Skip to main content

গল্প ।। ইকো ।। রুদ্র ভট্টাচার্য

ইকো

(E C H O)


রুদ্র ভট্টাচার্য







সময়ের ভাঁজে যা হারায়, তা আসলে অপেক্ষা করে।

"কখনো কখনো ভালোবাসা সময়ের চেয়েও শক্তিশালী। কখনো কখনো ভালোবাসাই সময়।"



রাত তিনটে চোদ্দ।

ঘড়ির কাঁটা এই সংখ্যাটায় পৌঁছে যেন একটু থামে। যেন সময় নিজেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে — এগোবে কি না। বেঙ্গালুরুর ওই lab-এ, যেখানে দিন আর রাতের পার্থক্য শুধু monitor-এর brightness দিয়ে বোঝা যায়, সূর্য বসে আছে। তিনটে screen তার সামনে — প্রতিটায় আলাদা timeline-এর graph, নীল আলোর সুতোয় বোনা ভিন্ন ভিন্ন ভবিষ্যৎ। তার মুখে সেই নীল আলো পড়েছে এমনভাবে যেন সে নিজেই একটা data point — মাংস আর হাড়ে তৈরি, কিন্তু ভেতরে কোথাও একটা সংখ্যা জ্বলছে, টিমটিম করে। সাত দিনের দাড়ি। চোখের নিচে কালি। শার্টের কলার একদিকে উঠে আছে — ঠিক করার কথা তার মনে হয়নি। হয়তো মনে হওয়ার মতো কেউ নেই পাশে।


Lab-এ অন্য কেউ নেই। শুধু সেই ঘড়ির শব্দ — টিক্... টিক্... প্রতিটা শব্দের মাঝে একটু বেশি gap, যেন সময় নিজেই হাঁফাচ্ছে। এই ঘড়িটা সূর্য কখনো বদলায়নি। তাঁরা বলেছিল — "ভাঙা ঘড়িও দিনে দুবার ঠিক সময় দেখায়। বাকি সময় সে অন্য সত্যি বলে।"

ফোনটা বাজছে।

Screen-এর reflection-এ সে দেখতে পায় — কাঁপছে। ছোট একটা কম্পন। কিন্তু সূর্যের হাত ইতিমধ্যে phone-এর দিকে গেছে। যেন শরীর জানত এই call আসবে। যেন শরীর তিন বছর ধরে এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছিল।


Screen-এ caller ID — অজানা নম্বর।

সে ধরে।


"সূর্য।"


একটা নাম। শুধু একটা নাম। কিন্তু এই মুহূর্তে সেই নামের ভেতরে যত পৃথিবী আছে, যত স্মৃতি আছে, যত শনিবার আর ট্রেনের ধোঁয়া আর পুরনো বইয়ের ধুলো আর এলাচের গন্ধ আছে — সব একসাথে তার বুকের ভেতরে ঢুকে পড়ে। তার হাত স্থির হয়ে যায়। Screen-এ graph-গুলো নাচতে থাকে। কিন্তু সূর্য আর দেখছে না। সে শুনছে — ওই কণ্ঠস্বর, যেটা তিন বছর ধরে শুধু ঘুমের মধ্যে শুনত।


"কে?" তার গলা চেনা যাচ্ছে না নিজের কাছেই। যেন কণ্ঠটা মরচে পড়ে গেছে — ব্যবহার না হওয়ার কারণে নয়, অন্য কারণে। কারণ এই কণ্ঠস্বরের সামনে সবসময় তার গলা অন্যরকম হয়ে যেত।

"আমি।" একটু থামা। নিঃশ্বাসের শব্দ। তারপর, শান্তভাবে — "তুমি জানো আমি কে।"


সূর্যের চোখের সামনে graph-এর রেখাগুলো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। তার মাথার ভেতরে তিন বছরের সমস্ত রাত একসাথে ভেঙে পড়ছে — হাসপাতালের ফোন, পুলিশের রিপোর্ট, শূন্য apartment, বইয়ের তাকে সেই Borges-টা যেটা সে আর খুলতে পারেনি।

"তাঁরা মারা গেছে।" কণ্ঠ শূন্য। একটা statement। কোনো প্রশ্ন না। কারণ প্রশ্ন করলে উত্তরটা বদলে যেতে পারে — সূর্য সেই সুযোগ নিতে ভয় পাচ্ছে। "তিন বছর আগে।"

"জানি।"


দুটো শব্দ। কিন্তু এই দুটো শব্দের মধ্যে অনেক কিছু আছে। যে মানুষ মরে যায় সে জানে না সে মরে গেছে — এটা সূর্যের মাথায় আসে। কিন্তু তারপরই আসে পরের ভাবনাটা, যে ভাবনাটা তিন বছর ধরে lab-এর নীল আলোয় বড় হচ্ছিল।

"তাহলে—"

"মনোযোগ দিয়ে শোনো।" কণ্ঠস্বরটা শান্ত। অদ্ভুত রকম শান্ত — যে শান্তি আসে অনেক দূর থেকে ফিরে এসে, অনেক কিছু দেখে এসে। "তোমার কাছে বেশি সময় নেই। তুমি যে experiment করছ — বন্ধ করো। এখনই। নইলে—"


Line কেটে যায়।

Silence। শুধু সেই ঘড়ির শব্দ। টিক্... টিক্...

সূর্য phone নামিয়ে রাখে। Caller ID-তে নম্বরটা দেখে দীর্ঘক্ষণ। তারপর laptop-এ search করে। Telecom database। সব database।

নম্বরটা exist করে না।

সে window-র দিকে তাকায়। বেঙ্গালুরুর রাত — নিচে traffic light বদলাচ্ছে, কিন্তু রাস্তা ফাঁকা। লাল থেকে সবুজ, সবুজ থেকে লাল — কারো জন্য নয়। শুধু নিজের নিয়মে।


Lab-এর ঘড়িতে ৩:১৪।

সূর্য জানে না — এই সংখ্যাটা আজ রাতে আরও তিনবার ফিরে আসবে।

সাত বছর আগের একটা দুপুর।

কলকাতায় জুনের বৃষ্টি — যে বৃষ্টি হুঁশিয়ারি ছাড়া নামে এবং দুঃখের মতো থামার নাম নেয় না। কলেজ স্ট্রিটের পিচ ভিজে কালো। বইয়ের দোকানের সামনে দাঁড়ানো মানুষরা ছাতা ধরে অপেক্ষা করছে — কেউ বৃষ্টির, কেউ রিকশার, কেউ হয়তো নিজের কারণ খুঁজছে। সূর্যের বয়স সাতাশ, IISc-র তরুণ গবেষক। হাতে রবীন্দ্রনাথের 'বিশ্বপরিচয়' — মহাকাশের কথা লেখা বই, কিন্তু এই মুহূর্তে সে শুধু ভাবছে gravitational wave-এর একটা সমীকরণের কথা যেটা গত তিন রাত মেলাতে পারছে না। মাথার ভেতরে সংখ্যারা ঘুরছে। পেটে খিদে। পায়ে ক্লান্তি।

'শব্দলোক' বইয়ের দোকানে ঢোকে বৃষ্টি থেকে বাঁচতে।

দোকানে ঢুকতেই কিছু একটা বদলায়। বাইরের ধূসর আলো — মেঘের আলো, ভেজা রাস্তার আলো — হঠাৎ সরে যায়। ভেতরে একটা উষ্ণ হলুদ আলো জ্বলছে, পুরনো table lamp-এর আলো, যেটা দেওয়ালের কাঠের তাকে আলতো করে পড়ে। বইয়ের পিঠের সোনালি হরফগুলো চকচক করছে। এলাচের গন্ধ আসছে কোথাও থেকে — মালিকের চা বোধহয় — আর তার সাথে মিশছে পুরনো কাগজের সেই গন্ধ, সেই বিশেষ ধুলো যেটা শুধু পড়া বইয়ে থাকে, অপঠিত বইয়ে নয়। দোকানের কোণে একটা পুরনো দেওয়াল ঘড়ি। টিক্... টিক্... প্রতিটা শব্দের মাঝে একটু বেশি সময়। একটু বেশি gap। সূর্য সেটা লক্ষ করে, তারপর ভুলে যায়।


কালো শাড়ি। চুলে হলুদ ক্লিপ — সেই হলুদ যেটা হলুদ আলোর সাথে মিশে যাচ্ছে, আলাদা করা যাচ্ছে না। হাতে Borges-এর 'Labyrinths'। পাতায় আঙুল রাখা — বাঁ হাতের তর্জনী, পাতার একটু ওপরে, যেন কথার মাঝখানে থামা। এমন মনোযোগ দিয়ে পড়ছে যে মনে হচ্ছে ওই পাতার ভেতর থেকে কেউ তাকে ডাকছে — এবং সে সাড়া দিচ্ছে।


সূর্য ঘড়ির দিকে তাকায়। তিনটে বাজে। পাঁচ মিনিট পর তাকায়। তিনটে দুই। সে ভ্রু কুঁচকায়।

"Borges পড়ছেন?"

মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়। নিজেই অবাক হয়। কারণ সে সাধারণত এই কাজ করে না। সে লোক দেখালে হাসে, কিন্তু অপরিচিতকে কথা বলে না। কিন্তু আজ — কথাটা বেরিয়ে গেছে।


মেয়েটা চোখ তোলে। এই চোখে অবাক নেই। কারণ? সূর্য বুঝতে পারে না। যেন সে জানত কেউ কথা বলবে। যেন সে অপেক্ষায় ছিল — শুধু নিশ্চিত ছিল না ঠিক কখন।

"The Garden of Forking Paths।" কণ্ঠস্বর শান্ত। সমুদ্রের মতো শান্ত — ওপর থেকে দেখলে স্থির, কিন্তু ভেতরে স্রোত। "Borges মনে করতেন সময় একটা সরলরেখা নয়। সময় শাখায় ভাগ হয়। প্রতিটা সিদ্ধান্তে, প্রতিটা মুহূর্তে — একটা নতুন ব্রহ্মাণ্ড জন্ম নেয়। এবং সমস্ত ব্রহ্মাণ্ড একসাথে exist করে।"


"আমি quantum physicist।" সূর্য বলে।


"জানি।"


সূর্য থমকায়। "আমরা আগে কথা বলেছি?"

"না।" একটু থামে। তার ঠোঁটের কোণে কিছু একটা — হাসি না, কিন্তু হাসির মতো কিছু। "এখনও না।"

ওই দুটো শব্দ — "এখনও না" — সূর্যের কানে থেকে যায়। কিন্তু সে তখন বুঝতে পারে না কেন।

"তাঁরা," মেয়েটা বলে, বই থেকে চোখ না সরিয়ে। "তাঁরা মুখার্জি।" পাতায় আঙুল রাখে — আবার সেই ভঙ্গি, যেন কথাটা বলে দিয়ে বইয়ের সাথে সংযোগ রেখে দিল।

"সূর্য।" সে বলে। নিজের পরিচয় দেওয়ার সুযোগ আসার আগেই।


"জানি।"


বাইরে বৃষ্টি থামে। হঠাৎ। যেন সিনেমায় কেউ সাউন্ড কেটে দিয়েছে। রাস্তার শব্দ ফিরে আসে — রিকশার ঘণ্টা, কাকের ডাক, কারো জুতোর শব্দ। ঘড়িতে তখনও তিনটে চার।

সূর্য পরে বুঝবে — এই মুহূর্তটা শুরু না। এটা একটা echo। কোনো আসল মুহূর্তের প্রতিধ্বনি, যে মুহূর্তটা সময়ের অন্য কোনো স্তরে আগেই ঘটে গেছে।

শব্দলোক হয়ে ওঠে তাদের জগৎ।

প্রতি শনিবার সূর্য আসে। বেঙ্গালুরু থেকে তেত্রিশ ঘণ্টার ট্রেন — জানালার ধারে বসে রাতের মাঠ দেখে, সমীকরণের notebook খোলে, কিন্তু সমীকরণ লেখার বদলে ভাবে কী বলবে। শনিবারে শব্দলোকে ঢুকতেই সেই হলুদ আলো, সেই ঘড়ির শব্দ, এলাচের গন্ধ আর পুরনো বইয়ের ধুলো মিলে একটা বিশেষ scent তৈরি হয় — যেটা কোনো পারফিউম বোতলে মেলে না, কোনো বাজারে বিক্রি হয় না। শুধু ওই দোকানে, ওই আলোয়, তাঁরা থাকলে।


তাঁরার একটা অভ্যাস। কথা বলতে বলতে বইয়ের পাতায় আঙুল রাখে। কথা শেষ হলে তোলে। সূর্য আস্তে আস্তে বোঝে — আঙুল পাতায় থাকা মানে সে বিশ্বাস করছে, কথাটা তার কাছে সত্যি। আঙুল সরে যাওয়া মানে কিছু একটা বদলে গেছে ভেতরে — সন্দেহ নয়, হয়তো অন্য কোনো সত্যি।


একটা শীতের রাতে দোকান বন্ধের পর। বাইরে কুয়াশা নেমেছে। তাঁরা বলে, কাউন্টারের পুরনো কাঠে আঙুল চালাতে চালাতে, "আচ্ছা, যদি জানতে যে একটা সম্পর্ক শেষ হবে — তবু কি শুরু করতে?"

সূর্য একটুও ভাবে না। "হ্যাঁ।"

"কেন?" তাঁরা তাকায়।

"কারণ না-শুরু করার যন্ত্রণা শেষের যন্ত্রণার চেয়ে বড়। হারানোর কষ্ট — সেটা অন্তত একটা সত্যির ওপর দাঁড়িয়ে। কিন্তু না-পাওয়ার কষ্ট — সেটা শূন্যের ওপর। শূন্যের ওপর কষ্ট করা — সেটা অনেক বেশি ভারী।"

তাঁরা পাতায় আঙুল রাখে। কিছু বলে না। ঘড়ি টিক্ করে।

সূর্য অনেক পরে বুঝবে — সে আসলে প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। সে নিজের সিদ্ধান্ত বলেছিল। এবং তাঁরা সেটা আগে থেকেই জানত — কারণ সে আগেও এই উত্তর দিয়েছে। অন্য কোনো সময়ে। অন্য কোনো timeline-এ।

একটা বর্ষার বিকেলে — বাইরে মেঘ এত ভারী যে দুপুরেও আলো নেই, তাঁরা জিজ্ঞেস করে, মাথা না তুলে, "তুমি কি কখনো ভয় পাও?"

"কিসের?"

"হারিয়ে যাওয়ার।"

হলুদ আলোয় তার মুখ। সে পাতায় আঙুল রাখে।

"না। কারণ echo কখনো হারায় না। প্রতিধ্বনি — সে ভেঙে পড়ে না। সে ফিরে আসে। উৎস যতদিন থাকে, প্রতিধ্বনিও থাকে।"

সূর্য সেদিন এই কথাটা বোঝেনি। কিন্তু মনে রেখেছিল — সেই কণ্ঠস্বর, সেই হলুদ আলো, সেই বইয়ের গন্ধ, সবকিছু মিলিয়ে একটা ছবি মনে রেখেছিল। তিন বছর পর সেই ছবিটা সম্পূর্ণ হবে।

২০২২ সালের একটা শেষ সন্ধে। কমলালেবুর মতো আলো জানলা দিয়ে ঢুকছে। তাঁরা Neruda পড়ছে। সূর্য কিছুক্ষণ চুপ করে দেখে। তারপর বলে, গলা একটু নামিয়ে, যেন ভয় পাচ্ছে এই কথাটা বললে কিছু একটা বদলে যাবে — "তুমি না থাকলে সমীকরণ মেলে না।"

তাঁরা বই থেকে চোখ তোলে। ধীরে। চোখে জল নেই। কিন্তু কিছু একটা আছে — গভীর, পুরনো। যে ভেজা ভাব আসে অনেক দূর থেকে বৃষ্টির মধ্যে হেঁটে ফেরার পর।

পাতায় আঙুল রাখে।


"আমি জানতাম।"

"কিভাবে?"

"কারণ তুমি আগেও বলেছিলে।"

"আগে মানে?" সূর্য হাসে। "কবে?"

"পরে বুঝবে।"


সেই রাতে সূর্য ঘুমাতে পারে না। lab-এ আসে। data খোলে। monitor-এর নীল আলোয় বসে থাকে। একটা graph দেখে দীর্ঘক্ষণ — দুটো timeline-এর curve, দুটো আলাদা সম্ভাবনার রেখা — এবং হঠাৎ লক্ষ করে, একটা জায়গায় তারা একে অপরকে প্রায় স্পর্শ করছে। প্রায়। মিলিমিটারের ব্যবধানে।

একটা সম্ভাবনা মাথায় আসে যেটা এতদিন ভাবেনি। যদি সেই ব্যবধানটা পেরানো যায়? যদি fold দিয়ে কেউ যেতে পারে — এক timeline থেকে আরেক timeline-এ?

২০২৩ সালের মার্চ।


তাঁরা lab-এ আসে। প্রথমবার। সূর্য তাকে সব দেখায় — machine, graph, theory। Temporal fold-এর পুরো ধারণাটা। কীভাবে দুটো সময়ের curve একটা নির্দিষ্ট জায়গায় কাছে আসে। কীভাবে সেই মুহূর্তে একটা passage তৈরি হওয়া theoretically সম্ভব।

"এই fold-এর point কোথায়?" তাঁরা জিজ্ঞেস করে, screen-এর দিকে তাকিয়ে।

সূর্য একটা জায়গায় আঙুল দেয়। Map-এ। "কলেজ স্ট্রিটে। ওই গলিতে। এই দুটো timeline এখানে সবচেয়ে কাছে আসে।"


তাঁরা চুপ করে থাকে।


"এটা কাজ করে?" দীর্ঘক্ষণ পর।

"Theoretically। কিন্তু কেউ try করেনি।"

"কারণ?"

"কারণ fold-এ ঢুকলে নিজের timeline থেকে বিচ্যুত হতে হয়। অন্য timeline-এ পৌঁছানো যায়। কিন্তু সেখানে সে পরিচিত নয় কারো কাছে। Ghost-এর মতো। সব দেখতে পাবে, কথা বলতে পারবে — কিন্তু কেউ চিনবে না তাকে।"

"ফিরে আসা যায়?"


সূর্য একটু থামে। Ventilation fan-এর শব্দ। দূরে কোথাও traffic। "Theoretically হ্যাঁ। কিন্তু fold টা ধরে রাখতে হবে। কেউ এপাশ থেকে hold করলে ওপাশ থেকে ফেরা সম্ভব।"

তাঁরা আর কথা বলে না। পাতায় আঙুল রাখার মতো করে screen-এ আঙুল রাখে — একটু। তারপর তোলে।

সূর্য সেদিন লক্ষ করেনি — তাঁরার চোখে কোনো অবাক নেই। একটুও না। কারণ এই কথাগুলো সে আগে শুনেছে। অন্য কোনো সময়ে, অন্য কোনো context-এ — কিন্তু শুনেছে।

তিন সপ্তাহ পর।

রাত এগারোটা। তাঁরার phone বন্ধ। মিস্ড কল পাঠায় সূর্য — দুটো, তিনটে। চিন্তিত হয় না। সে মাঝে মাঝে phone রাখে, একা থাকতে চায়। তারপর শব্দলোকের মালিক call করেন।

"বাবা, একটা দুর্ঘটনা হয়েছে। কলেজ স্ট্রিটে।"

সূর্য phone রেখে দেয়। তারপর সেভাবেই বসে থাকে — একটু কাত হয়ে, phone হাতে, যেন সংখ্যাগুলো বোঝার চেষ্টা করছে। Lab-এর নীল আলো তার মুখে। ঘড়ির শব্দ।

টিক্... টিক্...

একটু ধীরে।

তিন বছর।


তিন বছর ধরে সূর্য কাজ করে। ঘুমায় না ঠিকমতো। খায় না — সহকর্মীরা এনে দিলে খায়, নইলে মনে থাকে না। শার্ট ইস্ত্রি করার কথা মনে থাকে না, চুল কাটার কথা মনে থাকে না। কিন্তু lab-এ এলে সব মনে থাকে। প্রতিটা equation মনে থাকে। প্রতিটা graph-এর প্রতিটা বাঁক।

Lab-এর নীল আলো তার ত্বকে মিশে গেছে।

সহকর্মীরা বলে — সে ভেঙে পড়েছে। সে জানে — সে তৈরি হচ্ছে।


Temporal fold-এর theory সম্পূর্ণ হয়। পাঁচ বছরের কাজ তিন বছরে শেষ করে। কিন্তু এখন একটাই প্রশ্ন — fold-এ ঢুকলে কোন timeline-এ পৌঁছানো যায়? নিজের past-এ? নিজের ভবিষ্যতে? নাকি এমন কোনো timeline-এ যেটা এখনও তৈরি হয়নি?

উত্তর আসে একটা পুরনো notebook থেকে।

তাঁরার notebook। মৃত্যুর পর তার বাবা এসেছিলেন বেঙ্গালুরুতে — ছোটখাট মানুষ, চোখে জল নেই কিন্তু মুখ খুব শূন্য। বলেছিলেন, "মেয়ে বলেছিল তোমাকে দিতে।" Notebook-টা দিয়ে চলে গিয়েছিলেন।

সূর্য সেই notebook তিন বছর খোলেনি।

আজ রাতে, ওই call-এর পর, notebook বের করে। মলাট খোলে।

প্রথম পাতায় একটা তারিখ — ১৪ই মার্চ, ২০৩২।

সূর্যের হাত কাঁপে।

আজকের তারিখ।

সে পাতা উল্টায়। মাঝের কিছু পাতা ছেঁড়া — যেন কেউ তাড়াহুড়ো করে ছিঁড়েছে, নইলে সরিয়ে রেখেছে। যা আছে তা পড়ে।

"আজ সে বলল — তুমি না থাকলে সমীকরণ মেলে না। আমি জানতাম। তবু কানে লেগে রইল। প্রতিবার লাগে — যতবারই শুনি।"

পরের পাতায় —

"fold-এ যাওয়ার আগে একটাই ভয় — সে আমাকে চিনবে না। কিন্তু আমি তো চিনব। সবসময়। এটাই কি যথেষ্ট?"

সূর্য notebook বন্ধ করে।

কিছুক্ষণ শুধু বসে থাকে। Lab-এ কোনো শব্দ নেই। শুধু সেই ঘড়ি।


টিক্... টিক্…


তারপর সে বোঝে।

তাঁরা মারা যায়নি।

তাঁরা fold-এ গেছে।

সূর্য সেই রাতে সব footage দেখে। ২০২৩ সালের মার্চ — তাঁরা lab-এ আসার দিন। Screen-এ সে pause করে। Zoom করে। তাঁরার মুখ।

চোখে কোনো অবাক নেই। এই lab দেখে, এই machine দেখে, এই theory শুনে — কিছুতেই অবাক নেই।

কারণ সে এই সব আগে দেখেছে। ২০৩৫ সালে। তখন এই machine চলছিল, পুরোদমে, এবং সে দেখেছিল কী হয়।

সূর্য পুলিশের report খোঁজে। ২০২৩-এর মার্চের। পায়। পড়ে।


কলেজ স্ট্রিটে একটা মেয়ে হঠাৎ পড়ে গিয়েছিল রাস্তায়। আশেপাশের মানুষ হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। জ্ঞান ফিরেছিল। কিন্তু discharge নেওয়ার আগে, hospital-এর মধ্যেই, অদৃশ্য হয়ে যায়।

কোনো body নেই।

কোনো মৃত্যু নেই।

কোনো explanation নেই।

শুধু অন্তর্ধান।

সূর্য রিপোর্ট রাখে। চোখ বন্ধ করে। মাথার ভেতরে সব টুকরো একে একে জায়গায় বসছে — puzzle-এর টুকরো নয়, বরং timeline-এর টুকরো।

তাঁরা ২০২৩-এ fold-এ গেছে। ২০৩৫-এ পৌঁছেছে। সেখানে দেখেছে — এই experiment কী করবে। fold collapse। লক্ষ লক্ষ মানুষ। তারপর ফিরে গেছে আরও পেছনে — ২০১৯-এ। সূর্যের কাছে। তাকে ভালোবাসতে। যাতে সূর্য এই গবেষণা করে, যাতে fold তৈরি হয়, যাতে তাঁরা ২০২৩ থেকে ২০৩৫-এ যেতে পারে।

কিন্তু তাহলে সে এখন সূর্যকে experiment বন্ধ করতে বলছে কেন?


সূর্য ছেঁড়া পাতাগুলো খোঁজে।

Lab-এর পুরনো জিনিসপত্রের মধ্যে, একটা কার্ডবোর্ড বাক্সে, ভাঁজ করা কয়েকটা পাতা। তাঁরার হাতের লেখা।

সে পড়ে।

"২০১৯-এ যাওয়ার আগে আমি জানতাম না ভালোবাসাটা সত্যি হবে। আমার কাছে এটা একটা mission ছিল। সূর্যকে গবেষণায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, যাতে সে fold আবিষ্কার করে, যাতে আমি ২০৩৫ থেকে ফিরে আসতে পারি তাকে সতর্ক করতে। Logical। Clean। Closed loop।"


"কিন্তু পথে কিছু একটা হয়ে গেছে।"

"আমি সত্যিই ভালোবেসে ফেলেছি।"

"এটা আমি expect করিনি। আমার calculation-এ এটা ছিল না।"

পরের কয়েক পাতা —

"এখন একটাই সমস্যা। fold collapse হলে সব মুছে যাবে — ২০৩৫ থেকে শুরু করে পেছনের সব timeline। কিন্তু fold না বানালে আমি ২০১৯-এ যেতে পারতাম না। সূর্যের সাথে দেখা হত না। শব্দলোকে সেই বৃষ্টির দুপুর হত না।"

"আমি exist করি কারণ fold exist করে। আর fold exist করে কারণ আমি exist করেছিলাম।"


"একটা perfect paradox। একটা closed loop। এর ভেতরে শুরু নেই, শেষ নেই — শুধু চলমানতা।"

শেষ পাতায় হাতের লেখা একটু বদলে গেছে। ধীর। যেন প্রতিটা শব্দ ভেবে লেখা —

"তাই experiment বন্ধ করতে বলছি না। বলছি — শেষ করো। কিন্তু শেষ মুহূর্তে একটু বদলে দাও calculation। fold collapse হবে না। একটা loop তৈরি হবে — চিরকালের জন্য। আমি চিরকাল ২০১৯-এ থাকব। তুমি চিরকাল আমাকে ভালোবাসবে। সময়ের ভাঁজে। কখনো মেলা, কখনো দূরত্ব — কিন্তু এই loop চলতে থাকবে। কারণ কিছু ভালোবাসা সময়ের চেয়ে বড়।"

এর নিচে আর কিছু নেই।


শুধু একটা হলুদ ক্লিপ। পাতার ফাঁকে রাখা।

Lab-এ পরের দিন সকালে, সূর্যের ছাত্র অভি আসে। সব পড়ে, সব দেখে, সব বোঝার চেষ্টা করে। তারপর বলে, মাথা খানিক নামিয়ে, সরাসরি না তাকিয়ে, "স্যার, সব বুঝলাম। কিন্তু তাঁরাদি কি জানেন এই loop মানে কী? তিনি চিরকাল ২০১৯-এ থাকবেন। নিজের সময়ে ফিরতে পারবেন না। পরিবারের কাছে না, নিজের বাড়িতে না। সবসময় অন্য একটা সময়ে।"


সূর্য জানলার দিকে তাকিয়ে থাকে। বাইরে বৃষ্টি নামছে — হালকা, তির্যক। Lab-এর নীল আলোয় তার মুখ স্থির। চোখে জল নেই। কিন্তু কোথাও থেকে ভেসে আসছে — এলাচের গন্ধ, পুরনো বইয়ের ধুলো। এই lab-এ এই গন্ধ আসার কথা নয়। তবু আসছে।

"জানেন।"

"তাহলে?"

"তাহলে notebook-এর শেষ লাইনটা পড়িসনি।" সূর্য ঘুরে তাকায়। "পড়।"

অভি notebook খোলে। সবচেয়ে শেষে, একদম ছোট হাতে, কালিতে লেখা —

"কিছু মানুষ সময়ের বাইরে থাকে। আমি সেই মানুষ। সূর্যের কাছে আমি সবসময় ছিলাম — থাকব। এটাই আমার timeline।"

অভি মাথা তোলে। একটু থাকে। তারপর বলে, "স্যার, তাহলে গত বছর ২০২৬-এ শব্দলোকে গিয়েছিলেন কেন? জানতেন সে আপনাকে চিনবে না — সেই সময়ে সে তখনও loop-এ ঢোকেনি।"

সূর্য একটু হাসে। তিন বছরে প্রথমবার। এই হাসিটা তার মুখের জন্য একটু অচেনা — যেন একটা পেশি দীর্ঘদিন ব্যবহার না করে থেকে, এখন একটু ব্যথা করে কাজ করছে।

"কারণ তাঁকে দেখতে চেয়েছিলাম। একবার। শুধু একবার।"

"জেনেও যে সে চিনবে না?"

"সে যখন বলল — মুখটা চেনা লাগছে — বুঝলাম।" সূর্য আবার জানলার দিকে তাকায়। বৃষ্টি একটু বেড়েছে। "চেনে। শরীর ভোলে, কিন্তু ভেতরে কোথাও মনে রাখে। সময়ের ভাঁজে যা হারায়, তা আসলে মরে না। অপেক্ষা করে।"


Lab-এর ঘড়ি।


টিক্... টিক্…

একটু ধীরে।


২০২৬ সাল। শব্দলোক।

বিকেলের তেরচা রোদ বাইরে নারঙি করে দিচ্ছে পুরনো বাড়ির দেওয়াল। সূর্য দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে। আসার কারণ সে জানে না ঠিকমতো। হয়তো পা এমনিই এনেছে। হয়তো শুধু একবার দেখতে।

দোকানে ঢুকতেই — সেই হলুদ। সেই একই হলুদ। সাত বছর পরেও বদলায়নি।

টিক্... টিক্...

ঘড়ির শব্দ। একটু বেশি gap।

কাউন্টারে একটা বই রাখা। তার নামে — সূর্য — লেখা একটা চিরকুটে।

Borges — 'Labyrinths'।

সে বই খোলে। একটা পাতায় নখের দাগ — এখানে কেউ পাতায় আঙুল রেখেছিল দীর্ঘক্ষণ। এই ভঙ্গি সে চেনে।

পাতায় ছাপা লেখা — "Time forks perpetually toward innumerable futures."

পাতার কোণে তাঁরার হাতে লেখা, নীল কালিতে, ছোট হরফে —

"আমি প্রতিটা ভবিষ্যতে অপেক্ষা করছি।"

সূর্য বইটা বুকে চেপে ধরে। কড়া না, ধীরে — যেভাবে কিছু ভাঙার ভয় থাকে।

বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়। হঠাৎ। কলকাতার বৃষ্টি — হুঁশিয়ারি ছাড়া। এলাচের গন্ধ ভাসে বাতাসে। পুরনো বইয়ের ধুলো হলুদ আলোয় নাচে।


ঘড়ি চলছে। টিক্... টিক্... একটু বেশি gap। সবসময়ের মতো।

এবং ২০১৯-এর একটা বৃষ্টির দুপুরে —

হলুদ আলোর শব্দলোকে, কলেজ স্ট্রিটে, বৃষ্টি সবেমাত্র থামার মুখে — একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে বইয়ের তাকের সামনে। কালো শাড়ি। চুলে হলুদ ক্লিপ। হাতে Borges-এর 'Labyrinths'। পাতায় আঙুল রাখা।

এলাচের গন্ধ ভাসছে। ঘড়ি বাজছে।

দরজা খোলে।

একটা ছেলে ঢোকে।

সে মাথা তোলে।

এই চোখে অবাক নেই।

কারণ সে জানে — এই মুহূর্তটা শুরু না।

এটা একটা echo।

এবং echo কখনো থামে না। উৎস যতদিন থাকে।

ইকো মানে প্রতিধ্বনি — কিন্তু প্রতিটা প্রতিধ্বনির একটা উৎস আছে। তাঁরা সেই উৎস। সূর্য সেই শ্রোতা। আর এই গল্প — সেই শব্দ যেটা দুটো timeline-এর মাঝখানে চিরকাল বেজে চলে।


..............................


রুদ্র ভট্টাচার্য

রুদ্র ভট্টাচার্য 

Vivekanand Pally, Taki Road, Barasat, North 24 pgs, West Bengal.



Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

কবিতা ।। ইন্দ্রজাল ।। ডা: মোহাম্মদ নাঈম

ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ====================  ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

নিঃশব্দ বন্ধুত্ব ।। সুচন্দ্রা বসু

  নিঃশব্দ বন্ধুত্ব সুচন্দ্রা বসু  মেঘলা সকালে জঙ্গল যেন নতুন করে জীবন্ত হয়ে ওঠে। পাখির কিচিরমিচির, পাতার উপর শিশিরের ঝরঝরে শব্দ, দূরে নদীর স্রোতের খশখশ ধ্বনি—সবই মিলে তৈরি করছে এক ধীর, স্বপ্নের মতো পরিবেশ।  নন্দিনী এক বছর ধরে এই জঙ্গলে বসবাস করছেন, শুধু একটি ছোট তাঁবু, কিছু খাতা আর ক্যামেরা নিয়ে। প্রতিদিন সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তিনি বসে থাকতেন—চুপচাপ, গরিলাদের দিকে তাকিয়ে। নন্দিনী লিখে রাখতেন—গরিলাদের দোলন, হাস্যোজ্জ্বল খেলা, সন্তানদের যত্ন, এবং দলীয় প্রধানের হঠাৎ রাগ। তিনি লক্ষ্য করতেন, তারা মানুষের উপস্থিতিতে মোটেও আতঙ্কিত নয়, বরং কৌতূহল প্রকাশ করে। তার লক্ষ্য ছিল ধীরে ধীরে এই গরিলাদের বিশ্বাস অর্জন করা। তিনি জানতেন, প্রকৃতির নিয়মে বন্ধুত্ব সময় নেয়। দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল। কখনও কখনও গরিলারা তাঁকে দেখে থমকে যেত, আবার তাদের কাজে ফিরে যেত। তিনি জানতেন—তাদের মধ্যে কিছুটা আস্থা তৈরি হয়েছে। সিলভারব্যাক রূপালি-রঙের পুরুষ গরিলার দিকে তাঁর নজর সবচেয়ে বেশি থাকত। রূপালি শক্তিশালী, গরিলাদের নেতা। মাঝে মাঝে তার চোখে অদ্ভুত এক কৌতূহল দেখা যেত। নন্দিনী লিখে রাখতেন— "রূপালি আজ চারপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

গল্প ।। অবহেলা ।। সৈকত প্রসাদ রায়

অবহেলা সৈকত প্রসাদ রায় পৌষ সংক্রান্তির হাড়হিম করা সকাল। কুয়াশার চাদর যেন আজ কিছুতেই সরতে চাইছে না। শহরের কোলাহল থেকে অনেকটা দূরে, মস্ত বড় লোহার গেটওয়ালা বাড়িটা "শেষের ঠিকানা" বৃদ্ধাশ্রম আজ বড্ড নিস্তব্ধ। শীতের দাপটে আশ্রমের বাগানের গাঁদা ফুলগুলোও যেন নুইয়ে পড়েছে, ঠিক এখানকার মানুষগুলোর মতো। দোতলার বারান্দার এক কোণে, পুরোনো কাঠের ইজিচেয়ারটায় বসে আছেন পঁচাত্তর বছর বয়সী অনিমেষ সান্যাল। গায়ে জড়িয়ে আছেন এক মলিন ছাইরঙা উলের চাদর। চাদরটার বুনন আলগা হয়ে গেছে, কয়েক জায়গায় রিফু করা। আশ্রমের কেয়ারটেকার গত সপ্তাহেই তাঁকে একটা নতুন দামী কম্বল দিয়ে গেছে, কিন্তু অনিমেষ বাবু সেটা ছুঁয়েও দেখেননি। এই চাদরটা সাধারণ কোনো কাপড় নয়। আজ থেকে পনেরো বছর আগে জন্মদিনে তাঁর স্ত্রী সুধা নিজের হাতে বুনে দিয়েছিলেন। সুধা চলে গেছে দশ বছর হলো, কিন্তু এই চাদরের ভাঁজে ভাঁজে অনিমেষ বাবু আজও সুধার গায়ের গন্ধ পান। শীতে যখন শরীরটা কেঁপে ওঠে, তখন চাদরটা জড়িয়ে ধরলে মনে হয় সুধা যেন তাঁকে জাপটে ধরে বলছে, "ওগো, সাবধানে থেকো।" অনিমেষ বাবুর দৃষ্টি গেটের দিকে স্থির। ঝাপসা চোখে তিনি পথের দিকে তাকিয়ে থাকেন। তাঁর একম...

তিনটি কবিতা ।। সমীর মন্ডল

তিনটি কবিতা ।। সমীর মন্ডল  শীতল জলের বাঁধ তুমি তো কোন মানবী নও তুমি শীতল জলের বাঁধ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তৃষ্ণার্ত চিত্তে পান করি অবাধ। ভালোবেসে আবার মুক্তও করি অলিখিত এক ধারায় সিক্ত করো চরাচর তবু ফিরে এসে ডাকো না আর আমায়। তোমার আকাশে উড়ে বেড়ায়  দুরন্ত পানকৌড়ি ডুবে ডুবে সে খুঁজেও নেয় নীরব ভাষার সুগন্ধি মৌরি। আরো কত অজানা নামে কাটায় দীর্ঘ দিন শীতের দিনের একটি বেলায় দেখা হলো, বেহিসাবী ঋণ। চমক ভাঙে নৌকা বিহারে দোদুল্ল্যমান বেশ যতবার মনে পড়ে তোমায় তুমি থাকো বিশেষ। অকাল বর্ষনে অকাল বর্ষনে বজ্র বিদ্যুৎ সঙ্গে নিয়ে  কে তুমি ডাকো? একলা পথে ভিজে রোদ্দুরে লজ্জা শরমের বালাই না রেখে  অসহায় আত্মসমর্পণ। কর্দমাক্ত পিচ্ছিল পথে গন্তব্যে স্থির উচ্ছ্বসিত আবেগ  ফুলের গন্ধে বুদ হয়ে থেকেও  আপন মনে কাজ করে চলে। ঝড়ে কাঁপা...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

কবিতা ।। ইন্দ্রজাল ।। ডা: মোহাম্মদ নাঈম

ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ====================  ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ

সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বাঙালী ।। মো: বিপুল রহমান

  সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বাঙালী মো: বিপুল রহমান এক নীল আকাশের নীচে, স্বপ্নের ঝিলিক, মাটির গন্ধে মেশে হৃদয়ের টান, হিন্দু–মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, এক সুরে বাঁধা, এক প্রাণের সম্মিলন। দুর্গার দীপ্ত আলোয় জ্বলে উৎসবের রাগ, ঈদের চাঁদ ছড়ায় শান্তির অমৃত জ্যোৎস্না, বড়দিনের প্রার্থনা গায় কোমল সুরের ডাক, বুদ্ধ পূর্ণিমার প্রদীপে মুখরিত নীরব প্রভা— এক হৃদয়ে জাগে, এক দীপশিখার আলো। ভাষার তুফানে, স্বাধীনতার অগ্নিশপথে, কাঁধে কাঁধ মিলে দাঁড়ায় বাঙালী অটল, ভ্রাতৃত্বের মন্ত্রে জেগে ওঠে জাতির প্রাণ, এক স্বরে, এক ছন্দে-চির অম্লান। পাড়ার উঠোনে, ছায়ায়-আলোয়, হাসির রঙে, কান্নার সুরে, হাতে হাত গেঁথে ওঠে সেতু-অটুট, নির্মল, নাম তার সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বাঙালী। এই মাটির ধূলি, এই আকাশের নীল, হৃদয়ের গভীরে বাজে একতার সুরলীল, বাঙালী-তুই চির অখণ্ড, চির জাগ্রত, সম্প্রীতির কাব্যে লেখা, তুই চিরন্তন। উৎসর্গঃ এই কবিতা উৎসর্গ করছি সকল বাঙালীর প্রতি, যারা সময়ের সব বাঁধা-বিপত্তি, ভাষা, ধর্ম বা সংস্কৃতির ভেদাভেদ ভুলে একতার বন্ধন গড়ে তোলেন। যারা নিজেদের হৃদয়ে ভ্রাতৃত্বের দীপ জ্বালিয়ে রাখেন, আনন্দে ও দুঃখে পাশে থাকেন, উদযাপনে অংশ ...

ছড়া ।। লিচু ।। আনন্দ বক্সী

লিচু  আনন্দ বক্সী 'গোয়াঙডঙ প্রদেশ' জায়গাটি চিনে  শুরু হয় চাষ এর অতীতের দিনে। টক আর মিষ্টিতে মজাদার খেতে  ছোটো-বড় সকলেই চায় স্বাদ পেতে। আকারে লম্বা-গোল ছোটো ছোটো ফল  থোকা থোকা ঝুলে থাকে গাছে অবিরল।  ছূঁচালো অগ্রভাগে খসখসে দেহ  কাঁচায় সবুজ ত্বক নেই সন্দেহ।  পাকলে গোলাপি লাল বাইরের ছাল  ভিতরের অংশটা সাদা চিরকাল।  আঁটিটা শক্ত খুব পয়জনে ভরা  বাদামি রঙেই এর দেহখানি গড়া। গ্রীষ্মের ফল এটি ভরপুর রসে  স্বাদ এর মনটাকে করে নেয় বশে। ভেবে বলো এর নাম পেলে নাকি কিছু? ঠিকই চিনেছ একে ফলটি যে লিচু। খোসাটা ছাড়িয়ে খাও কাঁচা হোক পাকা  স্যালাড-মিষ্টি-জুসে পাবে এর দেখা। শর্করা-চিনি-জল নেই এতে কম  ভিটামিন-ফাইবারে ভরা একদম। খনিজের আছে স্থান এই ফল মাঝে  শরীরের উপকারে লাগে যেটা কাজে। লোহিত কণিকা গড়ে আমাদের দেহে  হার্টকে সুস্থ রাখে অপরূপ স্নেহে। দেহ-ত্বকে ধরে রাখে এর যে সতেজতা  ওজনটা কমাতেও করে সহায়তা। রক্তচাপকে করে করতলগত  মধুমেহ রোগ এর হয় অনুগত। বশে রাখে লিচু শুনি বাত-হাঁপানিকে নানা কাজে প্রয়োজন এই ফলটিকে। খালি পেট...