নবপ্রভাত মাসিক ব্লগ-ম্যাগ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ # মে ২০১৮ মে মাসে শ্রমজীবী মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধায় বিশেষ সংখ্যা বিষয়ঃ 'সভ্যতার পিলসুজ' **সূচিপত্র** কবিতাগুচ্ছঃ তৈমুর খান বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় প্রিয়দর্শী চক্রবর্তী কোয়েলী ঘোষ দেবাশিস মোহন মুখোপাধ্যায় সবর্না চট্টোপাধ্যায় বসন্ত কুমার প্রামানিক সায়ন মোহন্ত মোনালিসা মণ্ডল তমোঘ্ন নস্কর সোমের কৌমুদী পিনাকী বসু সুমনজিৎ চ্যাটার্জি মিঠু নাথ কর্মকার পল্লব দাস পবিত্র দাস রাজশ্রী ব্যানার্জী অরিন্দম দাস তপন কুমার মাজি সোনালি মণ্ডল আইচ সীমা দে বিশ্বজিৎ লায়েক সৌমিত্র মজুমদার মনোজিত দত্ত অমৃতা বিশ্বাস সরকার সুতপা পুততুণ্ড তন্ময় পাল অমিত পাটোয়ারী সোমনাথ বেন...
অনুর অপেক্ষা নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...