তিনটি কবিতা ।। নিশা তালুকদার
বৃষ্টিভেজা মুক্তি
এমন তো হয় না রোজ,
সকাল সকাল বৃষ্টি
কেউ তো নেয় না খোঁজ
মরে গেছি, না বেঁচে আছি।
দমকা হাওয়ায় উড়িয়ে নিয়ে যায়
মন খারাপের চিন্তা গুলো,
ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ফোঁটা
আমার সারা শরীর ছুঁলো।
মাথার চুল তখন
বেঁধে রাখা যায় না,
ছটফট করে মন
কারো নিষেধ শুনতে চায় না।
খুলে দিয়ে খোপা
বৃষ্টির তালে নাচি,
জীবনটা আমার
আমি নতুন করে বাঁচি।
প্রেমিকা হিসেবে আমি
প্রেমিকা হিসেবে আমি বড়ই স্বার্থপর
ভালোবাসায় ডুবে থাকতে চাইবো।
কোন নারীর দিকে তুমি তাকাও
তা আমার সহ্যের বাইরে।
প্রেমিকা হিসেবে আমি অনেক লোভী
একগুচ্ছ বায়না নিয়ে হাজির হব।
আমার চাওয়া শেষ হবেনা কোনদিনও
পারবে কি তুমি সব দিতে,
প্রেমিকা হিসেবে আমি খুব বেশি অভিমানী
অভিমান ভাঙাতে ভাঙাতে
একপ্রকার বিরক্ত হবে নাতো তুমি?
প্রেমিকা হিসেবে রাগটাও কম জানি না
একটু কিছুতেই রেগে যেতে পারি
তখন বলবে না তো,
অকারণে রাগা তোমার, লাগে বড্ড বাড়াবাড়ি।
প্রেমিকা হিসেবে যদি করি একটু পাগলামি
বলবে না তো পাগল হয়েছি আমি।
প্রেমিকা হিসেবে আমি,
আরও অনেক কিছুই করতে পারি
সবই আমার ছেলে মানুষই বলে
শেষমেষ করবেনা তো ছাড়াছাড়ি।
সময় বাঁধা জীবন
কখনো যদি মন চায়
বারে বারে ছুটে যায়
পুরনো দিনের স্মৃতির কাছে
বাড়ে বাড়ে কড়া নেড়ে
বলবে, আর কি পাওয়ার আছে?
হতবাক হয়ে বসে থাকবে
সত্যি তো, যা ছিল পাওয়ার
তা সম্পূর্ণ না হলেও
সময় ফুরিয়ে গেছে।
ভেবে ভেবে কেনই বা
আগামী দিনের স্বপ্ন পূরণের পথে
বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এ সময় বড় মূল্যবান, নিষ্ঠুর
মনে যদি লাগে ভাঙ্গন
হয়ে যায় চুরচুর।
সময়ের ইতি ভেবে পালিয়ে বাঁচা যায় না
সম্মুখে টেনে ধরে আয়না।
কি পাওয়ার আছে কি বা রয়ে গেছে
শেষ সময়ে এইসব ভেবে
বুক করবে চিনচিন
অতঃপর হঠাৎ,
ঘড়ির ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়ার মতো
প্রাণ থেমে যাবে একদিন।
===============
নিশা তালুকদার
নদীয়া জেলার মদনপুর গ্রাম
Comments
Post a Comment