অস্তিত্ব মানস কুমার সেনগুপ্ত ' আপনাকে এই জানা আমার ফুরাবে না, সেই জানারই সঙ্গে সঙ্গে তোমায় চেনা।' কবিগুরুর এই গানের বাণীকে আশ্রয় করে আত্ম উপলব্ধির এক নিরন্তর অনুসন্ধানে চেয়েছি নিজের অস্তিত্বকে খুঁজতে। আমি কে? এই প্রশ্নের কোনো উত্তর আছে কি? অথচ আমি, আমার এই বৃত্তের মাঝে আমরা নিরন্তর ঘুরে চলেছি বিষয়-আশয় সর্বস্ব জীবনে। সাধক রামপ্রসাদ সেন যখন তার এক গানের বাণীতে বলেন 'ভেবে দেখ মন কেউ কারও নয় ', তখন আত্ম-উপলব্ধির এক অপার্থিব জগতে পৌঁছতে চায় মন। কারণ, নিমীলিত নয়নে জীবনের শেষ যাত্রায় আত্মীয়-স্বজন, বিষয় - আশয় সব কিছু ছেড়ে আমরা পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে যাই। যা কিছু বা যাদের ছেড়ে চলে যাই সবই মায়ার বাঁধনে বাঁধা পড়ে ছিল এতদিন। আসলে আমিত্ব থেকে উত্তরণের সাধনা যদি কেউ করতে পারেন, তবে অনেক পার্থিব চাওয়া পাওয়ার জগত থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারবেন। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে সে বড় কঠিন কাজ। তবে আত্ম-উপলব্ধির সেই জগতে পৌঁছতে চাই কবিগুরুর এক গানের বানীকে আশ্রয় করে। 'কাঁদাও যদি কাঁদাও এবার, সুখের গ্লানি সয়না যে আর।' সুখের আবার গ্লানি হতে পারে, সে কথা ...
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...