পাঁকে ফোঁটা পদ্ম
তসলিমা লস্কর
ঈপ্সিতা তখন চার বছর , তার বাবা অনেক আগে মারা গিয়েছে । ফুটপাত তাদের আস্তানা । রাস্তায় হেঁটে যাওয়া যাত্রীদের দান আর পাড়ায় পাড়ায় সাপ খেলা দেখিয়ে পেট চলে তাদের । ঈপ্সিতার মা লীনা । অভাব অনটনে মা-মেয়ের দেহে রুক্ষ মলীনতার ছাপ পড়লেও তারা আর পাঁচটা মেয়ের থেকে অনেক সুন্দরী ।
সেদিন ভোর থেকে লীনাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না । অনেক খোঁজা খুঁজির করে দুদিন পর শোনা গেল , তাকে কারা যেন ধর্ষণ করে মেরে ফেলেছে । পাশের ফুটপাত বাসিরা ঈপ্সিতাকে সান্তনা দিয়ে কিছুদিন নিজেদের কাছে রাখে ।
দিন পারহয় ধীরে ধীরে 'মা' হারার যন্ত্রণা কিছুটা ম্লান হয় । সময় চলে সময়ের গতিতে , যার পেটের দায়ে সেই ব্যস্ত । কে কার দায়িত্ব বেশি দিন কাঁধে রাখে । ঈপ্সিতা হাত পাতে রাস্তার যাত্রীদের কাছে , যে যা দেয় তাতে তার পেট চলে । পার হয় আরো ছ' বছর ।
একদিন যাত্রা পথে ভুবেনেশ্বর নামে এক ভদ্রলোকের কাছে ঈপ্সিতা হাত পাতে । বলে – "কিছু দেনা বাবু , পেটে খাব ।"
ভুবন চামড়ার ব্যাগ থেকে একটা বিস্কুটের প্যাকেট বের করে হাতে দিয়ে বলে – "তোর নাম কি , থাকিস কোথায় ?"
ঈপ্সিতা – "আমি ঈপ্সিতা , এই ফুটপাতেই থাকি , আমার বাবা-মা দুজনে মারা গেছে ।"
ভুবন – "ও বেচারা …তোর তো তাহলে কেউ নেই ! তুই আমাদের বাড়িতে থাকবি ? শুধু দুটো করে থালা মেজে দিবি । খাবি-দাবি আর আমার মেয়ের মতো থাকবি ।"
ঈপ্সিতা রাজি হয় । স্নান করিয়ে নতুন জামা পরিয়ে ঈপ্সিতাকে বাড়িতে তোলে ভুবন ।
ভুবনের স্ত্রী লীলা , সন্তান সম্ভবা , সে এখন বাপের বাড়ি । অন্তত তিন মাস না হলে বাড়িতে ফিরবে না । বাড়িতে এখন ভুবন আর ঈপ্সিতা । এখন ঈপ্সিতার বয়স তের ছুঁই ছুঁই । ভুবন অফিসে গেলে ঈপ্সিতা মাঝে মাঝে বাজারে যায় । সেখানে ঝন্টু নামের একজন ছেলের সাথে তার ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে ।
ঈপ্সিতা যেমন সুন্দরী , তেমন ছিপছিপে একহারা চেহারা । ঈষৎ কোঁকড়ানো বাদামি চুল , ধনুকের মতো বাঁকানো কুচকুচে কালো ভ্রু যুগল । দেখলে চোখ ফেরানো যায় না । ভুবন ঈপ্সিতাকে আদর করে ডাকে ঐশী বলে । একদিন রাতে ভুবনের যৌনস্পৃহা জেগে ওঠে । ভুবন ঈপ্সিতাকে অন্যদিনের মতো আদর করে ডাক দেন – "ও ঐশী একটু এ ঘরে এসো । তার মনে নেই কোন সংশয় নির্দ্বিধায় চলে আসে ভুবনের ঘরে । সে ভাবে – "না জানি কি কাজ বলবে । ঈপ্সিতা সামনে আসতেই হিংস্র বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে ভুবন । জোরকরে নগ্ন ইপ্সিতার দেহটা খুবলে খুবলে অজ্ঞান করে দেয় । জ্ঞান ফিরতে সে ছটফট করতে থাকে ।
যার ক্ষমতা আর টাকার জোর আছে তার কাছে এসব অপরাধ চেপে দেওয়া মামুলি ব্যাপার । এক ধরনের টাকা দিয়ে ডাক্তার কিনে এনে বাড়িতে লুকিয়ে চিকিৎসা করান ঈপ্সিতাকে । এক সময় ঈপ্সিতা সুস্থ হয় এবং বিষন্ন মনে কাঁদতে কাঁদতে সব কথা সে ঝন্টুকে জানায় ।
ঝন্টু বলে – "তুমি একটা পরিস্থিতির শিকার হয়েছো মাত্র । এসব শুনেছি বলে , তোমার প্রতি আমার ভালবাসা বিন্দুমাত্র কমেনি । ঐ নরক থেকে তুমি পালিয়ে এস আমার কাছে । আমি সব ভুলে তোমাকে নিয়ে সুখের ঘর বাঁধবো ।"
ঈপ্সিতা কাউকে কিছু না বলে একদিন ঝন্টুর সাথে পালিয়ে যায় । ঝন্টু বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে বারো লাখ টাকায় তাকে বিক্রি করে দেয় । এখন সে সোনাগাছির পতিতালয়ের যৌনকর্মী । পার হয়ে যায় আরো পাঁচ বছর ।
সুরেন ব্যাগের কাজ করে ওই সোনাগাছির কাছাকাছি । চলার পথে সুরেন দেখতেপায় একজন তরুণী ব্রিজের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে । কাছে যেতেই তরুণী জিজ্ঞেস করে – "কিরে যাবি নাকি ?
সুরেন – "রেট কত ?
ঈপ্সিতা – "তিনশ টাকা দিলে আনন্দে মন ভরিয়ে দেব । তুই বুঝি এ পাড়ায় প্রথম ?"
সুরেন – "হ্যাঁ
বলতে বলতে একটা রুমে ঢুকে পড়ে দু'জনা । মৃদু আলোয় অনাবৃত শরীরটা এলিয়ে দিয়ে বলে – "বেশি সময় দেবনা আরো কাস্টমার আছে ।"
সুরেন – "তোর যদি আমি বিয়ে করি ।"
ঈপ্সিতা — "ওসব ফালতু কথা রাখ , কথা দিয়ে কথা রাখে কজন , ও সব পুরুষদের আমি চিনি ! নে নে কাজ সার আর বিদেয় হঃ ।"
দু'জনের মধুর মিলনে সম্পর্ক গড়ে যায় । প্রতিরাতে সুরেন আসে ঈপ্সিতার কাছে । বিয়ে না হলেও স্ত্রীর মর্যাদা পায় সে ।
একদিন ঈপ্সিতা লুকিয়ে সুরেনের সাথে পালিয়ে যায় সোনাগাছি থেকে । সবুজ দিঘির পল্লীপাড়ায় একটা ছোট্ট কুটির ভাড়া নিয়ে তারা বসবাস করতে শুরু করে ।
আজ ঈপ্সিতার বড় মায়ের কথা মনে পড়ে , তার যদি মা বেঁচে থাকতো হয়তো তাকে এই রাস্তায় আসতে হতো না । সেই জঘন্য দিন , ভুবন বাবুর ব্যবহার , ঝন্টুর ছলনা তাকে এই রাস্তায় নিয়ে আসে । কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে সেই পাঁকে জন্ম হয় নতুন পদ্মের , এটাই বিধির বিধান । ঈপ্সিতার কোল আলো করে আসে মেয়ে পর্ণালী । পর্ণকুঠির আলোয় ভরে ওঠে ।
এই সবুজ দিঘির পল্লী পাড়ার সমস্ত বৌরা তাদের স্বামীর সহমতে দেহ ব্যবসার সাথে যুক্ত । ওটাই তাদের একমাত্র ভাত ভিত্তি । সুরেন ব্যাগের কাজ করে আর ইপ্সিতা তার ইচ্ছা খুশি দেহ ব্যবসাও করে । দুজনে মিলে বেশ ভালো টাকা করি রোজগার করে ঘরবাড়ি বানিয়েছে ।
সামনে পতিতা পল্লীর ইস্কুল , ঐ স্কুলে ওই পল্লীর ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে । ঐ স্কুলে সাধারণ পরিবারের ছেলেমেয়েরাও আছে , তবে সংখ্যায় অতি কম ।
এখন পর্ণালী চার বছর , ঈপ্সিতা মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করে দেয় । ভাবনা ছিল , "তার মেয়ের স্থান তার মতো পতিতা পল্লীতে হবে না । পর্ণালী পড়াশোনা শিখে অনেক বড় হবে , চাকরি করবে , সভ্য সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচবে ।"
পর্ণালী যখন ক্লাস টু তে তখন পাশের পাড়ার ব্রাহ্মণ পুত্র অর্ণব ওই স্কুলের ক্লাস থ্রি তে । বর্ষাকাল প্রায় শেষাগত । আর বৃষ্টির দেখা তেমন নেই । ছাত্র ছাত্রীরা তেমন কেউ ছাতা নিয়ে আসেনি । স্কুল ছুটি অকস্মাৎ মুষলধারে বৃষ্টি নামে । কে কার ছাতায় যাবে এই নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয় । অর্ণব পর্ণালীর ছাতার মধ্যে ঢোকে , শিশু মনের নেই কোন সংশয় । দুজনের এক হাত পরস্পরের কাঁধে এবং এক হাতে বইয়ের ব্যাগ জড়িয়ে ধরে বাড়িতে পৌঁছায় তারা । সেই থেকে শিশুসুলভ মনে পরস্পরে মধ্যে একটা টান অনুভূত হয় । ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে একটা বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে । টিফিনে বাড়িতে দেওয়া খাবার তারা পরস্পর ভাগাভাগি করে খায় । এখন তারা ক্লাস ফাইভ ও সিক্সে পড়ে । তাদের সখ্যতা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে । এক সময় বিষয়টা অর্ণবের মা প্রতিমার কানে পৌঁছয় ।
প্রতিমা দেবী ছেলেকে একান্তে ডেকে বুঝিয়ে বলে – "ওরা নোংরা পাড়ার মেয়ে ওদের সাথে বেশি মিশিস না । ওরা খারাপ মেয়ে তোকে খারাপ পথে নিয়ে যাবে ।
অর্ণব মাথা নেড়ে মায়ের কথায় সম্মতি জানায় বটে , কিন্তু পুনরায় একইভাবে পর্ণালীর সাথে মিশতে থাকে । যদিও তারা ভালবাসা কি এসব কিছু বোঝে না । কেবল শিশুসুলভ মনের একটা আন্তরিক টানে এসব আচরণ করে । প্রতিমা দেবী বুঝিয়ে ফল হচ্ছে না দেখে ছেলেকে পরের বছর থেকে আলাদা স্কুলে ভর্তি করে । তবুও এইসময় কিশোর মনে ভালো লাগার আর অন্তরের টান ভালোবাসার স্রোত হয়ে বয়ে যায় । কিন্তু অর্ণব ব্রাহ্মন পুত্র , পর্ণালী পতিতা পল্লীর সাধারণ হিন্দু ঘরের পতিতার কন্যা । এ সম্পর্ক মেনে নেওয়া অসম্ভব ব্যাপার ।
অর্নবের বাড়িতে দর্জির কারখানা । অর্ণব পড়াশোনার পাশাপাশি অনেক ছোট থেকে ওদের দর্জির কাজে সাহায্য করতে করতে নিজেও কাজ শিখে ফেলেছে ।
অর্ণবের বাবা অরবিন্দুর বন্ধু আব্দুল্লাহ । তার ছেলে ইকবাল কাজ করে , ঐ কারখানায় । একসময় ইকবালের বাবা-মা দুজনেই মারা যায় । সেই থেকে সে অর্ণব দের বাড়িতেই থাকে । অর্ণবের বাবা মা কেও বাবা মা বলে ডাকে । সে স্কুলে ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পড়েছে । তার পড়াশোনা করার খুব ইচ্ছা । সে কাজের ফাঁকে ফাঁকে অর্ণবের ইস্কুলের বই গুলো , সেও পড়ে ফেলে । অর্ণবের পরীক্ষা হলে ওই কোশ্চেন নিয়ে সে বাড়িতে অর্ণবের কাছে পরীক্ষা দেয় । অর্ণবের সবচেয়ে কাছের বন্ধু সে ।
পরিস্থিতি বিরূপ দেখে অর্ণব পর্নালী পালিয়ে বিয়ে করে , এবং মিনহাজ নামের একজন শিক্ষকের বাড়িতে ঘর ভাড়ার জন্য যায় । ঐ শিক্ষকের কাছে সব ঘটনা খুলে বলে । মাস্টারমশাই যতসামান্য বাড়ি ভাড়া নিয়ে দুজনকে আশ্রয় দেয় । এক সময় অর্নব গোপনে যোগাযোগ করে ইকবালকেও নিজের কাছে ডেকে নেয় ।
অর্ণব সৎ , দয়ালু উদার মনের । তার মনে একটা তীব্র বাসনা , তার হোক আর না হোক পর্ণালীর লেখাপড়া শিখিয়ে অনেক বড় করবে । যারা বলে তুই বেশ্যার মেয়ে , তুই পতিতা পাড়ার , তাদের মুখ বন্ধ করবে যেদিন , সেদিন সে শান্ত হবে । অর্ণব , ইকবাল মন দিয়ে দর্জির কাজ করতে শুরু করে । এক সময় অর্ণব ওই মিনহাজ মাস্টারমশাইয়ের সহযোগিতায় পর্ণালী ও ইকবালকে আবার স্কুলে ভর্তি করে দেয় । ইকবাল স্কুলের ফাঁকে অর্নবের সাথে দর্জির কাজ করে । পর্ণালী ও হাতে যোগাড় দেয় । তাদের স্বপ্ন পূরণে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ । কাজের ফাঁকে ফাঁকে পুরোদমে চালিয়ে যায় পড়াশোনা । ভালোবাসা আর খুনসুরিতে ভরে থাকে তাদের ছোট্ট কুটির ।
একদিন এই দারিদ্রতা , তাদের অদম্য জেদ , আর ভালোবাসার কাছে হারমানে । মাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট বার হয় । পশ্চিমবঙ্গ বোর্ডের দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে পণালী । বাড়িতে প্রধান ,এম.এল.এ , এম.পি. রা আসেন , তাকে সম্মাননা দেন । এখন থেকে তার পড়াশোনার যাবতীয় খরচা তারা বহন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন ।
সাংবাদিকরা আসেন ," তার পড়াশোনার অগ্রগতির কারণ এবং নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করতে বলেন ।"
পর্ণালী বলে – "আমার এই অগ্রগতির পিছনে স্কুলের শিক্ষকরা তো আছেনই । সেই সাথে সবার প্রথমে বলবো আমার স্বামী আর আমাদের দুজনের বন্ধু , ইকবালের কথা । আনন্দ কি বিষাদে দারিদ্রতার মধ্যে থেকেও তারাই আমার অনুপ্রেরণা দিয়েছে । আর নিয়মিত সঠিক নিয়মে পঠন-পাঠন আমাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে । আমার স্বপ্ন আই .পি.এস ..অফিসার হয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়াবো । আর সম্মানিত গুণীজনদের কাছে আমার একটাই চাওয়া । এই গ্ৰামের যারা আমাদের মত দুস্থ পরিবারের , যারা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত তাদেরকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে । তাহলে আমি আপনাদের দান গ্রহণ করবো ।"
অর্ণব আর ইকবালের বুকটা গর্বে ভরে ওঠে । ইকবাল ও এ বছর মাধ্যমিক দিয়েছে সে ওই স্কুলে মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ।
এখন পর্ণালী ইউ.পি.এস.সি .এর কোচিং করছে । দিন রাত এক করে পড়ায় ব্যস্ত । ইকবাল 'জয়েন্ট ইন্ট্রান্স' দিয়ে আইটিআই কলেজে । সবকিছুর খরচা চালিয়ে অল্প জায়গা কিনে একটা মাথা গোঁজার ঠাঁইও করে নেয় তারা । ইকবাল ইসলাম ধর্মালম্বী হলেও তাদের মনে নেই কোন জড়তা । যেন তিনজন তিনজনার এক প্রাণ এক আত্মা । দেখতে দেখতে চলে আসে পর্ণালীর ইউ.পি.এস.সি ..এর প্রিলিমিনারী পরীক্ষা । তারপর মেইন্স , ইন্টারভিউ , দৈহিক মাপজোক পরপর সব হয়ে যায় । এখন বর্ণালী ডি.এস.পি . অফিসার হবে ।
অর্ণবের কদিন ধরে জ্বর হচ্ছে । কাল ইকবাল অর্ণবকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিল । এখন সে সুস্থ শুধু শরীরটা একটু দুর্বল । আজ জয়েনিং লেটার হাতে পেয়েছে পর্ণালী । অর্ণবের বহু বছরের স্বপ্ন সার্থক হয়েছে । তার সব পরিশ্রমের ফল সুদে-আসলে পেয়েছে আজ । এখন তার মনে আর কোন দুঃখ নেই শুধু আনন্দ আর আনন্দ । ইকবাল খুশিতে দু'রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে । দুই ভাই নিজের হাতে কিছু গরিব মিসকিনদের ভোজনের ব্যবস্থা করে । পরদিন অর্নবের আবার জ্বর আসে । ইকবাল তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় । ডাক্তারবাবু কিছু রক্ত টেস্ট করান , লিভার সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে তার । অর্নবকে হসপিটালে ভর্তি করায় । ডাক্তারবাবু জানান – " আর বাঁচার আশা নেই । অর্ণবের অবস্থা ভালো নয় , এই দুই তিন দিন কাছে আছে অর্ণবের মা । তার বাবাও কাল এসে দেখে গেছে । আজ সকালে অর্ণবের মা বাড়িতে গিয়েছে , সন্ধ্যায় আবার আসবে । শিয়রে বসে আছে বর্ণালী আর ইকবাল , অর্নব বলে – " ইকবাল ভাই আমার আমি আর ফিরবো না । আমার মনের সকল ইচ্ছা পূর্ণ হয়েছে । পর্ণালী চাকরি পাবে ওর সকল কলঙ্ক ঘুচবে এই খুশির দিনটার জন্য আমি অপেক্ষায় ছিলাম । এখন আমি অনেক সুখি ,আমি সারা জীবন তোদের দুজনের মধ্যেই বেঁচে থাকব । তোরা রাস্তায় পড়ে থাকা পাগল , অনাথদের জন্য একটা আশ্রম তৈরি করবি । যারা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত তাদের শিক্ষার আলো দেখানোর দায়িত্ব কাঁধে নিবি । আমার কথা দে তোরা , তাদের সেবায় তোদের রোজগারের অর্ধেক টাকা ব্যয় করবি ? "কান্না বিজড়িত চোখে অর্নবের হাতে দুজন দুটো হাত রাখে । একটু থেমে বলে – "না তোমাকে মরতে দেব না । অর্ণব দুজনের হাত এক করে দিয়ে অস্ফুটো গলায় বলে – "আমার পর্ণালীর সমস্ত দায়ভার তোকে দিয়ে গেলাম ।"
আমি কত যে তোমায় ভালো বেসেছি,
সে কথা তুমি যদি জানতে
যাবার কালে প্ৰিয় পারতে কি এই বুকে
বিষ মাখা তিরখানি হানতে ।
সে কথা তুমি যদি জানতে ।
অর্ণবের দেহ শববাহী গাড়িতে করে শবযাত্রীরা নিয়ে চলে শ্মশানের দিকে । পর্ণালীর দু'চোখ দিয়ে ঝর ঝর করে অশ্রুধারা গড়িয়ে পড়ে ।
—----------------------
Taslima Laskar
vill-6 no. Modhusudenpur
p.s- Kultali
Dist-south 24 parganas . W.B.India

Comments
Post a Comment