Skip to main content

Posts

Showing posts with the label অণুগল্প

গল্প ।। দর্শন ।। নিরাশাহরণ নস্কর

দর্শন   নিরাশাহরণ নস্কর   সালটা ১৯৯৪। আমি আর আমার সহপাঠী অন্তরঙ্গ বন্ধু বিশ্বনাথ এসেছি পার্ট ওয়ানের পরীক্ষা দিতে কাকদ্বীপের সুন্দরবন মহাবিদ্যালয়ে। আমাদের বাড়ি থেকে কাকদ্বীপ অনেক দূর। যাতায়াত অসম্ভব। আর রাস্তাঘাটের অনিশ্চয়তার কথা ভেবে ওর বাবা আর আমার বাবা এসেছিলেন একটা অস্থায়ী আস্তানার সন্ধানে। মিলেও গিয়েছিল। একটা মেসের কিছু সিট খালি ছিল। সেখানেই মাসখানেকের জন্য আমাদের অস্থায়ী আস্তানা। থাকা, খাওয়া, পড়া আর পরীক্ষা দেওয়া। এক একটা পরীক্ষার ফাঁকে বেশ কিছুদিন ছুটি। প্রতিদিন ভোরে আর সন্ধ্যায় অনতিদুরের কোন একটা মন্দির থেকে ভেসে আসত ভক্তিগীতি সুর। একদিন ওকে বললাম, চল, একবার একটু ঘুরে আসি। আশপাশটাও দেখা হবে আর মন্দিরটাতে একবার ঘুরে আসব। প্রতিদিন এত সুন্দর সুন্দর ভক্তিগীতির সুর শুনি, মন্দিরটা নিশ্চয়ই সুন্দর বা মূর্তিটাও সুন্দর হবে।   সন্ধ্যার কাছাকাছি একদিন বেরিয়ে পড়লাম। গ্রাম্য পরিবেশের মাধুর্যের মধ্যে সুর লক্ষ্য করে হেঁটে চলেছিলাম দুজন। ৫-৭ মিনিট হাঁটতেই চলে এলাম মন্দিরের কাছাকাছি। আহামরি বিরাট কিছু না হলেও খুব ছোট নয় মন্দিরটা। সৌন্দর্যও বেশ। রাস্তার প...

অণুগল্প ।। ​শূন্য ক্যানভাসে চেনা কোলাহল ।। ব্রজ গোপাল চ্যাটার্জ্জী ​

শূন্য ক্যানভাসে চেনা কোলাহল ব্রজ গোপাল চ্যাটার্জ্জী ​ ​শিয়ালদহ মেইন লাইনের ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মটা আজ বড় নিঝুম। সৌন্দর্যায়নের খাঁচায় বন্দি স্টেশনটি আজ সম্পূর্ণ হকারমুক্ত। অফিসটাইমের সেই পরিচিত হাঁকডাক—"চা-গরম" কিংবা "ঝালমুড়ি"—সবই আজ উধাও। ​ওভারব্রিজের নিচে দাঁড়িয়ে অর্কর মনে পড়ল কলেজজীবনের সেই ডেলি প্যাসেঞ্জারির দিনগুলো। ভিড় ঠেলে ট্রেনের হ্যান্ডেল ধরার যুদ্ধ আর ক্লান্তি ধুয়ে দেওয়া এক ভাঁড় চা। পাশেই ভেসে উঠল তিতলির মুখ; হকারের থেকে আলুকাবলি কিনে ঝাল লেগে চোখ লাল হওয়া আর ওদের খুনসুটি—সবই এই প্ল্যাটফর্মের স্মৃতি। আধুনিক কর্পোরেট পরিচ্ছন্নতার চাদরে ঢাকা স্টেশনটা আজ বড় বেশি গোছানো, কিন্তু মায়াহীন। ​"বাবু, একটা কলম নেবেন? খুব ভালো লেখে।" ​চেনা কণ্ঠস্বরে অর্কর ভাবনায় ছেদ পড়ল। মলিন পোশাক, তাড়া খাওয়া ত্রস্ত চোখে এক যুবক সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসছে। হাতে গোটাচারেক সস্তা বলপেন। মুখের দিকে তাকাতেই অর্কর বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে উঠল। এ তো কলেজজীবনের সেই ঝালমুড়িওয়ালা কেষ্টদার ছেলে সনাতন! পক্ষাঘাতগ্রস্ত বাবার চিকিৎসার খরচ আর নিজের পড়াশোনার দায় মেটাতে আজ সে ফেরিওয়ালা। ​...

গল্প ।। মাসী ।। অজয় বিশ্বাস

মাসী অজয় বিশ্বাস         সকাল হলেই মাসী চলে আসে প্রতিদিন। মাঝে মধ্যেই দু-একদিন কামাই হয়।মাসীর বয়স হয়েছে এখন। বুঝি কাজ করতে কষ্ট হয়।তবু কাজ ছাড়বে না।মাসীর দুই ছেলে আছে।তারাও বিভিন্ন ভাবে আয় করে।কিন্তু দুজনেরই ভরা সংসার। ঘরবাড়ি বলতে রেললাইনের ধারের ঝুপড়ি। একদিন মাসীকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি এখন ও কাজ কর কেন?তোমার তো রোজগেরে দুই ছেলে আছে।মাসী আমার দিকে তাকিয়ে থেকে মুখ থেকে একটা আওয়াজ বার করল,হুঁ।       প্রচন্ড গরম। সবাই কাহিল হয়ে পড়ছে।মাসী ও কাহিল। আমি একদিন বললাম, মাসী এইবার কাজ ছেড়ে ঘরে গিয়ে বিশ্রাম নাও।মাসী আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে বলল,বিকেল হলে নাতনি যখন বলে,ঠাম্মা, পয়সা দাও, ফুচকা খাব।তখন যদি আমি দিতে না পারি কেমন লাগে।        দেখলাম মাসীর চোখ দুটোতে জল টসটস করছে।    --------------------------     অজয় বিশ্বাস  শ্রীনগর, বিরাটি,কলকাতা-৭০০০৫১, 

পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ

  পয়লা থেকে একলা হওয়া সুকান্ত ঘোষ মোবাইলের এলার্মের আওয়াজটা বিকট শব্দ করে বেজে উঠতেই রণজয় ধড়মড় করে বিছানায় উঠে বসে। অভ্যস্ত হাতে এলার্মটা বন্ধ করতে যেতেই ফোনের নোটিফিকেশনে চোখ আটকে যায়। শুভ পয়লা বৈশাখের ঢেউ আছড়ে পড়েছে মেসেঞ্জারে। রণজয়ের মনটা খোলা জানলা পেরিয়ে একলাফে চলে যায় অনেকগুলো বছর আগের এক সকালে। বাবার রেডিওতে প্রাত্যহিকি চলছে, মা কলতলায় বাসন মাজছে আর ছোট বোন মিনু তার প্রিয় নীল স্কার্টটা পরে বাড়ির রোয়াকে তার বন্ধুদের সাথে এক্কাদোক্কা খেলছে।  আজ রণজয়ের বেশ ফুরফুরে লাগছে। পয়লা বৈশাখ মানেই দুপুরে মাংস- ভাত। রণজয়ের বাবা সামান্য বেতনের একজন সরকারি কর্মচারী। তবু রণজয়ের পয়লা বৈশাখের দুপুরের মেনুতে  মাংস-ভাত বাধা ছিল। তারপর দুপরে একটু ঘুমিয়ে বিকালে বাবার সাথে দোকানে দোকানে ঘুরে হালখাতা সারা ও জিভের সেবা করা। রণজয়ের কাছে জিভ সেবাই, শিব সেবা। তাই সারা বছর ধরে ও এই দিনের অপেক্ষায় থাকে। আজও সেই জন্য রণজয়ের মেজাজ খুব ফুরফুরে। হটাৎ একটা বিকট শব্দ ও কিছু মানুষের কান্নায় রণজয়ের চিন্তার জট ছিঁড়ে যায়। আর তখনই চোখে পড়ে মিনুর নীল স্কার্টটা রক্তে ভেসে যাচ্ছে, রাস্তায় পড়ে রয়েছে মি...

অসমাপ্ত বর্ষার দীর্ঘশ্বাস ।। জয় মণ্ডল

অসমাপ্ত বর্ষার দীর্ঘশ্বাস জয় মণ্ডল  আজ পয়লা বৈশাখ। কলকাতার এক ব্যস্ত প্ল্যাটফর্মে যখন শেষ ট্রেনের ঘোষণা প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, আকাশ তখন ঝাপসা হয়ে এসেছে শ্রাবণের ঘন কালো মেঘে। সেই পুরনো ঘড়িটার নিচে নীলাদ্রি আর অন্তরা দাঁড়িয়ে ছিল—ঠিক যেখানে সাত বছর আগে এমনই এক পয়লা বৈশাখের দিনে তাদের প্রথম আলাপ হয়েছিল। আজ ঘড়ির কাঁটাগুলো যেন একেকটি ধারালো অস্ত্রের মতো তাদের সাত বছরের স্মৃতিগুলোকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছিল। আজ তাদের বিচ্ছেদের দিন নয়, বরং একে অপরকে জনসমুদ্রে হারিয়ে ফেলার এক নীরব আয়োজন। অন্তরা নীলাদ্রির চোখের দিকে তাকিয়ে এক চিলতে হাসল। তবে সেই হাসিতে বসন্তের সতেজতা ছিল না, ছিল হেমন্তের ঝরা পাতার শুকনো বিষণ্ণতা। সে নিচু স্বরে বলল, “শহর বদলে যায় নীলাদ্রি, মানুষও বদলে যায়। আমরা কি তবে এই ভিড়ের মাঝে দুটি অচেনা ছায়া হয়েই থেকে যাব?” নীলাদ্রির গলার কাছে যেন এক দলা কান্না আটকে ছিল। শেষ স্মৃতি পকেটে থাকা চিরকুটটা, তাতে লেখা ছিল— ‘একসাথে বুড়ো হওয়ার কথা ছিল আমাদের।’ হঠাৎ আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামল। সেই ঝমঝম শব্দের আড়ালে অন্তরা তার চোখের জল লুকানোর সু...

নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী

নিরুদ্দেশ স্বাতী রায় চৌধুরী    "আমার ও একটা মানুষ হবে নিজের"   ১২ নং রেললাইন বস্তির সরু গলির অন্ধকারে প্রেমিকের বুকে মুখ গুঁজে মেয়েটি খুব অস্ফুটে এই কটি কথাই বলেছিল। সেদিন ওর পরনে ছিল বাসন্তী রঙের শাড়ী, হাতে সবুজ চুড়ির গোছা, কপালে কাঁচপোকা টিপ আর দুচোখে স্বপ্নের মায়া কাজল । তারপর পরম ভরসায় প্রেমিকের হাত ধরে সে পাড়ি দিয়েছিল অজানার উদ্দেশ্যে।   সেদিনের সেই সন্ধের পর থেকে মেয়েটি নিরুদ্দেশ। দর্জি দোকানের কর্মচারী; তার বাবা ও ভাই অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান করতে পারেনি। পাড়ার লোকেরা সাথে করে পুলিশ থানায় নিয়ে গিয়েছিল , ডায়েরি একটা হয়েছে,ওই পর্যন্তই ; সুরাহা কিছুই হয়নি। প্রায় দুই মাস হয়ে গেল মেয়েটি নিরুদ্দেশ।    সবাই যখন প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছে তখনই সে ফিরে এল। তবে পায়ে হেঁটে নয়; পুলিশের ভ্যানে চেপে। পরনে সেই বাসন্তী রঙের শাড়ী, কাঁচের চুড়ি সব একই আছে। শুধু হারিয়ে গেছে সেই স্বপ্নটা; "আমার ও একটা মানুষ হবে নিজের"                                         ...

ভেজা প্রেম ।। প্রদীপ কুমার দে

অণুগল্প ভেজা প্রেম প্রদীপ কুমার দে এইমাত্র বৃষ্টির জলে ভিজে গেলাম আমি। ভিজে গেল শরীর। সিল্কের শাড়িতে জলে লেপ্টে যাওয়া যৌবন যখন রাস্তার সকল পথিকের দৃষ্টি আরোপিত হচ্ছিল তখন একমাত্র বেরসিক দেখলাম তোমায়, হ্যাঁ এমাত্র তুমিই আমাকে অবজ্ঞা করে মুখ ঘুরিয়ে নিলে, যেন কিছুই দেখনি যেন এক যুবতী নারীর দেহ সৌন্দর্য কোন দ্রষ্টব্য বিষয়ই না তোমার কাছে। আমি অবাক হয়েছিলাম সেই মুহূর্তে। যদিও হাজারো দৃষ্টি আর বৃষ্টি তখন আমাকে ধুয়ে খাচ্ছিল। তাই তাড়াতাড়ি পথে পা ছোটালাম। বৃষ্টি থেমে গেছে কখন। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি এখন। কেন জানো? হ্যাঁ। শুধুমাত্র তোমাকে মাপবো বলেই। এক মাথা এলেমেলো উস্কোখুশকো চুল নিয়ে যে যুবকটি কিছু আগে আমার ভিজে যাওয়া শরীরকে উপেক্ষা করেছিল, আর লজ্জায় নিজেই সরে গেছিল পথের বাঁকে, এখন যে তাকেই আমার মন খুব চাইছে। ওইতো ও আসছে .... আসুক, ও আরও কাছে আসুক, এবার আমিই লজ্জার মাথা ভেঙে আমার কামোদ চোখ দিয়ে ওকে ডেকে নেব, আমার জন্যে .... এবারও কি ও আমার মনের সিক্ত প্রেমকে উপেক্ষা করে দেবে ঠিক তখনকার ভিজে যাওয়া দেহের মতই ? ================ প্রদীপ কুমার দে বিরাটী আবাসন এল আই জি -৯ এম বি রোড নিমতা কোলকাত...

নারী স্বাধীনতা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ

  অণুগল্প নারী স্বাধীনতা অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ  বিশেষ  অতিথি মিসেস  কমলা সেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের বিশেষ এক অনুষ্ঠানে গোটা গোটা ভাষায় ধারালো বক্তব্য রাখলেন পুরুষদের বিরুদ্ধে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের মাথা উঁচু করে বাঁচতে হলে, স্বনির্ভর হতে হবে। পুরুষদের সমান অধিকার ছিনিয়ে নিতে হবে।  নারী স্বাধীনতা নারীদের অগ্রাধিকার। দর্শক আসনে বসে  জনগনের করতালিতে. মুখরিত হয়ে উঠল।  সবাই উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন।  কমলা সেন জনগণের প্রসংশা কুড়িয়ে হাসিখুশিতে বাড়ি ফিরলেন।  এমন সাহসী নারীদরদী, স্বাধীন নারীকে দেখে সবাই ধন্য ধন্য করল। এই তো, পেয়ে গেছি। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এমনই নারীদের প্রয়োজন।  কমলা একবার করে ঘড়ি দেখে  আর মনটা ছটপট করছে। উত্তরীয়, স্মারক মেমেন্ট নিয়ে বাড়ি ফিরল নি:শব্দে। ভেতর থেকে  কেউ বলে উঠলো, রাত দুপূরে মেমেন্ট নিয়ে ঘরে ফিরছ, রাতের খাবার করবে কে শুনি? সংসারে বুঝি আর কোনো কাজ নেই? এসব লেখালেখি করে আর দুচার কথা বক্তৃতা দিতে ধেইধেই করে চারিদিক ঘুরে বেড়াচ্ছ?  সংসার  চলবে? ক'টাকা রোজকার হয় লিখে?  চড়া  গলার সেই কমলা...

অণুগল্প ।। ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য

ক্লান্তশ্বাস দীপালি ভট্টাচার্য   হৈ হৈ করে একদল অল্পবয়সী মেয়ে নন্দনে সিনেমা দেখতে ঢুকল। সোয়া দু'ঘন্টার একটি দুর্ধর্ষ মুভি! সিনেমা শুরু হবো হবো করছে হঠাৎ বছর চল্লিশের এক মহিলা ওই একই সারির একটি চেয়ারে এসে বসে পড়লেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাই সিনেমায় মগ্ন হয়ে গেল। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বেশ ঠান্ডাই লাগছে এতক্ষণে, বাইরের উত্তাপ যেখানে এত বেশি! এদিকে গল্পের রহস্য বেশ জমে উঠছে! হঠাৎই একজন মেয়ের চোখ গেল পাশে বসা মহিলাটির দিকে। তিনি নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন! সিনেমা দেখতে এসে ঘুম! একঘেয়ে মুভি হলে না হয় কথা ছিল! পয়সা দিয়ে টিকিট কেটে কেউ সারাক্ষণ ঘুমায়! তৃপ্তি বিয়ের আগে একটি বেসরকারি স্কুলে কাজ করতেন। বেসরকারি হলেও বেতন মন্দ পেতেন না! কিন্তু বিয়ের শর্তই ছিল চাকরি ছাড়তে হবে! নিজস্ব ব্যবসার চাপে স্বামী অমল কোনদিকে তাকানোর ফুরসত পান না! এদিকে শাশুড়ি মা শয্যাশায়ী। কাজের লোক, আয়া থাকলেও সেই ভোর পাঁচটা থেকে তৃপ্তির কাজ শুরু, রাত বারোটা পর্যন্ত! দু একটা পদ তাঁকে রাঁধতেই হয়! আয়া থাকলেও খাওয়ার সময় শাশুড়ির পাশে থাকাটা এখন অভ্যাস হয়ে গেছে। ওই অসহায় মানুষটাকে সারাদিন আয়ার উপর ফেলে রাখতে বিবেকে বাধে। যখন ওঁর দি...

অণুগল্প ।। ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার

ভাগের বাবা দীনেশ সরকার                   সুশীলবাবু   তার সংসারটাকে ধরে রাখতে পারলেন না। শেষ পর্যন্ত সংসারটা ভেঙেই গেল। তিন ছেলেকে তিনি এও বলেছিলেন, 'যতদিন আমরা জীবিত আছি তোরা একসঙ্গে থাক। আমাদের মরার পর তোরা যে যার মতো সংসার করিস।' তাও শেষ রক্ষা হ'ল না। মনের দিক থেকে তিন ছেলে অনেকদিনই আলাদা হয়ে গিয়েছিল। শুধু হেঁসেলটাই জোড়া ছিল, সেটাও এবার ভেঙে গেল। অথচ সামান্য প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করে সুশীলবাবু কী কষ্টটাই না করেছেন। তিন ছেলে, দুই মেয়েকে শিক্ষিত করেছেন। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। তারসঙ্গে সমানতালে কষ্ট করেছেন তার সহধর্মিনী সুলোচনাদেবী। তিন ছেলেই এখন স্বাবলম্বী। বড় ছেলে ব্যাবসা করে, বাকি দুই ছেলে চাকরি করে। তিন ছেলের বিয়ে দিয়েছেন। বড় বউমা একটু কম শিক্ষি্তা, বাকি বউমারা উচ্চ শিক্ষিতা। ভক্তি-শ্রদ্ধা তারা যেটুকু পেয়েছেন তা ওই বড় বউমার কাছ থেকে, কম শিক্ষিতা কিনা। শ্বশুর-শাশুড়িকে ভক্তি-শ্রদ্ধা করা উচ্চ শিক্ষিতা বউমাদের অভিধানে নেই।           ...

গল্প ।। পার্ক ।। প্রতীক মিত্র

পার্ক প্রতীক মিত্র পার্কের দেয়ালে নতুন করে সুন্দর সুন্দর ছবি আঁকা হয়েছে। পাশে উচুঁ জাল দিয়ে ঘেরা পুকুরে সাদা হাঁস ভেসে বেড়াচ্ছে। পার্কের ভেতরে  হিমেল হাওয়া লাগলে দুলে উঠছে অমায়িক গাছগুলো। মাথার ওপর নীল আকাশের নিরিখে পার্ক আর তার আশপাশে অবসর শীতবেলার গায়ে দেওয়া চাদরের উষ্ণতার মতন নিবিড়। শুধু পার্কের দোলনায় জং ধরেছে। খালি দোলনা। একটা-দুটো পাখি দোলনায় বসে বোধ হয় ভাবছে পার্কটা এমন চুপচাপ কেন? স্লিপেও হৈচৈ নেই। মানুষ বলতে একটাই মেয়ে। বছর নয়েকের। হাতে ফোন। স্লিপে বসে এক মনোযোগে ফোনে কি সব যেন দেখে চলেছে। কি বেমানান লাগছে পার্কটা। সব কেমন চুপচাপ। বছর কুড়ি আগে হবে। পার্কের উলটো দিকে রুটি কিনতে আসা লোকটা নিজেও তখন এই পার্কেই আসতো খেলতে। অথচ এখন? ================ প্রতীক মিত্র কোন্নগর, হুগলী

উধাও ।। অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ

উধাও  অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ  হঠাৎ টেবিল থেকে "আমার বই" উধাও।  সবার ব্যাগ চেক করা হল। যার বই হারিয়েছে,তারও ব্যাগ দেখা হল।কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না।এদিকে  মেঘলা  মানে (যার বই হারিয়েছে)কেঁদে ভাসাচ্ছে।  আমার বই এখুনি খুঁজে দিতে হবে। নইলে মা খুব বকবে। সামনেই পরীক্ষা। বই হারিয়ে তাকে আর ধরে রাখা দায়। আমিও চিন্তায় পড়ে গেলাম। ক্লাসের মধ্যে থেকে বইটা গেল কোথায়?  অফিস ঘরের টেবিল,আমার ব্যাগ, রান্নাঘর সব জায়গায় খোঁজা হল। কিছুতেই পাওয়া গেল না।  মেঘলার কান্নার কারণে একটা নতুন বই দিয়ে বললাম, পরীক্ষা শেষে ফেরত দিস।তাতেও কান্না থামে নি।একটাই কথা আমার আগের বইটাই চাই।বই এ আমি অনেক কিছু লিখেছি।কার্টুনের ছবি লাগানো আছে। আমার বই আমাকেই দিতে হবে।  ছেলে পুলেদের পুলিশের ভয় দেখালাম।  যে চুরি করেছে, তাকে পুলিশে দেওয়া হবে।  কেউ বলল,সত্যি বলছি আমি চুরি করিনি। আমার ব্যাগ দেখো ভালো করে।  ক্লাস টুয়ের রোণিত বলেই ফেলল, তুমি তো জানো আন্ট্রি,ছোটো বেলায় কত চুরি করেছি। এখন কি আর করি বলো? বড় হয়েছি না? শিশু শ্রেণীর রোহিণী, চোখ মুছতে মুছতে বলল,বই না পেলে কি সবাইকে ধরে নিয়ে ...

অণুগল্প ।। সংসার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস

   সংসার    সঙ্ঘমিত্রা দাস  কাল মা আর ঠাম্মার ঝগড়া হয়েছে। টুকটুকি দেখেছে। ওরা কথা বলছে না, আড়ি। আজ সকালে স্কুলে যাবার সময়  যখন দুধ কর্নফ্লেক্স খাচ্ছিল তখন বাবা ঠাম্মাকে চা দিয়ে এসেছে। এখন খুব চিন্তা হচ্ছে মা যদি ওকে ঠাম্মার সাথে কথা বলতে বারণ করে। ঠাম্মাই তো বলে মায়ের সব কথা শুনতে হয়। তাহলে কি করবে? স্কুলে সারাদিন অন্যমনস্ক ছিল টুকটুকি। ইংলিশ পিরিয়ডে পড়া না শোনায় কান ধরেও দাড়িয়েছে। কিন্তু এসব কথা তো দিদিমণিকে বলা যায় না।  ছুটির পর মায়ের হাত ধরে বাড়ি ফিরেছে। ঠাম্মা বারান্দায় খবরের কাগজ পড়ছে, ওর দিকে একবারও তাকালো না। কিন্তু রোজ এইসময় ও ঠাম্মার কাছে গল্প শোনো, টিভি দেখে একসাথে। তারপর স্নান করতে যায়। চুপচাপ ঘরে এসে ইউনিফর্ম পাল্টে নিল টুকটুকি। মা গম্ভীর ভাবে ওকে বললো  " যাও এবার ঠাম্মার সাথে খেলো গিয়ে, আমার মাথা ব্যাথা করছে একটু বিশ্রাম নেবো। " টুকটুকি একগাল হাসি দিয়ে ছুটে গিয়ে ঠাম্মার কোলে উঠে পড়লো। ঠাম্মাও আদরে জড়িয়ে ধরলো ওকে। আজ স্নান খাওয়া সব ঠাম্মা করিয়েছে। মায়ের মন ভালো নেই তাই। টুকটুকির মা জানলা দিয়ে ওদের দেখে...

পথ চলতি ✍️পার্থ প্রতিম দাস

🌼পথ চলতি 🌼 ✍️পার্থ প্রতিম দাস      সব সময় ভাবুক মন দুঃখের তাল কেটে বেরিয়ে যেতে চায় নিরুদ্দেশের পথে। তাইতো আকাশে উড়োজাহাজের শব্দ শুনতে পেলেই, চোখ তুলে ওপরের দিকে খোলা শূন্যের দিকে তাকায়। আকাশকে শূন্য বলাটাও ভুল। অসংখ্য গ্রহ নক্ষত্রের বাস সেখানে। সেখানেও আছে আইনের রাজত্ব। ভৌতবিজ্ঞানের নিয়ম নীতি সেখানে বিপুল পরিমাণে কাজ করে। ছোটবেলা থেকে সূজয় এইসব পড়েছে। এখন তার হাতে বাজারের থলে। বাজারে গিয়ে সে ঠিক করে দরদাম করতে পারে না। দর কষাকষি যে একটা আর্ট, সেই ব্যপারটা তার সিলেবাসে নাই।      আগে বাজার করে ফিরলে মায়ের কাছে বকা খেত। এখন স্ত্রীর মুখে বকা শুনে। ছেলে মেয়ে গুলো বড় হচ্ছে। প্রতিদিন কথা শুনতে তার ভীষণ আত্মসম্মানে লাগে। মোড়ের দোকানের সামনে টোটো দাঁড় করিয়ে সে একটা সিগারেট ধরায়। এক রাউন্ড ধোঁয়া ছেড়ে দোকানের পল্টুদাকে বলল, "তোমার খুব ভাগ্য ভালো। দোকানের হিসেব পত্র কত সুন্দর করছো। আমি আর হিসেবটা শিখতে পারলাম না।"    এতো লম্বা চওড়া প্রশংসা শুনে পল্টুদা হেব্বি খুশি হয়ে গেল। জামার কলার তুলে বলল, "হিসেব করাটাই আসল বিদ্যা। আর সব তো ছাইপাশ। টিউশনি নিতে আসিস। ফ...

গর্ভ ।। শাশ্বত বোস

গর্ভ শাশ্বত বোস নদীটার নির্দিষ্ট কোন নাম নেই! ওপারের পদ্মার চরের শেষ মাথা থেকে বেরিয়ে আবার এ দেশে এসে ঢুকেছে! এঁকে বেঁকে গিয়ে মিশেছে ভৈরব নদীতে। স্মৃতির পিঠে স্মৃতি জড়িয়ে গিয়ে, একটা ঝিমধরা বিষন্নতার বোধ নিয়ে, ওকে সবাই চেনে 'পদ্মার শাখানদী' নামে। ঘোর বর্ষায় ওর বুকে পেটে এখন জল থৈ থৈ! রোজ সন্ধ্যেবেলা ছেদু কাকার ঘাটে মাছের বাজার বসে। নিতান্ত ছোট্ট গ্রাম্য একটা বাজার! ওই শাখা নদীতে জাল দিয়ে যা যা মাছ ওঠে, তাই কাঁটা হয় এই বাজারে। রুই, কাতলা, পার্সে, ট্যাংরা, ভাঙ্গর, কাজলী আর বর্ষার মরশুমে কখনো সখনো ইলিশ! চওড়া বুক জুড়ে যেন রুপোর ক্যানভাস! পিঠের দিকটা সবুজ! নাকের কাছে খাবলা করে হলুদ আর সিঁদুর মাখানো যেন! যেন পদ্মার গর্ভে ভেসে আসা সৃষ্টির আদিকালের আদুরে সন্তান! এই শাখা নদী যেন পেট দেয় মাছেদের। এ পেট গর্ভের নিশ্চিন্ত আশ্রয়! এই শাখানদীর মিষ্টি জলে, পদ্মার স্রোতের বিপরীতে ভেসে আসা মাছেরা ঘর বাঁধে। আবার এই মাছেরাই পেট চালায় রাণীনগর ব্লক ২ এরিয়ার এই কয়েক ঘর ধীবরের! 'অজগর আলী মন্ডল' এদেরই একজন! এপারে ওর নাম অজগর আবার বর্ডার ক্রস করে ওপারে গেলেই হয়ে যায় 'বাহারুদ্দিন শেখ'! আজ স...

শাপে বর ।। সাইফুল ইসলাম

শাপে বর সাইফুল ইসলাম বড় বড় ফাটল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা খড়ের ছাউনি দেওয়া মাটির বাড়িটির পিছন দিকের দেয়াল ঘেঁষে একখানা কামার শালা। পঞ্চাশোর্ধ পবিত্র ও তার স্ত্রী রাধারানী ছোট ছেলেকে নিয়ে সেই বাড়িতেই থাকে। কামারশালায় হাতুড়ি পেটানোর শব্দ শুরু হয় সকাল সকাল, চলে দিনভর। সারাদিনের আগুনের আঁচে শরীরখানা যেন কয়লা। সেদিন পাড়ার অনেকে জুটেছে পবিত্রর কামারশালায়। কাজ করতে করতে সে হঠাৎ ধুলোয় শুয়ে ছটফট করছে। সবাই মিলে ডাক্তার-খানা নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। "আমাকে নিয়ে যেতে হবে না। এমনটা আমার প্রায়ই হয় "- বলে হাত বাড়িয়ে একটা প্লাস্টিকের কৌটো থেকে কি যেন নিয়ে মুখে পুরে বলল - একটু জল দাও। কিছুক্ষণ বাদে উঠে আবার কাজ শুরু করলো। ওটা তুমি কি খেলে? -প্রশ্ন ছুঁড়ল কেউ। খাবার সোডা। কে তোমাকে এসব খাওয়ার যুক্তি দিয়েছে? কেউ না। আমি রোগী, আমিই ডাক্তার। খাবার সোডা নামটা শুনেই সকলেই মুখ চাওয়া-চাওয়ি শুরু করল। পবিত্র বলল -ডাক্তার একটা পেটের ছবি করতে বলেছে। টাকা পয়সার অভাবে তা পারিনি। --বলেই হাপর টানতে শুরু করল। লোকের ভিড় কমে গেছে। গরম লোহা হাতুড়ির ঘা খেয়ে রূপ বদলাতে শুরু করেছে। প...

আদিম ক্ষুধা ।। আনন্দ গোপাল গরাই

আদিম ক্ষুধা আনন্দ গোপাল গরাই স্বাতীকে একা পেয়ে তার পিছু নিয়েছে দুজন ষন্ডামার্কা ছেলে। সম্ভ্রম বাঁচাবার জন্যে প্রাণপণে ছুটতে থাকে সে। ছেলে দুটোও ওকে ধরার জন্যে ছুটতে থাকে ওর পিছু পিছু। অতিরিক্ত নেশা করার কারণে পা টলতে থাকে তাদের। হঠাৎ আবছা অন্ধকারে স্বাতী দেখতে পায় এক মাঝবয়সী ভদ্রলোককে। প্রাণপণে দৌড়তে দৌড়তে তার কাছে এসে সাহায্য প্রার্থনা করে সে। ততক্ষণে মাতাল ছেলেদুটোও তার কাছাকাছি এসে গেছে। একজন তো ওর হাতটা ধরব ধরব করছে। তা দেখে ভদ্রলোক গর্জন করে বললেন--" আর এক পা এগোবার চেষ্টা করবি না।" কথাটা বলেই যে ছেলেটা কাছাকাছি এসেছিল তাকে সজোরে মারলেন এক লাথি। রাস্তার উপর চিৎ হয়ে উল্টে পড়লো সে। সঙ্গী ছেলেটা একটা চকচকে ছোরা বের করে মারতে গেলো ভদ্রলোককে। তাই দেখে পকেট থেকে পিস্তল বের করলেন ভদ্রলোক। পিস্তল তাক করতেই প্রাণভয়ে একটা ঘিঞ্জি গলির দিকে ছুটে পালালো ওরা। ভদ্রলোকের সঙ্গে স্বাতী গিয়ে হাজির হলো এক প্রাসাদোপম বাড়িতে। ভদ্রলোক তাকে বসতে দিলেন একটা ঝাঁ চকচকে রুমে। এতক্ষণে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে এসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো স্বাতী। ভদ্রলোক না থাকলে ওর যে কী অবস...

সময় বড় কম ।। গৌতম সমাজদার

সময় বড় কম গৌতম সমাজদার  ছা-পোষা মানুষ নির্মলবাবু। অতি সরলতা অঞ্চলের মানুষকে মুগ্ধ করত। নির্মলবাবু খুবই জনপ্রিয় মানুষ গ্রামে। যাতায়াতের পথে সবার সাথে কুশল বিনিময় করেন। গ্রামের সবার বিপদে পাশে থাকেন। বৌ কমলা মাঝে মাঝেই বলেন, "ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়াও। ঘরে সময় দাও। তাতে সংসারটাও ভাল থাকবে, তোমার শরীরও ভাল থাকবে।" কিন্তু চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। নির্মলবাবু অবিচল থাকেন। নিজের স্বল্প আয়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করেন সংসার ভাল করে চালাতে। এজন্য নিজেও অনেক আত্মত্যাগ করেন। অতি সাধারণভাবে নিজের জীবন কাটান। পরিবারের চাহিদা মেটাতে সদা তৎপর। তবু চাহিদা তো আজকের জীবনে মেটানো বেশ কঠিন। বিজ্ঞাপনের শিকার হয়ে পরিবারের সব সাধ মেটাতে পারেন না। নিজেও তাতে দুঃখ পান। তবে তাতে পরিবারের বন্ধন কম নেই। কখনো দূরত্ব সৃষ্টি হলেও একটা টান সবাই সবার জন্য বোধ করে। স্ত্রী তার সাধ্যমতো পরিবারকে ভাল রাখার জন্য প্রচুর দায় দায়িত্ব পালন করে। বিয়ের পরপর কিছু সময় ভাল কাটলেও পরের দিকে চাহিদা মেটানোর ঘাটতিতে অশান্তি যে হত না তা নয়। নির্মলবাবু নিজে কষ্ট করেও পরিবারের জন্য সঞ্চয় করেন। একদিন নির্মলের খুব ইচ্ছে...

নি:সঙ্গতা ।। মাখনলাল প্রধান

  নি:সঙ্গতা মাখনলাল প্রধান শীতার্ত এই শহরটিতে প্রায়ই শোনা যায়, প্রতিটি বন্ধুর মুখ থেকে নাকি ভোরের আগে ঝরে পড়ে একেকটা অকল্পনীয় অদৃশ্য ভাষা, যেগুলো কেবল ধোঁয়ার ভিতরেই চলাফেরা করে। বন্ধুরা গোল হয়ে দাঁড়ায়, হাতে থাকে ফাল্গুনীর তৈরি চায়ের ভাঁড়, সারা রক্ষিতের মোড় আলোয় হাঁটে আর ভাঁড় থেকে উঠে আসা চায়ের গন্ধে ভেসে ওঠে শৈশবের হারানো দুপুরগুলো। যারা সেই চা খায়, তারা নাকি কিছুক্ষণের জন্য নিজেদের জন্মদিন ভুলে যায়। বন্ধুরা হাসতে হাসতে পটেক হাতড়ে বিড়ি বের করে। ধোঁয়ার মধ্যে ভেসে ওঠে অলৌকিক জালের মতো ছবি—কেউ দেখে বাঁকুড়ার টেরাকোটা ঘোড়া পুলওমা হয়ে ছুটে যাচ্ছে, কেউ দেখে  আরজিকরের  পেছন দিয়ে বয়ে যাওয়া একটা রক্তের ধারাকে কয়েকজন লাথি মেরে বন্ধ করার চেষ্টা করছে, কেউ আবার বেনিয়াটোলার ছোটো ছাপাখানার অক্ষরগুলোকে ডানা মেলে ভারতনাট‍্যম করতে দেখে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, বাজ পড়া কোনো গাছকে নিয়ে এখানে কেউ কবিতা লেখে না; কারণ বিশ্বাস করা হয়, সেই কবিতা লিখতে গেলেই তারা মাটিতে নেমে এসে মানুষের কানে কানে গোপন মৃত্যুবার্তা ফিসফিস করে দেবে। এই শহরের একমাত্র কবি—আমি—যখন অটোতে চড়ে গড়িয়া যাই, যখন ফুটপাত ধরে হাঁট...

বন্ধু ।। রবীন বসু

  অণুগল্প    বন্ধু রবীন বসু     অয়ন আমার কলেজবন্ধু ছিল। যাকে বলে হরিহর আত্মা। সেমেস্টারে আমার রেজাল্ট ওর থেকে ভাল থাকত। হতাশ হয়ে বলত, তোকে আর টপকাতে পারলাম না‌।   কিন্তু সেই বন্ধুত্বে একদিন ফাটল এল তৃণাকে নিয়ে। তৃণা আমাদের কমন বান্ধবী। সেই বন্ধুত্ব আমরা দু'জনেই প্রণয়ে রূপান্তরিত করতে সচেষ্ট হই । আর গোল বাধল সেখান থেকেই। যেন দুই প্রতিপক্ষ যোদ্ধা। তৃণা মজা পেত। হাসতে হাসতে বলত, বাবা! বান্ধবীরা যেখানে একটা প্রেমিক জোটাতে পারছে না, আমার সেখানে দু' দুটো। তবে আমার বাপু একটা শর্ত আছে। আমি একটা স্বয়ম্বর সভার ব্যবস্থা করব। সেখানে তোমাদের ডুয়েল লড়তে হবে। যে জিতবে মালা তার গলায়।          অবশ্য শেষ পর্যন্ত অয়নের সঙ্গে আমার ডুয়েল লড়া হয়নি। ত্রিশঙ্কু ঝুলে থেকে তৃণার মন না- পেয়ে স্কলারশিপ নিয়ে আমি চলে যাই আমেরিকার মিশিগান শহরে। তারপর রিসার্চ, চাকরি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। রাগে আর  মনের দুঃখে তৃণাকে ফোনে, হোয়াটসঅ্যাপে, ফেসবুকে ব্লক করে দিই। তাই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। প্রায় দশ বছর পর দেশে ফিরে অয়নকে ফো...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায় লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০৩তম সংখ্যা ।। আশ্বিন ১৪৩৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

  সূচিপত্র তিনটি কবিতা ।। জহির খান মহাকালের ক্যানভাসে এক দূরদর্শী নাবিক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কবি রোমিলা থাপার : অস্তিত্বের অনুসন্ধান ।। শিবাশিস মুখার্জি ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত অসুখী ঋণের বোঝা ।। ভাস্কর সিনহা অণুগল্প ।। মাটির বাঁধ ।। সুমিত মোদক গল্প ।। দর্শন ।। নিরাশাহরণ নস্কর তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় প্রত্যাবর্তন ।। শিবাশিস মুখার্জি পতি, পত্নী আউর খুবসুরতি—যো নজর না লাগে!! ।। অরিন্দম পাল গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব অজ্ঞতার উত্তরাধিকার ভেঙে জ্ঞানের আলোকযাত্রা ।। মেশকাতুন নাহার চিন্তার উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ।। মেশকাতুন নাহার রঙের আড়ালে মানুষ ।। মইনুদ্দিন সরদার শিক্ষক দিবস ✍️ শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজন তিনটি কবিতা ।। তন্ময় অধিকারী দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন দুটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর শিক্ষক দিবস পালনের চির প্রাসঙ্গিকতা ।। পাভেল আমান যখন পুজো আসত ।। সঞ্চয়ন ব্যানার্জী সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল মাস্টারমশাই ।। অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক পদ্ম পাতায় জল ।। অশোক দাশ ঋতুবতী গোলাপ ।। আজিজু...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...

ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত

এক চিলতে সেই তোমার আকাশ আজ অরবিন্দ পুরকাইত   অপু, আজ শেষ বিকেলে বাসার মধ্যে কেমন যেন ভাল লাগছিল না! তাও একটু আগেই বেরিয়েছিলাম। আজ ফুন্তু-র বদলে অপু সম্বোধনে একটু কৌতুক অনুভব করলে বোধহয়! ভেবে দেখেছি, নাম-পদবির আদ্যক্ষর নিয়ে, কালজয়ী প্রিয় উপন্যাসের নায়ককে ভেবে— নিজের গ্রামপ্রীতির কথা মাথায় রেখে নেওয়া আমার এ নামটি তোমার ক্ষেত্রেই বেশি উপযুক্ত আজ। ঠাকুরদার সম্বোধনের—তোমারও নাম-পদবির আদ্যক্ষর মিলিয়ে নামের ওই ক্ষুদ্র সংস্করণটি তোমার তো বড় প্রিয় ছিল। লেখায়-আঁকায় ব্যবহার করতে। আর তুমিও তো আদ্যন্ত অপু! বয়স বাড়তে না দিয়ে, আরও যেন তার যাথার্থতা প্রতিপন্ন করে গেলে! সে যাক। তা তোমার বোনুর খিদে পেয়েছে বলে আমাকে পাঁউরুটি আনতে বলল। তোমার মা বলল, একটু আগে বেরোলো, বলতে পারিসনি! বোনুর যুক্তি, খিদে তো এখন পেল! তা তুমি তো জান ঘোষকাকুর দোকান এই সময় বন্ধ, আমি বলি, দেখি, অন্য কোথাও পাওয়া যেতে পারে।      তো বেরিয়ে, জয়রামের দোকানের কাছে, মেন রোডে ওঠার আগে ডানদিকে সরু সেলুনের পাশের মহিলার দোকান থেকে পেয়ে গেলাম হাফ পাউন্ড রুটি। দু-দফায় এবার দাম বেড়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

স্বাধীনতা দিবস ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)

স্বাধীনতা দিবস অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস) ভোরের বেলা বর্ষণের                    ঝমঝম ছন্দে, ঘুম থেকে উঠে        মেঘ জমা মনে ; বাদলের লুকোচুরি খেলা। পুবের আকাশ থেকে এক টুকরো সূর্য রশ্মি, চকচকিয়ে পাত্রে রাখা                  পদ্ম পাতায় পরে। নীল আকাশের বুকে সাদা মেঘের সাথে         শ্বেত করবীর দোলা। দক্ষিণা আকাশে যেখানে             জলের রেখা দিগন্তে মেশে ; ঠিক সেখানেই উঁড়ে যায়                    পাখি পক্ষীর দল। পশ্চিম দিকে কালো মেঘে ঢাকা গাছের ফাঁকে শুধুই তারেই দেখা।         উত্তরেতে বহু দূরে............... ভেসে আসে গানের সু...

বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজন

বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজনা — মধুসূদন থেকে জীবনানন্দ (প্রথম অংশ ) রণেশ রায়    ১ মাইকেল মধুসূদন দত্ত: জীবনী, সাহিত্যপ্রতিভা ও আত্মোপলব্ধি জীবনী মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪–১৮৭৩) বাংলা সাহিত্যের একজন যুগান্তকারী কবি। অধুনা বাংলাদেশের যশোর জেলার সাগরদাঁড়িতে, এক সমৃদ্ধ জমিদার পরিবারে তাঁর জন্ম। পাশ্চাত্য সাহিত্য, গ্রিক-রোমান পুরাণের প্রতি তাঁর গভীর আসক্তি ছিল ছাত্রজীবন থেকেই । সেই আকর্ষণই তাঁকে পরবর্তীকালে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনে প্রেরণা দেয়।তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা সাহিত্যের এক দিগন্ত রেখা। যুবক বয়স থেকেই পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি অনুরক্ত ছিলেন।তিনি ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে কলকাতার স্কুল-কলেজে পড়তে শুরু করেন। তৎকালীন পাশ্চাত্য জীবনাদর্শ, বিশ্বযুড়ে সামাজিক পরিবর্তনের ঢেউ,মানবতাবাদী দর্শন —এসব তাঁর চিন্তাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে । তিনি খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে "মাইকেল" নাম গ্রহণ করেন—যা ছিল তৎকালীন হিন্দু সমাজে অত্যন্ত আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। তিনি বিচ্ছিন্ন হয় পড়েন তার নিজ-জনের কাছ থে...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং...

চন্দন মিত্রর কবিতা

    পুনর্নবা         আমাকে ঝাঁকাও যদি ঝরাব টুপটাপ  লাল নীল গোলাপি সবুজ হলুদ বেগুনি সাদা অ আ ক খ অনিঃশেষ উন্মূল হব না কখনও  এ মাটিতে হাজার বছর আমি  শিকড় চারিয়ে আছি কাটো যদি গজাব আবার ... =============== চন্দন মিত্র ভগবান পুর ( হরিণডাঙা ) ডায়মন্ড হারবার , দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা 

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০৩তম সংখ্যা ।। আশ্বিন ১৪৩৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

  সূচিপত্র তিনটি কবিতা ।। জহির খান মহাকালের ক্যানভাসে এক দূরদর্শী নাবিক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কবি রোমিলা থাপার : অস্তিত্বের অনুসন্ধান ।। শিবাশিস মুখার্জি ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত অসুখী ঋণের বোঝা ।। ভাস্কর সিনহা অণুগল্প ।। মাটির বাঁধ ।। সুমিত মোদক গল্প ।। দর্শন ।। নিরাশাহরণ নস্কর তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় প্রত্যাবর্তন ।। শিবাশিস মুখার্জি পতি, পত্নী আউর খুবসুরতি—যো নজর না লাগে!! ।। অরিন্দম পাল গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব অজ্ঞতার উত্তরাধিকার ভেঙে জ্ঞানের আলোকযাত্রা ।। মেশকাতুন নাহার চিন্তার উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ।। মেশকাতুন নাহার রঙের আড়ালে মানুষ ।। মইনুদ্দিন সরদার শিক্ষক দিবস ✍️ শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজন তিনটি কবিতা ।। তন্ময় অধিকারী দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন দুটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর শিক্ষক দিবস পালনের চির প্রাসঙ্গিকতা ।। পাভেল আমান যখন পুজো আসত ।। সঞ্চয়ন ব্যানার্জী সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল মাস্টারমশাই ।। অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক পদ্ম পাতায় জল ।। অশোক দাশ ঋতুবতী গোলাপ ।। আজিজু...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং...

ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত

এক চিলতে সেই তোমার আকাশ আজ অরবিন্দ পুরকাইত   অপু, আজ শেষ বিকেলে বাসার মধ্যে কেমন যেন ভাল লাগছিল না! তাও একটু আগেই বেরিয়েছিলাম। আজ ফুন্তু-র বদলে অপু সম্বোধনে একটু কৌতুক অনুভব করলে বোধহয়! ভেবে দেখেছি, নাম-পদবির আদ্যক্ষর নিয়ে, কালজয়ী প্রিয় উপন্যাসের নায়ককে ভেবে— নিজের গ্রামপ্রীতির কথা মাথায় রেখে নেওয়া আমার এ নামটি তোমার ক্ষেত্রেই বেশি উপযুক্ত আজ। ঠাকুরদার সম্বোধনের—তোমারও নাম-পদবির আদ্যক্ষর মিলিয়ে নামের ওই ক্ষুদ্র সংস্করণটি তোমার তো বড় প্রিয় ছিল। লেখায়-আঁকায় ব্যবহার করতে। আর তুমিও তো আদ্যন্ত অপু! বয়স বাড়তে না দিয়ে, আরও যেন তার যাথার্থতা প্রতিপন্ন করে গেলে! সে যাক। তা তোমার বোনুর খিদে পেয়েছে বলে আমাকে পাঁউরুটি আনতে বলল। তোমার মা বলল, একটু আগে বেরোলো, বলতে পারিসনি! বোনুর যুক্তি, খিদে তো এখন পেল! তা তুমি তো জান ঘোষকাকুর দোকান এই সময় বন্ধ, আমি বলি, দেখি, অন্য কোথাও পাওয়া যেতে পারে।      তো বেরিয়ে, জয়রামের দোকানের কাছে, মেন রোডে ওঠার আগে ডানদিকে সরু সেলুনের পাশের মহিলার দোকান থেকে পেয়ে গেলাম হাফ পাউন্ড রুটি। দু-দফায় এবার দাম বেড়...