Skip to main content

Posts

Showing posts with the label ১১শ সংখ্যাঃ মাঘ ১৪২৫ জানুয়ারি ২০১৯

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র

  সূচিপত্র  ======== কবিতা/ছড়া: সুমন নস্কর রবিউল ইসলাম মন্ডল পল্লব দাস শুভাশিস দাশ   তপন কুমার মাজি সবিতা বিশ্বাস জয়ীতা চ্যাটার্জী স্বপন কুমার বিজলী রণবীর বন্দ্যোপাধ্যায় দীপঙ্কর নস্কর প্রণব কুমার চক্রবর্তী অমিত পাল পবিত্র রায় চৌধুরী সোমনাথ বেনিয়া তরুণ কুমার মাঝি চিরকুট অমৃতা বিশ্বাস সরকার তাপসী লাহা কান্তিলাল দাস মোনালিসা পাহাড়ী সম্পা পাল মুক্তগদ্য / স্মৃতিকথা / অণুগল্প : রণেশ রায় অ-নিরুদ্ধ সুব্রত রাণা চ্যাটার্জী বিদিশা দাস মৌমিতা ঘোষাল  অনুবাদ স্মৃতিকথা: চন্দন মিত্র সাধারণ বিভাগ কবিতাঃ টুম্পামিত্র সরকার শ্যা মাপদ মালাকার   সায়ন মোহন্ত সুনন্দ মন্ডল সন্দীপ পাল   দুলাল সুর রমেশ দাস অণুগল্প : তন্ময় সিংহ রায় গ্রন্থ আলোচনাঃ শর্মিষ্ঠা দেবনাথ    মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন

অনুবাদ স্মৃতিকথা: চন্দন মিত্র

                    জনৈকা মহিলার প্রতিকৃতি                                               খুশবন্ত সিং                               বাংলা তরজমাঃ চন্দন মিত্র  অন্যদের ঠাকুমার মতোই আমার ঠাকুমাও, ছিলেন বৃদ্ধা । কুড়ি বছর ধরেই তাঁকে লোলচর্ম বৃদ্ধা হিসাবেই দেখে আসছিলাম। লোকজন বলাবলি করতেন --- একদা তিনি ছিলেন তরুণী ও রূপবতী । তাঁর স্বামীও ছিল। কিন্তু তাঁদের কথা অবিশ্বাস্য মনে হত। আমাদের বসার ঘরের দেয়ালে বাতিদানের উপরে আমার ঠাকুরদার একটি প্রতিকৃতি ঝোলানো থাকত। তাঁর মাথায় বড় একটি পাগড়ি, পরনের পোশাক বেশ ঢিলেঢালা।  সাদা-দাড়ি তাঁর বুকের বেশিরভাগ অংশটাই ঢেকে রেখেছিল। তাঁকে কোনোভাবেই একশো বছরের কমবয়সী বলে মনে হত না। তাকে দেখে মনে হত না যে, তাঁর স্ত্রী বা পুত্র থাকতে পারে। মনে হত তিনি কেবল অগণিত নাতিপুতির ঠাকুরদাই হতে পারেন। আ...

অভিজ্ঞতাঃ রণেশ রায়

নতুন বছর, নতুন সূর্য রাত বারোটা। একবিংশ শতাব্দীর ১৮ পার হয়ে ১৯শে পদার্পন। পার্কস্ট্রিট থেকে পশ্চিমবঙ্গের আনাচে কানাচে নববর্ষ বরণ উৎসব। মদের ফোয়ারা। তার সঙ্গে বাজি। নব্য বাঙালির অভিনব সাজ। পার্কস্ট্রিটসহ শহরের সব হোটেলগুলোতে আলোর ঝলকানি। খাদ্যতালিকায় দেশবিদেশের বিভিন্ন ধরনের খাবারের উঁকি। রাস্তায় গাড়ি রাখার জায়গা নেই। শিশুদের কোলে নিয়ে বাবা মা যেমন উপস্থিত তেমনি যুবক যুবতীদের যুগল উপস্থিতি। আর শহরে পাড়াগুলো তাদের দখলে যাদের আর্থিক তেমন জোর নেই কিন্তু আছে বাড়ির সামনে পাঁচিলে বসে মজলিস গড়ে তোলার অদম্য উৎসাহ। আছে নববর্ষের হাতছানি। সেখানে চুল্লুর সমাহার। কোন এক পল্লীর এক বাড়ির দোতলায় নিজের ঘরে শুয়ে ঘুমোবার চেষ্টা শুভর। বয়স হয়েছে। এমনিতেই ঘুম আসে না। আসব আসব করেও চলে যায়। তার সঙ্গে বিছানায় শুয়ে লুকোচুরি। এর মধ্যে আজ বাজির শব্দ, রাতের নিশুতি ভেঙে কাদের বা কোলাহল। ঘরের বাইরে পাঁচিল ধরে কিছু কিশোর যুব। মুখে কথার ফোয়ারা। বাংলা ক খ গ শ ব ল  বর্ণের কথামালায় আকাশ বাতাস মুখরিত। ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়ে শুভর কানে মধুবর্ষন করছে । নীচে ওদের মজলিসে একে অপরের প্রতি হুমকি। কিছুক্ষন আলাপচারিতার...

মুক্ত গদ্য : অ-নিরুদ্ধ সুব্রত

রথ টানাটানি  ------------------ একটা বড়ো হাই তুলে শর্মিমালা ড্রইংরুমের দেয়াল থেকে আঠারোর ক্যালেন্ডারটা নামিয়ে দিলো। অফিস থেকে ফেরার সময় অনির্বান উনিশের একটা নতুন ক্যালেন্ডার এনেছে । কিন্তু হাতে নিয়ে দেয়ালে টানানোর মুহূর্তে শর্মিমালা গার্ডারটা খুলেই ঝাঁঝিয়ে উঠলো, 'ধ্যাৎ এ আবার কী ? শ্রীকৃষ্ণের রথযাত্রা ? এই সব ছবি এখন কেউ দেয়ালে টানায় নাকি অ্যাঁ ? ' মুখে বিরক্তি থাকলেও ছবিটা কিন্তু ড্রইংরুমের দেয়ালে রাখলো শর্মিমালা শেষ পর্যন্ত ।                   বাথরুম থেকে ফিরে অনির্বান দিনের ক্লান্তি নরম তোয়ালেতে মুছতে মুছতে শর্মিমালার বিরক্তির উত্তর না দিয়ে পারলো না, ' দ্যাখো মেলা ককিয়ো না, ফার্নিচারের দোকানের ছেলেটা ডেকে দিলে, তাই...। তাছাড়া রথযাত্রা যেন এযুগে এক্কেবারে অচল ! কেন এই যে সব এতো তক্কো বিতক্ক চলেছে, তুমি আছো কোন কালে ?' শর্মিমালা দিন দিন ধ্যাতরা হয়ে যাওয়া এই পঁয়তাল্লিশের লোকটার ক্লিশে কথায় তেমন গুরুত্ব দেয় না।বরং 'ভ্রমর কইয়ো শ্রীকৃষ্ণ-বিচ্ছেদের অনলে' গানের লাইনে হালকা সুর চড়িয়ে এক কাপ গরম কফি এনে সামনের টি টেবিলে রাখে...

বিদিশা দাসের মুক্তগদ্য

আমি, তুমি ও প্রতিশ্রুতি  *** যাই বলেই চলে গেল যে বছরটা,তার নাম দিতেই পারি প্রতিশ্রুতি...  হাজার একটা বিষাদ বয়ে এনেছিল অথচ অবিশ্রান্ত স্বপ্ন বুনে একটা কুসুম রঙা আকাশ সাজিয়ে ছিল... এটা, সেটা অনেক অনেক আকাশ কুসুম স্বপ্ন আঁকা ক্যানভাস ফিকে হয়...সম্পর্ক বাজতে থাকে,সাজতে থাকে নতুন দোলাচলে, আমি, তুমি ও আমাদের নতুন অসুখ... দূরে কোথাও গীর্জায় ঘন্টা বাজে,দীর্ঘতর হতে থাকে মনবাসার বাহানারা, যা কিছু সম্বল যা কিছুই আছে তার সব,সবটুকুই দিয়ে যাব চরণের নখে...কিছু নিঃস্বতা বড় মধুর বড় কাম্য গোটা জীবন ভোর। কিছু তো দিতেই হয় ! এই যে নদীর মতো প্রবহমান মুহূর্তরা আলো আনে,ভালো আনে, অনেকটা অভিমানও আনে আর উজাড় করে দিয়ে যায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়াজড়ি নিঃসঙ্গতার বন্দিশ... একা আমি,একা তুমিও আর সেইসব প্রতিশ্রুতিরাও... মেপেল পাতার নকশা আঁকা পশমিনা চাই নে,চাই নে জড়োয়ার কৃষ্ণকান্তা ঝুমকো, কৃষ্ণচূড়ায় রাঙিয়ে দেওয়া একপলা তীব্র বিকেল চাই... দিও নাহয় আগামী বছরের দিনে একটুখানি নিজস্ব সময়, আমার জন্য, শুধুই আমার জন্যে...  ================================ বিদিশা দাস বারাসাত

মৌমিতা ঘোষালের অণুগল্প

            স্বপ্নেরা ম্যাগাজিন কভারে মেয়ের উজ্জ্বল মুখখানি দেখিয়ে হলে জমা সান্ধ্যআড্ডায় গর্বের বিচ্ছুরন ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন প্রকাশবাবু। মেয়ে তার নামকরা মডেল।আনন্দে আটখানা বাবার উচ্ছাসিত  বাণী রান্নাঘর থেকে শুনতে পাচ্ছিলেন প্রতিমাদেবী এবং তার সনামধন্যা কন্যা রনিতা। _দেখেছিস, বলেছিলাম না তোর বাবা একদিন ঠিক মেনেই নেবে। গর্ব হয় তোর বাবার, বুঝলি? _তুমি না থাকলে তা কি সম্ভব ছিল মা?  _ধুস। তোর এটা পাওনা ছিল। পরিশ্রম কম করেছিস! স্বপ্ন ছিল তোর।  _স্বপ্ন আমি দেখেছিলাম, কিন্তু সেই স্বপ্নের জীবন। বাবা তো আগেই না বলে দিয়েছিল।  _তোকে সেদিন তোর বাবার সাথে ঝামেলা করতে দেখে মনে হয়েছিল নিজের কথা। আমিও স্বপ্নের জন্য লড়াই করেছিলাম। কিন্তু পারিনি। তাই তোকে হারতে দিতে চাইনি।  _তোমার ভয় হয়নি মা?  _হ্যাঁ, হয়েছিল। ভেবেছিলাম তুই ভুল করছিস না তো! তোর জীবনটা নষ্ট হয়ে গেলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারব কোনোদিন! কিন্তু তোর উপর বিশ্বাস ছিল। আসলে কি জানিস তো স্বপ্নেরা শুধু রূপ বদলায়, আমার স্বপ্ন কবে তোর চোখে রং দিয়েছে আমিও জ...

স্মৃতি কথা: রাণা চ্যাটার্জী

"টুকরো স্মৃতি-শৈশব" স্মৃতি কথা বললে পরে , কতো যে কথা মনে পড়ে ! সুখ,দুঃখ আনন্দ ভারে , কোনটা বলি ,কোনটা পরে ! ভাবছি সেটাই দুদিন ধরে । তবুও জীবনের প্রারম্ভ "শৈশব"এর কিছু আবছা টুকরো প্রতিবিম্ব আজ উপস্থাপন এর প্রয়াস করছি - আমার শৈশব কেটেছে মামার বাড়িতে ।সেটা ছিল বন্যার এক বিধস্ত বছর ।হটাত করে ভালো জব পেয়ে আমার বড়ো মামা ,দক্ষিণ দামোদরের অনামী গ্রাম থেকে দুর্গাপুরে জয়েন করার কিছুদিনের মধ্যে ,না জানি কোন আক্রোশে "নিরুদ্দেশ "হয়ে গেলেন।তিনি ছিলেন ভীষণ নরম মনের ,প্রচুর গুণের অধিকারী এক সুন্দর শিল্পী মানুষ । পরে রেল লাইনে মার্ডার হওয়া ডেড বডি সনাক্ত করার পর থেকেই আমার মা শারীরিক ও মানসিক ভাবে ভীষণই ভেঙ্গে পড়লে ,মাসি আমাকে, মামারবাড়িতে নিয়ে চলে যান । এছাড়া আর অন্য উপায় ছিলো না আমাকে বাঁচানোর, অপুষ্টি আর রিকেট ততদিনে আমার শরীরে দাপট দেখাতে শুরু করেছে । প্রায় পাঁচ বছর পর্যন্ত মাসি দের আদর যত্ন ,ছত্র ছায়ায় সেই আমার সোনালী শৈশব শুরু । সেই থেকেই গ্রাম বাংলার সবুজ শ্যামলী প্রকৃতি রূপের প্রতি আজো আমার অমোঘ আকর্ষণ । প্রতি ...

জয়ীতা চ্যাটার্জীর কবিতা

প্রাপ্তি জেগে ওঠা রোজ দরজা খোলার শব্দে,  হাতের মুঠো যখনই হবে শূন্য।  আমাদের মাঝে সে এক বিস্তর ফারাক,  তুমি আগুন, তার নীচে আমার পৃথিবী নগন্য।  নিরালা দুপুর বা মধ্যরাতের নিঃস্বতা,  দেখলে পড়ে মনে হয়, জুড়ে জুড়ে আছে।  ইচ্ছেরা দাঁড়াক এক পাশে, জানা যাবে কতটা দাবী রাখে আগুনরা ধোঁয়ার কাছে।  এখানে বদলে যায় কত সহজেই,  মুখ আর মুখোশের সাধারণ খেলা।  কি হবে রেখে শব্দের আড়াল, চিরদিন তো থাকবে না কিছু, সময় শিখিয়ে দেবে হারিয়ে ফেলা।  অনেক দূরে দাঁড়িয়ে থাকে মরীচিকা, অজান্তে ছুঁয়ে দিয়ে যায় ছলনায়।  মানুষ ও তো রাজনীতিক ভাষায় কথা বলে ওঠে, কিছুই আমার নয় তা জেনে ও সময়ের আয়নায়।। =================================== Jayeeta Chatterjee C/o= Shyama Prasad Chatterjee Add: 22/4 R.N.T.P Bye Lane Shyamnagar north 24 parganas West bengal-743127 Mobile=9062842804

কবিতা: তাপসী লাহা

বিদায় (কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি)             প্রত্যেকটা চলে যাওয়াই একেকটা মৃত্যু, জীবনের দ্বারে হাত পেতে বসে থাকি  একাধিক প্রত্যয়ে। পাওনা গন্ডায় মজে  ভুলে যাই সঙ্গ দিলে যে। দু ছটাক পরিযায়ী  সুখে আজন্ম বিষণ্ণতা, তবু বেঁচে থাকি হেরে যাওয়া দগ্ধ বিগতে, ভোরের শিশির  ফোঁটাবো বলে। চাবুকে নত  শিষ্টত্বে মেনে নিই  প্রিয়জনের বিদায়।     --------------- তাপসী  লাহা রায়গঞ্জ 

সবিতা বিশ্বাসের কবিতা

(কবি নীরেন্দ্রনাথ স্মরণে) তিনি আছেন গেলেন চলে মহান কবি নতুন কোনো দেশে সেই যেখানে সবাই যায় কাজ ফুরোলে শেষে তবুও তিনি আছেন জানি হৃদয়খানি জুড়ে দিবস রাতে সকাল সাঁঝে ব্যথা বেদন খুঁড়ে পুব আকাশে আছেন কবি প্রভাত রবি হয়ে ছন্দ তুলে নদীর জলে চলেন তিনি বয়ে ঘুচিয়ে অমা নবীন প্রাণে আলোর দিশা এনে অমর হয়ে যাবেন রয়ে আঁধারটাকে ছেনে তিনি ছিলেন তিনি আছেন রবেন চিরকাল তাঁর লেখাতে পথ চিনবে আজ আগামীকাল নীরেন্দ্রনাথ থেকে যাবেন সব বাঙালি বুকে ভরসা দিয়ে সাহস দিয়ে সবার সুখে দুখে। ---------------------------------------------------------- সবিতা বিশ্বাস প্রযত্নে- লঙ্কেশ্বর বিশ্বাস গ্রাম+ পোস্ট- মাজদিয়া (বিশ্বাস পাড়া) জেলা - নদীয়া। পিন- 741507

তপন কুমার মাজির কবিতা

             আত্মিক কবি নীরেন্দ্রনাথ     বৃন্তচ্যুত হয়ে পড়লেও  যে ফুল বাতাসের গায়ে গায়ে                     রেখে যায় মিঠেল সুবাস, হাজারো ফুলের ভিড়ে  সেই 'নিরক্ত করবী'র ছোঁয়ায়                      আমার কাব্যিক উদ্ভাস। যে নক্ষত্র চোখের আড়াল হলেও  রেখে যায় আকাশের গায়ে                       অমল আলোর ঝলক, নির্জনের নীলে লীন হয়ে গেলেও  পড়ে না কখনো সেই নক্ষত্রের                               চোখের পলক। আনন্দ দেওয়ার আগেই নিষ্ঠুর মৃত্যু  চুপিসারে করুক যতই                                 প্রাণেদের চুরি, চির ঘুমে শায়িত হওয়ার আগে  ম...

পবিত্র রায় চৌধুরীর কবিতা

সে একটা দিন  ------------------------      সে একটা দিন ছিল, বুঝলে হে সুধাময়,  অসামান্য সাইক্লোনের দিন - তখন অবাক চোখে উদ্দাম ঢেউয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে কোনো ক্লান্তি ছিল না । জনান্তিকে বলে রাখি, তখনো আমার চোখ  চুলখোলা রুপসীর ডায়েরির পাতায়  লুকোনো রহস্য নিয়ে ব্যাকুল হত না । বিশ্বাস করো সুধাময়,  তখন জীবন জুড়ে এবং পৃথিবী জুড়ে  অজস্র কবিতা ছিল ।                                 # সে একটা দিন ছিল হে, বুঝলে সুধাময়,  অফুরন্ত স্বপ্নের দিন - তখন চলার পথে চেনা মানুষের চোখে                      চোখ পড়ে গেলে  খুব স্বাভাবিক ছিল অনাবিল হাসি বিনিময়  হাসি নয়, যেন এক আলোর উদ্ভাস হিরণ্য পাহাড় থেকে ঠিকরে পড়া সকালের মত। এসব কথা আজকাল কাউকে বলি না সুধাময়  কাকেই বা বলা যায় বলো - ইদানীং কী ভীষণ বন্ধুহীণ অবিশ্বাসী একা মানুষেরা জীবনযাপন করে চারপা...

চিরকুটের কবিতা ও মুক্তগদ্য

ফেলে আসা দিন কিছু কি রইলো বাকি আমার চিলেকোঠার ফাঁকে !  ফেলে আসা রংপেন্সিল কার্যত শেষ বিকেলের আলোয়  জমে থাকা কথার গোপনে খোঁজে শেষ আস্তানা তারা হয়ে জ্বলে উঠলো কত লেখা !  হারালাম কিছু পেলাম তারও কম অক্ষুণ্ন শীতল মন তবুও হাঁটা রয়েছে বাকি অজানা ঢেউ প্রতীক্ষায় রত শেষবারের মতো দাগফেলা পথ ছুঁয়ে দেখি বৃষ্টি কয়েক ফোঁটা  ------------------------------------------- (মুক্তগদ্য) ফিরে দেখি একটা গাছের মতোই বেঁচে আছি , জীর্ণতার গমন কিশলয়ের আগমন । দুর্গমসুগম পথ বরাবর যাত্রী , মাঝে পান্থশালায় পরিচিত কতরঙের জীব ! কারো হাতে গ্লানি কারো বৈভবের হাতছানি । হতাশার আক্ষেপের মাঝে জয়ের উল্লাস । শুন্য ভাঁড়ার ভিক্ষুকেরও নয় – হয়তো 'প্রাপ্তি' নিছকই বিশেষণ তা সত্ত্বেও অবহেলিত নয় । ঝরে গেছে বহু প্রবীণ ; ছিদ্র সাহিত্যছাদে । বিনাশ হয় দেহের আত্মা অবিনশ্বর । আকাশটা তাই উজ্জ্বলতর । ফিরে দেখি হেঁটে আসা পথে দাঁড়িপাল্লায় হাত – হিসেব চলছে চাওয়া-পাওয়ার ।  আবারও জমবে ধুলো । একদিন কিশলয়ও হবে জরাগ্রস্ত । কালের নিয়মে পুরাতনের ভিড়ে যোগদান সবারই । আ...

সোমনাথ বেনিয়ার কবিতা

প্রাপ্তিমঙ্গল  শেষ কবে চিঠি লিখেছি মনে নেই মনে নেই শেষ কবে কাগজের নৌকা ভাসিয়েছি জলে গোড়ালির সাথে চৌকাঠের একসুতো ব‍্যবধান থাকে সেই অবকাশের পথ ধরে যায় -                                প্রাপ্তি, প্রত‍্যয় ও হারানোর গল্প বর্তমানের বঁড়শিতে আটকে আছে জীবন ঠোকা মারে সুখ, মারে ঠোকা দুঃখ প্রাপ্তি বলতে হাসি, ভেসে আসে মন্দির থেকে মঙ্গল হোক! এখন শব্দ শুনে -          এক-একটি অক্ষর ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখবো খুদ হলে ভাত, কাঁকর হলে প্রণামি ...  ============================== সোমনাথ বেনিয়া ১৪৮, সারদা পল্লি বাই লেন ডাক + থানা - নিমতা জেলা - উত্তর ২৪ - পরগনা কলকাতা - ৭০০ ০৪৯.

স্বপন কুমার বিজলীর ছড়া

হারানো - প্রাপ্তি বছর শেষে নতুন বছর  আবার এল ঘুরে  নতুন বন্ধু জুটল কিছু  কেউ বা গেল দূরে । স্বর্গে যারা গেল চলে  শিল্পী এবং কবি  আমার বুকে চিরটা কাল থাকবে তাদের ছবি । নতুন বছর এবার আসুক  বার্তা বাহক হয়ে  খুশির খবর সব মানুষের  জীবনে যাক বয়ে । স্বপ্ন ভাঙা মন নিয়ে আজ হাঁটছে যারা পথে  এই বছরে হেসে খেলে  চড়ুক বিজয় রথে । ------------------------------ স্বপনকুমার বিজলী  জোকা, কলকাতা , 

প্রণব কুমার চক্রবর্তীর কবিতা

জলে ভেজা জলছবি              জল সপসপে চোখের পাতায়                                 সারাক্ষন ভেসে বেড়াচ্ছে  কিছু বিমূর্ত স্মৃতি , কিছু উপলব্ধি কথা , শব্দের জঙ্গল থেকে উঠে আসা কিছু উদ্ভট স্বপ্নের দংশন সারাক্ষন বুকের ভেতরটায় জ্বালা ধরায় মনটাকে করে তোলে                          একদম আনমনা ..... ঊষর বাদামি বনভূমি দাপিয়ে বেড়ানো উদীপ্ত  আরবী মার্কা ঘোড়াগুলো নিশ্চিত আমাদের এই দেশেরই তাদের খুরের আঘাতে  ক্ষতবিক্ষত সাদামাটা মেঠো পথের           ঘূর্ণায়মান ধুলোয় চারপাশ অনধকার...... প্রতিকূল জ্যোৎস্নায় ইদানিং সারাক্ষণই লেখা হচ্ছে                                 যেসব গল্প আর কবিতা সবটাই যেন জলে ভেজা জলছবি ৷ ===============================...

সুমন নস্করের ছড়া

হর্ষ ও বিষাদ হাইরে গেছে যেদিন গুলো   দুঃখ দিয়ে পিছে, মনখানা ভার করিসনেকো   কাঁদিসনে আর মিছে৷ হর্ষ বিষাদ এই নিযে তো   জীবন বযে চলে, সুখের হাসি মনের মাঝে   দুঃখ চোখের জলে৷ দুখের পরে আসবে রে সুখ   বিষাদ যাবে ঘুঁচে, নতুন আশার আলোয় সেদিন   দুঃখ যাবে মুছে৷ ঝরলে পাতা তবেই গজায়   নতুন কিশলয়, না হারালে চেপেই থাকে   হাইরে ফেলার ভয়৷ হাইরে যাওয়া কিচ্ছুটি আর   যায় না পাওয়া ফিরে, নতুন করে ভাব না আবার   স্বপ্ন আছে ঘিরে৷ হাইরে গেছে যেদিন গুলো   দুঃখ দিয়ে পিছে, নতুন রূপে আসবে ফিরে   কাঁদিসনে আর মিছে৷  ==================== সুমন নস্কর গ্রাম+পোষ্ট- বনসুন্দরিয়া থানা- মগরাহাট জেলা- দক্ষিণ ২৪ পরগনা পশ্চিমবঙ্গ

মোনালিসা পাহাড়ীর কবিতা

সুখে দুঃখে কালের নিয়মে নতুন বছর প্রতি বছরই আসে, পুরোনো হয়ে বিদায় ও নেয় মাত্র বারোমাসে। ২০১৮ও মোদের জীবনে তেমনি এল গেল, নতুন করে২০১৯ আপন হয়ে এল। বিগত বছরে মুঠোভর্তি অনেক সুখের ছবি, দুঃখ ব‍্যথাও বেশ দিয়েছেন গত বছরের রবি। বছর শেষের প্রান্তে দাঁড়িয়ে চলছে হিসেব নিকেশ চাওয়া পাওয়া, হারানো প্রাপ্তি, জমা খরচের রেশ। আকাশ কালো করে তখনই পরপারের পথে, নীরেন্দ্রনাথ, মৃণাল সেন চলে গেলেন একে একে। বাংলা মায়ের সাহিত‍্যাঞ্চল খালি করে এক পলে, না ফেরার দেশে, পাড়ি জমাতে, নির্মোহে গেলেন চলে। দুহাত বাড়িয়ে আপন করেছি নতুন সূর্যোদয়, এছবর যেন এই জগতের সবারই ভালো হয়। ================================== মোনালিসা পাহাড়ী প্রযত্নে- চন্দন দাস মনোহরপুর, গড় মনোহরপুর দাঁতন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৭২১৪৫১

কান্তিলাল দাসের কবিতা

ঝড় প্রতিটি বছরই ঝড় নিয়ে আসে ভেঙে যায় পুরানো ও নতুন গাছের কাণ্ডগুলি বাগানের দৃশ্য দেখে চোখে আর মনে জল এলে দোষ দিই কাকে ! একেক বছর ঝড়ে নিঃশেষ হয়ে যায় মূল্যবান গাছের মতন আমাদের শিল্প-জ্ঞান-কলা আর সংস্কৃতির স্তম্ভ মানুষেরা। হে প্রিয় মুখ,- চলে যাওয়া বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ মুখদল মুখর হবেনা কোনোদিন আর সৃষ্টির সৌরভে থাকবে যদিও অমর। তবু, হারানোর ব্যথা ঝড় হয়ে দেখা দিল দু হাজার আঠারোয় স্তব্ধশোক বিস্ময়ে বাস্তুচ্যূত যেন ! হে প্রণম্য গুণীজন এই নভোতলে তৃষিত চাতক হয়ে থাকি যা পেয়েছি ঢের, তবু পেতে চাই আরো সকরুন চোখ খোঁজে আজও দেখি তোমাদের দীপ্র উপস্থিতি রেখে গেলে বৈদূর্য মণির মতো অরূপ রতন সে এক সম্পদ থাক এ মনের মণিকোঠা জুড়ে! যেন টের পাই দ্বিজেন- নীরেন- মৃণাল- পিনাকী এঁরা বলছেন স্মিত হেসে চলে তো এসেছি এক অদৃশ্য শিল্প আর কলার তালুকে যা রেখে এলাম মন দিয়ে দেখো সব, বুঝো আমরা এখন স্টিফেন হকিঙের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি শেখার তো শেষ  নেই কৃষ্ণগহ্বরটা কেমন, জানার চেষ্টায় আছি সব। ভালো থেকো। ........ কান্তিলাল দাস বেলতলা লেন সিঙ্গুর হুগলি

পল্লব দাসের কবিতা

বিস্মৃত   সম্পর্কের ঊর্ধ্বে সম্পর্ক মন জুড়ে তুই চাহিদা মেটে অন্যতে বিচ্ছিন্ন হয়েও কোথায় বিচুত্য মরে নি ভালোবাসা হারিয়েছি অধিকার ঢেলেছি জল রোজ মৃতপ্রায় চারা গাছ জলে আর বাঁচে না আমি এখন স্মরণাতীত।      =====

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

ছড়া ।। লিচু ।। আনন্দ বক্সী

লিচু  আনন্দ বক্সী 'গোয়াঙডঙ প্রদেশ' জায়গাটি চিনে  শুরু হয় চাষ এর অতীতের দিনে। টক আর মিষ্টিতে মজাদার খেতে  ছোটো-বড় সকলেই চায় স্বাদ পেতে। আকারে লম্বা-গোল ছোটো ছোটো ফল  থোকা থোকা ঝুলে থাকে গাছে অবিরল।  ছূঁচালো অগ্রভাগে খসখসে দেহ  কাঁচায় সবুজ ত্বক নেই সন্দেহ।  পাকলে গোলাপি লাল বাইরের ছাল  ভিতরের অংশটা সাদা চিরকাল।  আঁটিটা শক্ত খুব পয়জনে ভরা  বাদামি রঙেই এর দেহখানি গড়া। গ্রীষ্মের ফল এটি ভরপুর রসে  স্বাদ এর মনটাকে করে নেয় বশে। ভেবে বলো এর নাম পেলে নাকি কিছু? ঠিকই চিনেছ একে ফলটি যে লিচু। খোসাটা ছাড়িয়ে খাও কাঁচা হোক পাকা  স্যালাড-মিষ্টি-জুসে পাবে এর দেখা। শর্করা-চিনি-জল নেই এতে কম  ভিটামিন-ফাইবারে ভরা একদম। খনিজের আছে স্থান এই ফল মাঝে  শরীরের উপকারে লাগে যেটা কাজে। লোহিত কণিকা গড়ে আমাদের দেহে  হার্টকে সুস্থ রাখে অপরূপ স্নেহে। দেহ-ত্বকে ধরে রাখে এর যে সতেজতা  ওজনটা কমাতেও করে সহায়তা। রক্তচাপকে করে করতলগত  মধুমেহ রোগ এর হয় অনুগত। বশে রাখে লিচু শুনি বাত-হাঁপানিকে নানা কাজে প্রয়োজন এই ফলটিকে। খালি পেট...

ছোটগল্প ।। মনোকষ্টে বাবলা ।। দীপক পাল

মনোকষ্টে বাবলা দীপক পাল পয়লা বৈশাখে হালখাতা করতে গিয়ে যা বেহাল অবস্থায় পরেছিল তিন মক্কেল তারপরে বাড়ীতে মা বাবার যা বকুনি জুটেছে তা আর বলার নয়। তিন মক্কেলও ঘর থেকে বেরোয়নি। তৃতীয় দিন সকালে বাবলার বাবা বাবলাকে বলে, - ' জানিস আজ সকালে দিদি ফোন করেছিলো আমরা কেউ গিয়ে একবারও দেখা সাক্ষাত করি না কোন খোঁজ খবর করিনা আমরা কেমন আছি। তাই আমি ঠিক করেছি এই টাকাটা নিয়ে তুই একবার ঘুরে আয় সোনারপুর। ' -' আজ যাবনা বাবা। একা যেতে ইচ্ছে করেনা , কাল বিশ্বরূপ ও সৌম্যকে নিয়ে যাব।' - ' আচ্ছা তাই যাস যদি ওরা যায়। তবে আরো কটা টাকা নে।' বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপকে ফোনে সন্ধে সাতটার সময় পার্কে আসতে বলল। বললো অনেক কথা আছে।  যথারীতি সন্ধে সাতটায় পার্কে সবার দেখা হলো। কিছুক্ষণ সাধারন কথাবার্তা চলার পর অটোমেটিক হালখাতার সন্ধের ঘটনার কথাটা উঠলো। এবার আর কোন বিরক্তি বা রাগের কথাতো উঠলেই না কোন দোষারোপ না। সবাই খানিক মজা আর হেসে লুটোপুটি খেলো। এর মধ্যে সৌম্য হঠাৎ বলে উঠলো, - ' আচ্ছা বাবলাদা তুমি হঠাৎ আমাদের পার্কে ডেকে পাঠালে কেনো, কি ব্যাপার?' - ' কেন, আমি তোদের ডাকতে পা...

বাংলার কথা ।। আবদুস সালাম

বাংলার কথা : একটি আলোচনা আবদুস সালাম যে বাংলা নিয়ে আমাদের এত গর্ব এত অহংকার সেই বাঙলা কিন্তু একদিনে গড়ে ওঠেনি। বহু বিবর্তনের পথ ধরে বাংলা রূপ নিয়ে আজ আমাদের সম্মুখে বিরাজমান। আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে--" মৌর্য বিজয় থেকে আরম্ভ করে গুপ্ত রাজবংশের রাজত্ব পর্যন্ত খ্রিস্টীয় পূর্ব ৩০০ বছর থেকে খ্রীষ্টিয় ৮০০ বৎসর ধরে বাংলার অস্ট্রিক ও দ্রাবিড় ভাষাভাষী জনগণ নিজ অনার্য ভাষা ত্যাগ করিয়া ধীরে ধীরে আর্যভাষা অর্থাৎ মগধের প্রাকৃত ভাষা গ্রহণ করিল। উত্তর ভারতের ব্রাহ্মণ্য ধর্ম সভ্যতা ও ঐতিহ্য অর্থাৎ সংস্কৃত ভাষার সত্তা হারিয়ে আর্য-অনার্য ইতিহাস পুরাণ এবং উত্তর ভারতের আর্য অনার্যে ইতিহাস পুরাণ বঙ্গদেশের অধিবাসীরাও গ্রহণ করে। বৌদ্ধ ও জৈন মতবাদ আসিল, তাহাও বাংলায় গৃহীত হইল।" এভাবেই দ্রাবিড় অস্ট্রিক ও উত্তর ভারতের মিশ্র আর্য জাতির মিলনে সৃষ্টি হলো বাঙালি জাতি। দু হাজার বছর ধরে বহিঃস্থ শক্তি সমূহ মৌর্য,গুপ্ত ,পাল, চন্দ্র,বর্মন, দেব, কোল,সেন, তুর্কি, মুঘল, ইংরেজ প্রভৃতি জাতির আক্রমণে বিধ্বস্ত হয়ে নিজের সত্তাকে বিসর্জন দিয়ে শংকর জাতি হয়ে জীবন যাপন ক...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় আধুলি ও কড়িতে কেনা নেই আমাকে আমার চেনা হয়নি জানা হয়নি ঘায়ের আকার ঠিক কতটা হলে সেলাই পড়ে নিজেকে দামি ভেবে গেছি রোজ... বার বার ভুলের পর,আজ যা পড়ে আছে তা কেবল আত্মশ্লাঘা এক জনমের সওদায় যাকে বিক্রি করা যাবে না তাই তো বুকে আগলে বসেছি আমার বিস্ফোরণ আর সেই ধ্বংসস্তূপে নুন ছিটিয়ে যাচ্ছে গোটা শহর। নিরালায় আছি মানচিত্রে আমাদের স্থান এক ও অনন্য অন্ধের দৃষ্টি খোঁজার মতো আমরাও আমাদের মৃত ভালোবাসাকে উস্কে দিই ব্রক্ষ্মাণ্ডে,তখন চাঁদটাও নগন্য লাগে যেন একটুকরো কালো পাথর আবার সময়ে সময়ে বেড়ালের ল্যাজ নাড়াটাও হয়ে ওঠে পৃথিবীর অন্যতম মনোরম দৃশ্য ওর ল্যাজে লেগে থাকা পিঁপড়েটা তখন আমি, ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ যেন প্রকৃতির বুকের এক টুকরো বিরহ। ....................... জয়িতা চট্টোপাধ্যায় শ্যামনগর উত্তর চব্বিশ পরগনা ভারত

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক তপন মাইতি বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়; এটি বাঙালির সামষ্টিক স্মৃতি, কৃষিনির্ভর সভ্যতার চিহ্ন, অর্থনৈতিক বিন্যাসের সূচনা এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক। সময়কে মানুষ ক্যালেন্ডারে বন্দি করলেও, নববর্ষ আসলে মানসিক পুনর্জন্মের এক সামাজিক অনুষঙ্গ। বছরের প্রথম দিনকে কেন্দ্র করে বাঙালি নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সংকল্প করে। পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলা—এই ধারণা বাঙালি জীবনদর্শনের গভীরে প্রোথিত। নববর্ষ মানে শুধুই উৎসব নয়; এটি স্মৃতি, শ্রম, আশা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি সামাজিক চুক্তি। বাংলা নববর্ষ তাই একদিকে কৃষিজীবনের ঋতুচক্রের সাথে যুক্ত, অন্যদিকে নাগরিক সংস্কৃতির আধুনিক উৎসবে রূপান্তরিত এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। বাংলা সনের উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সাধারণভাবে মনে করা হয় মুঘল সম্রাট আকবর রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে সৌরভিত্তিক বাংলা সাল চালু করেন। কৃষিভিত্তিক সমাজে ফসল কাটার সময় অনুযায়ী কর আদায় প্রয়োজন ছিল।হিজরি চান্দ্র সন কৃষির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।ফলে সৌরবর্ষভিত্তিক বাংলা সনের প্রবর...

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬