তিনটি কবিতা ।। উৎপল হালদার
রাই
মোহন বাঁশীর সুরে
সতত ডাকিছে মোরে ---
সুখ-চঞ্চল পুলক
রচি স্বপনের ঘোরে।
আঁখিতে জাগিয়ে তৃষ্ণা
ছলনার ছল করে ----
চঞ্চল হৃদয় নিয়ে
খেলিছ খেলার ঘরে।
তরুণ মূরতি হায়
গোপন হৃদয়পুরে---
পান করি মধুলিকা
মোহন মুরলী সুরে।
কারা যেন গান গায়
বিচলিত প্রণ- মন----
নন্দিত নূতন সুরে
প্রেম মুখর স্পন্দন।
মরম বীণার তারে
তুলিছ নীরব তান--
চিত্ত-চকোর যে মত্ত
তুমি তারে দাও প্রাণ।
গগন তারার মতো
দাও তুমি অমরতা---
মুগ্ধ এই প্রাণ দিয়ে
রচি স্বপনে বিহ্বলতা।
এল উতল হাওয়া
যুঁথির আতর মেখে--
লাজুক হল বকুল
শ্যামল মূরতি দেখে।
ফাগুন দিনে ব্যাকুল
স্বপ্ননের সরণিতে ---
এস নব অনুরাগে
আনন্দের ধরণীতে।
আঁখি জল নিরমল
অন্তরে নবীন হাসি --
আজ মিলনের সুরে
বাজাও মোহন বাঁশী।
নিলয়ে
প্রভাতের রৌদ্রের মতো আশা
অনন্ত যাত্রার গোলকধাঁধায় বিমূর্ত ,
নিলয়ে তার অস্পষ্ট বিপ্লব
নির্মম আবেগের জ্ঞানচক্ষু মেলে
দেখে শুধু সঞ্চারিত অন্ধকার -----
তার সতন্ত্র সত্তা আশ্চর্য চুপ
নীরব দৃষ্টি ধূসর পাতায় ,
নিলয়ের নীলিমা নক্ষত্র হীন
অতীত , মহীয়সী অতীত টানে
সংকলিত অতিক্রান্ত জীবন প্রান্তে ----
অসাধারণ অনিমেষ পথ
কল্লোলিত রক্তের হিল্লোলে,
নিলয়ে অলিন্দে উষ্ণ পরিব্যাপ্তি
ছিল রোমাঞ্চিত উৎসবের,
ছিল রোমাঞ্চিত পরাগের মতো ---
সে ছায়াপথ লীন নির্জনের
অস্বচ্ছ ঝর্ণার অন্ধ অন্তরালে,
নিলয়ের গভীর শীতলতায়
উদ্ভাসিত আর্তনাদের তরঙ্গ
পিচ্ছিল নিহত হৃদয়ের রক্তে----
বহ্নি
এবার পৃথিবীর পরে জ্বালিব বহ্নি
পূর্বাশার ঝঙ্কার জগৎ মর্ম মাঝে
অজ্ঞান বিশ্বজনের নিষ্করুণতায়
কলহ কলুষ অন্ধ ঘৃণার সমাজে
আমরা জ্বালিব চেতনার বহ্নি -----
মর্তমানসের নিবিড়তর নিগড়ে
জ্ঞান আর অজ্ঞানের ঘন আলিঙ্গনে
সত্য-মিথ্যায় পাপপুণ্য আমরা গড়ি
কালের প্রবাহে মূর্ত সত্য , শুভক্ষণে
আমরা জ্বালাব বহ্নি পৃথিবীর পরে ---
আর্ত পৃথিবীর হোক আজ রূপান্তর
স্বার্থের মুখোশ পরা আসুরী পীড়কে
সনাতনী শক্তির তুরীয় চেতনায়
ভাঙাবো তন্দ্রাঘোর অজ্ঞান মর্তলোকে
এবার জ্বালিব বহ্নি পৃথিবীর পরে ----
Comments
Post a Comment