Skip to main content

Posts

Showing posts with the label ১৫শ সংখ্যাঃ ভোট বিষয়ক

সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র: মে ২০১৯

ব্লগ-নবপ্রভাত জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬  #  মে ২০১৯ 'ভোটরণ, জনগণ' বিষয়ক পঞ্চদশ সংখ্যা সম্পাদকীয় প্রকাশিত হল ব্লগ নবপ্রভাত   ''ভোটরণ, জনগণ'' বিষয়ক পঞ্চদশ সংখ্যা । আপনাদের মতামত পরামর্শ একান্ত কাম্য।  স্ক্রীনশর্ট নয়, নিজের লেখার লিংক শেয়ার করুন। লিংক-সূত্রে পাঠকগণ লেখা পড়ুন। প্রতি লেখার নিচে ফেসবুক কমেন্ট বক্স আছে, সেখানে মতামত বিনিময় চলুক। প্রতি মাসের সর্বোচ্চ পঠিত লেখাকে সম্মানিত করার পরিকল্পনা আছে আমাদের। স্ক্রীনশর্ট  শেয়ার করলে আপনি সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাই স্ক্রীনশর্ট নয়, নিজের লেখার লিংক শেয়ার করুন। নতুন বছর সকলের জীবনে সুখবর ও আনন্দ বয়ে আনুক  এই শুভকামনা জানাই। --নিরাশাহরণ নস্কর সম্পাদকঃ নবপ্রভাত ======= লেখক-সূচি কবিতা-ছড়া : আর্যতীর্থ    তপন কুমার মাজি    পল্লব দাস    সায়ন তরফদার    দেবপ্রসাদ মুখার্জী    নিসর্গ নির্যাস  পবিত্র দাস    চন্দন মিত্র    সৌরভ ঘোষ    কান্তিলাল দাস    শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়  ...

অরবিন্দ পুরকাইতের ছড়া

        জন্মনেতা আজকে যাকে দেখছ চোর কালকে দেখবে সাধু কেন-না তার হাতে আছে দল-বদলের জাদু! নেতা হওয়া সাধনার কী - জন্মনেতা সবাই সটকে পড়া জানাটা চাই হওয়ার আগে জবাই। দৃঢ়চেতা-টেতা কীসের, হওয়া দরকার তরল ভিন্নরূপ ধরাই নিয়ম চাও যদি দল-বদল। কী প্রয়োজন, ছাড়ুন ওসব শুদ্ধিকরণ-টরন আর আর দল বসে যখন করবে বলে বরণ।  ভিন পতাকার স্পর্শে মুক্তি - সকল পাপের ক্ষয় ভাবনা কীসের মাথায় যখন পার্টির বরাভয়!                                       --  অরবিন্দ পুরকাইত

আর্যতীর্থর কবিতা

       । আস্তাকুঁড় । আবর্জনা জমছে ভীষণ, মন জুড়ে ছায় আস্তাকুঁড়, কাজের কথার বাগান ফাঁকা, বাজে কথার ঘাস প্রচুর। বারোমাসের রোজনামচায় চাহিদারা রোজ খামচায় পাপোষ বানায় আপোষনীতি, সত্যে ফেরার রাস্তা ঘুর, শিরদাঁড়াকেই গুম করে দিই , খাড়া হওয়া অনেক দূর। ঈশ্বর আজ রাজনীতিকের দাবার বোড়ের কর্মতে, জন্মদাগের মতন এখন জাত লেখা হয় চর্মতে। শ্বাস উঠেছে জাতের ফাঁসে  ভোট-ড্রাকুলা হি হি হাসে নি-রক্ত দেশ হাজার ক্ষতে জাতিভেদের শর-স্রোতে, কোটি রকম ঘেটো এখন আমার ভারতবর্ষতে। কেউ দিয়ে দেয় মাসের ছুটি কেউ হেঁকে যায় জয় শ্রীরাম, ভোটের নামের বজ্জাতিতে তেল দিতে পা'য় নেই বিরাম। ধর্ম জাতে ভাগ করে, ভোটগাড়ি যায় ওই জোরে, মাঝের থেকে হচ্ছে খারাপ আল্লাহ এবং রামের নাম, অতীত নিয়ে বর্তমানের যুদ্ধে ভাবী তুলকালাম। গঙ্গানদী ধুঁকছে বিষে সেদিকপানে খেয়াল কার? লক্ষ বলি নিচ্ছে দূষণ সেই নিয়ে নেই ভোটপ্রচার। বাড়ায় বেকার শিক্ষা কেবল সে সব নিয়ে ভাবছে কে বল চলছে ঢালাও প্রতিশ্রুতির  খুড়োর কলের অত্যাচার, আলোর খবর বলে সবাই করছে ফিরি অন্ধকার। মনের ভেতর আবর্জনার স্তুপ জমে আর জায়গা নেই, সিং...

সুমন কুণ্ডুর 'ভোটের গদ্য '

                              ' একটি ভৌটিক গদ্য '   ফুল ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে । বাজারের মোড়ে, পাড়ার লাইটপোস্টে, কার্নিশ বেয়ে ঝুলছে । কথা বলে উঠছে মানুষের সাথে, ' তুমি আমার সাথে আছো তো ? ' মাপছে । মাঝে মাঝে ' জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ' গেয়ে উঠছে ! তোমার গলার ভেতর ঢুকে গেল এইমাত্র, কলমের ভেতর । এইমাত্র শহরের দুর্গন্ধ ঢাকা পড়লো ।   ইকোয়েশন দোস্তো... ইকোয়েশন everywhere ! স্কুলে আমি অংকে ভালো ছিলাম, সাহিত্যে কাঁচা । অংক কষা ফুলের কাজ নয়, সাহিত্যের কথা বলতে পারতো ।  ফুল, সাধারণত মেয়েদের নাম হয় । টগর ডাকে এই শিউলি । ছোটবেলায় বাবার সাথে সাইকেলে চেপে নার্সারি থেকে ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদার চারা এনে বাড়িতে লাগাতাম । শীতকালে ফুল ফুটলে আমাদের বাড়িতে চোর আসতো, চুরি হত ! এখন ওদের বয়স বেড়ে গেছে । কেউ কেউ সেলুন খুলেছে । সেলুন আমার ভালো লাগে, চুল কাটার পরে ঘাড়টা, মাথাটা বেশ ম্যাসাজ করে দেয় ।  আমাদের স্টেশনের টোটোয়ালারা ফুলের কার্যকলাপ নিয়ে বেশি জানেন । আচ্ছে দিন বা নোটবন্দির প্রভাব । রিক্সার বিবর...

অমৃতা খেটোর মুক্তকথা

                    গিরগিটি   আজ সকালে কাঁঠালি চাঁপা গাছের ডালে একটা নধর গিরগিটি দেখলাম, চুপ করে বসে আছে। একটু পরে দেখি তার গায়ের রং বদলানোর ম্যাজিক।কলিং বেল বাজলো, দরজা খুলে দেখি আরে সেই পাড়াতুতো গিরগিটি টা! আবার এসেছে? একটু দূরে আরো  চার পাঁচ জন দাগী যুবক, তোলাবাজি করা যাদের পেশা। গিরগিটি বলল, বৌদি, এই হল আমাদের প্রতিনিধি আর দলের প্রতীক তো আপনি জানেন, সকাল সকাল ভোট দিয়ে আপনার গণ তান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে আসবেন। চার দিন পর ভোট, স্বামী একটু বেরিয়েছেন, একটা বাইক এসে থামল, দেখি সেই গিরগিটি, বলল, চলুন আমার বাইকে, ভোট দিয়ে আসবেন। আমি গম্ভীর হয়ে বললাম, তুমি যাও, আমি ঠিক সময়ে তোমার দাদার সাথে গিয়ে ভোট দিয়ে আসবো।গিরগিটি চোখ কটমট করে চলে গেল, নাম সুকান্ত, আহা কান্তিমান ছেলে বটে। মনে পড়ছে বেশ কয়েক বছর আগের কথা, এইরকম বৈশাখী দাবদাহে সকলের নাজেহাল অবস্থা।পোস্টারে এক কবির লেখা কবিতা, 'কৃষ্ণ চূড়ার ফুল লালে লাল, লালে লাল/ চারিদিকে হাঁস ফাঁস এত লাল সন্ত্রাস/। আমাদের প্রায় গোটা পাড়াটার চোখে জয় বাংলা, এখন দেখি নীল অপরাজিতা ফু...

সত্যম ভট্টাচার্যের মুক্তকথা

              পালাবদলের ক্ষণে                           রাস্তার ঢাল গড়িয়ে ছোট্ট গাড়িটা যখন বিশাল সবুজ মাঠটায় নামলো তখন বিকেল শেষ হয়ে সন্ধে নামছে।মাঠের একদম এককোণায় ছোট্ট স্কুলবাড়ি।চারিদিকে ঘন সবুজ চা বাগান যেন অন্ধকারকে আরো আষ্ঠেপৃষ্ঠে জাপটিয়ে ধরে কাছে আনতে চাইছে।স্কুলঘরের কাছাকাছি একটা তাঁবু,গাড়ি থেকে নামতে নামতে খেয়াল করলাম।ডিসিআরসি থেকেই বলে দেওয়া হয়েছিল যে ফোর্স আগেই চলে গেছে।এটা যে বারের ভোটের কথা বলছি সেবারেই বর্তমান শাসকদলের ক্ষমতায় আগমন । গোটা রাজ্যেই মনে হয় সেবার ভোট হয়েছিল কেন্দ্ রীয় আধা সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে।প্রাক্তন শাসক দলের একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তে বিরক্ত জনগণ,ঘটে গেছে সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের মতো মারাত্মক ভয়ঙ্কর ঘটনাগুলি,তাই হাওয়া অনেকটাই বইছে অন্যপালে।আবার শাসকদলও যে ছেড়ে কথা বলবে না তা বলাই বাহুল্য।   গাড়ি থেকে নিজে নেমেছি,পোলিংপার্টি-জিনিসপত্র সব ধীরে ধীরে  নামছে।তখনই-স্যার!চমকে উঠে ...

তাপসী লাহার মুক্তগদ্য

এই বঙ্গে ভোট রঙ্গে ভোট দেবে ভাই ভোট, ভোট নেবে ভাই ভোট।কাকু কাকিমা মাসিরা পিসিরা দাদারা দিদিরা এই গরমাগরম মরসুমে কি শুধু আম পাকুক,কাঠাল পাকুক শুনে মন ভুলবে,বরং আম মেরে যাওয়া জনতার  ভেতরে চাপা ক্ষোভ, হিংসা , রাগ, দুঃখ, প্রাপ্তি        প্রত্যাশা, হতাশা গুলোকে  মনের ঘিঞ্জিগলি থেকে টেনে হ্যাচড়ে বের করে আগুন ধরিয়ে একটু মোচ্ছব পালন করে নিই,দূর্গাপুজা টূর্গাপুজা না,স্বাধীন  দেশের  স্বাধীন  নাগরিকদের এক্কেবারে যাকে  বলে,গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড়,বিগবাজারের অফারের থেকেও বড় একখানা উৎসব।          উৎসব হবে এমনি এমনি বুঝি।কত্তরকমের জোগাড় যন্ত্রিরের ব্যাপার স্যাপার আছে।তার আগে হেকে ডেকে ভোট দেবতার আবাহন করুন আগে,জয় ভোট বাবার জয়।জয় ভোট বাবার জয়।ভোট বাবা ছাকনি ছেঁকে  ভোটার আনবো, শুধু এই বারটা  একটা হন্যে করে দাও।       নির্বাচনী  প্রার্থির  ঘনঘন পুজা আচারে,  চিৎকার চ্যাঁচামেচিতে ভোটবাবার গেলো ঘুম ভেস্তে।আর চোখ কচল্যাতে কচল্যাতে সবে মাত্র হাই তুলেছেন কি না অমনি  চারি...

ফিরোজ আখতারের অণুকথা

ভোটের প্রাপ্তি ..................... ভোটেতে অনেক জ্বালা থাকা সত্ত্বেও বেশ কিছু প্রাপ্তি থাকে ৷ যত ভোটের অভিজ্ঞতা বাড়ে ততই এই প্রাপ্তি'র ভাণ্ডার পূর্ণ হতে থাকে ৷ নির্বাচন কমিশন একে দেশের সবথেকে বড়ো উৎসব হিসাবে বর্ণনা করেছেন । সত্যিই তাই ৷ উৎসবই বটে ৷ প্রতিটি ভোটে যেসব অভিজ্ঞতা হয় তা নিয়ে একটা উপন্যাসিকা রচনা হয়ে যায় ৷ ভোটকর্মীদের টিম ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ । সম্পূর্ণ অপরিচিত চার-পাঁচজনকে নিয়ে শুধুমাত্র দু'দিনের জন্য একটি টিম তৈরি হয় ৷ ভোটের একদিন আগে অর্থাৎ P1 দিনে DCRC তে উপস্থিত হতে হয় । তাঁরা দু'দিন একসঙ্গে থাকেন, একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন, কাজ করেন, মজা করেন, সুখদুঃখের গল্প করেন ৷ তারপর ভোট নিয়ে ফিরে আসে RC ( Receiving Centre ) তে । নির্দিষ্ট কাউন্টারে সবকিছু জমা দিয়ে রওনা দেন যে যার বাড়ি'র উদ্দেশ্য । পরে হয়তো আর কোনদিনই পরস্পরের সঙ্গে দেখা হয়না । কিছু কিছু জায়গা আছে অত্যন্ত দুর্গম ও অগম্য । সেখানে ভোট শুরুর দু'দিন আগে অর্থাৎ P2 দিনে রওনা হতে হয় ৷ ফিরতেও সময় লাগে দু'দিন । সব মিলিয়ে ৫ দিন । ভোটের বুথগুলি যদৃচ্ছভাবে বেছে দেওয়া হ...

শেফালি সরের ভাবনা

যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা বন্ধ করুন ভারতের সত্যিকারের রাজনীতি হ'ল চাওয়া পাওয়ার রাজনীতি।কেউ যদি নেতাদের এইসব টোপ না গিলে তাহলে গিলোটিনে তাদের শিরশ্ছেদ। কখনো হয়তো ভয় দেখানো হয়,ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হবে নয়তো কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাতিল করা হবে।ভারত বর্ষের রাজনীতি এমনি ই। বাইরে শুধু হরিনামের জপমালা জপছে আর ভেতরে ভেতরে চুরির কৌশল আঁটছে। কাজে কম্মে অষ্টরম্ভা বাইরে শুধু চটকদারী।একটা ভোট মানে খুন জখম রাহাজানি। লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু।সরকারী জিনিস পত্র ভাঙচুর, প্রচুর টাকা পয়সার ক্ষয়ক্ষতি।আর এই টাকা তো সাধারণ  মানুষের উপার্জনের টাকা। এই সত্যি কথাটা সাধারণ মানুষ বোঝে না। আমি একজন সাধারণ নাগরিক। ভোট দেওয়ার দায়িত্ব আমার ও আছে। ভোট দিতে যাবো অবশ্যই। কিন্তু এতে কী যে লাভ আছে-আমার একার ভাবনায় প্রশ্ন টা কিন্তু বারবার মনের মধ্যে উঁকি মারছে। তবুও ভোট দেওয়া একজন নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য।তাই ভোটার লাইনে দাঁড়াতে হবে যথা সময়ে। তবু ও বলবো নেতা নেত্রীদের এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা বন্ধ করুন দয়া করে। আমরা সাধারণ মানুষ একটু শান্তি পেতে চাই।         স---------মা...

গদ্য কথাঃ আনোয়ার হোসেন

আমার প্রথম নির্বাচনী অভিজ্ঞতা আমি তখন কাজের সূত্রে ময়মনসিংহ ছেড়ে সিলেটের মৌলভী বাজারে। মোলভীবাজারকে চায়ের রাজধাণী বলা হয়। বাংলাদেশের সবচে বেশি চা বাগান রয়ছে মৌলভীবাজারে। এছাড়াও মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, মাধবকুন্ডু ইকো পার্ক, হাকালুকি হাওর, বাইক্কাবিল, লাউয়াছড়া ইকোপার্ক ও বিভিন্ন নৃতাত্বিক গোষ্টির বৈচিত্রময় জীবন যাপনের মৌলভীবাজার অনন্য। সেবার সংসদ নির্বাচনের জন্য আমি প্রথমবার দায়িত্ব পেয়েছিলাম। আমার শহরের কর্মস্থল থেকে প্রায় বিশ কিলোমিটার দূরে দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় আমার দায়িত্ব পড়েছিল। ভয় পেয়ে গেলাম। প্রথমবার নির্বাচনী দায়িত্ব। কিছুই চিনি না।  তার উপর পরিচিত কেউ নেই। মৌলভীবাজার-সিলেট অঞ্চল বাংলাদেশে হিন্দু অধ্যুষিত। আমার পরিচিতদের মধ্যে খোজ নিলাম। কেউ কোন হেল্প করতে পারে কি না। সবাই অপারগতা প্রকাশ করলে আমি আরো হতাশ হয়ে পড়লাম। শেষে পুলক পাল নামে আমাদের ব্যাংকের একজন গ্রাহক ব্যাপারটা জানতে পেরে আমাকে ফোন দিয়ে বলল, -"ভাই টেনশন করবেন না, আমার পরিচিত অনেকেই আছে ওখানে। একটা ব্যবস্থা করতে পারব আশা করি।" পুলক পাল আমাদের সমবয়সী। আমার সাথে ভালো সর্ম্পক। প্রতিদিনই ব্যাংকে আসে...

আকাশ নীল মাইতির গল্প

" একটি অপ্রকাশিত খোলা চিঠি"            ---------------- প্রিয় সুজন,             আপনারা যারা আমাকে ভালোবাসেন এতকাল অন‍্যায় আবদার সহ‍্য করেছেন সবিশেষ জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখি আমার মৃত্যু আসন্ন। তাই দুপুর থেকেই খুব ভয়ে ভয়ে আছি । কি করে জানলাম? জেনেছি। যেমন করে আপনারা মেঘলা আকাশ দেখে বুঝে যান বৃষ্টি আসবে কিনা। সেইভাবে। এমনিতেই আমি ছ'ফুট দু'ইঞ্চি লম্বা। গড়পড়তা বাঙালি ছেলেদের তুলনায় বেশ লম্বাই। কিন্তু দুপুর থেকেই দেখছি আমার ছায়ার দৈর্ঘ্য ক্রমশ আমাকেই ছাড়িয়ে যাচ্ছে! তাই নিজের আয়ু নিয়ে বেশ সন্দিহান।         এখন রাত এগারোটা পঁয়ত্রিশ। লেপের মধ্যে আমি আর আমার ছায়া সহাবস্থান করছি। আর মোবাইলের কী-প‍্যাডে টপাটপ টাইপ করে চলেছি আমার শেষ ইচ্ছেগুলো। আপনাদের কাছে আনুরোধ এগুলো যেন আমার জবানবন্দি হিসেবে ধরা হয়। কি জানি সকাল অবধি আর বেঁচে থাকতে পারবো কি না ! মনটা বড় কু-গাইছে গো ...          ছোটবেলায় স্কুলে পরীক্ষার সময় ফার্স্ট বয় বা সেকেন্ড বয়ের পাশেই বসতাম। পুরোটা...

তাপসকিরণ রায়ের গল্প

                                                     দেশ সেবক                                                       ভবতোষ বাবু রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে কোন সম্পর্ক রাখেন না । তবে দেশের ভাল মন্দ তিনি বোঝেন । তাঁর মতে দেশ কেমন চলছে তার ছবি দেখতে হলে সরকারি হাসপাতালগুলিতে একবার ঢু মেরে আসতে হয় । খারাপ জিনিস তাঁরও খারাপ লাগে , ভালো জিনিস তার মনকেও ভালো করে দেয় । অনেক সময় দেখা যায় দেশের সত্তা পরিবর্তন হতে হতেই তার চাল - চলন পাল্টে যায় । তাঁর চোখেও পড়ে রাজনৈতিক সত্তার অপব্যবহার । আচার আচরণের মধ্যে ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

ছড়া ।। লিচু ।। আনন্দ বক্সী

লিচু  আনন্দ বক্সী 'গোয়াঙডঙ প্রদেশ' জায়গাটি চিনে  শুরু হয় চাষ এর অতীতের দিনে। টক আর মিষ্টিতে মজাদার খেতে  ছোটো-বড় সকলেই চায় স্বাদ পেতে। আকারে লম্বা-গোল ছোটো ছোটো ফল  থোকা থোকা ঝুলে থাকে গাছে অবিরল।  ছূঁচালো অগ্রভাগে খসখসে দেহ  কাঁচায় সবুজ ত্বক নেই সন্দেহ।  পাকলে গোলাপি লাল বাইরের ছাল  ভিতরের অংশটা সাদা চিরকাল।  আঁটিটা শক্ত খুব পয়জনে ভরা  বাদামি রঙেই এর দেহখানি গড়া। গ্রীষ্মের ফল এটি ভরপুর রসে  স্বাদ এর মনটাকে করে নেয় বশে। ভেবে বলো এর নাম পেলে নাকি কিছু? ঠিকই চিনেছ একে ফলটি যে লিচু। খোসাটা ছাড়িয়ে খাও কাঁচা হোক পাকা  স্যালাড-মিষ্টি-জুসে পাবে এর দেখা। শর্করা-চিনি-জল নেই এতে কম  ভিটামিন-ফাইবারে ভরা একদম। খনিজের আছে স্থান এই ফল মাঝে  শরীরের উপকারে লাগে যেটা কাজে। লোহিত কণিকা গড়ে আমাদের দেহে  হার্টকে সুস্থ রাখে অপরূপ স্নেহে। দেহ-ত্বকে ধরে রাখে এর যে সতেজতা  ওজনটা কমাতেও করে সহায়তা। রক্তচাপকে করে করতলগত  মধুমেহ রোগ এর হয় অনুগত। বশে রাখে লিচু শুনি বাত-হাঁপানিকে নানা কাজে প্রয়োজন এই ফলটিকে। খালি পেট...

ছোটগল্প ।। মনোকষ্টে বাবলা ।। দীপক পাল

মনোকষ্টে বাবলা দীপক পাল পয়লা বৈশাখে হালখাতা করতে গিয়ে যা বেহাল অবস্থায় পরেছিল তিন মক্কেল তারপরে বাড়ীতে মা বাবার যা বকুনি জুটেছে তা আর বলার নয়। তিন মক্কেলও ঘর থেকে বেরোয়নি। তৃতীয় দিন সকালে বাবলার বাবা বাবলাকে বলে, - ' জানিস আজ সকালে দিদি ফোন করেছিলো আমরা কেউ গিয়ে একবারও দেখা সাক্ষাত করি না কোন খোঁজ খবর করিনা আমরা কেমন আছি। তাই আমি ঠিক করেছি এই টাকাটা নিয়ে তুই একবার ঘুরে আয় সোনারপুর। ' -' আজ যাবনা বাবা। একা যেতে ইচ্ছে করেনা , কাল বিশ্বরূপ ও সৌম্যকে নিয়ে যাব।' - ' আচ্ছা তাই যাস যদি ওরা যায়। তবে আরো কটা টাকা নে।' বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপকে ফোনে সন্ধে সাতটার সময় পার্কে আসতে বলল। বললো অনেক কথা আছে।  যথারীতি সন্ধে সাতটায় পার্কে সবার দেখা হলো। কিছুক্ষণ সাধারন কথাবার্তা চলার পর অটোমেটিক হালখাতার সন্ধের ঘটনার কথাটা উঠলো। এবার আর কোন বিরক্তি বা রাগের কথাতো উঠলেই না কোন দোষারোপ না। সবাই খানিক মজা আর হেসে লুটোপুটি খেলো। এর মধ্যে সৌম্য হঠাৎ বলে উঠলো, - ' আচ্ছা বাবলাদা তুমি হঠাৎ আমাদের পার্কে ডেকে পাঠালে কেনো, কি ব্যাপার?' - ' কেন, আমি তোদের ডাকতে পা...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

বাংলার কথা ।। আবদুস সালাম

বাংলার কথা : একটি আলোচনা আবদুস সালাম যে বাংলা নিয়ে আমাদের এত গর্ব এত অহংকার সেই বাঙলা কিন্তু একদিনে গড়ে ওঠেনি। বহু বিবর্তনের পথ ধরে বাংলা রূপ নিয়ে আজ আমাদের সম্মুখে বিরাজমান। আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে--" মৌর্য বিজয় থেকে আরম্ভ করে গুপ্ত রাজবংশের রাজত্ব পর্যন্ত খ্রিস্টীয় পূর্ব ৩০০ বছর থেকে খ্রীষ্টিয় ৮০০ বৎসর ধরে বাংলার অস্ট্রিক ও দ্রাবিড় ভাষাভাষী জনগণ নিজ অনার্য ভাষা ত্যাগ করিয়া ধীরে ধীরে আর্যভাষা অর্থাৎ মগধের প্রাকৃত ভাষা গ্রহণ করিল। উত্তর ভারতের ব্রাহ্মণ্য ধর্ম সভ্যতা ও ঐতিহ্য অর্থাৎ সংস্কৃত ভাষার সত্তা হারিয়ে আর্য-অনার্য ইতিহাস পুরাণ এবং উত্তর ভারতের আর্য অনার্যে ইতিহাস পুরাণ বঙ্গদেশের অধিবাসীরাও গ্রহণ করে। বৌদ্ধ ও জৈন মতবাদ আসিল, তাহাও বাংলায় গৃহীত হইল।" এভাবেই দ্রাবিড় অস্ট্রিক ও উত্তর ভারতের মিশ্র আর্য জাতির মিলনে সৃষ্টি হলো বাঙালি জাতি। দু হাজার বছর ধরে বহিঃস্থ শক্তি সমূহ মৌর্য,গুপ্ত ,পাল, চন্দ্র,বর্মন, দেব, কোল,সেন, তুর্কি, মুঘল, ইংরেজ প্রভৃতি জাতির আক্রমণে বিধ্বস্ত হয়ে নিজের সত্তাকে বিসর্জন দিয়ে শংকর জাতি হয়ে জীবন যাপন ক...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় আধুলি ও কড়িতে কেনা নেই আমাকে আমার চেনা হয়নি জানা হয়নি ঘায়ের আকার ঠিক কতটা হলে সেলাই পড়ে নিজেকে দামি ভেবে গেছি রোজ... বার বার ভুলের পর,আজ যা পড়ে আছে তা কেবল আত্মশ্লাঘা এক জনমের সওদায় যাকে বিক্রি করা যাবে না তাই তো বুকে আগলে বসেছি আমার বিস্ফোরণ আর সেই ধ্বংসস্তূপে নুন ছিটিয়ে যাচ্ছে গোটা শহর। নিরালায় আছি মানচিত্রে আমাদের স্থান এক ও অনন্য অন্ধের দৃষ্টি খোঁজার মতো আমরাও আমাদের মৃত ভালোবাসাকে উস্কে দিই ব্রক্ষ্মাণ্ডে,তখন চাঁদটাও নগন্য লাগে যেন একটুকরো কালো পাথর আবার সময়ে সময়ে বেড়ালের ল্যাজ নাড়াটাও হয়ে ওঠে পৃথিবীর অন্যতম মনোরম দৃশ্য ওর ল্যাজে লেগে থাকা পিঁপড়েটা তখন আমি, ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ যেন প্রকৃতির বুকের এক টুকরো বিরহ। ....................... জয়িতা চট্টোপাধ্যায় শ্যামনগর উত্তর চব্বিশ পরগনা ভারত

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক তপন মাইতি বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়; এটি বাঙালির সামষ্টিক স্মৃতি, কৃষিনির্ভর সভ্যতার চিহ্ন, অর্থনৈতিক বিন্যাসের সূচনা এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক। সময়কে মানুষ ক্যালেন্ডারে বন্দি করলেও, নববর্ষ আসলে মানসিক পুনর্জন্মের এক সামাজিক অনুষঙ্গ। বছরের প্রথম দিনকে কেন্দ্র করে বাঙালি নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সংকল্প করে। পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলা—এই ধারণা বাঙালি জীবনদর্শনের গভীরে প্রোথিত। নববর্ষ মানে শুধুই উৎসব নয়; এটি স্মৃতি, শ্রম, আশা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি সামাজিক চুক্তি। বাংলা নববর্ষ তাই একদিকে কৃষিজীবনের ঋতুচক্রের সাথে যুক্ত, অন্যদিকে নাগরিক সংস্কৃতির আধুনিক উৎসবে রূপান্তরিত এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। বাংলা সনের উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সাধারণভাবে মনে করা হয় মুঘল সম্রাট আকবর রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে সৌরভিত্তিক বাংলা সাল চালু করেন। কৃষিভিত্তিক সমাজে ফসল কাটার সময় অনুযায়ী কর আদায় প্রয়োজন ছিল।হিজরি চান্দ্র সন কৃষির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।ফলে সৌরবর্ষভিত্তিক বাংলা সনের প্রবর...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো