নেপথ্যের কান্ডারী
মানস কুমার সেনগুপ্ত
এই প্রচার সর্বস্ব সময়ে দাঁড়িয়ে এবং সোশ্যাল মিডিয়া নামক প্রচারের আজ্ঞাবাহী মাধ্যমটির বদান্যতায় যে কোনও বিশেষ উল্লেখযোগ্য সামাজিক কাজ বা একান্তই ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোন প্রাতিষ্ঠানিক কাজে , প্রচার বিমুখ নেপথ্যের কান্ডারীরা আড়ালেই থেকে যান। আসলে সত্যিকারের প্রচার বিমুখ মানুষেরা আড়ালে থাকতেই পছন্দ করেন।
এই প্রসঙ্গে আমার একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। আমাদের দমদম অঞ্চলে একশ বছর ছুঁতে চলা একটি পাঠাগার রয়েছে। আমি বহুবছর সেই পাঠাগারটির সদস্য ছিলাম। আমার বন্ধুর দাদা রমেন দা ছিলেন পাঠাগারটির সম্পাদক। মাঝে মাঝে সেখানে সাহিত্য সভার আয়োজন করা হয়। আসেন অনেক বিশিষ্ট সাহিত্যিক। একবার এলেন মাননীয় শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি তার নিজস্ব স্বভাবসিদ্ধ সরস বক্তব্য শেষ করলেন। অনেক দায়িত্বের সঙ্গে ছবি তোলার কাজটিও করছিলাম আমি। প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হতেই আমি রমেনদাকে খুঁজতে লাগলাম। লাইব্রেরীর অনেক কর্মকর্তারাই বসে আছেন শীর্ষেন্দু বাবুকে মধ্যমনি করে তার দুপাশে। বেশ কিছু ছবি তোলার পর দেখলাম রমেন দা' তো সেখানে নেই। দেখলাম হলটির একটি থামের আড়ালে দাঁড়িয়ে তিনি অনুষ্ঠান শুনছেন। অনেক অনুরোধ - উপরোধেও তাকে সামনে আনা গেল না বিশিষ্ট সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য।
অথচ ওই সাহিত্য সভাটির আয়োজনের মূল কান্ডারী ছিলেন রমেন দা'ই । এমন প্রচার বিমুখ
মানুষ আজকাল সত্যিই বিরল। এরপর পাঠাগারের পঁচাত্তর বছর উদযাপনের সময় তিনি সম্পাদকের পদে না থেকেও বহু পরিশ্রমসাধ্য কাজ করে গেলেন। সহায়তায় পাশে থেকে নেপথ্যের কান্ডারীর পরিচয় আবার নতুন করে পেলাম। আত্ম প্রচার সর্বস্ব সময়ে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বাস্তবিকই কঠিন।
========================
মানস কুমার সেনগুপ্ত , ১৭/৮, আনন্দ মোহন বসু রোড, দমদম, কলকাতা ৭০০০৭৪. 
Comments
Post a Comment