানেই জীব-জগতের আবির্ভাব,লালন-পালন। কিন্তু বুদ্ধিমান নাকি বুদ্ধুমান মানুষেরা সেই প্রকৃতিই করছে দূষিত। সবুজ জঙ্গল কেটে বানাচ্ছে কংক্রিটের জঙ্গল। সবুজ গাছ উধাও হলে যে আমাদের অস্তিত্বের সঙ্কট হবে তা রবীন্দ্রনাথ সে যুগেই মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছিলেন, তাই প্রবর্তন করেছিলেন বৃক্ষরোপণ উৎসবের। সেকথা আমরা সবাই জানি, কিন্তু যা অনেকেই জানি না তা হল যে পল্লী বাংলার দুঃখ-দুর্দশা তাঁকে এতটাই ভাবিয়ে তুলেছিল যে তিনি সক্রিয়ভাবে পল্লীবাংলার উন্নতিতে মনোনিবেশ করেছিলেন।    রবীন্দ্রনাথ অনুভব করেছিলেন যে দেশে কোন কৃষি-বিদ্যালয় নেই, নেই কোন সরকারি কৃষিনীতি। তাই রবীন্দ্রনাথ কবি ও কৃষিবিদ্ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সহযোগিতায় শিলাইদহে আলুর চাষ শুরু করেছিলেন। প্রথমবার এই কৃষিকাজে সাফল্য তাঁর আসেনি। প্রচুর ব্যাঙ্গ-কৌতুকের বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি পুনরায় ঐ কাজে ব্রতী হলেন। এবার আলুচাষে এল সাফল্য। আজকে বাংলার যে ফসলটির ওপর আমরা অনেকটাই নির্ভর করি সেই আলুর বিজ্ঞানসম্মতভাবে চাষের প্রথম প্রবর্তনের জন্যও আমরা রবীন্দ্রনাথকে একজন দরদী, আধুনিকমন...

মুক্তগদ্যঃ শিবনাথ দত্ত

ছক  ১      আজও সুতনুর মনকে সেদিনের বিয়েবাড়ির স্মৃতি উদাস করে দেয়। সেই আলো ঝলমলে লোকারণ্যের মাঝখানে উজ্জ্বল সুন্দর সাজে সজ্জিত চঞ্চলা হরিণী সারদার দুষ্টুমিভরা চাহনি মনে পড়লে অজান্তেই সুতনুর ঠোঁটে মৃদু মধুর হাসি ফুটে ওঠে।      মাস চারেক আগের কথা। ফাল্গুনের মাঝামাঝি সুতনুর কাকার ছোট মেয়ের বিয়ে হল। তার হবু ননদ সারদা এসেছিল ওদের বাড়ি। ওরকম রূপ সাধারণত খুব কম চোখে পড়ে। উজ্জ্বল ফর্সা শরীরে গোলাপি শাড়িখানি দারুণ মানিয়েছিল। শাড়ির সাথে ম্যাচ করে গোলাপি মালা, কানের দুল ও গোলাপি টিপ পরেছিল। আর খোঁপাতে ছিল একগাদা রজনীগন্ধা। মনে পড়তেই সুতনুর মন গোলাপি নেশায় ভরে ওঠে। সে রূপের সঙ্গে মনের মাধুরী মিশিয়ে তার স্মৃতি খানি আরো মধুর হয়ে ওঠে।      সেদিন বিয়েবাড়িতে ওই সুন্দরীটি অনেক যুবকেরই নজর কেড়েছিল সত্যি। তবে সুতনুর মতো আর কারো মনে এতটা দোলা জাগায়নি। এতদিন কেটেছে, অথচ তার সেই দোলায় সুতনুর হৃদয়পাত্রের রঙিন জলে আজও সমান ভাবে ঝিলমিলিয়ে ঢেউ খেলে ওঠে। আর যখন তা মাঝে মাঝেই মনকে ছাপিয়ে ওঠে, তখন কবিতা না লিখলে মনের উচ...

রবীন বসুর মুক্তগদ্য

দুখু মিয়া কবি     ———————— দুখু মিয়া কবি l আমাদের কাজী নজরুল ইসলাম l আদ্যন্ত দুখী এক পরিবারে জন্মেছিলেন l সম্বল ছিল একটা বাঁশের বাঁশি l খিদে ভুলতে তাতেই সুর তুলতেন l মধ্যদুপুর অতিক্রান্ত বিকেলের বাতাস সে সুর বয়ে যেত বহু দূর l ঘাট থেকে ঘাটে, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে l একদিন সেই বাঁশিকে সম্বল করে ঢুকে পড়লেন লেটোর যাত্রাদলে l শুরু হল ভ্রাম্যমান জীবন l জনপদ মুখরিত হল তাঁর বাঁশির সুরে l  পালার কাহিনী থেকে জীবনের পাঠ শিখে নিলেন l শুরু হল স্ব-শিক্ষার ভিত্তিস্থাপন l পরে নিজের চেষ্টায় আরবি, আর ফারসি শিখেছিলেন করাচি সেনানিবাসে এক পাঞ্জাবী মেজরের কাছে l নিজেই ব্যঙ্গ করে লিখেছেন একসময়— 'বিলেত ফেরনি?' প্রবাসী-বন্ধু ক'ন্, 'এই তব বিদ্যে ছি !'     ছি! ছিল তাঁর সারাটা জীবন l  হিন্দুরা বলেছেন 'নেড়ে', মুসলমানরা বলেছেন 'কাফের' l অথচ তাঁর মত উদার সর্ব-মানবিক সংস্কারমুক্ত সত্যিকার সাম্যবাদী মানুষ বিশ শতকে কমই জন্মেছেন l "গাহি সাম্যের গান মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান !" নারী-পুরুষে সমানাধিকার চেয়েছিলেন l ...

মুক্তগদ্যঃ শেফালি সর

 ।। প্রথম।।                                 জীবনের শুরু টাই তো প্রথম। প্রথম যা কিছু তার মধ্যে থাকে একটা নবীনতা যা সবকিছুকে সুন্দর করে তোলে। প্রথম ভূমিষ্ঠ হলাম যেদিন, সেদিন পৃথিবীর আলোটাও ছিল আমার কাছে প্রথম। মায়ের হাতের প্রথম পরশ পেলাম সেদিন-অনুভূতিটাকে হয়তো উপলব্ধি করতে পারি নি, তবু ও সেই প্রথম পরশ আমাকে পবিত্র করেছিল। তারপর জীবন নদী প্রবাহিত হ'তে শুরু ক'রল। জীবন প্রবাহিত হবার যে কী অপরিসীম আনন্দ তার  উপলব্ধি  কত মধুরতম! উচ্ছল চঞ্চল জীবন প্রবাহ কত মন ছুঁয়ে ছুঁয়ে জীবনের ঘাট পেরিয়ে পেরিয়ে কত কথা কয়ে কয়ে এগিয়ে চলেছে। কখনো সে থামেনা বুঝি থামবেও না। সেই অনন্ত প্রবাহ মিলিত হবে অনাদি কালের স্রোতে। কিন্তু সেই প্রথম প্রবাহের ক্ষণ টি যেন কত সুন্দর কত মধুময়!তা লেখা আছে কালের জীবন পঞ্জিকা তে।  তারপর প্রথম পাঠশালা মায়ের কোল। প্রথমেই মা হাতে খড়ি টা ধরিয়ে  শ্লেটের উপরে দাগ কাটতে শেখালেন। কালো শ্লেটের উপরে সেই প্রথম খড়ির সাদা  দাগটা আজ ও চোখের সামনে ভেসে ওঠে। মনের ঘর...

কবিতাঃ উত্থানপদ বিজলী

বার্তাবহ ----------------------- আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে কবি কালিদাস, মেঘকে দিয়ে  খবর পাঠিয়েছিলে যক্ষের প্রেমিকাকে..... আজ আমার  চারপাশে ঘোরাফেরা করে বার্তাবহ বাতাস তাকে আমি এখন পাঠিয়ে দিচ্ছি প্রেমিকাকে কানে কানে কিছু কথা বলতে। কী বলবে সে ? সেটাই তো লাখ কথার এক কথা ! বিশ্বাস নিয়ে  কতক্ষণের প্রেমিকা ছিল সে,,,,,,, কেন না আকাশের বুকে ক্ষণে ক্ষণে  মেঘের খেলা বদলে যাচ্ছে । --------------------------------------- উত্থানপদ বিজলী নারিকেলডাঙ্গা,পোঃ-মধ্যশিবপুর দক্ষিণ 24 পরগনা,পিন-743372 ফোন-9733941690 Sent from my Samsung Galaxy smartphone.

কবিতা গুচ্ছঃ বনশ্রী রায় দাস

            মা উড়ো মেঘের জল সরিয়ে রোদ্দুরের ওম  শ্বেত শামুকের বুকে, ভিজে যাওয়া  পানপাতা উঁকি দিচ্ছে বরোজের ফাঁকে , হালকা রোদে পালক শুকিয়ে নিচ্ছে ছাতারে সোঁদা মাটির রাস্তা ধরে বালা ডাঙার পুকুর ঘাটের দিকে বাঁশি ঠাকুরমা । # ওদিকে কলসি ডোবানোর গুব-গুব আওয়াজ  বিষণ্ণ যুবতী ছায়া পড়েছে জলের মেঘে জল তরঙ্গে কাঁপে নাকছাবি । আকাশ পথে চলেছেন আমার মা ক্লান্তিহীন সেই  চলার ছন্দ ,খাঁ খাঁ করছে  তাঁর রেখে যাওয়া স্বরলিপির খাতা।        -----0----     অথৈ সূর্যাস্ত রেখা বরাবর রং মাখছে চতুর্বেদীয় ধ্যান  মাঝি ঘরমুখো,ছাতিম মেখে বাতাসের  ঢেউ । # সারাদিনের ক্ষয় ধুয়ে দিতে পাখিরা  খুঁজে নেয় আপন রমণ-ভাষা। # আমি শুধু জেগে থাকি মরা নদীর অরণ্যে  বেহাগের বিষাদ ছুঁয়ে পতঙ্গের ওড়াউড়ি । # হাপিত্যেশ নৌকা পানাফুল ভিজে যায় বিলকুল  হিসেব বুঝে নিতে নোঙর তুলে দিল বন্দর ।          ---------0------       ...

দুটিকবিতাঃ আবির্ভাব ভট্টাচার্য

  দেবী কঙ্কালগাছ দাঁড়িয়ে রয়েছ তুমি তোমার সেলাই খুলে যাওয়া জঠর, তার ভিতর দিয়ে দেখা যায় - ব্রম্ভান্ড! দেশ-কালহীনা দাঁড়িয়ে রয়েছ তুমি তোমার স্নেহশিকড়ের মুলটুকু ছুঁতে চন্দ্রালোকে ঘর ছেড়ে এসেছিল - তথাগত। বিষাদমন এক একটা রাতে বিষাদের কাছে মন - চৌকাঠে পা, এক পা বাইরে রেখে, ফজর নামাজে মন পেতে দিয়ে এসে চাঁদ খুঁজে মরে কাজুবাদামের গাছে। কোনো বিকেলের আনমনা রোদ আলো মাথার পাশে, বালিশের পাশে বসে, কপালে জমা স্মৃতির ধুলোর পরত আলতো আঙুলে তুলে নেয় তার হাতে। এক দু'মুঠো বিষাদগন্ধ রেখে - একদিন আর কুলায় ফেরে না পাখি। নিজেকে নিজেই বে-ঘর করল যে, অবসরে তাকে তথাগত বলে ডাকি। দরবারী রাগে আগুন জ্বলেছে রাতে হু-হু পুড়ে গেছে কালবৈশাখী বন, বিষাদের তারে মীড় দিয়ে যায় কে - শেষ সকালে কে গেয়ে যায় ইমন? বিষাদে বিষাদে বহুদূর এসে বুঝি, চিঠিরা মিথ্যে প্রতিশ্রুতির পাতা। রবিবার মানে অতীতেরা অতিথি, জানলা জানলা বিষাদ পর্দা ঢাকা। ------------------------------------------------- Name: ABIRBHAB BHATTACHARJEE Address: 20a/1, Bonmosjid Para Kalna Gate Burdwan 713101 Email: bhab.ab...

কবিতাগুচ্ছঃ দেবব্রত দাস

।।অস্তিত্বহীন।। যা কিছু আকাশ ভরা পাত্র, তুমি পান করেছ নতুন দিনের মতো। ইতিহাস থেকে বেরিয়ে আশা সুর ত্রুমশ্য মুহ্যমান। শেয়ালের ডাক শোন মানুষের গুহাপ্রাচীরে। হাওয়া ঘনত্ব, বালির ওপারে নদী,আর জোনাকির গান এভাবেই  প্রতিদিন বলে যায়, এই ঘাসের চাদরে বসো,একটু স্থির হও, আশা,ভরসা,কামনা,যাতনা,শ্লাঘা, ক্রোধ ভাসিয়ে দেও মহাশূন্যে,  শুন্য হয়ে বাঁচো,অস্তিত্বহীন হয়ে বাঁচো! ।।তবে কোনো প্রশ্ন করো না।। তবে কোনো প্রশ্ন করো না,  বুঝে নিও ঠোঁটের ভাঁজ। সবসময়তো প্রেম আসে না,  মাঝেমাঝে আসে কালো মেঘ, ঠিক যেভাবে মহাকাশের তলানিতে পড়ে থাকে রাস্তারা,  জানালার বাহিরে জোনাকিরা কাঁপতে থাকে,  সময়ের চাদর কত ফুট চওড়া?  কেউ মনে রাখে না।  বুঝে নিও, শাড়িতে কিভাবে জড়ায় প্রথম আলো, গামছার জল গিলে নেয় মরুভূমি,  লাজুক প্রেমিকের শরীর রসায়নের ল্যাব,  বাতাসের নৌকা নেমে আসে সমুদ্র চিড়ে, পারলে আয়নার জলে ধুয়ে ফেলো সুষুম্না,  তবে কোনো প্রশ্ন করো না। ।।ঝড়।। ঝড় এখনো আসেনি,তবে হাওয়া থমকে আছে, ...

দুটি কবিতাঃ সবর্না চট্টোপাধ্যায়

১. অস্টিওপোরোসিস ক্ষয়ে গেছে হাড়। হাঁটু থেকে সরেছে ফিমার আমি আরও হেঁটে গেছি দীর্ঘ পঁচিশ বছর। এত একা। এত মুখোশের ভিড়। শব্দেরা গ্রীষ্ম তাপের কোপে কেঁদেছে অন্তহীন। সে পথে দেখা মেলেনি আর তোমার চোখের মতো, নিষ্পাপ এক ভোর! হেঁটছে কত পথ। নগ্ন দাঁড়িয়ে এক মা। এঁকে চলেছে শিল্পী হাওয়া শরীরের দুঃখ তার... ওগো, ছিন্ন পলাশ কালো হয়ে আসা বৃন্তেরা... বদলেছে চেনা সম্প্রদায়! জানোইতো, চলতে গেলে পথে কত কী হয়! ২. নাকি অভিশাপ কোনও? শব্দের সংলাপ শেষ হল। নিথর ঠোঁট দুটো জমতে জমতে…বরফের পূর্ণতায় এ যেন অবিকল চাঁদের শরীর! ঝরা পাতা ঘিরে আছে, একা কাঠের বেঞ্চ দুটো ছেঁড়া চটি...হারিয়েছে এক পাটি কোথাও কি নিটোল পায়ের ছাপ… নাকি অভিশাপ কোনও…এভাবে ছেড়ে থাকার? ===================== Sabarna Chatterjee Mukherjee Apartment-I Shalbagan P.O-Noapara P.S.-Barasat Kol-700125

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

উৎসব ।। লালন চাঁদ

উৎসব  লালন চাঁদ ভোরের আকাশ  পাখিদের কিচির মিচির  জানালা খোলা  ঘরে এসে দোল খায় প্রিয় নববর্ষ। সূর্য ওঠে  বাদাম রঙে ছেয়ে যায় দিন  মন্দিরে শঙ্খধ্বনি  মসজিদে আজান  মুখরিত পাড়া। বাতাস রিমঝিম। কুলকুল ছন্দে বয়ে চলে আত্রাই  নৌকোয় দোতারার আর্তনাদ  বাউলের কণ্ঠে বাউল  পথভোলা লালন। বিকেলে দীঘির মেলা  লোকে লোকারণ্য  কতো দোকান কতো বেচাকেনা  রাত নামে  মেলা শেষ হয় না। পাড়ায় পাড়ায় নববর্ষ  পাড়ায় পাড়ায় নববর্ষের মহা উৎসব।   ----------------------------   লালন চাঁদ গ্রাম + পোস্ট = কুমারগঞ্জ। জেলা = দক্ষিণ দিনাজপুর। 

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান

নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া  আবু রাইহান আমাদের দেশের সরকারিভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস পড়লে এটা মনে হওয়া স্বাভাবিক,বিদেশি ইতিহাস লেখক এবং আমাদের দেশের ভাড়াটে ইতিহাস রচয়িতারা অত্যন্ত সচেতনভাবে ইতিহাসের পাতা থেকে ভারতে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলিমদের অবদানকে মুছে ফেলার চেষ্টায় অবিরাম লিপ্ত রয়েছে।ইতিহাসের এই বিকৃতি দেখে স্বাধীনতা সংগ্রামী সত্যেন সেন তাঁর ‘ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলমানদের ভূমিকা’ পুস্তকে লিখেছেন, ‘ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলিমদের অবদানকে অবহেলা করে বিস্তৃতির তলায় চাপা দেওয়া এক জাতীয় অপরাধ।’ সত্যানুসন্ধানী মনীষী এম আব্দুর রহমান চাপা পড়ে থাকা ইতিহাসের এই উজ্জ্বল অধ্যায়কে আমাদের সামনে তুলে ধরতে  তিনিই প্রথম আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখালেন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের আন্দোলনে অগ্নিযুগের বিপ্লবী হিসাবে দেশমাতৃকার শৃঙ্খলমোচনে কেবল মুসলিম পুরুষরা শুধু নয়, মুসলিম নারীরাও এগিয়ে এসেছিলেন।  দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে উপেক্ষিতা এই বীরাঙ্গণা মুসলিম মহিলাদের কথা তিনিই প্রথম স্বীকৃতির আলোয় তুলে ধরলেন। রংপুরে মি...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

এ যুগের নারী ।। সঞ্জয় বৈরাগ্য

  এ যুগের নারী সঞ্জয় বৈরাগ্য নই আর মোরা সত্তাবিহীন, সে যুগের মতো নই পরাধীন নই তো আমরা অবলা, কূপমন্ডকী সুযোগ, সুবিধা, শুধুই সুখভোগী। আমরা, এ যুগের নারী। মোরা ভয় করি নাকো ঝড়-তুফানে লক্ষ্য মোদের সদা জয় পানে। দিতে পারি মোরা দিক-দিগন্তে পাড়ি যুগ-যুগান্তের নৌকা ধরি। আমরা, এ যুগের নারী। আমরা ঘোচাবো ভাবনা মা, বাবা'র 'কন্যাদায়' --- এ কথাটি তাদের ভুলিয়ে দেবো, হয়ে যে অনন্যা আমরা যে যত সাহসী কন্যা। আমরা, এ যুগের নারী। পুরুষের থেকে কম নই মোরা আমরাই ভুবনে সৃষ্টির আধার।  পার হতে পাড়ি কাটিয়ে শত ভয়, সাগরের ঐ অতল জলরাশি; আমরা, এ যুগের নারী।   =============== সঞ্জয় বৈরাগ্য কৃষ্ণনগর, নদীয়া।

গল্প ।। আত্মরক্ষার অধিকার ।। রণেশ রায়

আত্মরক্ষার অধিকার রণেশ রায় উনার নাম সুমন বোস। বয়স পঞ্চান্ন ছাপ্পান্ন হবে।  চব্বিশপরগনার আমতলায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে স্ত্রী সুজাতা কন্যা কল্যাণীকে নিয়ে থাকেন। একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করেন। অবস্থা খুব ভালো না হলেও খারাপ নয়। দিব্বি চলে যায়। ভ্রমণ রসিক মানুষ। ছুটি পেলেই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাওয়া। স্ত্রী ঘর সামলান মেয়েকে নিয়ে। মেয়ে  দেখতে শুনতে তেমন না হলেও তার দৃপ্ত হাসিমুখ নজর কাড়ে। সে প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী নিকটবর্তী কলেজে বিষ্ণুপুর এলাকায়। পড়াশুনায় মোটামুটি। একটু বারমুখী ।  বাবার সঙ্গে খুব খাতির। ওর মায়ের অভিযোগ বাবার কাছে মেয়ে প্রশ্রয় পায় তাই পরশুনায় তেমন মন নেই। তবে মায়ের সাহায্যে যে সে তৎপর  সে বিষয়ে মায়েরও সন্দেহ নেই।  মেয়ে একটু  বহির্মুখী বলে মায়ের চিন্তা। বাবা মেয়ের এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত। আর সেটাই মেয়েকে একটু বেয়ারা করে তুলেছে বলে মায়ের ধারণা। সব নিয়ে ভালো মন্দে সুমনবাবুদের সংসার। সুমনবাবু মেয়ের বহির্মুখী কাজে উৎসাহ দেন সন্দেহ নেই। সেটা যেন তাঁর গর্ব আর সেটাই স্ত্রী সুজাতার রাগের কারণ। মেয়ে কল্যাণী পাড়ায় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় উৎস...

কবিতা ।। আটক ।। তাপসী লাহা

আটক তাপসী লাহা  সময়টি নিঃসন্দেহে অতি তরল, তরঙ্গময় ঘোরের বারান্দায় পাখি দাঁড় করিয়ে রাখা চমৎকার লৌহশানিত খাঁচা  বিড়ালিনীর শেষ রাতে চুপিসারে এঁটো করা দুগ্ধ পাত্রটি,  ঠনক্ শব্দে কেঁপে ওঠে নিত্যগৃহী, ঘুম গহ্বর থেকে অতর্কিতে ফিরে আসা নিঃসার ধ্বংসছ্যাক শোভাহীন শুকনো ফুলের তোড়া তবু তো মায়া! স্নেহ বিপন্ন বস্তুসুলভ গাছ...... আহারে মেছো প্রাণ ------ মাংস দাঁতটির কি হবে ভাবতে ভাবতে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে ধুলোদের ঘরকন্না। ============ Tapashi Laha  Birnagar  733134 Raiganj  Uttar Dinajpur 

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতা ।। রক্ত গোলাপ ।। অমিত কুমার রায়

রক্ত গোলাপ  অমিত কুমার রায় এস অতুলপ্রসাদী গান গাই  'আ - মরি বাংলা ভাষা,  এসো, প্রতুলের গাওয়া গান গাই  'আমি বাংলার গান গাই  আমি বাংলায় গান গাই....." যারা মাতৃভাষায় কলঙ্ক লেপে উল্লাসে উঠেছে ক্ষেপে উপেক্ষা বাতাসে ভাসিয়ে দাও প্রতিবাদ ঝড় তীব্রতর হোক  তাদের বুকের ভেতর অশ্রদ্ধা উঠুক কেঁপে। এসো বাংলার ঘরে বাংলা স্বরে  বাংলা ভাষার ডিঙ্গা ভাষাই।  এসো বাংলার পথে বাংলার সত্য  ব্রতে লালনের গান গাই  লালনের গান গাই। এসো ফাগুনের কবি বৈশাখী রবি  আগুন শহীদ পাখি  এসো আগুনের ফুল ফাগুনের ফুল  আকাশের তারা আখি। ভাসে ভাষা ফুল মানবতাব গুল  রক্ত গোলাপে রাখী রক্ত গোলাপে ঢাকি।   ================== --- অমিত কুমার রায় হাওড়া  পশ্চিমবঙ্গ  ভারত

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর