Skip to main content

Posts

Showing posts with the label ছড়া

প্রেমের ছড়া ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান

প্রেমের বাজার জাহাঙ্গীর আলম জাহান কুলসুমকে ডাইনে রেখে লাইনে ঘোরাস দীপাকে দুই নৌকায় রাখলে দু'পা পড়বি রে ভাই বিপাকে। লাকির প্রেমে ফাঁকি দিয়ে করলি রাখীর মন উজাড় ভালোবেসে বুকটা ভাঙিস ময়না এবং তনুজার। আজকে যাকে কাছে নিলি দুঃখ দিলি কাল তাকে মুছে দিলি চোখের কাজল এবং প্রিয়ার আলতাকে। কেন এমন করিস রে ভাই ভাঙিস কেন মন-দুয়ার প্রেমকে যারা পণ্য বানায় পায় না তারা বন্ধু আর। ----------------------------------- জাহাঙ্গীর আলম জাহান নরসুন্দা রোড ভূঁইয়া মসজিদ বাই-লেন বত্রিশ, বড়বাজার এলাকা কিশোরগঞ্জ-২৩০০

হাবুর উপহার ।। মহা: রফিক শেখ

হাবুর উপহার মহা: রফিক শেখ  হাবু নাকি করবে দেখা ঐ মেয়েটার সাথে, ডজনখানেক গোলাপ নিয়ে হাজির হয় প্রাতে। গোলাপ পেয়ে ঐ মেয়েটা গেলো ভীষণ রেগে, দিনটা গেলো রাতটা এলো তবুও হাবু জেগে। পরের দিন খবর পেয়ে হাবু পেলো শরম, ফুলটা ছিলো প্লাস্টিকের উঠলো রেগে চরম। ............................. মহা: রফিক শেখ,  মহিসার,খাড়গ্রাম, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ -742147 ফোন -7679208085

সাধু দাদুর বিয়ে ।। বিকাশ পণ্ডিত

সাধু দাদুর বিয়ে  বিকাশ পণ্ডিত  আমার দাদুর মামাতো ভাই সেও আমার দাদু; সবাই ডাকে -- সাধুচরণ, দাদু ডাকেন -- সাধু। সাধু কিনা কেউ জানে না, পানটি মুখে পুরে; ফাগুন এলেই গান গেয়ে যান অচেনা এক সুরে। অবাক সবাই ভাবতে থাকে, ভাবছে দিনে-রাতে -- কখন দাঁড়ান কদম ছায়ায়, কখন ঘোরেন ছাতে। বেশুতবারের দুপুর বেলা  নিথর নিথর ঘরে -- দাদু চেঁচান -- সাধু আমার ঘায়েল পঞ্চশরে। ধড়ফড়িয়ে ছুটল সবাই, কিসের এতো খুশি; দাঁড়িয়ে হাসে মায়ের পাশে টুম্পি-টুকাই, টুসি। ফাগুন মাসের পঁচিশ তারিখ সাধু দাদুর বিয়ে; হয়েই গেছে অনেক আগে বকুল পুরে গিয়ে। সেই দিনটা এলেই আজও দাদু উঠেন গেয়ে -- 'ধন্য জীবন, ধন্য আমি, ওগো তোমায় পেয়ে।' আমরা যত নাতনি-নাতি দিলাম দাদুর বিয়ে ; বিয়ে তো নয় বিয়ের মতন, ফুলকো লুচি ঘিয়ে। সাধু দাদুর মাথায় টোপর, ঠাম্মা ঢাকাই শাড়ি ; আমার দাদু রসিক মানুষ দোলান মিষ্টি হাঁড়ি। ...............................  বিকাশ পণ্ডিত  জিনন্দপুর      বলাগেড়িয়া       পূর্ব মেদিনীপুর                     ...

আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী

আধ ডজন ছড়া স্বপনকুমার পাহাড়ী গেইশা এক যে আছিল তোকিয়োবাসিনী গেইশা ওর কথা কিছু বলবো এখন ভাইসাব। তাকিয়েছো কি মরলে তুমি ভাবছো বুঝি কী দুষ্টুমি খদ্দের পেতে দস্তুরটি যে এইসা! গার্লফ্রেণ্ড গার্লফ্রেন্ড ভাড়া করে ঘোরে বইমেলাতে।  মাঝে মাঝে চুমোচুমি দর্শকে খেলাতে। জমে গেছে শ্যাম-রাই হুড়োহুড়ি ক্যামেরায় খবরটা নানা জনে ফোটোসহ গেলাতে। হোঁৎকা এক যে ছিল হোঁৎকা। গায়ের গন্ধ বোঁটকা। খেয়ালবশে বাঘের যশে লাগিয়ে দিলে কোঁৎকা! বাউন এক যে ছিল পৈতেধারী বাউন পরনে তার সদা্ই ছিল গাউন।  দেখতে পুরো সার্কাসেরই ক্লাউন। নামটি আবার ছিল অ্যাবস্ট্রাক্ট নাউন। সাগা শাদী তো হোলো না ফের তাই হনু সাঙা। বর তো জোয়ান মরদ হোলোইবা নাগা। নাগা তো মনিষ বটে  বুদ্ধিও আছে ঘটে গোয়ার সী-বীচে তাই লিখছি সাগা।। কল বয়  কল গার্ল আছে তবে কল বয় নাই কি?  আছে আছে, ফিজ দিলে, এক্ষুনি চাই কি? --------------------------- Swapankumar Pahari Vill.: Dakshin Paikbar, P.O.: Dakshin Dauki, P.S.: Junput Coastal, Dist.: Purba Medinipur,

ছড়া ।। ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান

ঘাসের ডগায় হীরক কণা বদরুল বোরহান ঘাসের ডগায়, শিশির ফোঁটায় সূর্য-হীরক কণা, কিন্তু সেটা দেখতে পারে বলো তো কয়'জনা? লাউয়ের মাচায়, হাঁড়িচাচায় কী যে খুঁজে বেড়ায়? কলমিলতার ঝোঁপের ভেতর মা ডাহুকীর ডেরায়? দীঘির জলে ব্যাঙরা লাফায় শাপলা ফুলে ফুলে, পানকৌড়ি তার পালক ঝরায় ডুবসাঁতারের ভুলে।           ----------

ছড়া ।। কলির কেষ্ট ।। গোবিন্দ মোদক

কলির কেষ্ট! গোবিন্দ মোদক খয়েরি রঙের ধূপ জ্বেলেছি আলো-টালো ফুরফুরে,  পরের বৌ-কে লাগছে ভালো  ঘরের বৌ-টা দূরে।  ইকির মিকির চালতে ফকির  মনে ঘোঘের বাস,  ডুবে ডুবে জল-টা খাচ্ছি  গোপন সর্বনাশ!  মন্দিরেতে দিচ্ছি পুজো  দরগাতলায় সিন্নি,  সবার ওপর মা-ঠাকরুণ  তিনিই হলেন গিন্নি।  চলতে ফিরতে চোখ ঠারছি  ষোল থেকে সাতাশ,  মনের ভিতর হাকুশ-পুকুশ  টাটকা তাজা বাতাস।  সেই বাতাসেই ভাসছি ডুবে খেলছি গোপন খেলা,  নামটা আমার মদন বটে  কেষ্টরই তো চ্যালা!  গুরু তুমি 'কেষ্ট' হলেও  দেখালে কি খেল,  পা-দু'খানি দাও বাড়িয়ে  একটু লাগাই তেল!  ================== গোবিন্দ মোদক।  সম্পাদক: কথা কোলাজ সাহিত্য পত্রিকা।  রাধানগর, ডাক- ঘূর্ণি, কৃষ্ণনগর, নদিয়া।  পশ্চিমবঙ্গ, ডাকসূচক - 741103

দুটি ছড়া ।। আনন্দ বক্সী

দুটি ছড়া ।। আনন্দ বক্সী দিয়েছে ইস্তফা  গৃহিণীদের নিকট খালি যাচ্ছিল সে হেরে  তাইতো হুলো বিরক্তিতে দিয়েছে চুরি ছেড়ে। রান্না ঘরে কড়ার 'পরে মাছ রাখে না ফেলে  চেষ্টা করে ঢুকেও সেথা মাছ কোথায় মেলে? চায় না আর পড়তে মোটে সে ঝামেলার মাঝে  দিয়েছে তাই ইস্তফা সে মাছ চুরির কাজে। হুলো এখন সদাই থাকে নাম-গানেতে মেতে এভাবেই সে কাটিয়ে দিন চাইছে চলে যেতে। পারে না আর নিতে এখন মাছের বাস নাকে   গন্ধ পেলে মাছের কোনো ছুটে যায় সে ফাঁকে। নিরামিষাশী এখন পুরো মাছ থেকে সে দূরে চোখ পড়লে মাছের দিকে দেখে না আর ঘুরে। কৃষ্ণনামে মজেছে হুলো ঊর্ধ্বে বাহু তুলে  টিক্কি রাখে বিশাল বড়ো ন্যাড়া মাথার চুলে। হুলোর আর সংসারেতে মন বসে না মোটে  সুযোগ পেলে খোল বাজিয়ে কীর্তনেতে জোটে। ভরে মনের খাতা  চড়ুই ওড়ে ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ বারান্দা আর ঘরে  ময়না বসে আমের ডালে চুটিয়ে গান ধরে। ডাবের গাছে কাঠঠোকরাতে ঠোকরায় খালি ঠোঁটে  ঘুঘুর দলে ধানের খেতে প্রচুর মজা লোটে। পায়রাগুলো উঠোন জুড়ে করে বকম বকম  ছাতার এসে ছলাকলা দেখায় কত রকম।  বাবুই পাখি বুনছে বাসা ঝোলা তালের পাতা...

কবিতা ।। স্বপ্নে দেখা গাঁ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী

স্বপ্নে দেখা গাঁ স্বাতী রায় চৌধুরী       চাঁদের আলোয় বানভাসি                       সেই ছোট্ট একটি গাঁ কোন সে জেলা কোন সে তালুক                               তা তো জানিনা বয়ে চলা শীর্ণ নদ এক                                   বর্ষাতে প্রবল ধুয়ে দিত এপার ওপার                         পেতাম না তার তল জোনাক জ্বলা সন্ধ্যা রাতে                         ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শুনতে শুনতে ঘুমের দেশে                           স্বপ্নকে সাত পাক অরুণ, বরুণ, কিরণমালা                            ...

ছড়া ।। জয়নগরের মোয়া ।। সুজন দাশ

জয়নগরের মোয়া  সুজন দাশ  নাম শুনেছি জয়নগরের মোয়া,  পাইনি স্বাদে কখনো তার ছোঁয়া! শীতের দিনে নানা রকম সাজে, আজও যে তার খ্যাতির বাঁশি বাজে! নলেন গুড়ের মিষ্টি মধুর ঘ্রাণে, সুর তোলে সে সবার প্রাণে প্রাণে!  শীত আসলে জয়নগরের মোয়া,  চায় খেতে সব,-তোলেও সুখের ধোঁয়া! কনকচূড় ধান খইয়ের জন্য লাগে,  নলেন গুড়ে ভাসায় নাকি রাগে! পেস্তা কাজু কিসমিসও ঘি মিশে,  স্বাদ ও রূপে দেখায় তারে দিশে।  শীত এলে এই জয়নগরের মোয়া,  তোলে দেখি সবার প্রাণে ধোঁয়া!  ছন্দ সুরে সবাই মালা গাঁথে, সুখ্যাতি তার দেয়ও সুবাস পাতে। =========== সুজন দাশ  আটলান্টিক সিটি, নিউজার্সি, যুক্তরাষ্ট্র।

ছড়া ।। চ্যাপ্টা গোলাপ ।। সুজিত কুমার মালিক

চ্যাপ্টা গোলাপ সুজিত কুমার মালিক আকাশ ডোবা চাঁদের আলোয় ইচ্ছা পাযে হাঁটি , জানালা খোলা বৃষ্টি কনায় ছোঁয়ায় জিয়ন কাঠি। শক্ত হাত পোক্ত তুমি বিকেলে হলুদ ফুল, সোদা গন্ধ ভিজে ভূমি তরী হারায় কুল। ছিল দিন বাঁধন হারা চোখে হারানো ভয়, সকাল দুপুর সন্ধ্যা সারা ভুবন করেছি জয়। মধুর স্মৃতি তিক্ত এখন বুক ভরা অভিমান, সব হারিয়ে দিন যাপন অপেক্ষা পিছু টান। কাব্য ভরা খাতার ভাঁজে সাক্ষী কিছু প্রলাপ, আটকে থাকা বুকের খাঁজে শুকনো চ্যাপ্টা গোলাপ। ============= সুজিত কুমার মালিক মইখন্ড, হেলান, আরামবাগ, হুগলী

ছড়া ।। বিদ্যাদেবী মা সরস্বতী ।। বিপুল চন্দ্র রায়

বিদ্যাদেবী মা সরস্বতী বিপুল চন্দ্র রায় হংস-বাহন, বিনয়-দাত্রী,  শ্বেতবরণী মাগো তুমি, জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালো তুমি  নিখিল ধরণী তলে। হাতে তোমার বীণাখানি,  কণ্ঠে সুরের ধারা, তোমার কৃপায় ধন্য মাগো,  এই যে জগত সারা। অন্ধকার এই হৃদয় মাঝে  জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালো, অজ্ঞানতার মেঘ সরিয়ে ছড়াও পুণ্য আলো। হংসবাহিনী মাগো মোদের,  শুদ্ধ করো তন, তোমার চরণে সঁপে  দিলাম   ভক্তিভরা মন। ============= বিপুল চন্দ্র রায় রাজারহাট-কুড়িগ্রাম।

ছড়া ।। ইস্কুলে যাবে খোকা ।। ইমরান খান রাজ

ইস্কুলে যাবে খোকা  ইমরান খান রাজ  ইস্কুলে যাবে খোকা  নতুন বই নিয়ে  সেই খুশিতে পুরনো বই  দিচ্ছে বিলিয়ে।  সহপাঠী আছে যারা  তার খেলার সাথী,  আরও আছে একজোড়া  বন্ধু শালিক পাখি।  সবার সাথে মিলেমিশে  খোকা করে খেলা,  বিকেলে দেখতে যায়  শীত কালের মেলা৷  ------------------------ ইমরান খান রাজ  গ্রামঃ সাতভিটা, পোস্ট অফিসঃ নারিশা-১৩৩২,  উপজেলাঃ দোহার, জেলাঃ ঢাকা, বাংলাদেশ। 

নতুন বইয়ের সুবাস ।। মোঃ সৈয়দুল ইসলাম

নতুন বইয়ের সুবাস  মোঃ সৈয়দুল ইসলাম  নতুন বইয়ে সুবাস ছড়ায়  নতুন বছর এলে, খোকা খুকি বড্ড খুশি  নতুন বইটি পেলে। স্বর ব্যঞ্জনের বর্ণগুলো  মনানন্দে শেখে, কচি হাতে কলম ধরে আঁকাবাঁকা লেখে। আমি হবো, ছুটির ছড়া ভাব ভঙ্গিমায় পড়ে, নতুন বইয়ের সুবাস নিয়েই  জীবন তাদের গড়ে। -------------------------------------- মোঃ সৈয়দুল ইসলাম, হাসারচর, শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ।

কবিতা ।। জীবসেবা ।। সুশান্ত কুমার দে

জীবসেবা সুশান্ত কুমার দে  পৌষের উত্তরীয় হাওয়ায় শীতের হলো শুরু  শিশির সিক্ত গাছের পাতা কাঁপছে দুরু দুরু। ঘন ঝোপে লুকিয়ে আছে দুটি পাখির ছানা মা, বলেছেন এমন শীতে বাইরে যেতে মানা। ছোট্ট নীড়ে থাকিস তোরা চিন্তা ভাবনা ভুলে পাখি শিকারী আসে যদি নিয়েই যাবে তুলে।  চিকন চাকন কাঠির মতো ঝুলে কয়খান পা এদিক সেদিক শব্দ হলেই মুখ দুটো করে হা! ছোট খোকা দেখল এসেই, কাঁপছে ছানাদ্বয়, মানুষ দেখেই পাখি দুটোর লাগল ভীষণ ভয়। খোকা বলল, ভয় কর না একটা আমি মানুষ, মানুষ দেখেই তোদের বুঝি হারিয়ে যায় হুঁশ? সব মানুষই নয়তো সমান ভালো মন্দ আছে, আমি তোদের ভালবেসে; থাকতে চাই কাছে। আমার গায়ের শার্ট সোয়েটার সব দেব খুলে  বাড়ি থেকে খুঁদ কুড়ো এনে দেব মুখে তুলে। চাস যদি তাও দিয়ে দেব, এক গোলার ধান উদর ভরে খেয়ে দেয়ে -ধরবি তোদের গান। মিটিয়ে দেবো যখন তোরা করবি যেটা দাবি  এমনই মধুর ভালবাসা, আর কোথাও পাবি? ভাবছিস কী,গহীন অরণ্যে হঠাৎ এল কেবা? শিকারী নই ,দস্যু নই, আমি করি জীবসেবা! __________________________________________ সুশান্ত কুমার দে  গ্রাম +পোস্ট- কুমিরা , থানা- তালা, জেলা-সাতক্ষীরা । ...

ছড়া ।। বোনের জন্মদিন ।। নজমুল ইসলাম খসরু

বোনের জন্মদিন  নজমুল ইসলাম খসরু  উড়িয়ে দিয়ে ধোঁয়া ধুলো চলছে ছুটে গাড়ি,  সন্ধ্যা হবার আগে আগে ফিরতে হবে বাড়ি।  বোনটি আমার বসে আছে  পথের পানে চেয়ে,  অনেক অনেক খুশি হবে  বারবি পুতুল পেয়ে।  জন্মদিনে পরবে সে আজ  নতুন জুতা জামা  সবাই মিলে করবো খুশি  আসবে নানা মামা ।  --------------------------------- নজমুল ইসলাম খসরু  লাউয়াই, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট, বাংলাদেশ। 

হাফ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী

হাফ ডজন ছড়া স্বপনকুমার পাহাড়ী ১ দীননাথ দীননাথ বাস্কে পিঠে খান আসকে। চাইলে পেতেও পারিস, শুধু বল্: চাস কে? ২ জুটি ম্যাক্সি প'রে ট্যাক্সি চড়েন মিস রিনা। পাশের সীটে ড্রাইভ করেন এস্ সিনহা। চলেন দু'জন রক্সি কিংবা ইন্দিরা। ফুটপাথরে 'হাঁ' ক'রে রয় বিন্দিরা। ৩ প্রক্সি বনলতা বক্সী বৌয়ের প্রক্সি দিতে যান নানা ঠাঁই। বলুন না কবে চাই? ৪ রঙ্গিনী --রঙ্গিনী লো, রঙ্গিনী, কার জীবনের সঙ্গিনী? --ট্যাঁক ভারি যার, সঙ্গিনী তার মন মজাতে ভঙ্গী নিই! ৫ ভগবান দাস এলাকার ত্রাস ভগবান দাস মারা গিয়ে স্ট্যাচু হ'য়ে  বলে, তোরা হাস! ৬ খৈজুর শেখ খৈজুর খাজা নিত্যি টানেন গাঁজা, গাঁজার সাথে ধেনো-- তোমরা কি কেউ চেনো? -------------------------------- Swapankumar Pahari Vill.: Dakshin Paikbar, P.O.: Dakshin Dauki, P.S.: Junput Coastal, Dist : Purba Medinipur, PIN--721450.

স্বপ্ন বালি ।। পাপিয়া বিশ্বাস দত্ত

স্বপ্ন বালি পাপিয়া বিশ্বাস দত্ত  ঘুমিয়ে আছে কাশের বন  সাদা চাদর মুড়ে, দুটি কোকিল গাইছে গান  ওই যে বসে দূরে। স্বপ্নে তোলা বালির বাঁধ  যাচ্ছে ভেসে জলে, পাহাড় নাকি বিরাম নেয়  এসে নদীর কূলে। গল্পগুলি পাখনা মেলে আকাশ নদী ছোঁয়ায়, স্বপ্ন বালি পাহাড় গড়ে  রোদের কড়া নাড়ায়। রোদ গরজে শীত আমেজে  লাগলো এসে ঝড়ের রেশ, কালবোশিখী,রুদ্র কেশ তবে তাই সে বেশ; তান্ডবে সে নাচেও যদি পরেই হবে শীতল নদী। ========== পাপিয়া বিশ্বাস দত্ত          সুভাষ নগর,দমদম ক্যান্টনমেন্ট, কলকাতা- ৭০০০৬৫

ছড়া ।। ছোটন জেঠুর অদ্ভুত ভাবনা ।। দিলীপ কুমার মধু

ছোটন জেঠুর অদ্ভুত ভাবনা  দিলীপ কুমার মধু ছোটন জেঠুর ভাব ভাবনা  অদ্ভুত রকমের  প্রসারিত--সংকুচিত  জেঠু পায় তা টের।  -"শীতের দিনে সূর্যটাকে  পকেটে দিই পুরে  সারা শরীর উষ্ণ থাকবে  ঠান্ডা যাবে দূরে।"  আবার ভাবে--"উত্তাপ দিনে  সূর্যটাকে ধরে  ইদারাতে ডুবিয়ে দিয়ে তুলি চার মাস পরে।  ব্যালেন্স থাকবে তবে রে ভাই  সমান ঠান্ডা-গরম  এই না হলে দেখতে পারছ  ঠান্ডা-গরম চরম।" এসব ভেবে ছোটন জেঠু  জোরে তোলে হাই  ভাবনা বলে --এবার তবে  জানলা দিয়ে পালাই।  ---------- দিলীপ কুমার মধু, নেতাজি নগর, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত, 

ছড়া ।। শীত এসেছে ।। বদ্রীনাথ পাল

শীত এসেছে  বদ্রীনাথ পাল  শীত এসেছে হাড় কাঁপিয়ে কাঁপছি যে ঠকঠক- মুখটি দাদুর চুপ নেই তাও,করছে সে বকবক ! "মিথ্যা কথা" বলছে দাদু -বলার সাহস কার এক চড়ে ঘুম পাড়িয়ে দেবে রক্ষেটি নেই তার ! লাগুক যতই ঠাণ্ডা তিনি করেন না কেয়ার- সকাল বেলায় হতে পারেন সাঁতরে নদী পার। চালিয়ে পাখা আজও পারেন বসতে তিনি খুব - বাড়িয়ে পাশে পুকুরটাতে দিয়ে সাতটি ডুব।  দাদুর কথা শুনে  দিদু বলব কি আর ভাই- কাণ্ড এমন করলো যেটা কোথাও দেখি নাই। চুপিচুপি লক্ষ করে দাদুর মাথার টাক- এক ঘড়া জল ঢেলে দিল-বাপরে ওরে বাপ। চিড়বিড়িয়ে উঠলো দাদু কাঁপলো যে থরথর- বুঝতে পারা গেল দাদুর জলকে আছে ডর ! বলছি এবার সত্যি কথা,করছি নাকো ছল- দাদু শুয়ে আছেন, গায়ে তেরোটি কম্বল।

হাফ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী

হাফ ডজন ছড়া স্বপনকুমার পাহাড়ী   ১ এদিথ পিয়াফ ফরাসী গানের সম্রাজ্ঞী মাদাম এদিথ পিয়াফ এয়ারপোর্টে বান্ধবীরে করতে গেলেন সী-আফ! ফেরার পথে হঠাৎ দেখা আমিও তখন একলা-একা রেস্তোরাঁতে চায়ের কথায় বলে উঠলেন: জী, হাফ!     ২ বুরুট রোজ বিকেলে আয়েস ক'রে টানেন দামী চুরুট সঙ্গে কফি, জলখাবারে ফ্রিজের তাজা 'ফুরুট'। ম্যাডাম যদি থাকেন কাছে  চকাস চুমু বাঁধাই আছে তার কিছুটা বেশি হলেই বলুক না সে 'বুরুট'!     ৩ ভেড়া এক জীবনে বেলতলাতে ক'বার যাবে ন্যাড়া? তাই শ্রীমতী বেলতলাতে দিয়েছিলেন বেড়া। ডিঙিয়ে বেড়া ঢুকলো গোরু তাইতো আবার হলেন জোরু সন্ধ্যেবেলা চায়ের সাথে চিবোন সুখে প্যাঁড়া! গোরু এখন জোরুর কাছে একটি পোষা ভেড়া!     ৪ চিঠি অগ্নিময়ের ভগ্নী তিনি বিমলবাবুর বিটি সদ্য বিএল পাশ করেছেন এমএ-র পিঠোপিঠি। বাপের বাড়ি থেকে  জানিয়ে একে একে  সবই লিখলেন কর্তাকে তাঁর হোলো একখান চিঠি।     ৫ চৈনিক প্রেম সিজিয়া মা আর চিজিয়া হে বর্যায় গেল ভিজিয়া যে! কিবা এসে যায় প্রেম দরিয়ায় ডুবেছে যখন এই দোঁহে     ৬ লিটি বিরলবাবুর বিটি বিহার থেকে 'নো হাউ' ন...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল

অদেখা চিঠির নদী দেবব্রত মণ্ডল  তোমার নামে লিখেছিলাম একশো চিঠি, কিন্তু পাঠাইনি একটাও— কারণ জানতাম, পৌঁছালে ফিরে আসবে না আমার কাছে আমার ব্যথারা। প্রতিটি অক্ষরে ছিল জমে থাকা কান্না, প্রতিটি লাইনে ছিল নিঃশব্দ অপেক্ষা। রাত্রি জেগে জেগে আমি শব্দের মধ্যে লুকিয়ে রাখতাম তোমার মুখ, যেন ভোর এলে আলো এসে কেড়ে নিতে না পারে তোমাকে। তুমি জানো না, তোমার নাম উচ্চারণ করলে আমার বুকের ভিতর একটা সমুদ্র ভেঙে পড়ে। আমি সাঁতার জানি না, তবু ডুবে ডুবে বাঁচি— এই ভেবে যে, কোনো এক তলায় তুমি অপেক্ষা করছো আমার জন্য। ============== দেবব্রত মণ্ডল Kurumgram, Nalhati, Birbhum-731242, West Bengal

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

পাঠ-প্রতিক্রিয়া ।। নবপ্রভাত বইমেলা 2023 সংখ্যা ।। সোমা চক্রবর্তী

পাঠ-প্রতিক্রিয়া : নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৩ সংখ্যা সোমা চক্রবর্তী  (কালিকাপুর, বারাসাত,উত্তর চব্বিশ পরগনা) লিটিল ম্যাগাজিন মেলায় যাওয়া এবার সম্ভব হল না। কয়েকদিন আগে ডাক যোগে হাতে পেয়েছি নবপ্রভাত এর মুদ্রিত বইমেলা সংখ্যা। একটি অণুগল্প নিয়ে আমিও সেখানে রয়েছি অন্যান্য প্রিয় লেখকদের সঙ্গে। কাজেই, উৎসাহ একটু বেশিই রয়েছে। সম্পাদক মহাশয়ের অনুরোধ লিখিত পাঠ প্রতিক্রিয়া চাই। তাই আর অপেক্ষা না করে পড়ে ফেললাম বইটি। নবপ্রভাত এর যে ব্লগ বা ওয়েব ম্যাগাজিন (ব্লগজিন) এর সঙ্গে আগে থেকেই আমি পরিচিত, এ ক্ষেত্রে তার কথা একটু বলে নেওয়া প্রয়োজন। প্রতি বাংলা মাসের এক তারিখে প্রকাশিত প্রতিটি সংখ্যারই প্রবন্ধ অংশটি অত্যন্ত উন্নত মানের হয়ে থাকে। যেমন বিষয় নির্বাচন, তেমনই তথ্য সমৃদ্ধ। মুদ্রিত সংখ্যাটির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পাঁচটি প্রবন্ধের প্রত্যেকটিই উৎকৃষ্ট। বিষয় এবং তথ্য আমাদের ভাবায়। "যুদ্ধ-কবিতা এবং কবিতায় যুদ্ধবিরোধ" প্রবন্ধটি পড়তে পড়তে এবং উল্লিখিত কবিতার ভেতর দিয়ে আমরা দেখতে পাব, মধ্যযুগের বীরগাথামূলক কাব্য এবং মহাকাব্যের হাত ছেড়ে কেমন করে কবিতা ছোট পাকদন্ডী বেয়ে চল...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতা ।। রঙ ।। ইউসুফ মোল্লা

  রঙ  ইউসুফ মোল্লা সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি,  পৃথিবী নানা রঙে সেজে উঠেছে।  ধূসর বাদামী রঙ তোমার দেহ,  মাথায় সবুজ রঙের বাবরি চুল,  তাতে গুঁজে রেখেছো লাল-নীল ফুল।  নববধূর মতো সিঁথিতে দিয়েছো সিঁদুর,  চোখে দিয়েছো কাজল।  দিগন্তভরা আকাশ তোমাকে নীল উপহার দিল,  সূর্যের লাল আলো তোমাকে সুন্দর করেছে।  তুমি তাদের ফিরিয়ে দিলে, বুকভরা ভালোবাসা আর স্নেহ।  মাঝে মাঝে এইভাবে হোলি আসে,  আমার মনকে রাঙিয়ে দিতে। ------------------    ইউসুফ মোল্লা উত্তর অঙ্গদ বেড়িয়া, ট্যাংরাখালী, ক্যানিং,  দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ৭৪৩৩২৯

কবিতা: জয়তী রায়

এক ভ্রষ্টা নারী ও আদর্শ " অ্যই মেয়ে তোর দাম কত রে ,,,,? "  ক্রসিং এ দাঁড়ানো অটোতে বসে  কথাটা কানে যেতেই মুখ ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েটাকে। সস্তার চুমকি বসানো চড়া সবুজ রঙের শাড়ি পরা , লাল রক্তের মতো রাঙানো ঠোঁট আর সস্তার স্নো পাউডার মাখা মৃত মুখ। স্বপ্নসুন্দরী তিলোত্তমার বিশেষ কিছু এলাকায় পথের ধারে  এমন বেসে অনেক রূপমতিকেই দেখতে পাওয়া যায়। চট করে মনে পড়ে গেল অতীতের কথা ,,,,,,, রূপমতি ওরফে রূপা। হ্যাঁ আজ আমি অনেকের কাছে পরিচিত ' রূপা '। একটা সময় আমারও অস্তিত্ব ছিল এই রাজপথ। খট খট ,,,,,,,,খট খট ,,,,,,,, আজও মনে পড়ে সেদিনের কথা ,,,,,,,,, দরজার জোর শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। " কে ,,,,,,,? কে ওখানে ,,,,,,,,?" ভয় মিশ্রিত গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলে  প্রথম তোমার গলা শুনলাম ,,,,,,, " দরজা খোলো , ভয় নেই কোনো ক্ষতি করবো না ,,,,,,,," কি ছিল সেই গলায় জানি না। মন্ত্রমুগ্ধের মতো দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে তুমি ঢুকে পড়লে ঘরে। উস্কো খুস্কো চুল ক্লান্ত অথচ আগুন ঝরা দুটো চোখ ,,,,,, প্রথম তোমায় দেখলাম।  কেন জানি না দেখা মাত্রই ম...

তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার

  তবুও প্রজাপতিটা  সুবিনয় হালদার হলুদের ছোঁয়া তখনো লাগেনি পত্রে তবুও প্রজাপতিটা উড়ে এসে বসেছিল গায়ে— এখনো বসে ভুল ভবিষ্যৎ! কত সোহাগে রং মেখেছিল কোন এক ফাগুনের দুপুরে, এসেছিল একাকী— ফাগ-ছড়ানো বাঁশ বন তালগাছ পুকুরপাড়— মেঠো পথ ধরে অন্ধকার পথে ; পরাগের রেনু মিলেমিশে মাখামাখি ভিজেছিল সেই রাত রংবেরং স্বপ্নের বেড়াজাল ইন্দ্রিয় সুখের ছন্দপতন ঘটে প্রাতে । রজনীগন্ধার গন্ধে মাখা পত্রটা বর্ণমালা শূন্য নিঃশব্দ  পলেস্টার খসা দেওয়াল মাকড়সার জাল ভ্যাপসা গুমোট পরিবেশে  একাকী পড়ে জীর্ণ বিবর্ণ অপরিচিতদের ভিড়ে ; তবুও প্রজাপতিটা উড়ে এসে বসেছিল গায়ে—অজান্তে পথ ভুলে ! =============== সমাপ্ত =============== সুবিনয় হালদার  গ্রাম - দৌলতপুর  পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার  থানা - ফলতা  জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগনা  পিন কোড নম্বর -৭৪৩৫০৩ রাজ্য - পশ্চিমবঙ্গ  দেশ - ভারতবর্ষ

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। পর্ব : ৩ ।। বসন্ত ও রঙ বিষয়ক

    : শুভেচ্ছা-বার্তা : বর্ণময় বাসন্তী-দিনে সকলের হৃদয় উঠুক রেঙে। বর্ণালী বিচ্ছুরণে উজ্জ্বল হোক জীবন। ধুসর সময় পেরিয়ে বসন্তের বাহারি রঙে ঝলমল করে উঠুক প্রেমের পৃথিবী।  নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে বাসন্তী-শুভেচ্ছা।  —নিরাশাহরণ নস্কর। (স. / ন.প্র. )   'বসন্ত ও রঙ' বিষয়ক লেখাগুচ্ছের সূচি বসন্তের রঙ ।। জয়নাল আবেদিন রঙ ।। মনোজ ঘোষ রঙ || নীল ডায়েরি এসো, পলাশের রঙে সাজি ।। জয়শ্রী সরকার দোল ।। বিজিত মন্ডল 'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দোল এল ফাগুনে ।। মুক্তি দাশ এলো যে বসন্ত ।। দীনেশ সরকার রং ।। গণেশ ভট্টাচার্য রঙ ।। বিবেকানন্দ নস্কর রং ।। দীপক জানা রঙ ।। মেশকাতুন নাহার বসন্ত ঋতুর সন্ধ্যায় রবি ।। রাজর্ষি দাশগুপ্ত তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার বসন্তের পদধ্বনি ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ঋতুশ্রী বসন্তে ।। রাজর্ষি রায় চৌধুরী অচেনা কথা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত রঙ ।। জীবন সরখেল রঙ ।। সুবীর কুমার ভট্টাচার্য রাঙিয়ে দিয়ে যাও ।। তাপসী প্রামাণিক অন্য বসন্ত ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)      

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার

  তবুও প্রজাপতিটা  সুবিনয় হালদার হলুদের ছোঁয়া তখনো লাগেনি পত্রে তবুও প্রজাপতিটা উড়ে এসে বসেছিল গায়ে— এখনো বসে ভুল ভবিষ্যৎ! কত সোহাগে রং মেখেছিল কোন এক ফাগুনের দুপুরে, এসেছিল একাকী— ফাগ-ছড়ানো বাঁশ বন তালগাছ পুকুরপাড়— মেঠো পথ ধরে অন্ধকার পথে ; পরাগের রেনু মিলেমিশে মাখামাখি ভিজেছিল সেই রাত রংবেরং স্বপ্নের বেড়াজাল ইন্দ্রিয় সুখের ছন্দপতন ঘটে প্রাতে । রজনীগন্ধার গন্ধে মাখা পত্রটা বর্ণমালা শূন্য নিঃশব্দ  পলেস্টার খসা দেওয়াল মাকড়সার জাল ভ্যাপসা গুমোট পরিবেশে  একাকী পড়ে জীর্ণ বিবর্ণ অপরিচিতদের ভিড়ে ; তবুও প্রজাপতিটা উড়ে এসে বসেছিল গায়ে—অজান্তে পথ ভুলে ! =============== সমাপ্ত =============== সুবিনয় হালদার  গ্রাম - দৌলতপুর  পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার  থানা - ফলতা  জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগনা  পিন কোড নম্বর -৭৪৩৫০৩ রাজ্য - পশ্চিমবঙ্গ  দেশ - ভারতবর্ষ

রিভিউ ।। উপন্যাসঃ এক নদী দুই স্রোত ।। লেখকঃ বিশ্বনাথ প্রামানিক ।। আলোচকঃ জয়শ্রী ব্যানার্জি

গভীর এক উপলব্ধির প্রেমের উপন্যাস 'এক নদী দুই স্রোত' জয়শ্রী ব্যানার্জি    এই গল্প গড়ে উঠেছে শ্রীমন্ত, লক্ষ্মী,হাসিনাকে কেন্দ্র করে। তাদের ত্রিকোণ প্রেমের বাতাবরণে যেমন এক গভীর গোপন ভালোবাসার জন্ম নিয়েছে তেমনই প্রকাশিত হয়েছে মানুষের মধ্যে ঈর্ষা, সংকীর্ণতা, দুর্বলের প্রতি সবলদের দম্ভ ! যেসব চরিত্রগুলো উঠে এসেছে তাদের সবাই আর পাঁচজনের মতোই আলো আঁধারে মিশে আছে । কখনও ভালো কখনও কিছু মন্দ দিক দেখি । শ্রীমন্ত যাকে ভালো শান্ত, পরোপকারী হিসাবে দেখি, হাসিনার প্রতি তার যে গোপন এক  ভালোবাসা, ভালোলাগা ..আবার লক্ষ্মীকেও সে ঠিক উপেক্ষা করতে পারে না, এর মধ্যে কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ঠিক যেনো পাড়ার ছেলেটি! তার ভালোবাসা স্বপ্ন, ইচ্ছা, হতাশা অভিমান, অপেক্ষা, রাগ ক্ষোভ তার বেকারত্ব  তার প্রতি কিছুজনের কটূক্তি বা উপেক্ষা তার ভিতরের পুরুষকে কখনো জাগিয়ে তোলে কখনও যেন দমিয়ে রাখে!  অপরদিকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা হাসিনাকে দেখি লাজুক, শান্ত পড়াশোনায় ভালো মেয়েটি । সেও যেনো খুব চেনা কোনো মেয়েটি । শ্রীমন্তর প্রতি তার যে আকর্ষণ তা পবিত্র লাগে । ওর জন্য নিজের জীবন দেওয়া হাসিনার...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল

অদেখা চিঠির নদী দেবব্রত মণ্ডল  তোমার নামে লিখেছিলাম একশো চিঠি, কিন্তু পাঠাইনি একটাও— কারণ জানতাম, পৌঁছালে ফিরে আসবে না আমার কাছে আমার ব্যথারা। প্রতিটি অক্ষরে ছিল জমে থাকা কান্না, প্রতিটি লাইনে ছিল নিঃশব্দ অপেক্ষা। রাত্রি জেগে জেগে আমি শব্দের মধ্যে লুকিয়ে রাখতাম তোমার মুখ, যেন ভোর এলে আলো এসে কেড়ে নিতে না পারে তোমাকে। তুমি জানো না, তোমার নাম উচ্চারণ করলে আমার বুকের ভিতর একটা সমুদ্র ভেঙে পড়ে। আমি সাঁতার জানি না, তবু ডুবে ডুবে বাঁচি— এই ভেবে যে, কোনো এক তলায় তুমি অপেক্ষা করছো আমার জন্য। ============== দেবব্রত মণ্ডল Kurumgram, Nalhati, Birbhum-731242, West Bengal

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। পর্ব : ৩ ।। বসন্ত ও রঙ বিষয়ক

    : শুভেচ্ছা-বার্তা : বর্ণময় বাসন্তী-দিনে সকলের হৃদয় উঠুক রেঙে। বর্ণালী বিচ্ছুরণে উজ্জ্বল হোক জীবন। ধুসর সময় পেরিয়ে বসন্তের বাহারি রঙে ঝলমল করে উঠুক প্রেমের পৃথিবী।  নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে বাসন্তী-শুভেচ্ছা।  —নিরাশাহরণ নস্কর। (স. / ন.প্র. )   'বসন্ত ও রঙ' বিষয়ক লেখাগুচ্ছের সূচি বসন্তের রঙ ।। জয়নাল আবেদিন রঙ ।। মনোজ ঘোষ রঙ || নীল ডায়েরি এসো, পলাশের রঙে সাজি ।। জয়শ্রী সরকার দোল ।। বিজিত মন্ডল 'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দোল এল ফাগুনে ।। মুক্তি দাশ এলো যে বসন্ত ।। দীনেশ সরকার রং ।। গণেশ ভট্টাচার্য রঙ ।। বিবেকানন্দ নস্কর রং ।। দীপক জানা রঙ ।। মেশকাতুন নাহার বসন্ত ঋতুর সন্ধ্যায় রবি ।। রাজর্ষি দাশগুপ্ত তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার বসন্তের পদধ্বনি ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ঋতুশ্রী বসন্তে ।। রাজর্ষি রায় চৌধুরী অচেনা কথা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত রঙ ।। জীবন সরখেল রঙ ।। সুবীর কুমার ভট্টাচার্য রাঙিয়ে দিয়ে যাও ।। তাপসী প্রামাণিক অন্য বসন্ত ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)