Skip to main content

Posts

Showing posts with the label কবিতা

দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল

লাস্ট উইস শোভন মণ্ডল   ঝুঁকি নিয়ে আমরা যা- যা করেছি তার মধ্যে প্রণয় প্রস্তাবও ছিল শেষ পর্যন্ত সেটাও ভেঙে যাওয়া উই ঢিপির মতো অসফল থেকে গেছে   এরপর তোমাকে নিয়ে আর স্বপ্নেও ছুঁয়ে দেখিনি স্নান করিনি অলসবেলায় বুদবুদের অসমাপ্ত ছায়াগুলো ধরে ব্যাগ ভর্তি করেছি আপন খেয়ালে মনে মনে শুধু বলেছি একদিন আমিও ঘুমিয়ে পড়ব তুমি সন্তর্পণে এসে সত্যি সত্যি ফুল ছুড়ে দেবে আমার সাদা চাদরে অবসরে শোভন মণ্ডল   ভাল যা কিছু সবই তো বলা হয়ে গেছে প্রিয় ফুল আর নাকছাবি ছড়িয়ে দিয়েছ সে সব এখানে ওখানে জেগে থাকে   বায়োডাটা বলে নুড়ি ভরেছি ব্যাগে খোলস বলতে এখন বুঝি বাকল কবেকার দেনা-পাওনা মিটিয়ে দেবার পরেও কে যেন রোজ তাগাদা দিতে আসে   জীবনানন্দ পেরতে গিয়েছিলেন ট্রাম লাইন আর তো ফিরলেন না সেটুকু জেনেই ঘুমিয়ে পড়েছি আর তো সামলাতে পারছে না ব্রেন   স্বপ্নে দেখেছি পাবলো ...

কবিতা ।। ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার

ডিসেম্বর  কমল মজুমদার  উত্তুরে হাওয়ায় যখন হিম নেমে আসে  ঘাসের আগায় যখন শীতের ফিসফিসানি  কুয়াশায় ভেজা গাছের পাতা যখন খোঁজে উত্তাপ  এক চিলতে আদুরে রোদ্দুর নিয়ে আসে ডিসেম্বর | শীতের আগুন এগিয়ে আসে বাসনা শরীরে  ঠোঁটের কোষে কোষে লেগে থাকে উষ্ণতার স্পর্শ  শীতের নিবিড় সন্ধ্যায় নেমে আসে একান্ত আদর  নক্ষত্রের কল্পিত চোখে ধরা পড়ে যৌবনের চুম্বন | একটা ডিসেম্বর তৈরী করে প্রেমের ইস্তেহার  উপবাসী শরীরে রচিত হয় কামের পদ্মপুকুর  কফির তুফানে লেখা হতে থাকে প্রেমের কবিতা  কুয়াশা খুঁজে নেয় হৃদয়ের অলিগলি | শীতের জলজ স্বপ্নে আঁকা হয় নিকোনো উঠোন  প্রবল শৈত্যের ইশারায় জ্বলে ওঠে নক্ষত্রের আলো  গোপনে জেগে ওঠে ছন্নছাড়া ইচ্ছের রেনু  কল্পনার জগতে খেলতে থাকে নগ্ন রাত | =============== কমল মজুমদার  ১১/জে, পাঠবাড়ি লেন  আড়িয়াদহ, কলকাতা - ৫৭

কবিতা ।। আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়

আলোর অন্তরালে অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় আমি আঁধারে লুকিয়ে রেখেছি। অথচ চারিদিকে আলোর শয্যামালা। রঙিন রাত ক্রমাগত গভীর হয়— যেন ছায়া আরও ঘনিয়ে আসে। আমি অন্য আলোর ভেতর আরও কোন গহীন ভূমি উপত্যকায়। সেখান থেকে কিছুই দৃশ্যমান নয়। এখানে সব আলো মিশে গিয়ে কোথায় যে থেমে যায়। যেমন সব শব্দ শব্দহীন হয়ে নৈ:শব্দে মিশে যায়। এই আলোর প্রজ্জ্বলনের ভেতরেও বোধহয় কোথাও লুকোনো আঁধার— কেউ দেখতে পায় না। অথচ যতবার আলো ছুঁতে চেয়েছি ঠিক ততবার আঁধার স্পর্শ করেছি। তবু মনে হয় এই আঁধারের ভেতর থেকে আলোর জন্মভূমি। আমি এই অনন্ত যাত্রপথের নীরব দর্শক। ================= অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়,  বেহালা, কলকাতা-৭০০০৬০, 

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম আমার আগ্নেয়গিরি আপনি কিনে নিতে পারবেন না শস্যের বাজারে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসি চাটবো শুকনো ঠোঁট তার আগে ঘরের দেয়াল ঘেসে তেতো সূর্য খিকখিক হাসে সব ঋতুকেই আমি দেখতে পারি সমান চোখে তবে কোন একজনের কথা যদি বলতেই হয় তা বর্ষা কেন না ও তোমাকে আমাকে সবাইকে স্নান করিয়ে দেয় একই হাতে একই জলে কিন্তু আমাদের ও বলে না ওক্লাহোমায় নিগ্রো মেয়েটির কনুই ও কপালের রক্ত ও ধুয়ে দিয়ে এসেছে আসি আমার সব রক্ত আর কষ ধুই না আগ্নেয়গিরির পাশে তেল নুন কেনার দরকার ছিল সেটা কিনে থলে ফেলে বেড়াতে বেরোই জানি পাখিরা এবার বোকা কাকতাড়ুয়াটিকে ভোটে পাশ করিয়ে দেবে নির্দিষ্ট কোন বইয়ের প্রতি কোন জায়গার প্রতি কোন টেবিলের প্রতি আমার মোহ নেই কেবল আমি দেখে রাখি আমার আগ্নেয়গিরি হ্যা নিজেই ও বুঝে নিক ওর রক্ত আর আগুন কোথায় রাখবে ও কার কাছে কবিতা চায় অর লগে আমি থাকি কবিতা আমার লগে থাকতে চাইছে এইটা তো আমি ভাবি নাই তারপর কবিতারে আমি পাইছি কবিতারে নিছি নিজের কইরা হ এইটা ঠিক হোয়াইট হাউস আর ক্রেমলিনের মধ্যে মানঅভিমান চলতেছে গরুর মাংসের কিলো ৭০০ টাকা ছাগলের মাংস ১১০০ টাকা দেশি মুরগি ৫০০ টাকা মেয়েমানুষের মাংস কিন্তু অবস্থা...

দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত

দুটি কবিতা ।।  শম্পা সামন্ত মা পোয়াতি মেঘকে মা বলে ভুল করে জাপটে ধরেছি। মেঘ তখন গাভীর মতো বৃষ্টি ঝরালো। স্তনের বোঁটায় মুখ রেখে আমি তখন নিজেই আপাদ মস্তক নদী হয়ে ছলাৎছল পাহাড় ও উপত্যকা পেরিয়ে সমুদ্রগামি হলাম। সোমত্ত সময়এলে দুকুল ছাপিয়ে লাবণ্য তোমার খবর দিতেই স্থান ত্যাগ করল অরণ্যচারী পুষ্পভূক বৃক্ষের আপাদ চলন লক্ষ করে তীর ছুঁড়েছি তীর পাহাড়ের গায়ে আঘাতকরে ফিরে এলো তীর লুটিয়ে পড়ল বুভুক্ষু মাটিতে। স্বার্থপরের যাপন সরিয়ে বিরাগে, বৈভবে সন্ন্যাস বরে বৈকল্যের তপ করেছি। ##  একচক্ষু রাক্ষস হয়ে উঠছ তুমি। তোমার গুনপনা বিস্তারে মনে পড়ছে ধারালো নখ, লকলকে জিভ হায়েনার হাসি। আর বুনো মদের গন্ধে যারা পানশালায়   কীকরে বলব মানুষের  পরিবর্তনের গল্প। খুব কাছেই বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক সার্জারির ডাক্তারখানা। লাল করবী যে সম্পর্কেই থাকো প্রথম আলাপেই ফুলের নাম ধরে ডেকে নিলে। বুঝলাম ফুলকে আমার মতো আদর করো সাগর পেরিয়ে, দেশ পেরিয়ে চোখ বেঁধে ডেকে যাচ্ছ আয় তো আমার লাল করবী! আলাপের সময়গুলো অদ্ভুত ভঙ্গিতে পেরিয়ে স্মৃতির ঘরে বসত করে। সারাটা রাষ্ট্র জুড়ে প্রতিটি হাহাকারের ফাঁকে ফাঁকে গন্ধ ওড়া...

দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন

দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন  ১ এখন মুক্ত বেণীর গঙ্গা জানি যে জড়িয়ে রয়েছে বঙ্গে আমরা বাঙালি বাস করি সেই মুক্ত ধারার সঙ্গে। যদিও এখন বাংলা মায়ের বুক ফেটে ঝরে কান্না তবুও আমরা ঝালমুড়ি ছেড়ে বিরিয়ানি করি রান্না। ঘরের ছেলেরা চলে যায় দূরে দুই চোখ ভরা স্বপ্নে  শটার ট্যাঁকেতে গুঁজে ধমকাই - এখন বাপের নাম নে। উন্নতি নিয়ে ডাংগুলি খেলে ছিঁড়ে চলে গেল ঘুড়িটা নিমেষে কখন হারিয়ে গেল রে টিউশিনি ফেরা ছুড়িটা। ২ শব্দ শব্দের ভেতর দিয়ে রেলগাড়ি চলে যায় যখন তখন নিনাদ হলেই ভয়ংকর শব্দ হবে  এইরূপ কথা থাকে না । কাটা ঘুড়ি গুলি সুতো নিয়ে দৌড়ায় নিজেদের ইচ্ছায় আকাশে, মাটিতে। শব্দ নিয়ে খেলা করে  মন'টাকে ছুঁতে চায় অক্ষম আঙুল শব্দ হয় বড়ো শব্দ হয়। শব্দের ভেতর রেলগাড়ি দৌড়াতে থাকে। ============= সুশান্ত সেন  শরৎ বোস রোড কলিকাতা ৭০০০২০

কবিতা ।। সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম

সময়ের নৌকা আবদুস সালাম সময়ের নৌকায় চেপে আছি,  আদর্শের পালে কারা যেন দিয়েছে ফুটো করে   বিদ্রোহীদের লাশ ইতস্তত ছড়ানো  বস্তির ওপার থেকে ভেসে আসছে আর্তনাদ দেখো পৈশাচিক উল্লাসের নবীনতম সংস্করণ কেমন হয়   শূন্যতার অভিধানে  লেখা কলরব মেশানো যন্ত্রণা  ভেসে চলেছি অজানার স্রোতে   আর্তনাদের পাঠশালায় ওরা  পড়ে  শেখানো হয়  আর্তনাদের অ আ ক খ     নগ্ন বিবেকের আকাশে ভাসে  উদাসীন মিথ্যাচারী অভিমান   সময়ের নৌকায় চেপে আছে ভবিষ্যৎ  ভ্রান্ত দাঁড়ি দাঁড় টানে অসত্যের বাঁকে থেকে থেকে বেজে উঠে অলৌকিক সংগীত   দুঃস্বপ্নের করাতে খন্ডিত হয় সত্যের শব   সময়ের উত্তাপে পুড়ে যায় ভালবাসার উঠোন   ধোঁয়াশা সংকট উঁকি মারে  কষ্টের বারান্দায়  পডছে নষ্ট- ঈশ্বরের ছায়া,   সময়ের নৌকো নোঙর ফ্যালে সংকটের  ঘাটে  ### আবদুস সালাম প্রয়াস শ্রীকান্তবাটি মাদারল্যান্ড  ডাক রঘুনাথগঞ্জ  মুর্শিদাবাদ৭৪২২২৫ 

কবিতা ।। এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত

এই সেই মুহূর্ত  অর্ণব সামন্ত  এই সেই মুহূর্ত যখন খন্ড চাঁদ পুষ্করিনীসমেত উঠে আসে  চালতার ফুলে চানঘাটে আর শিশিরে শিশিরে ভিজে যায় গুহা  অরণ্য অরণ্য সরিয়ে ভানুমতী দ্যাখায় তার খেল আলুথালু  জড়ায় মরালগ্রীবা নিষ্পেষণে নিপীড়নে শাসকের মাথা  চরম স্বাদালু বটে মৌচাকে ঢিল মেরে রসনাটি করে প্রসারিত  বাষ্প হয়ে উড়ে যায় তালরস কুয়াশা কাটে প্রখর দহনতাপে সমুদ্রকে টানে মোহনায় নদীটি , সমুদ্রটিও ভীষণ অসহায়  চর্বনেচোষনেলেহনেপানে উদ্ভাসিত মেদমজ্জামাংসের শরীরে আলো কোষে কোষে ভেজা বারুদের গান সীমান্ত ভাঙার দুরন্ত উল্লাস মিল্কিওয়ে জুড়ে অজস্র নক্ষত্র সমাবেশ ভাঙা ভাঙা আশ্লেষ আদর পুষ্টি তুলে আনে ঠোঁট জোড়ায় গভীর গভীরতর স্বাদে  দিগন্ত ভাঙার গানে হে যুগল এককের গানে যায় ছুটে সোনার হরিণ সম্বল সেই দিনগুলি সোনালী কোলাজে মন্তাজে  তিলক কামোদ হয়ে উড়ে যায় বাগানের প্রজাপতি গোলাপ স্থলপদ্মে  কথা কে জিজ্ঞেস করে তৃপ্ত কথা কি করে মেলালো সে ভৈরবী ইমন পূরবী কি করে পিকাসোর বুকে বসালো রেমব্রান্ট সেজান ভ্যান গগ  কিভাবে উৎসের দিকে ফিরে হয়ে গেল ভীষণ তুমুল অবগাহন...

কবিতা ।। আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী

আবার দেখা হবে প্রণব কুমার চক্রবর্তী  সময়কে কী বন্দী করা যায়? যায় না  আমি তাই সময়কে বন্দী করিনি শুধু কিছুটা মুহূর্ত                      সময়ের সাক্ষী রেখেছি মাত্র হেমন্তের দিনে  গোধূলির সোনা গলা রঙে সন্তানহারা ফসলের ক্ষেতে দাঁড়িয়ে  খুঁজেছি অনেক কিছুই                           কিন্তু, পাইনি কিছুই  শুধু গোধূলি রঙে রাঙিয়ে নেওয়া  ভগ্ন হৃদয়টাকে নিজেই অবাক হয়ে দেখেছি এখনো আশা জেগে আছে মনে  দেখা হবে আবার  সোনালী দিনের আলোতে   হেমন্তের পুত্রহারা মাঠে নতুন আশার আলোতে হয়তো দেখা হবে  ওই দূরের খাল, বিল আর বাওড়ের                                               অসমাপ্ত সীমানায়  মানবতার মোহনাতে .... ================== প্রণব কুমার চক্রবর্তী ৩৭/১, স্বামী শিবানন্দ রোড  চৌধুরী পাড়া  ব...

কবিতা ।। নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান

নীড়হারা পাখি ইকবাল খান বাগানের সব ডাল ফাঁকা, পাতারা নিঃশব্দ, একটি পাখি ডানা মেলে, হাওয়ার সঙ্গে লড়ে। নীড় নেই, আশ্রয় নেই, তবু সে থামে না, প্রতিটি উড়ানে সাহস খোঁজে। ঝড় ভেঙে আসে, আকাশ কাঁপে, তার ক্ষুদ্র শরীর কাঁপে হাওয়ার আঘাতে। তবু পাখিটি ফিরে আসে, ডানায় অদৃশ্য শক্তি, বুকে অল্প আশা। আমি জানালার ধারে দাঁড়িয়ে দেখি, ক্ষুদ্র প্রাণের মধ্যে কত দৃঢ়তা লুকিয়ে থাকে। নীড়হারা হলেও, সে জাগায় আশার আলো। শেষে সে দূরের আকাশে মিলিয়ে যায়, শুধু স্মৃতির মতো রেখে যায় নীরবতা, বেঁচে থাকার অঙ্গীকার, একটি ক্ষুদ্র পৃথিবীতে অদৃশ্য আলো। ************ ইকবাল খান, ** ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ, বিজিবি সদর দপ্তর, পিলখানা, ঢাকা!

কবিতা ।। স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল

স্বরাজ আসেনি আজও    অঞ্জন বল   বিহগ বলাকার মতো ছিল  তাঁর অফুরন্ত মুক্ত আকাশ ,  পরিযায়ী স্বদেশের ডাঙা  নোলকের সাজ আর পালকের জামা।  সে অনেকদিন আগের কথা-  বিচ্ছিন্ন এক বাসভূমি ও শতছিন্ন জনপদ  বসতির চাঁদ যখন অচেতন  নিদালির ঘোরে সেতু পারাপার  দুফসলি ধানজমির খোঁজে   অকুল অতল কালাপানি পার হয়ে আসে  প্রাচীর ঘেরা দ্বীপে , স্বরাজ আসেনি তখন । আর এখন যখন নৈঃশব্দের শীত  আলোয়ান গায়ে ভোর চোখে  দাঁড়ায় এসে প্রতিবেশীর ছাদে  আর উদ্বৃত্ব মানুষের স্রোত  পাথরে খোদাই পঞ্জীয়ন লিপি  বাঙালির ভূগোল খোঁজে-  স্বরাজ আসেনি আজও । যে মাটিতে সে শস্য বোনে  তার ঘ্রান ফসলে জেনেও মাটিতে  আঁশটে মাছের সোঁদা গন্ধ পায় সে , কারণ তাঁর জলজ অতীত মুছে যায়নি  উদ্ভিন্ন যৌবন ফিরে যায়  শৈশবের ঋগবেদে । নদীর বহতা এখন মোহনার বিপরিতগামী  সভ্যতার অপসারি স্রোত , উৎযাপনের মৎসমুখে বিদেহী ফেরারি দেশ  পাছে স্বরাজ চেয়ে বসে  তাই কি পশ্চিমি স্রোত ? কর্কশ উপত্যকা বিভক্ত আকাশ  কাঁচের স্বদেশ ? ----------------------...

কবিতা ।। কার্ফু ।। তপন দাস

কার্ফু তপন দাস বাতিল ঘুড়ি লাটাই ছেঁড়া দখল জমি প্রাচীর ঘেরা বাতাস চিরে গন্ধ খোঁজা  স্বাধীনতাও বুকের বোঝা টপকে পড়ে আকাশ থেকে আর কে তাকে আটকে রাখে! চিনতে গেলে প্যাঁচার চোখে রাত কেঁদেছে দিনের শোকে ঠিক সময়ে দৌড়ে গেলি দখল জমি মুঠোয় পেলি ছিনিয়ে নিলি মুখের গ্রাস বাড়ল ঘৃণা অবিশ্বাস আকাশ জোড়া রোদ বদলের সে-কোন্ বরফ সোডাজলের? দু'এক পাতা দু'এক পাতা  পালটে গেল হিসেব খাতা  আমার শিবির কার্ফু মোড়া  তখন তোমার ক্লান্ত ঘোড়া! ============= তপন দাস  সম্পাদক : এক অতর্কিত ভ্রমণ ছায়াবৃত্ত কাটোয়া নিশানতলা, পাতালপুকুর পাড়  ৭১৩১৩০, পূর্ব বর্ধমান 

কবিতা ।। খবর ।। আবু তাহের

খবর আবু তাহের নতুন কোনো খবর নেই বলো?  আর কতো নতুন খবর চাও বলো!  প্রতিদিন নিজেকে ভাঙতে ভাঙতে আমি উজাড় করে দিয়েছি শুধু ছিবড়েটুকু পড়ে আছে। আমের শাস টুকু খেয়ে ফেলার পরে যেটুকু পড়ে থাকে তাকে ছুড়ে ফেলে দেওয়ায় দস্তুর। তারপর আবার নতুন করে শ্বাসপ্রশ্বাস চালু আর অক্সিজেন চলাফেরা। আবার অঙ্কুরোদগম। সবুজ সবুজ কচি পাতা। তোমার কাছে আমি সেই সবুজ রঙের কচি পাতা চাই।  ============== আবু তাহের (বহরমপুর মুর্শিদাবাদ)

কবিতা ।। শীত ।। লালন চাঁদ

শীত  লালন চাঁদ ঘরের দরজা বন্ধ জানালা বন্ধ  তবু শীত আসে  হাওয়া আসে  বাইরে শিশির ঝরে  কুয়াশায় ঢেকে যায় ভুবন। সারাদিন মেঘলা আকাশ  আবছা আঁধার  শরীর কাঁপে থরথর  ইচ্ছে হয় সারাদিন শুয়ে থাকি বিছানায়। গিন্নি আসে  প্লেটে শীতের মোয়া  আতপের সুগন্ধ পিঠে পুলি ক্ষীর পায়েস  নলেন গুঁড়ের সেই ম ম সুবাস। ভাবি শীত থাক সারা বছর  খাই দাই ঘুরি এখানে ওখানে আড্ডা জমাই  তবু বাড়ি এলে শীতে জমে হৃদয়  বিরক্তি লাগে  না শীত চাই না  তবু মন চায় শীত থাক আরো কিছুদিন। -------------------------------- লালন চাঁদ গ্রাম + পোস্ট = কুমারগঞ্জ। জেলা = দক্ষিণ দিনাজপুর।

কবিতা ।। পুণর্মিলনী ।। বিবেক পাল

পুণর্মিলনী বিবেক পাল হেমন্তর পাতা ঝরা উঠোনে  শীতের আমেজে আয়োজিত বন-ভোজনে  সম্মুখে দাঁড়িয়ে কৈশোর। স্মৃতির অ্যালবামে— শীতের নরম আলোর ফুলকিতে উচ্ছ্বসিত প্রাণ প্রাপ্তির স্বপ্ন সিন্দুক খুলে। হুল্লোড়ের আড়ালে হৃদয়ের অনুসন্ধানে— নিবিড় ভালোবাসা আঁকড়ে ধরে অজান্তে! তখন গীর্জায় মসজিদে মন্দিরে  বেজে ওঠে প্রার্থনার সুর  নিত্য নৈমিত্তিক প্রবাহে। বাতাসে শীতের পরশ ক্লান্তি আর বেদনা মেশে নীড়ে ফেরা পাখির ডানায়। ফিরে যাই আলিঙ্গনে  আগামীতে আবার দেখা হবার প্রতিশ্রুতির আহ্বানে— ব্যথিত চোখের তারায়  একরাশ কুয়াশা— শিশির হয়ে ঝরে হৃদয়ে হৃদয়ে। ------------------------

কবিতা ।। কুয়াশামেঘ ।। মি বুদ্ধুরাম

কুয়াশামেঘ মি বুদ্ধুরাম মনের গভীরে আরও একটা ঘর বেঁধেছি সেখানে একা একা থাকবে তুমি  দেখবে বাইরে কত ঝুটঝামেলা, সকাল হলে দেখবে ভীষণ মনখারাপ কুয়াশামেঘ ঢেকে দিচ্ছে অলিক চাওয়া  তোমার সাথে কথা হবেনা ; হবে শুধু মুখচাওয়া। যেদিন এই বদ্ধঘরে হাঁপিয়ে যাবে দেখতে এসো আমার বাড়ি মায়ের সাথে কথা হবে,বাবার সাথে কথা হবে কুয়াশা কেটে রৌদ্দুর দেখ দিগ্বিদিক... মি বুদ্ধুরাম নদীয়া

কবিতা ।। উৎস-কথা ।। প্রাণেশ পাল

উৎস-কথা  প্রাণেশ পাল  জীবন ও মৃত্যুর উৎস অন্বেষণে পৌঁছে যাই গঙ্গোত্রী হিমবাহে গোমুখের জমাট বরফ শীতল জল  অগ্নিজাত শুদ্ধতায় নব জীবনের গান! পাহাড়ের চড়াই উৎড়াই বেয়ে শুদ্ধ, স্বচ্ছ জলধারায়  বয়ে চলে কর্মব্যস্ত জীবন! সমতলের দূষিত আবর্জনায় দুর্বিষহ জীবন  দুর্নীতি, সন্ত্রাস, উগ্র ধর্মান্ধতা,ধর্ষণ  জীবনের বাঁকে বাঁকে অবরুদ্ধ স্থবির সময় স্থবিরতায় জীবন থেমে থাকে না ! দূষণের পঙ্কিল আবর্জনা সাথে মৃত্যুর উৎস-কথা শুনতে পৌঁছে যাই  বেনারসের মর্ণিকর্ণিকা ঘাটে! মৃত্যুর উৎস-কথা আর শোনা হয় না নদীর উজান বেয়ে উৎস-কথা ভেসে চলে জীবনের উৎস সন্ধানে! ============ প্রাণেশ পাল  আই.টি.আই.দক্ষিণ (পাল হাউস) ওয়ার্ড নং-9.পো.ও জে-কোচবিহার  পিন-736101.

কবিতা ।। 'অ' ভাসাই ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

'অ' ভাসাই  তীর্থঙ্কর সুমিত  যেদিন একটা আঁকড় কেটেছিলাম  প্রথম স্লেটে  মায়ের মুখে 'অ' উচ্চারণে  এনেছিলো দিগন্ত খুশি  আমি ও হেসে স্লেটে হাত ছুঁড়েছিলাম  উপস্থিত সকলে বলে  এখন কালো স্লেটে চক-সাদা রঙের  স্পর্শ পাই না  কাগজ ছিঁড়ে নৌকা ভাসাই না  তাই, অন্ততঃ যাত্রার উচ্চারণে 'অ' ভাসাই কংসাবতীর বুকে... ===========   তীর্থঙ্কর সুমিত  মানকুণ্ডু, হুগলী  পিন - ৭১২১৩৯

পেশাদার ।। সুজিত চক্রবর্তী

পেশাদার  সুজিত চক্রবর্তী   আমার ঘরের পশ্চিম দিকের ব্যালকনিতে   বিকেলের রোদ মিলিয়ে আসার পর   যখন সূর্যদেব ইউরোপের পথে যাত্রা করেন,  দেখা যায় আরব সাগর বৈরাগ্যে রাঙা।  একটু বসলেই তখন কবিতা লেখা যায়।  কিন্তু এখানে বসার যো নেই কারও,   একদন্ড ফুরসত নেই কারও আজ।  তাই কেউ রং-তুলি নিয়ে গেরুয়া আকাশে  বিদেশী বিমান হয়ে উড়তে চায় না আর!   সব জিজ্ঞাসার একটাই উত্তর: সময় নেই।    এমনি করেই ধীরে ধীরে ঢেউ এসে   শহরটাকে ছুঁয়ে যায় প্রতিদিন, উচ্ছ্বাসহীন।  পেশাদার না হলে বেঁচে থাকা মুস্কিল আজকাল!  __________________ সুজিত চক্রবর্তী নবি মুম্বই। মহারাষ্ট্র। 

অসমাপ্তি ।। মহুয়া হুই

অসমাপ্তি মহুয়া হুই বেহেমিয়ান জীবনের ডাকে ঘর ছেড়েছিলাম,  তারপর ঘুরেছি কত উপকথা থেকে রূপকথায়, যুগ থেকে যুগান্তরে। তবুও পাইনি আগুন পাখির  পালক,পাইনি নীলকন্ঠের শিষতান, পাইনি একঝাঁক ডাকাতিয়া রোদ্দুরের মাঝে সেই দুটো ভিজে, নীলাভ, শান্ত চোখ। যার পাতায় অপরাজিতা আর তারায় কনকলতার নীল নঁকশা। যার ইশারায় রডোডেনড্রনের উজ্জ্বল হাতছানি। পাইনি আমি কিছুই, তবুও আজও গন্ধরাজের গন্ধ আর ইমনের সুর যখন স্বর্গ নামিয়ে আনে আমি সন্ধান করি সবুজ নালিঘাসের বনে চপলা ঘাসফড়িং -এর।   ============ মহুয়া হুই গ্রাম+ডাক-খন্যান জেলা-হুগলী  পিন-৭১২১৪৭

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যের কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

তারা খসার আলোয় ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

তারা খসার আলোয়  তীর্থঙ্কর সুমিত  কিছু বলার থেকে  চুপ থাকাটাই শ্রেয় মতামতের পেন্ডুলামে সময় আটকে আছে  ইতিহাসের চোরাস্রোতে  তাই এখনও জোয়ার কিম্বা--- মনে পরে যায় ফেলে আসা অতীত  মুখে-চোখে  বিবর্ণতায় ঢেকে যায় শহর  তোমার কথায় জেগে থাকা রাত  অন্ধকারে মাখামাখি বারুদ এখন! তারা খসার আলোয় নিজেকে দেখি।  ============== তীর্থঙ্কর সুমিত  মানকুণ্ডু, হুগলী  পিন -৭১২১৩৯

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা: জয়তী রায়

এক ভ্রষ্টা নারী ও আদর্শ " অ্যই মেয়ে তোর দাম কত রে ,,,,? "  ক্রসিং এ দাঁড়ানো অটোতে বসে  কথাটা কানে যেতেই মুখ ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েটাকে। সস্তার চুমকি বসানো চড়া সবুজ রঙের শাড়ি পরা , লাল রক্তের মতো রাঙানো ঠোঁট আর সস্তার স্নো পাউডার মাখা মৃত মুখ। স্বপ্নসুন্দরী তিলোত্তমার বিশেষ কিছু এলাকায় পথের ধারে  এমন বেসে অনেক রূপমতিকেই দেখতে পাওয়া যায়। চট করে মনে পড়ে গেল অতীতের কথা ,,,,,,, রূপমতি ওরফে রূপা। হ্যাঁ আজ আমি অনেকের কাছে পরিচিত ' রূপা '। একটা সময় আমারও অস্তিত্ব ছিল এই রাজপথ। খট খট ,,,,,,,,খট খট ,,,,,,,, আজও মনে পড়ে সেদিনের কথা ,,,,,,,,, দরজার জোর শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। " কে ,,,,,,,? কে ওখানে ,,,,,,,,?" ভয় মিশ্রিত গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলে  প্রথম তোমার গলা শুনলাম ,,,,,,, " দরজা খোলো , ভয় নেই কোনো ক্ষতি করবো না ,,,,,,,," কি ছিল সেই গলায় জানি না। মন্ত্রমুগ্ধের মতো দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে তুমি ঢুকে পড়লে ঘরে। উস্কো খুস্কো চুল ক্লান্ত অথচ আগুন ঝরা দুটো চোখ ,,,,,, প্রথম তোমায় দেখলাম।  কেন জানি না দেখা মাত্রই ম...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বছরের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৪তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

  এই সংখ্যায় একটি গ্রন্থ আলোচনা ও একটি ধারাবাহিক রচনা ছাড়া সব লেখাই ভাষা দিবস, মাতৃভাষা, ভাষাচেতনা ও ভাষা সমস্যা বিষয়ক রচনা। লেখাগুলি এই সংখ্যাকে অনেকটাই সমৃদ্ধ করেছে। পড়ুন। শেয়ার করুন। মতামত জানান। লেখকগণ নিজের নিজের লেখার লিঙ্ক শেয়ার করুন যতখুশি, যে মাধ্যমে খুশি। কিন্তু স্ক্রিনশট শেয়ার নৈব নৈব চ!  অন্য বিষয়ের লেখাগুলি আগামী সংখ্যার জন্য রইল।  সকলকে ধন্যবাদ, অভিনন্দন। ভালো থাকুন।   --সম্পাদক, নবপ্রভাত। ==  সূ  চি  প  ত্র  == প্রবন্ধ-নিবন্ধ অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙ্গালীর বাংলা ভাষা দুর্জয় দিবস।। বটু কৃষ্ণ হালদার ভাষা শহীদদের পঁচাত্তর বছর।। অনিন্দ্য পাল একুশে ফেব্রুয়ারি : বাঙালির শ্রেষ্ঠ অশ্রুবিন্দু।। জীবনকুমার সরকার কবিগানের সাহিত্যিক ও সমাজতাত্ত্বিক মূল্য।। বারিদ বরন গুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি।। শ্যামল হুদাতী মায়ের দুধ আর মাতৃভাষা।। প্রদীপ কুমার দে একুশে ফেব্রুয়ারি : কিছু কথা।। বনশ্রী গোপ বাংলায় কথা বাংলায় কাজ।। চন্দন দাশগুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও তার মুক্তির পথ।। মিঠুন মুখার্জী. হে অমর একুশে, তোমায় ভুলিনি, ভুলব না।। মহম্মদ মফিজুল ইসলা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। নবপ্রভাত ৮৫ ।। চৈত্র ১৪৩১ মার্চ ২০২৫

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। মরিয়ম মির্জাখানি: এক অনন্য গণিতসূর্য ।। ... নিবন্ধ ।। নারী দিবসে যা ভাবা উচিত ।। বিশ্বনাথ পাল প্রবন্ধ ।। প্রাচীনকাল থেকে নারীরা অবহেলিত, বঞ্চিত,... নিবন্ধ ।। আমার চোখে আদর্শ নারী ।। জয়শ্রী বন্দ্... ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখ... আফ্রিকার লোককথা ।। করোটিকে বিয়ে করা অবাধ্য মেয়েটি ... ছোটগল্প ।। মানবী ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল নিবন্ধ ।। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম নারী মু... নিবন্ধ ।। প্রিয় মহিলা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী ।। ... গল্প ।। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।। রবীন বসু প্রবন্ধ ।। নিপীড়িতা ।। শ্যামল হুদাতী ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত প্রবন্ধ ।। নারী সমাজ : তখন-এখন ।। তপন মাইতি নিবন্ধ ।। বহমান কালের ধারায় নারী ।। দীপক পাল গল্প ।। আমার দুর্গা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) গল্প ।। যোগ্য জবাব ।। সমীর কুমার দত্ত ছোটগল্প ।। আমি দুর্গাকে দেখেছি।। চন্দন দাশগুপ্ত গল্প ।। সম্পর্ক ।। গৌতম সমাজদার কবিতা।। নারী মানে ।। গোবিন্দ মোদক কবিতা।। নারী ।। সমর আচার্য্য ছড়া ।। নারী অসামান্যা ।। সৌমিত্র মজুমদার কবিতা ।। নারী দিবসে ।। বিবেকানন্দ নস্কর কবিতা ।। না...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যের কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে দীনেশ চ্যাটার্জী যে পথ শরীরে ক্লান্তি আনে, সেই পথেই আত্মা খুঁজে পায় মুক্তি। দিবস ১ — যাত্রার সূচনা মানুষের জীবনে কতকগুলি আকাঙ্ক্ষা থাকে—যাহার ব্যাখ্যা বুদ্ধির দ্বারা মেলে না, তৎসত্ত্বেও হৃদয় তাহার প্রতি অদম্য আকর্ষণ অনুভব করে। কেদারনাথ যাত্রা আমার কাছে তেমনই এক আকাঙ্ক্ষা ছিল। বহুদিন ইচ্ছা ছিল—কখনো পূর্ণ করি নাই। আজ তাহারই প্রথম অধ্যায় আরম্ভ হইল। ভোররাতে ঋষিকেশে পৌঁছিলাম। স্টেশন হইতে বাহির হইবার মাত্রই অনুভব করিলাম—বাতাসে এক গভীর প্রশান্তি। শহুরে কোলাহল, ধুলো, অধৈর্যতার পরিবর্তে এখানে নীরবতা, শীতলতা, আর যেন স্নিগ্ধ তপস্যার আবহ। গঙ্গার তীরে এসে দাঁড়াইলাম। নদী এখানে শুধু জলের স্রোত নহে—সে যেন জীবন্ত ধর্ম; যাহার মধ্যে কালান্তরে সঞ্চিত স্নেহ, পবিত্রতা ও শক্তি। তাঁর জলে ভোরের সূর্যালোক পড়িয়া মৃদু ঝিলিক তুলিতেছিল। মনে হল—মহাশান্ত পৃথিবীর বুকে আমি ক্ষুদ্রমাত্র। বিকেলে লক্ষ্যণঝুলা দেখিবার উদ্দেশ্যে পা বাড়াইলাম। সেতুর ওপর দাঁড়াইলে নিচে গঙ্গার প্রবল স্রোত দেখি—হৃদয় থমকায়ে দাঁড়ায়। সেতুটি হালকা দুলিতে থাকে, কিন্তু ভয়ের পরিবর্তে সেখানে ছিল এক অদ্ভুত আহ্বান—যেন প্রকৃতি বলি...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432