প্রত্যাবর্তন পার্থসারথি মহাপাত্র বউয়ের সাথে নিয়মিত ঝগড়া হয়। আর ভাল্লাগছে না। ভাস্কর তাই রাগ করে কাউকে কিছু না বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেছে। নির্জন ডাকবাংলার মাঠে একা বসে বসে ভাবছে। মা ঠিকই বলতেন, 'খোকা, এত রাগ, তেজ যা আমার উপর দেখাচ্ছিস আমি সব সহ্য করছি, অন্য কেউ করবে না।' আজ তাই সত্যি হলো। যার কারনে সব ছেড়ে এলাম আজ তাকেও অসহ্য লাগছে। এই সব ভাবতে ভাবতে ভাস্করের চোখ বেয়ে নিঃশব্দ ঝর্ণা ধারা বেরিয়ে এল। বছরখানেক আগে ও মাকে মিথ্যা দোষারোপ করে, ঝগড়া করে ছেলে বউকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে শহরের এক ভাড়া বাড়িতে উঠেছে। তারপর থেকে মায়ের সাথে আর কথা বলেনি। আজ খুব ইচ্ছে করছে। কোনরূপ বিলম্ব না করে মোবাইল ফোন পকেটে থেকে বের করলো। -হ্যালো মা, তুমি কেমন আছ? - এইতো ভালো আছি বাবা। তোদের কথা বল। কেমন আছিস? আমার নাতি সাহেব ভালো আছে তো বাবা। ওকে চোখে চোখে রাখিস। ভাস্কর কথা বলতে গিয়ে কান্না বেরিয়ে আসে। মা জিজ্ঞেস করে, ' কাঁদছিস কেন বাবা? -ভালো নেই মা। তোমার কাছে আসতে চাই। - একশবার আয়। অনুমতির কি আছে। ঘরের ছেলে ঘরে আসবি চলে আই। বৌমা নাতিকে অবশ্যই সাথে আনবি। পার্থসারথি মহাপাত্র বলরামপ...
দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...