সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ: নন্দিনী পাল শুভদীপ রায় চৌধুরী মৌসুমী মুখোপাধ্যায় সর্বাণী বসু নিসর্গ নির্যাস মাহাতো সুদীপ্ত মন্ডল মুক্তগদ্য-গল্প: সোমনাথ বেনিয়া সঞ্জয় গায়েন শেফালী সর কবিতা-ছড়া: চন্দন মিত্র সুমিত মোদক কৌশিক চক্রবর্ত্তী উত্তমকুমার পুরকাইত সনাতন মাজী রণেশ রায় বারিদ বরণ ভট্টাচার্য্য তপন কুমার মাজি চন্দন সুরভি নন্দ অমৃতা বিশ্বাস সরকার কুনাল গোস্বামী মোনালিসা পাহাড়ী প্রসেনজিৎ মাইতি প্রসেনজিৎ মান্না ভুবন বন্দ্যোপাধ্যায় সুকুমার কর সবিতা বিশ্বাস মৃত্যুঞ্জয় হালদার শুভ্র বন্দ্যোপাধ...
অনুর অপেক্ষা নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...