Skip to main content

মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন

প্রেম-নবপ্রভাত


মিস্টার ব্যানার্জী 

 আরজু মুন জারিন



অধ্যায়ঃ এক

মিস্টার ব্যানার্জীর সাথে প্রথম দেখা আমার বিশতম জন্মবার্ষিকীতে। উনি তখন চল্লিশ পেরোনো মধ্যবয়সী যুবক। প্রথমে আর সবার মত আমার ও দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিয়েছিলেন। অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে গায়ের রঙ আর তার সাথে রুক্ষ ব্যবহার। উনি হলেন আমার সবচেয়ে প্রিয় সখী শাবজান এর অভিভাবক। এখন ও বের করতে পারিনি উনি কি শাবজান এর বায়োলজিক্যাল ফাদার কিনা! শাবজান এর মাকে দেখিনি ওদিন। শুনেছি শাবজানদের প্রচুর টাকা পয়সা। ওর বাবা নাকি অনেক জাহাজ এর মালিক। এ সওদাগরী ব্যাবসা তাদের পৈতৃক। বাপ দাদার আমলে পাওয়া। আমরা চোখ বড় করে ওকে দেখতাম যখন ওদের গাড়ী ওকে কলেজে পৌছে দিত। আমার বাবা যখন নিত্যদিনের রেশন জোগাতে হিমশিম খেতেন সেখানে শাবজান এর বাবা নিত্যনতুন গাড়ীর মডেল বদলাতেন। আজ ওকে রোলস রয়েস এ দেখি, তো কাল দেখি মার্সিডিজ, তো পরের দিন সিবিক হোন্ডা। গাড়ীর নাম ও ওর থেকে শেখা। আমার বাবা তখন কাজ করে সরকারী এক দপ্তরে জুনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসাবে। আমাদের আট সদস্যের পরিবার কে কলুর বলদের মত বাবা একাই টানছিলেন। আমরা সব ভাইবোন তখন পড়ালেখায়। পরে অবশ্যই ভাই হাল ধরেছিলেন কিছুটা। তাও কতদিন ধরবে কে জানে! ভাবী আর ভাই শলা পরামর্শ করে আলাদা হওয়ার। যাই হোক যা বলছিলাম। আমার এই নিম্নস্তরের ব্যাকগ্রাউন্ড এর সাথে শাবজান দের রাজকীয় ব্যাকগ্রাউন্ড এ আকাশ পাতাল ফারাক। এই বাবা মেয়ে কেন যে আমাকে এত দেখে রাখছিল ওই সময়ে কারণ বের করতে পারছিলাম না।



সেপ্টেম্বর ১৯ স্থানঃ বালিয়াগড়, সকালঃ ছয়টা

আমার জন্মদিন এর সকাল। বাড়ীর সামনে বড় গাড়ী। ড্রাইভার এসে দরজা ধাক্কা দিয়েছে। দরজা খুলে আমাদের সবাই দাড়িয়ে আছে। শাবজানদের বিরাট গাড়ীর ড্রাইভার। আমাদের সবার চোখে বিস্ময়ের।

"কি রে এত সকালে তোকে নিতে আসলো কেন?" বাবার প্রশ্ন। বাবার মনে নাই আমার আজ জন্মদিন। এ স্বাভাবিক। মধ্যবিত্ত পরিবারে আমরা ছয় ভাইবোন। এক একটা ভাই বোন জন্ম আমাদের ঔষধ, নথিপত্র সবখরচ করতে করতে বাবার প্রানান্ত হয়ে উঠতো। সেখানে আমাদের ছয় ভাই বোন এর জন্মদিন আলাদা করে মনে রাখার চেয়ে বাবার অ্যাকাউন্টিং এর হিসাব রাখা অনেক সহজ।

"জানিনা তো বাবা।" মুখ লুকিয়ে মাথা নীচু করে রাখলাম।

সেবার ই প্রথম শাবজান এর বাড়ীতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তম্মধ্যে মিষ্টার ব্যানার্জির সাথে ও আমার প্রথম মোলাকাত। অবশ্য তিনি হয়তো ওই সময়ে আমাকে দেখেছিলেন খুব সাধারন ভাবে। ঘরের পরিচারিকা বা নাম না জানা শাবনাজ এর এক দুঃস্থ বান্ধবী মনে করেছেন। ওদের এখানে এই প্রথমবার ই দেখেছিলাম অনেক সাদা নারী পুরুষ বিভিন্ন জাতীয়তার মানুষ। ভেবেছিলাম আমার জন্মদিন উদযাপনের জন্য শাবজান গাড়ীটি পাঠিয়েছিল। ব্যাপারটা ঠিক তা নয়। শাবজানের অভিভাবক মিষ্টার ব্যানার্জির বড় এক বানিজ্যিক সফলতার কারনে নাকি এই পার্টি। অবশ্য শাবজানের মনে আছে আমার জন্মদিন।

"শুভ জন্মদিন সখী।"

তিনতলা সিড়ি থেকে দৌড়ে নেমে আসতে থাকে আমাকে দেখে। শাবজানের দৌড়ের মাঝখানে ব্রেক কষিয়ে দিতে চেষ্টা করলেন এক ব্যাক্তি।

"খুকীজান সাবধানে আস। তুমি আর ছোট নাই। সামনে এই বিরাট ব্যাবসা তোমাকে দেখতে হবে।" ভর্ৎসনার স্বরে বলতে বলতে আমার পাশে এসে দাড়ালেন এক লোক।

"ঠিক আছে মিষ্টার ব্যানার্জি, আরও সাবধান হব।" সমীহের স্বরে বলে শাবজান। পরক্ষণে ওর চপল স্বরে বলে,"আপনি ই তো আমাকে খুকী বলে সম্বোধন করছেন।" লোকটি একটু হাসলো না হাসার মত। আবার কথা বললো কড়া গাম্ভীর্য্যের সুরে।

"তোমরা সবাই হলঘরে যাও। ওখানে সব খাওয়া দাওয়া ব্যাবস্থা পাবে।"

এরপরে শাবজান আমাদের বারান্দা পেরিয়ে যেখানে নিয়ে এল তা বিশাল এক দরবার যা আমাদের বাসার ছোট ড্রইং রুম এর কয়গুন বড়। বিদেশী বাড়ীর মত দেয়ালের কোনে ফায়ার প্লেস ও আছে। এ কি জিজ্ঞেস করায় শাবজান জানিয়েছিল ফায়ার প্লেস। আমাদের চারিপাশে সব ইউনিফর্ম পরা রুম অ্যাটেনডেন্ট বিভিন্ন বস্ত্র, জিনিস এবং খাওয়ার এ সাজিয়ে রাখছে। একজন বেয়ারা এক বিশাল বুকে এনে শাবজানের সামনে ধরে বললো, "মিষ্টার ব্যানার্জী এটা দিতে বললেন আপনাকে" শাবজান ওর হাত থেকে এ নিয়ে আমার দিকে বাড়িয়ে দিল মুখে হাসি সহ

"নাও মনা এ নিয়ে আমাকে ধন্য কর। এ পার্সেল আমার জন্য থাইল্যান্ড থেকে অর্ডার করে এনেছেন মিষ্টার ব্যানার্জী"।

"ওমা কি ভাগ্য!" বাকী সকল বান্ধবী কলকাকলি করে উঠলো। আমাদের জন্য কি আনিয়েছিস? আসমা, কোহিনুর, সুনয়নী,

"আছে সবার জন্য কিছু কিছু। প্রথমে যার জন্মদিন তার ট্রিট আগে। শাবজান এর মা, বাবা, ভাই বোন বা অন্যান্য আত্মীয়স্বজন ধরনের কাউকে দেখলাম না, যা সত্যি বিস্ময়ের। টেবিল ভর্তি প্রচুর খাবার। অদ্ভুত ব্যাপার যে, আমার এখন একটুও ক্ষিধে পেল না। ঘরে অসুস্থ মা আমাদের আটজনের জন্য হিসাব করে আটটি পরোটা বানায় আর তার সাথে আলুভাজি। এ আমাদের রাজভোগ। প্রত্যেকে তার পরোটা শেষ করে আর একটু অংশ পরোটার জন্য উৎসূক চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকি। মাঝেমাঝে মা আর ও কয়টা বেশী বানান সাথে একটা দুইটা ডিম ভাজি। আমরা ত্বড়িৎ শেষ একে অপরের বাসনের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। এক আফসোস এখানে এত খাওয়ার অবহেলায় পড়ে আছে কারও আকাংঙ্খা নাই ভোজনের। যেখানে জিনিস অপ্রতুল সেখানে প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। আমি মা বোনকে ছাড়া রাজভোগ ও খেতে পারি না। মা বাবা সহ আমার সকল ভাই বোনরা যেখানে যাই না কেন সামান্য খাওয়ার হলে ও ঘরে এনে সবাই মিলে ভাগ করে খাই। এজন্য যত ক্ষুধার্ত বোধ করি না কেন একা বাহিরে এলে খেতাম না কখনও।

"এই সব আয় ডাইনিং টেবিলে।" শাবনাজ তাড়া দেয় আমাদের। মা বাবার প্রিয় কচুড়ি হিং, ছোলা বাটোরা সহ আর ও সকল দেশী বিদেশী খাওয়ারে টেবিল বোঝাই। আমি একটা কচুরী নিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকি।

"কি রে খাচ্ছিস না কেন? ভালো করে খা, গাড়ীতে তোর বাসার জন্য ভাই বোনদের জন্য খাওয়ার আর সামগ্রী ও রাখা আছে।" এত ভালো এই শাবজানটা। জড়িয়ে ধরলাম প্রিয় সখীকে এবার। কিভাবে যে এই ধনীর দুলালী আভিজাত্যে পালিত মেয়েটি সবার আবেগ অনুভূতি এত বোঝে!

সকালে আটটায় এসেছি। আমি ঘরে যাওয়ার জন্য উচাটন হয়ে আছি। যতবার ঘরে যাওয়ার জন্য উঠতে যাই শাবজান হাত চেপে ধরে।

"আজ তো ক্লাস নাই এত তাড়াহুড়া করছিস কেন? আজ রাতে তোরা থাকবি এখানে? আমি বলেছি মিষ্টার ব্যানার্জীকে। উনি ছাদে থিয়েটার এর আয়োজন করছেন। সারা রাত সিনেমা দেখবো।"

"এই না না।" আঁতকে উঠে বললাম।

"বাবা ঘরের বাহিরে থাকা পছন্দ করে না। রাতে যে করে হোক বাসায় ফিরতে হবে।"

"রাত তো এখন দেরী আছে। অন্তত বিকাল পর্যন্ত থাক। জন্মদিন এর আনন্দ টা কর ঠিকমত।"

সব বান্ধবীরা শোরগোল করে উঠলো।

"এই কি রে? আমরা আজ সবাই একসঙ্গে মজা করবো।" অন্যবান্ধবী রা যে যা সামনে পাচ্ছে হাতে নিয়ে দেখছে। আমি একটা বই নিয়ে ব্যালকনির দরজা নিয়ে বেরিয়ে এলাম পিছনের খোলা মাঠে। মাঠের এদিকে আসতে থমকে দাড়িয়ে পড়লাম কিছু লোক কফিন এর মত কাধে করে নিয়ে যাচ্ছে। এত কি আছে ভাবতে ভাবতে এগোতে একজন এর সাথে ধাক্কা খাওয়ার উপক্রম করলাম।

"এই তুমি কে? এখানে কেন?" কুটিল দৃষ্টিতে লোকটি জরীপ করছে আমাকে। বুকে ব্যাজ এ মনে হল সিকিউরিটি অফিসার বা পাহারাদার।

"ভিতরে যাও।" ধমকে লোকটি আবার আমাকে বলে। বারান্দা থেকে ভিতরের শাবজান এর রুম পর্যন্ত অনেকগুলি রুম পার হতে হল আমাকে। বড় ঘর। ধাধার মত লাগল আমার। এত এত ঘর। কিছুক্ষণ এ ঘর ও ঘর করতে করতে একসময়ে একটা রুম এ পৌছলাম যা দেখে অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র রাখার ঘর বলে মনে হল। কৌতুহলবশত এদিক ওদিক দেখতে লাগলাম। তখন একদিকের দরজা দিয়ে অ্যাপ্রোন পরিহিত মিষ্টার ব্যানার্জী বেরোতে গিয়ে চোখের কোনা দিয়ে দেখলো আমাকে। দেখলাম ওনার এক হাতে কয়টা ক্যানভাস আরেক হাতে রঙ তুলির বক্স।

"এই মেয়ে ষ্টোর রুমে কি করছো?" ধমকের ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলো আমাকে। পরক্ষণে আবার একই সুরে একটু জরুরীর ভঙ্গিতে বললো আমার হাতের কিছু জিনিস ধর তো। আমি দৌড়ে ওনার হাতের ক্যানভাস ধরে ফেললাম। নাহলে পড়ে যাচ্ছিল।

"বাহ ধন্যবাদ। তোমার বডি রিফ্লেক্স তো বেশ ভালো। তুমি খেলাধুলা কর?" ঠোটের কোনে মুচকি হাসি।

এই মানুষ যে হাসতে পারে তা ধারনায় ছিলনা। হাসিতে মুখটা বেশ মোলায়েম হয়ে গেল ওনার।

"না এই ক্যারম আর লুডু খেলি।"

"শুধু ক্যারম আর লুডু!" শব্দ করে হেসে উঠলেন।

"ব্যাডমিন্টন খেলি মাঝে মাঝে বাবার সাথে।" বললাম আবার সাহসের সাথে।

"তাহলে একটা কাজ কর আমার অফিস রুম এর পাশের আরেক রুম আছে ওখানে যাও।"

"আপনার অফিস কোথায় জানিনা তো।" এবার আবার ভয় পেলাম একটু।

"না থাক ওখানে যাওয়া লাগবে না। হাতের জিনিস রাখ। এই ষ্টোর এ ব্যাডমিন্টন এর ব্যাট পাওয়া যাবে। চল খুঁজি।" উত্তেজনায় বলে উঠলেন তিনি।

কেন জানি আমার ভয় কেটে যেতে শুরু করেছে এখন। মনে হচ্ছিল ওনার এই রুক্ষতা লোক দেখানো। ভিতরের মানুষটি বরং স্নেহপরায়ন আর বন্ধুবৎসল বেশী। খূঁজতে খূঁজতে কিছুক্ষণের মধ্যে আমি দুজোড়া আর উনি এক জোড়া ব্যাট কর্ক ফেদার সহ পেয়ে গেলাম। খুশীতে আমরা দুজনে হাত তালি দিয়ে উঠলাম।

"চল একটু খেলি?" আমি একটু দ্বিধাগ্রস্ত শাবজান এর কথা ভেবে কি জানি ও কি মনে করে। ওর অভিভাবকের সাথে এই ঘনিষ্ঠতা।

"আচ্ছা শাবজানদের ডেকে আনি।" আমি সরে যাওয়ার চেষ্টা করলাম।

"আচ্ছা আমি শাবজানদের ডেকে পাঠাচ্ছি।" অসীম দ্রুততায় ব্যাডমিন্টন এর নেট লাগিয়ে ফেললেন মাঠে। তারপর আমার দিকে কর্ক ছুড়ে দিয়ে বললেন, "তুমি আগে।" একবার দুইবার করতে করতে আমাদের খেলা জমে উঠলো বেশ। এর মধ্যে সব বন্ধুরা সহ শাবজান ও চলে এল মাঠে।

"ওমা তুই কখন এখানে এলি? যে মানুষের ধার কাছে কেউ ঘেষেনা তার সাথে এত সুন্দর জমিয়ে ফেললি?" অন্য বান্ধবীরা তেরছা দৃষ্টি দিতে লাগলো আমার দিকে। বলাবাহুল্য আমার এই ঘনিষ্ঠতা তাদের ভালো লাগেনি। পরপর তিন গেম খেলেছি। দুটোতে আমি জিতেছি আর একটাতে উনি জিতেছেন। খেলা শেষে উনি আমার কাছে এসে পিঠে চাপড় মেরে বললেন,"Bravo তুমি তো সাংঘাতিক খেল।"

আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না উনি কি ইচ্ছে করে হারছিলেন ?আমি আজ জীবনের সবচেয়ে ভালো খেলা খেলছিলাম। খেলা শেষে তিনি ভিতরে চলে গেলেন।

"ব্যাডমিন্টন এ মিষ্টার ব্যানার্জী এই জেলার চ্যাম্পিয়ন।" অবাক বিস্ময়ে বলে এবার শাবজান।

"মনে হয় গরীব বান্ধবীকে জিতিয়ে তোকে খুশী করতে চাচ্ছেন।" এক বান্ধবী বিদ্রুপ করে বলে।

"না তা ও ওনার করার কথা নয়। কেননা এ নিয়ে ওনার অহংকার আছে। কেউ ওনার সাথে জিততে পারেনা।"

"তবে তো ভারী অদ্ভুত!" অদ্ভুত আজকে আমি কেন যে এত ভালো খেললাম! তারপর শাবজান বাকী তিন বন্ধুর সাথে খেলতে লাগলো। আমার ভীষন ক্লান্ত লাগছিল এখন।

"খুব ঘুম পাচ্ছে শাবজান। বাসায় চলে যেতে চাই।"

"না এখন যাওয়ার অনুমতি নাই। আমাদের সুইমিং পুল দেখলি না তো। শাবজান বলে। একটা কাজ কর। ভিতরে বিছানায় গিয়ে বিশ্রাম কর। আমি ভিতরের রুম খূঁজছিলাম বিশ্রাম নেওয়ার জন্য। দোতলায় উঠে বারন্দায় দিয়ে শাবজান এর ঘরের দিকে যাওয়ার সময় দেখলো মিষ্টার ব্যানার্জী এক ইজেলে কি যেন দেখছেন গভীর মনোযোগ এর সাথে। চোখাচোখি হয়ে গেল ওনার সাথে।

"এই কি যেন নাম তোমার? চ্যাম্পিয়ন এদিকে আসো।" আমি হতবুদ্ধি হয়ে দৌড়ে এলাম ওনার কাছে।

"দেখ তো ছবিটি ঠিক আছে নাকি?" আমি হতভম্ব হয়ে ছবিটি দেখলাম। ইজেলে অবিকল আমার ব্যাট হাতে লাফ দেওয়া ছবি।

"তুমি বসে থাক তো এখানে। তোমার মুখটা এখন ও নিঁখূত হয়নি।" কি যন্ত্রনা। আমি এখন পালাতে পারলে বাঁচি। আবার শাবজান, অন্য বান্ধবীরা রুমে যাওয়ার সময় আমাকে দেখে বিস্মিত।

"এই তোমরা সব যাও। বিরক্ত করনা। পোর্টেট টা করছি। ও এখানে থাকবে। সবাই প্রায় পালিয়ে বাঁচলো। আমার অবস্থা ভারী করুণ। বন্ধুরা কি মনে করছে কে জানে। নড়াচড়া করা যাচ্ছেনা। টানা দুইঘন্টা মূর্তির মত বসে রইলাম। একজন সেক্রেটারী এসে উকি দিলেন। সাহস করে বলে ফেললেন " নীচে অতিথিরা অপেক্ষা করছেন। লাঞ্চ করবেন না? আপা বলছেন ওনার বান্ধবী কিছু খায়নি।

"ওর আর আমার খাওয়ার এখানে নিয়ে আস। পরক্ষণে কি মনে করে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন "আচ্ছা যাও। লাঞ্চ করে নাও। আমি ডাকবো পরে। লাঞ্চ করতে এসে দেখি সবার মুখ গম্ভীর। এমনকি এখন ও শাবজান এর মুখ ও প্রসন্ন নয়।

"কি রে আমরা একসাথে ফান করবো। এখন তোকে ই পাচ্ছি না।"

"আমি কি করবো রে? তোর বাবা যদি আমাকে কোন ও কাজ করতে বলে, তোর বন্ধু হিসাবে বেয়াদবী করতে পারিনা তো।" আমার মুখ দিয়ে বেফাস কথা বেরিয়ে এল উত্তেজনায়।

"ও আমার বাবা নন।" শাবজান গম্ভীর গলায় বলে।

"তবে তোর বাবা?" আজ জিজ্ঞেস করে ফেললাম।

"তুই জানিস আমি বাবা মা সংক্রান্ত কথা বলা পছন্দ করি না।" এরপরে কিছুক্ষণের ছন্দপতন হল আমাদের দলে। শাবজান গোমড়া মুখ করে দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে শুয়ে রইলো। অন্য বান্ধবীরা আমাকে উপেক্ষা করে নিজেদের মধ্যে গল্প করতে লাগলো। আমি একটা ওয়াশরুম দেখে ঢুকে পড়লাম। শরীর মন জুড়িয়ে গেল ঠান্ডা পানির স্পর্শে। এদের ওয়াশরুম টা দেখার মত। স্কয়ার ডিজাইনের ওয়াশরুম এ এক অংশে এক কাবার্ড তাতে টাওয়াল সহ প্রয়োজনীয় সরন্জামে পরিপূর্ণ। তার বিপরীত দিকে ছোট চৌবাচ্চা পানিতে পূর্ন। পাশে সাধারন ট্যাপ ঝরনা আরেক পাশে শৌচাগার এর অন্য সামগ্রী। ফ্রেশ হয়ে ভিতরে আসতে দেখলাম শাবজান এখন আবার চপল হাসিখুশী।

"এই তোর আবার খোঁজ পড়েছে। তাড়াতাড়ি লাঞ্চ শেষ করে যা। নাহলে রক্ষা থাকবে না।"

"কেন রে?" আমি স্নেহের স্বরে বললাম।

"উনি তো ভিতরে মোটেই রাগী নন।"

"কি জানি রে আমরা তো ছোটবেলা থেকে ওর বদরাগের সাথে অভ্যস্ত।" তাড়াতাড়ি নাকে মুখে দেওয়ার মত করে পাঁচমিনিটের মধ্যে দৌড়ে দোতলায় এলাম। উনি দেখলাম এর মধ্যে সকালের কোর্ট স্যূট খুলে পাঞ্জাবী ধূতি পরে নিয়েছেন। তাতে বেশ ছিমছাম আর কমনীয় দেখাচ্ছিল ওনাকে।

"বাহ তোমাকে তো এখন বেশ ফ্রেশ দেখাচ্ছে। মুখ ধুয়েছো তাই না?" আমার কাধ হাত দিয়ে সামনের চেয়ারে বসিয়ে দিলেন। নিজের অজান্তে কেঁপে উঠলাম ভিতরে। এর পর মূর্তির মত বসে থাকা আর ও ঘন্টাখানিক। অপরাহ্ন শেষ হয়ে গেল এই ছবি আঁকা আঁকি আর নীচতলা দোতলা করে। এর পরে আমাদের বন্ধুদের আড্ডা যদি ও আর জমলো না। তারপরে বিকাল জলখাবার আর সুইমিং ঘুরে সেদিন ঘরে পৌছলাম রাত আটটায়। শাবনাজদের গাড়ী নামিয়ে দিল। আসার সময় মিষ্টার ব্যানার্জীকে আর দেখলাম না। গাড়ীতে দুনিয়ার জিনিস বোঝাই করে দিয়ে দিল। দরজা দিয়ে ঢুকতে শুনি বাবা চেচামেচি করছেন।

"আমি এসব পছন্দ করি না। সকালে গিয়েছে এখন রাত নয়টা দেখ কান্ড।" আমি তাড়াতাড়ি ঝট করে নিজের রুমে ঢুকে গেলাম বাবাকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে। তাড়াতাড়ি কাপড় পরিবর্তন করে কিচেন এ এসে মাকে খূঁজছিলাম। মাকে কোথাও না পেয়ে বাহিরে ঘরের দিকে আসতে দেখতে পেলাম ঘরের মাঝখানে শাবজানদের দেওয়া সব জিনিস ঘিরে বাসার সবাই দাড়িয়ে।

"এই সব তোর বন্ধুর ড্রাইভার দিয়ে গেল।" বাবা ভাই বোন সবার চোখে মুখে বিস্ময়।

"কি করে ওর বাবা?" ভাই জিজ্ঞাসা করে।

"জানি না।" আমি সংক্ষিপ্ত উত্তর দিলাম।

"এই সব কি তোমার বার্থডে উপলক্ষ্যে দিল?" ছোটবোন জিজ্ঞেস করলো এবার।

"তোর বার্থডে নাকি?" বাবা লজ্জা পেয়ে হাসলো। হ্যাপি বার্থডে অন্জু। আয় মা কাছে আয়। আশীর্বাদ করে দিই। বাবা জড়িয়ে ধরে দোয়া করে দিলেন ছোটবেলার মত। লজ্জা পেয়ে গেলাম। শাবজানদের ঘর থেকে প্রচুর খাওয়ার দিয়ে দিয়েছে প্রচুর ক্যান্ডি, চকলেট, আইসক্রিম সহ।

"দিদি আমাকে কয়েকটা চকলেট দিবে বন্ধুদের দিব?"

"এ সব তোদের। আমার কিছুই দরকার নেই।"

মা বোন সবাই সব প্যাকেট খুলে দেখছে। সবার মুখ আনন্দে ঝলমল করছে। আমার ভিতর টা ও হঠাৎ ই আনন্দে ভরে উঠলো আজ দিনের প্রতিটি মূহূর্ত মনে পড়ায়। এই আনন্দের কারন উপলব্ধি করতে লজ্জা আর অস্বস্তিতে ভরে উঠলো মন। কেমন যেন এক বিজাতীয় আকর্ষন অনুভব করতে লাগলাম শাবজান এর অভিভাবক অদ্ভুত রুক্ষ ধরনের মানুষটি মিষ্টার ব্যানার্জীর উপরে। সেই শুরু প্রথম দিন থেকে আরও পাঁচ বছর পার হয়ে গেল। পড়াশোনা শেষ করেছি। কাজ করছি মিষ্টার ব্যানার্জির কর্পোরেট অফিস এর হেড অব অ্যাডমিনিষ্ট্রেশান হিসাবে। এই জব শুরুর পর থেকে আমাদের সংসারে এক স্বাচ্ছন্দ্যের হাওয়া লেগেছে। বাবা রিটায়ার্ড করেছে আগের বছর। ওই স্থানে আমার পরের বোন এর জব হয়ে গেছে। মা বারবার বিয়ের তাগাদা দেয়। কেন জানি বিয়ের কথা শুনলে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠি। আমার সাথে মানানসই যে ধরনের ছেলেরা আমাকে বিয়ে করতে চায় তাদের আমার একটুকুন ও ভালো লাগেনা। দুইবছর আগে শাবজান এর বিয়ে হয়েছে বড় মেরিন ইন্জিনিয়ারের সাথে। এই দুই বছরে বাকী তিনবন্ধুর ও বিয়ে হয়ে গেল। আমাদের পাঁচজন এর গ্রুপে আমি রয়ে গেছি বিয়ের বাকী। মনে মনে প্রতিদিন ভাবি মিষ্টার ব্যানার্জীর বিয়ে দেখে তারপর না হয় মা বাবার কথামত একজনের গলায় না হয় মালা দিয়ে দিব। কিন্তু এই অদ্ভুতুড়ে লোকটিকে কখন ও না দেখা গেছে কোন মেয়ের সাথে না খবর পেয়েছি তার কোন ও সম্পর্কের ব্যাপারে।



অধ্যায়ঃ দুই

আমি অঞ্জলী চৈতন। শেষ নাম চৈতন বাবার কাছে থেকে পাওয়া জন্মসূত্রে। এ নাম নিয়ে বেশ কৌতুক হত বন্ধুদের আড্ডায়। এই চৈতনে আয়। আমার অন্যমনস্ক স্বভাব নিয়ে মজা করে বলা হত। ম্যানেজমেন্ট এ মাষ্টার্স করে এ বছর ই ব্যানার্জীদের বড় গ্রুপ অব কোম্পানীতে জয়েন করেছি পিআরও হিসাবে। একই সঙ্গে অফিসের সকল ধরনের ম্যানেজমেন্ট ও অ্যাডমিনিষ্ট্রেশান সম্পর্কিত কাজগুলি আমি দেখি। এই পজিশনে আগের ব্যাক্তি ছিলেন প্রবীণ একজন। তাকে সরিয়ে আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ নিয়ে সারা অফিসে কিছুদিন তুলকালাম হয়েছিল। অফিসের অধিকাংশ ই ছিল এই বরখাস্ত আর আমার নিয়োগদানের বিপক্ষ্যে। এক অংশ ষ্ট্রাইক ও চলে গিয়েছিল। অবিলম্বে তাদের ও জব থেকে বরখাস্ত করা হবে এই ওয়ার্নিং এ সবাই জব এ ফিরে আসতে বাধ্য হলে ও আমার প্রতি কেউ তেমন প্রসন্ন ছিলনা। লাঞ্চ টাইমে সবাই ক্যাফেটারিয়ায় খাওয়ার রেওয়াজ। আমি খেতে গেলে সবাই সরে অন্যত্র গিয়ে বসত। দুপুর বেলায় আজ খেতে আসলাম ক্যাফেটেরিয়ায়। কোথাও খালি টেবিল না পেয়ে এক টেবিলে দুজনের পাশে বসতে বাধ্য হলাম। দুজন চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়াল। এই সময় মিষ্টার ব্যানার্জী ক্যাফেটারিয়ায় এসে ঢুকলেন। অনুমতি না নিয়ে আমার সামনের চেয়ার দখল করে বসলেন। চারিদিকে ফিসফাস গুঞ্জন শুরু হল তাতে। উনি মুখ ঘুরিয়ে সবাইকে দেখতে লাগলেন। তাতে সবাই চুপ হয়ে গেল। আমার টেবিলে বসলে ও আমার সাথে কথা বললেন না একেবারে। খেয়ে কফির কাপটা হাতে নিয়ে চলে গেলেন। অফিসে অবশ্য ওনাকে স্যার বলার আদেশ দিয়েছেন। গত চারবছর ধরে আমি শিক্ষানবীশ হিসাবে সকল কাজ ই করে দিতাম। ওনার সকল হিসাব দেখতে দেখতে যাতে অনেক গড়মিল পেয়ে ওনাকে দেখাই। যার ফলশ্রুতিতে সিনিয়ার অ্যাডমিনকে বরখাস্ত করেন মিষ্টার ব্যানার্জী। এতে আমার আর মিষ্টার বানার্জীর কোন ও দোষ নাই। বরং এই সিনিয়র ম্যানেজার অফিসের অনেক টাকা গাফ করেছেন মিথ্যে খরচ দেখিয়ে। মিষ্টার ব্যানার্জী ব্যাস্ত থাকতেন ওনার ছবি আঁকা, এক্সিবিশান আর ট্যূর নিয়ে। না দেখে সব চেক সাইন করে দিতেন। চল্লিশ লাখ, পঞ্চাশ লাখ এর চেক সাইন করিয়েছেন জিনিস কেনার নাম করে সেসব জিনিস বস্তুত কেনা হয়নি। আমার ও অনেক খারাপ লেগেছে বয়স্ক লোককে বরখাস্ত করাতে।

"ওনাকে এক সপ্তাহের সাসপেন্ড করে আবার কাজে বহাল করা যায় না?" আমি বললাম বিবেচনার জন্য। কেননা অফিসের সবাই আমাকে ভিলেন বানিয়ে বসে আছে এ ব্যাপারে। আমি তো শুধু হিসেবের গড়মিল দেখিয়েছি।

"এই হচ্ছে মেয়েলী বুদ্ধি।" ওনার গতানুগতিক গা জ্বালানো কথাটি বললো। পরক্ষণে আমার হাত ধরে টেনে কাছের চেয়ার এ বসালো। বরাবরের মতই ওনার নির্দোষ স্পর্শে আমার শরীর কেঁপে উঠলো। একইসঙ্গে এই আচরনের জন্য বেশী জুড়ে আছি ওনার সাথে।

বললেন আবার ও,"শোন আমি জানি তোমার খারাপ লাগছে। এ কঠিন সিদ্ধান্ত বাবার বয়সী লোককে এভাবে জব থেকে অব্যাহতি দেওয়া। দেখ ওনার অন্যায় চিন্তা করলে জেল জরিমানা হওয়া উচিত। তা না করা ই মাপ করে দেওয়ার মতন। তোমাকে বলছি এই কাঠিন্য তোমাকে ও আজ থেকে আয়ত্ত করতে হবে। না হলে নিয়ন্ত্রন চলে যাবে তোমার হাতে থেকে। আজ এই অন্যায়ের শাস্তি ভবিষ্যতে আমার হিসাব বিভাগ আর প্রশাসন সতর্ক থাকবে যে ঠিকমত কাজ না করলে সাজা হবে।"

আমি তবুও বলার চেষ্টা করতে আবার ও উনি বলতে লাগলেন,"দেখ পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, দেশ সব জায়গায় এই নীতি অনুসরন করবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। দূর্নীতি আর অন্যায়কে কখন ও প্রশ্রয় দিবে না।"

"তাই বলে কি কখন ক্ষমা বা মাপ জিনিসের কোন ও প্রয়োগ হবে না"? আমি তর্ক করার চেষ্টা করলাম তখন ও।

"ক্ষমা করেছি বলে ওনার জেল জরিমানা করিনি, চুরির টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলিনি।"

সেইদিন বিকালে ই আচমকা ম্যানেজার অ্যাডমিন এর জায়গায় আমার নিয়োগ দিলেন। এর আগে আমি কর্পোরাল সেক্রেটারীর মত ই কাজ করছিলাম। বেতনের অংক দেখে আমার মূর্ছা যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সাড়ে সাত লাখ, এক গাড়ী ব্যাক্তিগত ব্যাবহারের জন্য তার সাথে আরও আড়াই লাখ ঔষধ, যাতায়াত এর জন্য। ঘরে সবার চক্ষু চড়ক গাছ।

"অঞ্জু তোর বেতন কি এরকম বেশী? না কি এই প্রতিষ্ঠান এর সকল এর বেতন উচ্চ পর্যায়ের?"

"সবার বেতন অন্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক বেশী।" আমি বললাম খুশী হয়ে। জয়েন এর প্রথম দিন অফিস গিয়ে মিষ্টার ব্যানার্জীকে পেলাম না। শুনলাম থাইল্যান্ড ট্যূরে গিয়েছেন। নুতুন জব এ জয়েন এর আনন্দ দুর হয়ে গেল আমার মন থেকে ওনাকে না পেয়ে। একদিন, দুদিন পুরো সপ্তাহ আর ওনাকে পেলাম না। পরের সপ্তাহে অফিস ত্যাগ করার মূহূর্তে আচমকা দেখা হয়ে গেল মিষ্টার ব্যানার্জীর সাথে।

"এই যে অভিনন্দন। নুতুন কাজ কেমন চলছে মিস অঞ্জু?" হঠাৎ করে এভাবে দেখা হওয়ায় বুক আন্দোলিত হয়ে উঠলো আমার।

"চলছে। আপনার তো দেখা ই পেলাম না কয়দিন।" একটু অভিমান এর সূর গোপন রইলো না মনে হয় ওনার কানে।

"এই তো এলাম। চল চল।" তাড়া লাগাতে লাগলেন তিনি।

"কোথায়?" আমি জিজ্ঞেস করলাম।

"তোমার নতুন জব এর উদযাপন আর মিষ্টি খেতে।" হেসে বলেন তিনি।

"মানে?" বুঝতে পারলেও না বোঝার ভান করলাম। বড় লিমোজিন গাড়ীর দরজা খুলে গেল। আমি ভিতরে ঢুকে বসতে পাশের দরজা খুলে আমার পাশে এসে বসলেন। বলা যায় গা ঘেষে ই বসলেন। আমার নিজেকে সিন্ডেরেলার মত মনে হল। ওনার অফিসের শত শত ঈর্ষাপরায়ন কৌতুহলী দৃষ্টির সামনে আমাদের গাড়ী পার হয়ে গেল। দিনটি লিখে রেখেছি ডায়েরীর পাতায় তারিখ, সময়, মূহূর্ত সহ। উনি যে এত বাচাল, এত কথা বলতে পারেন তা ওদিন ই জানলাম। পুরো সময় আমার কাছে স্বপ্নদৃশ্যের মত লাগছিল। উনি বলছিলেন তা ই শুধু অনুভব করছিলাম। কি বলছিলেন কিছু শুনছিলাম না। এক প্রচন্ড ঘোর আবেশে আমি আবিষ্ট হয়েছিলাম। উনি আমার এক হাত ধরে কথা বলছিলেন। চমৎকার এক মিউজিক হচ্ছিল সিডি প্লেয়ারে। তার সাথে গাড়ীর ভিতরে মাতাল করা কোলন এর সৌরভ ভেসে আসছিল ওনার শরীর থেকে। রেষ্টোরেন্ট এ খেতে বসতে উনি কথা বললেন বোমা ফাটানোর মত যদি এ শোনার জন্য আমার তৃষিত কান বহুকাল ধরে অপেক্ষায় ছিল।

"অঞ্জু আমার জীবনের ভার নিতে পারবে?"

"অর্থাৎ?" আমি কাঁপা গলায় বললাম।

"তুমি বলা যায় সেই প্রথম দিন থেকে আমাকে সামলে চলেছো। আমি চাই আমার সব কিছু এই সকল বিষয় সম্পত্তি, এমনকি আমার দেহ মন এর সব অধিকার তোমার হাতে সঁপে দিতে চাই। তুমি দেখেছো আমি বিষয় সম্পত্তি বুঝিনা। মানুষ আমাকে ঠকিয়ে যায়।"

আমি আবেগে ভেসে যেতে লাগলাম। আমি তো কবে হ্যাঁ করে বসে আছি। তা না বলে নীরবে চেয়ে থাকলাম ওনার দিকে।

"এবার আমি তোমাকে আমার জীবনের এক অজানা অন্ধকার দিক আজ শোনাতে যাচ্ছি যার পরে ই তুমি সিদ্ধান্ত নিবে আমার ভার নিতে ইচ্ছুক হবে কিনা?" আর আমার বয়সী শরীর মন যদি কনসিডার কর। বেশ উদগ্রীব হয়ে চাইলেন আমার দিকে।

আমি তাকিয়ে রইলাম ওনার দিকে তীব্র আবেগে। এরপর তিনি নিয়ে এলেন শহরতলীর এক ছোট বাড়ীতে। কলিংবেল টিপতে একজন পরিচারিকা ধরনের দরজা খুলে দিলেন।

"কি সব ঠিকঠাক তো?"

"না দাদা বাবু, আজ অনেক অশান্তি করেছেন দিদিমনি।" পরিচারিকাটি বললেন। এই দিদিমনিটি কে বুঝতে না পেরে সংশয়ে দুলে উঠলো বুক। ভিতরে রুমে গিয়ে দেখলাম একজন এলোমেলো চুলের পাগলিনীর মত বসে আছে বিছানায়।

"কে ইনি?" কাঁপা বুকে জিজ্ঞেস করলাম।

"আমার স্ত্রী।" আমাকে চমকে দিয়ে বললেন উনি।

"ঠিক দশ বছর আগে আজকের এই দিনে আমার দুইবছর এর ছেলে ষ্ট্রলার থেকে নেমে আচমকা হাটতে শুরু করে। আমাদের দুইজনের চোখের সামনে এই দানব ট্রাক আমার বাচ্চাকে……."

আর তিনি বলতে পারলেন না। কাঁপতে কাঁপতে বসে পড়লেন তিনি সামনের চৌকিতে। বাচ্চাকে বাঁচাতে ও দৌড়াতে গিয়ে মাথায় বাড়ি খায় ওর। সেই থেকে ওর ও বাকশক্তি, স্মৃতিশক্তি চলে গেছে চিরতরে। এখন ওর খাওয়া আর ঘুম ছাড়া কোন বোধ নাই। সেদিনের পর আর ও দশবছর পার হল। আজ পয়ত্রিশ বছর পূর্ণ হল। হ্যাঁ সেদিনের পর থেকে ওনার পুরো জীবনের দায়িত্ব নিয়েছি। না তখন ও আমরা বিয়ে করিনি। তাতে অসুবিধা বোধ করিনি। দিনশেষে উনি আমার দিকে যখন গভীর ভালোবাসা মিশ্রিত কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে তাকাতেন বড় পরিতৃপ্ত বোধ হত। পরের বছর এর এক দিনে মিসেস ব্যানার্জীর দাহক্রিয়া হল।

"ভালো হল। এ কে তো বেঁচে থাকা বলে না।" ক্লান্তিতে আর বিমর্ষ হয়ে বললেন তিনি। সেই বছরের ডিসেম্বর এক বিকালে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের বিয়ে হয়ে গেল। আমি মিস অঞ্জু চৈতন থেকে মিসেস ব্যানার্জী হয়ে গেলাম। সময় গড়িয়ে আমরা প্রবীণ হয়েছি।

মিস্টার ব্যানার্জী আজ শততম বর্ষে পড়েছে। আমি পঁচাত্তরে পড়েছি। আমরা সেই যে বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি এরপরে একদিনের জন্য বিচ্ছিন্ন হইনি। দুজন দুজন এর সঙ্গের প্রতি মুহূর্ত উপভোগ করি। আজকাল ও চোখে বেশ ভালো দেখতে পায় না। আমি ওকে বই পড়ে শোনাই। আজ পালন করেছি ওর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠান শেষে বসে আছি দুজন মুখোমুখি ওর প্রিয় ফায়ারপ্লেস এর স্থানটিতে। জিজ্ঞেস করে ও আমাকে মুচকি হাসিতে

"কি মিসেস ব্যানার্জী কোন ইচ্ছা কি এখন ও অপূর্ণ আছে? বলে ফেল এই মূহূর্তে তাড়াতাড়ি"

"ভাবছি।" আমি হেসে উঠলাম কপট ভঙ্গি করে।


-----------------------

 

 
Hosne Ara Arzu

40 Teesdale Place, Unit 1903

Scarborough, Ont, M1L1L3 Toronto

Canada









Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

কবিতা ।। অন্ধমনে ।। সায়নী আচার্য্য

 অন্ধমনে  সায়নী আচার্য্য পথচলার প্রতিক্ষণে ধাওয়া করেছে বিপদ। জেতার জন্যে উন্মাদ হয়ে ভাঙতে চাইছে গরাদ। অন্ধমনে বদ্ধ ঘরে একলা বসে ভাবে। ভাগ্য কেন দুঃখ দেয়? বাঁচিয়ে রাখে ভবে। প্রবল তার মনের জোর, মানে না কোনো বারণ। মানে না কোনো বঞ্চনা, লড়বে আমরণ। ভাগ্য শুধু সুযোগ আনে, মনকে করে শক্ত। পায়ের বেড়ী ভেঙে দিয়ে বেরিয়ে আসে ভক্ত। অন্ধ কেবল সাহায্য চায় , পারে না কোনো কাজ। এমনভাবে ছোটো করা বন্ধ করো আজ। ===================       সায়নী আচার্য্য     ইলিয়াস রোড, আগর পাড়া                 কোলকাতা-৭০০০৫৮

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতা ।। অনিশ্চয়তা ।। মোঃ আব্দুল রহমান

অনিশ্চয়তা  মোঃ আব্দুল রহমান  নিশ্চিত শব্দেরা অনিশ্চয়তার  কবিতা আঁকে  বারে বারে ডাকে  হৃদে জপে  ফের ব্যর্থ হতে হতে বিলীন শূন্যে চিতায় অবয়ব যেভাবে  ছাই হয়ে নিস্তব্ধতায়  মিশে যায় হঠাৎ  আমিও বিলীন হচ্ছি অন্ধকারে  নির্জনে কবিতার দুয়ারে  অজানার সুরে  একাকী শব্দ কবিতা আমি  অদ্ভুত মিল! আঁধারে পুড়ে চলেছে আমার কবিতার চিতা  কেউ খোঁজ পাইনি তবুও কবিতা আমায় বড় ভালবাসে  আমিও তাকেই ভালবাসি এখন দুজনেই পুড়ি অনিশ্চয়তা আর উন্মত্ততার আগুনে! ============ মোঃ আব্দুল রহমান বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ  ভারত, পিনকোড- ৭৪২১৬৫

বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায়

বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য  সৈকত প্রসাদ রায়  জানালা দিয়ে ভোরের আলো এসে পড়েছে শৌনকের মুখে। কিন্তু তার চোখে ঘুম নেই,স্বপ্নটা এখনও যেন বুকের ভেতর কাঁপছে। সে উঠে দাঁড়িয়ে জানালার পাশে এসে দাঁড়াল। বাইরে শীতের সকাল, কুয়াশার চাদরে ঢাকা শহর। কিন্তু শৌনকের চোখে ভাসছে শুধু সেই লাল বেনারসি, সেই জলভরা চোখ। শৌনক চোখ বন্ধ করল। মনে পড়ল সেই দিনটা। তিন বছর আগে, ১৪ই ফেব্রুয়ারি, সকালবেলা ফোন করেছিল সোনিয়া,গলায় উচ্ছ্বাস। "শৌনক! আজ কী দিন জানিস?" "ভ্যালেন্টাইন্স ডে। আর আমাদের বিয়ের শপিং এর দিন!" শৌনক হেসেছিল। "ঠিক! দশটায় রেডি থাকবি। আমরা নিউ মার্কেট যাব। আমার বেনারসি শাড়ি দেখতে হবে, তোর শেরওয়ানি, আর..." "আর তোর অসংখ্য শপিংয়ের লিস্ট!" শৌনক হাসতে হাসতে বলেছিল। "হ্যাঁ! আর মা বলেছে লাল বেনারসি নিতে। ট্র্যাডিশনাল। তুই কী বলিস?" "তুই যেটা পরবি, সেটাই সবচেয়ে সুন্দর হবে সোনিয়া।" ফোনের ওপাশ থেকে সোনিয়ার খিলখিল হাসি ভেসে এসেছিল - " আচ্ছা, দশটায় আমার বাড়ির সামনে, দেরি করবি না কিন্তু!" শৌনক ঠিক সাড়ে নয়টায় পৌঁছে গিয়েছিল সোনিয়ার ...

কবিতা ।। জীবনের গন্ধ ।। চন্দন দাশগুপ্ত

জীবনের গন্ধ চন্দন দাশগুপ্ত  শব্দের শরীরে পাই জীবনের গন্ধ, খোলা জানালার বাইরে ঘুমোয় তারা ভরা রাত, আসল আর নকলের পার্থক্য ঘুচে যায়, দরবাড়ি কানাড়ায় ক্লান্ত সেতার বেজে যায়, তবু.......তবু শেষ হয় না কখনো, কিছু কিছু নেতাদের ক্ষমতার লোভ, আহা, ভুলে গিয়েছিলাম, ওরা তো বেতন পায়না, পায়না বোনাস, পিএফ, টুকরো-টাকরা গ্র্যাচুইটি, তাই ওদের টুকটাক চুরিকে চলুন ক্ষমাঘেন্না করে দিই, ওরা চিৎকার করে যাক মিটিং-এ, মিছিলে, আমরা বরং উপভোগ করি, মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল-আইপিএল, ফাঁকা পকেটে প্রেমিকার সাথে বাদাম চিবোই, মাঝেমধ্যে তার সাথে হোক চপ-ঘুগনি-বিড়ি, দেওয়ালে লিখি-আঁকি নেতাদের নাম-ছবি, ওরা ভোটে জিতলেই তো আমাদের লক্ষ্মীলাভ, আমাদের সংসার-সংস্কৃতি কিছু নেই, আমরা শুধু, বছরের পর বছর, নিদ্রাহীন রাতে, শব্দের শরীরে জীবনের গন্ধে ডুবে যাই........... ------------------------ চন্দন দাশগুপ্ত  সি/৩০/১, রামকৃষ্ণ উপনিবেশ, রিজেন্ট এস্টেট,  কলকাতা---৭০০ ০৯২

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ভালোবাসা ।। কাবেরী মিত্র

ভালোবাসা  কাবেরী মিত্র  তোমারে বেসেছি ভালো, শত বার শতরূপে। সেদিন চৈত্র মাস   তুমি এসেছিলে কৃষ্ণ চূড়া হাতে।  নিভৃতে সংগোপনে আমার ঐ  এলো চুলে মালাটি সাজায়ে দেবে বলে। আমি তোমার ঐ আলিঙ্গনে,  নিজেকে উজাড় করে,  কম্পিত হৃদয়ে লজ্জায়  অধোবদনে দুহাতে , মুখ রেখেছিলাম ঢেকে।   এরপর কত প্রেমালাপ, পূর্ণিমায় জোছনা সর্বাঙ্গে মেখে,  ছাতিম তলায় বসে, নিয়েছিলে,  মোরে ও দুটি বাহুডোরে ।  ক্ষনিকের তরে ওষ্ট দুটি ডুবে ছিল,  তোমার  ওই ওষ্ঠ মাঝে। কখনো বা কুয়াশা ভেজা ঘাসের  প'রে হাতের পরে হাত রেখে  হেটে ছিলাম অজানা পথ ধরে। কত রঙ্গীন স্বপ্ন এঁকে বিনিদ্র রাত্রি গেছে কেটে। সহসা কি হোলো আমারে  না জানায়ে কোথা গেলে    প্রিয় মোর হারায়ে!! আজও আমি একাকী,  নীরবে চোখের জলে ভাসি।  বসে আছি পথ চেয়ে,  এক বুক আশা লয়ে,  হয় তো আবার আসিবে ফিরে, আমার এ ভালোবাসার দ্বারে।  সব অভিমান ভুলে এবার, তোমারে রাখিব বেঁধে  এ ক্ষুদ্র হৃদয় পিঞ্জরে।। ................................ কাবেরী মিত্র  রাজারহাট, কলক...

খামবন্দী ।। প্রসেনজিৎ দাস

খামবন্দী প্রসেনজিৎ দাস কত স্বপ্ন বন্দি আছে, আকাঙ্ক্ষার খামে  না বলা মনের কথা, লেখা তোমারি নামে। নিঃশব্দে ফেরালে মুখ, প্রতিশ্রুতি ফেলে  নতুন মুখোশ দেখি তোমার, পুরোনোটা খুলে। কিছু খাম অ্যালবামে, কিছু বইয়ের মাঝে রাখা  সাপের খোলস ছিল তোমার, মনের পাইনি দেখা। ভাবনায় কখনো শিউরে উঠি, গ্রাস করে যে ভয়, "মনুষত্ব নিপাট গেলে, মানুষের এমনি হয়?" নেই অভিমান আর, কোন অনুযোগ ও নেই  কুটিলতার স্তবক লেখা, প্রেমের কবিতাতেই। আবেগগুলো ছেড়েও জানি, ভালো থাকা যায়  সম্পর্কের ভার নেওয়া, একার নয়তো দায়। অল্প করে রোজ, আমি কিছু স্মৃতি করেছি ছাই কালো মেঘে বিষের বৃষ্টি, আমি অবাক হয়ে যাই। পুষ্পসম স্বপ্ন ছিল, সাজানো তোমার নামে  বিকিয়ে দিলে স্বপ্নের ঘর, খুবই অল্প দামে।   ------------------------ PRASENJIT DAS C/O - "NIKUNJA CHHAYA" 28/1 NETAJI PALLY MAIN ROAD P.O. RABINDRA SARANI  CITY & P.S. : SILIGURI PINCODE - 734006 DIST - DARJEELING WEST BENGAL ᐧ

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। নবপ্রভাত ৮৫ ।। চৈত্র ১৪৩১ মার্চ ২০২৫

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। মরিয়ম মির্জাখানি: এক অনন্য গণিতসূর্য ।। ... নিবন্ধ ।। নারী দিবসে যা ভাবা উচিত ।। বিশ্বনাথ পাল প্রবন্ধ ।। প্রাচীনকাল থেকে নারীরা অবহেলিত, বঞ্চিত,... নিবন্ধ ।। আমার চোখে আদর্শ নারী ।। জয়শ্রী বন্দ্... ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখ... আফ্রিকার লোককথা ।। করোটিকে বিয়ে করা অবাধ্য মেয়েটি ... ছোটগল্প ।। মানবী ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল নিবন্ধ ।। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম নারী মু... নিবন্ধ ।। প্রিয় মহিলা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী ।। ... গল্প ।। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।। রবীন বসু প্রবন্ধ ।। নিপীড়িতা ।। শ্যামল হুদাতী ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত প্রবন্ধ ।। নারী সমাজ : তখন-এখন ।। তপন মাইতি নিবন্ধ ।। বহমান কালের ধারায় নারী ।। দীপক পাল গল্প ।। আমার দুর্গা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) গল্প ।। যোগ্য জবাব ।। সমীর কুমার দত্ত ছোটগল্প ।। আমি দুর্গাকে দেখেছি।। চন্দন দাশগুপ্ত গল্প ।। সম্পর্ক ।। গৌতম সমাজদার কবিতা।। নারী মানে ।। গোবিন্দ মোদক কবিতা।। নারী ।। সমর আচার্য্য ছড়া ।। নারী অসামান্যা ।। সৌমিত্র মজুমদার কবিতা ।। নারী দিবসে ।। বিবেকানন্দ নস্কর কবিতা ।। না...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রবন্ধ ।। বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার

নীরবতার মহাকাব্যকার:  বেলা তার ও চলচ্চিত্রের দর্শন উৎপল সরকার বিশ শতকের শেষ ভাগ ও একবিংশ শতকের শুরুর দিকের বিশ্ব চলচ্চিত্রের মানচিত্রে এমন কিছু নির্মাতার নাম উজ্জ্বল হয়ে আছে, যাঁরা মূলধারার বিনোদনমুখী সিনেমার বিপরীতে দাঁড়িয়ে সময়, নীরবতা ও অস্তিত্বের গভীর প্রশ্নকে চলচ্চিত্রের ভাষায় রূপ দিতে চেয়েছেন। হাঙ্গেরীয় চলচ্চিত্রকার বেলা তার ছিলেন সেই বিরল শিল্পীদের একজন, যাঁর সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা কেবল গল্পগ্রহণ দর্শননার আস্বাদন নয়—বরং ধৈর্য, মনোসংযোগ ও আত্মঅনুসন্ধানের এক দীর্ঘ যাত্রা।এই সেদিন ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি বুদাপেস্টে তাঁর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব চলচ্চিত্র হারাল ধীরগতির চলচ্চিত্র ধারার এক অগ্রপথিককে। ১৯৫৫ সালের ২১ জুলাই হাঙ্গেরির পেচ শহরে জন্ম নেওয়া বেলা তার কৈশোর থেকেই সমাজ ও মানুষের প্রতি গভীর আগ্রহ অনুভব করেছিলেন। তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ তাঁকে বাস্তবতার খুব কাছ থেকে জীবন দেখার সুযোগ দেয়। সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীকালে তাঁর চলচ্চিত্রে রূপ নেয় নিরাবরণ, নিষ্ঠুর অথচ মানবিক এক ভাষায়। তিনি ছিলেন কেবল একজন পরিচালক নন—একজন চিন্তাবিদ, যিনি ক্যামেরাকে ব্যবহার করেছেন দর্শনের অনুসন্ধানী ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো