নারী অধিকার ও আজকের প্রবাসন রণেশ রায় কোনও দেশের অর্থনৈতিক সামাজিক অবস্থা, সে দেশের উন্নতি নির্ভর করে ব্যাপক মানুষের সুস্থ সবল জীবন যাপনের জন্য খাদ্য বস্ত্র শিক্ষা স্বাস্থ্য বাসস্থানের মত অপরিহার্য বিষয়গুলি পাওয়ার ওপর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এইগুলো পাওয়ার সুযোগ কতটা যথেষ্ট ও পরিব্যপ্ত হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে দেশে কতটা প্রকৃত উন্নতি ঘটছে। এই মাপকাঠিতে ভারত ও ভারতের অঙ্গ রাজ্যগুলো উন্নত নয় বরং পশ্চাদপদ সন্দেহ নেই। উন্নতি যতটুকু ঘটছে তা মুষ্টিমেয় ধনীকে আরও ধনী করছে আর গরিবদের তুলনামূলক অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে কারন আয় বৈষম্য বেড়ে চলেছে। তাই ওপরের কোন মাপকাঠিতে ভারত উন্নত, সে তরতর করে এগিয়ে চলেছে বলা চলে না। এশিয়া আফ্রিকার দুর্বলতম দেশগুলোর মধ্যে ভারত একটা সন্দেহ নেই সরকারী প্রচার যাই হোক না। সরকারী তরফে জাতীয় আয়ের মাপকাঠিতে উন্নয়নকে বিচার করার একটা প্রবণতা আছে। খাদ্য শিক্ষা স্বাস্থ্য আর তার সঙ্গে বন্টনের বিষয়গুলো তেমন গুরুত্ব পায় না। ফলে অনুন্নয়নের ভয়াভয়তার বিষয়টা প্রতিফলিত হয় না সরকারী প্রচারে। আয় বৃদ্ধির সঙ্গে দাম বৃদ্ধির বিষয়টা গভীরে বিবেচিত হয় না। ফলে দেশের প্রকৃতি আর্থসামাজিক অবস্থাটা ...
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...