গুচ্ছকবিতা রূপক চট্টোপাধ্যায় ১) বুড়ো জোকারের কাছে হাসির সব রসদ ফুরিয়ে এলে, নিজের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে হেঁটে যান! রঙিন রিবনে বেঁধে ফেলেন ফুসফুস জোড়া দীর্ঘশ্বাস গুণ গুণ গান ভাঁজতে ভাঁজতে হাঁটেন দূরে। শেষে ঝুঁকে পড়া শরীরটাকে মহাশূন্যের কাছে গচ্ছিত দিয়ে নিজেই হেঁসে যান নিজেরই আড়ালে। ২) ঘরের সব ক্যালেন্ডার পুড়িয়ে ফেলেছি, ঘড়ির কাঁটা ভেঙে, সময়কে স্থাপন করেছি অনন্তের দিকে। এবার কি করে যাবে তুমি? প্রস্থান সুলভ কোনো সময় নেই আর তোমার জন্য তাহলে এসো, দুজন মুখোমুখি বসি। বসন্ত কাল কুঁকড়ে আছে মেঘের কার্নিশে আমাদের গল্প শুরু হলে, সেও শহর মুখি হবে। ৩) তীক্ষ্ণ শরের আগে মৃত্যু লেখো অথবা চুম্বন বিদ্ধ হলে আঘাত লাগবেই। ক্ষরণ হবে স্বর্ণালি আলোর যন্ত্রণা। ক্ষত হবে নক্ষত্র দাগে। তোমাকে ঝুলন্ত সাঁকোর মতোই আমার এপার ওপার ভেবেছি আমি। অথচ তুমি মৃত্যুর চেয়ে বড়ো প্রেমিক, আর কাউকে ভাবতেই পারো নি! ৪) তোমার স্পর্শ মাত্র, বিগত শতাব্দীর শরীর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রসোফিলা মাছি উড়ে আসে। তাদের জিনে এখনো রচিত আছে ফুল্লরা কাহিনী! এখন এই রক্তাক্ত ভ্রূণের সারি, কালো শহরের মাথায় ঈগলের জেগে ওঠা লালসা। আগ...
অনুর অপেক্ষা নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...