Skip to main content

নাটিকা ।। উদিপুরের ছোটোরানী ।। নৃপেন্দ্রনাথ মহন্ত

 

 
 
।।নাটিকা।।

        উদিপুরের ছোটোরানী

        নৃপেন্দ্রনাথ মহন্ত

        *****************
।।প্রথম দৃশ্য।।
উদিপুর রাজ্যের রাজা উদিতনারায়ণ রাতে ছদ্মবেশে নগরভ্রমণে বেরিয়ে একসময়ে পথশ্রমে ক্লান্ত হয়ে  একটা ভাঙা মন্দিরের  চাতালে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।সঙ্গে শুধু তাঁর দেহরক্ষী।সেও ছদ্মবেশে। পূর্ণিমারাত। সহসা রাজার কানে এল সুমধুর নৃত্যগীতের দূরায়ত ধ্বনি।
রাজাঃ রক্ষী, নাচগানের শব্দ  মনে হচ্ছে। দেখো তো কোথায়?
রক্ষীঃ আজ্ঞে মহারাজ,দেখছি।(রক্ষী বেরিয়ে গিয়ে একটু পরেই ফিরে এসে) আজ্ঞে মহারাজ, কুলিক নদীর ধারে ওই বটগাছটার নীচে কয়েকটি মেয়ে......
রাজাঃ চলো তো দেখি।কিন্তু খুব সাবধান।পা টিপে টিপে যেতে হবে যেন কোনো শব্দ না হয়।চুপিচুপি গাছটার আড়ালে গিয়ে দাঁড়াতে হবে।কাছথেকে ওদের নাচ দেখবো,গান শুনবো।
রক্ষীঃ বুঝেছি মহারাজ,চলুন(উভয়ের প্রস্থান)
 
।।দ্বিতীয় দৃশ্য।।
 
[পূর্ণিমারাতে জ্যোৎস্নালোকে একদল তরুণী হাতধরাধরি করে নাচগান করছে]
গানঃ আয় তবে সহচরী /হাতে হাত ধরিধরি...(রবীন্দ্রসংগীত)
নাচ গানের শেষে  তরুণীরা ইতস্ততভাবে বসে পড়ল।একএকজন একএক কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।যেমন আঁচল দিয়ে কপালের ঘাম মোছা,চুল,বেশবাস ঠিক করা ইত্যাদি। সহসা পূর্ণিমা  উঠে দাঁড়ালো।
পূর্ণিমা ঃঅ্যাই,আচার খাবি?
কঙ্কনাঃ  আচার! এই রাতের বেলা এই বিজন ঘাটে আচার কোথায় পাবি?
সুরুচিঃ  আছাড় খাওয়ার কথা বলছিস না তো!
ঈশানী ঃ তাই হবে মনে হয়। (পূর্ণিমা ছাড়া সকলের খিলখিল হাসি)
পূর্ণিমা ঃনা রে,সত্যি বলছি।আমি লুকিয়ে এনেছি পদ্মপাতায়।খাবি তো বল্।
সুরুচিঃ  তাহলে বের কর হতভাগী।জিভে যে জল
 এসে গেলো।
[পূর্ণিমা পদ্মপাতায় মোড়া আচার বের করে সবাইকে বিলোতে থাকে।]
পূর্ণিমা ঃনে,ধর্।হাত পাত সবাই।ও বাবা,তুই যে আগে থেকেই হাত পেতে বসে আছিস রে কঙ্কনা!(সকলের হাসি)ও কী রে ঈশানী, তোর যে হেলদোল নেই।খাবিনে আচার?
ঈশানী ঃ খাবো না আবার!নিশ্চয়ই খাবো।কিন্তু আচারের নাম শুনলেই সুরুচির মতো আমার জিভ দিয়ে টসটস করে জল গড়ায় না।[আবার সকলের একপ্রস্থ হাসি।ঈশানী হাত পেতে বলে,ঃদে।(আচার নেয়)]
সুরুচি ঃ সত্যি রে,আচার খেতে আমার খু-উ-ব ভালো লাগে। 
পূর্ণিমা ঃ আচ্ছা,তোরা কেউ বলতে পারবি সারা পৃথিবীতে মানুষের কাছে সবচেয়ে মুখরোচক কী?
সুরুচিঃ ঠিক জানি না।তবে ইলা শীলারা বলে মাংসের স্বাদের নাকি তুলনা নেই।
কঙ্কনাঃআমি তো শুনেছি সুরার স্বাদ নাকি অপূর্ব।
পূর্ণিমা ঃভুল, সবই ভুল।এসব তো কেবল জিভের স্বাদ। জীবনের নয়।প্রেমের স্বাদ ধরায় অতুল।
সুরুচিঃ তুই আবার কবি হলি কবে রে?
পূর্ণিমা ঃ কেন?কবিত্বের কী দেখলি?
সুরুচিঃ ওই যে বললি,(সুর করে)ভুল...সবই ভুল/প্রেমের স্বাদ ধরায় অতুল।
(সকলের হাসি)
কঙ্কণাঃ কী রে,ঈশানী। তোর কি স্বাদবোধ নেই? তুই যে কিছুই বলছিস না?
ঈশানী ঃ বলবো?
সবাই( সমস্বরে)ঃহ্যাঁ,বল্।
ঈশানীঃ  সবচেয়ে সুস্বাদু, সব চেয়ে মুখরোচক হল মিথ্যা কথা।মিথ্যার মতো মুখরোচক কিছু হয় না।
 
[আড়ালে থাকা রাজা ও তার দেহরক্ষী  হো-হো করে হেসে উঠলেন।সেই হাসির শব্দে ত্রস্তা হরিণীর মতো মেয়েরা যে যেদিকে পারে ছুটে পালালো।তাদের পায়ের নূপুরধ্বনি মিলিয়ে যেতে না যেতেই রাজা ও দেহরক্ষী হাসতে হাসতে মঞ্চে প্রবেশ করবেন]
 
দেহরক্ষী ঃ প্রভু,ওরা যে সব পালিয়ে গেলো!
রাজাঃ  চলো,আমরাও পালাই। না,না।তুমি এক কাজ করো।তুমি ছুটে গিয়ে ওদের পিছু নাও।দেখে এসো ওরা কোথায় থাকে।যাও।
রক্ষীঃ  আর আপনি, প্রভু?
রাজাঃ   আমি রাজপ্রাসাদে ফিরে যাচ্ছি।
রক্ষীঃ   আপনি একা যাবেন,প্রভু?
রাজাঃ   যা বলছি তাই করো। 
রক্ষীঃ   যথা আজ্ঞা, প্রভু।কিন্তু খুব সাবধানে যাবেন,প্রভু।আমি চললাম।।[দুজন দুদিক দিয়ে বেরিয়ে যায়।]

 ,।।  তৃতীয় দৃশ্য।। 
      ------------------
[রাজা সিংহাসনে আসীন।পাত্রমিত্ররা উপস্থিত। ]
মন্ত্রী ঃরাজামশাইকে খুব চিন্তিত দেখাচ্ছে।কী হয়েছে প্রভু?
বিদূষক ঃ হ্যাঁ,ঠিক।মেঘে ঢাকা তারার মতো দেখাচ্ছে মহারাজকে। এই সময় গানবাজনা খুব কাজে দেয়। ডাকবো মহারাজ? ডাকি?
রাজাঃ না।সে সবের প্রয়োজন নেই।তুমি বরং আমার প্রধান দেহরক্ষীকে ডেকে আনো।(রক্ষীর প্রস্থান)
মন্ত্রী ঃতাই তো!মহারাজের প্রধান দেহরক্ষীকে তো আজ সকাল থেকে দেখছি নে।এমনটা তো হওয়ার কথা নয়!
বিদূষক ঃআমরা এসে গেছি মন্ত্রীমশাই!(রক্ষীসহপ্রবেশ)
রাজা(সাগ্রহে)ঃএসো,রক্ষী,এসো।কোনো খবর পেলে?
রক্ষী  ঃ পেয়েছি মহারাজ।এখানেই বলবো?
রাজা ঃসকলে একটু বাইরে যান।মন্ত্রণাকক্ষের দরজা বন্ধ করে দিন।(রক্ষী ব্যতীত সকলের প্রস্থান) 
রাজা ঃবলো।
রক্ষী ঃমহারাজ, আমি প্রথমে যে মেয়েটির পরিচয় পাই সে এক কণ্ঠিধারী বৈষ্ণবের মেয়ে।বড় রাস্তার ধারে যে অাখরাটি আছে সেখানেই সে থাকে। সেই আখরার কাছাকাছি  বাড়ি এক শুদ্ধাচারী ব্রাহ্মণের।দ্বিতীয় মেয়েটি তাঁর একমাত্র সন্তান।
রাজা ঃআর বাকি দুজন?
রক্ষী ঃএকজন বাউলের মেয়ে, অন্যজন এক কৃষক কন্যা।চার জনের খুব ভাব।
রাজা ঃমন্ত্রীকে ডেকে আনো।(রক্ষী বাইরে গিয়ে মন্ত্রীকে ডেকে আনে)
রাজা ঃমন্ত্রীমশাই,আপনাকে খুব গোপনে একটা কাজ করতে হবে।
রাজা ঃআদেশ করুন রাজা।
রাজা ঃরক্ষী আপনাকে চারটি মেয়ের বিবরণ দেবে।আপনি তাদের বাবামাকে বুঝিয়ে মেয়ে চারটিকে রাজবাড়িতে পরশু বিকেলে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করবেন।পারবেন তো?
মন্ত্রী  ঃ আপনি আদেশ করলে পারতেই হবে মহারাজ।
রাজা ঃআপনি চারজনের জন্য চারটি সুসজ্জিত পাল্কির ব্যবস্থা করবেন।
রক্ষী ঃ চারটি পাল্কির দরকার নেই মহারাজ,দুটিই যথেষ্ট। ওদের তো কাছাকাছি বাড়ি।
রাজা ঃ না,ওরা পৃথক পৃথক পাল্কিতে আসবে।সসম্মানে ওদের নিয়ে আসবেন।মনে রাখবেন ওদের ধরে আনতে নয়,বরণ করে আনতে যাচ্ছেন।
মন্ত্রী ঃবুঝেছি মহারাজ।আর বলতে হবে না।আমি সমস্ত ব্যবস্থা করছি।
 
দৃশ্যান্তর
--------------
।।চতুর্থ দৃশ্য।। 
*************
*[পাল্কিবাহকের বিচিত্র  কণ্ঠধ্বনি: হুম্ নারে...হুম্ না..হুমনা.. আ.. প্রথমে অষ্পষ্ট, পরে  তীব্র  থেকে তীব্রতর, পরে ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাবে।মঞ্চে প্রবেশ করবেন রাজা।আসনে উপবিষ্ট হলে রক্ষীর প্রবেশ।]
 
রক্ষী ঃ প্রভু,চারটি পাল্কিতে চার কন্যা  উপস্থিত। 
রাজা ঃ ও, ওরা এসে গেছে! কোথায় ওরা?
রক্ষী ঃ মন্ত্রীমশাইয়ের নির্দেশ মতো ওদের বিশ্রামকক্ষে বসানো হয়েছে।
রাজা ঃ ওদের জন্য জলযোগের ব্যবস্থা করো।
রক্ষী ঃ তা-ও করা হয়েছে প্রভু।
রাজা ঃ বেশ! তাহলে ওদের একে একে পাঠিয়ে দাও।একজন ফিরে গেলে তবেই অন্যজনকে পাঠাবে। মনে থাকবে?
রক্ষী ঃ থাকবে প্রভু।বিলক্ষণ থাকবে।
রাজা ঃতাহলে যাও,আর দেরি কোরো না।(রক্ষীর
 প্রস্থান)
[রাজা কিছু একটা চিন্তা করতে করতে পদচারণা করতে থাকবেন।অবশেষে আসনে বসতে না বসতেই
একটি মিষ্টিকণ্ঠ] ঃআসবো?
রাজা ঃএসো মা,এসো।বোসো ওই চেয়ারটায়।
সুরুচি ঃ বসার দরকার নেই,মহারাজ। আপনি কী বলতে চান বলুন।
রাজা ঃভয় পেয়ো না,মা। আমার কিছু জিজ্ঞাস্য আছে তা জানা হয়ে গেলেই তোমাকে সসম্মানে তোমার বাড়ি পাঠিয়ে দেবো।
সুরুচি  ঃ বলুন,কী জানতে চান।
রাজা ঃতোমার নাম কী মা?
সুরুচি  ঃ আমার নাম সুরুচি।
রাজা ঃ বাঃ! সুন্দর নাম।কিন্তু শুধুই সুরুচি?পুরো নাম বলো।
সুরুচি ঃ সুরুচি অধিকারী।
রাজা ঃ তা পরশু রাতে সখীদের সাথে কী বলাবলি করছিলে? 
সুরুচি(ভীতকণ্ঠে)ঃকোথায়? কখন?
রাজা ঃ নগরের শেষপ্রান্তে,কুলিক নদীর ধারে,বুড়ো বটতলায়।নাচগানের শেষে আচার খেতে খেতে।মনে পড়ছে?
সুরুচি ঃ আপনার নামে কিছু বলিনি মহারাজ।সত্যি, বিশ্বাস করুন।
রাজা ঃআমার নামে কেন কারে নামেই তুমি কিছু বলো নি--সে আমি জানি।কী বলেছিলে শুধু সেটাই জানতে চাইছি।
সুরুচি ঃ(দ্বিধান্বিত) না---মানে--বলতে লজ্জা করছে।
রাজা ঃ লজ্জা পাওয়ার মতো কিছু বলেছিলে কি? নিশ্চয়ই না।কী বলো?
সুরুচি  ঃ (হেসে)স্বাদের বিষয়ে কথা হচ্ছিলো মহরাজ।আমি বলেছিলাম,..
রাজা ঃ থামলে কেন?বলো....
সুরুচি ঃ মাংসের স্বাদ নাকি সব চেয়ে  ভালো।
রাজা ঃতুমি তো এক পরম বৈষ্ণবের মেয়ে।তোমরা কি মাংস খাও?
সুরুচি  ঃরাধে,রাধে। মাংস খাওয়া তো দূরের কথা,মাংস স্পর্শ করলেও আমাদের স্নান করতে হয়।
রাজা ঃ তাহলে মাংসের স্বাদ তুমি জানলে কী করে? কেনই বা বললে, মাংসের স্বাদ সবচেয়ে ভালো?
সুরুচি ঃআমাদের পাড়ায় এক মাংসের দোকান আছে।সেখানে প্রায় প্রতিদিন  মাংস কেনার জন্য লোকে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।খুব সুস্বাদু না হলে মাংসের এত চাহিদা হবে কেন মহারাজ? তাছাড়া..  
রাজা ঃ তাছাড়া ---তাছাড়া কী?
সুরুচি ঃ মানুষ মাংস খায়।তার হাড়হাড্ডি খায় কুকুরে।মানুষ যে অংশ ফেলে দেয় তা কাক এসে নিয়ে যায়।যা পড়ে থাকে তা নিয়ে যায় পিঁপড়ে।তাই আমার মনে হয়েছে মাংস নিশ্চয়ই খুব সুস্বাদু।
রাজা(হেসে)ঃতোমার কথায় যুক্তি আছে।সত্যি মা,মাংস খুবই সুস্বাদু। (উচ্চকণ্ঠে) রক্ষী-ই-ই।
রক্ষী(প্রবেশ)ঃ আজ্ঞা করুন প্রভু।
রাজা ঃএই মেয়েটিকে মিষ্টান্ন, বস্ত্র, ও একটি স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে সসম্মানে গৃহে পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা করো। যাও মা তুমি।অন্য একজনকে পাঠিয়ে দাও।
[রাজা পেছন ফিরে কিছু একটা ভাবছিলেন। সহসা নারীকণ্ঠ]
কঙ্কনা  ঃ মহারাজের জয় হোক।
রাজা ঃ কী নাম মা তোমার?
কঙ্কণা ঃ কঙ্কণা ভট্টাচার্য।
রাজা ঃ ও,তুমি সেই পুরুতঠাকুরের মেয়ে? 
কঙ্কণা ঃআজ্ঞে  হ্যাঁ।
রাজা ঃপরশু রাতে আচার খেতে খেতে সখীদের কী বলেছিলেে?
কঙ্কণা ঃনা মহারাজ,আমি কিছু বলি নি।
রাজা ঃ তুমি পুরুতঠাকুরের মেয়ে, মিথ্যা বলা তোমাকে মানায় না।সত্যি করে বলো,কী বলেছিলে।
কঙ্কণা ঃঈশ্বরের দিব্যি,আপনার সম্বন্ধে কিছু বলি নি।
রাজা ঃস্বাদের সম্বন্ধে কী বলেছিলে?
কঙ্কণা ঃস্বাদের সম্বন্ধে!ও,সে তো একটা কথার কথা।
রাজা ঃকী কথা?
কঙ্কণা ঃ বলেছিলাম,সুরা খুবই সুস্বাদু।
রাজা ঃ তুমি কি সুরা পান করো?
কঙ্কণা ঃছি,ছি,মহারাজ,এ কী বলছেন? আমি পুরুত ঠাকুরের মেয়ে ; নিম্নবর্ণের মেয়েদের মতো সুরাপান করবো?
রাজা ঃতাহলে বললে কেন যে সুরা খুবই সুস্বাদু? 
কঙ্কণা ঃএকটা ভাটিখানার পাশ দিয়ে রোজ আমাদের যাতায়াত করতে হয়।প্রায়ই দেখি,ইতরভদ্র অনেকেই সেখানে বসে মদ্যপান করে।ও পাড়ার সুরেন দত্ত,যার একছেলে কাউন্সিলার, প্রায়ই ওখানে যান,টলতে টলতে ফেরেন। একদিন তো নর্দমায় পড়ে গিয়ে কী অবস্থা!  ভাবলাম,আর হয়তো এমনটি করবেন না।ওমা, পরদিনই আবার....আমাদের পাশের বাড়ির হ্যাবলাকাকু তো মদ খেয়ে রাজা বনে যান। তাঁর মনে কী ফুর্তি! টলতে টলতে গান ধরেন।
রাজা ঃগান! মাতলামির গান! সে কেমন শুনি?
কঙ্কণা ঃগেয়ে শোনাবো?
রাজা ঃ দুকলি গাও তো শুনি।
 
কঙ্কণা ঃ(গান)
 
তোরা যে যা বলিস ভাই
আমার বাংলা মালই চাই।
সে যে হাওয়ায় দোলায়,বাক্য জড়ায়
যায় না তারে ছাড়া
সে যে পেটে গেলে উঠবে ঠেলে
দৃষ্টি ছন্নছাড়া
আমি ছুটবো পিছে যেথায় আছে
চোলাই মদের ঠাঁই।
আমি খুশি মনে  সংগোপনে ঢুকুস ঢুকুস খাই
তোরা যে যা বলিস ভাই.......
(গান শেষে রাজা হো হো করে হেসে ওঠেন)
 
রাজা ঃ রক্ষী!(রক্ষীর প্রবেশ) একেও বস্ত্র, মিষ্টান্ন  ও স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে সসম্মানে বাড়ি পাঠাবার ব্যবস্থা করো।
রক্ষী ঃ যথা আজ্ঞা মহারাজ। আসুন মা।(কঙ্কণা সহ প্রস্থান)
রাজা ঃ তাহলে কে, কে বললো  কথাটা?
[সহসা পদশব্দে ফিরে দেখেন,অন্য একটি মেয়ে দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে]
পূর্ণিমা ঃপ্রণাম মহারাজ।
রাজা ঃকী নাম মা তোমার?
পূর্ণিমা ঃ পূর্ণিমা দাস।
রাজা ঃ পরশুরাতে সখীদের সঙ্গে আচার খেতে খেতে কী বলেছিলে?
পূর্ণিমা ঃ আপনার সম্বন্ধে কিছু বলি নি মহারাজ, বিশ্বাস করুন।রাধাগোবিন্দের দিব্যি।
রাজা ঃ সে আমি জানি পূর্ণিমা। কিন্তু স্বাদ সম্পর্কে কিছু একটা বলেছিলে।বলো নি?
পূর্ণিমা ঃ হ্যাঁ,বলেছিলাম।
রাজা ঃকী বলেছিলে?
পূর্ণিমা ঃ উঁ....উঁ...হ্যা মনে পড়েছে।বলেছিলাম,প্রেমের স্বাদ ধরায় অতুল।
রাজা ঃতুমি তো খুব কচি মেয়ে গো,প্রেমের তুমি কী বোঝো?
পূর্ণিমা ঃ আমি বাউলের মেয়ে।মাঝেমাঝে বাবার সঙ্গে গলা মিলিয়ে আমাকেও কৃষ্ণপ্রেমের গান গাইতে হয়।
রাজা ঃ তুমি গান জানো?একটু গাও তো শুনি।
পূর্ণিমা ঃএখানে দোতারা, খমক কিছু নেই।তবু আপনি যখন বলছেন দুকলি গেয়ে শোনাচ্ছি।
 
।।গান।।প্রেম করো ভাই,পীরিত কোরো না.....
 
রাজা ঃ বাঃ! তোমার গানের গলা ভারি মিষ্টি। খুব ভালো লাগলো।রক্ষী....
রক্ষী ঃ আজ্ঞা করুন প্রভু।
রাজা ঃএকেও উপঢৌকনাদি দিয়ে গৃহে পাঠাবার ব্যবস্থা করো।
রক্ষী।।এসো গো বাউল মেয়ে।
(পূর্ণিমা সহ প্রস্থান)
 
[রাজা  শান্তভাবে সিংহাসনে বসে রইলেন।কৃষককন্যা ঈশানীর প্রবেশ।]
 
ঈশানী ঃআমাকে কেন ধরে এনেছেন রাজামশাই?
রাজা ঃ এ কী বলছো!ধরে আনা হয়নি তো।কেউ কি তোমার অসম্মান করেছে?
ঈশানী ঃ তা করে নি।কিন্তু রাজামশাই,সামান্য কৃষককন্যা আমি।আপনার অনুগ্রহে সুসজ্জিত পাল্কিতে চড়ার সুযোগ পেয়েছি। এখন কি শূলে চড়াবেন?
রাজা ঃতোমার কথায় বিনয়ের ছিটেফোঁটাও নেই।তবে তুমি যে বাকপটু তা স্বীকার করতেই হবে।
ঈশানী ঃধন্যবাদ রাজামশাই।এখন বলুন, আমার উপর আপনার কৃপাদৃষ্টির কারণ?
রাজা ঃ তুমি তো দেখছি আমার উপর রুষ্ট হয়েই আছো।তোমাকে কীকরে বোঝাই যে তোমাদের ডাকার পেছনে আমার কোনো বদমতলব নেই!
ঈশানী ঃ তো?
রাজা ঃ আমি একটা কথা জানার জন্যই তোমাদের ডেকেছি।
ঈশানী ঃ কী কথা?
রাজা ঃপরশু রাতে নদীপারে সখীদের সঙ্গে আচার খেতে খেতে কী বলেছিলে?
ঈশানী  ঃ সখীদের সঙ্গে তো অনেক কথাই বলেছিলাম।আপনি ঠিক কী জানতে চাইছেন বলুন তো?
রাজা ঃস্বাদের বিষয়ে কী বলেছিলে?
ঈশানী ঃ যা সত্যি তাই বলেছিলাম।
রাজা ঃ সত্যিটা কী?
ঈশানী ঃ মিথ্যার মতো মুখরোচক আর কিছু নেই।
রাজা ঃ অর্থাৎ মিথ্যা কথা বলে মানুষ খুবই তৃপ্তি পায়, এই তো?কেন তোমার এমনটা মনে হল বলো তো!
ঈশানী ঃ তৃপ্তি যদি না-ই পাবে তা হলে মানুষ  অহরহ মিথ্যাকথা বলে কেন?
রাজা ঃভুল,ভুল।সবাই মিথ্যা কথা বলে না।আমি তো কখনও মিথ্যে  বলেছি বলে মনে পড়ে না। আসলে আমি কখনই মিথ্যে  বলি না।
ঈশানী ঃ এইমাত্র তো বললেন।
রাজা ঃএইমাত্র  বললাম! কী বললাম?
ঈশানী ঃ আমি মিথ্যা বলি না--এর চেয়ে বড় মিথ্যা আর হয়না রাজামশাই।
রাজা ঃ তোমার স্পর্ধা তো কম নয়! তুমি রাজাকে মিথ্যাবাদী বলো!প্রমাণ করতে পারবে যে সবাই মিথ্যা কথা বলে,রাজাও মিথ্যাবাদী? 
ঈশানী ঃ আমাকে দু'লাখ টাকা আর মাস তিনেক সময় দিন।আমি ঠিক প্রমাণ করে দেবো।
রাজা(সকৌতুকে)ঃঅাচ্ছা! এখনও ভেবে দেখো, পারবে তো প্রমাণ করতে?
ঈশানী ঃ পারবো,অবশ্যই পারবো। 
রাজা ঃ রক্ষী!
রক্ষী ঃ আদেশ করুন প্রভু।
রাজা ঃ মহামন্ত্রীকে বলো  এই মেয়েটিকে দু'লাখ টাকা দিয়ে সসম্মানে বাড়িতে রেখে আসতে।
রক্ষী ঃ যথা আজ্ঞা প্রভু।
রাজা ঃকিন্তু  মনে রেখো সুভদ্রে..
ঈশানী ঃ আমার নাম ঈশানী  রাজন।ঈশানী রাজবংশী।
রাজা ঃ কিন্তু মনে রেখো ঈশানী, প্রমাণ করতে যদি না পারো তাহলে রাজাকে মিথ্যাবাদী বলার অপরাধে তোমাকে কঠিন শাস্তিভোগ  করতে হবে।
ঈশানী ঃ যদি প্রমাণ করতে না পারি তাহলে আপনার দেওয়া যে কোনো শাস্তি আমি মাথা পেতে নেবো রাজামশাই।
রাজা ঃ তথাস্তু। যাও।
 
।।পঞ্চম দৃশ্য।।
 
[রাজা সিংহাসনে আসীন। পাত্রমিত্ররাও উপস্থিত]
 
মন্ত্রী ঃ রাজা মশাইকে কেমন বিমর্ষ মনে হচ্ছে।শরীর ঠিক আছে তো,রাজামশাই? নাকি কিছু ভাবছেন?
রাজা ঃশরীর ঠিক আছে,মন্ত্রীমশাই।তবে...
মন্ত্রী ঃ তবে কী রাজামশাই?
বিদূষক ঃ মন খারাপ? নাকি পেট খারাপ?নাকি খিদে পেয়েছে?
রাজা ঃ আহ্ ! বিদূষক! 
বিদূষক ঃ না,মহরাজ! খিদে তো অনেক রকম হয়।যেমন  পেটের খিদে,চোখের খিদে, মনের খিদে.....
রাজা ঃ বাজে বোকো না তো বিদূষক। এ তোমার পরিহাসের বিষয় নয়।
বিদূষক ঃ তাহলে আমি আমার মুখে তালা মেরে দিলাম। [রক্ষীর প্রবেশ]
রাজা ঃকী খবর রক্ষী?
রক্ষী ঃ মহারাজ, দূত আপনার সঙ্গে দেখা করতে চায়।
রাজা ঃ ডাকো,ডাকো তাকে।আমি তো তার জন্যই উৎকণ্ঠিত হয়ে বসে আছি।(রক্ষীর প্রস্থান ও দূতের প্রবেশ)
দূত ঃ মহরাজের জয় হোক।
রাজা ঃ কী খবর দূত?
দূত ঃ মহারাজ, ঈশানী নামের সেই মেয়েটি তার গ্রামে নেই।
রাজা ঃ নেই!
বিদূষক ঃতার মানে দু'লক্ষ টাকা নিয়ে সে গা ঢাকা দিয়েছে।
মন্ত্রী ঃ গ্রামে নেই।তো কোথায় গেছে সে?
বিদূষক ঃ ওই যে বললাম,গা ঢাকা দিয়েছে।হয়তো দেশ ছেড়েই পালিয়েছে।দু'লক্ষ টাকা।ভাবা যায়!
রাজা ঃ থামো তো তুমি।বাঁচাল কোথাকার। (দূতকে) তার কোনো খোঁজ পাও নি?
দূত ঃ পেয়েছি মহরাজ।
সমস্বর ঃ পেয়েছো!!
দূত ঃ হ্যা,মহারাজ,অনেক খোঁজাখুঁজি করে তার হদিশ পেয়েছি।
রাজা ঃকোথায়,কোথায় তার দেখা পেলে? কী বললো সে?
বিদূষক ঃ টাকা ফেরৎ দেবে বলেছে?
দূত ঃ না,আমি তার দেখা পাইনি।
সমস্বর ঃ পাও নি!!
দূত ঃ না।দেখা পাই নি।শুধু তার খোঁজ পেয়েছি।
রাজা ঃ কোথায় সে?
দূত ঃ এক নির্জন টিলায়।
সমস্বর ঃ টিলায়!!
রাজা ঃসেখানে সে কী করছে?
বিদূষক ঃ তপস্যা?
দূত ঃ সেখানে সে নাকি এক মন্দির নির্মাণ করছে।
রাজা ঃ মন্দির!?
মন্ত্রী ঃ কোন্ দেবতার মন্দির? 
দূত ঃ তা তো জানি না, মন্ত্রীমশাই।
রাজা ঃতুমি সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করলে না কেন?
দূত ঃ চেষ্টা করেছিলাম মহারাজ।অনুমতি পাইনি।সে নাকি কারো সঙ্গেই দেখা করে না।
রাজা ঃ আচ্ছা তুমি যাও।তোমাদের দিয়ে হবে না।(দূতের প্রস্থান) মন্ত্রীমশাই,এখন কী করা যায় বলুন তো?
মন্ত্রী ঃ এ কাজ দূতকে দিয়ে হবে না রাজা মশাই।আপনি বরং দায়িত্বশীল  কাউকে পাঠান। যার নাম শুনলে সে আর না বলার সাহস পাবে না।
রাজা ঃ ঠিক বলেছেন। আমি বরং আমার দেহরক্ষীকেই পাঠাই। ঈশানী ওকে চেনেও।সে ঠিক খোঁজ আনতে পারবে।
সমস্বর ঃ তাই করুন মহারাজ।।
++++++++++
।।ষষ্ঠ দৃশ্য।। 
+++++++++
[দেহরক্ষীর প্রবেশ।সে বিড় বিড় করে কিছু একটা বলতে বলতে ইতস্তত পায়চারি করছে।বিদূষকের প্রবেশ।]
বিদূষক ঃআরে দেহরক্ষী যে!
রক্ষী ঃ হ্যাঁ,ভাঁড় মশাই আমি।
বিদূষক ঃএ্যাই, খবরদার আমাকে ভাঁড় বলবে না।
রক্ষী ঃতাহলে কী বলবো?
বিদূষক ঃ সবাই যা বলে-- বিদূষক!  
রক্ষী ঃসে তো রাজসভায় বলে।আড়ালে সবাই আপনাকে ...যাকগে....
  (মন্ত্রীর প্রবেশ)
মন্ত্রী ঃ ও,দেহরক্ষী !  তুমি এসে গেছো? কখন এলে?
(সহসা রাজাকে দেখে) আসুন,রাজামশাই,...
(রাজা আসন গ্রহণ করেন)
রাজা।কী খবর দেহরক্ষী?  তুমি এত তাড়াতাড়ি ফিরে এলে যে!ঈশানীর দেখা পাওনি?
দেহরক্ষী ঃ না,মহারাজ।
রাজা ঃ তোমার সাথেও দেখা করলো না?
দেহরক্ষী ঃ দেখা করে নি,তবে খবর পাঠিয়েছে।
রাজা ঃ কী খবর?
দেহরক্ষী ঃ চৈত্রসংক্রান্তির দিন তার প্রতিষ্ঠিত মন্দিরের দ্বারোদঘাটন হবে।আর দ্বারোদঘাটন  করবেন আপনি।
বিদূষক ঃ মহারাজ, যদি না হয় ভ্রান্তি।
আগামী পরশুই তো চৈত্রসংক্রান্তি।।
রাজা ঃ আশ্চর্য! আমাকে তো কোনো খবর দেয়নি!তুমি ঠিক শুনেছো তো দেহরক্ষী , আমাকে দিয়েই..
দেহরক্ষীঃহ্যাঁ,মহারাজ, যাকে দিয়ে সে বলে পাঠিয়েছে সে তো স্পষ্টই বললো।
মন্ত্রী ঃকী বললো?
দেহরক্ষী ঃবললো যে মহারাজকে দিয়েই মন্দিরের দ্বারোদঘাটন  হবে।
বিদূষক ঃ তাহলে হয়তো হবে কোনো মঠের মহরাজ ।মেয়েটা কি ধড়িবাজ!
রাজা ঃ মন্ত্রীমশাই।
মন্ত্রী ঃ বলুন রাজা মশাই।
রাজা ঃ এখন কী করা যায় বলুন তো?
মন্ত্রী ঃ সেপাইসান্ত্রি পাঠিয়ে ধরে আনি মেয়েটাকে।
কতো ধানে কতো চাল বুঝিয়ে দেই তাকে।।
[নেপথ্যে ঈশানী ঃ ধরে আনতে হবে না রাজন।
সকলে(বিস্ময়ে)ঃ ঈশানী!!
ঈশানী ঃ হ্যাঁ,রাজন।
রাজা ঃ তিনমাস কি হয়নি পূরণ?
ঈশানী ঃপরশুই পূর্ণ হবে মহারাজ।
তাই তো আপনাকে নিতে এসেছি আজ।
রাজা ঃ কোথায় যেতে হবে?
ঈশানী ঃউদয়ন টিলায়।
রাজা ঃ কী আছে সেখানে?
ঈশানী ঃ ঈশ্বরের এক মন্দির গড়েছি আমি।আগামীকাল শুদ্ধাচারে স্নানধ্যান পূৃজাপাঠ শেষে হবে তার উদ্বোধন।কৃপাকরে চলুন রাজন। আপনার দ্বারাই হবে মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন।
রাজা ঃকিন্তু তুমি যা প্রমাণ করতে চেয়েছো তার কী হল?
ঈশানী ঃ সেখানেই ঈশ্বরকে সাক্ষী রেখে তার প্রমাণ দেবো রাজন।
রাজা ঃ বেশ।তুমি পথশ্রমে ক্লান্ত।এখন বিশ্রাম নাও।আমি যাত্রার আয়োজন করছি।চলো,অন্তঃপুরে চলো।(সকলের প্রস্থান) 
 *******************
।।সপ্তম দৃশ্য।।
++++++++
[ঈশানী  তার কয়েকজন সাথীকে নিয়ে কর্মব্যস্ত।দ্বারোদ্ঘাটনের জন্য ফুল, লতা পাতা দিয়ে প্রবেশদ্বার সাজানো হচ্ছে।একজন দরজায় রিবন ফিতা দিয়ে,একজন কাঁচি নিয়ে,অপর একজন শঙ্খ নিয়ে প্রস্তুত।] 
ঈশানী ঃ তাহলে সব ব্যবস্থা হয়ে গেলো।তোরা এদিকটা দ্যাখ্,আমি রাজা মশাইকে ডেকে নিয়ে আসি।
 
[প্রস্থান। সখীরা কর্মব্যস্ত। কিছুক্ষণ পরে রাজাকে নিয়ে ঈশানীর প্রবেশ]
 
ঈশানী ঃ আসুন,রাজা মশাই।আগে মন্দিরের দ্বার উন্মোচন করুন।
[রাজা ফিতে কেটে দ্বারোদ্ঘাটন করেন।শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনি।]
রাজা ঃ ঈশানী!
ঈশানী ঃ বলুন রাজামশাই।
রাজা ঃ মন্দিরের দ্বার তো উদ্ঘাটন করলাম।কিন্তু  বিগ্রহ  কোথায়?
ঈশানী ঃ বিগ্রহ তো নেই মহারাজ। 
রাজা ঃবিগ্রহ  নেই!? তাহলে?[মন্ত্রী, বিদূষকের প্রবেশ]
মন্ত্রী ঃএ কেমন মন্দির,রাজামশাই। কোনো মূর্তি নেই।কোনো দেবতা নেই!
ঈশানী ঃএ তো ঈশ্বরের আবাস।ঈশ্বরের মন্দির।
রাজা ঃ তার মানে এখানে স্বয়ং ভগবান থাকেন।তাই তো?
ঈশানী  ঃঠিক তাই রাজা মশাই।
বিদূষক  ঃতাকে দেখা যাবে না?
ঈশানী ঃকেন যাবেনা?
মন্ত্রী ঃ মন্দিরের ঠিক কোন্ জায়গায় আছেন তিনি?
ঈশানী ঃ গর্ভগৃহে।
রাজা ঃতার মানে ভেতরের ওই ছোট্ট কুঠরিটায়,যেখানে একটা প্রদীপ জ্বলছে?
ঈশানী  ঃঠিক তাই প্রভু।
মন্ত্রী ঃ ওর ভেতরে গেলে স্বচক্ষে ঈশ্বরকে দেখতে পাবো?
ঈশানী ঃ পাবেন,অবশ্যই পাবেন।
বিদূষক ঃ কীভাবে চিনবো তাকে?
ঈশানী ঃ তিনিই চিনিয়ে দেবেন।কাউকে চেনাতে হবে না।
বিদূষক ঃ আসল,না নকল বুঝবো কী করে?
ঈশানী ঃ উনিই বুঝিয়ে দেবেন
মন্ত্রী ঃ অতো কথায় কাজ কী?চলুন রাজামশাই,গর্ভগৃহে প্রবেশ করে চক্ষু- কর্ণের বিবাদ ভঞ্জন করি।
রাজা ঃ চলুন।এসো ঈশানী।
ঈশানী ঃ গর্ভগৃহে প্রবেশের পূর্বে ঈশ্বরের অনুমতি নিতে হয় প্রভু।
রাজা ঃ অনুমতি!কীভাবে অনুমতি চাইবো?কার কাছে চাইবো?
ঈশানী ঃআমি প্রার্থনা সঙ্গীত গাইছি।আপনারা আমার সঙ্গে গলা মেলান।
মন্ত্রী ঃ আমরা গাইবো?এই বুড়ো বয়সে হেঁড়ে গলায় গান ধরলে ভগবান মন্দির ছেড়ে পালাবেন না তো?
বিদূষক ঃভগবানও যদি বুড়ো হয়ে থাকেন তাহলে না-ও পালাতে পারেন।
ঈশানী ঃ আপনাদের গলা ছেড়ে গাইতে হবেনা।মনে মনে গাইলেই হবে। ভগবান তো অন্তর্যামী। 
রাজা ঃতুমি কৃষক কন্যা।কিন্তু বোধ ও বুদ্ধিতে তুমি ঋষিকন্যার সমকক্ষ। নাও শুরু করো।
[সকলে হাঁটুগেড়ে প্রার্থনা করার ভঙ্গিতে হাত জোড় করে বসে]
 
গান(রবীন্দ্রসঙ্গীত)  ঃ
এসো, এসো আমার ঘরে এসো......
রাজা ঃবাঃ!ঈশানী, তোমার গায়কী খুব সুন্দর।
মন্ত্রী ঃ তাহলে এখন আমরা গর্ভগৃহে প্রবেশ করি?
ঈশানী ঃ অবশ্যই। তবে একে একে। একজন দর্শন করে বেরিয়ে এলে তবেই আর একজন।
রাজা ঃ কেন?
ঈশানী ঃ রাজামশাই,ঈশ্বর কি এতই সহজলভ্য?  একসঙ্গে অনেককে দেখা দিলে তো তার মাহাত্ম্যই থাকবে না।
রাজা ঃ তাও তো বটে।
ঈশানী ঃ ঈশ্বর  একবার মাত্র একজনকেই দেখা দেন।একাধিক ব্যক্তি গর্ভগৃহে প্রবেশ করলে ঈশ্বর থাকেন অদৃশ্য।বিশ্বাস নাহলে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। তা হলে যান কে কে যাবেন?
বিদূষক ঃনা-দেখার জন্য যাওয়া?
মন্ত্রী ঃনা,না।অমন গিয়ে কাজ নেই। রাজামশাই, সর্বপ্রথম আপনিই যান।
বিদূষক ঃমহারাজ গর্ভগৃহে প্রবেশ করলেই ঈশ্বরকে দেখতে পাবেন তো?
ঈশানী  ঃ নিশ্চয়ই পাবেন।মহারাজ তো আর বেজন্মা নন্।
মন্ত্রী ঃ তার মানে?
রাজা ঃ কী বলতে চাও তুমি?
ঈশানী ঃ মহারাজ,তিন ধরণের লোক ঈশ্বরের দর্শন পাবেন না।
বিদূষক ঃতিন ধরণ! তুমি আমাদের কথা বলছো না তো?
ঈশানী ঃআপনারা  আবার তিন ধরণ হবেন কী করে?
বিদূষক ঃ কেন,একজন রাজা,একজন মন্ত্রী, একজন বিদূষক। হল না তিন ধরণ?
রাজা ঃ থামো তো তুমি।বলো ঈশানী কোন তিন ধরণের লোকের কথা বলছো তুমি।
ঈশানী ঃ  বেজন্মা,পরস্বাপহারী  আর নারী নির্যাতনকারী। আপনি তো এর কোনোটাই নন্। আপনি কেন ঈশ্বরের দর্শন পাবেন না? নিশ্চয় পাবেন। যান মহারাজ, আপনি নিশ্চিন্তে ভেতরে যান।
রাজা ঃনা,না। তা হয়না।মন্ত্রী মশাই বয়োজ্যেষ্ঠ। বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করা উচিৎ। যান মন্ত্রীমশাই।দ্বিধা করবেন না।আপনি সদ্বংশজাত পুণ্যাত্মা। ভগবান আপনাকে দর্শন দেবেনই।যান।
বিদূষক ঃ স্বচক্ষে ঈশ্বর দর্শন!মন্ত্রীমশাইর মানবজন্ম ধন্য হয়ে যাবে।
রাজা ঃএরপর তুমি যাবে।তোমার মানবজন্মও সার্থক হবে।
বিদূষক ঃধ্যাৎ,তাই হয় নাকি!  রাজা মশাইয়ের আগে আমি?
রাজা(দৃঢ়কণ্ঠ) ঃ হ্যাঁ,হ্যাঁ।তুমি।আমাকে রাজধর্ম পালন করতে দাও।আমি যাবো সবার শেষে।সব কিছু সবার আগে ভোগ করা রাজধর্ম নয়।
বিদূষক (জনান্তিকে)ঃআসলে রাজা মশাই ভয় পাচ্ছেন।উনিও তো পরস্বাপহরণকারী।কে না জানে,রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।
রাজা ঃকী বকছো বিড়বিড় করে?
বিদূষক ঃ আমি মন্ত্রীমশাইয়ের সাফল্য কামনা করছি।
ঈশানী ঃ ঈশ্বর দর্শনের জন্য নিবিষ্ট চোখ চাই।শুধু একথাটাই খেয়াল রাখবেন, মন্ত্রী মশাই।
মন্ত্রী (আনমনা)ঃতা...হলে..আমি যাই?
সমস্বরে ঃ হ্যাঁ,যান মন্ত্রীমশাই,যান।(দ্বিধান্বিত মন্ত্রীর প্রস্থান)
ঈশানী ঃ আসুন আমরা মন্ত্রীমশাইয়ের সাফল্য কামনা করে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি।।
রাজা ঃবেশ।তাই হোক।
[তিনজনই প্রার্থনার ভঙ্গিতে বসে প্রার্থনাসঙ্গীত শুরু করে।]
 
গান।। আগুনের পরশমণি  ছোঁয়াও প্রাণে..... (রবীন্দ্রসঙ্গীত)
 
।। অষ্টম  দৃশ্য।।
++++++++++
প্রার্থনারত রাজা ও অন্যরা হাত জোর করে বসে আছেন।
ঈশানী ঃ ওই তো মন্ত্রীমশাই ফিরে এসেছেন।
রাজা ঃ(সাগ্রহে) মন্ত্রীমশাই,দেখলেন? ঈশ্বরকে দেখলেন?
মন্ত্রীঃ(দ্বিধাভরে)এ্যাঁ...হ্যাঁ...হ্যাঁ...দেখলাম বৈকি!
ঈশানী ঃ দেখলেন!
রাজা ঃকেমন দেখলেন?ঈশ্বর দেখতে কেমন?
মন্ত্রী ঃভালো।
রাজা ঃ ভালো মানে?
মন্ত্রী ঃ শঙ্খ চক্র গদা পদ্ম নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।... আমাকে আশীর্বাদ  করলেন।
বিদূষক ঃ কিছু বলেন নি?
মন্ত্রী ঃ অ্যাঁ!
বিদূষকঃ কোন্ ভাষায়? সংস্কৃতে,না বাংলায়,নাকি ইংরেজিতে?
ঈশানী ঃ(হাসি গোপন করে) ছাড়ুন তো।বুড়ো মানুষ, ঈশ্বরকে দেখে হকচকিয়ে গেছেন।ওনাকে ধাতস্থ হওয়ার সময় দিন। এবার কে যাবেন?
রাজা ঃ যাও হে বিদূষক। 
মন্ত্রী ঃ এটা কি ঠিক হচ্ছে প্রভু?
রাজা ঃ যাও তো তুমি।
বিদূষক ঃ তা হলে যাই? যাচ্ছি।
ঈশানী ঃ হ্যাঁ, যান।আমরা আপনার জন্য প্রার্থনা করছি।
 
[বিদূষকের প্রস্থান।সবাইকে নিয়ে ঈশানীর প্রার্থনা সঙ্গীত। 
গান(রবীন্দ্রসঙ্গীত)
গান শেষে পূর্ববৎ সবাই বসে থাকবে।বিদূষকের প্রত্যাগমন।]
 
রাজা ঃ কী হে,বিদূষক, দেখতে পেলে?
বিদূষক ঃ হ্যাঁ।দেখতে পাবো না কেন?
মন্ত্রী ঃ বলি,ঈশ্বরকে দেখতে পেলে?
বিদূষক ঃ আপনি বুড়ো মানুষ দেখতে পেলেন,আর আমি পাবো না?
রাজা ঃ  কেমন দেখলে?
বিদূষক ঃ স্পষ্ট দেখলাম।এই যেমন আপনাকে দেখছি।
রাজা ঃ হেঁয়ালি কোরো না তো।বলো,ঈশ্বর দেখতে কেমন।
বিদূষক ঃ আমি দেখলাম,নররূপী নারায়ণ কে।অবিকল আমার অন্নদাতা মহারাজের মতো দেখতে।ঈশ্বর বহুরূপী কিনা।
ঈশানী ঃ আপনি ভাগ্যবান।
রাজা ঃভগবানের কাছে কী চাইলে তুমি?
বিদূষক ঃ আমি? আমি আমার অন্নদাতার দীর্ঘায়ু কামনা করলাম।
ঈশানী ঃ নিজের জন্য কিছুই চাইলেন না? আশ্চর্য!
বিদূষক ঃ চাইলাম তো।আমার অন্নদাতা দীর্ঘায়ু হলে আমার কখনো অন্নাভাব হবে না।
ঈশানী ঃ এবার তাহলে.... রাজামশাই.......
রাজা ঃ যেতেই হবে?
সমস্বরে ঃ হ্যাঁ,হ্যাঁ, যান।
রাজা ঃ যাই তাহলে।
ঈশানী ঃ আসুন রাজামশাই।আমরা আপনার জন্য প্রার্থনা করছি।
[পূর্ববৎ সকলের প্রার্থনা--- রবীন্দ্রসংগীত। ]
#াাাাাাাাা###$$$##$
।।নবম দৃশ্য।।
++++++++++
[মন্দিরের গর্ভগৃহের সামনে রাজা উদিত নারায়ণ। ]
 
রাজা ঃএটাই তো মন্দিরের গর্ভগৃহ। ওই তো সেই প্রদীপটা।টিমটিম করে জ্বলছে। কিন্তু.. গর্ভগৃহের ভেতরে তো কোনো আলো নেই!ঘুটঘুটে অন্ধকার।ঈশ্বর কি অন্ধকারে লুকিয়ে থাকেন!হতেও পারে। আর একটু এগিয়ে দেখি তো।(এগোন)কই,কোথায়?কোথায় হে ঈশ্বর? মন্ত্রী দেখলেন,বিদূষক দেখলো,আমি রাজা।আমি দেখতে পাচ্ছিনা কেন?দেখা দাও,দেখা দাও হে ঈশ্বর! জ্ঞানত আমি পরস্ব অপহরণ করিনি।আমার তো কখনও অভাব ছিলো না।আমি কেন পরের ধন চুরি করবো?আমি কখনও কাউকে খুন-ধর্ষণ করিনি।তাহলে আমি কি বেজন্মা? তাই বা কী করে হবে! মহান শতানীক বংশে আমার জন্ম। বিদূষী পুণ্যবতী কমলাবতী আমার গর্ভধারিনী জননী। আমার পিতা দেবতুল্য রাজরাজেন্দ্র দিনেন্দ্রনারায়ণ দেববর্মন।আমি বেজন্মা হবো কেন? ও-হো-হো-ও(কান্না)আমার প্রতি এত নির্দয় হলে কেন ভগবান!?কেন?কেন?কেন?(কান্না)।এখন আমি কী করি?বাইরে গিয়ে কী বলবো?যদি বলি,আমি ঈশ্বরের দেখা পাই নি,তাহলে কে কী ভাববে!কেউ ভাববে আমি চোর, কেউ ভাববে আমি খুনি,কেউবা ভাববে রাজা তার মায়ের অবৈধ সন্তান।  উঃ,আমি আর ভাবতে পারছি না। (একটু থেমে)না, বাইরে সত্যি কথাটা বলা যাবে না। তাহলে কী বলবো?(একটু চিন্তা করে) বলবো,দেখেছি।আমিও ঈশ্বরকে দেখেছি।তারপর বানিয়ে বানিয়ে যা বলতে হয় বলবো। হায় ঈশ্বর,আমাকে এ কী ফ্যাসাদে ফেললে![ মাথার চুল আঁকড়ে ধরে মাটিতেই বসে পড়ে।আলো নিভে যায়।]
-------------------------------------
।।শেষ(দশম)দৃশ্য।।
০০০০০০০০০০০০
[রাজার ফেরার অপেক্ষায় মন্ত্রী  ও অন্যান্যরা।ঈশানী ছাড়া সকলে উদ্বিগ্ন। ]
মন্ত্রী ঃরাজামশাই এখনও ফিরছেন না কেন?
ঈশানী ঃঠিকই ফিরবেন।চিন্তার কোনো কারণ নেই।
বিদূষক ঃহয়তো ঈশ্বরের সঙ্গে কোনও বিষয়ে পরামর্শ করছেন।
রক্ষী ঃওই তো রাজামশায় এসে গেছেন।
মন্ত্রী ঃ রাজাকে এমন উদ্ভ্রান্ত দেখাচ্ছে কেন?
রক্ষী ঃকেমন পাগল-পাগল  লাগছে। আমি কি ছুটে গিয়ে মহারাজের হাত ধরবো?
ঈশানী ঃ আপনারা চিন্তা করবেন না। যা দেখতে পাওয়া যায় না তার দেখা পেলে অনেকেরই এমন হয়।সব ঠিক হয়ে যাবে।
   [রাজার প্রবেশ]
মন্ত্রী ঃ রাজামশাই! রাজামশাই!
রাজা ঃএ্যাঁ....
মন্ত্রী ঃআপনি ঠিক আছেন তো?
রাজা ঃ এ্যাঁ...হ্যাঁ...
বিদূষক ঃ ঈশ্বরের দেখা পেলেন,মহারাজ?
রাজা,ঃহ্যাঁ,হ্যাঁ..
ঈশানী ঃ দেখলেন?
রাজা ঃ(মাথা ঝারা দিয়ে) কেন দেখবো না?মন্ত্রী দেখলেন,বিদূষক দেখলো আর আমি দেশের রাজা,আমি দেখবো না?
রক্ষী ঃ মহারাজ, আপনাকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছে। আপনি এই আসনটায় বসুন।
রাজা ঃ সত্যি আমি ক্লান্ত,বড় পরিশ্রান্ত। দাও,দাও।[রক্ষী চেয়ার এগিয়ে দেয়।রাজা বসেন]
  ঈশানী, ঃক্লান্ত তো হওয়ারই কথা।কিন্তু মহারাজ,আপনিও ঈশ্বরকে দেখলেন?
রাজা ঃ দেখলাম তো, স্পষ্ট দেখলাম।
ঈশানী ঃ কীভাবে দেখলেন?
রাজা ঃ এই যেভাবে তোমাকে দেখছি।
ঈশানী ঃ সত্যি দেখেছেন?
মন্ত্রী ঃ অ্যাই মেয়ে,তোমার স্পর্ধা তো কম নয়! রাজার কথায় সন্দেহ প্রকাশ করো।
রাজা ঃ মন্ত্রীমশাই,আপনি থামুন। আমাকে বলতে দিন।তুমি কি আমার কথা বিশ্বাস করছো না, ঈশানী?
ঈশানী ঃ যা বিশ্বাসযোগ্য নয়,তা কেমন করে বিশ্বাস করি, বলুন?
মন্ত্রী ঃ রাজামশাই,এ অসহ্য। এ প্রকারান্তরে আপনাকে মিথ্যাবাদী  বলছে।
রক্ষী ঃ ও বলতে চাচ্ছে, আপনি ঈশ্বরকে দেখেন নি
বিদূষক ঃ কারণ আপনি হয় মিথ্যাবাদী,নয় নরহত্যাকরী, নয়তো......
মন্ত্রী ঃ ও আপনাকে বেজন্মা মনে করে।
রক্ষী ঃ মহারাজের আদেশ পেলে আমি এক্ষুনি.....
রাজা ঃতোমরা থামো।আমি ভগবানকে দেখেছি,আমার এ কথা তুমি বিশ্বাস করছো না কেন,ঈশানী? 
ঈশানী ঃবিশ্বাসযোগ্য নয় বলে। রাজামশাই, ভগবানের দেখা পাওয়া কি অতই সহজ?মুনি -ঋষিরা দীর্ঘ তপস্যা করেও যাঁর দর্শন পান না,মানুষের তৈরি একটা মন্দিরে প্রবেশমাত্রই আপনি তাঁর দেখা পাবেন এটা ভাবলেন কীকরে?
রাজা ঃ তবে মন্ত্রীমশাই দেখলেন কী করে?
ঈশানী ঃ মন্ত্রী মশাই মিথ্যাকথা বলেছেন।(রাজা,মন্ত্রী, বিদূষক কেঁপে ওঠে)
রাজা ঃবিদূষকও তো বলেছে!
ঈশানী ঃউনিও মিথ্যে বলেছেন। দেখুন,দুজনই কেমন মাথা হেঁট করে বসে আছেন।
রাজা ঃ কিন্তু তুমিও তো বলেছো -এ মন্দিরের গর্ভগৃহে  ঈশ্বর আছেন।
ঈশানী ঃ আমিও মিথ্যাকথা বলেছিলাম।
রক্ষী ঃ কী দুঃসাহস!
রাজা ঃকেন? মিথ্যাকথা বলে আমাকে ধোকা দিলে কেন?
ঈশানী ঃ(হেসে)সবই ভুলে গেলেন মহরাজ?
রাজা ঃ কী? কী ভুলে গেলাম?
ঈশানী ঃ সবাই মিথ্যাকথা বলে।মহারাজও মিথ্যে বলেন।এবং মিথ্যা বলার যে স্বাদ,যে তৃপ্তি তার জুড়ি নেই।আমি একথা প্রমাণ করেছি রাজন।
রাজা ঃ(চমৎকৃত)ও রে,দুষ্টু মেয়ে!তলে তলে এই মতলব নিয়ে তুমি ঈশ্বরের মন্দির বানিয়েছো?
ঈশানী ঃ মহারাজ,আমরা গরিব প্রজারা ধনপ্রাণ বাঁচাবার জন্য অনেক সময় মিথ্যা বলতে বাধ্য হই।বিত্তবান ও ধনবান ব্যক্তিরা অন্যের ধন অপহরণের জন্য কিংবা মান বাঁচাবার জন্য মিথ্যাকথা বলে থাকেন। কিন্তু আপনি তো রাজা
আপনার তো ধনের অভাব নেই,মান হারাবারও ভয় নেই।আপনি কেন অকারণে মিথ্যা বলেন?(একটু অপেক্ষা করে)ব-লে-ন তার কারণ হোলো মিথ্যার মতো মুখরোচক আর কিছু নেই।
রাজা ঃ চমৎকার!তোমারই জয় হোলো,ঈশানী। আমার গলার এই মোতিহার তোমার গলায় পরিয়ে দিয়ে আমি তোমাকে বিজয়ী ঘোষণা করলাম। জয় কৃষককন্যার জয়(মালা পরিয়ে দেয়)
মন্ত্রী ঃ এ কী করলেন,রাজামশাই!?
রাজা ঃঅন্যায্য কিছু করলাম কি ? এই বুদ্ধিমতী তরুণী  কি পুরস্কারের যোগ্য নয়?
মন্ত্রী ঃ নিশ্চয়ই পুরস্কারের যোগ্য।কিন্তু রাজামশাই, মহান শতানীক বংশে আপনার জন্ম।এই বংশের রীতি হোলো চৈত্রসংক্রান্তির পূর্ণিমা তিথিতে এই বংশের কোনো পুরুষ কোনো নারীর কণ্ঠে মাল্যদান করলে এবং সেই নারী বিনা বাধায় তা গ্রহণ করলে  তিথিমাহাত্ম্যে সেই মাল্যদান পাণিগ্রহণ  রূপে গণ্য হয়।
বিদূষক ঃ তাই তো!তাইতো! আজ তো চৈত্রসংক্রান্তি এবং পূর্ণিমাতিথি।রাজা মশাই নিজের  কণ্ঠহার এই তরুণীর কণ্ঠে পরিয়ে দিয়েছেন আর তরুণীও তা বিনাবাধায় কণ্ঠে ধারণ করেছেন।
রক্ষী ঃ তার মানে ইনি আজ থেকে আমাদের ছোট রানীমা হলেন!
ঈশানী ঃ (দৃঢ়কণ্ঠে) না,না।কিছুতেই না।
 মন্ত্রী ঃ এখন আর আপত্তি করে লাভ নেই মা।নিয়তি কেন বাধ্যতে! এ হোলো বংশের বিধান।অমান্য করার সাধ্য কারো নেই।রাজারও না।
ঈশানী ঃ এ বিধান আমি মানি না। শোষিত উৎপীড়িত কৃষককন্যা আমি।শোষক শাসকের ঘরণী হওয়ার কেনা বাসনা আমার নেই।
বিদূষক ঃ এভাবে বলবেন না ছোটোরানী মা।
ঈশানী ঃ খবরদার! আমাকে রানীমা বলবেন না।
বিদূষক ঃকী বলবো তাহলে?
ঈশানী ঃআমার নাম ঈশানী। যা বলার নাম ধরেই বলবেন।
মন্ত্রী ঃ রাজামশাই সম্পর্কে তোমার ধারণা ভুল মা।উনি শাসক অবশ্য ই,কিন্তু শোষক একদম নন।
ঈশানী ঃনন্? তাহলে তাঁর রাজ্যে কৃষকদের এমন দুরবস্থা কেন? কেন তাদের উৎপন্ন ফসলের দাম নেই?কেন প্রতিবছর সার বীজ আর প্রতিটি ভোগ্যপণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে?নিত্যনতুন ট্যাক্স বসিয়ে রাজামশাই প্রজাদের অর্থসম্পদ লুঠ করছেন,অস্বীকার করতে পারেন?
মন্ত্রী ঃ ভুল,ভুল। প্রচণ্ড ভুল করছেন আপনি।প্রজাদের অবস্থা স্বচক্ষে দেখবার জন্য রাজামশাই ছদ্মবেশে নগর ভ্রমণ করেন।প্রজাদের দুঃখকষ্ট দেখলে তার প্রতিকারেরও ব্যবস্থা করেন।ছদ্মবেশে নগর ভ্রমণ কালেই তো রাজামশাই আপনাদের দেখেছিলেন, আপনার কথা শুনেছিলেন।এমন প্রজাদরদী রাজাকে আপনি অযথা দোষারোপ করছেন মা।
ঈশানী ঃপ্রজাদরদী!(বিদ্রূপাত্মক হাসি) প্রজা কি কেবল নগরবাসীরা?গ্রামের কৃষকরা প্রজা নয়? গ্রামের মানুষদের সুখদুঃখের কোনো খোঁজ রাখেন আপনাদের প্রজাদরদী  মহারাজা?খরায়- বন্যায় রোগ-মহামারীতে কৃষকদের পাশে দাঁড়ান কি তিনি?তাঁর যত চিন্তা শহরবাসীদের নিয়ে।গ্রামে ভালো স্কুল নেই,হাসপাতাল নেই,রাস্তাঘাট নেই সে খবর কি রাখেন আপনাদের প্র-জা-বৎ-সল  রাজা?
রাজা ঃবেশ তো, রাজরানী হয়ে তুমিই না হয়  গ্রামের মানুষদের কথা ভাববে।উদিপুরের রাজার পরামর্শদাতার পদ দেওয়া হবে তোমাকে।
ঈশানী ঃ লোভ দেখাচ্ছেন? তা ওই পদে কতো সম্মানদক্ষিণা পাওয়া যাবে?মোটা টাকা হলে ভেবে দেখতেও পারি।
মন্ত্রী ঃআপনি কি বেতনের কথা বলছেন? তা কি রাজরানীর পক্ষে সম্মানজনক হবে?
রাজা ঃ তুমিই বলো তুমি কী চাও!
ঈশানী ঃআমি যা চাই দেবেন? 
রাজা ঃচেষ্টা করবো।
ঈশানী ঃ পারবেন না রাজা,পারবেন না।বিলাসবহুল জীবনযাত্রার হ্যালোজেন আলোয় নারীকে আপনারা দেখে এসেছেন চকচকে পেয়ালায় ঝকঝকে পানীয়রূপে।স্বাধিকারপ্রমত্ত পুরুষ কখনই  নারীকে তার প্রাপ্য অধিকার দেয় না।আপনিি দেবেন না।
রাজা ঃ(রাগত)থামো, থামো।অনেক বলেছো তুমি।তোমার রূপযৌবনের প্রতি আমার কোনো লোভ নেই।নেহায়েত ভুল করে একটা কাজ আমি করে ফেলেছি। সে য়ভুলের খেসারত আমাকে দিতেই হবে।মহান শতানীক রাজ বংশের রীতিঐতিহ্য অবমাননা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।আজই আমি তোমার বাবাকে আনতে লোক পাঠাচ্ছি। তিনি যদি রাজি হন ভালো।নইলে..
ঈশানী ঃ নইলে বলপ্রয়োগ?  তাই তো?
মন্ত্রী ঃ আপনিই বলুন,মা, রাজামশাই কীভাবে তাঁর বংশের রীতি ঐতিহ্য  রক্ষা করবেন।
ঈশানী ঃ আমাকে ভাবার জন্য একটাদিন সময় দিন।
মন্ত্রী ঃ তা কী করে সম্ভব? কাল পর্যন্ত তো পূর্ণিমা থাকবে না,সংক্রান্তিও না।যা করার আজই করতে হবে।
ঈশানী ঃ তাহলে আর আমি কী বলবো?বলির পশুর কাছে সম্মতি চাওয়ার কোনো অর্থ হয়?
রাজা ঃ এভাবে বলছো কেন,ঈশানী? 
ঈশানী ঃ বলির পাঁঠার সঙ্গে আমার কী পার্থক্য, মহারাজ?প্রথার যূপকাষ্ঠে যেমন করে পশু বলি দেওয়া হয় তেমনি করেই তো আপনারা আমাকে আপনার বংশের প্রথার হাড়িকাঠে বলি দিতে চাইছেন।সম্মতি দিলে ভালো,নইলে বলপ্রয়োগ। পার্থক্যটা কোথায় বুঝিয়ে বলবেন?
রাজা ঃ(আপন মনে) তাই তো!এভাবে তো কখনও ভেবে দেখি নি।মন্ত্রীমশাই!
মন্ত্রী ঃবলুন রাজামশাই।
রাজা ঃচলুন,আমরা ফিরে যাই।ঈশ্বরহীন এই মন্দিরে আর নয়।আপনি প্রত্যাগমনের ব্যবস্থা করুন।
মন্ত্রী ঃকিন্তু উনি তো এখনও সম্মতি দেন নি।বংশের বিধান তো রক্ষা করতে হবে।তবে কি....
রাজা ঃনা। ওকে ওর মতো থাকতে দিন। যে বিধান, যে রীতি বা প্রথা  কারো ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে,মানুষকে মনুষ্যত্বে উত্তীর্ণ করে না, তা কখনোই শতানীক বংশের বিধিবিধান হতে পারে না।আপনি এক কাজ করুন,এই মন্দিরের জন্ঢ় আরো এক সহস্র স্বর্ণমুদ্রা বরাদ্দ করুন।যাতে উনি ওনার পছন্দমত  যে কোনো বিগ্রহ এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।চলুন...
মন্ত্রী ঃ যথা আজ্ঞা। চলুন তাহলে...(প্রস্থানোদ্যত)
ঈশানী ঃনা,না,যাবেন না।
মন্ত্রী ঃকেন মা?আপনি তো আমাদের রাজামশাইয়ের পাণি গ্রহণে  সম্মতি দিচ্ছেন না।তা হলে যেতে নিষেধ করছেন কেন?
ঈশানী ঃরাজামশাইয়ের দেওয়া বরণমালা  আমি তো গলা থেকে খুলে ফেলিনি।এই দেখুন,এখনো সেই মোতিহার আমার গলায় শোভা পাচ্ছে। 
বিদূষক ঃ তা..তা...তার মানে?
মন্ত্রী ঃ তাহলে?
ঈশানী ঃ আমি রাজার এই মানবিক মুখটাই দেখতে চেয়েছিলাম।প্রথার  চেয়ে হৃদয়ধর্মকে যিনি বেশি গুরুত্ব দেন তিনিই তো হৃদয়েশ্বর হওয়ার যোগ্য। দয়া করে আমার বাবামাকে আনার ব্যবস্থা করুন।এই মন্দিরেই হবে বিবাহ অনুষ্ঠান।
বিদূষক ঃ জয়, উদিপুরের ছোটোরানীমার জয়।
[মন্দিরের ভেতর থেকে মহিলাদের শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনি।]
 
------------সমাপ্ত-----------
 
 
 
Nripendranath Mahanta 
Vill. & Post-HEMTABAD 
District -Uttar Dinajpur PIN-733130 
Mobile No. -891886 1003
-----------------------------------------------------------

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

প্রবন্ধ: সাম্যবাদী চেতনায় মানুষ-নজরুল ।। তৈমুর খান

সাম্যবাদী চেতনায় মানুষ-নজরুল     মানুষ-নজরুলকে খুঁজতে হলে তাঁর কবিতায়, বিশেষ করে সাম্যবাদী চেতনার আলোকে তাঁর স্বরূপ খুঁজে পাওয়া যাবে।      জীবনে-কর্মে-ভাবনায় তাঁর সার্বিক সাধনার বিষয় মূলত মানুষই। প্রকৃতি-প্রেম-বিদ্রোহ সবকিছুর মূলেই মানুষের অবস্থিতি। এক গভীর একাত্মতায় সেখানে ব্যক্তি হারিয়ে গেছে। তার বদলে রূপ পেয়েছে মানুষ, আর এই মানুষই মানবে রূপান্তরিত হয়েছে। সুতরাং নজরুলকে এবং মানুষ-নজরুলকে খুঁজে পাই তাঁরই সৃষ্টিতে, ভাবনায় এবং আত্মবিনির্মাণে। দেশের রাজনৈতিক কান্ডারিকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন :   "হিন্দু না ওরা মুসলিম ? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন ?   কান্ডারি !বলো, ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মা'র !"   তখনই বুঝে নিই নজরুল ভারতবাসী। তাঁর অন্যকোনো পরিচয় নেই ।শুধু 'মানুষ' পরিচয়েই তিনি নিজেকে প্রকাশ করতে চান। তাঁর এই মনুষ্যচেতনা থেকেই সাম্যবাদের জয়গান। কয়েকটি বৈশিষ্ট্যে আমরা   সহজেই নজরুলকে উপলব্ধি করতে পারি ।    সবার উপরে মানবতাবাদ   কবি নজরুল মানসে দেখতে পাই সবার উপরে এক   সর্বব্যাপী মানবিক বোধ কাজ করেছে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতা : উত্তমকুমার পুরকাইত

সে উঠানে দাঁড়ালে সে উঠানে দাঁড়ালে হলুদমাখা সন্ধ্যা নামে চ ন্দনের গন্ধ নিয়ে জ্যোৎস্না আসে চুপে, সে উঠানে দাঁড়ালে মাথার উপরে চাঁদ শুক্লাপক্ষের কুসুম শরীর প্রলয়প্রপাতে; মাথা নাড়লেই দোলনা হয় সে হাত বাড়ালেই জোয়ারের উচ্ছ্বাসে নীল দিগন্তে সে মিটিমিটি হাসে, ভোরের নৈবেদ্য নিয়ে দশহরা মাসে; সে উঠানে দাঁড়ালে মৃত্যুরা কেঁপে ওঠে জোরে কুয়াশার গর্ভে প্রাণ ধরে, সে উঠানে দাঁড়ালে রাত্রির ঠোঁটে হাসি ঝরে পূবের বারান্দায় দুটি চোখ মুখোমুখি দু'জনারে দ্যাখে।   *********************************   কবির নাম, ঠিকানা: উত্তমকুমার পুরকাইত শঙ্করপুর, পোস্ট-প্রাণবল্লভপুর, ডায়মন্ড হারবার, দক্ষিণ ২৪ পরগণা-৭৪৩৩৯৫ মোবাইল/হোয়াটসঅ্যাপ-৯৫৯৩১৩২৭৬৫ ই-মেইল: upurkait1978@gmail.com

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...
চিন্তার উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মেশকাতুন নাহার মানুষ জন্মগ্রহণ করে একটি নির্দিষ্ট পরিবারে, কিন্তু তার চিন্তার পৃথিবী নির্মিত হয় পরিবার, সমাজ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সময়ের সম্মিলিত প্রভাবে। সে উত্তরাধিকারসূত্রে শুধু রক্ত, সম্পদ, নাম কিংবা বংশপরিচয় লাভ করে না; উত্তরাধিকারসূত্রে পায় কিছু দৃশ্যমান এবং কিছু অদৃশ্য সম্পদ—বিশ্বাস, মূল্যবোধ, সংস্কার, জীবনদর্শন, নৈতিকতা এবং চিন্তার কাঠামো। সম্পদের উত্তরাধিকার যেমন প্রজন্মান্তরে সঞ্চারিত হয়, তেমনি অজ্ঞতা, কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও সংকীর্ণ মানসিকতারও এক ধরনের উত্তরাধিকারিক প্রবাহ রয়েছে। তবে অজ্ঞতা কোনো জৈবিক উত্তরাধিকার নয়; এটি মূলত সামাজিকীকরণ, পারিবারিক অনুশীলন এবং প্রজন্মগত চিন্তার পুনরুৎপাদনের ফল। একটি শিশু জন্মের সময় জানে না পৃথিবী কেমন; পরিবারই তাকে পৃথিবীকে দেখার প্রথম চশমাটি পরিয়ে দেয়। সেই চশমার কাচ যদি স্বচ্ছ হয়, সে বাস্তবতাকে বহুমাত্রিকভাবে দেখতে শেখে; আর যদি কাচে কুসংস্কার, ভয়, অন্ধ আনুগত্য ও সংকীর্ণতার আবরণ জমে থাকে, তবে পৃথিবী তার কাছে বিকৃত প্রতিচ্ছবির মতো প্রতিভাত হয়। এখানেই অজ্ঞতার উত্তরাধিকার সবচেয়ে বিপজ্...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

এ যুগের নারী ।। সঞ্জয় বৈরাগ্য

  এ যুগের নারী সঞ্জয় বৈরাগ্য নই আর মোরা সত্তাবিহীন, সে যুগের মতো নই পরাধীন নই তো আমরা অবলা, কূপমন্ডকী সুযোগ, সুবিধা, শুধুই সুখভোগী। আমরা, এ যুগের নারী। মোরা ভয় করি নাকো ঝড়-তুফানে লক্ষ্য মোদের সদা জয় পানে। দিতে পারি মোরা দিক-দিগন্তে পাড়ি যুগ-যুগান্তের নৌকা ধরি। আমরা, এ যুগের নারী। আমরা ঘোচাবো ভাবনা মা, বাবা'র 'কন্যাদায়' --- এ কথাটি তাদের ভুলিয়ে দেবো, হয়ে যে অনন্যা আমরা যে যত সাহসী কন্যা। আমরা, এ যুগের নারী। পুরুষের থেকে কম নই মোরা আমরাই ভুবনে সৃষ্টির আধার।  পার হতে পাড়ি কাটিয়ে শত ভয়, সাগরের ঐ অতল জলরাশি; আমরা, এ যুগের নারী।   =============== সঞ্জয় বৈরাগ্য কৃষ্ণনগর, নদীয়া।

গল্প ।। আত্মরক্ষার অধিকার ।। রণেশ রায়

আত্মরক্ষার অধিকার রণেশ রায় উনার নাম সুমন বোস। বয়স পঞ্চান্ন ছাপ্পান্ন হবে।  চব্বিশপরগনার আমতলায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে স্ত্রী সুজাতা কন্যা কল্যাণীকে নিয়ে থাকেন। একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করেন। অবস্থা খুব ভালো না হলেও খারাপ নয়। দিব্বি চলে যায়। ভ্রমণ রসিক মানুষ। ছুটি পেলেই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাওয়া। স্ত্রী ঘর সামলান মেয়েকে নিয়ে। মেয়ে  দেখতে শুনতে তেমন না হলেও তার দৃপ্ত হাসিমুখ নজর কাড়ে। সে প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী নিকটবর্তী কলেজে বিষ্ণুপুর এলাকায়। পড়াশুনায় মোটামুটি। একটু বারমুখী ।  বাবার সঙ্গে খুব খাতির। ওর মায়ের অভিযোগ বাবার কাছে মেয়ে প্রশ্রয় পায় তাই পরশুনায় তেমন মন নেই। তবে মায়ের সাহায্যে যে সে তৎপর  সে বিষয়ে মায়েরও সন্দেহ নেই।  মেয়ে একটু  বহির্মুখী বলে মায়ের চিন্তা। বাবা মেয়ের এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত। আর সেটাই মেয়েকে একটু বেয়ারা করে তুলেছে বলে মায়ের ধারণা। সব নিয়ে ভালো মন্দে সুমনবাবুদের সংসার। সুমনবাবু মেয়ের বহির্মুখী কাজে উৎসাহ দেন সন্দেহ নেই। সেটা যেন তাঁর গর্ব আর সেটাই স্ত্রী সুজাতার রাগের কারণ। মেয়ে কল্যাণী পাড়ায় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় উৎস...

কবিতা ।। আটক ।। তাপসী লাহা

আটক তাপসী লাহা  সময়টি নিঃসন্দেহে অতি তরল, তরঙ্গময় ঘোরের বারান্দায় পাখি দাঁড় করিয়ে রাখা চমৎকার লৌহশানিত খাঁচা  বিড়ালিনীর শেষ রাতে চুপিসারে এঁটো করা দুগ্ধ পাত্রটি,  ঠনক্ শব্দে কেঁপে ওঠে নিত্যগৃহী, ঘুম গহ্বর থেকে অতর্কিতে ফিরে আসা নিঃসার ধ্বংসছ্যাক শোভাহীন শুকনো ফুলের তোড়া তবু তো মায়া! স্নেহ বিপন্ন বস্তুসুলভ গাছ...... আহারে মেছো প্রাণ ------ মাংস দাঁতটির কি হবে ভাবতে ভাবতে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে ধুলোদের ঘরকন্না। ============ Tapashi Laha  Birnagar  733134 Raiganj  Uttar Dinajpur 

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতা ।। রক্ত গোলাপ ।। অমিত কুমার রায়

রক্ত গোলাপ  অমিত কুমার রায় এস অতুলপ্রসাদী গান গাই  'আ - মরি বাংলা ভাষা,  এসো, প্রতুলের গাওয়া গান গাই  'আমি বাংলার গান গাই  আমি বাংলায় গান গাই....." যারা মাতৃভাষায় কলঙ্ক লেপে উল্লাসে উঠেছে ক্ষেপে উপেক্ষা বাতাসে ভাসিয়ে দাও প্রতিবাদ ঝড় তীব্রতর হোক  তাদের বুকের ভেতর অশ্রদ্ধা উঠুক কেঁপে। এসো বাংলার ঘরে বাংলা স্বরে  বাংলা ভাষার ডিঙ্গা ভাষাই।  এসো বাংলার পথে বাংলার সত্য  ব্রতে লালনের গান গাই  লালনের গান গাই। এসো ফাগুনের কবি বৈশাখী রবি  আগুন শহীদ পাখি  এসো আগুনের ফুল ফাগুনের ফুল  আকাশের তারা আখি। ভাসে ভাষা ফুল মানবতাব গুল  রক্ত গোলাপে রাখী রক্ত গোলাপে ঢাকি।   ================== --- অমিত কুমার রায় হাওড়া  পশ্চিমবঙ্গ  ভারত

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

প্রশান্ত ষন্নিগ্রহীর তিনটি কবিতা

  প্রশান্ত ষন্নিগ্রহীর তিনটি কবিতা  ১.   বসন্ত বিলাপ তোমার পলাশ লালে লাল রাঙা  তোমার পলাশে ফাগুন, আমার পলাশে শয়তান পোকা  আমার পলাশে আগুন। তোমার আকাশ আবির মাখানো  গাঁথে মিলনের মালা, আমার আকাশ মলিন মুখেতে  সহে দংশন জ্বালা। ওখানে ঋতুরা আসে আর যায়  আনে রকমারি ডালি, এখানে বিষাদে ঋতুর সময়  সব কেড়ে করে খালি। তোমার পলাশে খুশির জোয়ারে  রাশি রাশি ভালোবাসা, রক্ত মাখানো আমার পলাশে  জীবন সর্বনাশা। ২.    উনুন একটা একটা করে কাঠ গনগনে আগুনে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে জীবন্ত উনুনের ভেতর। আগুনে পোড়ে কাঠ , কাঠ পুড়িয়ে চাই করে উনুন। উনুনে পোড়ে কাঠ,উনুন পোড়ায় নিজেকে। শুদ্ধ করে গনগনে আগুনের বিশুদ্ধতায়। জীবনের ঘাত প্রতিঘাত সয়ে; শুদ্ধ হয় মানব জীবন। ৩.   নগ্নতা  সকালে হাঁটতে বেরিয়েই চোখে পড়লো  অদ্ভুত এক নগ্নতা সাগর নদী পাহাড় নগ্ন  মাঠ ঘাট জঙ্গল নগ্ন  এক বিচিত্র নগ্নতায় ঢাকা প্রকৃতি যেন লালসার ভোগ্য বস্তু। চারপাশ থেকে শত সহস্র লকলকে জিভ  লোলুপ দৃষ্টিতে দংশন করে লুটে নেয় সব সাতসকালে নগ্নতা লুটের হাট! ওরই মাঝে একটি শিশুকে দেখতে...