তিনটি কবিতা ।। তৃষিতা মিত্র
শাওন
অঝোর ঘনঘোর বর্ষা
রুমঝুম রিমঝিম দিন
কারা যেন ভরে তুলেছে
জলের বিছেহার সন্ধে কলস
নদী উত্তাল ইলিশ মাছের ঘ্রাণ
নদী ছাপিয়ে তরঙ্গ লহর তুলে
পৌঁছে যায় এ ঘরে সে ঘরে
মাটিতে বনে বজরায় সাগরে
বারিধারায় উল্লসিত বৃক্ষরাজি
সবুজের শ্যামল সমারোহ আর
দিকে দিকে নবপত্রের হরষগীতি
দগ্ধ গ্রীষ্ম প্রখর গ্রীষ্ম রুক্ষ্ম গ্রীষ্ম
তোমার তর্পণ হোক বরষা সলিলে
খ্যাপা বাউলের উন্মত্ত তারের সুর
স্রোত ঢেউ মিলেমিশে কী যে মোহ
নিষিদ্ধ প্রলুব্ধকর ইশারা ছড়ায়
ভেসে চলে জলে স্মৃতি খেয়াতরী
ঠিক যেন বর্ণবিলাসী রামধনু।
মুস্তাং
এই কি সেই মুনল্যান্ড?
বহু প্রতীক্ষিত চাঁদের পাহাড়?
কে সাজাচ্ছে আমাদের সঙ্গে
অবিরত এই জলের আলপনা?
এই কি সেই কালীগণ্ডকী?
আহা কী অপূর্ব সুদৃশ্য পাহাড়!
আহা কী সুন্দর আগুনরঙা পাহাড়!
মাটি মেশানো ঝুরো পাথুরে পথ
কোথাও তো ধসে পড়েছে কী রিস্কি!
চোখে পড়ে কতো শালগ্রাম শিলা
এ শিলার মাহাত্ম্য সম্পর্কে অবগত?
এলাকা দুর্গম, সাহস রেখো মনে,
পর্বতের সর্বাঙ্গে আভিজাত্যের ছোঁয়া!
সর্বত্র বাইকারদের আনাগোনা
কত গুম্ফা সাবেকি হোমস্টে
রুচিশীল পরিপাটি কত দোকান
পসরা গুম্ফার দেওয়ালে দেবতার
মন্ত্র, বাণী, রেখা রঙ তুলির কী নৈপুণ্য!
দেবতার পায়ে বুদ্ধের চরণে নিজেকে
করো সমর্পণ, মুস্তাং মুক্তিনাথ ছেড়ে
ফিরে আসতে মন চাইবে না।
অবধূত
ভালোবাসার মন্ত্রে কী নিমগ্ন আমি
যেন উচ্চাশাভিক্ষা চেয়ে দাঁড়িয়ে আছি!
নির্জনতার কারণ কি নিয়মনিষ্ঠ হয়?
বিদগ্ধ বিদ্বজ্জন ইঙ্গিত দিয়েছেন তার কিছু?
তোমার বিলোল কটাক্ষে হলেম পরাস্ত
কোথায় কোথায় যে ঘুরছি তা আমি
নিজেও স্পষ্ট যেন হয়ত জানি না।
তুমি চেয়েছ, আকাশও তাই মেঘলা
হয়ত নক্ষত্রবস্তু নীহারিকার মতো আমিও
এই মহাকাশে ডানা গুটিয়ে সান্দ্রতার
আশ্চর্য মন্ত্রে জিগজ্যাগ পথে ভেসে বেড়াচ্ছি।
কেউ জানে না মানুষ এ বিশ্ব সংসারে
কত কোটি বছর যাবৎ শুধু ভালোবেসে চলেছে
সব যেন লেখা আছে বহমান ওই
ক্ষীণধারা পুণ্যসলিলা গঙ্গাজলে।
-------------------
তৃষিতা মিত্র
শিলিগুড়ি, দার্জিলিং
Comments
Post a Comment