তিনটি কবিতা ।। শুভেন্দু বিকাশ চৌধুরী
শিক্ষা
আমি দোকানটাতে গিয়ে জানতে চাইলাম-
গরম চা হবে? কত করে?
লোকটা বলল- এক ভাঁড় সাত টাকা।
আমি রেগে বললাম - এত বেশি দাম নাও কেন?
লোকটা হেসে বলল -আমার এটাই রেট।
আমি বললাম - এক কাপ দাও। আমি কিন্তু পাঁচ টাকাই দেব।
লোকটা জানতে চাইলো - বিস্কুট লাগবে?
আমি আবার প্রশ্ন করলাম - কত করে নিচ্ছো?
লোকটা মুচকি হেসে বলল - খেতে মন চাইলে খান না,
পয়সা নিয়ে অত ভাবছেন কেন?
লোকটার কথাতে আমার একটু রাগ হলো।
একটা কাজে যাচ্ছি বলে কিছু বললাম না।
চা, বিস্কুট খাওয়ার পরে,
ছেলেটাকে পাঁচ টাকার একটা কয়েন দিলাম।
ছেলেটা কিছু না বলে রেখে দিলো।
আমি আবার একটু রেগে বললাম - আর কত দিতে হবে?
বলবে তো নাকি?
ছেলেটা বলল- কিছু দিতে হবে না।
পরদিন ফেরার পথে দেখি দোকানটা আর নাই।
আমি অবাক হয়ে ভাবছি দোকানটা গেল কোথায়?
এমন সময় ছেলেটা পাশে এসে দাঁড়ালো।
সঙ্গে রয়েছে গরম চা'এর পাত্র আর একটা প্লাস্টিকের প্যাকেটে বিস্কুট।
আমি জানতে চাইলাম -দোকান কি হলো?
ছেলেটা হেসে বলল -ঝড়ে ভেঙে গেছে।
আমি বললাম - কালকের কত টাকা বাকি আছে?
ছেলেটা হেসে বলল - টাকা নিয়ে অত ভাবছেন কেন ?
চা খাবেন?
আমি বললাম - না থাক।
আমার মুখ থেকে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্নটা বেরিয়ে এলো-
তুমি লেখাপড়া কতদূর করেছো?
' বেশি দূর পারিনি মাস্টার ডিগ্রি করেই ছেড়ে দিতে হয়েছে।' বললেই
ছেলেটা হাসি মুখ করে চলে গেল।
আমি গতকালই আমার ডিগ্রী পাশের সার্টিফিকেট পেয়েছি।
দেখছি ওটা এখন ব্যাগের ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে আমাকে ব্যঙ্গ করছে।
বিশ্বাস
হঠাৎ একটা ঝড় উঠলো।
বড় বড় গাছগুলো কেবলই দুলছে।
বিদ্যুৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে বলে মনে হচ্ছে।
সবাই বলছে ঝড়ের গতি ঘন্টায় একশ কিলোমিটার।
বঙ্কাদের মাটির ঘরটা পুরো ভেঙে
সব কিছু তছনছ হয়ে গেল।
মা'কে কপালে হাত দিয়ে বসে কানতে দেখে
বছর আটের বঙ্কা বলল-
চিন্তা করো না মা
আমি যে একটা কাগজের লিখেছিলাম - 'আমরা তো গরিব আমাদের একটু দেখো।'
ওটা আজকে উড়ে ভগবানের কাছে চলে গেছে।
ব্যাস এবার যা করার ভগবানই করবেন।
মা বঙ্কা'কে জড়িয়ে ধরলেন।
তিরস্কার
শম্পা ছাদে উঠে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলো-
পশ্চিমবঙ্গের মেঘটা সরে যাচ্ছে।
কিছুক্ষণ আগে যা বৃষ্টি পড়েছে তাতে রাস্তাঘাট জলে ভরে আছে।
খুব চেষ্ট করলে দু-তিনটা তারা দেখা যাচ্ছে।
হঠাৎ পাশের পাড়া থেকে শুনতে পেলে -
বল হরি হরি বোল।
নন্টের দাদু চলে গেলেন।
ওই তো দেখা যাচ্ছে কিছু লোক ভিড় করেছে।
এমন সময় হঠাৎ সোনা রোদে হালকা বৃষ্টিটা শুরু হল।
শম্পা আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলে উঠলো-
আমাদের জন্য কোন তোমার চিন্তা ভাবনা নাই নাকি?
তোমার লজ্জা করে না?
পাঁচ বছরের শম্পার চোখে জল।
-----------------------
শুভেন্দু বিকাশ চৌধুরী, ছোট বাজার, সার্কুলার রোড, নবপল্লী, বারাসাত -৭০০১২৬
Comments
Post a Comment