Skip to main content

প্রবন্ধ ।। নিষেধের জালে সাহিত্য ।। অনিন্দ্য পাল

 


প্র ব ন্ধ

নিষেধের জালে সাহিত্য

অনিন্দ্য পাল

 

সরকার পোষিত সাহিত্য পুরস্কার এবং লালিত্য পাবে এটা স্বাভাবিক, কিন্তু সাহিত্য যে সব সময় সরকারি বা প্রশাসনিক আনুগত্য দেখাবে তা কিন্তু নয়। অনেক ক্ষেত্রেই সাহিত্যের গণ্ডী প্রশাসনের হাতের আওতায় চলে আসে। প্রশাসনের রক্তচক্ষু আর একদল 'গেল গেল' পন্থীর আঁচড় কামড়ে বারংবার ক্ষতবিক্ষত হয়েছে সাহিত্য। সেন্সরশিপ সাহিত্যের আঙিনায় কাঁটাতারের জড়াপিট্টি, সাহিত্যের যে অঙ্গ যখনি প্রচলিত গত থেকে বেরিয়ে, প্রচলিত নিয়মের বেনিয়মগুলোকে অক্ষরময়তায় প্রকাশ করতে সচেষ্ট হয়েছে, তখনি তাকে একটা ভয়ঙ্কর ধারালো কাঁচি দিয়ে কচুকাটা করেছে। সাহিত্য বারংবার আহত হয়েছে তার ধাঁচায় যৌনতা, অশ্লীলতা, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, ধর্ম, সমাজের বাস্তবতাকে সোজাসাপ্টা বা রহস্যময় আসবাবের উপস্থিতিতে। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও। 

 

বিশ্বের নিষিদ্ধ বই গুলোর মধ্যে প্রথমেই যার নাম করতে হয়, সেটা একটা কবিতার বই। 'লে ফ্ল্যুর দ্যু মাল' নামে এই কাব্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, কয়েকটি কবিতায় সমকামিতা এবং বিকৃত হিংস্রতা ও ধর্ষকামকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে যে মামলা দায়ের করা হয় তার ফলে কাব্যগ্রন্থটির ছয়টি কবিতাকে নিষিদ্ধ করা হয়। শুধু তাই নয় কবিকে জরিমানা ও দিতে হয়। কবি কে এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন, হ্যাঁ, ফরাসি কবি শার্ল বোদলেয়ার। ১৮৫২ সালে একশোটি কবিতা নিয়ে প্রথম প্রকাশিত হয় 'লে ফ্ল্যুর দ্যু মাল'। সেই বছরই আর্নেস্ট গিনার্দ নামে একজন ফরাসি উকিল কাব্যগ্রন্থটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এরপর ১৮৬১ সালে একশ উনত্রিশটি কবিতা নিয়ে ছাপা হয় ওই কাব্যগ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ, নিষিদ্ধ করা ছটি কবিতাকে বাদ দিয়েই প্রকাশিত হয়। ওই ছটি কবিতা নিয়ে ১৮৬৬ সালে বেলজিয়ামে প্রকাশিত হয় 'Les Epaves' নামে যদিও ১৮৬৫ সালে কবি চলে গেছেন পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে। বেলজিয়ামে প্রকাশিত এই সংস্করণটিও নিষিদ্ধ করা হয় ফরাসি দেশে, আর সেই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত। ১৮৬৮ সালে ‘লে ফ্ল্যুর দ্যু মাল’ এর তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় খোদ ফ্রান্সে কিন্তু ওই ছটি কবিতা বাদ দিয়েই। নিজের দেশেই ৯২ বছর নিষিদ্ধ হয়ে পড়েছিল 'শার্ল বোদলেয়ারের' অনবদ্য সৃষ্টি  ‘লে ফ্ল্যুর দ্যু মাল’। 

 এরপর বলতে হবে আশ্চর্য একটা উপন্যাসের কথা, যেটাকে অনেক সময় অনেক সাহিত্য সমালোচক এইচ. জি. ওয়ালসের 'মেন লাইক গডস' এর প্যারোডি বলেছেন। বইটি লেখা হয়েছিল ১৯৩১ সালে, লেখক অ্যালডাস হাক্সলি। আর বইটির নাম? বিশ্ববিখ্যাত বইটির নাম দিয়েছিলেন 'ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড'। কী এমন ছিল উপন্যাসটিতে? হাক্সলি তাঁর এই উপন্যাসের পটভূমিকা তৈরি করেছেন ২৫৪০ খৃষ্টাব্দের কোনও একটা সময়, স্থানটা লন্ডন। লন্ডন শহর যেন সমস্ত পৃথিবীর ছোট্ট একটা সংস্করণ, যেখানে বিরাজ করছে অনন্ত শান্তি। এই শান্তিময় বিশ্ব শাসন করছে একটাই মাত্র শাসনযন্ত্র। একটাই বিশ্বরাষ্ট্র সমস্ত পৃথিবীর দায় নিয়েছে ঘাড়ে। তখন জনসংখ্যা আজকের পৃথিবীর চেয়ে অনেক কম। ফলে এই সময়ে পৃথিবীর সিমীত জনসংখ্যা আর অফুরান সম্পদ, যেন স্বপ্নের পৃথিবী। কোনও মানুষের কোনও অভাব নেই। তবে এগুলো কোনো মহান বিশেষত্ব নয়, যেটা মূল উল্লেখযোগ্য বিষয় সেটা হল, মানুষ আর জন্মায় না ২৫৪০ এর পৃথিবীতে। মানুষ তৈরি হয়, কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থায় বিশাল সব হ্যাচারি আর কন্ডিশনিং সেন্টারে উৎপাদন করা হয় মানুষকে। এই ভাবে উৎপাদিত মানুষের আবার পাঁচটা ভাগ- আলফা, বিটা, গামা, ডেল্টা, এপসিলন। এদের মধ্যে আলফা, বিটা উচ্চ শ্রেণীর আর গামা, ডেল্টা, এপসিলন অন্ত্যজ। এই পৃথিবীতে আলফা বিটা উন্নত মানের, এদের সংখ্যা ও একটা দুটো, সেখানে নীচু মানের গামা ডেল্টা এপসিলন নিম্নমানের, মেধাহীন, গড়পড়তা এবং দুর্বল, তবে তাদের সংখ্যা অনেক। মানুষের জন্য যৌনতা শুধু মাত্র আনন্দ আর সুখ অনুভূতির ব্যাপার, প্রেম, বিয়ে, পরিবার -- এসবের বালাই নেই। আর যদি কেউ এই ধরনের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেটা শাস্তি যোগ্য অপরাধ হিসেবে গন্য হবে। বিশ্বরাষ্ট্রের বাঁধা নিয়মে মানুষ বাঁচবে কতদিন, সেটাও নির্ধারিত। ষাট বছরের বেশি বাঁচবে না কেউ। মৃত্যুর দিনক্ষণ যখন জানাই আছে, তখন মৃত্যু ভয়, মৃতের জন্য শোক -- এসবের বালাই নেই। এ যেন একটা সমাজ, যেখানে সবাই ইস্পাতের মন নিয়ে বেঁচে থাকে। এ যেন বিজ্ঞানর গর্বিত চোয়ালে সজোরে থাপ্পড় মারার চেষ্টা। ফলে বইটি ধর্ম আর পরিবার বিরোধিতার অভিযোগে প্রথম নিষিদ্ধ হল আয়ারল্যান্ডে, ১৯৩২ সালে। ১৯৬৫ সালে মেরিল্যান্ডে, ১৯৬৭ সালে ভারতবর্ষে নিষিদ্ধ হয়ে যায়। ভারতে বইটিকে 'পর্ণ সাহিত্যে'র বই বলে দেগে দেওয়া হয়। 

'কাঁদিদ' লেখা হয়েছিল ১৭৫৯ সালে। ভলতেয়ারের এই উপন্যাস দেখিয়ে দিতে চেয়েছিল কেমনভাবে অষ্টাদশ শতকের ফ্রান্স ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে, কেমন করে নষ্ট হয়ে যেতে বসেছে সমস্ত মূল্যবোধ আর সম্পর্ক গুলো। যুদ্ধ যেন ফ্রান্সের বুকের উপর চেপে বসা একটা ভোঁতা পেরেক। ওয়েস্টফেলিয়ার প্রাসাদে বালজার বাহিনীর তাণ্ডব, ব্যারন পরিবারের সবাইকে নির্মম ভাবে খুনের পাশাপাশি কাঁদিদের স্বপ্নের দেশ এলডোরাডো আর ব্যারনের মেয়ে কুনেগোঁদের সঙ্গে কাঁদিদের প্রেম, বিচ্ছেদ আবার মিলন পাঠকের চিন্তা চেতনা কেমন ঘুলিয়ে দেয়। ভলতেয়ার যেটা বলতে চেয়েছেন, অবাস্তব দর্শন আর উচ্চমাত্রার বৌদ্ধিক চিন্তা ব্যক্তি জীবনকে ছারখার করে দেয়, শান্তি-স্বস্তি-সুখ দেয় না। ১৭৫৯ সালে লেখা হলেও ভলতেয়ার নিজেই বইটির লেখক হিসেবে দায় নিতে প্রস্তুত ছিলেন না। ১৭৬৮ সালের শেষ দিকে তিনি 'ড: রালফ' ছদ্মনামে বইটির লেখক হিসেবে দায় নেন। এ বই যে নিষেধের বেড়াজালে আটকে যাবে তা তো খুব স্বাভাবিক। হলো ও তাই। জেনিভার 'গ্রেট কাউন্সিল' এবং পারি শহরের দণ্ডমুণ্ডের কর্তারা বইটা প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেটাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এছাড়াও ১৯২৯ সালে বোস্টনে মার্কিন শুল্ক বিভাগের এক অফিসার হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পাঠানো কাঁদিদের সব কটা কপি বাজেয়াপ্ত করেন। ১৯৪৪ সালে 'কনকর্ড বুকস'- এর তালিকা থেকে এই বইটার নাম বাদ দেওয়ার জোরালো দাবি ওঠে। 

এবার বলতে হবে জেমস জয়েসের 'ইউলিসিস'-- এর কথা। প্রায় আড়াই লাখ শব্দের একটা 'এপিক' এই ইউলিসিস, ১৯১৮ সালে মার্কিন পত্রিকা 'দ্য লিটল রিভিউ' তে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হতে থাকে। ১৯০৪ সালে ডাবলিনে লিওপোল্ড ব্লুমের কাটানো একটি দিন এই উপন্যাসের মেরুদণ্ড। অদ্ভুত চরিত্র এই লিওপোল্ড ব্লুম, ওই বছরের ১৬ই জুন তারিখে লিওপোল্ডের দিনযাপনের মত সামান্য একটা ঘটনা যার হাত ধরে হয়ে ওঠে বিশ্ববন্দিত এবং নিন্দিতও বটে। এই এপিকটা ১৯২২ সালে পারি শহরে প্রকাশক সিলভিয়া বিচের হাত ধরে প্রথম বই আকারে প্রকাশিত হয়। তবে ঝামেলাটা বেঁধেছিল ১৯২০ সালে যখন লিটল রিভিউতে এই এপিকের 'Nausicaa' অধ্যায়টা প্রকাশিত হয়। মামলা রুজু হয়েছিল লিটল রিভিউয়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল অশ্লীলতার। ১৯৩০ সাল পর্যন্ত ইউলিসিস ব্রিটেনে সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ ছিল। ১৯২১ সালে একটি ট্রায়াল কোর্টের বিচারে 'ইউলিসিস' এবং 'দ্য লিটল রিভিউ' পত্রিকা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। তবে লেখক জেমস জয়েসের নিজের দেশ, আয়ারল্যান্ডে ইউলিসিস কখনো নিষিদ্ধ হয়নি। 

২০২২ সালের ১২ই আগস্ট নিউইয়র্কের ছাউতাউকুয়াতে একটা ভয়ানক ঘটনা ঘটে গেল। বিশ্ববিখ্যাত লেখক সলমন রুশদি ছাউতাউকুয়া ইনস্টিটিউটে বক্তৃতা দিতে উঠে আক্রান্ত হলেন। চব্বিশ বছরের এক যুবকের ছোরার মুহুর্মুহু আঘাতে প্রায় মৃত্যুর মুখে পৌঁছে গেলেন। একটা চোখ নষ্ট হয়ে গেল তাঁর। অপরাধ? অপরাধ অন্য কিছু নয়, ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত উপন্যাস 'দ্য স্যাটানিক ভার্সেস' -- লেখাটাই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় অপরাধ। জিব্রাইল ফরিস্তা আর সালাদিন শামশা -- 'স্যাটানিক ভার্সেস'-এর দুই অন্যতম চরিত্র। উপন্যাসটি মুসলিম মৌলবাদী শক্তির কোপে পড়ে। ১৯৮৮ সালে ইংল্যান্ডে বইটি প্রকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধীতার সম্মুখীন হয়। বইটির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, উপন্যাসটি পশ্চিমি দুনিয়ায় মুসলিম বিরোধী সাহিত্যের অনুসরণে লেখা আর এতে মহম্মদকে যেন গণিকালয়ের দালাল হিসেবে দেখানো হয়েছে। আরো অভিযোগ, বইটি ইতিহাসের কোনও তথ্য-তত্ত্ব মেনে লেখা হয় নি। 

'স্যাটানিক ভার্সেস' প্রকাশিত হবার শুরু থেকেই বিতর্ক এর পিছু ছাড়েনি। যে বছর বইটি প্রকাশিত হয়, সেই বছরই খুশবন্ত সিং, 'ইলাস্ট্রেটেড উইকলি' পত্রিকায় বইটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার প্রস্তাব দেন। ভারত সরকার বইটির আমদানির উপরেও  নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ওই বছরেই নভেম্বর মাসে বইটি দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, বাংলাদেশ, মিশর, সোমালিয়া, মালেশিয়া, কাতার প্রভৃতি দেশেও নিষিদ্ধ হয়ে যায় বইটি। এই বছরেই ব্রিটেনে সাত হাজার মুসলিম এই বইয়ের অনেক কপি পুড়িয়ে দেয়। এই বিতর্ক ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে পরের বছর, ১২ই ফেব্রুয়ারি হাজার দশেক বিক্ষুব্ধ পাকিস্তানের জনগণ ইসলামাবাদের আমেরিকান কালচারাল সেন্টার আক্রমণ করে। জম্মু কাশ্মীরেও বিক্ষোভ দাঙ্গা শুরু হয়। শ্রীনগরে রুশদি বিরোধী দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এই বছরেই ১৪ই ফেব্রুয়ারি ইরানের আয়াতুল্লাহ খোমেইনি স্যাটানিক ভার্সেসকে নিষিদ্ধ এবং এর সঙ্গে যুক্ত সমস্ত মানুষের মৃত্যুদণ্ড দাবী করেন। সলমন রুশদি কে হত্যা করার জন্য ঘোষনা করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা। এমনকি এই উপন্যাসের জাপানি অনুবাদক হিতোশি ইগারেশিকে ১৯৯১ সালে খুন করা হয় এই অনুবাদ কাজের জন্য। 

আরও কিছু উল্লেখযোগ্য নিষিদ্ধ সাহিত্য:

  

লোলিটা 

রুশ-মার্কিন বংশোদ্ভূত লেখক ভ্লাদিমির নাবোকভের লেখা ‘লোলিতা’ বা 'লোলিটা' উপন্যাসটি 'লোলিটা-- আমার আলো আমার অন্ধকার আমার কামনা আমার বাসনা আমার পাপ আমার আত্মা।' এরকম গভীর কামনায় দগ্ধ উচ্চারণে শুরু হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই এই উপন্যাসটি অশ্লীলতার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিল। মধ্যবয়স্ক এক ব্যক্তি, হামবার্ট  আর তার ১২ বছরের সৎমেয়ের অসম সম্পর্ক এই উপন্যাসের মূল কথা। হামবার্টের নিজের সঙ্গে নিজের কথা, সলিলকি এই উপন্যাসের চলন বলন, যৌন সম্পর্কের চেনা নিয়ম কানুন ভেঙে একটা বেপরোয়া, দুঃসাহসিক এবং অনৈতিক স্পর্ধা এই উপন্যাসের উপজীব্য। 

১৯৫৫ সালে উপন্যাসটি প্রথম প্যারিসে প্রকাশিত হয়। রুশ ভাষী নভোকভের ইংরেজি ভাষায় লেখা উপন্যাসটি প্রথম নিষিদ্ধ হয় ফ্রান্সেই। এছাড়াও যুক্তরাজ্য,আর্জেন্টিনা, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকায় বইটি অশ্লীলতার অভিযোগে নিষিদ্ধ করা হয়। ১৯৫৮ সালে কানাডায়ও এই উপন্যাসের ওপর নিষেধাজ্ঞার কোপ নেমে এসেছিল, পরে অবশ্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। 

 

আঙ্কল টম'স কেবিন

হ্যারিয়েট বিচার স্টোর লেখা এই উপন্যাসটি ক্রীতদাস ক্রীতদাসীদের জীবনের গাঢ় কালো অন্ধকারটাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছিল। উপন্যাসে বলা হয়েছে, ' ওরা এক ধরনের জন্তু-- শুধু ওদের লেজ থাকে না এই যা তফাত।' ওরা তাই ক্রীতদাস। মূল চরিত্র আঙ্কল টম একজন কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাস। এই উপন্যাসের পরতে পরতে দেখানো হয়েছে কালো মানুষের দাসত্বের শৃঙ্খল, বর্ণবৈষম্যের কষাঘাত, টাকার বিনিময়ে মানুষের জীবন কেমন করে জন্তুদের চেয়েও খারাপ হয়ে যেতে পারে আর কৃষ্ণাঙ্গদের উপর শ্বেতাঙ্গদের নির্মম নির্যাতনের বাস্তব ছবি। ১৮৫২ সালের ২০ মার্চ প্রকাশিত হয় বইটি, প্রচুর বিক্রি হলেও বিতর্ক পিছু ছাড়ে নি। দক্ষিণ আমেরিকার অনেক অঞ্চলে নিষিদ্ধ হয়ে যায় বইটি। এমনকি রাশিয়াতে ও নিষেধের খড়্গ নেমে এসেছিল এই উপন্যাসের উপর। অনেক পরে, ১৯৮৪ সালে 'ইলিয়নয় স্কুল ডিস্ট্রিক্ট' এই বইটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। 

 

আনন্দমঠ 

১৭৭১ সালের সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে লেখা এই উপন্যাসটিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যে তীব্র জাতীয়তাবাদী ভাবধারার প্লাবন এঁকে দিয়েছিলেন, তা যেমন ভারতীয়দের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছিল, ঠিক তেমনি বিতর্ক ও হয়েছিল যথেষ্ট। বঙ্কিমচন্দ্র সরকারি চাকরি করতেন তাই তিনি সরকারের কোপেও পড়েন। সেইভাবে একেবারে নিষিদ্ধ না হলেও বইটিকে বারবার ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়তে হয়েছিল। 

 

প্রলয় শিখা

কাজী নজরুল ইসলামের এই গ্রন্থটি ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪-এ এবং ১৫৩ ধারা অনুযায়ী ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে বাজেয়াপ্ত ও নিষিদ্ধ হয়। কবির ছ'মাস কারাদণ্ড হয়। তবে গান্ধী-আরউইন চুক্তির ফলে সরকার মামলা প্রত্যাহার করে নেয়, তাই নজরুলকে সে যাত্রা কারাভোগ করতে হয় নি। তবে এই প্রসঙ্গে জেনে রাখা ভাল, নজরুল ইসলামের মোট পাঁচটি বই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, প্রলয় শিখা ছাড়াও অগ্নিবীণা, যুগবাণী(১৯২২), বিষের বাঁশি (১৯২৪), ভাঙার গান(১৯২৪) অন্যতম। 

 

অ্যানিমেল ফার্ম

ব্রিটিশ লেখক জর্জ অরওয়েল লিখে গিয়েছিলেন ভবিষ্যতে এমন ‘বিগ ব্রাদার’রা পৃথিবী শাসন করবেন, যারা ‘থট পুলিশ’ বা চিন্তার পুলিশ দিয়ে মানুষের ইচ্ছা আর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কেড়ে নেবেন। এই লেখকের রাশিয়ার স্টালিন যুগের ভয়াবহতাকে তুলে ধরা বই ‘অ্যানিমেল ফার্ম’ও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ হয়েছিল। ‘অ্যানিমেল ফার্ম’ ১৯৪৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। তবে বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্কের জন্য যুক্তরাজ্যে বইটির প্রকাশে সাময়িক বিলম্ব ঘটে। জর্জ অরওয়েল নিজে সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। কিন্তু তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে জোসেফ স্তালিনের শাসনের সমালোচক ছিলেন তিনি। প্রকারান্তরে স্তালিনের মতবাদের বিরোধিতা করা হয়েছিল ‘অ্যানিমেল ফার্ম’ উপন্যাসটিতে। ওই সময় জার্মানিতে বইটি বাজেয়াপ্ত করেছিল মিত্র বাহিনী। ১৯৪৬ সালে যুগোস্লাভিয়ায় বইটি নিষিদ্ধ করা হয়। ১৯৯১ সালে বইটি নিষিদ্ধ হয় কেনিয়ায়। একবিংশ শতাব্দীতেও নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পারেনি ‘অ্যানিমেল ফার্ম’। ২০০২ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বইটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

 

ট্রপিক অফ ক্যানসার 

হেনরি মিলারের বইটি ১৯৩৪ সালে ফ্রান্সে প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সেই সময় বইটির বিরুদ্ধে মিসোজিনি অর্থাৎ নারীর প্রতি বিদ্বেষ, এবং যৌনতা বিষয়ক উপাদান বেশি থাকার অভিযোগ উঠেছিল। এরপর ১৯৫১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বইটি প্রকাশের সময়ও অশ্লীলতার অভিযোগে কয়েকটি মামলা হয়। পরে অবশ্য সেই অভিযোগ থেকে মুক্তি দেন একটি আদালত। 

 

লজ্জা

তসলিমা নাসরিন সারা বিশ্বে এক চরম বিতর্কিত লেখিকা। ভারতবর্ষে বাবরি মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে একটি হিন্দু পরিবারের ওপর মুসলমানদের অত্যাচার ও সে সময়কার পরিস্থিতির ওপরে ভিত্তি করে লেখা উপন্যাস 'লজ্জা' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯৩ সালে, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে সেরা সাতটি নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকার প্রথমেই রয়েছে তসলিমা নাসরিনের এই বই 'লজ্জা'। তসলিমা নাসরিন এই বইটির জন্য ইউরোপীয় পার্লামেন্টে মুক্তচিন্তা বিভাগে শাখরভ পুরষ্কার পেয়েছেন। লেখিকা আজো নিজের দেশ বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত।

 

অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’। এরিখ মারিয়া রেমার্কের এই বই ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান সেনারা যে প্রচণ্ড শারীরিক ও মানসিক চাপ সহ্য করে যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন, সেই বিষয়কে উপজীব্য করেই উপন্যাসটি রচিত। তবে উপন্যাসটি পড়ে ভালো লাগেনি রেমার্কের নিজের দেশের নাৎসি নেতাদের। তাঁরা ভেবেছিলেন, বইটি বেশি মানুষের হাতে গেলে দলের প্রচার কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ওই সময় জার্মানিজুড়ে বইটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

 

আমেরিকান সাইকো

আটের দশকের শেষের দিকের ম্যানহাটান শহর। বছর তিরিশের প্যাট্রিক বেটম্যান সমস্ত দিন কাটায় নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটের কোটিপতিদের সঙ্গে ওঠাবসায়, উদ্দাম জীবনের আলোয় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় তার ব্যস্ত কর্মদিবস, সে যে একজন ব্যাঙ্কার। এই মানুষটাই রাতের অন্ধকারে হয়ে ওঠে রহস্যময়, নির্মম খুনি যে কিনা বলে, 'যখন আমি একটা সুন্দরী মেয়েকে দেখি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে তখন আমার মনে দু'রকম ভাবনা ছায়া ফেলে যায়। এক মন বলে ওর হাত ধরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরি আর খুব মিষ্টি করে কথা বলি ওর সঙ্গে। আমার ব্যবহারে ওর যেন তাক লেগে যায়। .. অন্য মন বলে ' একটা সরু কাঠির মাথায় মেয়েটার কাটা মাথাটা টাঙিয়ে একবার দেখতে ইচ্ছা করে যে সেটা দেখতে ঠিক কেমন লাগে।' ধীরে ধীরে এই প্যাট্রিক বেটম্যান হয়ে ওঠে অত্যাচারী, ধর্ষক, এমনকি নরমাংসভোজী। ব্রেট ইস্টন এলিসের এই উপন্যাসটি ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত জার্মানিতে নিষিদ্ধ ছিল। এর আগে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই বইটাকে নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড প্রভৃতি দেশে এই উপন্যাসেটিকে কেবল মাত্র আঠারো বছরের উপরে যাদের বয়স তাদের জন্য ছাড় দেওয়া হয়। 

এছাড়াও অনেক বই বিশ্বজুড়ে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে, নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে কবিতা, ছবি, সিনেমার ওপরেও। ভারতে হাংরি জেনারেশনের কবি মলয় রায়চৌধুরী, প্রদীপ চৌধুরী, সুভাষ ঘোষ এবং সমীর রায়চৌধুরী কবিতা লিখে গ্রেপ্তার হন, বিখ্যাত সাহিত্যিক ডি এইচ লরেন্স 'রেপ অব দি সাবাইন উইমেন' নামে একটি ছবি এঁকে গ্রেপ্তার হন। বুদ্ধদেব বসুর 'রাত ভ'রে বৃষ্টি', সমরেশ বসুর 'প্রজাপতি', শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী', ড্যান ব্রাউনের 'দ্য ভিঞ্চি কোড', কবি সিলভিয়া প্লাথের আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস 'দ্য বেল জার', নাদিন গার্ডিমারের 'বার্গারস ডটার', অ্যালেন গিন্সবার্গ-এর 'দ্য হাউল', অরুন্ধতী রয়ের 'গড অফ স্মল থিংস', ফ্রাঞ্জ কাফকার 'দ্য মেটামরফসিস' -- এরকম অজস্র উদাহরণ ছড়িয়ে আছে পৃথিবী জুড়ে। তবে নিষিদ্ধ করে সাহিত্যের বা শিল্পের তেমন কিছু ক্ষতি সাধন করা গেছে বলে মনে হয় না।

 

মুদ্রিত সংখ্যার প্রচ্ছদ


মুদ্রিত সংখ্যা সংগ্রহ বিষয়ক জরুরি কথা

নবপ্রভাত ব্লগজিনের ৬৮তম সংখ্যা (কার্তিক ১৪৩০ অক্টোবর ২০২৩) প্রকাশিত হল। কথামতো এই সংখ্যাটি বই (মুদ্রিত পত্রিকা) আকারে একটি প্রকাশনী থেকেও প্রকাশিত হল। ফন্ট একটু ছোট রেখে সাড়ে আট ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। মুল্য ১৭৫ টাকা। তবে আমরা একটা কোড দিচ্ছি ( কোড: NABAPRAVAT30 )। এটা অর্ডার ফাইনাল করার সময় ব্যবহার করলে ১৪৯ টাকায় বইটি পাওয়া যাবে। অর্ডার করলে বাড়িতে বসেই পেয়ে যাবেন।  (একটি সংখ্যার জন্য ডেলিভারি চার্জ নেবে ৫০ টাকা। একাধিক নিলে ডেলিভারি চার্জ অনেকটাই কমবে। এটা প্রকাশনা সংস্থার নিজস্ব নিয়ম।)  কোড ব্যবহার করলে ১৯৯ টাকায় (ডেলিভারি চার্জসহ) বইটি পেয়ে যাবেন।  আগ্রহীরা সংগ্রহ করতে পারেন। 

যাঁরা অনলাইন অর্ডারে স্বচ্ছন্দ নন, অথবা, অনলাইনকে বিশ্বাস না করে আমাদের থেকে পত্রিকা সংগ্রহ করতে চান তাঁরা শুধু মুদ্রিত মূল্য ১৭৫ টাকা আমাদের পাঠাতে পারেন। আমরা দায়িত্ব নিয়ে আপনার ঠিকানায় বইটি পাঠিয়ে দেব। হাতে হাতে নেওয়া সম্ভব হলে ১৫০ টাকা পাঠালেই হবে। আমরা আনিয়ে দেব।

 আমাদের গুগুল পে / ফোন পে নম্বর ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬।  প্রয়োজনবোধে এই নম্বরে স্বচ্ছন্দে call বা whatsapp করতে পারেন।

মুদ্রিত সংখ্যা অর্ডার করার লিঙ্ক:  

https://notionpress.com/read/nabapravat-utsab-2023

 

==================

 

এই মুদ্রিত সংখ্যাটি প্রকাশনা সংস্থা থেকে eBOOK আকারে সামান্য মুল্যে সংগ্রহ করতে চাইলে, নিম্নলিখিত লিঙ্কে ক্লিক করে অর্ডার করতে পারেন



 

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

নিঃশব্দ বন্ধুত্ব ।। সুচন্দ্রা বসু

  নিঃশব্দ বন্ধুত্ব সুচন্দ্রা বসু  মেঘলা সকালে জঙ্গল যেন নতুন করে জীবন্ত হয়ে ওঠে। পাখির কিচিরমিচির, পাতার উপর শিশিরের ঝরঝরে শব্দ, দূরে নদীর স্রোতের খশখশ ধ্বনি—সবই মিলে তৈরি করছে এক ধীর, স্বপ্নের মতো পরিবেশ।  নন্দিনী এক বছর ধরে এই জঙ্গলে বসবাস করছেন, শুধু একটি ছোট তাঁবু, কিছু খাতা আর ক্যামেরা নিয়ে। প্রতিদিন সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তিনি বসে থাকতেন—চুপচাপ, গরিলাদের দিকে তাকিয়ে। নন্দিনী লিখে রাখতেন—গরিলাদের দোলন, হাস্যোজ্জ্বল খেলা, সন্তানদের যত্ন, এবং দলীয় প্রধানের হঠাৎ রাগ। তিনি লক্ষ্য করতেন, তারা মানুষের উপস্থিতিতে মোটেও আতঙ্কিত নয়, বরং কৌতূহল প্রকাশ করে। তার লক্ষ্য ছিল ধীরে ধীরে এই গরিলাদের বিশ্বাস অর্জন করা। তিনি জানতেন, প্রকৃতির নিয়মে বন্ধুত্ব সময় নেয়। দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল। কখনও কখনও গরিলারা তাঁকে দেখে থমকে যেত, আবার তাদের কাজে ফিরে যেত। তিনি জানতেন—তাদের মধ্যে কিছুটা আস্থা তৈরি হয়েছে। সিলভারব্যাক রূপালি-রঙের পুরুষ গরিলার দিকে তাঁর নজর সবচেয়ে বেশি থাকত। রূপালি শক্তিশালী, গরিলাদের নেতা। মাঝে মাঝে তার চোখে অদ্ভুত এক কৌতূহল দেখা যেত। নন্দিনী লিখে রাখতেন— "রূপালি আজ চারপ...

প্রবন্ধ ।। বিপন্ন মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি ।। শ্যামল হুদাতী

বিপন্ন মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি শ্যামল হুদাতী  বাংলা ভাষা বাঙালিদের মাতৃভাষা। পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষা সরকারি ভাষা। মোট ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনুসারে, বাংলা ভাষা বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম ভাষা। মাতৃভাষীর সংখ্যা অনুসারে, বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের পঞ্চম স্থানে রয়েছে।  বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। বাংলা ভাষার উৎপত্তি দশম শতাব্দীতে। বাংলা একটি ধ্রুপদী ইন্দো-আর্য ভাষা। বাংলা ভাষার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই যে খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দ থেকে বাংলায় হিন্দু ব্রাহ্মণগণ সংস্কৃত ভাষার চর্চা করত, কিন্তু স্থানীয় বৌদ্ধরা প্রাকৃত ভাষার কোনো কোনো রূপে কথা বলত। গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময়, বাংলা ছিল হিন্দু যাজক বা পুরোহিতদের জন্য সংস্কৃত সাহিত্যের একটি কেন্দ্র, যা স্থানীয়দের কথ্য ভাষাকে প্রভাবিত করে।‌ প্রথম সহস্রাব্দে বাংলা যখন মগধ রাজ্যের একটি অংশ ছিল তখন মধ্য ইন্দো-আর্য উপ ভাষাগুলি বাংলায় প্রভাবশালী ছিল।  বাংলা ভাষার উৎপত্তি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশ থেকে। সংস্কৃতকে বাংলা ভাষার জননী বলা হয়।  বাংলা বর্ণমালার উৎপত্তি ব্রাহ্মী লিপির পরিবর্...

মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ

  বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক গল্প মাটি , বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান দিব্যেন্দু ঘোষ বাঁকুড়ার একেবারে শেষ প্রান্তের গ্রাম খয়েরবনি। চৈত্রের দুপুরে গ্রামটাকে দেখলে মনে হয় যেন কোনও রাক্ষস তার সর্বস্ব শুষে নিয়ে ছিবড়ে করে ফেলে রেখে গেছে। মাঠের পর মাঠ ফুটিফাটা , ধানের গোলাগুলো খাঁ খাঁ করছে। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সরু নদীটা কবেই শুকিয়ে কাঠ , সেখানে এখন শুধু বালি আর নুড়িপাথরের কঙ্কাল। এই প্রবল খরা আর খিদের জ্বালা, এ দুইয়ের সঙ্গেই খয়েরবনি গ্রামের মানুষের নাড়ির টান। এখানে জীবন মানে প্রতিদিনের ক্লান্তিহীন যুদ্ধ , যেখানে জেতার কোনও আশা নেই , শুধু টিকে থাকাটাই একমাত্র লক্ষ্য । গ্রামের একেবারে শেষ মাথায় বুড়ো শিবতলার প্রাচীন নাটমন্দির। সেটারও ভগ্নদশা , পলেস্তারা খসে গিয়ে ভিতরের নগ্ন ইটগুলো বেরিয়ে পড়েছে। নাটমন্দিরের এক কোণে বসেছিল রতন। ওর বয়স পঁচিশ কি ছাব্বিশ হবে , কিন্তু অভাব আর রোদের তাপে চামড়া পুড়ে গিয়ে ওকে আরও অন্তত দশ বছরের বড় দেখায়। পরনে শতচ্ছিন্ন ফতুয়া , চোখের নীচে গভীর কালি , বুকের পাঁজরগুলো গোনা যায় । আর মাত্র দু ' দিন পরেই গাজন। গ্রামের প্রা...

ছড়া ।। লিচু ।। আনন্দ বক্সী

লিচু  আনন্দ বক্সী 'গোয়াঙডঙ প্রদেশ' জায়গাটি চিনে  শুরু হয় চাষ এর অতীতের দিনে। টক আর মিষ্টিতে মজাদার খেতে  ছোটো-বড় সকলেই চায় স্বাদ পেতে। আকারে লম্বা-গোল ছোটো ছোটো ফল  থোকা থোকা ঝুলে থাকে গাছে অবিরল।  ছূঁচালো অগ্রভাগে খসখসে দেহ  কাঁচায় সবুজ ত্বক নেই সন্দেহ।  পাকলে গোলাপি লাল বাইরের ছাল  ভিতরের অংশটা সাদা চিরকাল।  আঁটিটা শক্ত খুব পয়জনে ভরা  বাদামি রঙেই এর দেহখানি গড়া। গ্রীষ্মের ফল এটি ভরপুর রসে  স্বাদ এর মনটাকে করে নেয় বশে। ভেবে বলো এর নাম পেলে নাকি কিছু? ঠিকই চিনেছ একে ফলটি যে লিচু। খোসাটা ছাড়িয়ে খাও কাঁচা হোক পাকা  স্যালাড-মিষ্টি-জুসে পাবে এর দেখা। শর্করা-চিনি-জল নেই এতে কম  ভিটামিন-ফাইবারে ভরা একদম। খনিজের আছে স্থান এই ফল মাঝে  শরীরের উপকারে লাগে যেটা কাজে। লোহিত কণিকা গড়ে আমাদের দেহে  হার্টকে সুস্থ রাখে অপরূপ স্নেহে। দেহ-ত্বকে ধরে রাখে এর যে সতেজতা  ওজনটা কমাতেও করে সহায়তা। রক্তচাপকে করে করতলগত  মধুমেহ রোগ এর হয় অনুগত। বশে রাখে লিচু শুনি বাত-হাঁপানিকে নানা কাজে প্রয়োজন এই ফলটিকে। খালি পেট...

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার কবিতা ।। সবিতা রায় বিশ্বাস

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান—          সুখের ঘড়             সবিতা রায় বিশ্বাস বড় আশা আঁচিল তোয়ারে লয় বান্দুম সুখের ঘড় আশায় আনছিল হাট্টল পাকা খাওয়াইমু হায়! হায়! ঘরের গরু ঘাড়ার খের না হয় সুখের বদলে কেন দুক্কু দিলা ভালবাসার দাম ন দিলা হায়রে! মিড়ের লাভ পিড়েয় খায় ভালবাসার দাম ন দিলা   হারাপ মানুষ প্রেম নদী -তে টানত আরে কেন ফেলায় গেলা ? মোরে বিষ হাওয়াইলা, ভালবাসার দাম ন দিলা হায়রে! সুখের বদলে দুক্কু দিলা এ কাজ ভালো করলা না   এ কি কাজ করিলা? আরে কেন মোরে প্রেম নদীতে ফেলাই গিলা ? বুঝিলাম হাইল্লে ঠিল্লা বাজে বেশি সুখের বদলে দুক্কু দিলা ভালবাসার দাম ন দিলা কেন ভুল বুজিলা ভালবাসার দাম ন দিলা আঁই অন থাইক্কুম হারে লই ? হৃদয় আছে যার থুন , হিতিই তো ভালোবাসে পরাণবন্ধুর হৃদয় নাই , ভালবাসার দাম ন দিলা|                    ...

লোকজ সুর থেকে আধুনিক নাগরিক কবিতা : আজিজুর রহমানের সৃজনযাত্রা ।। উৎপল সরকার

👆আজিজুর রহমান  লোকজ সুর থেকে আধুনিক নাগরিক কবিতা : আজিজুর রহমানের সৃজনযাত্রা উৎপল সরকার বাংলা গান ও কবিতার ইতিহাসে আজিজুর রহমান এমন এক নাম , যিনি লোকজ অনুভব , নাগরিক যন্ত্রণা এবং মানবিক বোধকে একই সুরে বেঁধেছিলেন। তাঁর লেখা গান কিংবা কবিতায় বারবার ফিরে আসে মানুষ , সমাজ ও জীবনের অন্তর্গত টানাপোড়েন। সহজ ভাষা , গভীর জীবনবোধ আর অন্তর থেকে উঠে আসা সুর — এই ছিল তাঁর শিল্পীসত্তার মূল পরিচয়। ১৯১৭ সালের ১৮ অক্টোবর তৎকালীন পূর্ববঙ্গের নদীয়া জেলার (বর্তমান বাংলাদেশ) কুষ্টিয়া থানার হাটশ হরিপুর গ্রামে এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আজিজুর রহমান। পিতা বশির উদ্দিন প্রামানিক ও মাতা সবুরুন নেছা। শৈশবেই পিতৃহারা হওয়ার ফলে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হয়। তবে সেই অভাবই তাঁকে জীবনের অন্য এক পাঠশালায় নিয়ে যায় — লোকজ যাত্রা , নাটক ও গ্রামীণ সংস্কৃতির জগতে। শৈশব ও কৈশোরে স্থানীয় যাত্রা ও নাট্যদলে যুক্ত হয়ে আজিজুর রহমান অভিনয় , গান ও মঞ্চভাষার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হন। কুষ্টিয়ায় তিনি নিজ উদ্যোগে একটি নাট্যদল গঠন করেন এবং শিলাইদহের ঠাকুরবাড়িতে নাটক মঞ্চস্থ করেন। রবীন্দ্র...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

ছড়া ।। লিচু ।। আনন্দ বক্সী

লিচু  আনন্দ বক্সী 'গোয়াঙডঙ প্রদেশ' জায়গাটি চিনে  শুরু হয় চাষ এর অতীতের দিনে। টক আর মিষ্টিতে মজাদার খেতে  ছোটো-বড় সকলেই চায় স্বাদ পেতে। আকারে লম্বা-গোল ছোটো ছোটো ফল  থোকা থোকা ঝুলে থাকে গাছে অবিরল।  ছূঁচালো অগ্রভাগে খসখসে দেহ  কাঁচায় সবুজ ত্বক নেই সন্দেহ।  পাকলে গোলাপি লাল বাইরের ছাল  ভিতরের অংশটা সাদা চিরকাল।  আঁটিটা শক্ত খুব পয়জনে ভরা  বাদামি রঙেই এর দেহখানি গড়া। গ্রীষ্মের ফল এটি ভরপুর রসে  স্বাদ এর মনটাকে করে নেয় বশে। ভেবে বলো এর নাম পেলে নাকি কিছু? ঠিকই চিনেছ একে ফলটি যে লিচু। খোসাটা ছাড়িয়ে খাও কাঁচা হোক পাকা  স্যালাড-মিষ্টি-জুসে পাবে এর দেখা। শর্করা-চিনি-জল নেই এতে কম  ভিটামিন-ফাইবারে ভরা একদম। খনিজের আছে স্থান এই ফল মাঝে  শরীরের উপকারে লাগে যেটা কাজে। লোহিত কণিকা গড়ে আমাদের দেহে  হার্টকে সুস্থ রাখে অপরূপ স্নেহে। দেহ-ত্বকে ধরে রাখে এর যে সতেজতা  ওজনটা কমাতেও করে সহায়তা। রক্তচাপকে করে করতলগত  মধুমেহ রোগ এর হয় অনুগত। বশে রাখে লিচু শুনি বাত-হাঁপানিকে নানা কাজে প্রয়োজন এই ফলটিকে। খালি পেট...

সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বাঙালী ।। মো: বিপুল রহমান

  সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বাঙালী মো: বিপুল রহমান এক নীল আকাশের নীচে, স্বপ্নের ঝিলিক, মাটির গন্ধে মেশে হৃদয়ের টান, হিন্দু–মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, এক সুরে বাঁধা, এক প্রাণের সম্মিলন। দুর্গার দীপ্ত আলোয় জ্বলে উৎসবের রাগ, ঈদের চাঁদ ছড়ায় শান্তির অমৃত জ্যোৎস্না, বড়দিনের প্রার্থনা গায় কোমল সুরের ডাক, বুদ্ধ পূর্ণিমার প্রদীপে মুখরিত নীরব প্রভা— এক হৃদয়ে জাগে, এক দীপশিখার আলো। ভাষার তুফানে, স্বাধীনতার অগ্নিশপথে, কাঁধে কাঁধ মিলে দাঁড়ায় বাঙালী অটল, ভ্রাতৃত্বের মন্ত্রে জেগে ওঠে জাতির প্রাণ, এক স্বরে, এক ছন্দে-চির অম্লান। পাড়ার উঠোনে, ছায়ায়-আলোয়, হাসির রঙে, কান্নার সুরে, হাতে হাত গেঁথে ওঠে সেতু-অটুট, নির্মল, নাম তার সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বাঙালী। এই মাটির ধূলি, এই আকাশের নীল, হৃদয়ের গভীরে বাজে একতার সুরলীল, বাঙালী-তুই চির অখণ্ড, চির জাগ্রত, সম্প্রীতির কাব্যে লেখা, তুই চিরন্তন। উৎসর্গঃ এই কবিতা উৎসর্গ করছি সকল বাঙালীর প্রতি, যারা সময়ের সব বাঁধা-বিপত্তি, ভাষা, ধর্ম বা সংস্কৃতির ভেদাভেদ ভুলে একতার বন্ধন গড়ে তোলেন। যারা নিজেদের হৃদয়ে ভ্রাতৃত্বের দীপ জ্বালিয়ে রাখেন, আনন্দে ও দুঃখে পাশে থাকেন, উদযাপনে অংশ ...

দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় আধুলি ও কড়িতে কেনা নেই আমাকে আমার চেনা হয়নি জানা হয়নি ঘায়ের আকার ঠিক কতটা হলে সেলাই পড়ে নিজেকে দামি ভেবে গেছি রোজ... বার বার ভুলের পর,আজ যা পড়ে আছে তা কেবল আত্মশ্লাঘা এক জনমের সওদায় যাকে বিক্রি করা যাবে না তাই তো বুকে আগলে বসেছি আমার বিস্ফোরণ আর সেই ধ্বংসস্তূপে নুন ছিটিয়ে যাচ্ছে গোটা শহর। নিরালায় আছি মানচিত্রে আমাদের স্থান এক ও অনন্য অন্ধের দৃষ্টি খোঁজার মতো আমরাও আমাদের মৃত ভালোবাসাকে উস্কে দিই ব্রক্ষ্মাণ্ডে,তখন চাঁদটাও নগন্য লাগে যেন একটুকরো কালো পাথর আবার সময়ে সময়ে বেড়ালের ল্যাজ নাড়াটাও হয়ে ওঠে পৃথিবীর অন্যতম মনোরম দৃশ্য ওর ল্যাজে লেগে থাকা পিঁপড়েটা তখন আমি, ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ যেন প্রকৃতির বুকের এক টুকরো বিরহ। ....................... জয়িতা চট্টোপাধ্যায় শ্যামনগর উত্তর চব্বিশ পরগনা ভারত

অনুসরণ ।। সমীর মন্ডল

অনুসরণ সমীর মন্ডল অসীম কে কি মনে পড়ে? পড়ে! পড়ে! পড়ে! কাবেরীকে কি মনে পড়ে? পড়ে!পড়ে!পড়ে! অর্ধেক জীবন পার করেছো সঙ্গী অন্য কেউ জলের দরে সময় ফুরায়  নৌকা ভাসাও কই? মাঝে মাঝে দেখা হয় অল্প কথায় দাঁড়ি অনেক কিছু চাওয়ার থাকে গোপন ব্যথায় পাড়ি। পথের দেখা পথের মতোই হাতছানি দেয় দূরে যেখানে যাও, যেখানে থাকো গান বাঁধি সেই সুরে। ছিন্ন বীণায় ফুটেছে ফুল ভুলের কাঁটায় জীবন অভিসারে দিনগুলি যায় নিভৃতে অনুসরণ। ============= সমীর মন্ডল  শাঁকারীপাড়া, কাঞ্চননগর, পূর্ব বর্ধমান, পিন-৭১৩১০২