ক্ষণস্থায়ী
শ্যামল হুদাতী
কলকাতার সল্টলেকের সেই কাচঘেরা ভবনের ভেতর ঢুকলেই মনে হয় যেন জীবনের এক ধরণের রুটিন সিনেমা চলতে থাকে। লিফটের ধাক্কা, লবি থেকে ভেসে আসা কফির গন্ধ, ডিসপ্লে বোর্ডে টিমের নাম - সবকিছু একসাথে গুছিয়ে দেয় দিনের কাজ। শৌর্য প্রতি সকালে কষ্ট করে উঠে ট্রেনে করে আসে - সকালে শহরের কোলাহল, তারপর অফিসে ঢুকে সমস্ত মনোযোগ কাজে। তার চোখে এক ধরণের নির্জনতা আছে - পরিবার আছে, দায়িত্ব আছে, কিন্তু দেখা যায় কিচ্ছু কমে আছে হৃদয়ে।
অপরদিকে আকৃতি - চটপট কাজ শেষ করে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে আসে, লোকাল ট্রেনে যাতায়াত - এ এক দৈনন্দিন ঘটনা। অফিসে সে ম্যানেজার হিসেবে কটাক্ষ করে, হাসি ঠাণ্ডা-তাপে রাখে; কাজের মাঝে ওর মিষ্টি আড্ডা টিমকে হালকা করে দেয়। তন্ময় যখন ব্যাঙ্গালোরে নতুন প্রজেক্টে ব্যস্ত—তখন আকৃতির জীবনটা ধরা পড়ে একধরনের স্থির গহ্বরের মতো। ভিডিওকল আছে, কথাও আছে—কিন্তু সেই কথাগুলো মাঝে মাঝে রুটিনের আওয়াজের মধ্যে হারিয়ে যায়।
চা-স্টলে দাঁড়িয়ে শৌর্য ও আকৃতি প্রায়ই দেখা হয়। সেই প্রথম দিনের সাধারণ কথাবার্তায় যে স্নিগ্ধতা ছিল, তা ধীরে ধীরে বিশেষ রং ধারণ করে। প্রথমটা ছিল অল্প কথার বিনিময় - কোণায় বসে মেইল যাচাইকরণ, লাঞ্চের প্ল্যান করা - কিন্তু অসমাপ্ত কথাগুলো মনকে চুম্বক করে ধরে রাখে। গল্পের শুরুতে এখানেই সূক্ষ্ম টানাপোড়েন গাঁথা হচ্ছে - দুইটি দাম্পত্য জীবনের ছায়ায় ঢেকে থাকা এক আলাপ।
শৌর্যের চোখে আকৃতির চলনকেও সে দেখতে পারে - হাসিতে মৃদু ভঙ্গ, কমেডির মধ্যে কোনও বিষাদ। আকৃতি শিউরে ওঠে না কথা বলতে - সে অল্প অল্প করে নিজের ভাঙনগুলো শেয়ার করে: কোনো রাতে তন্ময়ের ক্যাজুয়াল কথা, কোনো কাজের চাপ। শৌর্যও বলে - অরুনিমার ব্যস্ততা, অফিসের বাইরে সময়ের অভাব। এভাবেই ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে একটি নরম বোঝাপড়া গড়ে ওঠে - কেবল কথাবার্তাই নয়, নীরব সমঝোতাও।
ক্যাফেটেরিয়ার এক কোণ একটা টেবিল - হঠাৎ তাদের জন্য গোপন ককটেল লাইব্রেরির মতো হয়ে যায়। সকাল থেকে মধ্যাহ্ন কাজের ঝাঁজে ফেলে তারা সেখানে একসঙ্গে বসে; চা-চক্রে প্রতিটি কথায় যেন নিঃশব্দ গল্প পোঁছে। তাদের কথায় প্রথম আসে অফিসের টাস্ক, কিন্তু তারপর আসে আরেক ধরনের প্রশ্ন - ভাগ করে নেওয়া দুঃখ, একাকীত্বের কথা, তাদের সম্পর্কের স্বাধীনতা।
এক বিকেলে আকৃতি মুখ খুলল, স্বরটা খানিকটা নরম - "তুমি কি কখনো তোমার জীবনের সেই অংশগুলো নিয়ে ভেবে দেখো যেখানে কেউ নেই?" শৌর্য চায়ের ঢেউয়ে চোখ ডুবিয়ে বলল, "দিনগুলোতো চলে যায় কিন্তু আমার মনে হয় কিছু কষ্ট সেখানেই জমে।" তারা হেসে নিলেও হাসিটার পেছনে ছিল এক অনিশ্চিত আত্মার টান।
এই টেবিলই তাদের জন্য এখন এক বর্ম; এখানে তারা নিজেদের দুর্বলতা খুলে বলতে পারে - কী ধরণের সান্ত্বনা তারা চাইছে, কেন তারা নিজের পরিবারের কাছে সেই সান্ত্বনা পাচ্ছে না। আকৃতি বলে, তন্ময়ের সাক্ষাৎকালে যেন তারা দুইজনের বন্ধন একটু দূরে সরে যায় - কিন্তু অফিসে পর্যন্ত এসে সেটাই তাদের কাছে শান্তি দেয়। শৌর্যও স্বীকার করে - অরুনিমার কাজের ব্যস্তভাবে সে প্রায় ছিটকে পড়েছে।
টেবিলে কটা ঘণ্টা কেটে যায় - মাত্র অল্প কথায় একটি জীবন বদলে যায়; তাদের ভেতর জন্ম নেয় বোঝাপড়া: একে অপরের কাছে এসে দুজনকে কিছুটা নির্ভরতা দেওয়া - এটা ভালও লাগতে পারে, কিন্তু কি করে এগুলো অব্যাহত থাকবে? এটাই তাদের বিড়ম্বনা।
কর্মক্ষেত্রে ততক্ষণ পর্যন্ত কিছুরই গোপন রাখা কঠিন। কয়েকদিন পর অফিসে ফিসফিসানি বাড়তে থাকে - কখনও একটি কৌতুক, কখনও কিচ্ছু বেশি খেয়াল করা দেখা। সহকর্মীরা দেখল আকৃতি ও শৌর্যের ঘনিষ্ঠতা, লাঞ্চ-শেয়ারিং, হালকা জোকস - এগুলো দ্রুতই ছোটখাটো গুঞ্জনে রূপ নেয়।
একটা মুহূর্তে কেউ খেয়াল করল - "তুমি কি দেখেছো, ওরা অনেক সময় একসাথে থাকে?" কথাটা ছড়ালেনের মতোই ছড়িয়ে পড়ে। আরেকজন তাই বলল - "এগুলো তো অফিস অ্যাট্রাকশন; কিছুদিনে মুছে যাবে।" এই ধরনের মন্তব্যগুলো ধীরে ধীরে শৌর্য ও আকৃতি দুজনকেই চিন্তায় ফেলে দেয়।
শৌর্য প্রথমে চেষ্টা করে না-শোনার; কিন্তু গুঞ্জন যখন বাড়ে, তখন সে নিজেই বিব্রত। আকৃতি হয়তো বেশি স্থির - সে মনে করে, কাজের মধ্যেই তাদের সম্পর্ক বজায় থাকবে। কিন্তু মানুষের মনস্তত্ত্ব ভিন্ন—গুঞ্জন কেবল কথাই নয়; মানুষের সুনামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এখানে গল্পে একটি নতুন চরিত্র আসে - বিপুল, একজন জ্যেষ্ঠ সহকর্মী যিনি দায়িত্বের সাথে কাজ করেন। তিনি অস্বাভাবিকভাবে গম্ভীর, কিন্তু একটি দিনের মধ্যেই গুঞ্জন শুনে তিনি আসে HR-এ রিপোর্ট করার কথা ভাবেন না; বরং তিনি দৃঢ়ভাবে দুজনকে সাবধান করে জানান - কাজের অনুশাসন বজায় রাখুন। বিপুলের কথা শোনার পর দুজনেই বুঝে যায় যে অফিসেতেই তাদের সম্পর্কের প্রভাব পড়ছে।
সীমানা - এটি কেবল বাহ্যিক নিয়ম নয়; এটি অভ্যন্তরীণ অনুভূতিও। আকৃতি ও শৌর্য একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবার ইচ্ছা রাখলেও তারা দুজনেই জানে - কখনও কখনও অনুভূতিগুলো সীমা ছাড়িয়ে যায়। সেই সীমারেখা অতি সূক্ষ্ম - একটা সরল আলিঙ্গন, ছোটো চুমুক, কিংবা রাতের একটি কল - এসবই সীমানাকে অস্বীকার করতে পারে।
তারা দুজনেই নানা সময় নিজের মধ্যে প্রশ্ন করে - এটা কি সত্যিই ভালবাসা? না কি কেবল নিঃসঙ্গতা পুরণ? আকৃতি মনে করে - তন্ময় ফিরে এলে সে কি এখনকার মতো অনুভব করবে? শৌর্য ভাবেন- অরুনিমা যদি এই কথা শোনে, তিনি কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবেন?
একদিন অফিসের বাইরে ইডেন গার্ডেনে তারা হাঁটতে বের হয়। সেখানে আলো-ছায়ার মধ্যেই আকৃতি বলে, "আমি কখনোই কেবল প্রেম খুঁজিনি- আমি খুঁজেছি কেউ যে আমার কথা শুনবে।" শৌর্য থেমে বলল, "এটাই মানুষকে প্রলুব্ধ করে।"
তন্ময়ের স্মৃতি - এগুলো আকৃতির জীবনের এক নরম ছোঁয়া। প্রথম প্রেমিক প্রজেক্ট মিটিং, তাদের আলাদা করে কাটানো রাতের কথা - এসব কিছুর মধ্যে তন্ময় একটি শক্ত ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় দূরে থাকায়, বিভিন্ন অনশন ও ক্লান্তিতে সম্পর্কটি বদলে যেতে থাকে।
তন্ময়ের অনুপস্থিতি আকৃতির বুকে এক ধরণের ফাঁক খুলে দেয়। কাজের ভিড়ে সে সান্ত্বনা খুঁজতে অফিসে বেশি সময় কাটায়। সেখানে শৌর্যের করুণ ক্ষুদ্র খবরগুলো আস্তে আস্তে আকৃতির কাছে হলুদ পাতার মতো জমে যায়। তার মনে হয় - কী জানি, এই মুহূর্তগুলোয় সে আশ্রয় পাচ্ছে, কিন্তু কি ঠিক আছে?
শৌর্যের স্মৃতিতেও অরুনিমার সঙ্গে সম্পর্কের কিছুটা অনাসক্ততা আছে। অরুনিমা এখন নতুন ভূমিকা নিয়ে ব্যস্ত - শৌর্য মাঝে মাঝে চিন্তা করে, কখনও কি সে নিজেই কম নিয়েছেন সেই সম্পর্কের প্রতি - না কি দুজনেই কাজের চাপে একে অপরের থেকে দূরে সরে গেছেন?
ভুলের স্বীকৃতি এক টিম-ডিনারে আকৃতি প্রশ্ন করে - "আমরা কি ভুল করছি?" - শৌর্য উত্তর দেয়, "ভুল হলে, সেটার প্রভাব কার ওপর পড়বে?" এই কথোপকথন প্রকাশ করে - বিচার কী হবে, দায়িত্ব কে নেবে, এবং কিভাবে ক্ষত-মেটানো যাবে।
তন্ময়ের কলকাতা প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা কেবল এক খবর নয়; এটা তাদের চারজনের জীবনকে বদলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি। আকৃতির মনে জটিলতা বড় হয় - আনন্দ আর ভয়ের মিশ্র। শৌর্যের মধ্যেও অপরাধবোধের ঢেউ। এই অধ্যায়ে প্রত্যেকটি চরিত্র নিজেদের মানসিকতা ও সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বন্দ্ব করে।
গুঞ্জন HR-র কানে পৌঁছায়; অফিস ম্যানেজমেন্ট হস্তক্ষেপ করে। মুনিরা, HR ম্যানেজার, এক তীক্ষ্ণ কিন্তু সহানুভূতিশীল চরিত্র হিসেবে প্রেজেন্ট হয়। তিনি দুজনের কাছে প্রস্তাব রাখেন - পেশাদার দায়িত্ব বজায় রাখা, পারস্পরিক সম্মতি অনুযায়ী আচরণ, এবং প্রয়োজনে রোটেশন।
শৌর্য আর আকৃতি দুজনেই নিজেদের ক্ষুধা ও অভাব অনুধাবন করে। শৌর্য নিজের মধ্যে প্রশ্ন তোলে - "আমি কি শুধুই স্বান্তনা খুঁজছি?" আকৃতি ভাবছে - "আমি কি তন্ময়ের সাথে আবার সম্পর্ক রক্ষা করতে পারব?"
অরুনিমা, শৌর্যের স্ত্রী - স্টোরির মধ্যে আসেন একজন শক্ত, স্বনির্ভর নারী হিসেবে। সে গল্পে একটি সচেতন, যুক্তিবাদী চরিত্র। শুনে শৌর্য ও আকৃতির গুঞ্জন, অরুনিমা প্রথমে দ্বিধাগ্রস্ত, পরে সিদ্ধান্ত নেয়—তারাও নিজেদের সম্পর্ককে দেখা জরুরি। অরুনিমার প্রতিক্রিয়া গল্পে একটি নৈতিক ও বাস্তব দিক যোগ করে।
শৌর্য যখন নিজেকে পরিবর্তনের পথে এগোতে চায়, তখন আকৃতিও ধীরে ধীরে বাড়ি ফিরে যায়। তাদের রোমান্স—যা ছিল তীব্র—ধীরে ধীরে বন্ধুত্বের আসনে ঠেকতে থাকে। তারা উপলব্ধি করে যে, সম্পর্কের রূপ বদলে গেলেও তার শিক্ষা স্থায়ী।
তন্ময় ও আকৃতি মিলে সিদ্ধান্ত নেয়—বৃহৎ প্রচেষ্টা করে সংসারকে সময় দেবেন। শৌর্য ও অরুনিমার মধ্যেও ধীরে নজরে আসে—নতুন সংলাপ, নতুন আলোচনা।
শৌর্য ও আকৃতি—সামাজিকভাবে ভিন্ন পথে হলেও—কাজের জায়গায় একটি পরিমিত বন্ধুত্ব বজায় রাখে। দুজনেই অনুভব করে—এ সম্পর্কটি তাঁরা সম্মানের ভিত্তিতে রাখতে চান।
তন্ময় ও আকৃতি একসঙ্গে ছোট ভ্রমণে বের হন - একটি সিদ্ধান্ত, একটি প্রত্যাবর্তন। তাদের কথোপকথন গুলো মিশে থাকে বাস্তব সমস্যার সাথে - অর্থনীতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সন্তান-সম্পর্ক। এই ভ্রমণ তাদের সম্পর্ককে নতুন করে চেনার সুযোগ করে দেয়।
শৌর্য নতুন হবি নেয় - ছবিঁ তোলা, ছোট গল্প লেখা - নিজের মধ্যে একটি শৈল্পিক স্পন্দন ফুঁটিয়ে তোলে। অরুনিমা ও শৌর্য ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্কের কাদা-মাটি পরিষ্কার করে - বেশ কিছুটা_distance দিয়েই - কিন্তু সম্মান ও ভালোবাসা বজায় রেখে।
HR নতুন গাইডলাইন জারি করে - কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক পরিচালনার নীতিমালা। এই বিষয়টি অফিসের সংস্কৃতিকে বদলে দেয়; মানুষজন নতুন করে সীমানা মেনে চলতে শিখে। শৌর্য-আকৃতি এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়।
একদিন অফিসের পুরনো সদস্যরাও তাঁদের ছোট ছোট কাহিনী মনে করে - কি আচরণ হয়েছিল, কী ভুল হয়েছিল। এই স্মৃতিচারণ তাদের শেখায় - বর্তমানে কিভাবে নিজেদের আচরণ সংশোধন করা যায়।
অরুনিমা একদিন শৌর্যের সঙ্গে খোলামেলাভাবে কথা বলে - সবকিছু নিয়ে। শৌর্য সত্য স্বীকার করে ও প্রতিশ্রুতি দেয়। অরুনিমা সিদ্ধান্ত নেয় - বন্ধুত্ব হলে সেটা শুধু সম্মানে রাখবে, আর ভাঙা হলে....
এখনই সিদ্ধান্তে আস।
তন্ময় এক বিকেলে আকৃতিকে খুলে বলে - "আমি ভুল বুঝেছি। আমি জানতে চাই, তুমি কি তন্ময়ের বদলে অন্য কিছু খুঁজেছিলে?" আকৃতি সোজাসুজি বলে - "আমি শুধু অন্তরের শূন্য পূরণ করতে চেয়েছিলাম।" তন্ময় বুঝতে পারে - তার কাজই ছিল সেটা পূরণ করা।
কীভাবে কাজের দায়বোধ ও ব্যক্তিজীবনের দায়িত্বের মধ্যে সমতা বজায় করা যায়। অফিসে কারো সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকলে সেটাকে কিভাবে পেশাগত দায়িত্বের নষ্ট না করে রাখতে হয় - এখানে দুজন বড় চরিত্রের মধ্য দিয়ে উদাহরণ দেখানো হয়।
শৌর্য ও আকৃতি একদিন অফিস-বন্ধুদের কাছে নিজেদের গল্পের একটা অংশ শেয়ার করে - নাম না বলে। তারা জানতে চায় - কীভাবে সহকর্মীরা এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া দেখল। ফলে সহমর্মিতা ও ক্ষমার দিক উঠে আসে - মানুষ ভুল করে, কিন্তু ক্ষমা করলে সম্পর্কের জোট মজবুত হয়।
কোম্পানির রোটেশনে শৌর্যের টিম বদলে যায়; আকৃতি আর শৌর্য আলাদা প্রজেক্টে যায়। এটি তাদের জন্য সহজ ছিল না; তবে এতে না-থাকাটা তাদের মধ্যে অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দেয় - কারণ ব্যক্তিগত সংলাপ কমে, কাজের গুরুত্ব বেড়ে যায়।
তন্ময় ও আকৃতির সংসারে একটি নতুন রুটিন গড়ে ওঠে - রাতের ডিনার, মিলিত ছুটি, এবং একে অপরের সময় দেওয়া। শৌর্য নিজের জীবনকে ফর্ম করল - আর অরুনিমা তার কাজের লেভেল ধরে রাখলেও শৌর্যের প্রতি বেশি মনোযোগ দেয়।
আরও কিছু বছর পেরিয়ে যায়। শৌর্য ও আকৃতি মাঝে মাঝে পুরনো কথা মনে করে - তাদের সম্পর্ক যে অস্থায়ী ছিল, তাও তাদের জীবনে অম্ল-মধুর স্মৃতি রেখে গেছে। তারা দুজনেই এখন আগের মতো কিশোরের মতো পাগলা
গল্পটি বারবার প্রশ্ন করে - কর্মক্ষেত্রে রোমান্স কি নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য? উত্তরটি সরল নয়। কর্মক্ষেত্রে রোমান্সের টেকসই হওয়ার সম্ভাব্যতা নির্ভর করে সামাজিক সমঝোতা, স্বচ্ছতা, এবং ব্যক্তিদের নৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।
একদিন শৌর্য আকৃতির সঙ্গে চা খেতে যায় - নতুন আরেকটি প্রজেক্ট ম্যানেজ করে তারা। কথাবার্তায় উঠে আসে - কীভাবে তাদের বন্ধুত্ব শক্তিশালী হয়েছে। তাদের মধ্যে এখন আস্থা, নিয়মিত আলোচনা, এবং সহমর্মিতা দেখা যায়।
শৌর্য, আকৃতি, তন্ময়, অরুনিমা - চারজনেই আলাদা আলাদা পথে এগিয়ে যায়, কিন্তু তাদের জীবনে একে অপরের অবদান অদৃশ্য হলেও ছিল।
গল্পটি শেষ হয় একটি ধীর, কিন্তু গভীর উপলব্ধিতে - প্রেম শুধু কামনার নাম নয়; অনেকসময় এটি মানুষের একাকীত্বের প্রতিকার; আবার কখনও এটি সিদ্ধান্ত, দায়িত্ব, ক্ষমার প্রমাণও। কর্মক্ষেত্রে রোমান্স টিকে থাকতে পারে যদি মানুষ নিজের দায়িত্ব বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়; না হলে তা কেবল ক্ষণস্থায়ী আবেগই হয়ে যায়।
-----------------------------
শ্যামল হুদাতী
প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড
কলকাতা - ৭০০ ০৬৮

Comments
Post a Comment