কবিতাগুচ্ছ ।। সাধন রায় (জামশেদপুর )
নগ্ন উষ্ণতা
কুয়াশার ভোরে
তোমার হাত আমার হাতে—
স্পর্শ নয়, এক নীরব পরিচয়।
শিশিরভেজা বাতাসে
তোমার গন্ধ ভাসে,
যা শরীর পেরিয়ে স্মৃতিতে স্থির হয়।
রোদ্দুর ত্বকে নামে,
যেন অদৃশ্য আঙুল
আমার সীমানা নির্ধারণ করে।
প্রেম যখন গভীর হয়,
শব্দ তখন অপ্রয়োজনীয়—
দুই সত্তার মাঝের ক্ষুদ্র ফাঁকেই
জ্বলে ওঠে অদেখা আগুন।
তুমি না থাকলেও,
তোমার অনুপস্থিতি নয়—
আমার অস্তিত্বই
তোমার উষ্ণতার অন্য রূপ।
শূন্যতার দহন
মুঠো ভরা শূন্যতা
নিঃশব্দ দুঃখে আমাকে পিষে ধরে—
শ্বাস নেবারও যেন আর অনুমতি নেই।
বুকের ভেতর ফাটলগুলো
ভাঙা স্মৃতির হাড়ে হাড়ে
রক্তমাখা দিন গুনছে কাঁদতে কাঁদতে।
রাতগুলো জ্বলন্ত কয়লার স্তুপ,
ভস্মের তলায় চাপা পড়ে আছে
মরে যাওয়া স্বপ্নের শেষ আর্তনাদ।
স্বপ্নগুলোও আজ মৃতপ্রায়,
অন্ধ কূপের জলে আলো খুঁজে পায় না—
আর ব্যথা, এক নুড়িপাথরের মতো,
হৃদয়ের তলায় ডুবে থেকেও
নড়ে না, সরে না, থামে না কখনও।
জননী
না নাম, না রূপ—
তবু সমস্ত সত্তার উৎস তুমি।
শূন্যের ভেতর যে স্পন্দন,
তার প্রথম কারণ—
তোমার নীরব উপস্থিতি।
আমি যে “আমি” বলি—
সে উচ্চারণও ধার করা,
তোমারই অনন্ত সত্তা থেকে।
জন্ম ও বিলয়ের মাঝখানে
যে ক্ষণস্থায়ী পরিচয়—
তার আড়ালে তুমি চিরন্তন।
শেষে কিছুই থাকে না—
তবু থাকে—
তুমি।
Comments
Post a Comment