যে-দেশে বহু ধর্ম বহু ভাষা অন্নদাশঙ্কর রায় যে-দেশে বহু ধর্ম সেদেশের মূলনীতি কী হওয়া উচিত? এ প্রশ্নের উত্তর পাকিস্তান একভাবে দিয়েছে। ভারত দিয়েছে অন্যভাবে। পাকিস্তানের অধিকাংশের ইচ্ছা অনুসারে স্থির হয়ে গেছে পাকিস্তান হচ্ছে ইসলামি রাষ্ট্র। সেই যুক্তি অনুসরণ করলে ভারত হতে পারত হিন্দু রাষ্ট্র। কিন্তু ভারত করল অপর একটি যুক্তি অবলম্বন। ভারতের মতে সব ধর্মই সমান, সব ধর্মই সত্য, সংখ্যাগুরুর মুখ চেয়ে একটি ধর্মকেই রাষ্ট্রধর্মে পরিণত করলে আর-সব ধর্মের ওপর অবিচার করা হবে, সুতরাং সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু নির্বিশেষে সর্বোদয়ের বিচারে সকলের প্রতি সমদর্শিতার খাতিরে ভারতকে হতে হবে সেকুলার স্টেট। যে রাষ্ট্র ধর্মের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ। এই যুক্তি বর্মাও অবলম্বন করেছিল। কিন্তু কী যে দুর্বুদ্ধি হল উ নু এবং তার দলের, তাঁরা সাধারণ নির্বাচনে জিতেই আইন পাশ করিয়ে নিলেন যে বর্মা হবে বৌদ্ধ রাষ্ট্র। অধিকাংশের ইচ্ছায় কর্ম, কে বাধা দেবে? কিন্তু এর পরিণাম হল অশুভ। শান, কারেন প্রভৃতি পার্বত্য জাতির তরফ থেকে দাবি উঠল আংশিক স্বাতন্ত্র্যের। শেষে প্রধান সেনাপতি রাষ্ট্রীয়ক্ষমতা আত্মসাৎ করে শাসনতান্ত্রিক সরকার ধ্বংস করলে...
দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...