অচেনা তবু আমরা দেবযানী পাল গোধূলি- চলো না একটু নদীর পাড়ে গিয়ে বসি। তামস - চলো, তবে দেখেছ, জলটাও কেমন যেন ধূসর বর্ণ ধারণ করেছে। গোধূলি - আসলে সময়ের ধূসরতা জলেতেও প্রতিফলিত, আমরাও তো ধূসর গোধূলির আমন্ত্রণে আজ। তামস - তুমি নিজেকে ধূসর বলছো! গোলাপের বিবর্ণতার মাঝেও সে তার রঙে গন্ধে সমুজ্জ্বল, যেমন তুমি। গোধূলি - তুমিও তো পশ্চিমাকাশের সূর্যের মত দীপ্তি ছড়াচ্ছ। তামস - আসলে আমরা হলাম জীবনের আজ্ঞাবহ প্রতিনিধি, তার মাঝেই নিজেদের পরিচয় রেখে যাই আপন গুণের মহিমায় তা ভালো বা খারাপ যাই হোক। এবার দুজনে একসাথে গেয়ে ওঠে -- মনটা আমার সঙ্গী করে বেদুইনের মন্ত্র পড়ে চলনা কোথাও যাই হারিয়ে, তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে, দূরের ওই বহ্নিশিখা পারবে না আর ফেলতে ছুঁয়ে, ঝাঁপ দেবো সেই অসীমকাশে, কক্ষনো না মরণ কুঁয়ে। পৃথিবীর সকল কণায় জীবন আমি বহুরূপী সাধ্য সাধে সাজাই আকর থাকে না কোন কারচুপি, নিয়তির খেলায় দান দেয় অজানা কেউ, আমি নিমিত্ত, সব সাজানো, ওই যা আসছে সেই ঢেউ।
জাতিস্মর আশীষ কুমার বিশ্বাস গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু । তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম । কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি ! এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন । সে বাড়িতে কিছু ...