তিনটি কবিতা ।। দীপক পাল
নবপ্রভাত কথা
বাড়ছিলাম একান্ত অবহেলায় একটু একটু করে তার চোখের সামনে;
বারান্দায় পড়তে পড়তে সেই সাহিত্য প্রেমি হঠাৎ চেয়ে থাকত আমার পানে
কি যেন ভাবতো আর খাতায় লিখে যেত অনর্গল, বোধহয় আমাকে নিয়ে।
একদিন কি খেয়ালে সে আমাকে সাজালো রঙিন করে সাহিত্যের রঙে
আমি হলাম খুশী, সে কিন্তু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আমাকে দেখে পেল খুব আনন্দ।
পরে আরো কিছু সাহিত্যপ্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে গড়তে চাইলেন এক পরিবার
তারা সব কিছু দেখে শুনে সংস্কৃতির পরিসরের আশায় রাজী হলেন সানন্দে।
ঠিক করলেন তারা গল্প কবিতা প্রবন্ধ দিয়ে ভরিয়ে তুলবেন আমার পাতাগুলি।
তারপর সাহিত্যিকরা আলোচনা করে আদর করে আমার নাম দিল নবপ্রভাত।
ভাল ভাল লেখকদের ভাল ভাল লেখায় উৎকর্ষতা বাড়তে থাকলো আমার,
বছর বছর আমি বড় হতে লাগলাম, তার সাথে আমারো নাম হতে থাকলো,
সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐতিহ্যের মাঝে আমি পরিনত হলাম এক মহীরুহে
অন লাইনে ছড়িয়ে পড়লাম আমি সবার মাঝে, দিকে দিকে বহু পাঠক হলো
বইমেলায় জায়গা পেল আমার প্রকাশিত বিভিন্ন প্রকারের বই বছর বছর।
থরে থরে সাজান হয় সেসব বই সরকারের দ্বারা দেয় নির্দ্দিস্ট স্টলে।
বই মেলায় ঘুরতে ঘুরতে ছোট থেকে বড়রা নেড়েচেড়ে দেখে সেসব বই
কখনো কেনে কখনো নেড়েচেরে দেখে, গল্প কবিতা প্রবন্ধ নিবন্ধের বই।
এছাড়া বছর বছর প্রকাশিত নবপ্রভাতের উৎসব ও বইমেলা সংখ্যা।
সবার শুভেচ্ছা নিয়ে আমরা পথে চলেছি ও চলতেই থাকবো অবিচল।
নিকশিত প্রেমের ছন্দ
দীপক পাল
প্রেম এসেছে বারে বারে নিঃশব্দে চুপিচুপি মোর প্রাণে -
আবার তা হারিয়ে গেছে কোনও অমোঘ টানে।
কুয়াশা যেমন মিশে যায় ঘাসের বুকে সন্ধ্যা রাতে,
সকালের রাঙা রোদে তা শিশির হয়ে শুকিয়ে যায় সাথে সাথে।
পরদিন সন্ধ্যায় কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পরে মাটি ও ঘাসেরা
আবার নতুন সকাল এসে কুয়াশা সরিয়ে দিলে মুক্তি পায় তাহারা।
সাগরের ঢেউ যেমন আবেগে আছড়ে পরে ঘন ঘন পারেতে,
কখনো সে মেশে না পারের বালিতে বা মাটিতে;
খেলা চলে নিরন্তর সাগরের ঢেউ ও তীরের মাঝে,
আমার প্রেমও চলেছে অতি ধীরে এক অলসতার মাঝে।
স্বার্থহীন প্রেম কভু টেকেনি তাই সরে গেছে কোন সুদুরে-
ঘামে ভেজা মাটি ক্ষেতের আলপথে যেটা দেখেছি চোখের পরে,
আর কিষান যখন বীজতলা পুতে ক্লান্ত শরীরে বসে গাছের ছায়ায়
কিষানি তখন এক থালাতে পান্তায় নুন লংকা মেখে একসাথে খায়
গভীর মমতায়, দোলচাল চলে তাদের মনে ভবিষ্যতের মগ্নতায়।
চোখে স্বপ্ন আঁকা হয় এক গোলাভরা ধান, নাকে লাগে যেন
পাকা ধানের আগাম সুবাস, ভাবে এক সচ্ছল সংসার হয় যেন।
প্রাণে তখন তাদের ভেসে বেড়ায় আসন্ন নবান্ন উৎসবের গন্ধ।
কিষাণ কিষাণির বুকে জেগে ওঠে এক নিকশিত প্রেমের ছন্দ।
ইতিহাসের রক্তবীজেরা
দীপক পাল
বড় ব্যাথা লাগে যখন একদল দামাল ছাত্রের মাতৃ ভাষার জন্য
বন্দুকের সামনে বুক পেতে রক্ত দিয়ে শপথ করে মায়ের শৃঙ্খল মোচনে,
সালাম বরকত জব্বর ও আরো কত শত, তারা ছিল অজেয় অনন্য।
রক্ত দিয়ে ইতিহাস গড়েছিল যারা তাদের মাতৃভাষার মুক্তি ছিল স্বপনে।
তাই সারা বিশ্বে এখন উচ্চাসনে বাংলা ভাষার স্থান।
সেই ভাষায় কালি ছিটালো একদল শয়তান আর লুটেরা
রবীন্দ্রনাথ নজরুল জীবনানন্দের রূপসী বাংলার বুকে আঘাত করে
ধংস করতে চায় শয়তানের দল, জঙ্গিদের সাথে নিতে ভাঙলো কারা,
সত্তর বছর ধরে মাতৃ ভাষার জন্য একত্রে দুই বাংলার সাংস্কৃতিক যোগ,
শেষে কিনা দেশের শত্রুদের দ্বারা মানুষের অত্যাচার হয় বাঁধনহারা!
সত্যি কি শেষ হবে এই ইতিহাস, বৃথা যাবে কি শহীদের রক্ত ?
আরকি যাবে না শোনা বাঙালীদের মুখে তার নিজের মাতৃভাষা ?
বন্ধ হবেকি বাংলা সংস্কৃতি চর্চা যার ভিত্তি অতি গভীরে।
না বন্ধ হবেনা হবে নাকো বন্ধ কখনো, এযে আমরি বাংলা ভাষা।
তাই বলি কি, ব্যার্থ হবে না কভু, হতে পারে না বীর শহীদের রক্ত
ইতিহাসের পূণ্য লগ্ন যে ফিরে ফিরে আসে বারে বার রক্তবীজের
বংশধরেরা জন্মায়, দলে দলে হয় শহীদের ভক্ত
তারা বিদ্রোহী হয়ে পরাজিত করে ফিরিয়ে আনে ইতিহাসকে বারে বারে।
ইতিহাস বয়ে চলে তার নিজস্ব ধারায় বরাবর।।
টিপ্পনী:
: বাংলাদেশের ইউনুস সরকারের আমলে অস্থির পরিবেশের পরিপ্রেক্ষেতে।
===================
Dipak Kumar Paul,
DTC, Block-8, 1B,
Joka
তারা বিদ্রোহী হয়ে পরাজিত করে ফিরিয়ে আনে ইতিহাসকে বারে বারে।
ইতিহাস বয়ে চলে তার নিজস্ব ধারায় বরাবর।।
টিপ্পনী:
: বাংলাদেশের ইউনুস সরকারের আমলে অস্থির পরিবেশের পরিপ্রেক্ষেতে।
===================
Dipak Kumar Paul,
DTC, Block-8, 1B,
Joka
Comments
Post a Comment