ঝুমুরের ঝঙ্কার
কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য
ক্রেতার মুখে দোকান কথাটা শুনে অজান্তেই ঝুমুর ঠোঁট বাঁকায়! আধুনিক ঝুমুরের মন চায় অন্যরকম। যেতে আসতে, আলাপচারিতায় একে অন্যকে কথায় কথায় নাম নিক "মোনালিসা শপ্"এর। প্রচার করুক খরিদ্দারেরা । ঐ দ্যাখো! কাস্টমার না বলে খরিদ্দার বলে ফেললাম। এই হয়েছে জ্বালাতন। থাকতে চাই সমসাময়িক, হয়ে যাই মধ্যবিত্ত মানসিকতার।" আর হবে নাই বা কেন বলুন? সংসার, পাড়া সবই তো মধ্যবিত্ত ! তবে ঝুমুর তার মতো চেষ্টা করে যায়, সময়ের সাথে নিজেকে সাজিয়ে নিতে। চারিদিকে বড় বড় 'মল' এর মাঝে দাপটের সাথে দাঁড়িয়ে আছে তার "মোনালিসা"! নামেও বেশ ভিঞ্চি'দা শিল্পীর ছোঁয়া! থ্রি-ইন-ওয়ান, গ্রোসারি, স্টেশনারি, কনফেকশনারি। যেমন মোনালিসার দুটি চোখে, মুখে ভিন্ন ভিন্ন অভিব্যক্তি, তার শপ্ এও ভিন্ন ভিন্ন প্রোডাক্ট ব্যবহারে ভিন্ন ভিন্ন মানুষ। ঝুমুরও ক্রেতাদের জন্য জিনিসের দাম ও মান রাখে ঠিক ঠাক, আর কাস্টমারও আস্থা রাখে ন্যায্য দামের সাথে মানের তাল মিলে। তবে কাস্টমারও খোঁচা দিতে ছাড়েন না। ঝুমুর যেই হাসি মুখে বলেন "এ'টা কিনলে আপনারই লাভ", কাস্টমারের চিমটি উত্তর "দিয়ে দিন তা'হলে আমার লাভটা, আপনার লোকসান করে"। একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে চুপ করে যায় ঝুমুর। "মোনালিসা" কে জনপ্রিয় না বলে আমি বলি ক্রেতাপ্রিয়। আমি নিজেও এই শপ্ এর ক্রেতা। দক্ষিণের রাস্তার সাথে পশ্চিমের রাস্তা মেলে যে মোড়ে, তারই বাঁ পাশের জমি তার শ্বশুরের ভিটে। বাড়ির ডানদিকের রাস্তা পেরিয়েই বাপের বাড়ি, আর ঠিক বড় রাস্তার ধারেই দোকান। সামনে দোকান পেছনে বসত বাড়ি। শ্বশুরের হাতেই গড়া। সামনের বড় রাস্তা পেরিয়ে মাঠ, ক্লাব। শপ্ এর বাঁ পাশে তাদেরই মালিকানাধীন পলি ক্লিনিক। পলি ক্লিনিকের পাশেই ছেলেদের উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সব মিলিয়ে রঘুনাথপুরে শপের অবস্থান আকর্ষণীয় ।
একদিকের পাড়া কালচারে আছে পুরোনো বসতি। অন্যদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে তৈরী হয়ে গেছে বহু বড় বড় ফ্ল্যাট। সেখানে ছড়িয়েছে ফ্ল্যাট কালচার। সব ভাষা ভাষীদের বাস সেখানে।
বর্তমানে শপ্ চালায় ঝুমুর, তার দুজন কর্মচারীর সহায়তায়। এ বিষয়ে প্রায় বছর দুয়েকের অভিজ্ঞতা ঝুমুরের। তার আগে ওর বর সন্দীপন চালাত। অল্প বয়সে কোনও এক অজানা রোগ ধরে নেয় তাকে, বিয়ের বাইশ বছরের মাথায়। ডাক্তারেরা অনেক রকম টেস্ট করেও রোগ নির্ণয় করতে পারেন নি। ধীর গতিতে কথা বন্ধ হওয়ার পর হাত-পা অবশ, অসার। এখন শয্যাশায়ী। ঝুমুরের বলা কথা বোঝে সে,কিন্তু বলতে পারে না! চোখের পলক ফেলে বুঝিয়ে দেয়। সন্দীপন অসুস্থ হওয়ার অল্প কিছু দিন আগেই মৃত্যুর কোলে আশ্রয় নিয়েছেন সন্দীপনের বাবা। তার মধুমেহ পরিবারকে করেছে মধুহীন। সেই স্মৃতির রঙীন বাগানে ছিল ঝুমুরের যত্নের পাঁচটি ফুল, শ্বশুর, শাশুড়ি, দুই মেয়ে লিসা, নিশা আর প্রেমিক থেকে পতিতে পরিণত মনের মানুষ সন্দীপন। বাগানের মালিনী ঝুমুর। প্রেমিকা থেকে গৃহিণী, সুখী গৃহকোণে পা ফেলা মাত্রই। সময়ের চলমান ধাপে আজ ঘোর সংসারী। সময়ের পাশা পাল্টাতে লাগে না সময়। সন্দীপন অসুস্থ হওয়ার পর ব্যবসার হাল ধরতে হয় ঝুমুরকেই । বয়স্ক শাশুড়ি ভারী চেহারা নিয়ে মাঝে মধ্যে দোকানের ক্যাশ বাক্স সামলান। বড় মেয়ে লিসাও সেভাবেই দোকানে এসে মার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। সপ্তদশী লিসা বাবার এই ভাষাহীন বোবা চেহারা মন থেকে মেনে নিতে পারে না। বুকে জমা আবেগ ভার স'ইতে না পেরে, চোখ পেরিয়ে নেমে আসে দু-গাল বেয়ে! ছুটে বেরিয়ে আসে বাবির ঘর থেকে লিসা। বসে এসে দোকানের এক কোণে উদাস বিহ্বল। দেওয়ালে হেলান দিয়ে, দৃষ্টি ছাদের দিকে। ভাবে মনে মনে, ঈশ্বর এত নিষ্ঠুর! বাবিকে আরও কিছু দিন সময় দিতে পারতো তার সাথে কথা বলার। সে আরেকটু খানি বেশি আদর পেত বাবির। ঝুমুরের নজর এড়ায় না। দোকান একটু ফাঁকা হতেই তাকে জড়িয়ে ধরে আদর করে ঝুমুর। মুছে দেয় গাল চোখ। কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে অনেক কথা।
"শুধু দিদিকে আদর করলে হবে?" দু-জন কে জড়িয়ে মাঝখানে মুখ বাড়িয়ে দেয় নিশা,আদরের ভাগ পেতে। "বাবির জন্য আমার মন খারাপ করে না? করে তো। যেটুকু পাওয়ার ছিল,পেয়ে গেছি বোধহয়। এখন তোমরা দুজন আমাকে অনেক অনেক আদর দেবে।" নিশা এরকমই,পড়াশোনা শেষ করে আহ্লাদি হতে ছুটে আসে মা, দিদির কাছে। বৃষ্টির মেঘ সরে গিয়ে পরিস্কার আকাশ। দোকানদারি আর সংসারের ভার চাপা দিতে পারেনি তার মাতৃত্বের আওয়াজ। এমন দৃশ্যের সময় দোকানের একমাত্র আমিই ক্রেতা।এই দৃশ্যাবেগ আমাকেও নাড়িয়ে দেয়। আবেগের স্রোতে ভাসা ঝুমুর ধরা পড়ে যেতেই, মুখে সারল্যের হাসি ভোরের আলোর মত স্নিগ্ধ। মুখে শব্দ না ফুটলেও, চকচকে মুখ বলে দেয় অনেক কথা। সেই দৃশ্যের একমাত্র সাক্ষী আমি নীরবতা ভাঙাতে বলি "সত্যি আপনার ক্ষমতা আছে, হাসির চাদর বিছিয়ে দিতে পারেন সময় মত।"
"কি করব বলুন? পা ছড়িয়ে কাঁদব বসে? ওর মতো আমিও যদি ভেঙে পড়ি সংসার, দোকানদারি চলবে কি করে? আমি মুখ ফুলিয়ে রাখতে পারিনা।" বলায় শুধু নয়,কাজেও মুখ ফুলিয়ে দেখিয়ে দিয়ে,ভারী পরিবেশটাকেই হালকা করে দিলেন।
"আপনি পারেন! সংসার আর দোকানদারি, দুই খরিদ্দারকে গুণ ও মান সঠিক দিয়ে পার্মানেন্ট কাস্টমার বানিয়ে নিয়েছেন।"
"আপনিও তো দেখছি নজর রাখছেন আমার ওপর!"
"বাঃ! রাখব না, এতটা আবেগহীন মনে করেন না কি আমাকে?"
এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন কাস্টমার এসে যাওয়ায়, কথা ওখানেই থেমে যায়। প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষ করে ফিরি বাড়িতে আর ঝুমুর ব্যস্ত হয়ে পড়ে তার দোকানদারিতে।
দৈনন্দিন ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে গিয়ে এরকম নানান দৃশ্যের মিশ্র ঝলক দেখতে পাই প্রায় প্রতিদিন। শরীরে শক্তি সঞ্চয়ে পেটে যেমন খাদ্য চাই, তেমনিই 'মোনালিসা'র আঙিনায় প্রতিদিন পাল্টে যাওয়া দৃশ্যপট আমার ভাবনাকে, নতুন করে ভাবতে বাধ্য করায়। আজই সমাজ মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্না হলিউড অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর একটি উদ্ধৃতি পেলাম, বাংলায় যার মানে দাঁড়ায় "মহিলার সর্বশ্রেষ্ঠ মুখ সজ্জা(make up) মুখ ভরা হাসি।" 'মোনালিসা'য় এসে, ঝুমুরের মেক আপ ছাড়া হাসিভরা মুখ আমি প্রায় প্রতিদিনই দেখি। এই মুখে কখনও বলে না সে অসুস্থতার কথা। মুখ ফসকে শরীর খারাপের কথা বলে ফেললেও কাস্টমারকে অসুবিধায় ফেলেন না কখনও। গৃহবধূ(হাউস ওয়াইফ) কিভাবে গৃহ স্থপতি(হোম মেকার)হয়ে ওঠে, তার আরও এক উদাহরণ 'মোনালিসা শপ' এর ঝুমুর। এবার একটু বলা দরকার সেই দু-জনের কথা, যাদের সহযোগিতা ছাড়া ঝুমুরের সুষ্ঠু ভাবে শপ্ চালানো প্রায় অসম্ভব ছিল। কাকা আর কাজল ছাড়া ঝুমুর শপ্ চালাতে সত্যি দিশেহারা ! সেটা টের পাওয়া যায় কাকা আর কাজল ছুটি নিলে। ওরাও এই দোকানে খুব বেশিদিন কাজ করছে না। কাজল কে ঝুমুর দোকানের দায়িত্ব নেওয়ার পরই রেখেছে। কাকা সন্দীপনের সময় থেকেই কাজ করছেন। কাকার বয়েস এখন বছর পঞ্চান্ন, কাজলের বিয়াল্লিশের উপরে। এদের মধ্যে এখনও পারস্পরিক বোঝাপড়া টা সুন্দর। তবে দুজনের দোকানে কাজের ধরন দু-রকম। তাতে কোনও মনমালিন্য আমি তো দেখিনি। কাকা কাস্টমার সাপোর্টিভ, কাজল মালকিন সাপোর্টিভ। কাকা সব সময় জিনিস বাছাই করে দেয়। কাজল জিনিস বিক্রি করতেই ব্যস্ত, হিসেবে তুখোড়। কাকার মাথা অত কাজ করে না।সোজা কথায় একজন করে স্মার্ট দোকানদারি, আরেকজন ঢিলা। আর এদের কে সবসময় নজরে রেখে আসল ব্যবসা-তরীর হাল ধরেছেন ঝুমুর। মুখে হাসি ছড়িয়ে রাখা সবার কর্ম নয়। লিখতে লিখতে মনে পড়ে গেল সেই কথাই। হাস্যরস বোধ আর সঠিক সময়ে সেই হাস্যরস পরিবেশন করা ঝুমরের বিশেষ গুণ। সেপ্টেম্বরের সেই অতিবৃষ্টির রাতের স্মৃতি নিশ্চয়ই এখনও তাজা! ঝুমুরের 'মোনালিসা শপ্' এর লোকেশন এত আকর্ষণীয় হয়েও, একটু বেশি বৃষ্টি হলেই ড্রেন ভরে রাস্তা জল থই থই। দোকানে জল ঢোকার প্রবল সম্ভাবনা। অতি বৃষ্টির দু-দিন পরে দোকানে এসেছি, যেমন আসি কেনাকাটা করতে। শুধু জিজ্ঞাসা করেছি "সেদিন রাতের ওমন বৃষ্টিতে আপনার দোকানের কোনও ক্ষতি হয়নি তো?" তৎক্ষণাৎ সপাটে উত্তর, সঙ্গে ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি "আমার ঘুমের ক্ষতি হয়েছে।" সাবলীল উত্তরে আমি বাক্যহারা! লক্ষ্মী পূজোর সকালে, অন্যদিনের তুলনায় খরিদ্দার বেশি দোকানে। ফর্দ টা কর্মচারী কাকার হাতে ধরিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, প্যাকেট ছাড়া আটা আছে কিনা! কাকা দোকানের ভেতর থেকে এক প্যাকেট আটা নিয়ে কাউন্টারে রেখে জানাল, খোলা আটা টা ভালো হবে না। "কাকা প্যাকেট আটা দিয়েছ কেন? খোলা আটা দাও।" ফর্দ হাতে ঝুমুরের মৌখিক নির্দেশের পর কাকা এসে কিছু বলে ঝুমুর কে, আর তারপরই দুজনে দোকানের ভেতরে চলে গেল। কয়েক মিনিট পর ফিরে এলেন ঝুমুর দু-হাতে আটা মেখে, সঙ্গে কাকাও। মুহুর্তের জন্য মুখটা গম্ভীর! জিজ্ঞাসা করলাম "কোনও সমস্যা হয়েছে?" উত্তরে "না না কোনও সমস্যা হয়নি," বলেই আটা মাখা হাতে ক্যালকুলেটরের কী-প্যাডে আঙুল। সদ্য আসা পাশের এক কাস্টমার বলেই ফেললেন "সে কী! হাতে আটা! রান্না ঘর থেকে এলেন বুঝি?" চোখে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর মুখে হাসির চপার শানিয়ে নিয়ে তাৎক্ষণিক উত্তর "হ্যাঁ দাদা, রুটি বেলতে বেলতে চলে এলাম। দু দিকের খাওয়ার যোগাড় করতে হবে তো!বোঝেন না কেন!" আমি অবাক, মন্ত্রমুগ্ধ! আড় চোখে আমায় একবার দেখে নিয়ে সে তার হিসাবের কাজে মনোযোগী হলেন। অসাধারণ তাৎক্ষণিক উদ্ভাবনী কৌশলে সেই কাস্টমারও চুপ। আমাকে প্যাকেটের আটাই দিলেন হিসাব করে। আমিও চুপ। আমার ফর্দর সাথে মিলিয়ে কাকা আইটেম গুলো ব্যাগজাত করছেন। এরপর হিসাব করে ফাইনাল ক্যালকুলেশনের জন্য যাবে ঝুমুরের হাতে। তারপর আমি পেমেন্ট করবো অন লাইন অথবা অফ লাইনে। হিসেব সম্পূর্ণ, ক্যাশ হ্যাণ্ড-ওভার করে দিয়েছি, আবার নতুন অভিজ্ঞতা! এক কাস্টমার এসে জিজ্ঞাসা করলেন "ইজি ক্লিনার আছে? কি দাম?" ভদ্রলোকের প্রশ্ন করার রকম দেখে মনে হলো খুব তাড়া আছে। হাসি মুখে ঝুমুরের উত্তর "আপনি যদি পরিমাণ বলেন, আমি ইজি বলতে পারি ইজির কত দাম?" "ওয়াণ্ডারফুল"! গ্রেট কমিক টাইমিং ম্যাডাম", বললেন ভদ্রলোক। ভদ্রলোক চলে যাওয়ার পর বাকি ক্যাশ ফেরত দিতে দিতে ঝুমুরের জিজ্ঞাসা "আপনি হাসছিলেন কেন?" "কেন? শুনলেন না ভদ্রলোক কি বললেন, হাস্যরস বোধ, আর সঠিক সময়ে সেই হাস্যরস সকলের সামনে নিয়ে আসা আপনি অনায়াসে পারেন। আপনি একজন রসিক গুণীজন। সবাই হতে পারে না"। একটা দীর্ঘশ্বাস ঝুমুরের। প্রথম দেখলাম মুখের হাসি ম্লান! "ঘরে বাইরে শুধু দুঃখের কথা বলতে ভালো লাগে না। হাসি নিয়ে, হাসি ছড়িয়ে বাঁচতে চাই। আমার দুঃখ থাক গোপনে। গতকাল খুশি ছিল, আগামীতে খুশি আসবেই, আমি নিশ্চিত। মাঝে সুখ দুঃখের যাতায়ত। সুখের চাহিদা বেশি, সময় দেয় কম। দুঃখের চাহিদা কম, নিজেই নাছোড়বান্দার মত সেঁটে থাকে জীবনে। তাকে বেকার না থাকতে দিয়ে অলঙ্কার করে নিয়েছি।" আস্তে আস্তে অনেক গুলো কথা বলে এখন নিশ্চুপ, অপলক, দিকশূণ্য দৃষ্টি। নীরবতা ভাঙি"ক'ই আমার ক্যাশব্যাকটা দিন?"
"সরি, একদম ভুলে গেছি। এই দেখুন মুঠো তে টাকা", বলে মুঠো দেখিয়ে টাকাটা হাতে দিলেন।
" এতে দুঃখিত হওয়ার কিছু নেই "। "কথায় আছে দোকান ছাড়িবার আগে হিসাব বুঝিয়া নেবেন।"
"কি? এবার বলুন আমার কমিক টাইমিং কেমন হলো ম্যাডাম?" এবার আমার হাসি দেখে ঝুমুরেরও মুখ ভর্তি হাসি।
"বাড়ি যাওয়ার আগে দুটো লাইন শুনিয়ে যাই।
কি, শুনবেন তো?"
"শোনান।"
"ঢেউয়ের যেমন ওঠা-পড়া, জীবনেও আছে তাই।
আফসোসে বদলায় না কিছুই, নিজেকেই বদলানো চাই।"
"দুটো লাইন বলতে গিয়ে, বিখ্যাত একটি গানের লাইন মনে পড়ল ম্যাডাম।"
"আনা যানা লাগা রহেগা,
দুখ যায়েগা, সুখ আয়েগা।"
" না এবার সত্যি দেরি হয়ে যাচ্ছে । রাতে কোজাগরী পূর্ণিমার জোৎস্নায় ছাদে যাবেন। দেখবেন মন ভালো হয়ে গেছে। আসি ম্যাডাম।" বলে রওনা দিলাম বাড়ির দিকে।
•~•~•~•~•~•~•~•সমাপ্ত•~•~•~•~•~•~•~•
কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য
রঘুনাথপুর সরকার বাগান
কলকাতা - 700059
পশ্চিমবঙ্গ

Comments
Post a Comment