ভালোবাসা অভিশাপ
জনি সিদ্দিক
পশ্চিমের আকাশে সূর্যটা ঢলে পড়েছে। কিছুক্ষণ আগে আসরের আজান দিল। বিকেলের এমন মধুময় উপভোগ্য সময়ে গ্রামের মেঠো রাস্তায় ফসলের আইল ধরে হাঁটছিল সজল। সূর্যটা অনেকটাই রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। তার চোখে-মুখে এক অদ্ভুত উচ্ছ্বাস। সূর্যের পড়ন্ত বিকেলের আলো সজলের ফর্সা চোখে-মুখে পড়ে অস্বাভাবিক সুন্দর লাগছিল। পাশের গ্রামের মেয়ে লায়লীর সঙ্গে তার রিলেশন চলছে প্রায় দুই বছর ধরে। তাদের হাসি–কান্না, ঝগড়া–খুনসুটি, লুকিয়ে দেখা আর হাজারো ছোট ছোট স্মৃতি ভরিয়ে রেখেছে দু’জনের মন। আবেগের নদীর স্রোতে হারিয়ে হাবুডুবু খায় তারা।
সজল কেবল ইন্টার পাশ করেছে। আর লায়লী কেবলমাত্র এসএসসি পাশ করে কলেজে পা রেখেছে।
কিন্তু এই রিলেশন ছিল সমাজের চোখে অভিশাপ। লায়লীর পরিবার ধনী, আর সজল গরিব কৃষকের ছেলে। স্বাভাবিকভাবেই এমন সম্পর্ক কেউ মেনে নেয় না। একদিন বিকেলে লায়লী হেসে বলে— “শোনো সজল, যদি তোমার কাছে টাকা-পয়সা না-ও থাকে, তবুও আমি তোমাকেই চাই। আমি তোমাকে সারা জনম বুকের সাথে জড়িয়ে রাখতে চাই। যত ঝড় আসুক না কেন, টাকা-পয়সা কিছুই চাইনা, আমি শুধু তোমাকে চাই। আমি শুধু তোমাকেই চাই। তুমি আমার পাশে থাকলে আমি সব কিছু জয় করে ফেলব।”
সজলও মজা করে জবাব দেয়— “টাকা নেই তো কি হয়েছে জানু , প্রেম তো আছে? চলো, প্রেমেই পেট ভরাই!”
দু’জনেই হো হো করে হেসে উঠে। সেই হাসিতে দু’জনের স্বপ্নের রঙ মিশে ছিল। ছিল একগাদা হৃদয় নিংড়ানো আবেগময় ভালোবাসা।
তবে বাস্তবতা কঠিন। লায়লীর বাবা যখন সম্পর্কের কথা শুনলেন, তখন আকাশ ভেঙে পড়ল তাদের ওপর। ওর বাবা বললেন— “এই ছেলের সঙ্গে তোমার কোনো ভবিষ্যৎ নেই,”
— “বাড়ির ভিটে মাটি টুকু ছাড়া ওদের আর কি আছে? তোকে কি খাওয়াবে, কি পরাবে?" গর্জে উঠলেন তিনি।
লায়লী কাঁদতে কাঁদতে জবাব দিল— “বাবা, ভালোবাসা কি শুধু টাকায় মাপা যায়? আমি সজলকে অনেক ভালোবাসি। সেও আমাকে অনেক অনেক ভালোবাসে।”
— “দেখ লায়লী, তোর এই বয়স আবেগের বয়স! এখন কিছুই বুঝবি না, পরে বুঝবি। আমি বলছি; যা হওয়ার হয়ে গেছে, সবকিছু এখন ভুলে যা।” রাগের সুরে কথাগুলো বললেন লায়লীর বাবা।
এভাবে পরিবারের চাপ বাড়তে লাগল। অবশেষে একসময় তারা দু’জনেই পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। একদিন দু’জনেই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যায়। অন্ধকার গভীর রাতে নদীর ঘাটে দাঁড়িয়ে সজল ফিসফিস করে বলল—“জান পাখি আমার, ভয় পেও না, আমি পাশে আছি। তুমি শুধু আমার পাশে থেকো। তুমি আমার পাশে থাকলে আমি হিমালয় জয় করে ফেলব।”
সজলের কথাগুলো শুনে লায়লীর চোখ ভিজে উঠল। একদিকে বাড়ি, পরিবার; আরেকদিকে ভবিষ্যৎহীন গন্তব্য, সাথে ভালোবাসার মানুষ। মনের মধ্যে কিছুটা ভয় ঢুকে যায় । তবুও ভয়কে চাপা রেখে উত্তর দেয়— “তুমি ছাড়া কোথাও যাব না। আমি শুধু তোমাকেই চাই, সজল।”
ছোট্ট ডিঙি নৌকায় নদী পার হয়। নদীর ওপারে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে তারা ঢাকা শহরে রওনা দেয়। বাড়ি থেকে আসার সময় যে যার মতো টাকা-পয়সা নিয়ে আসে। সজলের পরিচিত এক বন্ধু ছিল ঢাকায়। তার মাধ্যমে যোগাযোগ করে ছোট্ট একটা বাসা ভাড়া নিতে গিয়ে তারা বিপাকে পড়ে। যেহেতু দু’জনেই অবিবাহিত, তাই কেউ অবিবাহিতকে বাসা ভাড়া দিতে চায় না!
কোনোমতে এক রাত বন্ধুর রুমে কাটিয়ে সকালেই কাজী অফিসে গিয়ে কিছু টাকা উৎকোচ দিয়ে বিয়ে পড়িয়ে নেয়। যেহেতু পালিয়ে বিয়ে করার কেস, তাই কাজী সাহেব প্রথমে রাজি হচ্ছিলেন না। এরপর একটা রুম পায় তারা তিনতলার ছাদের উপরে।
ঢাকা শহর বড় আজব শহর। মনে চাইলেই এখানে ইচ্ছামত থাকা যায় না। প্রতি কদমে টাকার প্রয়োজন। এখানে সব কিছুই কিনে খেতে হয়। দু’জনে সেটা মাস খানেক পর বোঝে। আর তাই সজল কাজের খোঁজে ছুটে বেড়ায়। কাজ ছাড়া, টাকা ছাড়া ঢাকা শহরে চলে না! দুই-চার দিন খোঁজাখুঁজির পর বন্ধুর মাধ্যমে কোনো মতে একটা দোকানের চাকরি পেয়ে যায় মাত্র ১২ হাজার টাকা বেতন।
এরপর শুরু হয় জীবনের নতুন অধ্যায়।
শুরুটা রঙিন ছিল। রাত জেগে গল্প করা, অল্প খাওয়ার মাঝেও একজন আরেকজনকে খাইয়ে দেওয়া। কৌতুক করে একে অপরকে খুশি রাখা। দু’জনেই যেন স্বর্গ সুখে ছিল। এক রাতে বিদ্যুৎ ছিল না। ঘরে চার্জারের হালকা আলো জ্বলছিল। সজল হেসে বলল— “চলো ছাদে যাই। বাইরে কি সুন্দর জোছনা রাত। আচ্ছা জানু, এই বাসাটা কি রাজপ্রাসাদ না?”
জোছনা রাতের নীরব নির্মল আলোর মত শান্তভাবে লায়লীও হেসে উত্তর দিল— “হ্যাঁ, আমার হৃদয়ের রাজা, এটাতো আমার জন্য রাজপ্রাসাদই। এখানে তুমি রাজা আর আমি রানী। রাজা-রানী তো রাজপ্রাসাদেই থাকে!"
দু’জনেই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে হেসে লুটোপুটি খেতে লাগল। আর গান গাইতে থাকে—“আরে ও আমার রাজা, আমি যে তোমার রানী, মিলেমিশে থাকবো দুজন, এইতো আমরা জানি ।”
এভাবেই সময় যেতে থাকে। দেখতে দেখতে এক বছর চলে যায়। তারপর আরও ছয় মাস পর দেড় বছর গড়িয়ে যায়। কিন্তু সময় যত গড়াল, প্রেমের মধুরতা, আবেগ কমতে শুরু করল। ঢাকা শহরে ১২-১৩ হাজার টাকায় কিছু হয় না। এই টাকায় সংসার চালানো অনেকটাই আকাশ কুসুম কল্পনা! সজল লায়লীকে চাকরি বা কাজ করতে দেয় না, যদিও লায়লী অনেক অনুনয়-বিনয় করে কাজ করার জন্য। কিন্তু সজল রাজি হয় না। কারণ ও জানে, পরের অধীনে কাজ করাটা কেমন প্যারাদায়ক। কিন্তু সংসার তো আর অন্য কিছু বোঝেনা। সংসার বোঝে চাই, আরো চাই।
এই টাকায় সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হয়ে যায়। এক পর্যায়ে টাকার অভাবে কষ্ট বাড়তে থাকে। বিয়ের দুই বছর পার হয়। এক সময় পেটে বাচ্চা আসে লায়লীর। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাড়ির সাথে আর কারো যোগাযোগ হয় না। বাড়ির কেউ খোঁজখবরও নেয় না। এভাবে বাচ্চা পেটে আসার পর আট মাস পার হয়ে যায়।
বাজার থেকে ফেরার পথে সজল প্রায়ই দীর্ঘশ্বাস ফেলত আর ভাবতো—“রুই মাছ বাদ দিলাম, সিলভার কার্প আর পাঙ্গাস মাছেরও যে দাম! এক কেজি মাছও কেনা যাচ্ছে না…! জীবনটা কি এভাবে শুধু স্বপ্নে কাটানো যায়? ওদিকে আবার লায়লীর পেটে বাচ্চা, ভালো-মন্দ না খেলে হয় না।”
কয়েকদিন লায়লী মাছের কথা বলেই ফেলে।
কিন্তু সজল চুপচাপ থাকত। তার বুকের ভেতর দুঃখ-কষ্টে দুমড়ে-মুচড়ে গেলেও মুখে হাসি ফুটিয়ে বলত— “আজ ডাল-ভাত খাই, কাল নাহয় ভালো দিন আসবেই। তখন বোয়াল মাছ খাবো, সোনা।”
এভাবে আরো এক মাস যায়। নয় মাস চলে আসে। বাচ্চা হওয়ারও সময় ঘনিয়ে আসে। কিন্তু ভালো দিন আর আসে না। লায়লীর অসুখ হলো। ঠান্ডা লেগে প্রচণ্ড কাশি হয়। কিন্তু ওষুধ কেনার টাকা ছিল না। একদিন কাশতে কাশতে লায়লী বলল—“আমরা কি ভুল করলাম, সজল?”
সজলের চোখ ভিজে উঠে। কিন্তু বহুত কষ্টে সেটা চাপা রেখে বলে—“জান আসো, একটু বুকে আসো আমার সোনা। ভালোবাসা কি ভুল হতে পারে?”
তাদের প্রেমময় সোনালি হাসি-খুশির দিনগুলো চরম নিদারুণ কষ্টে আষাঢ়ে মেঘের অন্ধকারে ঢেকে যায়। এমন দুর্দিনে বন্ধু-বান্ধব সবাই দূরে সরে যায়। সমাজের কিছু মানুষ তাদের ‘অভিশপ্ত প্রেমিক–প্রেমিকা’ বলে তাচ্ছিল্য করতে থাকে।
শেষমেশ লায়লী গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। চরম কাশির একপর্যায়ে সে গর্ভপাত করে ফেলে। সজল সর্বস্ব বিক্রি করে চিকিৎসা চালাতে চেষ্টা করছিল। কিন্তু তাতে যথেষ্ট ছিল না। হাসপাতাল মানে একগাদা টেস্ট, একগাদা ওষুধ আর এসব মানেই সীমাহীন খরচ! পর্যাপ্ত টাকা না থাকার কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লায়লীকে অপারেশন করতে চাচ্ছিল না। সজল ডাক্তারকে অনেক অনুনয়-বিনয় করে বলে—“স্যার, আমি টাকা আনছি। প্লিজ, আপনি ওর অপারেশনের ব্যবস্থা করুন।
বলেই সে সোজা গ্রামের বাড়িতে চলে আসে। কিন্তু বাড়ির বৃদ্ধ পিতা বেশি কিছু দিতে পারেন না। বাধ্য হয়ে নিজের মান-সম্মানের পরোয়া না করে শশুরের কাছে যায়। কিন্তু সজলকে দেখে তারা ঘরের দরজা আর খোলে না।
সে নিরুপায় হয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাবার দেওয়া মুষ্টিমেয় কিছু টাকা নিয়ে ঢাকায় চলে আসে। সেদিন বৈশাখ মাস ছিল। বৈশাখের বিকেল মানেই সাধারণত আকাশ কালো হয়ে যায় আর ঝড় উঠে। সেদিনও এর ব্যতিক্রম ছিল না। বিকেল সাড়ে পাঁচটার সময় আকাশ ঘন কালো হয়ে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে ভিজতে ভিজতে সজল হাসপাতালে পৌঁছায়। হাসপাতালে গিয়ে দেখে লায়লী তখনো রোগী টানার বেডেই অর্ধ-মৃত অবস্থায় শুয়ে আছে অপারেশন থিয়েটারের সামনে।
তা দেখেই সে হুহু করে সশব্দে শরীরের সকল শক্তি দিয়ে কেঁদে ওঠে। সবাইকে বকতে থাকে রাগে, দুঃখে, অভিমানে। ওর কন্ঠ শুনেই সম্বিত জ্ঞান ফিরে পায় লায়লী। শেষ সময়ের আগে মৃদু হাসি হেসে ও বলল—“সজল, মনে রেখো, আমি শুধু তোমাকেই ভালোবেসেছি। তোমাকে ভালোবেসে আমি বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছি। তোমাকে ভালোবেসে তোমার হাতে হাত রেখে আমি পরপারে যেতে চাই। আমি টাকা-পয়সা কিছুই চাইনি। আমি শুধু তোমাকে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার ভালোবাসা কি ভুল ছিল?”
কথাগুলো বলতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল। তবুও বলতে বলতে কেঁদে ফেলে। দু'চোখ দিয়ে অশ্রু নদী গড়িয়ে যায়। চারপাশে হাসপাতালের নীরব দর্শক ভিড় জমায়। সজল লায়লীকে আশ্বাস দিয়ে বলে—“নারে জান, না। তোমার ভালোবাসা ভুল ছিল না। ভুল ছিল আমাদের এই পৃথিবীতে গরিব হয়ে জন্ম নেওয়া। চিন্তা করো না জান, আমি টাকা নিয়ে এসেছি। তোমার অপারেশন হবে। তুমি আবার সুস্থ হয়ে যাবে। তুমি আবার আমার মুখে ভাত তুলে দেবে, সোনা। আবার তুমি আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাবে।”
দু’জনেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে । ওদের এ আবেগময় করুণ দৃশ্য দেখে হাসপাতালের নীরব দর্শকরাও আঙ্গুল দিয়ে চোখের জল মুছে । কিন্তু মন গলে না চিকিৎসকদের। এভাবেই কিছুক্ষণ পর লায়লীর শরীর হিম-শীতল হয়ে যায়। মৃত্যুদূত দ্রুততার সঙ্গে তার একমাত্র কাজ সম্পাদন করে চলে যায়। হাসপাতালের বেডে লায়লীর নীরব, নিথর, নিশ্চল দেহ পড়ে থাকে। সেই দেহ জড়িয়ে ধরে কেঁদে থাকে সজল। কেউ এসে সজলের মাথায় হাত দিয়ে সান্তনা দেয়।
সজল ভেঙে পড়ল। পৃথিবীর সব আলো যেন নিভে গেল। অমাবস্যার অন্ধকার যেন ঘিরে ধরেছে তাকে।
লাশ নিয়ে বাড়ি চলে আসে সজল। কবরস্থান থেকে ফেরার পথে গ্রামের লোকেরা কানাঘুষা করছিল—“হায়রে ভালোবাসা! ভালোবাসা শুধু মানুষকে কাঁদায়। কারো কারো ভালোবাসা মানে অভিশাপ।”
কিন্তু সজল নিজের মনে মনে বলল—“না, ভালোবাসা অভিশাপ নয়। অভিশাপ হলো সমাজের স্বার্থপরতা, অভাব, বৈষম্য। যদি আমরা সহানুভূতি পেতাম, সবার সাহায্য সহযোগিতা পেতাম, তাহলে আমাদের এই ভালোবাসা আলো হয়ে বাঁচত। পৃথিবীর বুকে এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতো। হার মানতো শিরি-ফরহাদ আর সম্রাট শাহজাহানের প্রেম।”
লায়লীর মৃত্যুর প্রায় এক বছর পার হয়ে গেছে। আজও সজল লায়লীর কবরের পাশে বসে থাকে দিনে-রাতে। কখনো হাসে, কখনো কাঁদে, কখনো কৌতুক করে বলে—“জান, সোনা পাখি আমার, কলিজা আমার, শোনো, তুমি তো বলেছিলে খাবার লাগবেনা, প্রেমেই পেট ভরানো যাবে, দেখো না আমি এখনো প্রেমে পেট ভরানোর চেষ্টা করছি! আমারও আর খাবার লাগে নারে জান। তোমার কবরের পাশেই আমি প্রেমের শান্তি খুঁজে পাই। ভালোবাসা অভিশপ্ত নয়রে, সোনা। অভিশাপ হলো যখন বাস্তবতা, টাকার সংকট আর সমাজের বাধা সেই ভালোবাসাকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। প্রেম মানে শুধু স্বপ্ন নয়, দায়িত্বও; যেখানে হাসি-কান্না, কৌতুক আর ত্যাগ সবকিছু একসাথে মিশে একাকার হয়ে যায়।”
হাওয়া বয়ে যায়, গাছের পাতা ঝরে পড়ে, আর মনে হয় লায়লীর হৃদয় জুড়ানো, গালে টোপ পড়া, পাগল করা সেই হাসি আকাশে ভেসে বেড়ায়। সে হাসি দেখে আর সজল বলে—“এই তোমরা দেখো, এই তোমরা দেখো, দেখো, ওই যে আমার লায়লী হাসছে। হাসছে আর বলছে, আমি এখনো তোমার পাশে আছি জান। আমি শুধু তোমার ভালোবাসা চাই। আমি তোমার ভালোবাসা চাই।”
বলেই হু হু করে কেঁদে ওঠে সজল। পরক্ষণেই আবার হা হা করে হেসে ওঠে আর চিৎকার করে বলে—“অভিশাপ! অভিশাপ! ভালোবাসা অভিশাপ!”
----------------------------
আবু বক্কার সিদ্দিক জনি
সালনা, গাজীপুর।
Comments
Post a Comment