Skip to main content

প্রবন্ধ ।। লকডাউন-আত্মশাসন এবং চাষিঘরের স্বনির্ভরতা : একটু ফরে দেখা ।। অরবিন্দ পুরকাইত

                      


লকডাউন-আত্মশাসন এবং চাষিঘরের স্বনির্ভরতা : একটু ফিরে দেখা

                         – অরবিন্দ পুরকাইত



শুনে এলুম সাতটা গোলা/এসে দেকি ভাজনাখোলা। 
 না, পুরো চিত্রটাই নববিবাহিত ওই মেয়েটির মতো স্বপ্নভঙ্গের ছিল তা তো নয়, সকলের সাতটা গোলা না থাকলেও, ভাজনাখোলানির্ভর বা ভাজনাখোলা-সর্বস্ব সংসার ছিল না । কোনও কোনও পরিবারে চাষের ধানেই চলে যেত সারাবছর, কোনও কোনও পরিবার ভালো চাষ নিশ্চিত দেখে তবেই অবশিষ্ট ধান গোলা থেকে নামিয়ে বেচতেন নতুন ধান ওঠার মুখে কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসের দিকে (কেন-না চাষি পরিবারে একইসঙ্গে বিশ্বাস ছিল 'খেতে আজ্জায় কপালে ফলে' এবং 'না আঁচালে বিশ্বাস নেই'); কিন্তু এমন চাষি-পরিবার কমই ছিল, অন্তত দু-দশমাস যাঁদের ঘরের ধানে চলে যেত না। যাঁদের অতি সামান্য ধানজমি ছিল বা আদৌ ছিল না, তাঁদেরও অনেকেরই সারাবছর ভানাকোটার কাজ করে চলে যেত। কেউ কেউ ধান কিনে, চাল করে বেচতেন; কেউ কেউ অন‍্যের থেকে ধান নিয়ে, চাল করে দিতেন চাল বা টাকাপয়সার বিনিময়ে। কোনও কোনও গৃহস্থ অগ্রহায়ণ-পৌষ-মাঘমাসের দিকে সারাবছরের মতো ধান কিনে নিয়ে, নিজেরা সিদ্ধশুকনো করে, ভাঙিয়ে, ঘরের চালে খেতেন। সরাসরি ধানচালের মাধ্যমে না হলেও, ধানচালনির্ভর বা তৎসংশ্লিষ্ট কাজেও যে কত মানুষের সম্পূর্ণ বা আংশিক জীবিকানির্বাহ হত! চিড়ে-মুড়ি-খইয়ের কথা আপনিই মনে আসবে। শুধু চাল-মাছ-দুধ নয়, অন্তত গত শতকের সাতের দশক থেকে আটের দশকের মাঝামাঝি সময়কালে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার গ্রামে আমাদের মতো যাদের শৈশব-কৈশোর-যৌবন কেটেছে তারা দেখেছে বিশ্ববাজারের হাতছানিহীন সেই সময়ে চাষি পরিবার – কিংবা আরও একটু বড় করে ধরলে গাঁ-ঘরের মানুষ – তাঁদের দৈনন্দিন থেকে দীর্ঘব্যবহার্য প্রয়োজনের কত জিনিসই না নিজেরাই তৈরি করে নিতে পারতেন! কতখানিই তাঁরা ছিলেন স্বাবলম্বী! কথাটা আরও বেশি করে মনে হয় আবিশ্ব করোনা-পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে।
মানুষ যে এখনও কতখানি পরনির্ভরশীল, কোভিড-১৯ তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আরও নিদারুণভাবে। অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-সংশ্লিষ্ট সমস্ত কর্মকাণ্ড করোনা (কোভিড-১৯) এবং তার প্রশমন-প্রচেষ্টাস্বরূপ সম্পূর্ণ লকডাউনে যখন স্তব্ধ হয়ে পড়ল হঠাৎ, মানুষের একেবারে প্রাথমিক চাহিদা – জীবনধারণের উপকরণ খাদ্যেরই সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখার দরকার পড়ল বিভিন্নভাবে। স্তব্ধ দোকান-বাজার, যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে কত পেশার মানুষই যে কেবল প্রতিদিনের পেটচলার জিনিস সরবরাহের কাজে লেগে পড়ল স্থানীয়ভাবে, অন্যদের বাঁচার ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের বেঁচে থাকার তাগিদে! রিকশাওয়ালা রিকশা ফেলে সবজি নিয়ে বেরোলেন, ছোটখাটো কল-কারখানায় কাজ-করা মানুষ বা কাজের মাসি বেরোলেন মাছ নিয়ে, ফুচকাওলা বেরোলেন ফলমূল নিয়ে! লকডাউন এবং ক্রম-আনলক পর্যায়ে সিংহভাগ মানুষকে আবারও উপলব্ধি করতে হল আপনা হাত জগন্নাথ, নিজের পায়ে ভর দিয়ে চলা বা পা-গাড়ির মাহাত্ম‍!
       সেই একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের করোনা-আতঙ্ক এবং তজ্জনিত সম্পূর্ণ লকডাউনের মধ্যেও অন্তত একটি ক্ষেত্র ছিল প্রায় স্বাভাবিক। কৃষিক্ষেত্র। যোগাযোগ ব্যবস্থা স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার জন্যে চাষি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত এবং সমস্যা-সংকটে জেরবার হয়ে পড়লেও এই ক্ষেত্রটা পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়নি। অন্য স্বাভাবিক সময়ের মতোই চাষি তাঁর খেতে গেছেন, চাষ-আবাদের কাজ করেছেন, পরিবারের জন্যে শাক-সবজি-ফলমূল এনেছেন, কেবল বাজারজাত করার বিঘ্নের কারণে উৎপাদিত ফসলের নগণ্য দাম পাওয়া বা অনেকখানি অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়া তাঁকে বিষণ্ণ বা বিপদগ্রস্ত করেছে; কিন্তু চাষের কাজ স্তব্ধ হয়ে যায়নি – চাষবাস সচল থেকেছে। কিছুদিন পূর্বে তা প্রমাণিতও হয়েছে সরকারি স্বীকৃতিতে। দেশের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন যে করোনা বা তজ্জনিত লকডাউওনে অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যাহত হলেও, কৃষিতে বিপুল উৎপাদন হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও দেখেশুনে কৃষিক্ষেত্রকে আত্মশাসনের আওতার বাইরে রেখেছেন।
       গাঁ-ঘরে বিশেষ করে চাষি-পরিবারে সকাল হয় খুবই সকাল-সকাল (আর্লি টু রাইজ আর্লি টু বেড-এর প্রতিমূর্তি যেন গ্রাম!)। অন্তত গত শতাব্দীর সাতের দশক পর্যন্ত আমাদের মতো চাষিবাসী তথা গাঁ-ঘরের মানুষের দিন শুরু হত উনানের ছাইয়ে দাঁত মেজে মুখ ধুয়ে। ছাই ছাড়াও নিমডাল, আশস্যাওড়ার ডাল, খেজুরের ডাগের আগার মতো চারপাশে এমনিতেই-পাওয়া দাঁতনকাঠি ব্যবহৃত হত। এখন দাঁত মাজার উপকরণ হিসাবে ছাইয়ের ব্যবহার তো প্রায় উঠেই গেছে, অন্যগুলিও ব্যবহৃত হয় বোধহয় অতি সামান্যই – তার জায়গায় স্থান করে নিয়েছে বাজারচলতি বহুবিজ্ঞাপিত হরেক কিসিমের টুথ ব্রাস ও টুথ পেস্ট। অর্থাৎ দিনের শুরুই এখন অন্যনির্ভর হয়ে – কর্পোরেট দুনিয়ার হাত ধরে।
       গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গরু নিতান্ত কথার কথা ছিল না অনেক চাষি-পরিবারেই। গোলায় আরও থাকত, মরশুম-শেষে বীজমারা সারা বছরের গুড় – খেজুর বা তালের – মাটির কলসিতে মাটিরই খুরিতে মুখ ঢেকে গোবরমাটি দিয়ে মুখ-আঁটা। গোয়ালঘরে বা তার গায়ে থাকত ছাগল বা ভেড়ার ঘর (তিন-শিং বাড়িতে রাখতে নেই বলে সংস্কার, অর্থাৎ কোনও পরিবারে হয় কেবল গরু ও ছাগল অথবা গরু ও ভেড়া কিংবা ছাগল ও ভেড়া থাকবে) কিংবা মুরগি-হাঁসের ঘর – অনেকসময় মেছলা বসানোর মাটির চওড়া ধারির (যাকে 'দোকা' বলা হয়) মধ্যে গহ্বর-করা, মুখের কাছে দু-দিকে দুটি লাঠি পোঁতা থাকত, তার মধ্যে কাঠের পিঁড়ের মতো কিছু ঢুকিয়ে বা বসিয়ে দিলেই মুখ বন্ধ। পুকুরে মাছের সঙ্গে সঙ্গে থাকবে খানিক কলমিশাকের দাম এবং চরবে পোষা হাঁস – খাবে গেঁড়ি-গুগলি) তবে সবাই তো আর সম্পন্ন চাষি ছিলেন না, প্রান্তিক চাষি ছিলেন, ছিলেন অন্যের জমিতে-খাটা জনমজুরও, কিন্তু একটা বিষয়ে মিল ছিল – গাঁ-ঘরের এঁরা প্রায় সকলেই পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজনের বহু জিনিসই নিজেরাই তরি করে নিতেন, গাঁটের কড়ি খরচ করে বাজার থেকে বহুজাতিক কোম্পানির তৈরি রেডিমেড জিনিস না কিনে (পাওয়াও যেত না এখনকার মতো নানান জিনিসপত্র)। সবাই সবকিছু নিশ্চয়ই তৈরি করে নিতে পারতেন না, কিন্তু তাতে আটকাত না। একজন একটা কাজ ভাল করেন বা একটা জিনিস ভাল তৈরে করেন, অন্যজন অন্য একটা কাজ বা জিনিস। পরস্পরনির্ভরভাবে দিব্যি মিলে যেত প্রয়োজনের জিনিসটি। কিন্তু এটা বলতেই হবে, গাঁ-ঘরে বিশেষত চাষি-পরিবারে নারী-পুরুষ অনেকে অনেককিছুই তৈরি করে নিতে পারতেন। আজকের চাষি-পরিবারের মতো এমন চা-দাসত্ব ছিল না তখন। এখন সকাল শুরুই হয় অধিকাংশ চাষি পরিবারে চা দিয়ে, দিনে হয়তো আরও দু-একবার – অন্তত সন্ধ্যায়; সঙ্গে বাজারি বিস্কুট, মুড়ি ইত্যাদি। অথচ একদা চাষি-পরিবারে সকাল শুরু হত মূলত একেবারে পান্তা দিয়েই  (বলা হত, 'পানি পান্তা ভক্ষণ/সেই পুরুষের লক্ষণ।') আর দুপুর ও রাত্রে ভাত। এখন অনেক পরিবারে অন্তত কোনও কোনও সদস্য রুটিই খান – অনেকেই শারীরিক কারণে। আগে রুটি বলতে কেবল অমাবস্যা-পূর্ণিমা, একাদশী কিংবা বার-ব্রততে। কোনও কোনও অত্যন্ত গরিব পরিবার – যাঁদের ধানজমি ছিল না হয়তো, তাঁরা রুটি খেতেন অনেকসময় – মূলত ভেলিগুড় দিয়ে বা খেজুরে কিংবা তালের গুড় দিয়ে (রুটি ভিজিয়ে, অনেকখানি জল-সহ লঙ্কা বা লঙ্কা-পেঁয়াজ সহযোগে পান্তার মতো খাওয়াও ছিল)। এত চিনির চল তখন হয়নি – প্রতি তরকারিতে চিনি দেওয়া তো তখন ছিলই না। মুড়ি-খই-কড়াই মূলত বাড়িতেই ভেজে নিতেন মহিলারা – এক মুড়ি ফুরোবার আগে আবার ভেজে নেওয়া হত। বছরে বিভিন্ন সময়ে বিশেষত উৎসব-অনুষ্ঠানের সময় মুড়ির গুঁড়োর নাড়ু কিংবা নারকেলনাড়ু, চিনি-নারকেল সহযোগে ছাপার সন্দেশ ইত্যাদি বাড়িতেই প্রস্তুত করতেন মহিলারা। ঘরের চাষের বিভিন্ন কড়াই জাঁতায় ভেঙে ভিজিয়ে শিলে বেটে বাড়িতে তৈরি করে নিতেন/নেন বড়ি বা বড়া। প্রস্তুত করতেন/করেন বিভিন্ন রকম আচার। বাড়ির আমসত্ত্ব আজও বন্ধ হয়ে যায়নি।
ঘর-গেরস্থালির কত জিনিসই যে নিজ হাতেই তৈরি করে নিতেন চাষি-পরিবারের সদস্যরা! বসার আসন হিসাবে তালপাতার চাটাই, কোথাও কোথাও খেজুরপাতার (আর ছিল পিঁড়ে, বেশির ভাগ সময়েই যা ঘরেরই কাঠের – তাতে ছুতোরের নকশাকাটা)। ঘর-দাবা এবং রান্নাঘরে ব্যবহারের জন্য আলাদা আলাদা সেট থাকত, রান্নাঘরের চাটাই সচরাচর ঘর-দাবায় উঠত না। কাটা চৌকোনা চটের উপর উল বা সুতোর নকশা-তোলা আসন তৈরির চল ছিল একসময় যথেষ্ট। দেখাশোনার সময় পাত্রপক্ষকে হাতের কাজ দেখানোর জন্যে কুমারী কন্যাদের এমন আসন তৈরি ছিল প্রায় অবধারিত। ফুলো পাতি (পাতিঘাস) কেটে, শুকিয়ে, চাষের-পাটের দড়ি মাটির তৈরি 'বোঁদেল'-এর (প্রথমে রোদে শুকিয়ে, পরে পুড়িয়ে) সাহায্যে তৈরি ঝেঁদলা/ঝ্যাঁতলা কিংবা খেজুরপাতার পাটি – এগুলোতে শোয়া-বসা, অতিথি-অভ্যাগতদের বসতে দেওয়া; পুরোনো হয়ে গেলে তাতে সিদ্ধ-করা ধান বা অন্যান্য শষ্য শুকানো কতকিছুই যে চলত! কেউ কেউ তৈরি করতেন হোগলার মাদুর – তুলনায় আরও মোলায়েম। ঠাকুরমশাইরা বসে পুজো করার জন্যে তৈরি করে নেওয়া হত কুশের (কাশ) আসন। নারকেল পাতা বঁটিতে চেঁছে কাঠি বের করে 'পালা ঝ্যাটা', 'মুড়ো ঝ্যাটা' (ঝাঁটা) তৈরি করে নিতেন/নেন দাবা-ঘর, উঠোন, গোয়ালঘর ইত্যাদির জন্যে আলাদা আলাদা। নারকেলের ডাগের আগার দিকের অপেক্ষাকৃত সরু ও ছোট কাঠিতে তৈরি হত মুড়ি-খই ভাজার কুঁচিকাটি (কুঁচিকাঠি – ছোট্ট ও সরু ঝাঁটার আকারেরই তবে আলগা বাঁধনটি থাকত গোড়া থেকে বেশ খানিকটা উপরের দিকে, যাতে গোড়াগুলিকে মেলে বিস্তৃত করে মুড়ি, খই, কড়াই ইত্যাদি নেড়ে ভেজে তোলার সুবিধা হয়) 
মহিলারা উনান তৈরি করে নিতেন – জোড়া উনান (দুটি পাত্র বসানোর), ছাড়া উনান (একটি পাত্র বসাবার)। সাধারণত পাড়ায় যেসব মহিলা এটা ভালো পারতেন তাঁদের বললে তাঁরা সানন্দে রাজ্যির গল্প করতে করতে, জোগাড়-করে-রাখা কাদা-গোবর-তুষ-লোহার শিক (সঙ্গে পাট বা খড়ের কুচিও থাকতে পারে কাদায় মেশাবার জন্যে) ইত্যাদি দিয়ে হাসিমুখে উনান তৈরি করে দিয়ে যেতেন। বড়জোর খেয়ে যেতেন দুটি মুড়ি বা পান্তা। সেই উনানের রসদ কাঠঘুঁটের জন্যেও কারও মুখাপেক্ষী হওয়ার দরকার পড়ত না – নিজেদেরই গাছপালা বা গরুর গোবর থেকেই তা মিলত (এখন তো রীতিমতো রান্নার গ্যাস ঘরে-ঘরে)। প্রসঙ্গত, এক-একটা পরিবারে দু-দশটা গরু হামেশাই থাকত এবং তদের খাদ্য ছিল বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঘরেরই খড়, মাঠের ঘাস, আশপাশের লতাপাতা, বাড়ির ফ্যান-চেলুনি (চেলুনি/চালুনি – চাল-ধোওয়া জল), চাষের শাক-সবজির ঝড়তি-পড়তি ইত্যাদি (বস্তুত চাষি-পরিবারে কিছুই প্রায় ফেলনা ছিল না) – গাইয়ের দুধের সময় বা বলদের বর্ষার হালের সময় বড়জোর কেনা হত টুকটাক খোল। এখন বলদ গিয়ে মূলত গাইগরুতে ঠেকেছে, তাও তার মধ্যে বেশ কিছু জার্সি ইত্যাদি উন্নত প্রজাতির – তাদের জন্যে খোল-ভুসি-ইঞ্জেকশন-ওষুধ ইত্যাদি হরেক কিসিমের ব্যবস্থা।
পুরোনো, পরার-অযোগ্য বাতিল কাপড় সিদ্ধ করে (কেনা সোডা থেকে সে সিদ্ধ করায় ক্ষার হিসাবে ব্যবহৃত হত তেঁতুল বা কলাগাছের জ্বালানির ছাইও) বাড়িতেই কাঁথা বসিয়ে নিতেন মহিলারা। কাঁথা সেলাইয়ের সুতোও পুরোনো কাপড়ের পাড় থেকেই তুলে নেওয়া হত। যাঁরা কাঁথা বসাতে অপটু তাঁরা পটু-কারও থেকে বসিয়ে দেখে নিয়ে সেলাই করতেন নিজেরাই। পুরুষদেরও কেউ কেউ কাঁথা সেলাই করতে পারতেন। শরতের শেষ ও হেমন্তের প্রথম দিকের বসতি মরশুমে কাঁথা বসানো, ঢাকা দেওয়া (পুরোনো – কখনও বা ছিঁড়েখুঁড়ে-যাওয়া কাঁথার উপর পরনের বাতিল পরিষ্কার কাপড় চাপিয়ে পুনরায় সেলাই করা), মেরামত করার ছিল আদর্শ সময় (শিল্পমনস্ক চাষির মূলত এই সময়ই ছিল গান বাঁধা বা পালা রচনার সময় – কার্তিক মাসে মহাভারতপাঠ তো ছিলই কোনও কোনও ঘরে)। পরিবারে কেউ পোয়াতি হলে সে পরিবারে বা সে মহিলার বাপের বাড়িতে দু-চার মাস ধরে তৈরি হত পাতলা ছোট ও মাঝারি অনেক কাঁথা, বিশেষত শীতকালে-হওয়া বাচ্চার জন্যে। বড় বাচ্চা থেকে বুড়োরা শীতে অনেকেই কাঁথা গায়ে দিয়ে পাড়ায় বা পথেঘাটে বেরোতে কুণ্ঠিত হতেন না। একটু বড় বাচ্চাদের, ধুতি বা শাড়ি দু-ভাঁজ করে অথবা কাঁথায় দু-হাত-সহ শরীরে বেড় দিয়ে পা-পর্যন্ত-ঝুল গলায় বেঁধে দেওয়া হত 'বাছাড়' (উচ্চারণ 'বাচাড়')। এত হরেক কিসিমের শাল-চাদর-সোয়েটারের ব্যবহার তখন ছিল না গাঁ-ঘরে – অল্প-আধলা যা থাকত তা মূলত তোলা থাকত আত্মীয়স্বজনের বাড়ি যাওয়া বা উৎসব-অনুষ্ঠানের জন্যে। বাড়িতে দু-একটা লেপ-কম্বল থাকত যা মূলত ব্যবহার করা হত অতিথি-অভ্যাগতদের জন্যে  - যদিও তাঁদের জন্যে কাঁথারই ছিল আধিক্য এবং অতি আদরের। এমনি এমনি তো আর বলা হয় না – শীতের কাঁথা (চাষিঘরে উচ্চারণ 'কাঁতা'। হায়, নকশি কাঁথা, তোমার সে দিন গিয়াছে!) আর বর্ষার ছাতা। বাজারনির্ভর এত হরেক রকম শীত-মোকাবিলার জিনিস তখন কোথায়! তাই নানান শীতবস্ত্র গায়ে চড়িয়ে এখন লোককে হামেশাই বলতে শোনা যায়, শীত কোথায়! কিংবা, এ বছর শীত তেমন পড়ল না।
নিজেদের বসবাসের ঘর থেকে রান্নাঘর, গোয়ালঘর, গোলা ইত্যাদি নির্মাণে সে বিষয়ে দক্ষ কারও হাতে দায়িত্ব দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে চাষি-পরিবার সর্বদাই বড় ভূমিকা নিয়েছে, আর যাঁরা নিজেরা পারতেন তাঁদের তো কথাই নেই – লেগে পড়তেন সঙ্গীসাথী নিয়ে। ঘর ছাওয়ার জন্যে ঘরামি অবশ্যই ডাকা হত, কিন্তু এমনটিও দুর্লভ ছিল না যেখানে নিজের খোড়ো চাল নিজেই ছেয়ে নেওয়া হচ্ছে।
       কম করে অন্তত তিন রকম আকারের মই তৈরি করে নিত চাষি-পরিবার। চাষের জমিতে মই দেওয়ার জন্যে 'এক কড়ার মই' (কড়ার আসলে কাড়ার), মাঝারি আকারের মই – ঘর-রান্নাঘর-গোয়াল-গোলা প্রভৃতির চালে ওঠা বা ধান-খড়ের গাদা দেওয়া ইত্যাদির জন্যে আর খুব বড় আকারের মই খড়ের চালের ঘর ছাওয়ার জন্যে। জল, রস বা ধান বওয়ার বাঁক তৈরি করে নিত বাঁশের বাখারি থেকে। চেড়ার বুননে সোজাসুজি চারকোনা বা বেড় দেওয়া গোল-গা গোলা, ধান ঝাড়াইয়ের জন্যে চেড়া ও বাঁশ সহযোগে তৈরি আগড় বা পাটা, শোয়ার জন্যে বাঁশ-চেড়ার তক্তপোশসদৃশ পাটাতন বা বাঁশ-চেড়ার তৈরি আগড়ের দরজা – সবই তৈরি করে নিত নিজেরাই। বড়জোর যিনি ভালো পারেন তাঁর সহযোগিতা নিয়ে। পাটারই পদ্ধতিতে, কিন্তু আরও দক্ষ প্রক্রিয়ায় চেড়ার বেড়ে ও বাঁশের পাটাতনে – কাদার লেপন সহযোগে - তৈরি হত ধান রাখার গোল বা চৌকোনা গোলা বা মরাই। তো সেই সহযোগিতা এককালে কেমন পার্যায়ের ছিল, একটি দৃষ্টান্ত দিলে বোঝা যাবে। আমাদের যে খড়ের চালের ঘর ছিল, সে চাল ছিল চাঁছা-ছোলা সরু-মোটা বিভিন্ন আকারের চেড়ার তৈরি, বেতের বাঁধনে। দেড়-দু-ইঞ্চির বর্গাকার খোপের সে চাল এক শিল্পকর্ম বটে! তো সেই চাল – আমার পিতার কথায় – তৈরি হয়েছিল বসতি মরশুমে গৃহসম্মুখস্থ খামারে দিনের পর দিন পাড়ার একাধিক ব্যক্তির দিনের বিভিন্ন সময়ে স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্ত যোগদানের মাধ্যমে। কিছুর বিবিময়ে নয়, কেবল ধামাভরে মুড়ি বসিয়ে দেওয়া হত সেখানে!    
       মাছ ধরার জাল বুনে নেওয়া হত ঘরে-ঘরেই। কেউ কেউ হয়তো বুনতে পারতেন, কিন্তু জাল তৈরির পরিকল্পনা করতে পারতেন না – তাঁরা অন্যের সাহায্য নিয়ে নিজে বুনতেন। যাঁরা জাল তৈরি করতে পারতেন না, কেবল সারতে পারতেন – তাঁরা অন্যকে দিয়ে বুনিয়ে, ছিঁড়ে গেলে নিজেরা সেরেসুরে চালাতেন। সেই জালের সুতোও ছিল হাট থেকে অত্যন্ত সরু সুতোর নেচি কিনে এনে বাড়িতে পাকিয়ে নেওয়া – চেড়ার তৈরি একরকম চরকার গায়ে নেচি জড়িয়ে তার থেকে চেড়ার-তৈরি কাঁপায় গুটিয়ে নিয়ে, গোল মসৃণ চেড়ার কাঠির নিচে পাথরের চাকতি-ঢোকানো টাকুরে পাকিয়ে নেওয়া। একেবারে সুতির সুতো যাকে বলে, অর্থাৎ তুলাজাত। এখন বাজারের নাইলন সুতোই বেশি চলে, চলে তৈরি-জালও। আরও অনেককিছুর মতো এই জাল বোনার ক্ষেত্রেও সাহায্য-সহযোগিতা ছিল মূলত পারস্পরিক সামাজিক সাহায্য-সহযোগিতানির্ভর, এমনকি অন্যের থেকে পুরো জালটা বুনিয়ে নেওয়ার মধ্যেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোনো আর্থিক ব্যাপার থাকত না, জাল সেরে নেওয়ার তো নয়ই। মাছ ধরার পোলো বা বর্ষায় পুকুর-ডোবার জল বার করে দেওয়ার চেড়ার বুননে পাটা চাষি পরিবার নিজেরাই তৈরি করে নিত, সারতে পারত ঘনি (ঘুনি)-আটল।
রান্নাঘরে, ফুঁ দিয়ে উনানের আগুন উসকে দেওয়ার ফুঁকোবাড়ি, ভাতের হাঁড়ি বসানোর আলটা, নারকেলের মালা ও চাঁছা চেড়ার সাহায্যে ডাল ঘাঁটার ছোট উঁড়কিমালা – কতকিছুই তৈরি করে নিত চাষি-পরিবার! শীতের নলেন গুড় থেকে গ্রীষ্মের তালপাটালি প্রস্তুত হত কোনও কোনও চাষি পরিবারে। তার প্রয়োজনে প্রস্তুত হত বড় উঁড়কিমালা, তাল-ডেগোর তাড়ু থেকে খড়ের বিভিন্ন আকারের আলটা। ঘরের-চাষের বা কেনা পাট দিয়ে তৈরি হত বিভিন্ন প্রয়োজনে দড়ি – ছাগল-গরু-ভেড়া বাঁধা থেকে, গরুর মুখের জালতি, গাছ থেকে সবেদা ইত্যাদি পাড়ার জালতিবাড়ির জালতি, দোলা; ঝেঁদলা-বোনা, কাপড়-জামা শুকানো বা রাখার জন্যে টাঙানো – সংসারের কত কাজই না হত তাতে! পাট-পাকিয়েই বিশেষ কায়দায় কয়েকদিনের প্রক্রিয়াশেষে তৈরি হত খেজুরগাছ কাটার কাছি।
       কালীপুজোর সময় ইলেকট্রিকের এত বিচিত্র ও বাহারি আলো ছিল না, বড়জোর এক প্যাকেট ছোটছোট সরু বাতি। কিন্তু অশরীরীদের সরিয়ে রাখতে বাড়িতে প্রবেশের দরজার মুখে আলো তো জ্বালিয়ে রাখতে হবে সারারাত! আমাদের বাড়ির মতো কোনও কোনও পরিবারে এক পাউ ফাঁপা কাঁচা বাঁশের মাঝখানে ফুটো করে ভিতরে কেরোসিন ভরে, ফুটোর উপরে সলতে-গলানো এক-দেড় ইঞ্চি কাঁচা কঞ্চি বসিয়ে ফুটোর মধ্যে বসানো কঞ্চির গোড়ার চারিদিকের ফাঁক কাদা দিয়ে বুজিয়ে জ্বালিয়ে রাখা হত সারারাত। কেউ বা লম্বা লম্ফর আকৃতি দিতেন কাটা পাউয়ের এক মুখে ছিদ্র করে ওইভাবে প্রস্তুত করে। কেউ কেউ অত খাটুনি না খেটে সোজাসুজি লম্ফ জ্বালিয়ে দরজার পাশে বেঁধে রাখতেন লাঠির আগায়।
ঘরের মেঝেতে বিছানো থাকত সারা বছরের আলু, গড়াগড়ি যেত কুমড়ো; চাষের হলুদ-সর্ষে-লঙ্কায় চলে যেত সারা বছর। ঘরের পাশে সমুদ্র না থাকলেও, মাঠের নোনা মাটি ছেনে এনে আমরা লবণও তৈরি করেছি দিনের পর দিন।
চাষি-পরিবারে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বেশ কিছু আজও তৈরি করে নেওয়া হয়। তবে কল-কারখানায় তৈরি বহু জিনিস বাজারে চলে আসার ফলে – তার মধ্যে বহু সৌখিন জিনিসপত্রও – এবং অনেকসময় হাতে প্রস্তুত জিনিসের তুলনায় তার শ্রম বা দাম কম হওয়ায় অনেক জিনিসই আর তৈরি হয় না ঘরোয়াভাবে। আগের মতো বনজঙ্গল তথা গাছপালা কমে যাওয়ায় কোনও কোনও উপাদানেরও অভাব কিছুটা। এখন বলতে গেলে এক মরশুমের চাষ নয় আর, বিশেষত সুতিখাল আসায় অনেক জায়গাতেই দু-বার ধানচাষ হচ্ছে, প্রচুর বেড়েছে সবজিচাষ। বেড়েছে চিরাচরিত চাষের বদলে অর্থকরীভাবে চাষ। কৃষিজমি পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে ফলের বাগানে, সবজিচাষের ডাঙাবাড়িতে। ফলে একই চাষির হাতে নানান চাষের বদলে হয়তো কয়েকটি অর্থকরী ফসলের চাষ বেড়েছে, অন্যান্য ফসল ইত্যাদির জন্যে তিনি হয়তো অন্যদের উপর নির্ভরশীল। সার্বিকভাবে এতে করে ব্যস্ততার কারণে মানুষের হাতে অবসর সময় কমে গেছে। খড়ের ছাওন দেওয়া মাটির বাড়ির ব্যাপারটা প্রায় উঠে যাওয়ায় প্রায় উঠেই গেছে তৎসংক্রান্ত কাজকর্ম।
       শখ-সৌখিনতার সঙ্গে একটু সমঝোতা করতে পারলে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস আজও ঘরে তৈরি করে নেওয়া অবশ্যই সম্ভব। পুরোনো অভ্যাস কিছু কিছু ফিরিয়ে আনার মানসিকতা দেখাতে পারলে এবং এ বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ-উৎসাহ-প্রচার বাড়লে দৈনন্দিন প্রয়োজনের হাতে-তৈরি জিনিসের ব্যবহারেও তার বাড়তি প্রভাব পড়তে পারে তা বলাই বাহুল্য। জীবনযাপনের আধুনিক উপকরণ খুব বেশি এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব তো বটেই, অনেকসময়েই তাতে হিতে বিপরীত হওয়াও বিচিত্র নয়। তবুও চাহিদার লাগামকে একটু চেপে ধরার চেষ্টা করতে পারলে, অল্প পুঁজির যাপনে অভ্যস্ত হওয়া শিখতে পারলে, অযথা পরনির্ভরশীলতা কমে। বিপদের দিনে দিশাহারা হয়ে পড়া থেকে মেলে অনেকখানি রেহাই। তাতে বেশি কিছু না হোক, আত্মনির্ভরশীলতার অনুশীলন বাড়ে, বাড়ে স্বাবলম্বিতা – অনেকখানি রসদ আয়ত্তে থাকে প্রতিকূল পরিবেশ-পরিস্থিতির মোকাবিলার বা প্রাকৃতিক হানিতে হয়রান না হওয়ার।

                 *             *             *

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

তারা খসার আলোয় ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

তারা খসার আলোয়  তীর্থঙ্কর সুমিত  কিছু বলার থেকে  চুপ থাকাটাই শ্রেয় মতামতের পেন্ডুলামে সময় আটকে আছে  ইতিহাসের চোরাস্রোতে  তাই এখনও জোয়ার কিম্বা--- মনে পরে যায় ফেলে আসা অতীত  মুখে-চোখে  বিবর্ণতায় ঢেকে যায় শহর  তোমার কথায় জেগে থাকা রাত  অন্ধকারে মাখামাখি বারুদ এখন! তারা খসার আলোয় নিজেকে দেখি।  ============== তীর্থঙ্কর সুমিত  মানকুণ্ডু, হুগলী  পিন -৭১২১৩৯

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

কবিতা ।। সুশান্ত সেন

কবিতা সুশান্ত সেন কোবতে লেখা সহজ নয় ত মোটে কল্পনা নেই। কি নিয়ে সে ছোটে! ছুটবে কেন? সে কি রেসের ঘোড়া বাজি জেতার তার নেই কি জোড়া? বাজি?  সে ত কালি পুজোয় ফাটে ভয় পাই যে দাঁড়িয়ে চৌকাঠে। চৌকাঠ টা বেজায় বড় বাঁধা পেরিয়ে যাওয়া বেজায় শক্ত, দাদা! অন্বেষণে বিরাট বিকট শব্দ কোবতে খানা তাতেই হবে জব্দ।   ============ সুশান্ত সেন ৩২বি , শরৎ বসু রোড কলিকাতা ৭০০০২০

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা: জয়তী রায়

এক ভ্রষ্টা নারী ও আদর্শ " অ্যই মেয়ে তোর দাম কত রে ,,,,? "  ক্রসিং এ দাঁড়ানো অটোতে বসে  কথাটা কানে যেতেই মুখ ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েটাকে। সস্তার চুমকি বসানো চড়া সবুজ রঙের শাড়ি পরা , লাল রক্তের মতো রাঙানো ঠোঁট আর সস্তার স্নো পাউডার মাখা মৃত মুখ। স্বপ্নসুন্দরী তিলোত্তমার বিশেষ কিছু এলাকায় পথের ধারে  এমন বেসে অনেক রূপমতিকেই দেখতে পাওয়া যায়। চট করে মনে পড়ে গেল অতীতের কথা ,,,,,,, রূপমতি ওরফে রূপা। হ্যাঁ আজ আমি অনেকের কাছে পরিচিত ' রূপা '। একটা সময় আমারও অস্তিত্ব ছিল এই রাজপথ। খট খট ,,,,,,,,খট খট ,,,,,,,, আজও মনে পড়ে সেদিনের কথা ,,,,,,,,, দরজার জোর শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। " কে ,,,,,,,? কে ওখানে ,,,,,,,,?" ভয় মিশ্রিত গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলে  প্রথম তোমার গলা শুনলাম ,,,,,,, " দরজা খোলো , ভয় নেই কোনো ক্ষতি করবো না ,,,,,,,," কি ছিল সেই গলায় জানি না। মন্ত্রমুগ্ধের মতো দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে তুমি ঢুকে পড়লে ঘরে। উস্কো খুস্কো চুল ক্লান্ত অথচ আগুন ঝরা দুটো চোখ ,,,,,, প্রথম তোমায় দেখলাম।  কেন জানি না দেখা মাত্রই ম...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

অনুভবে, অনুধ্যানে অনালোকিত কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী ।। সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়

"এ কালে একটু লেখাপড়া জানা থাকাতে, এবং বঙ্গভাষায় অনেক গুলি পাঠ্য পুস্তক হওয়াতে কেবল পরনিন্দা করিয়া সময় কাটাইতে তাঁহাদের আবশ্যকও হয় না, প্রবৃত্তিও হয় না। …নিতান্ত সখ্যতা বা আত্মীয়তা না থাকিলে, সকল পেটের কথা খুলিয়া নিঃশ্বাস ছাড়িয়া তৃপ্তিলাভ করা, এ কালের মেয়েরা পছন্দ করেন না। তাঁহারা বইখানি, কার্পেটটুকু, নিজের স্বামী পুত্র লইয়া দিন যাপন করিতে বা একেলা থাকিতে কষ্ট বোধ করেন না।" —শরৎকুমারী চৌধুরাণীর এই লেখা (ভারতী ও বালক/ আশ্বিন কার্তিক, মাঘ/ ১২৯৮) দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না উনিশ শতকে নারীর লেখাপড়া শেখার উদ্দেশ্য ছিল মূলত আত্মমুক্তির জন্য। শুধু লেখাপড়া শেখা নয়, সাহিত্য সৃষ্টিতেও ছয়'এর দশক (উনিশ শতকের) থেকে নারীরা যে ধারা সূত্রপাত করেছিল তা নারীর আত্মমুক্তির পথকেই প্রসারিত করেছিল। ছয়'এর দশকের পূর্বেই ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ছাপার হরফে নারী রচিত কাব্য 'চিত্তবিলাসিনী' প্রকাশিত হয়। লেখেন কৃষ্ণকামিনী দাসী। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে কবি ঠাকুরাণী দাসীর নাম উঠে আসতে থাকে, যিনি কবিতার পাশাপাশি গদ্যও লিখতেন। ঠিক সেই বছরই জন্মগ্রহণ করেন কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী, যাঁর কবিতা লেখা আত্মমুক্...

বছরের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৪তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

  এই সংখ্যায় একটি গ্রন্থ আলোচনা ও একটি ধারাবাহিক রচনা ছাড়া সব লেখাই ভাষা দিবস, মাতৃভাষা, ভাষাচেতনা ও ভাষা সমস্যা বিষয়ক রচনা। লেখাগুলি এই সংখ্যাকে অনেকটাই সমৃদ্ধ করেছে। পড়ুন। শেয়ার করুন। মতামত জানান। লেখকগণ নিজের নিজের লেখার লিঙ্ক শেয়ার করুন যতখুশি, যে মাধ্যমে খুশি। কিন্তু স্ক্রিনশট শেয়ার নৈব নৈব চ!  অন্য বিষয়ের লেখাগুলি আগামী সংখ্যার জন্য রইল।  সকলকে ধন্যবাদ, অভিনন্দন। ভালো থাকুন।   --সম্পাদক, নবপ্রভাত। ==  সূ  চি  প  ত্র  == প্রবন্ধ-নিবন্ধ অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙ্গালীর বাংলা ভাষা দুর্জয় দিবস।। বটু কৃষ্ণ হালদার ভাষা শহীদদের পঁচাত্তর বছর।। অনিন্দ্য পাল একুশে ফেব্রুয়ারি : বাঙালির শ্রেষ্ঠ অশ্রুবিন্দু।। জীবনকুমার সরকার কবিগানের সাহিত্যিক ও সমাজতাত্ত্বিক মূল্য।। বারিদ বরন গুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি।। শ্যামল হুদাতী মায়ের দুধ আর মাতৃভাষা।। প্রদীপ কুমার দে একুশে ফেব্রুয়ারি : কিছু কথা।। বনশ্রী গোপ বাংলায় কথা বাংলায় কাজ।। চন্দন দাশগুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও তার মুক্তির পথ।। মিঠুন মুখার্জী. হে অমর একুশে, তোমায় ভুলিনি, ভুলব না।। মহম্মদ মফিজুল ইসলা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। নবপ্রভাত ৮৫ ।। চৈত্র ১৪৩১ মার্চ ২০২৫

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। মরিয়ম মির্জাখানি: এক অনন্য গণিতসূর্য ।। ... নিবন্ধ ।। নারী দিবসে যা ভাবা উচিত ।। বিশ্বনাথ পাল প্রবন্ধ ।। প্রাচীনকাল থেকে নারীরা অবহেলিত, বঞ্চিত,... নিবন্ধ ।। আমার চোখে আদর্শ নারী ।। জয়শ্রী বন্দ্... ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখ... আফ্রিকার লোককথা ।। করোটিকে বিয়ে করা অবাধ্য মেয়েটি ... ছোটগল্প ।। মানবী ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল নিবন্ধ ।। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম নারী মু... নিবন্ধ ।। প্রিয় মহিলা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী ।। ... গল্প ।। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।। রবীন বসু প্রবন্ধ ।। নিপীড়িতা ।। শ্যামল হুদাতী ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত প্রবন্ধ ।। নারী সমাজ : তখন-এখন ।। তপন মাইতি নিবন্ধ ।। বহমান কালের ধারায় নারী ।। দীপক পাল গল্প ।। আমার দুর্গা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) গল্প ।। যোগ্য জবাব ।। সমীর কুমার দত্ত ছোটগল্প ।। আমি দুর্গাকে দেখেছি।। চন্দন দাশগুপ্ত গল্প ।। সম্পর্ক ।। গৌতম সমাজদার কবিতা।। নারী মানে ।। গোবিন্দ মোদক কবিতা।। নারী ।। সমর আচার্য্য ছড়া ।। নারী অসামান্যা ।। সৌমিত্র মজুমদার কবিতা ।। নারী দিবসে ।। বিবেকানন্দ নস্কর কবিতা ।। না...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

মাসের বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে দীনেশ চ্যাটার্জী যে পথ শরীরে ক্লান্তি আনে, সেই পথেই আত্মা খুঁজে পায় মুক্তি। দিবস ১ — যাত্রার সূচনা মানুষের জীবনে কতকগুলি আকাঙ্ক্ষা থাকে—যাহার ব্যাখ্যা বুদ্ধির দ্বারা মেলে না, তৎসত্ত্বেও হৃদয় তাহার প্রতি অদম্য আকর্ষণ অনুভব করে। কেদারনাথ যাত্রা আমার কাছে তেমনই এক আকাঙ্ক্ষা ছিল। বহুদিন ইচ্ছা ছিল—কখনো পূর্ণ করি নাই। আজ তাহারই প্রথম অধ্যায় আরম্ভ হইল। ভোররাতে ঋষিকেশে পৌঁছিলাম। স্টেশন হইতে বাহির হইবার মাত্রই অনুভব করিলাম—বাতাসে এক গভীর প্রশান্তি। শহুরে কোলাহল, ধুলো, অধৈর্যতার পরিবর্তে এখানে নীরবতা, শীতলতা, আর যেন স্নিগ্ধ তপস্যার আবহ। গঙ্গার তীরে এসে দাঁড়াইলাম। নদী এখানে শুধু জলের স্রোত নহে—সে যেন জীবন্ত ধর্ম; যাহার মধ্যে কালান্তরে সঞ্চিত স্নেহ, পবিত্রতা ও শক্তি। তাঁর জলে ভোরের সূর্যালোক পড়িয়া মৃদু ঝিলিক তুলিতেছিল। মনে হল—মহাশান্ত পৃথিবীর বুকে আমি ক্ষুদ্রমাত্র। বিকেলে লক্ষ্যণঝুলা দেখিবার উদ্দেশ্যে পা বাড়াইলাম। সেতুর ওপর দাঁড়াইলে নিচে গঙ্গার প্রবল স্রোত দেখি—হৃদয় থমকায়ে দাঁড়ায়। সেতুটি হালকা দুলিতে থাকে, কিন্তু ভয়ের পরিবর্তে সেখানে ছিল এক অদ্ভুত আহ্বান—যেন প্রকৃতি বলি...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432