গুচ্ছকবিতা ।। সুশান্ত সেন
শুনলাম
শুনলাম তুমি কোনো দিন
কলেজ স্ট্রিট এর কফি হাউসে বসে
কফি খেলে না,
তাহলে কি করে
পারিষদ মাঝে এসে বসবে গো তুমি ?
উত্তাল সত্তর ভাঙা প্রেসিডেন্সির আলো
হিন্দু স্কুল এর কাছে বসে পড়ে
যৌবন বিকায়
দেখো নি ত তুমি।
তাহলে কি করে
পারিষদ মাঝে এসে বসবে গো তুমি ?
হেদুয়ার মোড় থেকে সাপ নদী একে বেকে এসে
গর্জন তুলেছে,
তবু ত বিক্রেতা দোকানের দরজা
খোলাই রেখেছে , শঙ্কায় শঙ্কায়
বন্ধ করেনি তো হৃদয়ের দ্বার।
দেখেছ কি তুমি ?
তাহলে কি করে
পারিষদ মাঝে এসে বসবে গো তুমি ?
কলেজ স্ট্রিটের গন্ধ
যদি তুমি গায়ে'ই মাখনি
তাহলে কি করে
পারিষদ মাঝে এসে বসবে গো তুমি
স্বগতোক্তি
বারো ঘর একটা উঠান একটা মাত্র মাঝি
নৌকা চালায় সাতটা দাড়ি
সারাদিনের বকম বকম
উঠান পুকুর চলতে থাকে অনেক দিন
অনেক দিন।
এমন সময় সমুদ্র স্রোত অনেক ঢেউ
অনেক ঢেউ কার্ডিফে
অনেক ঢেউ হাডসন বে
পৌঁছে গেল জাপান সাগর
অথবা কি তাসমান সী।
ঢেউ এ ভাসে প্রবল ইথার
বিশ্ব জোড়া পেতেছি ফাঁদ
মুঠোফোনে ল্যাপটপে
টুকুর টুকুর টুকুর টুকুর
বলছি কথা ওহ্যাটস অ্যাপে
বলছি কথা যখন তখন যখন তখন।
উঠান বাড়ি একা একা
দাড়িয়ে আছে দাড়িয়ে আছে।
বারো ঘর একটা উঠান
বেবাক খালি বেবাক খালি।
তখন
তখন যখন রবীন্দ্রনাথ নেই
বঙ্কিমচন্দ্র আসেননি
তখন যখন বাংলা ভাষা গুরু গম্ভীর
তখন মিল ও মাত্রা নিয়ে কবিতায়
গুঞ্জরিত ভাষা ও কাব্য সকল স্থির স্থির।
দোয়া মাগি দোয়া মাগি রে
কুসুম চয়ন করি রে।
হৃদয় কুহু কুহু রে !
শুন শুন মহাজন শুন দিয়া মন
অপূর্ব নদীর কথা করি রে বর্ণন।
হেনকালে লক্ষণ পশিলা সমরে
রাবণের চেলা গুলি হুড়োহুড়ি করে !
এইরূপে কাব্য গুলি
প্রাণ মন দেয় খুলি।
পড়িতে থাকি রে তাহা
হৃদয়ের দ্বার খুলি ।
গাজা
আর কিছু হারাবার নেই
ওরা বোমা মেরে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে
বাড়ি ঘর হাসপাতাল স্কুল যখন যা
হাতের কাছে পাচ্ছে ভেঙে দিলো গুড়িয়ে দিলো,
বলল এই জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।
ভাই বোন মাতা পিতা সন্তান স্ত্রী
এরা কি যে কোথায় ছিটকে গেল কেউ জানে না।
আর আশ্চর্যের কথা এত বড় বড় দেশের এত বড় বড় রাষ্ট্রনায়করা চুপ করে থাকলো,
কোন কোন দেশ আবার
ওদের সাহায্য করলো অস্ত্র দিয়ে,
আর
ত্রাণ পাঠানোর সামগ্রী যেন না আমাদের কাছে পৌঁছায়
তার জন্য কত না চেষ্টা।
এখন আমাদের আর কিছু হারাবার নেই
শ্বেতাঙ্গ পশ্চিমী সভ্যতা
আমাদের মানুষ মনে করে না
আমরা যে বেঁচে থাকি তা চায় না।
রাষ্ট্রসঙ্ঘ একটা শুয়ারের খোঁয়াড় হয়ে গেছে।
হিব্রু সভ্যতার জয় হোক !!!
আমার
আমার সূর্য্য কেড়ে নিল
সামনের বহুতল বাড়ি।
আমার খোলা মাঠটাকে কেড়ে নিলো
উন্নতি আর উন্নতি,
উঠে গেলো তার একপাশে
শপিং মল।
বাংলা ভাষা কেড়ে নিলো
টেলিভশন ও হিন্দি - ইংরেজি - ভাষা
প্রজন্ম এখন পড়তে যায়
ইংলিশ মিডিয়াম এ।
নদীর পাড় ভেঙে ভেঙে যায়
সমুদ্র গ্রাস করে সভ্যতা,
সুন্দরবনের শতাব্দী প্রাচীন বসতি
এখন কেড়ে নিয়েছে
সুন্দরী, গেওয়া,ঝামটি গরান আর কেওড়া।
কে কাকে কখন কেড়ে নেবে কব্জা করবে
তার প্রতিযোগিতা চলছে
অনন্তকাল।
ডাক্তারবাবু
ডাক্তার বাবু দৌড়ে দৌড়ে আসলেন
রক্তে মাখা বুকে স্টেথো বসালেন
নাড়ী দেখলেন চোখের নিচের পাতা টেনে কি যেন খোঁজার চেষ্টা করলেন
তারপর গম্ভীরে দরজার দিকে এগিয়ে।
গাড়ির চাকা দৌড়ে দৌড়ে
মাথা গুড়ো করে এগিয়ে গেল
দৌড়ে এলো রাস্তার লোক
নাক খুঁজে পেল না তাই
হতাশা নিয়ে গম্ভীর প্রস্থান।
পারলেই তুমি সূর্যমুখী
পারলেই তুমি দোকান বন্ধ
পারলেই তুমি নাম না জানা অতীত কাল।
কলকাতার রাস্তায়।
পাখি
পাখি এসে বসছে ডালে ডালে
পাতায় পাতায় জাগছে শিহরণ
বাসা বাধা হবে কি কোনদিনও
জানবে তারা অতিথি দেব ভব।
প্রাচীন সব ধ্যান ও ধারণা'রা
মূল্য নিয়ে দাড়ায় গৃহদ্বারে
সাড়া দেবে কি না দেবে
শূন্য হাড়ি অচল দ্রৌপদী।
দেশ নিয়ে চলছে বাড়াবাড়ি
এক লক্ষ মানুষ বাস্তুহারা
সৈন্য তোমার আমার হাতে বন্দী
বাড়ছে মানুষ নাচছে বিবেক ছাড়া।
===============
সুশান্ত সেন
৩২বি, শরৎ বোস রোড কলিকাতা ৭০০০২০

Comments
Post a Comment