নীরব বসন্ত
মেশকাতুন নাহার
ফাল্গুন এলে বসন্ত রঙে সূর্যমুখী হাসে,
ঝাঁকে ঝাঁকে ভ্রমর নামে লাজে লুটায় পাশে।
অংশুমালীর একটুখানি চাহনির আশায়,
প্রস্ফুটিত সে প্রতিক্ষণে আলোর অন্বেষায়।
চেরাপুঞ্জির মেঘেরা তাই ঈর্ষায় কালো হয়,
আলোর প্রেমে ডুবে থাকা ফুল চেয়ে রয় বিস্ময়।
পরাগভরা উষ্ণ আবেশ কিরণে কিরণে দোলে,
নিঃশব্দ এক বুদ্ধিহীন প্রতীক্ষার দ্বার খোলে।
রাঙা ওষ্ঠে হাসি জমে কিরণ-নেশার রেশ,
পরিপূর্ণ হয় কি সাধ—জানে না সে বিদ্বেষ।
সূর্যের সাথে বলবার ছিল অগণন না-বলা কথা,
বিন্দু বিন্দু স্বপ্ন বুনে গেঁথেছিল ব্যথা।
কিন্তু হঠাৎ দমকা হাওয়ায় ভাঙল স্বপ্নজাল,
অব্যক্ত সব নীরব ভাষা উড়ল তুলোর পাল।
তবু সূর্যমুখী চেয়ে থাকে সূর্যালোকের পানে,
অন্ধ হয়েও পাপড়ি মেলে অনুরাগের টানে।
একদিন দিবাকর ডোবে অভিমানের ঘোরে,
উপেক্ষাকেই সঙ্গী করে ঝরে পড়ে সে ভোরে।
হারিয়ে যায় অচেনা পথে নিভৃত এক ঘরে,
ভালোবাসার নাম লিখে নীরবতার পরে।
..........................................
মেশকাতুন নাহার
প্রভাষক সমাজকর্ম
কচুয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ
চাঁদপুর।

Comments
Post a Comment