তোমাকে
আরজু মুন জারিন
দেখতাম তোমাকে কলেজ যাওয়ার সময়। কখনও আদিযুগের পুরনো সাইকেলে চড়ে, কখনও বা হেঁটে হেঁটে যেতে।পুরনো ধরনের সাধারণ পোষাকে, আরেকবার স্টাইল করে চুল আঁচড়িয়ে, জিন্স আর টিশার্ট পরা, কোনো দিকে যেন তোমার ছিল না কোনো নজর। যেনতেন একটা পাঞ্জাবী পরতে। চুলগুলো দেখে মনে হত- যেন বাবুই পাখির বাসা। এই যে তোমার সাদাসিধে আটপৌরে ভাব সেটাই আমার মনকে জয় করে নিয়েছিল সবচেয়ে বেশি। তোমার অধিকাংশ বন্ধুরা বাবার গাড়ী দিয়ে বিলাসতা করে যেত ভার্সিটিতে। এসব বিলাসিতা কিংবা লোক দেখানো, কোনো কিছুতেই যেন কোনো মনোযোগ ছিল না তোমার। কারও গাড়ীতেও চড়তে চাইতে না। ক্যাব-ট্যাক্সিও পছন্দ করতে না। প্রতিদিন সকালে আমার জানালার পাশ দিয়ে সাইকেল চালিয়ে যেতে ভার্সিটিতে। আমি জানালা দিয়ে লুকিয়ে দেখতাম। খুব ইচ্ছা হত, পিছন ফিরে একবার তাকাতে যদি তখন। আমি মায়ের সেই ফুলতোলা শাড়িটি পরে জানালার আড়ালে লুকিয়ে থেকে তোমাকে দেখে যেতাম। ভীষন ইচ্ছে হত- সাইকেল ক্যারিয়ারে যেখানে ব্যাগটা রাখা, সেখানে বসে হাতটা তোমার কাঁধে রাখি। এ ছিল আমার প্রথম কোনো পুরুষকে উপলব্ধি। ঠিক বলতে পারছি না- এটা কি কোন প্রেম ছিল? নাকি ছিল আমার নারীত্বের প্রথম অনুভূতি? বয়সটা তখন আমার সতের। দুইমাস পর ইন্টারমেডিয়েট পরীক্ষা। তুমি তখন বাংলায় মাস্টার্স এর ছাত্র। দিনরাত পার করে দিতাম আমি তোমার সাইকেলের বেলটা শোনার জন্য। সন্ধ্যায় পড়ার টেবিলে বসেও কান পেতে রাখতাম- এই বুঝি তোমার সাইকেলের আওয়াজটা শোনা যায়। এভাবেই কেটে যেত কতটা সময়; ঠিকই জানতাম, কোন সময়ে তুমি আসতে এই পথে,কোন সময়ে পার হতে। সে বছর দূর্গা পূজোর আগের রাত। সাহস বুকে ভাবলাম যা-ই হোক, আজ তোমার যাওয়ার রাস্তায় হাঁটব, অভিনয় করে, ঠিক সিনেমার নায়িকার মত। যেন আচমকা ঠিক পড়ে যাই তোমার সাইকেল এর সামনে । পড়ে গিয়েছিলামও বটে। কিন্তু সাহস হয় নি তোমার সামনে আসার। দেখলাম, বেশ সুন্দর দেখতে একটা মেয়ে তোমার সাইকেলের পেছনে বসে। তোমার কাঁধে হাত রেখে। দিবানিশি যার কল্পনা আমি করতাম ।তোমাদের দুজনের চোখে মুখে ছিল মুগ্ধতা। কী একটা কথার ছলে হাসতে হাসতে নুয়ে পড়ছিলে দুজনে। আমার সাহস আর ইচ্ছারা জ্বলে পুড়ে মরে গেল যেন সেই বিকালে। ঠিক জানি না আসলে কী সম্পর্ক ছিল দুজনের মাঝে?
বন্ধুত্বের? নাকি প্রেমের? আমার মনে বার-বার ভেসে ওঠছিল- তোমাদের সেই আনন্দ আর হাসিমাখা মুগ্ধ দৃষ্টি।
এরপর তোমার আসা যাওয়ার রাস্তায় আর দাঁড়ানোর কথা ভাবি নি। কিন্তু তোমার কল্পনা করা কখনও বন্ধ করতে পারি নি। স্বপ্নও দেখেছি কত।জানো কি? তোমাকে নিয়ে এরকম একটা সন্ধ্যা বিকালের স্বপ্ন দেখেছিলাম আমিও। তোমার আসার রাস্তায় পড়ে আছি একদিন বেহুশ হয়ে। তুমি দৌঁড়ে এসে আমার পাশে বসে পড়লে। পানি ছিটিয়ে দিয়ে আমার জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করলে। আমার বুকে মাথা রেখে হৃদয়স্পন্দন শুনতে চেষ্টা করলে।আমি ঠিক সিনেমার অভিনেত্রীর মতই নিঃশ্বাস বন্ধ করে নিথর শুয়ে রইলাম। আমাকে অক্সিজেন দিতে চেষ্টা করলে। তোমার মুখটা আমার মুখে লাগিয়ে।
জেগে ওঠলাম হঠাৎ। কী যে এক বেদনার স্বপ্ন। কিন্তু আমার মনটা হয়ে গেল বেশ ফুরফুরে। প্রজাপতির মত আনন্দে নাচতে চাইল । সারাটা দিন স্বপ্নের স্পর্শ আমার মনকে আবিষ্ট করে রইল। পরের দিন তোমার বড় বোন এলেন আমাদের বাড়ী। সে কী এক উত্তেজনা যে ছুঁয়ে গেল আমার। মনে হলো, তোমার বোনকে একবার ছুঁতে পারলে যেন তোমাকে ছোঁয়া হবে। আমি ঠিক ইচড়েপাকা মেয়ের মত মার আরেকটা শাড়ি পরে ঘুরঘুর করতে লাগলাম তোমার বোনের চারিপাশে। তোমার বোন এর নজর পড়ল একসময় আমার ওপর।
"আরে খালাম্মা! শিমুল তো একেবারে বড় হয়ে গেছে। কনের মত লাগছে দেখতে"।
"হুম! ছেলে দেখে তোমাকে বিয়ে দিতে হবে"। এটা বলে মজার ছলে আমার মাথা নেড়ে দিলেন উনি। মা হাসলেন শুনে।
"দেখো পাকনা মেয়ের কাণ্ড! একেবারে শাড়ি পরে গিন্নী বনে গেছে"।
কথায় কথায় তোমার বোন বলে ওঠলেন- উনার ননদের সাথে নাকি তোমার বিয়ে ঠিক হয়েছে।
তোমাদের নাকি একে অপরকে পছন্দ।
মা আশ্চর্য হয়ে বললেন, "সে কি? ওর বয়স কত? পড়াশোনাই তো শেষ হয়নি"।
জানতে পারলাম, মেয়েটার অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক হওয়াতে সে প্রচুর কান্নাকাটি করছিল। অবশেষে তোমাদের সম্পর্কের কথা বাড়ীতে বলে দিয়েছিল।
দুপক্ষ এই সম্পর্ক মেনে নিয়েই নাকি বিয়েতে সম্মতি দিয়েছে। তুমি আপাতত ওদের দোকানে বসবে। ঘরজামাই হয়ে থাকবে। তাই আমিও রাজী হয়ে গেলাম। খালাম্মা, ভাই সাথে থাকবে বলে। না হলে শিমুলকে কত পছন্দ ছিল আমার। তোমার বোন বললেন কথাগুলো।
পরের মাসে ঘটা করেই তোমাদের বিয়েটা হয়ে গেল। তুমি জানো না, আমার অনেক জ্বর নিয়েও তোমার বিয়েটা দেখতে গিয়েছিলাম। তোমার স্ত্রীর চারিপাশে ঘুরে ঘুরে নেচেছিলামও আমি । কেউ বুঝতে পারেনি, আমার এত জ্বর ছিল। ঘরে আসার পর শুধু মা জিজ্ঞাসা করল তোকে এমন দেখাচ্ছে কেন? আমার গায়ে হাত দিয়ে চিৎকার দিলেন। সেই বছর আর পরীক্ষা দেওয়া হয় নি। কঠিন টাইফয়েড হয়ে গেল। মাথার চুল ঝরে গিয়ে এক কিম্ভুতকিমাকার চেহারা দাঁড়াল। একদিন বান্ধবীর বাসা থেকে নোট নিয়ে আসার পথে ঠিক তোমাদের মুখোমুখি। আমি তো একেবারে লজ্জায় লাল ! পালিয়ে যাচ্ছিলাম।তোমার স্ত্রী আমার নাম ধরে ডেকে থামিয়ে দিল।
"এই মেয়ে! তুমি তো শিমুল। তাই না"?এই শোনো! তুমি না যা সুন্দর নাচতে পারো।তুমি অবশ্য আমার দিকে কোনো মনোযোগ দিচ্ছিলে না। ফোনের ম্যাসেজ দেখায় ব্যস্ত ছিলে। তাড়া দিচ্ছিলে তোমার স্ত্রীকে,
"বাবা আমাদের জন্য ওয়েট করছে। গেস্টরাও চলে আসছে"। এই বলে স্ত্রীর হাত ধরে টানছিলে। সেইদিন-ই প্রথম বুঝতে পারলাম,তুমি আমাকে খেয়াল-ই করো নি কোনোদিন। আমরা যখন কাউকে ভালোবাসি আমাদের মনে এই স্বপ্ন থাকে যে, সেও হয়তো আমাকে ভালোবাসে ।
আজ আবার কতদিন পরে তোমাকে দেখলাম। আমার প্রথম প্রেম তো ছিলে তুমি। হোক না সে একতরফা।
আমি তো সত্যিই ভালোবেসেছিলাম তোমাকে। দুটো বছর কেটে গেল এভাবে তোমার স্মৃতির সাথে তোমাকে না দেখে। সামনে পরীক্ষা চলে এসেছে। সব ভুলে এবার বেশ সিরিয়াসলী পরীক্ষা আর পড়াশোনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সেই বছর ভীষন গরম পড়েছিল। এরকম এক জৈষ্ঠ্য মাসের গরম বিকালে আম কাঠালের মৌসুমে তোমাকে দেখলাম আচমকা, এক বিরাট কাঠাল হাতে। আমাদের বাসার পিছন দিকে ছিল ফলের বাগান। যেখানে বড় আম গাছ বরই গাছ আর ছিল দুই কাঠাল গাছ। কাঠাল গাছ দুটো এমন অদ্ভুত ভাবে ঝুকে থাকা ভঙ্গিতে দাড়িয়ে যা অনেক টা একটা ছেলে একটা মেয়ে যখন কথা বলতে বলতে আবেগে ঝুকে পড়ে পরস্পরেরর !। আমার অতি প্রিয় দুটি গাছ। এদের গায়ে হেলান দিয়ে চলত আমার বিকালের গল্প বই পড়া। যদিও কাঠালের গন্ধে পালাতাম আমি আমরা সব ভাই বোন তখন। বাবা কাঠাল এনে আমাদের পিছনে হাটতে থাকতেন খাওয়ানোর জন্য। আমরা বোনরা পালিয়ে বেড়াতাম বাবার কাছ থেকে কাঠালের গন্ধ থেকে বাঁচার জন্য। শুধু ছোট ভাই বাধ্য ছেলের মত বাবার পাশে গিয়ে বসতো, বাবাকে খুশী করার জন্য। বাবা একটা একটা কোষ বের করে চিপে নিতেন, তারপরে মেশাতেন দুধ। এরপর মেশাতেন মুড়ি, খই। এ ছিল ওনার ভারী পছন্দের খাওয়ার। পুরো দুই মাস এই খেতেন, বলা যায়। একটা শেষ হলে কিনে নিয়ে আসতেন আরেকটা কাঠাল।
ছোট ভাই মুখ একটু করুন করে বলতো
"আমি খালি কাঠাল খাব আব্বা, দুধ মুড়ি না"। আব্বা যে মেখে রস বানিয়ে ফেলত তা ছিল ওর অপছন্দ। এরকম এক বিকালে বাবার কাঠাল খাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে আমি চলে গেলাম পিছনের বাগানে, হাতে গল্পের বই ।
তখন ই দেখলাম তোমাকে, আমাদের বাগানের কাঠাল গাছের নীচে মাটিতে হেলান দিয়ে বসে, খাওয়ার প্রস্তুতিতে। হৃৎপিন্ড লাফ দিয়ে উঠল একেবারে তোমাকে দেখে!! তুমি এখানে কেন কিভাবে !!তা মাথায় আসেনি তুমি ই এখানে এই ব্যাপার !!! সামনে না গিয়ে লুকিয়ে গেলাম বড় আম গাছের আড়ালে। দেখলাম !হাত এর পাঁচ আঙ্গুল জড় করে দিলে বাড়ি কাঠাল এ। খুলে আপনমনে খেতে থাকলে। মনে হয় খুব ক্ষুধার্ত ছিলে। বা কেউ দিয়েছিল তোমাকে আসার সময়। হয়তো তোমার ঘরে যাওয়ার নেই সময়। এই কাঠাল টিকে ফেলে দিতে চাইছোনা বলে খাচ্ছো বা কাঠাল হয়তো তোমার পছন্দের। আমার তো আর কখন ও জানা হলনা আসলে কি কি তোমার পছন্দের।
পছন্দের খাওয়ার কি, পছন্দের লেখক কে? পলাশ ফুল হয়তো তোমার পছন্দের। দেখতাম প্রায় হাতে পলাশ ফুল বাড়ী যাওয়ার সময়। এর পরে বেশ কিছুদিন এই রাস্তায় তোমাকে দেখিনি। আমি প্রতিদিন বসে থাকতাম জানালার পাশে অপেক্ষায়। দিন চলে যায় মাস ঘুরে আসে । হঠাৎ ই অনেকদিন পরে এক শীতের বিকালে বাড়ীর সামনের রাস্তায় তোমাকে পেলাম। দেখে চমকে গেলাম। আমি একটু দুরে দাড়িয়ে। যাই হোক একটা জলজ্যান্ত মানুষ তাও মেয়ে তাও একা তুমি খেয়াল করলে কিনা তাও বুঝলামনা। দেখলাম তুমি সিগারেট খাচ্ছো !! ও কি অসহ্য !! তুমি জাননি আমি কত কষ্ট পেয়েছিলাম সেদিন। তোমার চেহারায় সেই ধীর স্থির যে ভাবটার আমি প্রেমে পড়েছিলাম সেখানে আজ একটু বিরক্তি অস্থিরতা। সিগারেট এক টান দিয়ে ফেলে আরেকটা ধরাচ্ছো। আমার ইচ্ছে হল ছুটে গিয়ে তোমার হাত থেকে সিগারেট কেড়ে নিয়ে ফেলে দিতে। সিগারেট এর থেকে যে ভয় হচ্ছিল বেশী তুমি কোন নেশা গাজায় আসক্ত হচ্ছোনা তো। কেননা তোমাকে অস্থির দেখাচ্ছিল। হাতে তোমার একতাড়া কাগজ। কিছু লিখছিলে সম্ভবত। আবার ছিড়ে ও ফেলছিলে কাগজ ধুর ধুর বলে। হঠাৎ করে যেন তোমার মনোযোগ পড়ল আমার দিকে। আমাকে হাত ইশারা করে ডাকলে মনে হল পরে নিজে আবার এগিয়ে আসতে শুরু করলে আমার দিকে। আমার পা মনে হচ্ছিল কেউ যেন মাটির সাথে গেঁথে রেখে দিয়েছিল। ছুটে বাড়ীর ভিতরে চলে যেতে চাইলে ও পারছিলামনা।
"এই কি আপনার বাড়ী?" খুব মায়াভরে আমাকে জিজ্ঞাসা করলে। আমি তোমার কথায়, স্বরে চাহনিতে একেবারে দ্রবীভুত হয়ে যাচ্ছিলাম একটু আগের ভয় ভুলে।
মাথা নেড়ে সায় দিতে বলল "আমাকে একটু জল খাওয়াবেন"। এখন দেখলাম বেশ ভাল করে আবার মুখটা। না চেহারা অভিব্যাক্তি বেশ চকচকে স্বচ্ছ। কোন গাজা নেশার ছাপ নাই তাতে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম এবার। দৌড়ে গিয়ে জল আর কিছু মিষ্টি ছিল ঘরে তা নিয়ে এলাম। ছো দিয়ে বলা যায় কেড়ে নিলে আমার হাত মিষ্টির প্লেট আর জলের গ্লাস।
"কিভাবে জানলেন আমার খিদে পেয়েছে। আমি আজ না খেয়ে ঘর থেকে বের হয়েছি মায়ের সাথে ঝগড়া করে জানেন"।
আমি জানি মনে মনে বললাম। বাহিরে বললাম "শুধু জল আমরা দেইনা কোন অতিথিকে"।
"আমি কি অতিথি? আমি তো হঠাৎ উড়ে আসা আগন্তক"!!! বলে হাসলে চমৎকার। যাক আমি নিঃশ্চিত এবার তুমি কোন ও গাজা নেশা করছিলেনা।
তুমি আবার ও বললে "সন্ধ্যার এই অন্ধকার রাস্তায় একা কেন দাড়িয়ে আপনি? এ তো নিরাপদ না মেয়েদের জন্য। যদি ও আপনি থাকাতে এই জল খাওয়ার টা খেতে পারলাম আমি ধন্যবাদ দিই তাতে। তার জন্য কনসার্ন না দেখিয়ে পারছিনা"।
পরক্ষনে আবার ও হাসলে। বললে এবার মজার কথা। "এ তোমাকে বলবে সমাজ ,মানুষ। রাতে ঘরের বাহির হোয়না একা। তুমি মেয়ে। মেয়ের গন্ডী টেনে চল। বলে একটু হাসলে আবার ও।
আপনি থেকে তুমি সম্বোধনে আবার । তুমি মনে হয় খেয়াল ও করছোনা কখন আমাকে আপনি বলছ কখন তুমি।
"এ মোটে ই আমার কথা না। অন্য মানুষের, সমাজ এর। সমাজ মেয়েদের কে একটা সীমারেখায় রেখে দিতে যায় । আমি এখন ই আবার এ বলছি খবরদার তুমি এইভাবে সন্ধ্যায় চুল ছেড়ে এইভাবে পার্কে দাড়িয়ে থাকবে, যাতে আমার চিত্ত হেলে যেতে পারে বলে এবার হেসে উঠলে হো হো করে। আমাকে জল আর মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করবে অর্থাৎ পথচলতি অসহায় আগন্তক যার সাহায্য দরকার তাকে সাহায্য করবে। সীমারেখা আবার কি? আমরা ই টানি প্রয়োজনে আমরা ই সরিয়ে দিব। তুমি সীমারেখা সরাতে পারলে তো তুমি বুঝবে তোমার আছে কি কি সম্পদ সম্ভাবনা? তুমি জানতে পারবে চাইলে তুমি পারবে করতে কত কিছু"!!!
"এই যে দেখ এই ব্যাপার আমার লেখালেখি নিয়ে আজ একটু মনোমালিন্যের মত হয়ে গেল মায়ের সাথে! আমি বিসিএস পাশ করে বসে আছি। কোন ও জব এর খোঁজ করছিনা। আমি লিখি ! মা আপনজনরা তো এ বুঝতে পারেনা । আমি বড় আকারে সমাজের কথা ভেবে লিখি এ হয়তো বুঝেনা। আপনজন মনে করে কোন কষ্ট ব্যাথা পেলে বুঝি মানুষ লিখে। হ্যা ব্যাথা অনুভব করা ও লেখার প্রধান প্রেরণা বা চালনাশক্তি। হয়তো আমি সবার বেদনা বুঝি তাই বেদনা লিখে মানুষকে তার সমাধান দিতে চেষ্টা করি"। একনাগাড়ে কথাগুলো বলে হাঁপাতে থাকলে । আমার ভিতরটা এক ব্যাখ্যাতীত মায়ায় ভরে গেল তোমার জন্য। আমি ও যে ঠিক তোমার ই মত আট দশজনের ভাল জীবন নিয়ে ভাবি।
অনিদ্রার ব্যাপারটা শুরু হল আমার তখন থেকে। রাত জেগে থাকা অভ্যাস এ পরিনত হয়ে গিয়েছিল যেন। মাঝে মাঝে চোখের পাতা বন্ধ হয়ে আসত যেন খুলে রাখতে পারতামনা। ঝিমিয়ে পড়তে পড়তে একসময় ঘুমাতাম রাত জাগা পাখীর মত প্রাতে । ঘুমাতে ভাল লাগতনা। ইচ্ছে হত সারা জাত জেগে জপি আর ভাবি তোমাকে। রাত জেগে তোমার ছবি দেখি। তোমার ভাবনায় যে এত আনন্দ ঘুম ও আমার সেই আনন্দে ব্যাঘাত করতে চাইতনা।তোমার একটা ছবি আছে আমার কাছে। কিভাবে সংগ্রহ করেছি এ বলা যাবেনা গোপনীয়তা কাম্য। একদিন কোন কারনে তুমি আমাদের বাসার সামনে বাসে চড়েছিলে। আমি ছিলাম তোমার পাশের সিটে। তাও তোমার নজর পড়েনি আমার দিকে। জানালা থেকে প্রকৃতি দেখতে ব্যাস্ত ছিলে তুমি। একসময়ে মনে হল একটু ঘুমিয়ে ও পড়লে। মনে হল আহারে রাতে ঘুমাওনি নিঃশ্চয় ।
আমার ও ঘুম পাচ্ছিল বেশ বাসের দুলুনিতে। তাও জেগে রইলাম শিয়রে বসে। আমার স্কুল চলে গেল নামতে ও পারলামনা। তোমার ঘুম ভাঙ্গিয়ে জাগাতে ও পারলামনা। তোমার গন্তব্য তো আমার নাই জানা। কেউ একজন দাড়াল এসে তোমার সামনে। তাতে তুমি জেগে উঠলে। সামনে বুজুর্গ দেখে আসনটি তে ওনাকে বসতে দিয়ে এসে দাড়ালে ঠিক আমার সামনে হ্যান্ডেল টি ধরে।এত কাছে এক ইঞ্চির দুরত্বে। সেদিন বাসে অনেক ভীড় বাসের দুলুনীতে ঝুকতে ঝুকতে তুমি একেবারে চলে এলে আমার খুব কাছে যে আমি স্পষ্ট তোমার নিঃশ্বাস এর আওয়াজ শুনতে চাচ্ছিলাম। হঠাৎ বাস ব্রেক কষে থামায় তুমি অনেক টা আমার কোলে বসে পড়ার মত হয়েছিলে তাতে এই প্রথম তোমার আমার চোখাচোখি হয়ে গেল।
এই প্রথম মনে হল তুমি যেন আমাকে একটু বুঝলে
গভীরভাবে তাকালে। ছেলেরা মেয়েদের দিকে তাকায় দুভাবে। আর এই দৃষ্টিতে মেয়েরা চিনে নেয় তাদের।
একদল ছেলে আছে যারা প্রথমে মেয়ে একটা শরীর কে দেখে। আর এভাবে যারা দেখে তারা একটা মেয়ে সম্ভ্রান্ত কি বংশীয় ভাবেনা। মেয়েরা ও গভীর আত্মিক হয় এ সম্ভবত তারা শিখতে পারেনা তার অভ্যস্ত পারিপাশ্বিক এর কারনে। নিজেদের মতই সঙ্গীকে পার্থিব রুপে দেখে অভ্যস্ত । আরেক দল আছে এই যে যার ছায়া আমি দেখেছি তোমার মধ্যে । মেয়েদের চোখের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করে। হয়তো ভবিষ্যতে তোমার ও পরিবর্তন হতে পারে।আমাকে দেখে কি বোধ করলে তাতো আর জানতে পারিনি কখন ও তবে অনুভূতির শিহরনে তোমার নৈকট্যে কাঁপছিলাম একটু একটু আমি। এবার তোমার দৃষ্টিতে আমি ও দেখলাম বিষ্ময়ের ভাব
ভাবছিলে হয়তো এ কে ? আমাকে কি চিনে !!! আমাকে এভাবে দেখছে কেন? তোমাকে ঝুকে থাকতে দেখে আমি ও এবার দাড়িয়ে গেলাম "আপনি বসবেন বসুন না তোমাকে আসন অফার করলাম তখন। তাতে খুব কাছে চলে এলাম আমরা। আমি আবেগে আবেগে মরে যাচ্ছিলাম। এত কাছে আমরা দুজন চাইলে চাইলে ই আমাকে বুকে আগলে রাখতে পারতে। আমি অনেকটা এবার ভিখারীর মত উম্মুক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম তোমার চোখে। তুমি আবার ও পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর হাসি দিয়ে নড়িয়ে মাড়িয়ে দিলে একেবারে আমাকে। এবার কথা বললে আমার সাথে জীবনে প্রথমবার এর মত। খুব শুদ্ধ পরিস্কার বাংলা উচ্চারনে
"আরে না কি বলছো? মজা করে বললে আমি ভাবছি না এ যে তুমি মেয়ে বলে বসতে হবে। তুমি বসেছিলে তাই এ তোমার সিট। হ্যা যদি আমার জায়গায় বয়স্ক কেউ এরকম দাড়িয়ে থাকত আর তুমি তাকে এই সিট অফার না করতে আমি নির্ঘাৎ তোমার সাথে ঝগড়া করতে আসতাম বলে আবার ও হাসলে বিশ্বের মধুরতম হাসি। এই একটি দুটি কথায় তুমি নিজের সম্পর্কে কত কিছু বলে দিলে আমায়। আমি বুঝলাম তুমি মানুষটি বেশ স্বচ্ছ সরল স্ফটিকের মত।
তুমি মানবিক বয়স্কদের মায়ায় শ্রদ্ধায় দেখ। বাতাসে আমার দুএক টা চুল উড়ে এসে তোমার মুখে স্পর্শ করে যাচ্ছে। তোমার এ দিকে কোন ও খেয়াল ও নেই।বা আমাকে মেয়ে বলে আমার সান্নিধ্যে দাড়ানোর কোন ও চেষ্টা নেই। আর এই যে অনায়াসে তুমি করে বলা প্রথমবারে তাও বলে দিল প্রথাগত সামাজিক সৌজন্যের দিকে তোমার নাই কোন ভ্রুক্ষেপ।
তোমার জায়গায় আসতে আমাকে একেবারে কিছু না বলে বিদায় সম্ভাষন না করে নেমে পড়লে। এ ও ভারী অদ্ভুত লাগল আমার। তুমি ও জানলেনা যতক্ষন তোমাকে দেখা যাচ্ছিল আমি তাকিয়ে ছিলাম তোমার পথের দিকে। সেদিনে বিকালে বেশ ঝড় তার সাথে তুমুল বৃষ্টি। বৃষ্টির পানির ছাট ঘরে চলে আসছিল দেখে তাড়াতাড়ি বারান্দার দরজা বন্ধ করতে এলাম। অন্ধকার বারান্দায় এক দীর্ঘ ছায়ামূর্তিকে দাড়িয়ে থাকতে দেখলাম। আঁতকে পিছিয়ে যেতে ছায়ামূর্তি বলে উঠলো
"ভয় পাবেন না। আমি বৃষ্টি থামলে চলে যাব। এবার ঘরের আলোয় দৃশ্যমান হলে তুমি। টপ টপ করে জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো চোখ বেয়ে। অন্ধকার আর বৃষ্টিতে আমার চোখের জল কে লুকিয়ে ফেলতে পারলাম।
"এ তো ডেসডিমোনা ! না না মিরান্ডা। তুমি বললে কৌতুকে।
"কে রে ভিতর থেকে মায়ের গলার আওয়াজ পেলাম। মা ও বের হয়ে তোমাকে দেখলেন "ও মা পলাশ দেখি" বাহিরে কেন? ভিতরে এসো"।
"আপনি আমাকে চেনেন" তোমার অভিভূত কন্ঠস্বর। তুমি পলাশ। পুতুলের ভাই। মনে নেই তোমার বিয়ের দিন আমার প্লেটে বরের রোষ্ট দিয়েছিলে আমি মজা বলায়, মা হেসে বললেন। এবার তুমি কাদা জুতা নিয়ে ঘরে ঢুকে পড়লে আর বললে " মাসী তাহলে একটা আব্দার ছিল। এক কাপ গরম চা আর ঝাল মুড়ি খাওয়াবেন? বৃষ্টির জল গায়ে লেগেছে। ঠান্ডা লেগে গেছে মনে হয়"। মা ব্যাস্ত হয়ে পড়লেন। "শিমুল টাওয়াল দে ওর মাথা মোছার জন্য। আমি এক্ষনি তোমার জন্য চা আনছি। মা মাত্র ই সিঙ্গারা, ছোলা বানিয়ে টেবিলে রেখেছিলেন বিকেলের জলখাবার হিসেবে। "ও মাসীমা আমার মা এত সব প্রিয় খাবার। এক চেয়ার টেনে বসে পড়লে। অনুমতির তোয়াক্কা না করে খেতে শুরু করলে সিঙ্গারা একটার পর একটা। ছোট বোন আমার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপলো।
এইভাবে আমার এইচএসসি পাশ এর খবর আসল একদিন ভাল রেজাল্ট সহ। বাসায় আনন্দের পরিবেশ। বাবা মিষ্টি নিয়ে এসেছে। সেই সন্ধ্যায় দরজায় টোকা। খুলতে ধ্বক করে উঠল বুকের ভিতরটা খুশীতে আনন্দে পুতুল আপুর সাথে তুমি ও দাড়িয়ে। কনগ্র্যাচুলেশন ! সেলিব্রেশান
শিমুল! মাই গড এত ভাল রেজাল্ট !! আমি তো ভেবেছিলাম তুমি একটা ফেলু কাঁদুনে মেয়ে !
মাই গড ফিঁচকে হেসে বললে তুমি।
আমি তাড়াতাড়ি ভিতরের ঘরে চলে এলাম। আয়নায় চেহারা দেখে হয়ে গেলাম হতাশ। এমন বিশ্রী শুকনা লাগছিল ওইদিন আমাকে। রেজাল্ট এর টেনশনে না ঘুমিয়ে চেহারা র প্যাটার্ন হয়ে গেছিল কাকতাড়ুয়া টাইপ। ইশ আগে জানলে একটু সেজে থাকতে পারতাম। এখন তুমি দেখে ফেলছ । জামা টা ও চেন্জ করা যাবেনা। অগত্যা একটু চোখে মুখে পানি দিয়ে ফ্রেশ ভাব আনার চেষ্টা করলাম। বোন লুকিয়ে দেখতে লাগল আমাকে! ড্রইং রুমে এসে দেখি মা আর বোন মিলে নাস্তার টেবিলের স্তুপ বানিয়ে ফেলেছে।
পুতুল আপু কাছে এসে বললেন "তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে শিমুল বলে একটা প্যাকেট দিলেন আমার হাতে।
কি এটা আমি খুশী আর উত্তেজনা চেপে জিজ্ঞাসা করলাম।
দেখনা পলাশ তোমার জন্য কি গিফট আনছে!
তোমার মুখ টা এবার লজ্জায় লাল হয়ে গেল। আরে না না বলে উঠলে বিব্রত ভঙ্গীতে
কে বলে ছেলেদের লজ্জায় মানায়না। লজ্জাকে বলে নারীর ভূষন।
এই যে লজ্জা টা হজম না করে কেমন আলোকিত হয়ে গেল তোমার চেহারাটি।
"না না আসলে আমি কিছু টাকা পেয়েছি আমার পাবলিশার থেকে প্রথম কবিতার বই ছাপানোর জন্য। আজ সবার জন্য কিছু না কিছু কিনেছি। তুমি আমাকে কত মজার খাওয়ার খাওয়ালে দুইদিন । কৃতজ্ঞতা বলে একটা ব্যাপার আছে না। তাছাড়া তুমি এত ভাল রেজাল্ট করলে"।
"শিমুল এখানে একটা শাড়ি আছে তুমি যদি পড় আমি খুব খুশী হব" এবার তুমি বেশ ফ্রী হয়ে লজ্জা ভেঙ্গে কথা বললে আর প্যাকেট থেকে বের করে দেখালে । মা বাবা দুজনে মুখ চাওয়া চাওয়ি করলেন এবার।
আমার জীবনের চরম আনন্দ খুশীর দিন ছিল সেদিন। তুমি আমার জন্য কোন গিফট কিনে আনতে পার এ আমার কল্পনার ও অতীত। আনন্দ, লজ্জা সবার অনুসরনের দৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য ভিতরের ঘরে চলে এলাম। এসে খুললাম শাড়ীটি। কি সুন্দর ! হলুদ আর ক্রিম জমিনে চমৎকার এক শিফন শাড়ি। এত পাতলা শাড়ি পরতে আমি লজ্জা পাই। শরীর দেখা যায় বলে। কিন্তু আজ পরে ফেললাম তোমার জন্য।
কি রে পলাশ ভাই এর ব্যাপার কি শুধু তোর জন্য গিফট !! আমাদের টা কই? বোন বলল মজা করে
আমাকে তো ভাল রেজাল্ট এর জন্য দিয়েছে হিংসুটি বুড়ী এবার আমি ও বোনের সাথে মজা করলাম।
শাড়ীটাকে শত পিন মেরে পড়লাম যাতে কোন দিক থেকে শরীর দেখা না যায়।
ড্রইং রুমে আসতে তুমি আমার সামনে চলে এলে ।
"সত্যি তোমাকে এত সুন্দর লাগছে যে কি বলব"। এই প্রথম মনে হল তুমি আমাকে দেখলে একজন পুরুষ এর আবেগ ঘন দৃষ্টিতে। তোমার স্বরে ও আবেগ আর মৃদু কম্পন টের পেলাম।
আমি লজ্জা, খুশী আবেগে নুয়ে ছিলাম।
আচ্ছা যদিও শাড়ীটা পরা তোমার প্রোপার হয়নি। আমি কি ঠিক করে তোমাকে পরিয়ে দিব বলে নিজে লজ্জা পেয়ে গেলে ভীষন। তারপর যেন অনেকটা কৈফিয়ত দেওয়ার ভঙ্গিতে বললে তোমার বোনকে লক্ষ করে
"আপা শিমুল এর শাড়ীটা ঠিক করে পরিয়ে দিবি !? আমি ওর একটা ছবি তুলব। ওর ছবি আমাদের পেপারে দিব।
এবার মা উত্তেজিত হয়ে গেলেন। "অসুবিধা নাই ছবি তোল । এ তো অনেক গর্বের ব্যাপার। শিমুল এর ছবি পেপারে যাবে"। আগেরদিন তোমার বোন পুতুল আপার জেনেছি তোমার আর তোমার স্ত্রীর সেপারেশান চলছে। তোমাদের নাকি বনিবনা হচ্ছিলনা। আমার ভিতরটা ছলাৎ করে উঠেছিল। এক দ্বিমূখী আবেগে ভেসে যাচ্ছিলাম। আমি তো এখন ও তোমাকে ভালোবাসি। আবার এ ও মনে হচ্ছিল তোমার নিশ্চয় মন খারাপ। তাই না দেখার মত আবার আড়চোখে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছিলাম। একটু রুখু সুখু হয়ে গিয়েছো। পুতুল আপু আফসোস এর স্বরে বলছিল "খালাম্মা বিয়েটা খুব ভুল হয়েছিল। এত অল্পবয়সে ভাই এর বিয়ের বিরুদ্ধে আমি ছিলাম। চমক ভাঙ্গলো তোমার কথায়
"এই এই তুমি শাড়ীতে এত পিন লাগিয়েছ কেন? পোটলার মতন মনে হচ্ছে। শাড়ী পরবে ফিগারের ভাজে ভাজে এমনভাবে যাতে সুন্দর ফিগার টি বোঝা যায়। পুতুল আপু চিমটি কেটে দিয়েছিল তোমার হাতে। ভাগ্যিস মা তোমার কথা শোনেনি। আমি জানি তুমি এত ই সরল সহজ ভাবে কথাটা বলেছ । তুমি এতে দোষের কিছুই পাওনি। মা কি দেখাতে পুতুল আপাকে ভিতরে নিয়ে গেলেন। তুমি কাছে এসে আমাকে প্রথমে দেখলে মাথা থেকে পা পর্যন্ত। এ কোন ছেলের মেয়েদের ফিগার দেখার মত করে নয় আসলে তারপরে ও আমি লজ্জায় শিহরনে কাঁপছিলাম
ধ্যেৎ এ একটা শাড়ী পরা হল নাকি বিরক্তিতে বলে উঠলে তুমি। কিছু বলার আগে কাছে এসে শাড়ী থেকে বাড়তি পিন গুলি খুলে নিলে তারপর নীচু হয়ে পায়ের কাছে পাড় টেনে দিলে। কুঁচি গুলি আর ও গুছিয়ে দিলে।
হু এই তো ! বললে হাত তালি দিয়ে যাও এবার দেখে এস আয়নায়। দাড়াও দাড়াও আগে তোমার একটা ছবি তুলি। একটার কথা বলে ক্লিক করে বেশ কয়েকটা ছবি তুললে। আয়নায় সামনে দাড়িয়ে সত্যি আমি নিজেকে চিনতে পারছিলামনা। অনন্ত প্রেম ছবির ববিতার মতই মনে হচ্ছিল। সারারাত আর ঘুমাতে পারিনি আবেগে কল্পনায় আবেশে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক বিভাগে পরীক্ষা দিলাম। চান্স পেয়ে ভর্তি ও হয়ে গেলাম অতঃপর। প্রথম দিনে ই কার্জন হলের সামনে তোমাকে পেয়ে গেলাম এক দঙ্গল বন্ধুসহ হৈ হুল্লোড় করতে করতে কলা বিভাগের দিকে চলে যাচ্ছ। কি এক কথায় কথায় এক মেয়ের পিঠে জোরে চাপড় দিয়ে দিলে। আমার বেশ মন খারাপ হয়ে গেল জানো। যদি ও আমি অনুমানে বুঝতে পারি ওই মেয়েকে এই চাপড় মেরেছ ছেলে বন্ধুর মতই মনে করে। তবে মেয়েটি তো আর হয়তো সেভাবে তোমাকে দেখেনা। তার চোখে স্পষ্ট দেখেছি গভীর আবেগ এর ছাপ। আমাকে কি দেখনি নাকি না দেখার ভান করেছিলে বুঝতে পারিনি। বেশ ভূষায় এখন বেশ পরিবর্তন তোমার। আমার ক্লাস ছিল কার্জন হলে । আমি বাসা থেকে ভার্সিটি তে যাওয়া আসা করতাম। ভার্সিটির বাসে করে যেতে বেশ ভাল লাগত। বাবা এক স্পেশাল ড্রাইভার নিয়োগ দিলেন আমার জন্য। প্রথম দিন বাবা জেদ শুরু করলেন গাড়ীতে যেতে হবে আর তিনি ও আমার সাথে আসবেন। মা ই জবরদস্তি করে থামালেন। তোমার মেয়ের স্বভাব জাননা। ও একাই একাই যেতে চায় যাক। বাবার গো না আজ প্রথম দিন দিয়ে আসি অম্তত। ও যদি রাস্তা খুঁজে না পায়। না পেলে পাবে । খুঁজে খুঁজে যাবে। ওই সময়ের এক মা এত স্মার্ট ধীরস্থির কিভাবে হল জানো সত্যি অবাক লাগে। মা অন্যসকল মা থেকে ছিলেন বড় আলাদা। মা আমাদের মানুষ করেছিলেন এত আলোকিত ভাবে এখনকার অনেক শিক্ষিত মা এভাবে ভাবতে ও পারবেনা। একবার হয়েছিল কি জানো ! এ তোমার সাথে আমার দেখা হওয়ার আগের বছরের ঘটনা। আমাদের স্কুলে পড়তো ডিস্ট্রিক্ট কমিশনারের ছেলে। এই ছেলে খুব ছেলে টাইপ অর্থাৎ ওই বয়সের ছেলেদের যে একটা স্টাইল পোজপাজ করার সব করতো। তুমি মন খারাপ কোরনা যেন এই কথা শুনে কিছু মেয়েদের মধ্য ক্রেজ সৃষ্টি করা টাইপ ছেলে আছেনা লিডারের মত আসতো পিছনে একদঙ্গল ছেলেমেয়ে নিয়ে। হোন্ডা করে আসতো কখন ও কখন বাড়ীর গাড়ীতে।আমার চেয়ে পড়তো চার ক্লাস উপরে। আমি ছিলাম এইট এ ছিল সেকেন্ডারী ইন্টারমেডিয়েট পরীক্ষা সামনে। নিজে গাড়ী চালিয়ে আসতো। গাড়ীর চাবির রিং ঘোরাতে ঘোরাতে চলতো কিছু মোসাহেব নিয়ে। কেন্টিন এর কর্মচারী কে খাওয়ার বিল করতে হতনা। কেননা কোনদিন এসে একতাড়া টাকা দিয়ে সবাইকে কিনে রাখে। তো এইধরনের ছেলেদের নিয়ে কিছু মেয়ে আছে তারা ফিসফাস গুন্জন করে। সেই ছেলে একদিন আমার রাস্তার সামনে দাড়াল। কি ব্যাপার ! আমার ব্যাগের জিপ খুলে গিয়ে একটা বই আর কলম পড়ে গিয়েছিল রাস্তায়। আমার সামনে এসে দাড়াল ! কিছু সময় দেখল আমাকে আপাদমস্তক অনেকটা তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে !! হু তার সাথে যা বলল গায়ে জ্বালা ধরানোর মত ই কথা। "হু লাটবহর নিয়ে চলছেন মহারানী !!
হু পাইক পেয়াদা কোথায় ? জিনিস পত্র রাস্তায় যে ফেলে দিয়ে চলছ এ কি দরকার নাই? আমার কলম আর বই মুখের উপর ঘুরাতে লাগল। এই ধরনের ছেলেগুলোকে কেন জানি কখন ই পছন্দ করতামনা যারা বাবার ধনের বড়াই করে। আমি হনুমানটার দিকে পলক ও না তাকিয়ে আমার বই কলম ছিনিয়ে নিলাম বলা যায়। তারপর ধন্যবাদ না বলে দ্বিতীয় দৃষ্টি না দিয়ে সামনে হাটা দিলাম। না তাকিয়ে ও বুঝতে পারলাম বেচারা হাবা হয়ে গেছে। এরকম অভ্যর্থনা সে কখন ও মনে হয় পেয়ে অভ্যস্ত নয়। সারাক্ষন মাস্তান অনুসারীর দল নিয়ে চলে অভ্যস্ত মানুষ কার ও অবহেলা সহজে মেনে নিতে পারেনা। পরের দিন স্কুলে আসতে দেখি ওই মূর্তি সামনে! আজ হাবভাব বেশ শান্ত ভদ্র। কথা ও বলল অনেক শান্তভাবে !
"ইয়ে তুমি কি আমার উপর কোন কারনে রেগে আছ"? জিজ্ঞাসা করল বেশ আন্তরিকভাবে। এতক্ষনে আমি ও বোধ করলাম আমার ব্যাবহার ভদ্রজনোচিত হয়নি।
"না না কেন রাগ করব বলুন ! আপনি কি করেছেন । আপনি বরং আমার জিনিস মাটি থেকে তুলে আমার হাতে দিয়েছেন" বললাম এবার ক্ষমা প্রার্থনার সুরে। সেই বিকালে স্কুল শেষে আমার পথের সামনে। আজ গাড়ী ও নাই হোন্ডা ও নাই।
"কি ব্যাপার আপনার সেনাপতির লটবহর কোথায়? একটু মজা করতে ভুললাম না এবার। আজ তোমার সাথে হাটব বলে ওদের ফিরিয়ে দিয়েছি বলল এক গভীর অর্থপূর্ন দৃষ্টি দিয়ে। "আমি কোন ছেলের সাথে এভাবে হাটলে আমার মা বাবা পছন্দ করবেন না" স্পষ্টভাবে ই বললাম।
"তাহলে কি তুমি আমার সাথে কাল একটা জায়গায় যাবে বেড়াতে"? একটু অনুনয়ের স্বরে বলল এবার।
"আশ্চর্য্য আপনার সাথে আমি কোথাও যাব কিভাবে ? আমি তো আপনাকে চিনিনা। তাছাড়া আমার এখন ও বয়স হয়নি এভাবে ঘুরার। আমার বাসা থেকে অনুমতি দিবেনা"। আমি সত্যি টা বললাম।
"আরে বোকা মেয়ে ! বাসায় বলতে হবে কেন? লুকিয়ে যাব আমরা। তুমি আমাকে জাননা বলছ তাই আমি চাচ্ছি তুমি আমাকে জান চেন"। রাগে ভয়ে বিরক্তিতে এবার একটু ঝাঝিয়ে উঠলাম
"আমি মাকে মিথ্যে বলে কোন ছেলের সাথে বাহিরে যাবনা"। মা অনুমতি দিলে যাব।
বলে আর কোন ও কথা বলার সুযোগ না দিয়ে হাটা শুরু করলাম। এবার আমার পিছনে পিছনে আসতে শুরু করল ।
রাগ, অস্বস্তি শিহরন সব ই একসঙ্গে হতে লাগল। আমার বয়স মাত্র তের তখন চিন্তা কর অবস্থা। এই বয়সী মেয়ের জীবনে এই প্রথম। এ নুতুন অচেনা অনুভূতি। নিষেধ করতে চাচ্ছি যেন পিছনে না আসে। কিন্তু কেন জানি বলতে পারছিলামনা। ঘরের কাছে পৌছতে মা দরজা খুলে দাড়ালেন। ছেলেটা এবার হকচকিয়ে মুখ লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করতে লাগল। বুঝলে মা সরাসরি ছেলেটিকে ঘরে আসতে বললেন।
"তুমি বুঝি একই স্কুলে পড় শিমুলের সাথে বাবা"
আস ভিতরে আস" বললেন মা আন্তরিকতার স্বরে। মা সুন্দর করে একই টেবিলে একই খাওয়ার দিলেন আমাদের দুজনকে। খাওয়া শেষে মা দরজা পর্যন্ত ছেলেটিকে এগিয়ে দিলেন জান আর বললেন
"যখন ই তোমার কোন প্রয়োজন শিমুলের সাথে চলে আসবে আমাদের এই বাসায় কেমন বাবা।
তোমার নাম কি বাবা? মায়ের সরলতার কাছে ও তোতলাতে শুরু করল
অনিক ! ছেলেটি চলে যাওয়ার মা প্রকাশ করল "আসল কথা শোন আমি ছেলেটিকে ঘরে আসতে এই কারনে বলেছি যাতে ও রাস্তায় তোর পিছনে হাটাহাটি আর না করে"। কিছু সময় চুপ করে মা আবার জিজ্ঞাসা করেন একটু হেসে
"তোর কি এই ছেলে পছন্দ?
না না আমি চিৎকার করে প্রতিবাদ করলাম এবার।
"পছন্দ করলে ও লাভ নাই মা। তোমার এখন পড়ালেখার বয়স। বাইরে এই ছেলের সাথে ঘোরার বয়স তোমার এখন ও হয়নি। তবে ও যদি ঘরে আসতে চায় তোমরা একসঙ্গে পড়ালেখার বিষয় আলোচনা করতে চাও আমার মত আছে"।
কত জোরে জড়িয়ে ধরেছিলাম মাকে। এরকম ভাবে আমার মাই ভাবে। মা কত জ্ঞানী ভাবছিলাম। মা যদি এ না করতো আমি কি করতাম হয়তো একদিন এর জবরদস্তির কাছে হার মানতাম তার সাথে সিনেমা দেখতে যেতাম। সিনেমা হলে অন্ধকারের সুযোগে এ আমার গায়ে হাত দিত। এ স্বাভাবিক। উঠতি বয়সের টিনএজ ছেলেমেয়েরা তো এইভাবে কিছু বোঝার আগে সম্পর্কে জড়িয়ে নেয় নিজেদের সম্পর্ক কি বোঝার আগে। পরে এ আমাকে দুর থেকে তাকিয়ে দেখতো। সামনে আর আসেনি। জানো আমাদের ফিজিক্যাল কেমেষ্ট্রীর টিচার ছিল একটু অদ্ভুত স্বভাবের। চশমার ফাক দিয়ে মেয়েদের তাকিয়ে থাকা ছিল ওনার এক হবি। শুনতাম উনি বড় এক নাস্তিক। নাস্তিকতা কি এক রোগ নাকি ? নাস্তিকদের অধিকাংশ দের দেখি স্থুল বাজে কথা আর গাজা নেশার আড্ডায় ব্যাস্ত থাকে। ওরা আল্লাহ ধর্ম কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে দেখাতে প্রচলিত সমাজ রীতি নীতি সভ্যতা সবকিছুতে ই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর অভ্যাস তৈরী করে ফেলে নিজেদের। এই ফিজিক্যাল কেমিষ্ট্রির টিচার নাকি নেশা আর স্থুল অশালীন কথার টিচার বুঝতে পারলাম না জান। আর প্রথম দিন ই ইনি আমাকে টার্গেট করে ফেলল।একই দিন বিকালে তোমার সাথে দেখা হয়ে গেল ক্যান্টিন এ।
আরে আরে আমার সুন্দরী শিমুল রানী তুমি ঢাকা ভার্সিটিতে! কি পড়তে!
আমি মাথা নেড়ে সায় দিলাম। "আমি তো মনে করলাম তুমি লন্ডন ইউএস এ সেটল করবে হায়ার স্টাডিস এর জন্য। বললে একটু কুটনী হেসে।
"এই নাও নাও সিঙ্গারা খাও এই আবুল বলে ক্যান্টিন এর ছেলেটাকে ডাকলে বললে ।"এই ম্যাম এর জন্য সিঙ্গারা এক প্লেট !রাগ উঠে গেল ম্যাম শুনে। "বুঝলে ম্যাম শিমুল ম্যাডাম সিঙ্গারা বানানোতে তুমি চ্যাম্পিয়ান। সারা পৃথিবীর কেউ তোমার মত মজার সিঙ্গারা বানাতে পারেনা আর আমাকে এভাবে দোলাতে পারেনা আস্তে আস্তে নিজেকে শুনিয়ে ফিসফিসিয়ে বললে"। চমকে আমার হাত থেকে সিঙ্গারা পড়ে যেতে নিয়েছিল।
"কি কি বললেন"?
"হুম বলবনা" একটু মুচকি হাসতে হাসতে আমার মুখ জরীপ করতে শুরু করলে এবার।
তুমি কেন যে এরকম করতে বল তো ?
তুমি কি আমাকে পছন্দ করতে শুরু করছিলে ওই মূহূর্ত থেকে।
সিনেমার মত এক ব্যাপার ঘটে গেল বুঝেছ সেদিন। এমন এক কুক্ষনে স্বপ্ন দেখলাম রে এখন ও মনে হলে বুক ধড়পড়িয়ে যাচ্ছে । তুমি অবশ্য শুনলে হাসতে জানি।
স্বপ্ন দেখেছি তাও আবার ফজর নামাজের আগে। বিয়ে হচ্ছে আমার তোমার সাথে। লাল কাতান পরে আমি স্টেজে বসে। এমন সময় সবাই শোরগোল করতে শুরু করল বর এসেছে বর এসেছে বলে। আমি ঘোমটার ফাঁকে দিয়ে দেখছি ঠিক গ্রামের কনে বউদের মতন। ওমা দেখছি তুমি হাতির পিঠে চড়ে এসেছ। অনেকটা আকবর জমানার টাইপের। হাতির উপর চেয়ার দিয়ে সিংহাসন এর মত বানানো হয়েছে। আর তুমি রাজকীয় এক মুকুট পরে আছ। আবার হিন্দী সিরিয়ালের নায়কদের মত সেহরা একটা ঝালর দিয়ে তোমার মুখ ঢাকা। আমি খুব চেষ্টা করে যাচ্ছি তোমার অপরুপ মুখটা দেখতে। তারপর আমাদের বিয়ে ও হয়ে গেল। বাসর রাতে খাটে বসে আছি। তুমি ঘরে ঢুকলে সেহরা সহ। বিয়ের সময় ও.মুখ দেখালেনা। তোমার পুরোহিত নাকি বলেছে বিয়ে শেষ না হওয়া পর্যন্ত মুখ দেখানো চলবেনা। তুমি আস্তে আস্তে ঘুরে দাড়ালে আমার দিকে মুখ থেকে ঝালর সরিয়ে !
আমি চিৎকার দিয়ে উঠলাম সামনে দেখি ডিপজল! সামনে লাঠি পেয়ে দিলাম গুন্ডাটার মাথায় বাড়ি। দেয়ালে লটকানো একটা ছাতা পেয়ে নিলাম হাতে । ছাতার মাথাটা বন্দুকের মত তাক করে ভিলেনটাকে বললাম এই বল তুই আমার স্বামীকে কোথায় লুকিয়ে রেখেছিস! চিৎকার করতে করতে আমি সিড়ি দিয়ে লাফিয়ে নামতে শুরু করলাম। সিড়ি এখন হয়ে গেল সাহারা মরুভূমির মত। আমি স্লো মোশনে বিয়ের ঘাঘরা পরে দৌড়াতে লাগলাম । আর পিছনে আমাকে তাড়া করছে ডিপজল। আর ওই সময় লাফ দিয়ে উঠে বসলাম বিছানায়। কি অলক্ষুনে স্বপ্ন রে বাবা! বুকে থু থু দিয়ে সময় দেখলাম সকাল পাঁচ টা। আচ্ছা স্বপ্ন এত উদ্ভট হয় কেন বলতো? চিৎকার করে হাসব না কাঁদব বুঝে উঠতে পারছিলামনা ঘুম ভাঙ্গার পর। আচ্ছা আচ্ছা মনে পড়েছে আম্মার সঙ্গে ওইদিন সিনেমা দেখছিলাম ডিপজল ভিলেন এর হিম্মত।
খুব হাসাহাসি হল আম্মার আর বোনদের সাথে স্বপ্নটা নিয়ে। ও আমার মেয়ে তাহলে বিয়ের স্বপ্ন দেখে এমন আম্মা বললেন মজা করে। এর মধ্যে কত কিছু হয়ে গেল জীবনে। তোমার কোন সাড়া শব্দ ও আর পেলামনা কিছু দিন। তুমি বড় কবি হয়ে গিয়েছ তা শুনছি মানুষের কাছে থেকে। পেপারে প্রায় ই তোমার কবিতা ছাপা হয়। আমি তোমার কবিতার অংশটুকু কেটে রেখে দিই পেপার হাতে পাওয়া মাত্র। সামনা সামনি দেখা না হলে ও এমনি খবর পাই মানুষের কাছে থেকে। তোমার বোন পুতুল মাঝে মাঝে আসে কোন নাস্তা খাওয়ার নিয়ে। আর আমি আর মা বানিয়ে দেই তোমার সব প্রিয় নাস্তা।
অবশেষে আজ সেই দিন এল। বধু সেজে আজ তোমার প্রতীক্ষায়। রাত দশটা ঘরে এলে তুমি
"কি শিমুল রানী চলবে তো এই বর"?
"হুম দৌড়াবে আমি হাসলাম মজা করে। সেই থেকে চলছে আজ অবধি তোমার আমার এক বৈতরনীতে চলা একসাথে সকল দুঃখ, কষ্ট, আনন্দ, বেদনাকে সঙ্গী করে।
------------------------
Hosne Ara Arzu
40 Teesdale Place, Unit 1903
Scarborough, Ont, M1L1L3 Toronto
Canada

Comments
Post a Comment