Skip to main content

Posts

Showing posts with the label ১১শ সংখ্যাঃ মাঘ ১৪২৫ জানুয়ারি ২০১৯

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র

  সূচিপত্র  ======== কবিতা/ছড়া: সুমন নস্কর রবিউল ইসলাম মন্ডল পল্লব দাস শুভাশিস দাশ   তপন কুমার মাজি সবিতা বিশ্বাস জয়ীতা চ্যাটার্জী স্বপন কুমার বিজলী রণবীর বন্দ্যোপাধ্যায় দীপঙ্কর নস্কর প্রণব কুমার চক্রবর্তী অমিত পাল পবিত্র রায় চৌধুরী সোমনাথ বেনিয়া তরুণ কুমার মাঝি চিরকুট অমৃতা বিশ্বাস সরকার তাপসী লাহা কান্তিলাল দাস মোনালিসা পাহাড়ী সম্পা পাল মুক্তগদ্য / স্মৃতিকথা / অণুগল্প : রণেশ রায় অ-নিরুদ্ধ সুব্রত রাণা চ্যাটার্জী বিদিশা দাস মৌমিতা ঘোষাল  অনুবাদ স্মৃতিকথা: চন্দন মিত্র সাধারণ বিভাগ কবিতাঃ টুম্পামিত্র সরকার শ্যা মাপদ মালাকার   সায়ন মোহন্ত সুনন্দ মন্ডল সন্দীপ পাল   দুলাল সুর রমেশ দাস অণুগল্প : তন্ময় সিংহ রায় গ্রন্থ আলোচনাঃ শর্মিষ্ঠা দেবনাথ    মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন

অনুবাদ স্মৃতিকথা: চন্দন মিত্র

                    জনৈকা মহিলার প্রতিকৃতি                                               খুশবন্ত সিং                               বাংলা তরজমাঃ চন্দন মিত্র  অন্যদের ঠাকুমার মতোই আমার ঠাকুমাও, ছিলেন বৃদ্ধা । কুড়ি বছর ধরেই তাঁকে লোলচর্ম বৃদ্ধা হিসাবেই দেখে আসছিলাম। লোকজন বলাবলি করতেন --- একদা তিনি ছিলেন তরুণী ও রূপবতী । তাঁর স্বামীও ছিল। কিন্তু তাঁদের কথা অবিশ্বাস্য মনে হত। আমাদের বসার ঘরের দেয়ালে বাতিদানের উপরে আমার ঠাকুরদার একটি প্রতিকৃতি ঝোলানো থাকত। তাঁর মাথায় বড় একটি পাগড়ি, পরনের পোশাক বেশ ঢিলেঢালা।  সাদা-দাড়ি তাঁর বুকের বেশিরভাগ অংশটাই ঢেকে রেখেছিল। তাঁকে কোনোভাবেই একশো বছরের কমবয়সী বলে মনে হত না। তাকে দেখে মনে হত না যে, তাঁর স্ত্রী বা পুত্র থাকতে পারে। মনে হত তিনি কেবল অগণিত নাতিপুতির ঠাকুরদাই হতে পারেন। আ...

অভিজ্ঞতাঃ রণেশ রায়

নতুন বছর, নতুন সূর্য রাত বারোটা। একবিংশ শতাব্দীর ১৮ পার হয়ে ১৯শে পদার্পন। পার্কস্ট্রিট থেকে পশ্চিমবঙ্গের আনাচে কানাচে নববর্ষ বরণ উৎসব। মদের ফোয়ারা। তার সঙ্গে বাজি। নব্য বাঙালির অভিনব সাজ। পার্কস্ট্রিটসহ শহরের সব হোটেলগুলোতে আলোর ঝলকানি। খাদ্যতালিকায় দেশবিদেশের বিভিন্ন ধরনের খাবারের উঁকি। রাস্তায় গাড়ি রাখার জায়গা নেই। শিশুদের কোলে নিয়ে বাবা মা যেমন উপস্থিত তেমনি যুবক যুবতীদের যুগল উপস্থিতি। আর শহরে পাড়াগুলো তাদের দখলে যাদের আর্থিক তেমন জোর নেই কিন্তু আছে বাড়ির সামনে পাঁচিলে বসে মজলিস গড়ে তোলার অদম্য উৎসাহ। আছে নববর্ষের হাতছানি। সেখানে চুল্লুর সমাহার। কোন এক পল্লীর এক বাড়ির দোতলায় নিজের ঘরে শুয়ে ঘুমোবার চেষ্টা শুভর। বয়স হয়েছে। এমনিতেই ঘুম আসে না। আসব আসব করেও চলে যায়। তার সঙ্গে বিছানায় শুয়ে লুকোচুরি। এর মধ্যে আজ বাজির শব্দ, রাতের নিশুতি ভেঙে কাদের বা কোলাহল। ঘরের বাইরে পাঁচিল ধরে কিছু কিশোর যুব। মুখে কথার ফোয়ারা। বাংলা ক খ গ শ ব ল  বর্ণের কথামালায় আকাশ বাতাস মুখরিত। ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়ে শুভর কানে মধুবর্ষন করছে । নীচে ওদের মজলিসে একে অপরের প্রতি হুমকি। কিছুক্ষন আলাপচারিতার...

মুক্ত গদ্য : অ-নিরুদ্ধ সুব্রত

রথ টানাটানি  ------------------ একটা বড়ো হাই তুলে শর্মিমালা ড্রইংরুমের দেয়াল থেকে আঠারোর ক্যালেন্ডারটা নামিয়ে দিলো। অফিস থেকে ফেরার সময় অনির্বান উনিশের একটা নতুন ক্যালেন্ডার এনেছে । কিন্তু হাতে নিয়ে দেয়ালে টানানোর মুহূর্তে শর্মিমালা গার্ডারটা খুলেই ঝাঁঝিয়ে উঠলো, 'ধ্যাৎ এ আবার কী ? শ্রীকৃষ্ণের রথযাত্রা ? এই সব ছবি এখন কেউ দেয়ালে টানায় নাকি অ্যাঁ ? ' মুখে বিরক্তি থাকলেও ছবিটা কিন্তু ড্রইংরুমের দেয়ালে রাখলো শর্মিমালা শেষ পর্যন্ত ।                   বাথরুম থেকে ফিরে অনির্বান দিনের ক্লান্তি নরম তোয়ালেতে মুছতে মুছতে শর্মিমালার বিরক্তির উত্তর না দিয়ে পারলো না, ' দ্যাখো মেলা ককিয়ো না, ফার্নিচারের দোকানের ছেলেটা ডেকে দিলে, তাই...। তাছাড়া রথযাত্রা যেন এযুগে এক্কেবারে অচল ! কেন এই যে সব এতো তক্কো বিতক্ক চলেছে, তুমি আছো কোন কালে ?' শর্মিমালা দিন দিন ধ্যাতরা হয়ে যাওয়া এই পঁয়তাল্লিশের লোকটার ক্লিশে কথায় তেমন গুরুত্ব দেয় না।বরং 'ভ্রমর কইয়ো শ্রীকৃষ্ণ-বিচ্ছেদের অনলে' গানের লাইনে হালকা সুর চড়িয়ে এক কাপ গরম কফি এনে সামনের টি টেবিলে রাখে...

বিদিশা দাসের মুক্তগদ্য

আমি, তুমি ও প্রতিশ্রুতি  *** যাই বলেই চলে গেল যে বছরটা,তার নাম দিতেই পারি প্রতিশ্রুতি...  হাজার একটা বিষাদ বয়ে এনেছিল অথচ অবিশ্রান্ত স্বপ্ন বুনে একটা কুসুম রঙা আকাশ সাজিয়ে ছিল... এটা, সেটা অনেক অনেক আকাশ কুসুম স্বপ্ন আঁকা ক্যানভাস ফিকে হয়...সম্পর্ক বাজতে থাকে,সাজতে থাকে নতুন দোলাচলে, আমি, তুমি ও আমাদের নতুন অসুখ... দূরে কোথাও গীর্জায় ঘন্টা বাজে,দীর্ঘতর হতে থাকে মনবাসার বাহানারা, যা কিছু সম্বল যা কিছুই আছে তার সব,সবটুকুই দিয়ে যাব চরণের নখে...কিছু নিঃস্বতা বড় মধুর বড় কাম্য গোটা জীবন ভোর। কিছু তো দিতেই হয় ! এই যে নদীর মতো প্রবহমান মুহূর্তরা আলো আনে,ভালো আনে, অনেকটা অভিমানও আনে আর উজাড় করে দিয়ে যায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়াজড়ি নিঃসঙ্গতার বন্দিশ... একা আমি,একা তুমিও আর সেইসব প্রতিশ্রুতিরাও... মেপেল পাতার নকশা আঁকা পশমিনা চাই নে,চাই নে জড়োয়ার কৃষ্ণকান্তা ঝুমকো, কৃষ্ণচূড়ায় রাঙিয়ে দেওয়া একপলা তীব্র বিকেল চাই... দিও নাহয় আগামী বছরের দিনে একটুখানি নিজস্ব সময়, আমার জন্য, শুধুই আমার জন্যে...  ================================ বিদিশা দাস বারাসাত

মৌমিতা ঘোষালের অণুগল্প

            স্বপ্নেরা ম্যাগাজিন কভারে মেয়ের উজ্জ্বল মুখখানি দেখিয়ে হলে জমা সান্ধ্যআড্ডায় গর্বের বিচ্ছুরন ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন প্রকাশবাবু। মেয়ে তার নামকরা মডেল।আনন্দে আটখানা বাবার উচ্ছাসিত  বাণী রান্নাঘর থেকে শুনতে পাচ্ছিলেন প্রতিমাদেবী এবং তার সনামধন্যা কন্যা রনিতা। _দেখেছিস, বলেছিলাম না তোর বাবা একদিন ঠিক মেনেই নেবে। গর্ব হয় তোর বাবার, বুঝলি? _তুমি না থাকলে তা কি সম্ভব ছিল মা?  _ধুস। তোর এটা পাওনা ছিল। পরিশ্রম কম করেছিস! স্বপ্ন ছিল তোর।  _স্বপ্ন আমি দেখেছিলাম, কিন্তু সেই স্বপ্নের জীবন। বাবা তো আগেই না বলে দিয়েছিল।  _তোকে সেদিন তোর বাবার সাথে ঝামেলা করতে দেখে মনে হয়েছিল নিজের কথা। আমিও স্বপ্নের জন্য লড়াই করেছিলাম। কিন্তু পারিনি। তাই তোকে হারতে দিতে চাইনি।  _তোমার ভয় হয়নি মা?  _হ্যাঁ, হয়েছিল। ভেবেছিলাম তুই ভুল করছিস না তো! তোর জীবনটা নষ্ট হয়ে গেলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারব কোনোদিন! কিন্তু তোর উপর বিশ্বাস ছিল। আসলে কি জানিস তো স্বপ্নেরা শুধু রূপ বদলায়, আমার স্বপ্ন কবে তোর চোখে রং দিয়েছে আমিও জ...

স্মৃতি কথা: রাণা চ্যাটার্জী

"টুকরো স্মৃতি-শৈশব" স্মৃতি কথা বললে পরে , কতো যে কথা মনে পড়ে ! সুখ,দুঃখ আনন্দ ভারে , কোনটা বলি ,কোনটা পরে ! ভাবছি সেটাই দুদিন ধরে । তবুও জীবনের প্রারম্ভ "শৈশব"এর কিছু আবছা টুকরো প্রতিবিম্ব আজ উপস্থাপন এর প্রয়াস করছি - আমার শৈশব কেটেছে মামার বাড়িতে ।সেটা ছিল বন্যার এক বিধস্ত বছর ।হটাত করে ভালো জব পেয়ে আমার বড়ো মামা ,দক্ষিণ দামোদরের অনামী গ্রাম থেকে দুর্গাপুরে জয়েন করার কিছুদিনের মধ্যে ,না জানি কোন আক্রোশে "নিরুদ্দেশ "হয়ে গেলেন।তিনি ছিলেন ভীষণ নরম মনের ,প্রচুর গুণের অধিকারী এক সুন্দর শিল্পী মানুষ । পরে রেল লাইনে মার্ডার হওয়া ডেড বডি সনাক্ত করার পর থেকেই আমার মা শারীরিক ও মানসিক ভাবে ভীষণই ভেঙ্গে পড়লে ,মাসি আমাকে, মামারবাড়িতে নিয়ে চলে যান । এছাড়া আর অন্য উপায় ছিলো না আমাকে বাঁচানোর, অপুষ্টি আর রিকেট ততদিনে আমার শরীরে দাপট দেখাতে শুরু করেছে । প্রায় পাঁচ বছর পর্যন্ত মাসি দের আদর যত্ন ,ছত্র ছায়ায় সেই আমার সোনালী শৈশব শুরু । সেই থেকেই গ্রাম বাংলার সবুজ শ্যামলী প্রকৃতি রূপের প্রতি আজো আমার অমোঘ আকর্ষণ । প্রতি ...

জয়ীতা চ্যাটার্জীর কবিতা

প্রাপ্তি জেগে ওঠা রোজ দরজা খোলার শব্দে,  হাতের মুঠো যখনই হবে শূন্য।  আমাদের মাঝে সে এক বিস্তর ফারাক,  তুমি আগুন, তার নীচে আমার পৃথিবী নগন্য।  নিরালা দুপুর বা মধ্যরাতের নিঃস্বতা,  দেখলে পড়ে মনে হয়, জুড়ে জুড়ে আছে।  ইচ্ছেরা দাঁড়াক এক পাশে, জানা যাবে কতটা দাবী রাখে আগুনরা ধোঁয়ার কাছে।  এখানে বদলে যায় কত সহজেই,  মুখ আর মুখোশের সাধারণ খেলা।  কি হবে রেখে শব্দের আড়াল, চিরদিন তো থাকবে না কিছু, সময় শিখিয়ে দেবে হারিয়ে ফেলা।  অনেক দূরে দাঁড়িয়ে থাকে মরীচিকা, অজান্তে ছুঁয়ে দিয়ে যায় ছলনায়।  মানুষ ও তো রাজনীতিক ভাষায় কথা বলে ওঠে, কিছুই আমার নয় তা জেনে ও সময়ের আয়নায়।। =================================== Jayeeta Chatterjee C/o= Shyama Prasad Chatterjee Add: 22/4 R.N.T.P Bye Lane Shyamnagar north 24 parganas West bengal-743127 Mobile=9062842804

কবিতা: তাপসী লাহা

বিদায় (কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি)             প্রত্যেকটা চলে যাওয়াই একেকটা মৃত্যু, জীবনের দ্বারে হাত পেতে বসে থাকি  একাধিক প্রত্যয়ে। পাওনা গন্ডায় মজে  ভুলে যাই সঙ্গ দিলে যে। দু ছটাক পরিযায়ী  সুখে আজন্ম বিষণ্ণতা, তবু বেঁচে থাকি হেরে যাওয়া দগ্ধ বিগতে, ভোরের শিশির  ফোঁটাবো বলে। চাবুকে নত  শিষ্টত্বে মেনে নিই  প্রিয়জনের বিদায়।     --------------- তাপসী  লাহা রায়গঞ্জ 

সবিতা বিশ্বাসের কবিতা

(কবি নীরেন্দ্রনাথ স্মরণে) তিনি আছেন গেলেন চলে মহান কবি নতুন কোনো দেশে সেই যেখানে সবাই যায় কাজ ফুরোলে শেষে তবুও তিনি আছেন জানি হৃদয়খানি জুড়ে দিবস রাতে সকাল সাঁঝে ব্যথা বেদন খুঁড়ে পুব আকাশে আছেন কবি প্রভাত রবি হয়ে ছন্দ তুলে নদীর জলে চলেন তিনি বয়ে ঘুচিয়ে অমা নবীন প্রাণে আলোর দিশা এনে অমর হয়ে যাবেন রয়ে আঁধারটাকে ছেনে তিনি ছিলেন তিনি আছেন রবেন চিরকাল তাঁর লেখাতে পথ চিনবে আজ আগামীকাল নীরেন্দ্রনাথ থেকে যাবেন সব বাঙালি বুকে ভরসা দিয়ে সাহস দিয়ে সবার সুখে দুখে। ---------------------------------------------------------- সবিতা বিশ্বাস প্রযত্নে- লঙ্কেশ্বর বিশ্বাস গ্রাম+ পোস্ট- মাজদিয়া (বিশ্বাস পাড়া) জেলা - নদীয়া। পিন- 741507

তপন কুমার মাজির কবিতা

             আত্মিক কবি নীরেন্দ্রনাথ     বৃন্তচ্যুত হয়ে পড়লেও  যে ফুল বাতাসের গায়ে গায়ে                     রেখে যায় মিঠেল সুবাস, হাজারো ফুলের ভিড়ে  সেই 'নিরক্ত করবী'র ছোঁয়ায়                      আমার কাব্যিক উদ্ভাস। যে নক্ষত্র চোখের আড়াল হলেও  রেখে যায় আকাশের গায়ে                       অমল আলোর ঝলক, নির্জনের নীলে লীন হয়ে গেলেও  পড়ে না কখনো সেই নক্ষত্রের                               চোখের পলক। আনন্দ দেওয়ার আগেই নিষ্ঠুর মৃত্যু  চুপিসারে করুক যতই                                 প্রাণেদের চুরি, চির ঘুমে শায়িত হওয়ার আগে  ম...

পবিত্র রায় চৌধুরীর কবিতা

সে একটা দিন  ------------------------      সে একটা দিন ছিল, বুঝলে হে সুধাময়,  অসামান্য সাইক্লোনের দিন - তখন অবাক চোখে উদ্দাম ঢেউয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে কোনো ক্লান্তি ছিল না । জনান্তিকে বলে রাখি, তখনো আমার চোখ  চুলখোলা রুপসীর ডায়েরির পাতায়  লুকোনো রহস্য নিয়ে ব্যাকুল হত না । বিশ্বাস করো সুধাময়,  তখন জীবন জুড়ে এবং পৃথিবী জুড়ে  অজস্র কবিতা ছিল ।                                 # সে একটা দিন ছিল হে, বুঝলে সুধাময়,  অফুরন্ত স্বপ্নের দিন - তখন চলার পথে চেনা মানুষের চোখে                      চোখ পড়ে গেলে  খুব স্বাভাবিক ছিল অনাবিল হাসি বিনিময়  হাসি নয়, যেন এক আলোর উদ্ভাস হিরণ্য পাহাড় থেকে ঠিকরে পড়া সকালের মত। এসব কথা আজকাল কাউকে বলি না সুধাময়  কাকেই বা বলা যায় বলো - ইদানীং কী ভীষণ বন্ধুহীণ অবিশ্বাসী একা মানুষেরা জীবনযাপন করে চারপা...

চিরকুটের কবিতা ও মুক্তগদ্য

ফেলে আসা দিন কিছু কি রইলো বাকি আমার চিলেকোঠার ফাঁকে !  ফেলে আসা রংপেন্সিল কার্যত শেষ বিকেলের আলোয়  জমে থাকা কথার গোপনে খোঁজে শেষ আস্তানা তারা হয়ে জ্বলে উঠলো কত লেখা !  হারালাম কিছু পেলাম তারও কম অক্ষুণ্ন শীতল মন তবুও হাঁটা রয়েছে বাকি অজানা ঢেউ প্রতীক্ষায় রত শেষবারের মতো দাগফেলা পথ ছুঁয়ে দেখি বৃষ্টি কয়েক ফোঁটা  ------------------------------------------- (মুক্তগদ্য) ফিরে দেখি একটা গাছের মতোই বেঁচে আছি , জীর্ণতার গমন কিশলয়ের আগমন । দুর্গমসুগম পথ বরাবর যাত্রী , মাঝে পান্থশালায় পরিচিত কতরঙের জীব ! কারো হাতে গ্লানি কারো বৈভবের হাতছানি । হতাশার আক্ষেপের মাঝে জয়ের উল্লাস । শুন্য ভাঁড়ার ভিক্ষুকেরও নয় – হয়তো 'প্রাপ্তি' নিছকই বিশেষণ তা সত্ত্বেও অবহেলিত নয় । ঝরে গেছে বহু প্রবীণ ; ছিদ্র সাহিত্যছাদে । বিনাশ হয় দেহের আত্মা অবিনশ্বর । আকাশটা তাই উজ্জ্বলতর । ফিরে দেখি হেঁটে আসা পথে দাঁড়িপাল্লায় হাত – হিসেব চলছে চাওয়া-পাওয়ার ।  আবারও জমবে ধুলো । একদিন কিশলয়ও হবে জরাগ্রস্ত । কালের নিয়মে পুরাতনের ভিড়ে যোগদান সবারই । আ...

সোমনাথ বেনিয়ার কবিতা

প্রাপ্তিমঙ্গল  শেষ কবে চিঠি লিখেছি মনে নেই মনে নেই শেষ কবে কাগজের নৌকা ভাসিয়েছি জলে গোড়ালির সাথে চৌকাঠের একসুতো ব‍্যবধান থাকে সেই অবকাশের পথ ধরে যায় -                                প্রাপ্তি, প্রত‍্যয় ও হারানোর গল্প বর্তমানের বঁড়শিতে আটকে আছে জীবন ঠোকা মারে সুখ, মারে ঠোকা দুঃখ প্রাপ্তি বলতে হাসি, ভেসে আসে মন্দির থেকে মঙ্গল হোক! এখন শব্দ শুনে -          এক-একটি অক্ষর ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখবো খুদ হলে ভাত, কাঁকর হলে প্রণামি ...  ============================== সোমনাথ বেনিয়া ১৪৮, সারদা পল্লি বাই লেন ডাক + থানা - নিমতা জেলা - উত্তর ২৪ - পরগনা কলকাতা - ৭০০ ০৪৯.

স্বপন কুমার বিজলীর ছড়া

হারানো - প্রাপ্তি বছর শেষে নতুন বছর  আবার এল ঘুরে  নতুন বন্ধু জুটল কিছু  কেউ বা গেল দূরে । স্বর্গে যারা গেল চলে  শিল্পী এবং কবি  আমার বুকে চিরটা কাল থাকবে তাদের ছবি । নতুন বছর এবার আসুক  বার্তা বাহক হয়ে  খুশির খবর সব মানুষের  জীবনে যাক বয়ে । স্বপ্ন ভাঙা মন নিয়ে আজ হাঁটছে যারা পথে  এই বছরে হেসে খেলে  চড়ুক বিজয় রথে । ------------------------------ স্বপনকুমার বিজলী  জোকা, কলকাতা , 

প্রণব কুমার চক্রবর্তীর কবিতা

জলে ভেজা জলছবি              জল সপসপে চোখের পাতায়                                 সারাক্ষন ভেসে বেড়াচ্ছে  কিছু বিমূর্ত স্মৃতি , কিছু উপলব্ধি কথা , শব্দের জঙ্গল থেকে উঠে আসা কিছু উদ্ভট স্বপ্নের দংশন সারাক্ষন বুকের ভেতরটায় জ্বালা ধরায় মনটাকে করে তোলে                          একদম আনমনা ..... ঊষর বাদামি বনভূমি দাপিয়ে বেড়ানো উদীপ্ত  আরবী মার্কা ঘোড়াগুলো নিশ্চিত আমাদের এই দেশেরই তাদের খুরের আঘাতে  ক্ষতবিক্ষত সাদামাটা মেঠো পথের           ঘূর্ণায়মান ধুলোয় চারপাশ অনধকার...... প্রতিকূল জ্যোৎস্নায় ইদানিং সারাক্ষণই লেখা হচ্ছে                                 যেসব গল্প আর কবিতা সবটাই যেন জলে ভেজা জলছবি ৷ ===============================...

সুমন নস্করের ছড়া

হর্ষ ও বিষাদ হাইরে গেছে যেদিন গুলো   দুঃখ দিয়ে পিছে, মনখানা ভার করিসনেকো   কাঁদিসনে আর মিছে৷ হর্ষ বিষাদ এই নিযে তো   জীবন বযে চলে, সুখের হাসি মনের মাঝে   দুঃখ চোখের জলে৷ দুখের পরে আসবে রে সুখ   বিষাদ যাবে ঘুঁচে, নতুন আশার আলোয় সেদিন   দুঃখ যাবে মুছে৷ ঝরলে পাতা তবেই গজায়   নতুন কিশলয়, না হারালে চেপেই থাকে   হাইরে ফেলার ভয়৷ হাইরে যাওয়া কিচ্ছুটি আর   যায় না পাওয়া ফিরে, নতুন করে ভাব না আবার   স্বপ্ন আছে ঘিরে৷ হাইরে গেছে যেদিন গুলো   দুঃখ দিয়ে পিছে, নতুন রূপে আসবে ফিরে   কাঁদিসনে আর মিছে৷  ==================== সুমন নস্কর গ্রাম+পোষ্ট- বনসুন্দরিয়া থানা- মগরাহাট জেলা- দক্ষিণ ২৪ পরগনা পশ্চিমবঙ্গ

মোনালিসা পাহাড়ীর কবিতা

সুখে দুঃখে কালের নিয়মে নতুন বছর প্রতি বছরই আসে, পুরোনো হয়ে বিদায় ও নেয় মাত্র বারোমাসে। ২০১৮ও মোদের জীবনে তেমনি এল গেল, নতুন করে২০১৯ আপন হয়ে এল। বিগত বছরে মুঠোভর্তি অনেক সুখের ছবি, দুঃখ ব‍্যথাও বেশ দিয়েছেন গত বছরের রবি। বছর শেষের প্রান্তে দাঁড়িয়ে চলছে হিসেব নিকেশ চাওয়া পাওয়া, হারানো প্রাপ্তি, জমা খরচের রেশ। আকাশ কালো করে তখনই পরপারের পথে, নীরেন্দ্রনাথ, মৃণাল সেন চলে গেলেন একে একে। বাংলা মায়ের সাহিত‍্যাঞ্চল খালি করে এক পলে, না ফেরার দেশে, পাড়ি জমাতে, নির্মোহে গেলেন চলে। দুহাত বাড়িয়ে আপন করেছি নতুন সূর্যোদয়, এছবর যেন এই জগতের সবারই ভালো হয়। ================================== মোনালিসা পাহাড়ী প্রযত্নে- চন্দন দাস মনোহরপুর, গড় মনোহরপুর দাঁতন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৭২১৪৫১

কান্তিলাল দাসের কবিতা

ঝড় প্রতিটি বছরই ঝড় নিয়ে আসে ভেঙে যায় পুরানো ও নতুন গাছের কাণ্ডগুলি বাগানের দৃশ্য দেখে চোখে আর মনে জল এলে দোষ দিই কাকে ! একেক বছর ঝড়ে নিঃশেষ হয়ে যায় মূল্যবান গাছের মতন আমাদের শিল্প-জ্ঞান-কলা আর সংস্কৃতির স্তম্ভ মানুষেরা। হে প্রিয় মুখ,- চলে যাওয়া বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ মুখদল মুখর হবেনা কোনোদিন আর সৃষ্টির সৌরভে থাকবে যদিও অমর। তবু, হারানোর ব্যথা ঝড় হয়ে দেখা দিল দু হাজার আঠারোয় স্তব্ধশোক বিস্ময়ে বাস্তুচ্যূত যেন ! হে প্রণম্য গুণীজন এই নভোতলে তৃষিত চাতক হয়ে থাকি যা পেয়েছি ঢের, তবু পেতে চাই আরো সকরুন চোখ খোঁজে আজও দেখি তোমাদের দীপ্র উপস্থিতি রেখে গেলে বৈদূর্য মণির মতো অরূপ রতন সে এক সম্পদ থাক এ মনের মণিকোঠা জুড়ে! যেন টের পাই দ্বিজেন- নীরেন- মৃণাল- পিনাকী এঁরা বলছেন স্মিত হেসে চলে তো এসেছি এক অদৃশ্য শিল্প আর কলার তালুকে যা রেখে এলাম মন দিয়ে দেখো সব, বুঝো আমরা এখন স্টিফেন হকিঙের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি শেখার তো শেষ  নেই কৃষ্ণগহ্বরটা কেমন, জানার চেষ্টায় আছি সব। ভালো থেকো। ........ কান্তিলাল দাস বেলতলা লেন সিঙ্গুর হুগলি

পল্লব দাসের কবিতা

বিস্মৃত   সম্পর্কের ঊর্ধ্বে সম্পর্ক মন জুড়ে তুই চাহিদা মেটে অন্যতে বিচ্ছিন্ন হয়েও কোথায় বিচুত্য মরে নি ভালোবাসা হারিয়েছি অধিকার ঢেলেছি জল রোজ মৃতপ্রায় চারা গাছ জলে আর বাঁচে না আমি এখন স্মরণাতীত।      =====

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

গল্প ।। অনুর অপেক্ষা ।। নাজিরুল ইসলাম

অনুর অপেক্ষা  নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জলমাতালের ঘর ।। মামুন সরকার

গল্প জলমাতালের ঘর মামুন সরকার চেহারা সুরত রাজপুত্রের মত না কিন্তু নাম তার রাজা মিয়া। পোষাক পরিধানে সাহেব বাবু। চালচলন আর দশটা মানুষ থেকে আলাদা। চার বার মেট্রিক পরীক্ষা দিয়ে টেনেটুনে পাশ করলেও আড্ডাতে বাকপটু। মগজ ভর্তি কথার পাহাড়। একবার কথা শুরু করলে আর থামে না। হাসি ঠাট্টায় মজমা মাতিয়ে রাখে। একসপ্তাহ হয় নতুন বিয়ে করেছে। বউ শিক্ষিত এবং সুন্দরী। গায়ের রং দুধসাদা না হলেও নজর কাড়ার মত আর্কষণী মুখমণ্ডল। বন্ধুদের একজন বলে, দোস্ত একটা কতা কই রাগ করিছ না। সত্যিই তর রাজ কপাল। খুব সুন্দর একটা বৌ পাইছস। ভাবী সাহেবার আঁচল ছাড়িস না। চোখে চোখে রাখিস। তর দুর্বলতার সুযোগ নিয়া কেউ যেনো ভাবী সাহেবার সাথে ফুসুরফাসুর না করতে পারে। তর যা স্বভাব। জানি না ভবিষ্যতে তর কপালে কি আছে। রাজা মিয়া বলে, বৌ আমার। মাইনষে ফুসুরফাসুর করব মানে? কি বুঝাইতে চাইলি বুঝলাম না দোস্ত। আছমানে চান উঠলে সবাই সবাই গায়ে জোছনা মাখতে চায়। আমার ভাবী সাহেবা হইল আকাশে চান। রাজা মিয়া কথা বাড়ায় না। বুঝতে পারে তার দোস্ত কি বুঝাতে চেয়েছে। সুন্দরের প্রতি সবাই দুর্বল। রাজা মিয়ার বাবা একজন চেয়ারম্যান। অঢেল ধন-সম্পদের মালিক তি...

শিল্পী ।। সুকান্ত ঘোষ

শিল্পী সুকান্ত ঘোষ কেরামত দাকে চিনি সেই ছেলে বেলা থেকে। কেরামত দা মোটেই আমার দাদার বয়সী নয়। পাড়ার কাকারা যখন ক্লাবের মাঠে ফুটবল খেলত তখন কেরামত দাকে অসাধারণ গোল কিপিং করতে দেখেছি। সেই হিসাবে তাকেও আমার কাকা বলে ডাকাই উচিত।কিন্তু,সবাই দাদা ডাকে বলে আমিও ' কেরামত দা ' বলেই ডাকি।তাছাড়া বয়স হলেও শরীর টা বেশ ঝরঝরে রেখেছে এখনো। কেরামত দা আমাদের মতো ফুটবল প্রেমী কিশোর দের কাছে খুব প্রিয়।প্রথমত যদি হয় আমরা ছেলেবেলায় তার অসাধারণ গোল কিপিং দেখেছি সেই জন্য,বিশেষত একটু লাফিয়ে বল রিসিভ করে শূন্যে একটা ডিগবাজি দেবার দৃশ্যটা চোখের উপর আমাদের ভেসে থাকে।দ্বিতীয়ত,তার অমায়িক ব্যবহার। আমাদের খুব ভালবাসে কেরামত দা। তাই আমাদের কাছে কেরামত দা খুব প্রিয়। কম বয়সে নিজে খুব ভালো গোলকিপার ছিল কেরামত দা একথা আগেই বলেছি।মহমেডান জুনিয়র টিমে খেলতে গিয়ে বুকের পাঁজর ভেঙে গেলে ফুটবলার হবার আশা শেষ হয়ে যায় তার।  পাড়ার ক্লাবে নিয়মিত আসতো। তবে,বছর দুয়েক আগে ক্লাবে সরস্বতী পুজো হবে নাকি বিশ্বনবী দিবস এই বিতর্ক দানা বাধার পর থেকেই এত প্...

প্রবন্ধ রচনা ।। একটি রাজপথের আত্মকথা

একটি রাজপথের আত্মকথা “ওগো পায়ে চলার পথ, অনেক কালের অনেক কথাকে তোমার ধূলিবন্ধনে বেঁধে নীরব করে রেখো না। আমি তোমার ধুলোয় কান পেতে আছি, আমাকে কানে কানে বলো।” —রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ভূমিকা: আমি রাজপথ, পথিক মানুষের চিরসখা। আমার জন্মের কথা আজও আমার ক্ষীণ মনে পড়ে, তবে এ কথা সত্যি আমার শেষ ঠিকানা কোথায় তা আমিও জানি না। বহু যুগ আগে ঘন জঙ্গলের বুক চিরে মানুষ আমাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। গাছগাছালির ফাঁকে ফাঁকে এই ক্রমাগত চলাতেই তো আমার আনন্দ। এভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়াই তো জীবন। ধুলো-মাটি দিয়ে তৈরি আমার শরীরে কত কাল ধরে কত কিছুর প্রলেপ পড়ল। ক্রমে শক্ত-জমাট হয়ে উঠলাম আমি। মেঠোপথ থেকে আজ আমি রাজপথ। মেঠো ধূলিবন্ধনে নয়, মোরামের মর্মরে নয়, আজ আমার হৃদয়ের সব কথা প্রযুক্তির পীচের নীচে গুমরে গুমরে কাঁদে। হে পথিক, তুমি শুনতে চাও, তাই হৃদয়-উজাড়ি বলব তোমাকে আজ আমার আত্মকথা। আত্মকথা: আমি ই.এম. বাইপাস। উত্তর কলকাতার উল্টোডাঙ্গা থেকে শুরু করে বারুইপুর পুরাতন বাজার পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার আমার বিস্তৃতি। আমি পশ্চিমবঙ্গের একটি অন্যতম প্রধান রাজ্যসড়ক। আমার দু-পাশে কত গাছপালা, কৃষিক্ষেত, কলকারখানা, দোকান, বাড়ি! দিনরাত শত-সহস্র...

একটা মেয়ে-মানুষের শরীর ।। উত্তম ভট্টাচার্য

একটা মেয়ে-মানুষের শরীর উত্তম ভট্টাচার্য 'দাদা আমি একটু মারব?' ভিড় ঠেলে অল্প বয়সী এক কলেজ ছাত্রীর আর্তি! এবং অনুমতি আদায়ের আগেই একেবারে সপাটে চড়! ঠিক জানোয়ারটার দক্ষিণ গালে। তারপর পরপর ওগালে, এগালে,  দু'গালেই! জানোয়ারটা দেখতে ঠিক মানুষের মত! পকেটে তিনতিনটে দামি কম্পানির পেন, বিদেশি দামি কম্পানির ফুলহাতা শার্ট, প্যান্ট,দামি জুতা পরে জানোয়ারটাকে ঠিক মানুষের মতোই দেখতে লাগছিল। সিস্টেমের ছকে একজন অঙ্কের প্রফেসর! জানোয়ারটার কামনা শক্তি নাকি ভীষন প্রবল। জানোয়ারটা নারীর শরীর পেতে চায়। প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন মেয়েমানুষকে নিয়ে মত্ত থাকতে চায় জানোয়ারটা। নিজের পদাধিকার বলে ক্লাসে ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে, কলেজ থেকে বের করে দেবার হুমকি দিয়ে, অশ্লিল ছবি পাঠিয়ে-জানোয়ারটা কামনা শক্তি মেটায়! মেয়েটা তারই কলেজের নির্যাতিতা এক ছাত্রী! হতদরিদ্র ঘর থেকে উঠে আসা অত্যন্ত মেধাবী অসহায় ছাত্রীটা প্রায় প্রতিদিনই জানোয়ারটার শিকার! ...

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম পাথরের জড়জীবন // পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব কত এটা শিশুদের মুখস্ত সকাল সকাল সূর্য জানালায় উকি দেয় আর এটা কেবল আমিই দেখি নিবিড় যৌনতার পর পুরুষ মাকড়শা মারা গেলে তার মৃতদেহ মেয়ে মাকড়শা কোথায় নিয়ে যায় কালো গোলাপের রং কেন কালো খোলা আকাশের নিচে দিনের পর দিন পাথরটা পড়ে আছে পাথর আর ধুলোবালি আর মরা পাতা আর শিশির এদেরকে মনিয়ে পাথরটা আজও বেঁচে আছে বোঝার চেষ্টা করো // সুড়ুৎ করে নিজের কফ নিজে যে গিলে ফেলতে পারে নির্দ্বিধায়, যার নেই আত্মজীবনী লেখার বিড়ম্বনা, সে সব পারে। কি ভাষা! কি মানুষ! সাফল্য তার অনিবার্য। শহীদবেদীতে দাঁড়িয়ে জলজ্যান্ত চোখে তা আমরা দেখছি। ব্যাপারটা কেন সমাজবিদ্যায় বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আলোচিত হয়নি তেমন, কে জানে! ফ্রয়েড কী বলেন? যার যার কুকুর // কুকুর আমার আর আমি তার জন্মদিন পালন করি হয় তো অন্যরাও পালন করে যার যার কুকুরের জন্মদিন আর প্রতিটা কুকুরেরই নাম আছে সেই নাম ধরে ওদের ডাকা হয় মানে যে কুকুরের যে নাম যা হোক আমার কুকুরের নাম কেবল আমিই জানি ঐ নামেই ওকে আমি ডাকি অন্য কেউ ডাকে না অন্য কেউ জানেই ...

রমেশ দাসের কবিতা

   বাঙালি মোরা বাঙালি                                                                         বাংলাকে   ভালবাসি বাংলায় কথা বলি বাংলা কবিতা মোদের জীবন। বাংলার নদী নালা বাংলার গাছ পালা বাংলার মাটিতে মোদের মরণ।। বাংলার ঘর মাঠ বাংলার খেত ঘাট বাংলা বাতাস আর সুস্থ জীবন। বাংলার নেওয়া শিক্ষা বাংলার দেওয়া দীক্ষা বাংলাকে ভালোবেসে মোদের রচন।। ভালো লাগে বাংলার পাঠ্য বই পড়তে। ভালো লাগে বাংলার সুরে গান গাইতে।। বাংলা ছাড়া মোরা যে পারিনা কিছু বুঝতে। বাংলার ঋণ এখনও পারিনি শেষ করতে।। মাতা তবুও সম্মতি দেন বিদেশের জ্ঞান নিতে। না মা যাবো মোরা তোমার বাণী দিয়ে ।। বাংলাদেশে জন্ম মোদের বাংলা নিয়ে পড়বো। বাংলার শিক্ষায় মোরা বাংলা পথ চলবো।। বাংলার মধুরতা আদৌ পারিনি শেষ করতে। বাংলার মিলনমেলায় ভালো লাগে লিখতে।। ========================= (   রমেশ দাস,...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা

  ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা (লেখা ও লেখকের নামে ক্লিক করলে লেখাগুলি পড়া যাবে) প্রবন্ধ একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার গল্প  দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ কবিতা আমন, সন্ধি, কৃষক উবাচ ।। বিকাশ দাশ (তিনজন লেখককে অভিনন্দন।  পূর্ব ঘোষণামতো নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।  –  সম্পাদক, নবপ্রভাত। ) ....................... ১০০তম সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/06/cover-n-contents.html ১০১তম সংখ্যার  পূর্ণাঙ্গ  সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/08/cover-n-contents.html

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...