দুটি ছড়া ।। আনন্দ বক্সী
দিয়েছে ইস্তফা
গৃহিণীদের নিকট খালি যাচ্ছিল সে হেরে তাইতো হুলো বিরক্তিতে দিয়েছে চুরি ছেড়ে।রান্না ঘরে কড়ার 'পরে মাছ রাখে না ফেলে চেষ্টা করে ঢুকেও সেথা মাছ কোথায় মেলে?
চায় না আর পড়তে মোটে সে ঝামেলার মাঝে দিয়েছে তাই ইস্তফা সে মাছ চুরির কাজে।হুলো এখন সদাই থাকে নাম-গানেতে মেতেএভাবেই সে কাটিয়ে দিন চাইছে চলে যেতে।
পারে না আর নিতে এখন মাছের বাস নাকে গন্ধ পেলে মাছের কোনো ছুটে যায় সে ফাঁকে।নিরামিষাশী এখন পুরো মাছ থেকে সে দূরেচোখ পড়লে মাছের দিকে দেখে না আর ঘুরে।
কৃষ্ণনামে মজেছে হুলো ঊর্ধ্বে বাহু তুলে টিক্কি রাখে বিশাল বড়ো ন্যাড়া মাথার চুলে।হুলোর আর সংসারেতে মন বসে না মোটে সুযোগ পেলে খোল বাজিয়ে কীর্তনেতে জোটে।
ভরে মনের খাতা
চড়ুই ওড়ে ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ বারান্দা আর ঘরে
ময়না বসে আমের ডালে চুটিয়ে গান ধরে।
ডাবের গাছে কাঠঠোকরাতে ঠোকরায় খালি ঠোঁটে
ঘুঘুর দলে ধানের খেতে প্রচুর মজা লোটে।
পায়রাগুলো উঠোন জুড়ে করে বকম বকম
ছাতার এসে ছলাকলা দেখায় কত রকম।
বাবুই পাখি বুনছে বাসা ঝোলা তালের পাতায়
কোকিল এসে গান শুনিয়ে আজকে আসর মাতায়।
এক পা তুলে ঠায় দাঁড়িয়ে বকটা জলার ধারে
সুযোগ পেলেই ধরবে শিকার পড়বে গিয়ে ঘাড়ে।
মাছরাঙাতে রাগ করেছে খাবে না মাছ ধরে
আর হবে না দোষী তারা মৎস্য শিকার করে।
বুলবুলি যায় শস্য খেয়ে বেড়ায় উঠোন চষে
চড়ুই-শালিক ঝগড়া করে সজনে ডালে বসে।
তোতা বসে আতা গাছে তারিয়ে খায় আতা
জুড়িয়ে যায় চক্ষু আমার ভরে মনের খাতা।
=============

Comments
Post a Comment