বিচ্ছেদ
হাত ধরা ছিল কঠিন
হাঁটা হয়নি কোনদিন
স্কুলের মেঠো পথে
পুকুর ছিল অদূর।
সামন ধানের ক্ষেত
শীতকাল হলে সর্ষে
আমার চোখে তুমি
হলুদ ফুলে অপরূপ।
একদিন কিছু কথা
সাজিয়ে চিঠি লেখা
সাহস ছিল কম
বিনিদ্র রাত জাগা।
আঠারোর আগে আবেগ
বাঁধ ভাঙ্গা বেগতিক
তোমাকে ভুলিনি প্রথম
শিমূল বসন্ত স্মৃতি।
শান্তিনিকেতন
একদিন হেঁটে গিয়েছিলে তুমি
বোলপুর থেকে শান্তিনিকেতন।
আমার অবাধ্য মন
আমার চির বাঁধন।
সঙ্গী ছিল সাথী
প্রিয় হাতের মুঠি
ভালবাসার দ্যুতি।
সন্ধ্যার নক্ষত্র শব্দহীন পূর্বপল্লীর মাঠে
চাঁদের গায়ে কলঙ্কের দাগ,
সৌজন্য বিহীন
ভবিষ্যত দ্বন্দ্বের অকৃত্রিম
প্রতীক স্বরূপ।
তানে তানে ফুরিয়ে যাওয়া সময়
যা কখনও হারায় না।
জানালা
বাড়ির উত্তর দিকে যে রাস্তারটা সোজা চলে যায়,
পাশে একটা মাঠ
বিকেলের আনন্দ ধাম।
শোবার ঘরের জানালা দিয়ে
যখন খুশি দেখতাম।
একদিন মাঠ ঘিরে দিল।
তারপর পর পর বাড়ি
গাছপালা করে ফাঁক
ছোটবেলার আদুরে রাস্তা
অপরিচিত হাঁকডাক।
জানালা দিয়ে উঁকি ঝুঁকি
পড়ার মাঝে ফাঁক
সেই সব দিন গল্প বেলায়
স্মৃতির বন্ধন হা হুতাশ।
-----------------
নীলাঞ্জনা হাজরা, শশীভূষণ সরকার লেন, সালকিয়া, হাওড়া-711106
Comments
Post a Comment