ক্লান্তশ্বাস
দীপালি ভট্টাচার্য
হৈ হৈ করে একদল অল্পবয়সী মেয়ে নন্দনে সিনেমা দেখতে ঢুকল। সোয়া দু'ঘন্টার একটি দুর্ধর্ষ মুভি! সিনেমা শুরু হবো হবো করছে হঠাৎ বছর চল্লিশের এক মহিলা ওই একই সারির একটি চেয়ারে এসে বসে পড়লেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাই সিনেমায় মগ্ন হয়ে গেল।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বেশ ঠান্ডাই লাগছে এতক্ষণে, বাইরের উত্তাপ যেখানে এত বেশি! এদিকে গল্পের রহস্য বেশ জমে উঠছে! হঠাৎই একজন মেয়ের চোখ গেল পাশে বসা মহিলাটির দিকে। তিনি নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন! সিনেমা দেখতে এসে ঘুম!
একঘেয়ে মুভি হলে না হয় কথা ছিল! পয়সা দিয়ে টিকিট কেটে কেউ সারাক্ষণ ঘুমায়!
তৃপ্তি বিয়ের আগে একটি বেসরকারি স্কুলে কাজ করতেন। বেসরকারি হলেও বেতন মন্দ পেতেন না! কিন্তু বিয়ের শর্তই ছিল চাকরি ছাড়তে হবে! নিজস্ব ব্যবসার চাপে স্বামী অমল কোনদিকে তাকানোর ফুরসত পান না! এদিকে শাশুড়ি মা শয্যাশায়ী।
কাজের লোক, আয়া থাকলেও সেই ভোর পাঁচটা থেকে তৃপ্তির কাজ শুরু, রাত বারোটা পর্যন্ত! দু একটা পদ তাঁকে রাঁধতেই হয়! আয়া থাকলেও খাওয়ার সময় শাশুড়ির পাশে থাকাটা এখন অভ্যাস হয়ে গেছে। ওই অসহায় মানুষটাকে সারাদিন আয়ার উপর ফেলে রাখতে বিবেকে বাধে। যখন ওঁর দিন ছিল বৌমাকে কম যত্ন করেননি! তারপর ছেলের দেখভাল!
যেদিন ছেলেকে নিয়ে পড়াতে ছুটতে হয়, দুপুরে ঘন্টাখানেকের ঘুমটুকুও হয় না! কাঠফাটা রোদ বা মুষলধারে বৃষ্টি, সেই রাস্তাতেই দাঁড়িয়ে থাকা যতক্ষণ না ছেলের ছুটি হয়!
এই ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা আর কাহাতক ভালো লাগে! একদিন একটা মতলব এলো মাথায়! তিরিশ টাকার টিকিটে তৃপ্তি ঢুকে পড়লেন নন্দন প্রেক্ষাগৃহে! তারপর….
মেয়েগুলোকে দেখে মেয়েবেলার কথা মনে পড়লেও ঘুমাতে দেরি করলেন না তৃপ্তি!
টাকা দিয়ে এখন ঘুম কিনতে হয়! 'বিরতি' হতে না হতেই আবার দে ছুট!

Comments
Post a Comment