জীবনের প্রথম শিক্ষক মাকে নিয়ে কবিতা আদি শিক্ষক বিবেকানন্দ নস্কর মায়ের ঠোঁট থেকে পেয়েছি বর্ণ স্পর্শ দিয়েছে অনুভূতি মাতৃ দৃষ্টি দু'চোখ এঁকেছে শরীরে মায়ের দ্যুতি। পথচলা শেখা, হাঁটি হাঁটি পা শিরদাঁড়াতে টান নির্ভীকতার প্রতীক যে মা বিপদেও আগুয়ান। আদি শিক্ষক, অনন্ত কাল মায়ের উপরে নির্ভর যাপন আপন তাপন জীবন সে আমার পরিসর। প্রথম গুরু, প্রথম মন্ত্র আজন্ম মাতৃঋণ রাত্রি যন্ত্রণা মুছে নিয়ে আসে একটি আলোর দিন। ===================== বিবেকানন্দ নস্কর সন্তোষ পুর ফলতা দ: ২৪পরগনা
অনুর অপেক্ষা নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...