কখনো তুমি
তুমি কখনো বরষার অবারিত বারি,
আবার কখনো তুমি প্রচন্ড দাবদাহে প্রজ্জ্বলিত অগ্নিদাহ খরা।
কখনো তুমি কনকনে শীতের হিমবহতা,
আবার কখনো তুমি বসন্তের মিষ্টি হাওয়া।
কখনো তুমি পড়ন্ত বিকেলের গোধূলী লগন,
তেজস্বী রবির বিদায়বেলা।
আবার কখনো তুমি দিবাভাগের অন্তিম মূহুর্তের রক্তিম গগণ,পাখিদের নীড়ে ফেরার সন্ধিক্ষণ,
রাতের নীল আকাশে তারা'দের অসারিবদ্ধ বিচরণ।
কখনো তুমি জোনাকির আলো,তুমি দৃষ্টির পিদিম,
তুমি আলেয়ার আলো।
তুমি রঙিন জ্যোৎস্নার ঝলমলে আলোকসজ্জা,
সেই তুমিই আবার অমাবস্যার ঘণ,গাঢ় নিম
রজনীর ঘোর আঁধার,এক রাশ হতাশা আর হৃদয়ের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত দুঃখের নিষাণ।
কখনো তুমি আত্মার ব্যাকুলতা,কখনো আবার আশার ভেলা।
কখনো সেই তুমিই স্বপ্ন সারথী,তোমাতেই প্রত্যাশার শুরু,তোমাতেই তা সারা।
কখনো তুমি তটিনী সঙ্গমে উন্মুখ প্রবল ঝর্ণাধারা,
আবার কখনো সাগরে মিলনের জন্য স্বীয় সত্ত্বাকে বিলিনকল্পে ব্যস্ত স্রোতধারা।
তুমি কখনো আমার আশার আলো,কখনো রাজ্যের হতাশা।
কখনো তোমাতে আমি হরষে উৎফুল্লচিত্ত,
কখনো বা আমি তোমাতেই দুঃখিত মননে পরাজয় স্বীকারে মত্ত।
তোমাতেই চলে আশার ভেলা,
তোমাতেই সমাপ্তি তার পরিক্রমা।
তুমি যোগে হাসি আমি,কাঁদি তোমার বিয়োগে,
পরিশেষে তাই রাতের আঁধার কহিল মোরে,
ভুলে যা তুই সকল ব্যথা-বেদনা,হতাশা-
আছি আমি সাথী হয়ে তোর সাথে সতত,সহসা।
তোমায় অনেক ভালবাসি
তুমি না হয় নিঃসীম আঁধারের মাঝে আলোর দিশারী হয়ে আমার স্বপ্নেই বেঁচে থেকো।
তুমি না হয় আবার নতুন করে একান্তই
আমার হয়ে এসো।
তুমি না হয় শুধু আমার জন্য তোমার জীবনের কিছুটা আশা যতন করে রেখো।
তুমি না হয় আবার কিছুটা স্বপন আমার জন্য মুঠো ভরে রেখো।
কান্না না হয় কিছু লুকিয়ে রেখো অতীব যতনে আমার লাগি।
মুছে দিব তা সযতনে আমার নঁকশি আঁকা রুমাল দিয়ে।
শেষ জীবনে সহায়হীন তুমি খুঁজবে সহায় যখন পাগলপ্রায় হয়ে।
হাঁতড়ে বেড়াবে অতীত স্মৃতি সুখের কিছু ছোঁয়া পেতে।
তোমার আকাশের মেঘমালা সরিয়ে
আসব নিয়ে তখন স্নিগ্ধ রোদ্দুর,ঝলমলে আলো!
তোমার বসুন্ধরা আলোকিত করতে।
তুমি না হয় তোমার চোখের কোণে
জমিয়ে রেখো কিছু অশ্রু,
বিসর্জিত হবে যা আমার মরণকালে,
পড়বে তোমার কপল বেয়ে।
জুড়াব আমার তপ্ত দেহ,অতৃপ্ত আত্মা
সেই অশ্রুজল গায়ে মেখে।
এখন আমার যৌবন,তোমারও তা।
ছুটছ তুমি ভবিষ্যৎ আলোর লোভে
ভয়-ডরহীন দিক্বিদিক!নেই কোন পিছুটান!
আমিও সাধিনি বাঁধ তোমার অদম্য যাত্রাতে।
পড়ন্ত বিকেলের শাখাহীন বৃক্ষের ন্যায়
ঠাঁই দাড়িয়ে রব নাঙ্গা সর্ব গায়।
তুমি না হয় সেই গাছের গোড়ায় পানি ঢেলে
আমায় একটু সতেজ করো।
তুমি না হয় আমার অন্তিম লগনেই ভালবেসো।
আমার মুখে হাসি ফোঁটানোর জন্য না হয়
একটু কলা করো।
শেষ বয়সে,বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে পড়া আমি যখন পাব না ঠাঁই আর কোথাও,
তুমি না হয় তখন আমার আশ্রয় হয়ে এসো।
তখন না হয় সব অহং ভুলে একটু ভালবেসো।
ভুলে যেতে বসা হাসিটাকে না হয় তুমিই আবার শিখিয়ে দিয়ে আমার ঠোঁটে লেপ্টে দিও।
সেই হাসির রাঙা রঙে তোমার ঠোঁট রাঙিয়ে নিও।
তুমিও যখন বৃদ্ধা হবে,অচল তোমার
শয়নের বিছানাটাও না হয় আমিই বিছিয়ে দেব।
বেলা শেষের ডাকে যখন তুমি কাউকে পাবে না পাশে!
বলব আমি,ভয়গো কিসের?
আছি হয়ে সাথী সতত তোমার সাথে।
অবহেলার চাদরে মুড়িয়ে এতদিন যার ভালবাসাকে করেছ তাচ্ছিল্য অবজ্ঞাভরে,
আমি না হয় এখন এই বয়সে
গলা ফাঁটিয়ে বলব (সেই আমি)-
"তোমায় অনেক ভালবাসি।"
বাঞ্ছিত প্রেম! আকাঙ্ক্ষিত ভালবাসা!
অবাঞ্ছিত যে প্রেম পোড়ায় তোমারে!
সে প্রেম আমার আকাঙ্ক্ষিত বড়ই বাঞ্ছিত।
অনাকাঙ্ক্ষিত যে প্রণয় শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে চাই তোমারে,
সে প্রণয়ে হেরেছি আমি অবজ্ঞার প্রলয় ঝড়ে।
নয়নে ছিল তোমার অস্পৃশ্য মায়া,
পড়েনি তার অবয়বে কভু যার ছায়া।
দিবস রজনী এক করে ছুটেছ তার পিছু,
পাওনি নাগাল ফুরিয়েছে দিশাহীন আয়ু।
বিঘত সম দূরত্বে দাঁড়িয়ে দেখেছো তার লীলা!
বুঝে আসেনি কখনো ঠিক ভুলের অসমতা।
আমিও পাইনি ঠাঁই তোমার হৃদয় গহ্বরে,
বাঞ্ছিত প্রেম রইল অনাকাঙ্ক্ষিত হয়ে।
হেরে গেছি আমি!
পারোনি জিততে তুমিও।
পারলো না ফেরাতে তোমায় আমার শত আরাধনা,
চির আকাঙ্ক্ষিত সে প্রেম,বাঞ্ছিত সে ভালবাসা।
মায়া!
একদিন মেঘের পালকে সওয়ার করে, হাওয়ার ভেলায় ভাসিয়ে দেব একমুঠো মায়া!
ইচ্ছে মতো কুড়িয়ে নিয়ে মেখে নিও তারে গায়ে।
তোমার ঐ প্রেমহীন রাজ্যে মায়া'র আজ বড়ই অভাব।
ভালবাসার অনটনে চলছে সেথা প্রবল খরা,এসেছে নেমে দুর্ভিক্ষ।
অনিলের ঢেউয়ে মেঘের যে দল এইমাত্র ভেসে গেল তোমার আকাশে তারই মাঝে
মিশিয়ে দিলাম একমুঠো সুখবৃষ্টির বায়ু।
একটু সবুর কর!
শান্তির বারির অঝোর ধারা এই নামল বলে!
তোমার ধরায় আজ যে বারির অকাল!
ইচ্ছামত সিক্ত করে নিও তব অঙ্গ তব গাত্রখানি।
সেই সাথে ধুয়ে যাবে তোমার পৃথিবীর যত কত শত জঞ্জাল।
অতঃপর, বর্ষার রিমঝিম যাত্রার বর্ষণমূখরতার জ্যোতি টেনে পূর্ব গগনে দর্শন মিলবে দৃষ্টিনন্দন রংধনুর।
পশ্চিমের হেলে পড়া রবির আবির সেই সাতরঙা আবিরে মিশে তৈরি হবে এক অপার সৌন্দর্য।
গোধূলি বেলার অন্তিম লগনে সেই আলো গায়ে মেখে ঘরে ফিরো তুমি মনের হরষে।
মন যদি তখন গৃহে ফেরার আকুতি না জানায়,
ক্ষতি কি!
অকস্মাৎ দেখবে তখন তুমি পাখিদের কিঁচিরমিচির রবে ঘরে ফেরার মিছিল।
অতঃপর, আঁধার ঘনিয়ে এলে বিস্তীর্ণ বালুচর এক অপরূপ সৌন্দর্যের পসরা নিয়ে বসবে তোমার সম্মুখে।
বাড়ি ফেরার অপেক্ষা যদি দীর্ঘ মনে হয়,
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য দর্শনে মত্ত থাকা ক্লান্ত তোমারে পথ দেখিয়ে গৃহে নিয়ে যাবে একদল টিম টিম করে জ্বলা জোঁনাকির দল।
সহায়ক হবে সেথা ওই দূর গগণ-পানের নীলাভ চাঁদোয়া আর অসারিবদ্ধ তারার আনাগোনা।
মোহাচ্ছন্ন এই সুখ গায়ে মেখেই মন্ত্রমুগ্ধ তুমি ঘুমিয়ে যেও গভীর আয়েশী ঘুমে।
স্বপ্নলোকে দেখবে এসেছে তখন তোমার সারথী।
মায়া ভরা সে মুখ খানা দেখে ভুলবে তুমি জাগতিক সব ব্যথা।
আহ্ মায়া!
ভুলোনা কভু তুমি তারে,
হয়ে থেকো তার অনুসারী, হয়ে থেকো তার ছায়া।
একবার যদি কেউ ভালোবাসত।
তুমি কিন্তু অতটাও সুন্দর নও, যতটা নিজেকে ভাব। আমার দৃষ্টির সৌন্দর্যেই তুমি আজ এত সুন্দর! আমি সবিস্ময়ে তোমার পানে চেয়ে থাকি বলেই তোমার সৌন্দর্য্য আজ ঠিকরে বেরিয়ে পড়ছে। হাজারো দুঃখ- কষ্ট,অপমান সয়েই আমি এই খেলায় মেতেছি। কেউ তা জানে না ,জানতেও পারবে না কভূ। অপরের অনলে স্বীয় সত্ত্বাকে পুড়িয়ে,নিজেকে দাহ্য করে ভস্ম হয়ে যাওয়ার মাঝে যে প্রশান্তি তা যদি একবার কেউ বুঝতো তাহলে অন্যকে না পুড়িয়ে নিজেই অঙ্গার হত অন্যের অনলে দাহ হয়ে। তোমাকে পথ দেখাতে গিয়ে ফেরার ক্ষণে আমি ভুলে গিয়েছি পথ, কভু পাইনি সে পথের দিশা হারিয়েছি নিজেকে তব মাঝে। গুরুত্বহীণ তরুলতার মত আমার মননটাও উদাসী আকাশে বুনোহাঁস হয়ে উড়ে বেড়ায় আজ। কখনো প্রস্ফুটিত হতে না পারা,কভূ পাদ-প্রদীপের আলোয় আসতে না পারা আমি আঁধারে নিমজ্জিত একজন,যে অহর্নিশি কেঁদে চলেছে তোমার জন্য নিরন্তর। যেদিন আমার বুকের খাঁচাটা শূণ্য করে নিঃস্ব-রিক্ত করে প্রস্থান করেছিলে স্বর্গ সুখের ঠিকানায় সেদিনই ডুবে ছিলাম আমি অমানিশার ঘোর আঁধারে। তবু, ভেবেছিলাম তুমি বোধহয় আমার জীবনের শুরু,শেষ ভালবাসা। পুনর্জন্মে আমি বিশ্বাসী নই। তবু, যদি মহান আল্লাহতালা সমস্ত প্রথা ভেঙ্গে আবার আমাকে এই ধরণীতে প্রেরণ করেন,আবার যদি নবরূপে আসার সুযোগ দান করেন,তখন আমি চাইব আমি যেন আরো অপূর্ণ,আরো ব্যর্থ হয়েই জন্মগ্রহণ করি।তবেই তো তোমাকে আরো বেশি করে আমার হৃদয় লালন করতে পারব।তোমার সুখের নীড়ে আমারে আর নাইবা ডাকলে! চাপা কিছু অভিমান নিয়ে স্বীয় সত্ত্বাকে সিক্ত করে রাখব। ভূলে যাওয়া জ্যোৎস্ন্যা রাতের দুঃসহ স্মৃতি আর অধরা স্বপ্নকে ফিরে পেতে অধীর আমি বসে আছি হৃদয়ের দ্বার খুলে। অনেক কষ্টে আমি ভুলেছি সে পথ যে পথে হারিয়েছি তোমায়। স্মৃতির মানস পটে ধুলো মাখা প্রতিচ্ছবিতে এখন আরো ধুলো পড়ে তা অতিশয় ম্রিয়মাণ টিম টিম করে জ্বলা নিভু নিভু প্রদীপ।ঘুমিয়ে গেছে পুরো পৃথিবী, কোথাও কেউ জেগে নেই শুধু নিশাচর এই আমি ছাড়া। আর তুমি ?তুমি আজ অন্য কারো বুকে মাথা রেখে নিদ্রা যাও পরম পুলকে! নাকি তোমারও মাঝে মাঝে মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে যায় কোন চিরচেনা অথচ অজানা কোন ব্যথায়। আজ আমার কবিতারা প্রায়শ:ই ছন্দ হারায়। কেউ না জানুক কার স্মরণে,কেউ না জানুক কোন কারণে এই বিষন্নতা,এই বিঘ্নতা, এই স্থবিরতা।কেউ না জানুক কোন হতাশায় আমার দিবানিশি কেঁটে যায় নিরবে- নিভৃতে।তবুও তো জীবন অতিবাহিত হয় স্রোতস্বিনী নদীর ন্যায়,কেঁদে যায়,চলে যায় জীবনের নিয়মে। শিশিরের কণা সমৃদ্ধ তোমার হাসি আর মনোলভা দৃষ্টি এবং মায়াবী ছলনার মোহে আমি আজও মোহবীষ্ট। যে আমার জনম জনমের চেনা সেই তোমাকে আগুনের দিনের শেষে যখন ফাগুনেরা আবার আসতে শুরু করবে আমার জীবনে তাদেরকে সাথে নিয়েই ঝর্ণার গান গাইব তোমার সম্মূখে। কভূ জানতে না,জানতেও চাওনি তোমাকে কত ভালোবাসি। যদি কভূ জানতে পার তখন হয়ত নির্বাক নয়নে স্মৃতি হাতড়ে বেড়াবে, খুঁজতে চাইবে পথ ভোলা সে সুখকে। তোমার নয়ন গড়িয়ে পড়া অশ্রু জল বলবে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে- "একবার যদি কেউ ভালোবাসত!
যাযাবর!
তোমার আঁখিতে রেখে আঁখি থাকতে চেয়েছি দিবানিশি।
পথভ্রষ্ট তোমার নয়নের আলোর ছায়ায় ঢাকা পড়েছে আমার সকল আহাজারি।
করুণা লোভী কাতর আমি মত্ত হয়েছি অরণ্য রোদনে।
আমার অরণ্যের সব আয়োজন থমকে গেছে ব্যথার বিষের বিষাক্ত দংশনে।
সংহতি জানিয়ে এগিয়ে এসেছে পাহাড়,
নদী,সাগর,বনানী।
ভাসিয়ে দিয়েছে মধুর আলিঙ্গনের উষ্ণ পরশের সান্নিধ্যতায়।
তবুও,একজন তুমি বোঝনি আমায়।
ধুঁপকাঠি যেমন পুড়তে থাকে অবিরত, আমিও উড়িয়ে চলেছি ধোঁয়া তার মত।
অবুঝ মন আমার শিখতে বলে ঐ ঝর্ণার কাছে,
যেমন করে বিলিন হয় সে সাগর,নদীতে নিজের সর্বস্ব বিকিয়ে।
স্বপ্ন বুনি মানস মাঝে,
মরে গিয়ে যদি থাকি গো বেঁচে,থাকি তোমার অন্তর মাঝে!
সেটাও তো বেঁচে থাকা হবে।
দেদিপ্যমান রবি অস্ত যায় যেমন রাঙা আবিরে স্নাত হয়ে,
আমারেও দিও বিদায় বিস্তীর্ণ বালুচরে হারিয়ে যাওয়া রাঙা গোধূলিতে।
যাযাবর আমি চলে যাব তোমায় মুক্তি দিয়ে এই ধরণী ছেড়ে।
............................
রকিবুল ইসলাম
বিসিক, যশোর, বাংলাদেশ।
Comments
Post a Comment