Skip to main content

Posts

Showing posts with the label রম্যরচনা

নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র

  নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা অভীক চন্দ্র   নববর্ষ এলেই আমাদের মধ্যে এক অদ্ভুত আত্মিক জাগরণ ঘটে। এই জাগরণ সাধারণত ঘুম ভাঙার আগেই শুরু হয়। মানে, অ্যালার্ম বাজার সঙ্গে সঙ্গে চোখ না খুলেই ঠিক করে ফেলি, "এই বছর আমি সম্পূর্ণ বদলে যাব!" যেন গত বছরটা ছিল একেবারে পরীক্ষামূলক খসড়া, আর এবার আমরা ফাইনাল ড্রাফট লিখতে বসেছি। ট্র্যাজেডিটা এখানেই। খসড়া বদলাই ঠিকই, লেখকটা একই থেকে যায়। নববর্ষের প্রথম সকালটা তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই দিন আমরা নিজেদের সামনে এমন সব প্রতিজ্ঞা করি, যা শুনলে প্রাচীন যুগের তাবড় তাবড় লোকেরাও চমকে উঠতেন। আমি নিজেও প্রতি বছর একগাদা প্রতিজ্ঞা করি। ভোরে উঠব, নিয়মিত ব্যায়াম করব, প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা বই পড়ব, মোবাইল কম ব্যবহার করব, সময়মতো সব কাজ শেষ করব… ইত্যাদি। সব মিলিয়ে এমন এক জীবনযাত্রার পরিকল্পনা করি, যা বাস্তবে পালন করলে আমি হয়তো 'মানুষ' থেকে সরাসরি 'মহামানব' হয়ে যেতাম। কিন্তু সমস্যাটা হল, এই মহামানব হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা আমি নিজেই। নববর্ষের প্রথম দিন ভোর পাঁচটায় অ্যালার্ম বেজে ওঠে। আমি চোখ আধখোলা রেখে ভাবি, "এই তো নতুন জীবন শুরু!" অ্যালার্ম...

মুখে বাঙালি ।। বিবেক পাল

মুখে বাঙালি বিবেক পাল অমলবাবু আজ নববর্ষ। ভেবেছিলেন একটু দেরি করেই উঠবেন। গতকাল বাংলার সেরা এক মেগা সিরিয়াল চ্যানেল তাঁকে "সেরা বাঙালি মধ্যবিত্ত ২০২৫" সম্মানে ভূষিত করেছে। জীবনে এ এক অকল্পনীয় প্রাপ্তি। তবে এটুকু বলা অন্যায় হবে যে, তাঁর নিজের কোনো ভূমিকা নেই—ছিল, এবং তা যথেষ্টই ছিল। বাঙলার এক প্রথম সারির দৈনিকে— "বাঙালি মধ্যবিত্তের মতো এত সাহসী আর কোনো জাতির মধ্যবিত্তদের মধ্যে পাওয়া যাবে না"—শীর্ষক প্রবন্ধে প্রথম হয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। সেই সূত্রে নন্দনে বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ, সেখানেও প্রথম। আর সেই ধারাবাহিক সাফল্যেরই চূড়ান্ত রূপ—টেলিভিশনের পর্দায় উঠে আসা এই সম্মান। পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি মনে মনে কয়েকবার হেসেছেন—একটা অদ্ভুত আত্মতৃপ্তির হাসি। যেন নিজেরই বানানো কথার ওপর দাঁড়িয়ে নিজেই নিজেকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। এখন তিনি পাড়ার গর্ব। এ পাড়ায় কেউ কোনোদিন টিভির পর্দায় ভাসেনি। কেউ লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভে নাম লেখাতে পারেনি। সেখানে অমলবাবু—"সেরা বাঙালি"—বুকটা একটু বেশিই ফুলবে, সেটাই স্বাভাবিক। তবু ভেতরে ভেতরে তাঁর একটা ক্ষীণ আশা ছিল—আজ থেকে সৌদামিনী হয়তো একটু অন্য চোখে...

রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র

ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড অভীক চন্দ্র প্রেম আসলে একটা স্টার্টআপ। পার্থক্য শুধু এই যে, এখানে আইডিয়া পিচ করতে হয় না; চোখের দৃষ্টি পিচ করলেই কাজ শুরু। বিনিয়োগকারীরা অদৃশ্য, কিন্তু ঝুঁকি একেবারে দৃশ্যমান। লাভ-লোকসানের হিসেব মেলাতে গেলে ক্যালকুলেটরের বদলে দরকার হয় টিস্যু। প্রথমে আসে 'আইডিয়া স্টেজ'। বাসে, লাইব্রেরিতে, অফিসের কফি মেশিনের সামনে হঠাৎ করে মনে হয়, "এই মানুষটিকে ছাড়া পৃথিবীটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা!" এই ভাবনাটাই হলো মিনিমাম ভায়াবল্‌ প্রোডাক্ট। এরপর শুরু হয় মার্কেট রিসার্চ। সে কী খায়, কী দেখে, কার পোস্টে লাইক দেয়। প্রাচীন যুগে মানুষ নক্ষত্র দেখে ভাগ্য বিচার করত; আধুনিক প্রেমিক তার টাইমলাইন দেখে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। তারপর আসে ফান্ডিং রাউন্ড। এখানে বিনিয়োগ হল সময়, ঘুম আর আত্মসম্মান। "না না, আমি এমনিই অনলাইনে ছিলাম," এই বাক্যটি হলো প্রেমের প্রথম ভুয়ো ব্যালেন্স শিট। ঘুম কমে যায়, চার্জারের প্রয়োজনীয়তা বাড়ে। মোবাইলের ব্যাটারি যেমন দশ পার্সেন্টে নামলেই লাল সতর্কতা দেখায়, তেমনই প্রিয়জনের 'সিন' হয়ে উত্তর না এলে হৃদয়ে লাল বাতি জ্বলে ওঠে। প্রেমের সিইও আসলে কেউ ন...

হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে

হৃদয় ঘটিত চঞ্চল পাণ্ডে প্রেমে পড়া আর গর্তে পড়া দুটোর মধ্যে আমার মনে হয় না মৌলিক পার্থক্য আছে। গর্তে পড়লে হাড়গোড় ভাঙে আর প্রেমে পড়লে ভাঙে মন। আর দুই ভাঙনেই মানুষ কমবেশি সিমপ্যাথি দেখায়।​  আমার প্রথম প্রেমিকা ছিলো পাশের পাড়ার টুনি তখন আমি ক্লাস নাইনের ছাত্র। আর টুনি সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী টুনি দেখতে কেমন ছিলো সেটা এখন আর মনে নেই তবে তার বাবার সাইজটা বেশ মনে আছে। লম্বায় ছয় ফুট চওড়ায় প্রায় সাড়ে তিন ফুট। দশাশই চেহারা। টুনিকে লেখা আমার প্রথম প্রেমপত্র তার হাতে পড়ায় টুনি কে তার বাবার কান মলা খেতে হয়েছিলো। সে খবর বন্ধু মারফৎ পাবার পর আমার প্রথম প্রেমের সেখানেই ইতি। ​তারপর কলেজে পড়ার সময় সহপাঠিনী সুন্দরী তন্বী পাপিয়াকে প্রপোজ করে বসলাম।পাপিয়া আমায় জিজ্ঞেস করলো তুমি কি আমায় সারা জীবন খাওয়াতে পারবে আমি বীরদর্পে বললাম অবশ্যই প্রয়োজনে নিজের রক্ত জল করে তোমায় খাওয়াবো পাপিয়া হাসিমুখে জবাব দিলো বেশ আমি রাজি।​ তারপর একদিন তার সঙ্গে তুমুল ঝগড়া হয়েছিলো কারণ নতুন শাড়ি পরে তাকে কেমন দেখাছে তার এই প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলাম নাইস। তার কথা হলো নাইস কেন বলবো কেন গর্জাস অসাম এক্সসেলেন্ট বা নিদেনপক্ষে ঝাক্কা...

হে নারী ।। অগ্নিমিত্র

     হে নারী    অগ্নিমিত্র   মানসী ক্যামেরার সামনে দাঁড়াইলেন । মানে নিজের ফোনের ক্যামেরার সামনে । জিনস্টাগ্রামে নাচিতে হইবে । লেসবুকে নাচিলেও চলিবে । ফলোয়ার বাড়িবে ।.....    ফলোয়ার অনেক হওয়ায় মানসীর বিলক্ষণ দুপয়সা রোজগার হইতেছে ।  এই নিয়ে বাবা মার সাথে ঝামেলা চলে । ছোট জামা বা খাটো শাড়ি পরে নাচিয়া নাচিয়া মানসী খুশি আছে । আর গীতা বা সঙ্গীতাও তো জিনস্টাগ্রাম বা লেসবুকে রীল বানায় । ইহাই আজকালকার ফ্যাশন ।   একদিন বান্ধবী রীতার ভাই রাজীবের সাথে আলাপ হইলো। রাজীব বলিয়া ওঠে -' আরে আপনি তো.... ..!'  আর কিছু রাজীব না বলিলেও মানসী বুঝিল । চিনিতে পারিল রাজীবকে। পরশু সে তাহার রীলে লভ্ রিয়াক্ট দিয়াছে । ....   কেমন যেন লাগিতে লাগিল । নিজেকে ছোটমনে হইলো । রাজীব তো ভালো ছেলে বলিয়াই শুনিয়াছে। সে রীল দেখে !....  পরক্ষণেই মনে হইলো, সে নিজে ও আরো মেয়েরা রীল বানায় বলিয়াই রাজীবের মতো আরো অনেকে দেখে ।.... রাজীব যদি খারাপ হয় তো সেও খারাপ।  দুদিন পরে বাসস্ট্যান্ডে পুনরায় রাজীবের সহিত দেখা । সে বলিল-' কাল আপনার রীল খুব ভাল...

আওয়াজ ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়

  আওয়াজ  সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়  আওয়াজের দুনিয়ায় আপনাদের স্বাগত। আওয়াজ বলতে আমরা দুমদাম, ফটাস, দড়াম দড়াম, গুড়ুম গুড়ুম, ঝনঝন, খটখট, ফটফাট, ধুমধাম, ধুপধাপ, ঝমঝম এসব শব্দগুলো বুঝতাম। বৃষ্টির আওয়াজ যেমন ঝমঝম, ট্রেনের আওয়াজ আবার ঝমাঝম। বাসন কোসন পড়ে গেলে ঝনঝন। দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ খটখট। বন্দুক,বোম ইত্যাদির আওয়াজ দড়াম। শিল পড়ার আওয়াজ হুটহাট। ঘরবাড়ি ভেঙে পড়লে হুড়মুড় ইত্যাদি। তবে বুকের আওয়াজকে বলে ধড়াস ধড়াস।জোরে জোরে নিঃশ্বাস তখন ফোঁসফোঁস। আর নাক ডাকার একটা বিদঘুটে আলাদা আওয়াজ আছে, ফুঁকনলে হাওয়া বেরোলে যেমন হয়। মানুষটি কিরকম মোটাসোটা তার উপরেও কিছুটা নির্ভর করে। কানেকানে কথা হলে 'ফিসফিস'।আবার কোন চক্রান্তের কথা আস্তে আস্তে হলে 'গুজগুজ'। পাতা ইত্যাদি ঘষে যাওয়ার আওয়াজ খসখস। রেগে গেলে মুখ দিয়ে যেরকম শব্দ হয় তা হলো 'গজগজ'। জোরে থাপ্পড় মারার আওয়াজ হলো 'চটাস'। অবশ্য একটু রকমফের আছে,গালে একরকম, পিঠে একরকম, মাথায় একরকম, পশ্চাতে আরেকরকম। তবে দাঁতে দাঁতে ঘষা লাগলে একরকম আওয়াজ আছে 'কিড়মিড়'। পশুপক্ষীদের তো বিডিন্ন আওয়াজ আছেই। ই...

রম্য রচনা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়

পাত্র দেখা সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়  ছেলে কি করে? এই অল্পস্বল্প কিছু করে। অল্পস্বল্প মানে? ঠিক কি করে বলবেন তো। ঐ টুকটাক করে আর কি! বুঝেছি।তা টুকটাক করে কি হবে? ওতে আর কতটুকু হবে? ওর থেকে বরং তুকতাক যদি কিছু করতো তো লাভ হতো। তুকতাক মানে? এই মানে  লাগলে তুক না লাগলে  তাক। জ্যোতিষ বিদ্যা, বশীকরণ বিদ্যা, সম্মোহিনী বিদ্যা, তন্ত্র বিদ্যা সব এক একটা প্যাকেজ।যেটাতে লাগে। ওতে কি হবে? ওতেই তো হবে। টাকা হবে, পয়সা হবে,বাড়ি হবে, গাড়ি হবে, ধনসম্পত্তি, ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স সব হবে।নতুন নতুন বান্ধবীও হবে। কি করে? ভাগ্যকে ঘুরিয়ে দিয়ে।এইসব বিদ্যা দিয়ে ভাগ্যকে আশি থেকে একশো আশি ডিগ্ৰি পর্যন্ত ঘুরিয়ে দেওয়া যায়। ফকির থেকে আমির হওয়া যায়, জিরো থেকে হিরো হওয়া যায়। ভ্যাগাবন্ড হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল এখন বি এম ডব্লিউ গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাহলে তো বিরাট ব্যাপার। বিরাট ব্যাপারই তো। সেজন্যই তো 'তাক',বলে না 'তাক' লেগে গেলো, সেই তাক।তুক থেকে তাক।কি ছেলো আর কি হেলো। তা সেটার জন্য কি করতে হবে? ধারণ করতে হবে। শুধু ধারণা করলে এখন কিছু হয় না।এই ধরুন এমন তাবিজ আছে যেটা ধারণ করলে ধারণার বাইরে টা...

রম্যরচনা ।। আপনার ভাগ্য খুব ভালো ।। এস এম মঈনুল হক

আপনার ভাগ্য খুব ভালো এস এম মঈনুল হক    লটারি লটারি লটারি.....। তামাম পশ্চিমবঙ্গের এমন একটা জায়গা নেই যেখানে লটারি বিক্রি হয় না। প্রায়-ই শুনি ৫ সেমে টাকা লেগেছে। ৪৫ হাজার। কখনো শুনি ২৫ সেমে দু লাখ পঁচিশ হাজার। বিষয়টা জানতে উৎসুক হলাম। শিখেও নিলাম।একই নাম্বারের  পাঁচটা কার্ড হলে ওটা পাঁচ সেম। ক্রমান্বয়ে ১০ সেম ২৫ সেম ৫০ সেম ইত্যাদি। টেবিলে অনেক টিকিট সাজানো আছে। তখন কোনো খদ্দের নেই। লটারী সেলারটাকে বললাম - বসবো ভাই ?  - হ্যাঁ, বসুন। লটারী লাগবে?  - এখন তো নিইনি,  পরে দেখছি।  - ১০ সেমের একঘরই পড়ে আছে। এটা লাস্ট টিকিট। লাস্ট টিকিট ছাড়তে নেই। নিয়ে নিন। ভগবান দিলে দিতেও পারে। লাস্ট টিকিট সবার ভাগ্যে জোটে না। বলছি, এটা আপনি নেন।  - এতটাই যখন নিশ্চয়তা দিচ্ছ তখন তুমিও তো নিতে পারো।   - কত আর কাটবো বলুন। পকেট ভর্তি। আনসোল্ড দেওয়ার পর যেগুলি বিক্রি হয় না সেগুলি আমার কাছেই রাখতে হয়। পড়ল তো ভালোই, না হলে... ব্যাস আর কি।  - হিন্দু-মুসলিম শিক্ষিত-অশিক্ষিত গরিব দরিদ্র সবাইতো দেখছি লটারি কাটছে।   - কি বলছেন দাদা! এরা আর ক' টাক...

রম্যরচনা ।। সর্ট কাট ।। উত্তম চক্রবর্তী

সর্ট কাট উত্তম চক্রবর্তী সর্ট কাট বলতে আপনি কী বোঝেন ? সর্ট কাট মানে শুধুই কি সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি বা সামান্য, বা ছোট বা অণু জাতীয় কিছু বলা হচ্ছে ? না, সেটা কিন্তু সব সময় চলবে না। 'সর্ট কাট' কথাটার অনেক রকম প্রয়োগ বা বিশ্লেষণ করা যায়। আপনি পড়লেই বুঝতে পারবেন সেটা নিয়ে আমার কী ধারনা। হয়ত সেটা আপনার ধারনার সাথেও মিলে যেতে পারে। আমরা সাধারণত সর কাট কথাটা ব্যাবহার করি বেশ খানিকটা সময় ও রাস্তা বাঁচিয়ে অলি গলি দিয়ে কোন গন্তব্যে পৌঁছানো। আগে লোককে জিজ্ঞাসা করেই সবাই এই সব অলি গলি বা সরু রাস্তার খোঁজ নিয়ে সেদিক দিয়েই গন্তব্যে পৌঁছুত হেঁটে বা সাইকেলে বা গাড়িতে করে। এখন ডিজিটাল জমানায় গুগুল ম্যাপ হাতে থাকায় বেশিরভাগ মানুষই গন্তব্যস্থানের নাম দিয়ে সার্চ করে সর্ট কাট রাস্তা বের করে সেখান দিয়ে তার গন্তব্যে তাড়াতাড়ি পৌঁছে যায়। এরকম করতে গিয়ে সবার যে খুব ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে তা কিন্তু নয়। যেমন আমি নিজেই বেশ কয়েকবার গুগুলের সাহায্য নিতে গিয়ে এমন সব খানাখন্দ ওয়ালা অলি গলির মধ্য দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছেছি যে তাতে আমার গুগুল ম্যাপের ওপর ভরসাটাই দিনে দিনে উঠে যাচ্ছে। ওরা আপনাকে কারও ব...

রম্যরচনা ।। ভগবান নিপাত যাক ।। প্রদীপ দে

  ভগবান নিপাত যাক প্রদীপ দে এই যে ভগবান,  তুমি যা বলবে আমি ঠিক তার উল্টোটাই করবো। আমি কানে একেবারেই কম শুনি, একটু চিল্লিয়ে বললে ভাল হয়! --  কি? পাপ দেবে ? --  তা দাও দেওয়ার জন্যই তো তুমি! সকাল বিকাল কতো কি-ই তো চাইছি -  শুনতে পাও না?  তুমিও কি কালা? --  চাইলেই পাবে না ! --  ঢং ! তাহলে কি কাজে আসো তুমি ? --  বিশ্বের সৃষ্টি স্থিতি আর বিনাশ! --  বড় বড় ডায়ালগ আর জ্ঞানের ভাষনে তো বাজার গরম করে দিচ্ছো। কার কতোটা কাজে লাগলো ভেবে দেখেছো ? -- কি বললে, এসব বড় বড় জাগতিক ব্যাপার? --  নিকুচি করেছে জাগতিক ফাগতিক! যার যতটুকু চাহিদা দিয়ে দাও -তোমার অসুবিধার কি আছে? তুমি তো আর মানুষ নয়? ইচ্ছা করলেই তুমি তোমার বিশাল সাম্রাজ্য আর অর্থকোষ কে কাজে লাগাও - আমরা যে ভিখারি হয়ে পড়ছি ক্রমশই। তোমার গায়ের চামড়া কি শুকিয়ে নির্দয় হয়ে গেছে। বাব্বাঃ এত আস্তে কথা বলো - যে মিউমিউ করে, নিজেকে খুবই জ্ঞানী আর মুক্তি দাতাহি  হিসাবে মনে হয়। এত অহংকার ভাল নয়। পতনের কারন। দেখছো না সকলেই তোমাকে আর কেউ পাত্তা দেয় না। --  যে যার ভাগ্যে খায়? সেতো অটোমেটিক মেশিনও কর...

রম্যরচনা ।। নাম মাহাত্ম্য । । উত্তম চক্রবর্তী

    নামমাহাত্ম্য     উত্তম চক্রবর্তী মানুষ জন্মের পর থেকেই তার একটা নাম নিয়ে সমাজে পরিচিত হয় । এটা হতে পারে তার ডাক নাম বা এর থেকে হয়ত তার হয় সুনাম / দুর্নাম অথবা বদনাম বা মাহানাম । শুনেছি শ্রী কৃষ্ণের নাকি সহস্র নাম ছিল । অনেক দেব দেবীরও এরকম অনেকগুলি করে নাম থাকে। যেমন মা কা লী র নাম হয় কখ নো তারামা বা কখ নো ভবানী অথবা কখ নো হয় মাহা - কা লী কখনো বা ছিন্ন মস্তা ইত্যাদি ইত্যাদি ।        লেখকদের মধ্যে অনেকেরই ছদ্মনাম আছে ।  কেউ কেউ আবার সেই ছদ্মনামেই বেশি পরিচিত । বা  যাত্রা , নাটক , সিনেমাতেও অনেক শিল্পিকে ছদ্মনামে অনেক নাম ডাক করতে দেখা গেছে।       ভাল নাম প্রত্যেকেরই হয়ত একটা থাকে , কিন্তু বাড়ির বা পাড়ার ডাকনামটও  সবারই একটা করে থাকে। ডাকনামের মধ্যে অনেকেরই খুব অদ্ভুত ও মজার সব নাম দেখা যায় । আপনি হয়ত শুনে অবাক হয়ে যাবেন এমন সব নামও আছে যা আপনি কোনদিনও শোনেননি । যেমন ধরুন হুদো , কোঁতকা , মুলো , পচা, পিক্কা , বলটু , ট্যারা , টেকো , হুলো , ঘণ্টা ইত্যাদি। ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

বছরের বাছাই

মাসের বাছাই