সম্পাদকীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নবপ্রভাত সাহিত্যপত্রের পক্ষ থেকে মহান ভাষাশহীদদের উদ্দেশে জানাই সশ্রদ্ধ শ্রদ্ধা ও প্রণতি। অদম্য জেদ, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে সুমহান অর্জন, আমরা তারই ধারা-অধিকারী। ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী হিসাবে আমাদের দায়িত্ব অনেক। মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার্থে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে আমাদের। ভারতবর্ষের ভাষাবিন্যাসের বর্তমান কাঠামোয় বাংলা ভাষাভাষীর মানুষ হিসেবে আমাদের সামনে বহুবিধ চ্যালেঞ্জ উপস্থিত। হিন্দি-হিন্দুস্তানের স্লোগানকে সুপরিকল্পিতভাবে চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। অসম বিহারসহ বহু প্রদেশে বাংলা ভাষার উপর আক্রমণ চলছে। আছে সরকারের পক্ষপাতদুষ্ট সমর্থন। এদিকে কলকাতার বহু জায়গায় বাংলাভাষীরাই সংখ্যালঘু! পাশাপাশি আত্মঘাতী বাঙালীর মাতৃভাষাকে অসম্মান বড়ই বেদনার! ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ছেলেমেয়েকে পড়ানো অপরাধের নয়। কিন্তু বাংলাভাষার চর্চা থেকে সন্তানকে বঞ্চিত করা কিংবা 'ওর বাংলাটা ঠিক আসে না' বলে আত্মশ্লাঘা অনুভব করার মধ্যে আত্মঘাতের পাপ লুকিয়ে থাকে। মাতৃসম ভাষাকে সম্মান-শ্রদ্ধা করতে না পারলে ইহজীবনের ষোলআনাই...
দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...