Skip to main content

গল্প ।। ইকো ।। রুদ্র ভট্টাচার্য

ইকো

(E C H O)


রুদ্র ভট্টাচার্য




সময়ের ভাঁজে যা হারায়, তা আসলে অপেক্ষা করে।

"কখনো কখনো ভালোবাসা সময়ের চেয়েও শক্তিশালী। কখনো কখনো ভালোবাসাই সময়।"



রাত তিনটে চোদ্দ।

ঘড়ির কাঁটা এই সংখ্যাটায় পৌঁছে যেন একটু থামে। যেন সময় নিজেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে — এগোবে কি না। বেঙ্গালুরুর ওই lab-এ, যেখানে দিন আর রাতের পার্থক্য শুধু monitor-এর brightness দিয়ে বোঝা যায়, সূর্য বসে আছে। তিনটে screen তার সামনে — প্রতিটায় আলাদা timeline-এর graph, নীল আলোর সুতোয় বোনা ভিন্ন ভিন্ন ভবিষ্যৎ। তার মুখে সেই নীল আলো পড়েছে এমনভাবে যেন সে নিজেই একটা data point — মাংস আর হাড়ে তৈরি, কিন্তু ভেতরে কোথাও একটা সংখ্যা জ্বলছে, টিমটিম করে। সাত দিনের দাড়ি। চোখের নিচে কালি। শার্টের কলার একদিকে উঠে আছে — ঠিক করার কথা তার মনে হয়নি। হয়তো মনে হওয়ার মতো কেউ নেই পাশে।


Lab-এ অন্য কেউ নেই। শুধু সেই ঘড়ির শব্দ — টিক্... টিক্... প্রতিটা শব্দের মাঝে একটু বেশি gap, যেন সময় নিজেই হাঁফাচ্ছে। এই ঘড়িটা সূর্য কখনো বদলায়নি। তাঁরা বলেছিল — "ভাঙা ঘড়িও দিনে দুবার ঠিক সময় দেখায়। বাকি সময় সে অন্য সত্যি বলে।"

ফোনটা বাজছে।

Screen-এর reflection-এ সে দেখতে পায় — কাঁপছে। ছোট একটা কম্পন। কিন্তু সূর্যের হাত ইতিমধ্যে phone-এর দিকে গেছে। যেন শরীর জানত এই call আসবে। যেন শরীর তিন বছর ধরে এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছিল।


Screen-এ caller ID — অজানা নম্বর।

সে ধরে।


"সূর্য।"


একটা নাম। শুধু একটা নাম। কিন্তু এই মুহূর্তে সেই নামের ভেতরে যত পৃথিবী আছে, যত স্মৃতি আছে, যত শনিবার আর ট্রেনের ধোঁয়া আর পুরনো বইয়ের ধুলো আর এলাচের গন্ধ আছে — সব একসাথে তার বুকের ভেতরে ঢুকে পড়ে। তার হাত স্থির হয়ে যায়। Screen-এ graph-গুলো নাচতে থাকে। কিন্তু সূর্য আর দেখছে না। সে শুনছে — ওই কণ্ঠস্বর, যেটা তিন বছর ধরে শুধু ঘুমের মধ্যে শুনত।


"কে?" তার গলা চেনা যাচ্ছে না নিজের কাছেই। যেন কণ্ঠটা মরচে পড়ে গেছে — ব্যবহার না হওয়ার কারণে নয়, অন্য কারণে। কারণ এই কণ্ঠস্বরের সামনে সবসময় তার গলা অন্যরকম হয়ে যেত।

"আমি।" একটু থামা। নিঃশ্বাসের শব্দ। তারপর, শান্তভাবে — "তুমি জানো আমি কে।"


সূর্যের চোখের সামনে graph-এর রেখাগুলো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। তার মাথার ভেতরে তিন বছরের সমস্ত রাত একসাথে ভেঙে পড়ছে — হাসপাতালের ফোন, পুলিশের রিপোর্ট, শূন্য apartment, বইয়ের তাকে সেই Borges-টা যেটা সে আর খুলতে পারেনি।

"তাঁরা মারা গেছে।" কণ্ঠ শূন্য। একটা statement। কোনো প্রশ্ন না। কারণ প্রশ্ন করলে উত্তরটা বদলে যেতে পারে — সূর্য সেই সুযোগ নিতে ভয় পাচ্ছে। "তিন বছর আগে।"

"জানি।"


দুটো শব্দ। কিন্তু এই দুটো শব্দের মধ্যে অনেক কিছু আছে। যে মানুষ মরে যায় সে জানে না সে মরে গেছে — এটা সূর্যের মাথায় আসে। কিন্তু তারপরই আসে পরের ভাবনাটা, যে ভাবনাটা তিন বছর ধরে lab-এর নীল আলোয় বড় হচ্ছিল।

"তাহলে—"

"মনোযোগ দিয়ে শোনো।" কণ্ঠস্বরটা শান্ত। অদ্ভুত রকম শান্ত — যে শান্তি আসে অনেক দূর থেকে ফিরে এসে, অনেক কিছু দেখে এসে। "তোমার কাছে বেশি সময় নেই। তুমি যে experiment করছ — বন্ধ করো। এখনই। নইলে—"


Line কেটে যায়।

Silence। শুধু সেই ঘড়ির শব্দ। টিক্... টিক্...

সূর্য phone নামিয়ে রাখে। Caller ID-তে নম্বরটা দেখে দীর্ঘক্ষণ। তারপর laptop-এ search করে। Telecom database। সব database।

নম্বরটা exist করে না।

সে window-র দিকে তাকায়। বেঙ্গালুরুর রাত — নিচে traffic light বদলাচ্ছে, কিন্তু রাস্তা ফাঁকা। লাল থেকে সবুজ, সবুজ থেকে লাল — কারো জন্য নয়। শুধু নিজের নিয়মে।


Lab-এর ঘড়িতে ৩:১৪।

সূর্য জানে না — এই সংখ্যাটা আজ রাতে আরও তিনবার ফিরে আসবে।

সাত বছর আগের একটা দুপুর।

কলকাতায় জুনের বৃষ্টি — যে বৃষ্টি হুঁশিয়ারি ছাড়া নামে এবং দুঃখের মতো থামার নাম নেয় না। কলেজ স্ট্রিটের পিচ ভিজে কালো। বইয়ের দোকানের সামনে দাঁড়ানো মানুষরা ছাতা ধরে অপেক্ষা করছে — কেউ বৃষ্টির, কেউ রিকশার, কেউ হয়তো নিজের কারণ খুঁজছে। সূর্যের বয়স সাতাশ, IISc-র তরুণ গবেষক। হাতে রবীন্দ্রনাথের 'বিশ্বপরিচয়' — মহাকাশের কথা লেখা বই, কিন্তু এই মুহূর্তে সে শুধু ভাবছে gravitational wave-এর একটা সমীকরণের কথা যেটা গত তিন রাত মেলাতে পারছে না। মাথার ভেতরে সংখ্যারা ঘুরছে। পেটে খিদে। পায়ে ক্লান্তি।

'শব্দলোক' বইয়ের দোকানে ঢোকে বৃষ্টি থেকে বাঁচতে।

দোকানে ঢুকতেই কিছু একটা বদলায়। বাইরের ধূসর আলো — মেঘের আলো, ভেজা রাস্তার আলো — হঠাৎ সরে যায়। ভেতরে একটা উষ্ণ হলুদ আলো জ্বলছে, পুরনো table lamp-এর আলো, যেটা দেওয়ালের কাঠের তাকে আলতো করে পড়ে। বইয়ের পিঠের সোনালি হরফগুলো চকচক করছে। এলাচের গন্ধ আসছে কোথাও থেকে — মালিকের চা বোধহয় — আর তার সাথে মিশছে পুরনো কাগজের সেই গন্ধ, সেই বিশেষ ধুলো যেটা শুধু পড়া বইয়ে থাকে, অপঠিত বইয়ে নয়। দোকানের কোণে একটা পুরনো দেওয়াল ঘড়ি। টিক্... টিক্... প্রতিটা শব্দের মাঝে একটু বেশি সময়। একটু বেশি gap। সূর্য সেটা লক্ষ করে, তারপর ভুলে যায়।


কালো শাড়ি। চুলে হলুদ ক্লিপ — সেই হলুদ যেটা হলুদ আলোর সাথে মিশে যাচ্ছে, আলাদা করা যাচ্ছে না। হাতে Borges-এর 'Labyrinths'। পাতায় আঙুল রাখা — বাঁ হাতের তর্জনী, পাতার একটু ওপরে, যেন কথার মাঝখানে থামা। এমন মনোযোগ দিয়ে পড়ছে যে মনে হচ্ছে ওই পাতার ভেতর থেকে কেউ তাকে ডাকছে — এবং সে সাড়া দিচ্ছে।


সূর্য ঘড়ির দিকে তাকায়। তিনটে বাজে। পাঁচ মিনিট পর তাকায়। তিনটে দুই। সে ভ্রু কুঁচকায়।

"Borges পড়ছেন?"

মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়। নিজেই অবাক হয়। কারণ সে সাধারণত এই কাজ করে না। সে লোক দেখালে হাসে, কিন্তু অপরিচিতকে কথা বলে না। কিন্তু আজ — কথাটা বেরিয়ে গেছে।


মেয়েটা চোখ তোলে। এই চোখে অবাক নেই। কারণ? সূর্য বুঝতে পারে না। যেন সে জানত কেউ কথা বলবে। যেন সে অপেক্ষায় ছিল — শুধু নিশ্চিত ছিল না ঠিক কখন।

"The Garden of Forking Paths।" কণ্ঠস্বর শান্ত। সমুদ্রের মতো শান্ত — ওপর থেকে দেখলে স্থির, কিন্তু ভেতরে স্রোত। "Borges মনে করতেন সময় একটা সরলরেখা নয়। সময় শাখায় ভাগ হয়। প্রতিটা সিদ্ধান্তে, প্রতিটা মুহূর্তে — একটা নতুন ব্রহ্মাণ্ড জন্ম নেয়। এবং সমস্ত ব্রহ্মাণ্ড একসাথে exist করে।"


"আমি quantum physicist।" সূর্য বলে।


"জানি।"


সূর্য থমকায়। "আমরা আগে কথা বলেছি?"

"না।" একটু থামে। তার ঠোঁটের কোণে কিছু একটা — হাসি না, কিন্তু হাসির মতো কিছু। "এখনও না।"

ওই দুটো শব্দ — "এখনও না" — সূর্যের কানে থেকে যায়। কিন্তু সে তখন বুঝতে পারে না কেন।

"তাঁরা," মেয়েটা বলে, বই থেকে চোখ না সরিয়ে। "তাঁরা মুখার্জি।" পাতায় আঙুল রাখে — আবার সেই ভঙ্গি, যেন কথাটা বলে দিয়ে বইয়ের সাথে সংযোগ রেখে দিল।

"সূর্য।" সে বলে। নিজের পরিচয় দেওয়ার সুযোগ আসার আগেই।


"জানি।"


বাইরে বৃষ্টি থামে। হঠাৎ। যেন সিনেমায় কেউ সাউন্ড কেটে দিয়েছে। রাস্তার শব্দ ফিরে আসে — রিকশার ঘণ্টা, কাকের ডাক, কারো জুতোর শব্দ। ঘড়িতে তখনও তিনটে চার।

সূর্য পরে বুঝবে — এই মুহূর্তটা শুরু না। এটা একটা echo। কোনো আসল মুহূর্তের প্রতিধ্বনি, যে মুহূর্তটা সময়ের অন্য কোনো স্তরে আগেই ঘটে গেছে।

শব্দলোক হয়ে ওঠে তাদের জগৎ।

প্রতি শনিবার সূর্য আসে। বেঙ্গালুরু থেকে তেত্রিশ ঘণ্টার ট্রেন — জানালার ধারে বসে রাতের মাঠ দেখে, সমীকরণের notebook খোলে, কিন্তু সমীকরণ লেখার বদলে ভাবে কী বলবে। শনিবারে শব্দলোকে ঢুকতেই সেই হলুদ আলো, সেই ঘড়ির শব্দ, এলাচের গন্ধ আর পুরনো বইয়ের ধুলো মিলে একটা বিশেষ scent তৈরি হয় — যেটা কোনো পারফিউম বোতলে মেলে না, কোনো বাজারে বিক্রি হয় না। শুধু ওই দোকানে, ওই আলোয়, তাঁরা থাকলে।


তাঁরার একটা অভ্যাস। কথা বলতে বলতে বইয়ের পাতায় আঙুল রাখে। কথা শেষ হলে তোলে। সূর্য আস্তে আস্তে বোঝে — আঙুল পাতায় থাকা মানে সে বিশ্বাস করছে, কথাটা তার কাছে সত্যি। আঙুল সরে যাওয়া মানে কিছু একটা বদলে গেছে ভেতরে — সন্দেহ নয়, হয়তো অন্য কোনো সত্যি।


একটা শীতের রাতে দোকান বন্ধের পর। বাইরে কুয়াশা নেমেছে। তাঁরা বলে, কাউন্টারের পুরনো কাঠে আঙুল চালাতে চালাতে, "আচ্ছা, যদি জানতে যে একটা সম্পর্ক শেষ হবে — তবু কি শুরু করতে?"

সূর্য একটুও ভাবে না। "হ্যাঁ।"

"কেন?" তাঁরা তাকায়।

"কারণ না-শুরু করার যন্ত্রণা শেষের যন্ত্রণার চেয়ে বড়। হারানোর কষ্ট — সেটা অন্তত একটা সত্যির ওপর দাঁড়িয়ে। কিন্তু না-পাওয়ার কষ্ট — সেটা শূন্যের ওপর। শূন্যের ওপর কষ্ট করা — সেটা অনেক বেশি ভারী।"

তাঁরা পাতায় আঙুল রাখে। কিছু বলে না। ঘড়ি টিক্ করে।

সূর্য অনেক পরে বুঝবে — সে আসলে প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। সে নিজের সিদ্ধান্ত বলেছিল। এবং তাঁরা সেটা আগে থেকেই জানত — কারণ সে আগেও এই উত্তর দিয়েছে। অন্য কোনো সময়ে। অন্য কোনো timeline-এ।

একটা বর্ষার বিকেলে — বাইরে মেঘ এত ভারী যে দুপুরেও আলো নেই, তাঁরা জিজ্ঞেস করে, মাথা না তুলে, "তুমি কি কখনো ভয় পাও?"

"কিসের?"

"হারিয়ে যাওয়ার।"

হলুদ আলোয় তার মুখ। সে পাতায় আঙুল রাখে।

"না। কারণ echo কখনো হারায় না। প্রতিধ্বনি — সে ভেঙে পড়ে না। সে ফিরে আসে। উৎস যতদিন থাকে, প্রতিধ্বনিও থাকে।"

সূর্য সেদিন এই কথাটা বোঝেনি। কিন্তু মনে রেখেছিল — সেই কণ্ঠস্বর, সেই হলুদ আলো, সেই বইয়ের গন্ধ, সবকিছু মিলিয়ে একটা ছবি মনে রেখেছিল। তিন বছর পর সেই ছবিটা সম্পূর্ণ হবে।

২০২২ সালের একটা শেষ সন্ধে। কমলালেবুর মতো আলো জানলা দিয়ে ঢুকছে। তাঁরা Neruda পড়ছে। সূর্য কিছুক্ষণ চুপ করে দেখে। তারপর বলে, গলা একটু নামিয়ে, যেন ভয় পাচ্ছে এই কথাটা বললে কিছু একটা বদলে যাবে — "তুমি না থাকলে সমীকরণ মেলে না।"

তাঁরা বই থেকে চোখ তোলে। ধীরে। চোখে জল নেই। কিন্তু কিছু একটা আছে — গভীর, পুরনো। যে ভেজা ভাব আসে অনেক দূর থেকে বৃষ্টির মধ্যে হেঁটে ফেরার পর।

পাতায় আঙুল রাখে।


"আমি জানতাম।"

"কিভাবে?"

"কারণ তুমি আগেও বলেছিলে।"

"আগে মানে?" সূর্য হাসে। "কবে?"

"পরে বুঝবে।"


সেই রাতে সূর্য ঘুমাতে পারে না। lab-এ আসে। data খোলে। monitor-এর নীল আলোয় বসে থাকে। একটা graph দেখে দীর্ঘক্ষণ — দুটো timeline-এর curve, দুটো আলাদা সম্ভাবনার রেখা — এবং হঠাৎ লক্ষ করে, একটা জায়গায় তারা একে অপরকে প্রায় স্পর্শ করছে। প্রায়। মিলিমিটারের ব্যবধানে।

একটা সম্ভাবনা মাথায় আসে যেটা এতদিন ভাবেনি। যদি সেই ব্যবধানটা পেরানো যায়? যদি fold দিয়ে কেউ যেতে পারে — এক timeline থেকে আরেক timeline-এ?

২০২৩ সালের মার্চ।


তাঁরা lab-এ আসে। প্রথমবার। সূর্য তাকে সব দেখায় — machine, graph, theory। Temporal fold-এর পুরো ধারণাটা। কীভাবে দুটো সময়ের curve একটা নির্দিষ্ট জায়গায় কাছে আসে। কীভাবে সেই মুহূর্তে একটা passage তৈরি হওয়া theoretically সম্ভব।

"এই fold-এর point কোথায়?" তাঁরা জিজ্ঞেস করে, screen-এর দিকে তাকিয়ে।

সূর্য একটা জায়গায় আঙুল দেয়। Map-এ। "কলেজ স্ট্রিটে। ওই গলিতে। এই দুটো timeline এখানে সবচেয়ে কাছে আসে।"


তাঁরা চুপ করে থাকে।


"এটা কাজ করে?" দীর্ঘক্ষণ পর।

"Theoretically। কিন্তু কেউ try করেনি।"

"কারণ?"

"কারণ fold-এ ঢুকলে নিজের timeline থেকে বিচ্যুত হতে হয়। অন্য timeline-এ পৌঁছানো যায়। কিন্তু সেখানে সে পরিচিত নয় কারো কাছে। Ghost-এর মতো। সব দেখতে পাবে, কথা বলতে পারবে — কিন্তু কেউ চিনবে না তাকে।"

"ফিরে আসা যায়?"


সূর্য একটু থামে। Ventilation fan-এর শব্দ। দূরে কোথাও traffic। "Theoretically হ্যাঁ। কিন্তু fold টা ধরে রাখতে হবে। কেউ এপাশ থেকে hold করলে ওপাশ থেকে ফেরা সম্ভব।"

তাঁরা আর কথা বলে না। পাতায় আঙুল রাখার মতো করে screen-এ আঙুল রাখে — একটু। তারপর তোলে।

সূর্য সেদিন লক্ষ করেনি — তাঁরার চোখে কোনো অবাক নেই। একটুও না। কারণ এই কথাগুলো সে আগে শুনেছে। অন্য কোনো সময়ে, অন্য কোনো context-এ — কিন্তু শুনেছে।

তিন সপ্তাহ পর।

রাত এগারোটা। তাঁরার phone বন্ধ। মিস্ড কল পাঠায় সূর্য — দুটো, তিনটে। চিন্তিত হয় না। সে মাঝে মাঝে phone রাখে, একা থাকতে চায়। তারপর শব্দলোকের মালিক call করেন।

"বাবা, একটা দুর্ঘটনা হয়েছে। কলেজ স্ট্রিটে।"

সূর্য phone রেখে দেয়। তারপর সেভাবেই বসে থাকে — একটু কাত হয়ে, phone হাতে, যেন সংখ্যাগুলো বোঝার চেষ্টা করছে। Lab-এর নীল আলো তার মুখে। ঘড়ির শব্দ।

টিক্... টিক্...

একটু ধীরে।

তিন বছর।


তিন বছর ধরে সূর্য কাজ করে। ঘুমায় না ঠিকমতো। খায় না — সহকর্মীরা এনে দিলে খায়, নইলে মনে থাকে না। শার্ট ইস্ত্রি করার কথা মনে থাকে না, চুল কাটার কথা মনে থাকে না। কিন্তু lab-এ এলে সব মনে থাকে। প্রতিটা equation মনে থাকে। প্রতিটা graph-এর প্রতিটা বাঁক।

Lab-এর নীল আলো তার ত্বকে মিশে গেছে।

সহকর্মীরা বলে — সে ভেঙে পড়েছে। সে জানে — সে তৈরি হচ্ছে।


Temporal fold-এর theory সম্পূর্ণ হয়। পাঁচ বছরের কাজ তিন বছরে শেষ করে। কিন্তু এখন একটাই প্রশ্ন — fold-এ ঢুকলে কোন timeline-এ পৌঁছানো যায়? নিজের past-এ? নিজের ভবিষ্যতে? নাকি এমন কোনো timeline-এ যেটা এখনও তৈরি হয়নি?

উত্তর আসে একটা পুরনো notebook থেকে।

তাঁরার notebook। মৃত্যুর পর তার বাবা এসেছিলেন বেঙ্গালুরুতে — ছোটখাট মানুষ, চোখে জল নেই কিন্তু মুখ খুব শূন্য। বলেছিলেন, "মেয়ে বলেছিল তোমাকে দিতে।" Notebook-টা দিয়ে চলে গিয়েছিলেন।

সূর্য সেই notebook তিন বছর খোলেনি।

আজ রাতে, ওই call-এর পর, notebook বের করে। মলাট খোলে।

প্রথম পাতায় একটা তারিখ — ১৪ই মার্চ, ২০৩২।

সূর্যের হাত কাঁপে।

আজকের তারিখ।

সে পাতা উল্টায়। মাঝের কিছু পাতা ছেঁড়া — যেন কেউ তাড়াহুড়ো করে ছিঁড়েছে, নইলে সরিয়ে রেখেছে। যা আছে তা পড়ে।

"আজ সে বলল — তুমি না থাকলে সমীকরণ মেলে না। আমি জানতাম। তবু কানে লেগে রইল। প্রতিবার লাগে — যতবারই শুনি।"

পরের পাতায় —

"fold-এ যাওয়ার আগে একটাই ভয় — সে আমাকে চিনবে না। কিন্তু আমি তো চিনব। সবসময়। এটাই কি যথেষ্ট?"

সূর্য notebook বন্ধ করে।

কিছুক্ষণ শুধু বসে থাকে। Lab-এ কোনো শব্দ নেই। শুধু সেই ঘড়ি।


টিক্... টিক্…


তারপর সে বোঝে।

তাঁরা মারা যায়নি।

তাঁরা fold-এ গেছে।

সূর্য সেই রাতে সব footage দেখে। ২০২৩ সালের মার্চ — তাঁরা lab-এ আসার দিন। Screen-এ সে pause করে। Zoom করে। তাঁরার মুখ।

চোখে কোনো অবাক নেই। এই lab দেখে, এই machine দেখে, এই theory শুনে — কিছুতেই অবাক নেই।

কারণ সে এই সব আগে দেখেছে। ২০৩৫ সালে। তখন এই machine চলছিল, পুরোদমে, এবং সে দেখেছিল কী হয়।

সূর্য পুলিশের report খোঁজে। ২০২৩-এর মার্চের। পায়। পড়ে।


কলেজ স্ট্রিটে একটা মেয়ে হঠাৎ পড়ে গিয়েছিল রাস্তায়। আশেপাশের মানুষ হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। জ্ঞান ফিরেছিল। কিন্তু discharge নেওয়ার আগে, hospital-এর মধ্যেই, অদৃশ্য হয়ে যায়।

কোনো body নেই।

কোনো মৃত্যু নেই।

কোনো explanation নেই।

শুধু অন্তর্ধান।

সূর্য রিপোর্ট রাখে। চোখ বন্ধ করে। মাথার ভেতরে সব টুকরো একে একে জায়গায় বসছে — puzzle-এর টুকরো নয়, বরং timeline-এর টুকরো।

তাঁরা ২০২৩-এ fold-এ গেছে। ২০৩৫-এ পৌঁছেছে। সেখানে দেখেছে — এই experiment কী করবে। fold collapse। লক্ষ লক্ষ মানুষ। তারপর ফিরে গেছে আরও পেছনে — ২০১৯-এ। সূর্যের কাছে। তাকে ভালোবাসতে। যাতে সূর্য এই গবেষণা করে, যাতে fold তৈরি হয়, যাতে তাঁরা ২০২৩ থেকে ২০৩৫-এ যেতে পারে।

কিন্তু তাহলে সে এখন সূর্যকে experiment বন্ধ করতে বলছে কেন?


সূর্য ছেঁড়া পাতাগুলো খোঁজে।

Lab-এর পুরনো জিনিসপত্রের মধ্যে, একটা কার্ডবোর্ড বাক্সে, ভাঁজ করা কয়েকটা পাতা। তাঁরার হাতের লেখা।

সে পড়ে।

"২০১৯-এ যাওয়ার আগে আমি জানতাম না ভালোবাসাটা সত্যি হবে। আমার কাছে এটা একটা mission ছিল। সূর্যকে গবেষণায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, যাতে সে fold আবিষ্কার করে, যাতে আমি ২০৩৫ থেকে ফিরে আসতে পারি তাকে সতর্ক করতে। Logical। Clean। Closed loop।"


"কিন্তু পথে কিছু একটা হয়ে গেছে।"

"আমি সত্যিই ভালোবেসে ফেলেছি।"

"এটা আমি expect করিনি। আমার calculation-এ এটা ছিল না।"

পরের কয়েক পাতা —

"এখন একটাই সমস্যা। fold collapse হলে সব মুছে যাবে — ২০৩৫ থেকে শুরু করে পেছনের সব timeline। কিন্তু fold না বানালে আমি ২০১৯-এ যেতে পারতাম না। সূর্যের সাথে দেখা হত না। শব্দলোকে সেই বৃষ্টির দুপুর হত না।"

"আমি exist করি কারণ fold exist করে। আর fold exist করে কারণ আমি exist করেছিলাম।"


"একটা perfect paradox। একটা closed loop। এর ভেতরে শুরু নেই, শেষ নেই — শুধু চলমানতা।"

শেষ পাতায় হাতের লেখা একটু বদলে গেছে। ধীর। যেন প্রতিটা শব্দ ভেবে লেখা —

"তাই experiment বন্ধ করতে বলছি না। বলছি — শেষ করো। কিন্তু শেষ মুহূর্তে একটু বদলে দাও calculation। fold collapse হবে না। একটা loop তৈরি হবে — চিরকালের জন্য। আমি চিরকাল ২০১৯-এ থাকব। তুমি চিরকাল আমাকে ভালোবাসবে। সময়ের ভাঁজে। কখনো মেলা, কখনো দূরত্ব — কিন্তু এই loop চলতে থাকবে। কারণ কিছু ভালোবাসা সময়ের চেয়ে বড়।"

এর নিচে আর কিছু নেই।


শুধু একটা হলুদ ক্লিপ। পাতার ফাঁকে রাখা।

Lab-এ পরের দিন সকালে, সূর্যের ছাত্র অভি আসে। সব পড়ে, সব দেখে, সব বোঝার চেষ্টা করে। তারপর বলে, মাথা খানিক নামিয়ে, সরাসরি না তাকিয়ে, "স্যার, সব বুঝলাম। কিন্তু তাঁরাদি কি জানেন এই loop মানে কী? তিনি চিরকাল ২০১৯-এ থাকবেন। নিজের সময়ে ফিরতে পারবেন না। পরিবারের কাছে না, নিজের বাড়িতে না। সবসময় অন্য একটা সময়ে।"


সূর্য জানলার দিকে তাকিয়ে থাকে। বাইরে বৃষ্টি নামছে — হালকা, তির্যক। Lab-এর নীল আলোয় তার মুখ স্থির। চোখে জল নেই। কিন্তু কোথাও থেকে ভেসে আসছে — এলাচের গন্ধ, পুরনো বইয়ের ধুলো। এই lab-এ এই গন্ধ আসার কথা নয়। তবু আসছে।

"জানেন।"

"তাহলে?"

"তাহলে notebook-এর শেষ লাইনটা পড়িসনি।" সূর্য ঘুরে তাকায়। "পড়।"

অভি notebook খোলে। সবচেয়ে শেষে, একদম ছোট হাতে, কালিতে লেখা —

"কিছু মানুষ সময়ের বাইরে থাকে। আমি সেই মানুষ। সূর্যের কাছে আমি সবসময় ছিলাম — থাকব। এটাই আমার timeline।"

অভি মাথা তোলে। একটু থাকে। তারপর বলে, "স্যার, তাহলে গত বছর ২০২৬-এ শব্দলোকে গিয়েছিলেন কেন? জানতেন সে আপনাকে চিনবে না — সেই সময়ে সে তখনও loop-এ ঢোকেনি।"

সূর্য একটু হাসে। তিন বছরে প্রথমবার। এই হাসিটা তার মুখের জন্য একটু অচেনা — যেন একটা পেশি দীর্ঘদিন ব্যবহার না করে থেকে, এখন একটু ব্যথা করে কাজ করছে।

"কারণ তাঁকে দেখতে চেয়েছিলাম। একবার। শুধু একবার।"

"জেনেও যে সে চিনবে না?"

"সে যখন বলল — মুখটা চেনা লাগছে — বুঝলাম।" সূর্য আবার জানলার দিকে তাকায়। বৃষ্টি একটু বেড়েছে। "চেনে। শরীর ভোলে, কিন্তু ভেতরে কোথাও মনে রাখে। সময়ের ভাঁজে যা হারায়, তা আসলে মরে না। অপেক্ষা করে।"


Lab-এর ঘড়ি।


টিক্... টিক্…

একটু ধীরে।


২০২৬ সাল। শব্দলোক।

বিকেলের তেরচা রোদ বাইরে নারঙি করে দিচ্ছে পুরনো বাড়ির দেওয়াল। সূর্য দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে। আসার কারণ সে জানে না ঠিকমতো। হয়তো পা এমনিই এনেছে। হয়তো শুধু একবার দেখতে।

দোকানে ঢুকতেই — সেই হলুদ। সেই একই হলুদ। সাত বছর পরেও বদলায়নি।

টিক্... টিক্...

ঘড়ির শব্দ। একটু বেশি gap।

কাউন্টারে একটা বই রাখা। তার নামে — সূর্য — লেখা একটা চিরকুটে।

Borges — 'Labyrinths'।

সে বই খোলে। একটা পাতায় নখের দাগ — এখানে কেউ পাতায় আঙুল রেখেছিল দীর্ঘক্ষণ। এই ভঙ্গি সে চেনে।

পাতায় ছাপা লেখা — "Time forks perpetually toward innumerable futures."

পাতার কোণে তাঁরার হাতে লেখা, নীল কালিতে, ছোট হরফে —

"আমি প্রতিটা ভবিষ্যতে অপেক্ষা করছি।"

সূর্য বইটা বুকে চেপে ধরে। কড়া না, ধীরে — যেভাবে কিছু ভাঙার ভয় থাকে।

বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়। হঠাৎ। কলকাতার বৃষ্টি — হুঁশিয়ারি ছাড়া। এলাচের গন্ধ ভাসে বাতাসে। পুরনো বইয়ের ধুলো হলুদ আলোয় নাচে।


ঘড়ি চলছে। টিক্... টিক্... একটু বেশি gap। সবসময়ের মতো।

এবং ২০১৯-এর একটা বৃষ্টির দুপুরে —

হলুদ আলোর শব্দলোকে, কলেজ স্ট্রিটে, বৃষ্টি সবেমাত্র থামার মুখে — একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে বইয়ের তাকের সামনে। কালো শাড়ি। চুলে হলুদ ক্লিপ। হাতে Borges-এর 'Labyrinths'। পাতায় আঙুল রাখা।

এলাচের গন্ধ ভাসছে। ঘড়ি বাজছে।

দরজা খোলে।

একটা ছেলে ঢোকে।

সে মাথা তোলে।

এই চোখে অবাক নেই।

কারণ সে জানে — এই মুহূর্তটা শুরু না।

এটা একটা echo।

এবং echo কখনো থামে না। উৎস যতদিন থাকে।

ইকো মানে প্রতিধ্বনি — কিন্তু প্রতিটা প্রতিধ্বনির একটা উৎস আছে। তাঁরা সেই উৎস। সূর্য সেই শ্রোতা। আর এই গল্প — সেই শব্দ যেটা দুটো timeline-এর মাঝখানে চিরকাল বেজে চলে।


..............................


রুদ্র ভট্টাচার্য

রুদ্র ভট্টাচার্য 

Vivekanand Pally, Taki Road, Barasat, North 24 pgs, West Bengal.



Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং অফিসে ...

তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত

 তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত নবপ্রভাতের   আহ্বান রাতের   শেষে   ফুটল   ভোর , সোনার   রঙে   রাঙে   ঘোর।   শিশির ভেজা   ঘাসের   বুকে , সূর্য   হাসে   মিষ্টি   মুখে। পাখিরা   গায়   নতুন   গান , জেগে   ওঠে   সারা   প্রাণ। নদীর   জলে   রোদের   নাচ , মেঘের   গায়ে   আলোর   আঁচ। ফুলের   ডালে   মধুর   গন্ধ , মনটা   ভরে   আনন্দ। হাওয়া   বয়ে   আনে   সুখ , মুছে   দেয়   সব   দুঃখ। নতুন   দিনের   নতুন   ডাকে , স্বপ্ন   জাগে   হৃদয়   ফাঁকে। চলার   পথে   আশা   সাথি , সাহস   থাকে   প্রতি   রাতে। পরিশ্রমে   ফুটুক   ফুল , ভেঙে   যাক   সব   ভুল। ভোরের   আলো   বলে   তাই , জীবন   জয়   করবই।   বৃষ্টির   সুরে   বাংলা কালো   মেঘে   ঢাকে   আকাশ , বৃষ্টি   নামে   উচ্ছ্বাস। কদম...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

POEMS ।। PRASENJIT DAS

FIVE POEMS ।।  PRASENJIT DAS POETIC MOON The moon passes behind the clouds, it steals a g lance and shie s. Lovely mystery kept in shrouds, beyond which the wonder lies. Each streak of light glows, to change from dark to white. Removing all the gloomy shadows, into perpetual joy and light. The moon speaks of love and desire, with silver glimmer so bright. For those always gloomy in despair, you give hope and set things right. LOST WINGS The childhood days, now nowhere - memories of old strewn in the air. Past glee and whispers have dried - Oh! Those colourful days, joyful ride! As the yesteryears are flipped - aware how far we have leaped.  Mind full of joy, now laid bare - childhood spent in love and care. The joyous wings used to flutter - now tied in bond and worldly clutter. The edges of study desks rotten - Old and new, some mates forgotten.  Days flipping books, a real zinger - the aroma of innocence still linger. Days of jolly pranks, fooling friends - treaded aiml...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বর্ষার কবিতা ।। বিচিত্র কুমার

কয়েকটি বর্ষার কবিতা বিচিত্র কুমার (০১) শ্রাবণের আকাশ শ্রাবণের আকাশ, যেন অশ্রু লুকিয়ে রাখা দুটি চোখ; হাসির আড়ালেও যার ভেতরে বৃষ্টি জমে থাকে। কদমের গন্ধ, যেন শৈশবের ডাক; সময় যত দূরেই নিয়ে যাক, মন তাকে ভুলতে পারে না। ভেজা পথ, যেন জীবনের অসমাপ্ত অধ্যায়; প্রতিটি পদক্ষেপে নতুন অর্থ লেখা হয়। যে স্মৃতিকে সম্মান করতে পারে, সে বর্তমানকেও সুন্দর করে বাঁচতে শেখে। (০২) ভেজা বিকেল বর্ষার বিকেল, যেন পুরোনো ছবির অ্যালবাম; প্রতিটি দৃশ্য ভুলে যাওয়া মানুষদের ফিরিয়ে আনে। দূরের বাঁশবন, যেন অপেক্ষার দীর্ঘ ছায়া; সময় বাড়ে, অথচ আশার আলো নিভে না। পথের ছোট্ট জলধারা, যেন অবহেলিত স্বপ্ন; একদিন সেও নদীর সঙ্গে গিয়ে মিশে। ছোট বলে কোনো স্বপ্নকে অবহেলা কোরো না; সমুদ্রও একদিন একফোঁটা জল থেকেই শুরু হয়। (০৩) বৃষ্টির প্রদীপ বর্ষার রাত, যেন গভীর ধ্যানের একটি মন্দির; অন্ধকারও সেখানে আলোকে জন্ম দিতে শেখায়। বৃষ্টির ফোঁটা, যেন ছিন্ন স্বপ্নের মুক্তো; মাটিতে পড়েই তাদের প্রকৃত মূল্য প্রকাশ পায়। ভেজা জানালা, যেন মনের আয়না; অশ্রু মুছে গেলেও অনুভূতির দাগ থেকে যায়। ভাঙা স্বপ্নের ওপর দাঁড়িয়েই মানুষ নতুন আকাশ দেখতে ...

কবিতা ।। গান্ধীবুড়ি মাতঙ্গিনী হাজরা ।। গোবিন্দ মোদক

গান্ধীবুড়ি মাতঙ্গিনী হাজরা গোবিন্দ মোদক   সেই স্বদেশীযুগের বীরাঙ্গনা হাজরা মাতঙ্গিনী মহীয়সী সেই নারীকে আমরা গান্ধীবুড়ি নামে চিনি। আঠারোশো সত্তর সালের সতেরোই নভেম্বর ঠাকুরদাস মাইতির ঘরে জন্ম হলো যে তাঁর। বাল্যকালে ত্রিলোচন হাজরার সাথে তার পরিণয়,  আঠারো বছরেই বিধবা হলেন নিঃসন্তান অবস্থায়।  তখন থেকেই ব্রতী হলেন দেশকে সেবার কাজে হলেন তিনি "গান্ধীবুড়ি!" জনসাধারণের মাঝে। প্রকাশ্য আন্দোলনে এলেন উনিশশো বত্রিশ সালে  উদ্দীপ্ত করলেন সবাইকে লবণ আইন অমান্য কালে। উনিশশো বিয়াল্লিশের আন্দোলনে ঊনত্রিশে সেপ্টেম্বরে  তমলুক থানা দখল আন্দোলনে জমায়েত যে হাজারে।  মিছিল ছত্রভঙ্গ করবার জন্য পুলিশ চালালো গুলি  হাল ধরলেন মাতঙ্গিনী, মুখে "বন্দেমাতরম্" বুলি। তিয়াত্তর বছরের বৃদ্ধা তিনি জাতীয় পতাকা নিয়ে  মিছিলসহ এগিয়ে চললেন নির্ভীক নেতৃত্ব দিয়ে।  ইংরেজ সৈন্য গুলি চালালো মাতঙ্গিনীর ডান হাতে,  তখন তিনি পতাকা ধরলেন দৃঢ়মুষ্ঠিতে বামহাতে।  কিন্তু ইংরেজ সৈন্য তার বামহাতেও গুলি করে মাতঙ্গিনী এগিয়ে চলেন পতাকা বুকে জাপটে ধরে। নেত্রীকে অনুসরণ করে জনতা উঠলো রুখে...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

মাসের বাছাই

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

এ যুগের নারী ।। সঞ্জয় বৈরাগ্য

  এ যুগের নারী সঞ্জয় বৈরাগ্য নই আর মোরা সত্তাবিহীন, সে যুগের মতো নই পরাধীন নই তো আমরা অবলা, কূপমন্ডকী সুযোগ, সুবিধা, শুধুই সুখভোগী। আমরা, এ যুগের নারী। মোরা ভয় করি নাকো ঝড়-তুফানে লক্ষ্য মোদের সদা জয় পানে। দিতে পারি মোরা দিক-দিগন্তে পাড়ি যুগ-যুগান্তের নৌকা ধরি। আমরা, এ যুগের নারী। আমরা ঘোচাবো ভাবনা মা, বাবা'র 'কন্যাদায়' --- এ কথাটি তাদের ভুলিয়ে দেবো, হয়ে যে অনন্যা আমরা যে যত সাহসী কন্যা। আমরা, এ যুগের নারী। পুরুষের থেকে কম নই মোরা আমরাই ভুবনে সৃষ্টির আধার।  পার হতে পাড়ি কাটিয়ে শত ভয়, সাগরের ঐ অতল জলরাশি; আমরা, এ যুগের নারী।   =============== সঞ্জয় বৈরাগ্য কৃষ্ণনগর, নদীয়া।

গল্প ।। আত্মরক্ষার অধিকার ।। রণেশ রায়

আত্মরক্ষার অধিকার রণেশ রায় উনার নাম সুমন বোস। বয়স পঞ্চান্ন ছাপ্পান্ন হবে।  চব্বিশপরগনার আমতলায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে স্ত্রী সুজাতা কন্যা কল্যাণীকে নিয়ে থাকেন। একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করেন। অবস্থা খুব ভালো না হলেও খারাপ নয়। দিব্বি চলে যায়। ভ্রমণ রসিক মানুষ। ছুটি পেলেই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাওয়া। স্ত্রী ঘর সামলান মেয়েকে নিয়ে। মেয়ে  দেখতে শুনতে তেমন না হলেও তার দৃপ্ত হাসিমুখ নজর কাড়ে। সে প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী নিকটবর্তী কলেজে বিষ্ণুপুর এলাকায়। পড়াশুনায় মোটামুটি। একটু বারমুখী ।  বাবার সঙ্গে খুব খাতির। ওর মায়ের অভিযোগ বাবার কাছে মেয়ে প্রশ্রয় পায় তাই পরশুনায় তেমন মন নেই। তবে মায়ের সাহায্যে যে সে তৎপর  সে বিষয়ে মায়েরও সন্দেহ নেই।  মেয়ে একটু  বহির্মুখী বলে মায়ের চিন্তা। বাবা মেয়ের এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত। আর সেটাই মেয়েকে একটু বেয়ারা করে তুলেছে বলে মায়ের ধারণা। সব নিয়ে ভালো মন্দে সুমনবাবুদের সংসার। সুমনবাবু মেয়ের বহির্মুখী কাজে উৎসাহ দেন সন্দেহ নেই। সেটা যেন তাঁর গর্ব আর সেটাই স্ত্রী সুজাতার রাগের কারণ। মেয়ে কল্যাণী পাড়ায় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় উৎস...

কবিতা ।। আটক ।। তাপসী লাহা

আটক তাপসী লাহা  সময়টি নিঃসন্দেহে অতি তরল, তরঙ্গময় ঘোরের বারান্দায় পাখি দাঁড় করিয়ে রাখা চমৎকার লৌহশানিত খাঁচা  বিড়ালিনীর শেষ রাতে চুপিসারে এঁটো করা দুগ্ধ পাত্রটি,  ঠনক্ শব্দে কেঁপে ওঠে নিত্যগৃহী, ঘুম গহ্বর থেকে অতর্কিতে ফিরে আসা নিঃসার ধ্বংসছ্যাক শোভাহীন শুকনো ফুলের তোড়া তবু তো মায়া! স্নেহ বিপন্ন বস্তুসুলভ গাছ...... আহারে মেছো প্রাণ ------ মাংস দাঁতটির কি হবে ভাবতে ভাবতে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে ধুলোদের ঘরকন্না। ============ Tapashi Laha  Birnagar  733134 Raiganj  Uttar Dinajpur 

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর