Skip to main content

Posts

Showing posts with the label অণুগল্প

গল্প ।। পার্ক ।। প্রতীক মিত্র

পার্ক প্রতীক মিত্র পার্কের দেয়ালে নতুন করে সুন্দর সুন্দর ছবি আঁকা হয়েছে। পাশে উচুঁ জাল দিয়ে ঘেরা পুকুরে সাদা হাঁস ভেসে বেড়াচ্ছে। পার্কের ভেতরে  হিমেল হাওয়া লাগলে দুলে উঠছে অমায়িক গাছগুলো। মাথার ওপর নীল আকাশের নিরিখে পার্ক আর তার আশপাশে অবসর শীতবেলার গায়ে দেওয়া চাদরের উষ্ণতার মতন নিবিড়। শুধু পার্কের দোলনায় জং ধরেছে। খালি দোলনা। একটা-দুটো পাখি দোলনায় বসে বোধ হয় ভাবছে পার্কটা এমন চুপচাপ কেন? স্লিপেও হৈচৈ নেই। মানুষ বলতে একটাই মেয়ে। বছর নয়েকের। হাতে ফোন। স্লিপে বসে এক মনোযোগে ফোনে কি সব যেন দেখে চলেছে। কি বেমানান লাগছে পার্কটা। সব কেমন চুপচাপ। বছর কুড়ি আগে হবে। পার্কের উলটো দিকে রুটি কিনতে আসা লোকটা নিজেও তখন এই পার্কেই আসতো খেলতে। অথচ এখন? ================ প্রতীক মিত্র কোন্নগর, হুগলী

উধাও ।। অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ

উধাও  অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ  হঠাৎ টেবিল থেকে "আমার বই" উধাও।  সবার ব্যাগ চেক করা হল। যার বই হারিয়েছে,তারও ব্যাগ দেখা হল।কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না।এদিকে  মেঘলা  মানে (যার বই হারিয়েছে)কেঁদে ভাসাচ্ছে।  আমার বই এখুনি খুঁজে দিতে হবে। নইলে মা খুব বকবে। সামনেই পরীক্ষা। বই হারিয়ে তাকে আর ধরে রাখা দায়। আমিও চিন্তায় পড়ে গেলাম। ক্লাসের মধ্যে থেকে বইটা গেল কোথায়?  অফিস ঘরের টেবিল,আমার ব্যাগ, রান্নাঘর সব জায়গায় খোঁজা হল। কিছুতেই পাওয়া গেল না।  মেঘলার কান্নার কারণে একটা নতুন বই দিয়ে বললাম, পরীক্ষা শেষে ফেরত দিস।তাতেও কান্না থামে নি।একটাই কথা আমার আগের বইটাই চাই।বই এ আমি অনেক কিছু লিখেছি।কার্টুনের ছবি লাগানো আছে। আমার বই আমাকেই দিতে হবে।  ছেলে পুলেদের পুলিশের ভয় দেখালাম।  যে চুরি করেছে, তাকে পুলিশে দেওয়া হবে।  কেউ বলল,সত্যি বলছি আমি চুরি করিনি। আমার ব্যাগ দেখো ভালো করে।  ক্লাস টুয়ের রোণিত বলেই ফেলল, তুমি তো জানো আন্ট্রি,ছোটো বেলায় কত চুরি করেছি। এখন কি আর করি বলো? বড় হয়েছি না? শিশু শ্রেণীর রোহিণী, চোখ মুছতে মুছতে বলল,বই না পেলে কি সবাইকে ধরে নিয়ে ...

অণুগল্প ।। সংসার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস

   সংসার    সঙ্ঘমিত্রা দাস  কাল মা আর ঠাম্মার ঝগড়া হয়েছে। টুকটুকি দেখেছে। ওরা কথা বলছে না, আড়ি। আজ সকালে স্কুলে যাবার সময়  যখন দুধ কর্নফ্লেক্স খাচ্ছিল তখন বাবা ঠাম্মাকে চা দিয়ে এসেছে। এখন খুব চিন্তা হচ্ছে মা যদি ওকে ঠাম্মার সাথে কথা বলতে বারণ করে। ঠাম্মাই তো বলে মায়ের সব কথা শুনতে হয়। তাহলে কি করবে? স্কুলে সারাদিন অন্যমনস্ক ছিল টুকটুকি। ইংলিশ পিরিয়ডে পড়া না শোনায় কান ধরেও দাড়িয়েছে। কিন্তু এসব কথা তো দিদিমণিকে বলা যায় না।  ছুটির পর মায়ের হাত ধরে বাড়ি ফিরেছে। ঠাম্মা বারান্দায় খবরের কাগজ পড়ছে, ওর দিকে একবারও তাকালো না। কিন্তু রোজ এইসময় ও ঠাম্মার কাছে গল্প শোনো, টিভি দেখে একসাথে। তারপর স্নান করতে যায়। চুপচাপ ঘরে এসে ইউনিফর্ম পাল্টে নিল টুকটুকি। মা গম্ভীর ভাবে ওকে বললো  " যাও এবার ঠাম্মার সাথে খেলো গিয়ে, আমার মাথা ব্যাথা করছে একটু বিশ্রাম নেবো। " টুকটুকি একগাল হাসি দিয়ে ছুটে গিয়ে ঠাম্মার কোলে উঠে পড়লো। ঠাম্মাও আদরে জড়িয়ে ধরলো ওকে। আজ স্নান খাওয়া সব ঠাম্মা করিয়েছে। মায়ের মন ভালো নেই তাই। টুকটুকির মা জানলা দিয়ে ওদের দেখে...

পথ চলতি ✍️পার্থ প্রতিম দাস

🌼পথ চলতি 🌼 ✍️পার্থ প্রতিম দাস      সব সময় ভাবুক মন দুঃখের তাল কেটে বেরিয়ে যেতে চায় নিরুদ্দেশের পথে। তাইতো আকাশে উড়োজাহাজের শব্দ শুনতে পেলেই, চোখ তুলে ওপরের দিকে খোলা শূন্যের দিকে তাকায়। আকাশকে শূন্য বলাটাও ভুল। অসংখ্য গ্রহ নক্ষত্রের বাস সেখানে। সেখানেও আছে আইনের রাজত্ব। ভৌতবিজ্ঞানের নিয়ম নীতি সেখানে বিপুল পরিমাণে কাজ করে। ছোটবেলা থেকে সূজয় এইসব পড়েছে। এখন তার হাতে বাজারের থলে। বাজারে গিয়ে সে ঠিক করে দরদাম করতে পারে না। দর কষাকষি যে একটা আর্ট, সেই ব্যপারটা তার সিলেবাসে নাই।      আগে বাজার করে ফিরলে মায়ের কাছে বকা খেত। এখন স্ত্রীর মুখে বকা শুনে। ছেলে মেয়ে গুলো বড় হচ্ছে। প্রতিদিন কথা শুনতে তার ভীষণ আত্মসম্মানে লাগে। মোড়ের দোকানের সামনে টোটো দাঁড় করিয়ে সে একটা সিগারেট ধরায়। এক রাউন্ড ধোঁয়া ছেড়ে দোকানের পল্টুদাকে বলল, "তোমার খুব ভাগ্য ভালো। দোকানের হিসেব পত্র কত সুন্দর করছো। আমি আর হিসেবটা শিখতে পারলাম না।"    এতো লম্বা চওড়া প্রশংসা শুনে পল্টুদা হেব্বি খুশি হয়ে গেল। জামার কলার তুলে বলল, "হিসেব করাটাই আসল বিদ্যা। আর সব তো ছাইপাশ। টিউশনি নিতে আসিস। ফ...

গর্ভ ।। শাশ্বত বোস

গর্ভ শাশ্বত বোস নদীটার নির্দিষ্ট কোন নাম নেই! ওপারের পদ্মার চরের শেষ মাথা থেকে বেরিয়ে আবার এ দেশে এসে ঢুকেছে! এঁকে বেঁকে গিয়ে মিশেছে ভৈরব নদীতে। স্মৃতির পিঠে স্মৃতি জড়িয়ে গিয়ে, একটা ঝিমধরা বিষন্নতার বোধ নিয়ে, ওকে সবাই চেনে 'পদ্মার শাখানদী' নামে। ঘোর বর্ষায় ওর বুকে পেটে এখন জল থৈ থৈ! রোজ সন্ধ্যেবেলা ছেদু কাকার ঘাটে মাছের বাজার বসে। নিতান্ত ছোট্ট গ্রাম্য একটা বাজার! ওই শাখা নদীতে জাল দিয়ে যা যা মাছ ওঠে, তাই কাঁটা হয় এই বাজারে। রুই, কাতলা, পার্সে, ট্যাংরা, ভাঙ্গর, কাজলী আর বর্ষার মরশুমে কখনো সখনো ইলিশ! চওড়া বুক জুড়ে যেন রুপোর ক্যানভাস! পিঠের দিকটা সবুজ! নাকের কাছে খাবলা করে হলুদ আর সিঁদুর মাখানো যেন! যেন পদ্মার গর্ভে ভেসে আসা সৃষ্টির আদিকালের আদুরে সন্তান! এই শাখা নদী যেন পেট দেয় মাছেদের। এ পেট গর্ভের নিশ্চিন্ত আশ্রয়! এই শাখানদীর মিষ্টি জলে, পদ্মার স্রোতের বিপরীতে ভেসে আসা মাছেরা ঘর বাঁধে। আবার এই মাছেরাই পেট চালায় রাণীনগর ব্লক ২ এরিয়ার এই কয়েক ঘর ধীবরের! 'অজগর আলী মন্ডল' এদেরই একজন! এপারে ওর নাম অজগর আবার বর্ডার ক্রস করে ওপারে গেলেই হয়ে যায় 'বাহারুদ্দিন শেখ'! আজ স...

শাপে বর ।। সাইফুল ইসলাম

শাপে বর সাইফুল ইসলাম বড় বড় ফাটল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা খড়ের ছাউনি দেওয়া মাটির বাড়িটির পিছন দিকের দেয়াল ঘেঁষে একখানা কামার শালা। পঞ্চাশোর্ধ পবিত্র ও তার স্ত্রী রাধারানী ছোট ছেলেকে নিয়ে সেই বাড়িতেই থাকে। কামারশালায় হাতুড়ি পেটানোর শব্দ শুরু হয় সকাল সকাল, চলে দিনভর। সারাদিনের আগুনের আঁচে শরীরখানা যেন কয়লা। সেদিন পাড়ার অনেকে জুটেছে পবিত্রর কামারশালায়। কাজ করতে করতে সে হঠাৎ ধুলোয় শুয়ে ছটফট করছে। সবাই মিলে ডাক্তার-খানা নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। "আমাকে নিয়ে যেতে হবে না। এমনটা আমার প্রায়ই হয় "- বলে হাত বাড়িয়ে একটা প্লাস্টিকের কৌটো থেকে কি যেন নিয়ে মুখে পুরে বলল - একটু জল দাও। কিছুক্ষণ বাদে উঠে আবার কাজ শুরু করলো। ওটা তুমি কি খেলে? -প্রশ্ন ছুঁড়ল কেউ। খাবার সোডা। কে তোমাকে এসব খাওয়ার যুক্তি দিয়েছে? কেউ না। আমি রোগী, আমিই ডাক্তার। খাবার সোডা নামটা শুনেই সকলেই মুখ চাওয়া-চাওয়ি শুরু করল। পবিত্র বলল -ডাক্তার একটা পেটের ছবি করতে বলেছে। টাকা পয়সার অভাবে তা পারিনি। --বলেই হাপর টানতে শুরু করল। লোকের ভিড় কমে গেছে। গরম লোহা হাতুড়ির ঘা খেয়ে রূপ বদলাতে শুরু করেছে। প...

আদিম ক্ষুধা ।। আনন্দ গোপাল গরাই

আদিম ক্ষুধা আনন্দ গোপাল গরাই স্বাতীকে একা পেয়ে তার পিছু নিয়েছে দুজন ষন্ডামার্কা ছেলে। সম্ভ্রম বাঁচাবার জন্যে প্রাণপণে ছুটতে থাকে সে। ছেলে দুটোও ওকে ধরার জন্যে ছুটতে থাকে ওর পিছু পিছু। অতিরিক্ত নেশা করার কারণে পা টলতে থাকে তাদের। হঠাৎ আবছা অন্ধকারে স্বাতী দেখতে পায় এক মাঝবয়সী ভদ্রলোককে। প্রাণপণে দৌড়তে দৌড়তে তার কাছে এসে সাহায্য প্রার্থনা করে সে। ততক্ষণে মাতাল ছেলেদুটোও তার কাছাকাছি এসে গেছে। একজন তো ওর হাতটা ধরব ধরব করছে। তা দেখে ভদ্রলোক গর্জন করে বললেন--" আর এক পা এগোবার চেষ্টা করবি না।" কথাটা বলেই যে ছেলেটা কাছাকাছি এসেছিল তাকে সজোরে মারলেন এক লাথি। রাস্তার উপর চিৎ হয়ে উল্টে পড়লো সে। সঙ্গী ছেলেটা একটা চকচকে ছোরা বের করে মারতে গেলো ভদ্রলোককে। তাই দেখে পকেট থেকে পিস্তল বের করলেন ভদ্রলোক। পিস্তল তাক করতেই প্রাণভয়ে একটা ঘিঞ্জি গলির দিকে ছুটে পালালো ওরা। ভদ্রলোকের সঙ্গে স্বাতী গিয়ে হাজির হলো এক প্রাসাদোপম বাড়িতে। ভদ্রলোক তাকে বসতে দিলেন একটা ঝাঁ চকচকে রুমে। এতক্ষণে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে এসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো স্বাতী। ভদ্রলোক না থাকলে ওর যে কী অবস...

সময় বড় কম ।। গৌতম সমাজদার

সময় বড় কম গৌতম সমাজদার  ছা-পোষা মানুষ নির্মলবাবু। অতি সরলতা অঞ্চলের মানুষকে মুগ্ধ করত। নির্মলবাবু খুবই জনপ্রিয় মানুষ গ্রামে। যাতায়াতের পথে সবার সাথে কুশল বিনিময় করেন। গ্রামের সবার বিপদে পাশে থাকেন। বৌ কমলা মাঝে মাঝেই বলেন, "ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়াও। ঘরে সময় দাও। তাতে সংসারটাও ভাল থাকবে, তোমার শরীরও ভাল থাকবে।" কিন্তু চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। নির্মলবাবু অবিচল থাকেন। নিজের স্বল্প আয়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করেন সংসার ভাল করে চালাতে। এজন্য নিজেও অনেক আত্মত্যাগ করেন। অতি সাধারণভাবে নিজের জীবন কাটান। পরিবারের চাহিদা মেটাতে সদা তৎপর। তবু চাহিদা তো আজকের জীবনে মেটানো বেশ কঠিন। বিজ্ঞাপনের শিকার হয়ে পরিবারের সব সাধ মেটাতে পারেন না। নিজেও তাতে দুঃখ পান। তবে তাতে পরিবারের বন্ধন কম নেই। কখনো দূরত্ব সৃষ্টি হলেও একটা টান সবাই সবার জন্য বোধ করে। স্ত্রী তার সাধ্যমতো পরিবারকে ভাল রাখার জন্য প্রচুর দায় দায়িত্ব পালন করে। বিয়ের পরপর কিছু সময় ভাল কাটলেও পরের দিকে চাহিদা মেটানোর ঘাটতিতে অশান্তি যে হত না তা নয়। নির্মলবাবু নিজে কষ্ট করেও পরিবারের জন্য সঞ্চয় করেন। একদিন নির্মলের খুব ইচ্ছে...

নি:সঙ্গতা ।। মাখনলাল প্রধান

  নি:সঙ্গতা মাখনলাল প্রধান শীতার্ত এই শহরটিতে প্রায়ই শোনা যায়, প্রতিটি বন্ধুর মুখ থেকে নাকি ভোরের আগে ঝরে পড়ে একেকটা অকল্পনীয় অদৃশ্য ভাষা, যেগুলো কেবল ধোঁয়ার ভিতরেই চলাফেরা করে। বন্ধুরা গোল হয়ে দাঁড়ায়, হাতে থাকে ফাল্গুনীর তৈরি চায়ের ভাঁড়, সারা রক্ষিতের মোড় আলোয় হাঁটে আর ভাঁড় থেকে উঠে আসা চায়ের গন্ধে ভেসে ওঠে শৈশবের হারানো দুপুরগুলো। যারা সেই চা খায়, তারা নাকি কিছুক্ষণের জন্য নিজেদের জন্মদিন ভুলে যায়। বন্ধুরা হাসতে হাসতে পটেক হাতড়ে বিড়ি বের করে। ধোঁয়ার মধ্যে ভেসে ওঠে অলৌকিক জালের মতো ছবি—কেউ দেখে বাঁকুড়ার টেরাকোটা ঘোড়া পুলওমা হয়ে ছুটে যাচ্ছে, কেউ দেখে  আরজিকরের  পেছন দিয়ে বয়ে যাওয়া একটা রক্তের ধারাকে কয়েকজন লাথি মেরে বন্ধ করার চেষ্টা করছে, কেউ আবার বেনিয়াটোলার ছোটো ছাপাখানার অক্ষরগুলোকে ডানা মেলে ভারতনাট‍্যম করতে দেখে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, বাজ পড়া কোনো গাছকে নিয়ে এখানে কেউ কবিতা লেখে না; কারণ বিশ্বাস করা হয়, সেই কবিতা লিখতে গেলেই তারা মাটিতে নেমে এসে মানুষের কানে কানে গোপন মৃত্যুবার্তা ফিসফিস করে দেবে। এই শহরের একমাত্র কবি—আমি—যখন অটোতে চড়ে গড়িয়া যাই, যখন ফুটপাত ধরে হাঁট...

বন্ধু ।। রবীন বসু

  অণুগল্প    বন্ধু রবীন বসু     অয়ন আমার কলেজবন্ধু ছিল। যাকে বলে হরিহর আত্মা। সেমেস্টারে আমার রেজাল্ট ওর থেকে ভাল থাকত। হতাশ হয়ে বলত, তোকে আর টপকাতে পারলাম না‌।   কিন্তু সেই বন্ধুত্বে একদিন ফাটল এল তৃণাকে নিয়ে। তৃণা আমাদের কমন বান্ধবী। সেই বন্ধুত্ব আমরা দু'জনেই প্রণয়ে রূপান্তরিত করতে সচেষ্ট হই । আর গোল বাধল সেখান থেকেই। যেন দুই প্রতিপক্ষ যোদ্ধা। তৃণা মজা পেত। হাসতে হাসতে বলত, বাবা! বান্ধবীরা যেখানে একটা প্রেমিক জোটাতে পারছে না, আমার সেখানে দু' দুটো। তবে আমার বাপু একটা শর্ত আছে। আমি একটা স্বয়ম্বর সভার ব্যবস্থা করব। সেখানে তোমাদের ডুয়েল লড়তে হবে। যে জিতবে মালা তার গলায়।          অবশ্য শেষ পর্যন্ত অয়নের সঙ্গে আমার ডুয়েল লড়া হয়নি। ত্রিশঙ্কু ঝুলে থেকে তৃণার মন না- পেয়ে স্কলারশিপ নিয়ে আমি চলে যাই আমেরিকার মিশিগান শহরে। তারপর রিসার্চ, চাকরি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। রাগে আর  মনের দুঃখে তৃণাকে ফোনে, হোয়াটসঅ্যাপে, ফেসবুকে ব্লক করে দিই। তাই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। প্রায় দশ বছর পর দেশে ফিরে অয়নকে ফো...

দৌড় প্রতিযোগিতা ।। মুক্তি দাশ

  দৌড় প্রতিযোগিতা  মুক্তি দাশ  মা মরে যাওয়ার পর লালু ভীষণ একা হয়ে গেল। একেবারে একা। বাপ তো অনেক আগেই পরপারে। এই বিশাল পৃথিবীতে এখন সে একদম একা। সারাদিন রাস্তায় রাস্তায়, কখনো বা বাস-স্ট্যান্ডে, কখনো স্টেশন চত্বরে ঘুরে বেড়ায়। ভিক্ষে করে কোনোরকমে দিন গুজরান হয়। রাত্তিরে ফুটপাতে মড়ার মতো ঘুমোয়। সেদিন রাস্তার ধারে বসে সে চেয়ে-চিন্তে পাওয়া বাসি পাউরুটি ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছিল, হঠাৎ ভুলুর সংগে দেখা। ভুলুকে সে কাছে ডাকল। নিজের ভাগের পাউরুটি ছিঁড়ে এক টুকরো দিল ভুলুকে। ভুলু তাতেই খুশি। ব্যস্। সেই থেকে দু'জনের বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে গাঢ় থেকে গাঢ়তর হল। এখন ওরা যেখানেই যায়, দু'জনে একসংগে। লোকে বলে, মাণিকজোড়। সেদিন ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই লালু উঠে বসল। তারপর হঠাৎ কী মনে পড়ায় ছুটতে শুরু করেছে। পেছন পেছন ভুলুও। রীতিমতো  দৌড়-প্রতিযোগিতা। টার্গেট ডাস্টবিন। গতরাতে মজুমদার বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। পরিত্যক্ত খাবারের এঁটোকাঁটায় উপচে পড়ছে ডাস্টবিন। প্রতিযোগী মাত্র দু'জন। লালু আর ভুলু। দু'জনেই প্রাণপণে ছুটছে। শেষপর্যন্ত লালু জিততে পারল না অবশ্য। বেচারা! ততক্ষণে ভুলু একেব...

জয় হিন্দ ।। দীনেশ সরকার

  জয় হিন্দ   দীনেশ সরকার   রায় পরিবারে কারও মন ভালো নেই। একটা দুশ্চিন্তার কালো মেঘ ক্রমশঃ তাদের পরিবারের উপর ছায়া বিস্তার করছে। পরিবারের সবেধন নীলমণি বংশধর বাবুসোনা প্রায় তিন বছর হতে চলল কিন্তু তার মুখে সেভাবে কথা ফুটল না। "ই-ই, উ-উ" ছাড়া তেমন কোন কথা তার মুখ থেকে বের হয় না।   অথচ ওই বয়সের শিশুরা   মোটামুটি কথা বলতে শেখে। এইটাই পরিবারের দুশ্চিন্তার কারণ। বাবুসোনার বাবা-মা, দাদু, ঠাম্মি, কাকাইয়েরও মন খুব খারাপ। বাবুসোনা কথা বলতে পারবে তো! ডাক্তারবাবুর কাছে নিয়ে গেলে   ডাক্তারবাবু অবশ্য অভয়বাণী শুনিয়েছেন, 'এখনই অধৈর্য হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। সব বাচ্চার একসময়ে বোল ফোটে না। কারও কারও ক্ষেত্রে দেরীতে বোল ফোটে। তাই এখনই হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই।' ডাক্তারবাবু যতই অভয়বাণী শোনাক, মন তো মানে না। রায় পরিবারের মনে তাই দুশ্চিন্তার মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে।                  দিনটা ছিল ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবস। ক্লাব প্রাঙ্গনে দিনটি উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে। ভাষণ হবে, পতাকা উত্তোলন...

বৃষ্টি থামার শেষে ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস

  বৃষ্টি থামার শেষে সঙ্ঘমিত্রা দাস  দমদম নাগেরবাজারে মুখোমুখি মেসবাড়ি। সুতপা অফিস ফেরত চা নিয়ে জানলায় বসলেই সামনের ঘরে  বিনয়ের অস্তিত্ব টের পায়। গান চলছে, ল্যপটপে কাজে ব্যস্ত। সুঠাম গড়ন, সুপুরুষ চেহারা। সুতপার মনে প্রেমের জোয়ার। কাজের ফাঁকে আড় চোখে সুতপাকে দেখে বিনয়ও। রোজ একটা অপেক্ষা থাকে, সামনে এলেই পর্দার আড়াল খোঁজে দুজনে। লাজুক চোখ, লুকাই লুকাই ভাব। এভাবে গভীর হয় প্রেম, আগুনে পোড়ে মন। নীরব  দুই জোড়া  চোখ নিশ্চুপে ভালোবাসে। অঝোর বৃষ্টিতে দুজনেই আটকে আছে স্টেশনে সেডের নীচে। বারবার চোখে চোখ মিলছে।  বৃষ্টিটা  কমতেই বিনয় ব্যাগ থেকে ছাতা বের করে,  প্রথম বাক্যালাপ  "মনে হয় তাড়াতাড়ি থামবে না। ছাতা আছে, চলে যাই চলুন"। সুতপা, বিনয় একছাতায়। মাথা বাঁচলেও  শরীর ভিজছে। আরো কাছে ঘেঁষে আসছে ওরা। একে অপরের স্পর্শ অনুভব করছে। বুকের ধুকপুকানি বাড়ছে। দুজনেই রিমঝিম প্রেমে আকুল। সুতপা ব্যাগটা শক্ত করে আড়ালে টেনে রেখেছে। ওর ব্যাগেও যে ছাতা আছে কিছুতেই বিনয় যেন টের না পায়। ছোট মিথ্যার আশ্রয়, ও যে আরো একটু বিনয়ের কাছে থাকতে চায়। ===...

নবাবী নুপুর ✍️ পার্থ প্রতিম দাস

  নবাবী নুপুর ✍️পার্থ প্রতিম দাস      ভারত স্বাধীন হওয়ার পর রাজা ও নবাবী শেষ হয়ে প্রজাতন্ত্রের উন্মেষ ঘটেছে। সেই প্রাচীন প্রাসাদগুলো এখন প্রায় অভিজাত হোটেলে পরিণত হয়েছে। দেশ বিদেশ থেকে পর্যটকরা আসে ইতিহাস ও ঐতিহ্য দেখার জন্য। তখন তারা সেই হোটেলগুলোতে থাকে। সেই বঙ্কিমের যুগ থেকে ইতিহাসের প্রতি বাঙালীর আকর্ষণ তীব্র রয়েছে।              অশ্বিনী, সে বহুজাতিক সংস্থায় কর্মচারী। তার মতে রোজগার করো আর ছুটির দিনে বেরিয়ে পড়ো ভারত দর্শনে। এই খামখেয়ালী মনোভাবের জন্য অশ্বিনী চিরকুমার থেকে গেছে। তাতে কি হয়েছে? তার সেই অভাব পূরণ করে দিয়েছে পাহাড়, সমুদ্র, ঝর্ণা, নদী, গুহা ভাস্কর্য, ভারতের প্রাচীন ইতিহাস ও লোকসংস্কৃতি।      এবারের পুজোর ছুটিতে অশ্বিনী বেরিয়ে পড়লো আরাবল্লীর কোলে মরুস্থলির ইতিহাস দেখার জন্য। প্রাসাদ হোটেলে একটা রুম বুক করে পুজোর ছুটিটা কাটাচ্ছে। সারাদিন উটের পিঠে চেপে, হরিন ময়ূরের ছবি তুলে ফিরে আসে হোটেলে। প্রতি রাতে শুনতে পায় নূপুরের মিস্টি ধ্বনি। সকালে উঠে খুঁজতে থাকে কোথা থেকে নূপুরের ধ্বনি আসছিল! কর্মচারীদের জি...

মুরোদ ।। রানা জামান

  মুরোদ রানা জামান     মাজেদার চিৎকারে ব্যথিত হতে থাকে আকাশ বাতাশ। মেয়ে দুটোকে বাবা ছাইদুল ধরে রেখেছে কোলে। মনে মনে বলছে: পরপর দুইটা মাইয়া দিছো আল্লাহ, বংশ রক্ষার জন্য এইবার একটা পোলা দেও। মাজেদার ছোটবোন সাজেদা এসে বললো, বুবুর খুব কষ্ট হইতাছে। হেরে কুনু ক্লিনিকে নিয়া চলেন দুলাভাই। ছাইদুল বললো, ক্লিনিকে নেয়ার মতো ট্যাকা নাই। এর আগেও তোমার বুবুর দুইটা নরমাল ডেলিভারি হইছে। এইবারও নরমাল ডেলিভারি হইবো ইনশাআল্লাহ। আপনের মতো কঞ্জুস ছাড়া আর কেউ দাই ডাকে না ডেলিভারির লাইগা। তখন মাজেদার গগনবিদারী চিৎকারের সাথে সাথে নবজাতকের চিৎকারও শোনা গেলে সাজেদা ছুটে চলে গেলো আঁতুড়ঘরে।  ছাইদুল দুই মেয়েকে বললো, শুইন্যা আহো তোমাদের ভাই হইছে না বইন হইছে। মেয়েরা আঁতুড়ঘরের দরজায় গিয়ে দাঁড়ালে মাজেদা হাত ইশারায় ভেতরে ঢুকতে বললে ওরা ভেতরে ঢুকে তাকিয়ে রইলো নবজাতকের দিকে। মাজেদা বললো, তোগো আরেকটা বইন হইছে। তোগো বাপরে গিয়া জানা। কিন্তু ছাইদুলকে কোথাও খুঁজে পাওয়া গেলো না। আধাঘণ্টা পরে ছাইদুল মাজেদাকে ফোনে বললো, তোরে একটা পুলা দিতে কইছিলাম। ...

আত্মত্যাগ ।। কৃষ্ণা সরকার

    অণুগল্প আত্মত্যাগ  কৃষ্ণা সরকার  ক্লাসে ঢুকে হেডমাস্টার অখিল বাবু বললেন, এবার তোমাদের পড়াশোনায় আরো মনোযোগ দিতে হবে, সামনে মাধ্যমিক, ইস্কুলের মান রাখতে হবে তো ? সবাই  সমস্বরে বললো হ্যাঁ স্যার। সূর্য ইস্কুলের ফাস্ট বয় — তাকে ডেকে  বললেন কি সূর্য? আমাদের ইস্কুলের মুখ উজ্বল করতে পারবে তো ! হ্যাঁ স্যার, আমি যথা সম্ভব চেষ্টা করব। এরপর ঋজুকে বললেন তুমি একটু পড়াশোনায় মন দাও ঋজু? স্যার আপনি একদম ভাববেন না, আমার বাবা আছেতো। অখিলবাবু জানেন ঋজু ধনী বাপের বখে যাওয়া  আদরের দুলাল, তার উপর বাবা  বিজনবিহারী একজন এম এল এ। ছেলেটির পড়াশোনায় একদম মন নেই, সারাদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারা, তাসখেলা, সিগারেট খাওয়া সব কিছুতেই হাত পাকিয়ে ফেলেছে, ওকে বিশেষ কিছু বলে লাভ নেই । ইস্কুলের হেডস্যার অখিলবাবু, অত্যন্ত বিনয়ী, ভদ্র ছাত্রদের নিজের পুত্রসম চোখে দেখেন। সূর্য, অখিলবাবুকে যথেষ্ট ভক্তি শ্রদ্ধা করে সময় - অসময়ে বাড়িতে গিয়ে পড়াশোনা বুঝে আসে। সেদিন সূর্য ইস্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল হঠাৎ দেখে বড় বট গাছের নিচে হেড মাস্টার আর ঋজুর বাবা বিনোদ বিহারীবাবু কি যেন কথাবার্তা  বলছে,...

দোষ ।। আশরাফুল মণ্ডল

অণুগল্প দোষ আশরাফুল মণ্ডল মদন বাউড়ি কলকাতায় এসেছিল ছাদ ঢালাইয়ের কাজে। হরিণঘাটার লোক। গায়ের রং কালো। মুখে দাড়ির রেখা। চোখে সরলতা। সেদিন সন্ধ্যায় কাজ থেকে ফেরার পর জানা গেল তার মালিকের ছেলের নাকি দামি মোবাইল হারিয়েছে। পুলিশ এল। সব লেবারকে এক লাইনে দাঁড় করানো হল। একজন বলল, "ওই কালো ছেলেটা নতুন এসেছে না? ওর ব্যাগটা খোলো।" মদনের ব্যাগে মোবাইল পাওয়া গেল না। তবু তাকে নিয়ে যাওয়া হল থানায়। জামিন হল না। "ক্লাস ফোর ড্রপআউট। জাত বাউড়ি। ঠিকানা নেই" - এসব কারণ দেখিয়ে তাকে ভবিষ্যতের চোর হিসেবে রেখে দেওয়া হল আট দিন। জেল থেকে ছাড়ার পর সে বাড়ি ফিরল। মা বলল — "তোর দোষ কী রে বাপ্? তু কী করেছিলি?" মদন বিড়বিড় করে বলল - "আমার দোষ আমি নিচুজাত। গরীব। অশিক্ষিত। আর আমার গায়ের রং কালো।" ================== ASRAFUL MANDAL "BIDISHA", 4/17 CHANDIDAS AVENUE, B-ZONE, DURGAPUR, PASCHIM BARDHAMAN - 713205,  

বহুরূপীর জীবন ।। মিঠুন মুখার্জী

বহুরূপীর জীবন মিঠুন মুখার্জী এবারের দুর্গাপুজোয় 'আমরা কজন' ক্লাবের পক্ষ থেকে সেরা বিউটি কম্পিটিশনের আয়োজন করা হয়েছিল। যাদের বয়স কুড়ির ভিতর তারাই এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। মোট ত্রিশজন অংশগ্রহণ করেছিলেন এই প্রতিযোগিতায়। একটা লম্বা স্টেজ করা হয়েছিল সুন্দরীদের প্রর্দশনীর জন্য। বলা হয়েছিল সবদিক থেকে যারা সুন্দরী হবেন তারাই প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করবে। এই সুযোগটা জীবনপল্লী গ্ৰামের কেষ্ট দা হাতছাড়া করেন নি। অল্প বয়সে কত মেয়ে যে তার প্রেমে পড়েছিল তার হিসেব নেই। পেশায় কেষ্টদা একজন বহুরূপী। নানান রূপ সেজে মানুষদের আনন্দ দিয়ে পয়সা উপার্জন করাই তার কাজ। সে একজন সুন্দরী সেজে ওই প্রতিযোগিতায় উপস্থিত হয়েছিলেন। যারা বিচারকের আসনে ছিলেন তাদেরকেও কেষ্টদা একেবারে ঘোল খাইয়ে দিয়েছিলেন। বিচারকরা তিন জন এক মুহূর্তের জন্য বুঝতে পারেন নি যে, এই সুন্দরী আসলে কোনও মেয়ে নয় ছেলে। সকল সুন্দরীদের দেখার পর যখন কেষ্টদা সুন্দরী নারীর রূপ নিয়ে মঞ্চে ওঠেন, তখন সকলে তার রূপেরকলা দেখে অভিভূত হয়ে যান। মনে হয় পনেরো-ষোলো বছরের কোনো অপ্সরা। তিনি যা যা করছিলেন বিচারকদের...

অণুগল্প 🌼 খোকা ফিরে আয় 🌼 পার্থ প্রতিম দাস

খোকা ফিরে আয়  ✍️পার্থ প্রতিম দাস    অনেক বছর হলো তার খোকা চলে গেছে। কোথায় গেছে কেউ জানে না। বিধবা মায়ের একমাত্র সম্বল হারিয়ে গেছে। কাঁদতে কাঁদতে মায়ের চোখের জল শুকিয়ে গেছে।      সময় বদলেছে। ইলেকট্রিক এসেছে,সবার হাতে মোবাইল ফোন। কিন্তু খোকা এলো না। মায়ের উপর এতো রাগ।      বিধবা মা জানে না, এখন চিঠির সময় নাই। এখন ইমেল, মোবাইলের যুগ। বাড়িতে রাখা পুরাতন পোষ্ট কার্ডে বৃদ্ধা কাঁপা কাঁপা হাতে লিখলেন, "আর কতদিন রাগ করে থাকবি বাপ? আমি একা একা আর পারছি না। খোকা ফিরে আয়। তোর হাতের আগুন কি পাবো না?"     তারপর একাকী মা কঠিন অসুখে পড়ে। মৃত্যু শয্যায় ছেলের মুখ দেখার জন্য তাকিয়ে থাকে। কিন্তু তার নাড়ি কাটা ধন, আদরের খোকা কোনো দিন এলো না। মায়ের মৃত্যু হলো।           এখন কয়দিন ধরে পোষ্ট অফিস তার পুরাতন স্থান ছেড়ে নতুন স্থানে সিফ্ট হচ্ছে।পোষ্টমাস্টারের নজর গেল পোষ্ট বক্সের দিকে। পুরাতন পোষ্ট বক্স খুলে পোষ্ট মাস্টার দেখে বুড়ি মায়ের চিঠিটা তখনো বক্সের মধ্যে পড়ে আছে।       বুড়ি মা তার ছেলের ঠিকানা জানতো ন...

অণুগল্প ।। অন্তরা ।। অগ্নিমিত্র

  অন্তরা  অগ্নিমিত্র   অন্তরার উপস্থিতির কথা বুঝেছি অনেকবার। আমি কিছু ভুল কাজ করতে গেলেই অন্তরা বাধা দেয়। আমার ভুল ধরিয়ে দেয়। কিন্তু ধরা দেয় না অন্তরা। তার কন্ঠ শুনি, যেন তার সুঘ্রাণও পাই। তবে তাকে দেখি না।    আমার বন্ধুদের অন্তরার কথা বলিনি। তারা বুঝবে না। নলিনীকে শুধু বলেছিলাম। সে শুনে মনে মনে জ্বলে পুড়ে গিয়েছিল। বলেছিল-' এই অন্তরা কে? দেখিও তো আমাকে। লজ্জা করে না একসাথে দুটো মেয়েকে ঘোরাতে?'    অনেক চেষ্টার পরেও আমি অন্তরাকে দেখাতে পারিনি। কী করে দেখাবো, আমি তো নিজেই দেখিনি।...   এই নিয়ে অনেক ঝামেলা হয়েছে। নলিনী আমাকে এক মনোবিদের কাছে নিয়ে যায়।  সে বলে যে আমার মতো সবারই নাকি দ্বৈত সত্তা থাকে। এর বেশি কিছু বলেনি সে ।...   আজকাল চোখ বুজলে যেন অন্তরাকে আবছা আবছা দেখি।..    পরশু বিয়ে করছি নলিনীকে। নলিনী বলেছে যে আমি আধ-পাগল ও এটা জেনেও সে আমাকে বিয়ে করছে। এটা যেন আমি মনে রাখি।...  অন্তরা বলল-' নলিনী ভালো মেয়ে। তোমার ভালো চাকরি হয়েওছে তো। ভালোই হবে সব। '   বিয়ের আগের দিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যেন অন...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যের কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

তারা খসার আলোয় ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

তারা খসার আলোয়  তীর্থঙ্কর সুমিত  কিছু বলার থেকে  চুপ থাকাটাই শ্রেয় মতামতের পেন্ডুলামে সময় আটকে আছে  ইতিহাসের চোরাস্রোতে  তাই এখনও জোয়ার কিম্বা--- মনে পরে যায় ফেলে আসা অতীত  মুখে-চোখে  বিবর্ণতায় ঢেকে যায় শহর  তোমার কথায় জেগে থাকা রাত  অন্ধকারে মাখামাখি বারুদ এখন! তারা খসার আলোয় নিজেকে দেখি।  ============== তীর্থঙ্কর সুমিত  মানকুণ্ডু, হুগলী  পিন -৭১২১৩৯

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা: জয়তী রায়

এক ভ্রষ্টা নারী ও আদর্শ " অ্যই মেয়ে তোর দাম কত রে ,,,,? "  ক্রসিং এ দাঁড়ানো অটোতে বসে  কথাটা কানে যেতেই মুখ ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েটাকে। সস্তার চুমকি বসানো চড়া সবুজ রঙের শাড়ি পরা , লাল রক্তের মতো রাঙানো ঠোঁট আর সস্তার স্নো পাউডার মাখা মৃত মুখ। স্বপ্নসুন্দরী তিলোত্তমার বিশেষ কিছু এলাকায় পথের ধারে  এমন বেসে অনেক রূপমতিকেই দেখতে পাওয়া যায়। চট করে মনে পড়ে গেল অতীতের কথা ,,,,,,, রূপমতি ওরফে রূপা। হ্যাঁ আজ আমি অনেকের কাছে পরিচিত ' রূপা '। একটা সময় আমারও অস্তিত্ব ছিল এই রাজপথ। খট খট ,,,,,,,,খট খট ,,,,,,,, আজও মনে পড়ে সেদিনের কথা ,,,,,,,,, দরজার জোর শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। " কে ,,,,,,,? কে ওখানে ,,,,,,,,?" ভয় মিশ্রিত গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলে  প্রথম তোমার গলা শুনলাম ,,,,,,, " দরজা খোলো , ভয় নেই কোনো ক্ষতি করবো না ,,,,,,,," কি ছিল সেই গলায় জানি না। মন্ত্রমুগ্ধের মতো দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে তুমি ঢুকে পড়লে ঘরে। উস্কো খুস্কো চুল ক্লান্ত অথচ আগুন ঝরা দুটো চোখ ,,,,,, প্রথম তোমায় দেখলাম।  কেন জানি না দেখা মাত্রই ম...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বছরের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৪তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

  এই সংখ্যায় একটি গ্রন্থ আলোচনা ও একটি ধারাবাহিক রচনা ছাড়া সব লেখাই ভাষা দিবস, মাতৃভাষা, ভাষাচেতনা ও ভাষা সমস্যা বিষয়ক রচনা। লেখাগুলি এই সংখ্যাকে অনেকটাই সমৃদ্ধ করেছে। পড়ুন। শেয়ার করুন। মতামত জানান। লেখকগণ নিজের নিজের লেখার লিঙ্ক শেয়ার করুন যতখুশি, যে মাধ্যমে খুশি। কিন্তু স্ক্রিনশট শেয়ার নৈব নৈব চ!  অন্য বিষয়ের লেখাগুলি আগামী সংখ্যার জন্য রইল।  সকলকে ধন্যবাদ, অভিনন্দন। ভালো থাকুন।   --সম্পাদক, নবপ্রভাত। ==  সূ  চি  প  ত্র  == প্রবন্ধ-নিবন্ধ অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙ্গালীর বাংলা ভাষা দুর্জয় দিবস।। বটু কৃষ্ণ হালদার ভাষা শহীদদের পঁচাত্তর বছর।। অনিন্দ্য পাল একুশে ফেব্রুয়ারি : বাঙালির শ্রেষ্ঠ অশ্রুবিন্দু।। জীবনকুমার সরকার কবিগানের সাহিত্যিক ও সমাজতাত্ত্বিক মূল্য।। বারিদ বরন গুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি।। শ্যামল হুদাতী মায়ের দুধ আর মাতৃভাষা।। প্রদীপ কুমার দে একুশে ফেব্রুয়ারি : কিছু কথা।। বনশ্রী গোপ বাংলায় কথা বাংলায় কাজ।। চন্দন দাশগুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও তার মুক্তির পথ।। মিঠুন মুখার্জী. হে অমর একুশে, তোমায় ভুলিনি, ভুলব না।। মহম্মদ মফিজুল ইসলা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। নবপ্রভাত ৮৫ ।। চৈত্র ১৪৩১ মার্চ ২০২৫

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। মরিয়ম মির্জাখানি: এক অনন্য গণিতসূর্য ।। ... নিবন্ধ ।। নারী দিবসে যা ভাবা উচিত ।। বিশ্বনাথ পাল প্রবন্ধ ।। প্রাচীনকাল থেকে নারীরা অবহেলিত, বঞ্চিত,... নিবন্ধ ।। আমার চোখে আদর্শ নারী ।। জয়শ্রী বন্দ্... ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখ... আফ্রিকার লোককথা ।। করোটিকে বিয়ে করা অবাধ্য মেয়েটি ... ছোটগল্প ।। মানবী ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল নিবন্ধ ।। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম নারী মু... নিবন্ধ ।। প্রিয় মহিলা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী ।। ... গল্প ।। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।। রবীন বসু প্রবন্ধ ।। নিপীড়িতা ।। শ্যামল হুদাতী ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত প্রবন্ধ ।। নারী সমাজ : তখন-এখন ।। তপন মাইতি নিবন্ধ ।। বহমান কালের ধারায় নারী ।। দীপক পাল গল্প ।। আমার দুর্গা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) গল্প ।। যোগ্য জবাব ।। সমীর কুমার দত্ত ছোটগল্প ।। আমি দুর্গাকে দেখেছি।। চন্দন দাশগুপ্ত গল্প ।। সম্পর্ক ।। গৌতম সমাজদার কবিতা।। নারী মানে ।। গোবিন্দ মোদক কবিতা।। নারী ।। সমর আচার্য্য ছড়া ।। নারী অসামান্যা ।। সৌমিত্র মজুমদার কবিতা ।। নারী দিবসে ।। বিবেকানন্দ নস্কর কবিতা ।। না...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যের কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে দীনেশ চ্যাটার্জী যে পথ শরীরে ক্লান্তি আনে, সেই পথেই আত্মা খুঁজে পায় মুক্তি। দিবস ১ — যাত্রার সূচনা মানুষের জীবনে কতকগুলি আকাঙ্ক্ষা থাকে—যাহার ব্যাখ্যা বুদ্ধির দ্বারা মেলে না, তৎসত্ত্বেও হৃদয় তাহার প্রতি অদম্য আকর্ষণ অনুভব করে। কেদারনাথ যাত্রা আমার কাছে তেমনই এক আকাঙ্ক্ষা ছিল। বহুদিন ইচ্ছা ছিল—কখনো পূর্ণ করি নাই। আজ তাহারই প্রথম অধ্যায় আরম্ভ হইল। ভোররাতে ঋষিকেশে পৌঁছিলাম। স্টেশন হইতে বাহির হইবার মাত্রই অনুভব করিলাম—বাতাসে এক গভীর প্রশান্তি। শহুরে কোলাহল, ধুলো, অধৈর্যতার পরিবর্তে এখানে নীরবতা, শীতলতা, আর যেন স্নিগ্ধ তপস্যার আবহ। গঙ্গার তীরে এসে দাঁড়াইলাম। নদী এখানে শুধু জলের স্রোত নহে—সে যেন জীবন্ত ধর্ম; যাহার মধ্যে কালান্তরে সঞ্চিত স্নেহ, পবিত্রতা ও শক্তি। তাঁর জলে ভোরের সূর্যালোক পড়িয়া মৃদু ঝিলিক তুলিতেছিল। মনে হল—মহাশান্ত পৃথিবীর বুকে আমি ক্ষুদ্রমাত্র। বিকেলে লক্ষ্যণঝুলা দেখিবার উদ্দেশ্যে পা বাড়াইলাম। সেতুর ওপর দাঁড়াইলে নিচে গঙ্গার প্রবল স্রোত দেখি—হৃদয় থমকায়ে দাঁড়ায়। সেতুটি হালকা দুলিতে থাকে, কিন্তু ভয়ের পরিবর্তে সেখানে ছিল এক অদ্ভুত আহ্বান—যেন প্রকৃতি বলি...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432