মেঘের সাথে খেলা মাসুদ রানা বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। প্রতিটি ঋতুরই রয়েছে নিজস্ব রূপ, সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য। তবে আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসের বর্ষাকাল যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব উৎসব। চারদিকে সবুজে মোড়ানো মাঠ, নদী-নালা, খাল-বিল, গাছপালা আর কালো-সাদা মেঘের আনাগোনায় প্রকৃতি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত। কখনো কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায়, আবার কখনো সাদা তুলোর মতো মেঘ নীল আকাশে ভেসে বেড়ায়। সেই দৃশ্য দেখলেই আজও আমার শৈশবের দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে মেঘের সঙ্গে খেলার সেই আনন্দময় সময়, যা আজও হৃদয়ের গভীরে অমলিন হয়ে আছে। আমাদের ছোট্ট গ্রামটি ছিল সবুজে ঘেরা। চারদিকে ধানের ক্ষেত, পাটের জমি, বাঁশঝাড়, কাঁঠাল গাছ, আমগাছ, জামগাছ, শিশুগাছ আর নারকেল গাছের সারি। বর্ষাকাল এলেই গ্রামের রূপ যেন একেবারে বদলে যেত। মাঠঘাট পানিতে ভরে যেত, খাল-বিলে টইটম্বুর পানি, নদীতে স্রোতের শব্দ, আর আকাশজুড়ে মেঘের বিশাল রাজত্ব। সকালবেলা সূর্যের আলো ফুটলেও হঠাৎ করেই কালো মেঘ এসে আকাশ ঢেকে ফেলত। তারপর শুরু হতো ঝুম বৃষ্টি। সেই বৃষ্টির...
দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...