'সন্দেশে'র সন্দেশ রমলা মুখার্জী উপেন্দ্রর 'সন্দেশ' সৃষ্টি বড়ই তাহা মিষ্টি, পিতার পরে সুকুমারের সজাগ তাতে দৃষ্টি। ছবি, ছড়া, গল্প মজায় অনবদ্য সৃষ্টি- সত্যজিতের 'সন্দেশে' গল্পমালার বৃষ্টি। বিখ্যাত শিশু-কিশোর সাহিত্য পত্রিকা 'সন্দেশে'র প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক হলেন স্বনামধন্য শিশু সাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। সার্থক শিশু-শিল্পী অনুভব করেছিলেন বাংলাতে শিশু সাহিত্য অবহেলিত তাই তিনি শুধু ছোটদের বই লিখে ও তার উপযোগী মজার ছবি এঁকেই ক্ষান্ত হলেন না, ছোটদের বই প্রকাশেও ব্রতী হলেন। প্রতিষ্ঠা করলেন 'ইউ রায় এন্ড সন্স' নামে উন্নত এক ছাপাখানা। তাঁর এই ছাপাখানা থেকেই ১৯১৩ খ্রীষ্টাব্দে বাংলার শিশু কিশোরদের জন্য প্রকাশিত হল তাঁরই সম্পাদনায় মাসিক পত্রিকা 'সন্দেশ'। পরে ১৯১৫ সালে তাঁর বড় ছেলে সুকুমার রায় 'সন্দেশে'র সম্পাদক হলেন। এই সময় 'সন্দেশ' ছড়া, ছবি, সাহিত্য, কমিকস ও পৃথিবীর সকল স্থানের নানা তথ্যে সমৃদ্ধ হয়ে উৎকর্ষতার শীর্ষে পৌঁছেছিল। ১৯২৩ সালে সুকুমার রায়ের পর তাঁর ছোট ভাই সুবিনয় রায় 'সন্দেশ' সম্পাদনার ভার নেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়...
জাতিস্মর আশীষ কুমার বিশ্বাস গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু । তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম । কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি ! এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন । সে বাড়িতে কিছু ...