'আজি বাংলা দেশের হৃদয় হতে কখন আপনি, তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী ' । বঙ্গ জননীর রূপের মতো , মধুর বাংলা ভাষা মূর্ত হয়েছে দুই বাংলার অগনিত মানুষের প্রাণের ভাষায়। শুধুমাত্র ভাষার জন্য ওপার বাংলার অগনিত মানুষের আত্মবলিদানে, ২১শে ফেব্রুয়ারি দিনটি স্বীকৃতি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। দুই বাংলার প্রাণের কবি রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুল ইসলামের কাব্য, সঙ্গীত, সাহিত্যের সৃষ্টির উত্তরাধিকার বহনকারী অগনিত বাঙালি আত্মগরিমায় জারিত হয়েছে বাংলা ভাষা চর্চায়। কান্তকবি রজনীকান্ত, অতুলপ্রসাদ সেন, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের কাব্য, সঙ্গীত সমৃদ্ধ করেছে বাঙালির প্রাণের ভাষা চর্চার ইতিহাসকে। পঞ্চ কবির অফুরান সৃষ্টি বিশ্বের দরবারে বাংলা ভাষাকে গৌরবান্বিত করেছে।
বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় বাংলা ভাষার প্রাথমিক শিক্ষার সোপান। রবীন্দ্রনাথের সহজ পাঠ, যোগীন্দ্রনাথ সরকারের আদর্শলিপি এক ছন্দবদ্ধ স্মৃতিমেদুরতার জন্ম দেয়। বাঙালির সাহিত্য চর্চা সমৃদ্ধ হয়েছে বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ অগনিত সাহিত্য স্রষ্টার হাত ধরে। বাঙালি কাব্য চর্চায় জীবনানন্দ, সুকান্ত , সুভাষ, শক্তি-সুনীল প্রমুখের লেখনীর সার্থক উত্তরাধিকার বহন করে চলেছে। মৃত্যুর কিছুদিন আগেও কবি শঙ্খ ঘোষের লেখনী ছিল সজীব। বাংলাদেশের কবি জসিমউদ্দিন, শামসুর রহমান আজও বেঁচে আছেন দুই বাংলার অগনিত মানুষের হৃদয়ে। বটবৃক্ষসম রবীন্দ্রনাথ এবং বিদ্রোহী কবি নজরুলের সৃষ্টি দুই বাংলা আজও লালন করে চলেছে তাদের চেতনায় অনুভবে। আমাদের মাতৃভাষা চর্চার ইতিহাস সমৃদ্ধ হয়ে থাকবে দুই বাংলার মানুষের সম্মিলিত নিরন্তর প্রয়াসে।
...............................
মানস কুমার সেনগুপ্ত, ১৭/৮, আনন্দ মোহন বসু রোড, দমদম, কলকাতা ৭০০০৭৪
মানস কুমার সেনগুপ্ত, ১৭/৮, আনন্দ মোহন বসু রোড, দমদম, কলকাতা ৭০০০৭৪

Comments
Post a Comment