Skip to main content

ভ্রমণ ।। হরিদ্বার বদ্রিনাথের পথে ।। গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়

।। ভ্রমণকাহিনি।।


কংক্রিটের ঘেরাটোপে যন্ত্রচালিতের মত নির্বিকার দিনগত পাপক্ষয়। ব্যস্ততার দুরন্ত গতিতে একই কক্ষপথে নিরন্তর আবর্তমান গতানুগতিক প্রাত্যহিকতা। ছকেবাঁধা জীবনসংগ্রামের বৈচিত্র্যহীনতায় বিবর্ণ ভাবনায় গভীর অবসাদের দীর্ঘ ছায়াপাত। চেতনায় বেঁচে থাকার ঝিমমারা অনুভব। একঝলক টাটকা বাতাসের জন্য ক্লিষ্ট প্রাণের হাঁকুপাঁকু ব্যাকুলতা। তবু গড়িয়ে চলে জীবন।

    মনের রুদ্ধদুয়ারে ঠকঠক কড়াঘাত। কে গো তুমি? আমি গো আমি। ভিতরের বাউল-মানুষটা সাড়া দেয়। চলো গো ঘুরে আসি। কোথায়? আরে ওই যে যেখানে ---- যেখানে অচেনা আকাশ। অজানা পথ। অদেখা মানুষ। অননুভূত চারপাশ। যেখানে নিসর্গের কাব্যময়তায় প্রাণে জাগে আপনভােলা আবেগ। অনুভবে চুম্বন এঁকে যায় --- বেঁচে থাকার কতই না সুখ! ওই বাউল মানুষটাকে তখন বড় আপন মনে হয়। হাত বাড়িয়ে তার হাত ধরি। বলি, চলো গো তোমার সাথে ঘুরে আসি আবারো দূরে কোথাও, অনেক দূরে। আজো ওই বাউল-মানুষটাই ভরসা। ওর হাত ধরেই চার-দেওয়ালের বাইরে বেরিয়ে এই জগৎটাকে এখানেওখানে ছুঁয়েছুঁয়ে দেখি। এমনি ছুঁয়েদেখার যে অভিজ্ঞতার কথা এখন বলবো ---- তা' অনেকটাই পুরনো কিন্তু আমার কাছে এতটুকুও ম্লান হয় নি তার অনুভবের জৌলুস।

    যাত্রা শুরুর আগের মুহূর্তেই আনন্দে আঁচড় কাটে বিষাদের কাঁটা! পা বাড়িয়েছি মহানবমীর রাতে। যে উৎসব হৃদয়ের আপনজন, তার বিদায়ক্ষণে প্রাণ তো কাঁদবেই। রাত পোহালেই ঢাকের কাঠিতে বাজবে বিসর্জনের বাজনা। যে বাজনা শুনলে মনে হয় --- একটা বছর! সে তো অনেক সময়!

    ঘড়ির কাঁটার নির্দেশ মেনেই ট্রেন ছুটলো। ছুটে চললো সারা রাত। পরেরদিন সারা দিনমানও কেটে গেল চলন্ত ট্রেনের কামরায়। জানালার ধারে ঠায় বসেবসে দেখি, জানালার ওপারের যা কিছু --- আমাকে দেখা দিয়েই অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে মুহূর্তেই! দৃষ্টিতে আলসেমি লাগে, তবুও দেখায় বিরাম নেই। চোখ ছুঁয়েছুঁয়ে গেল কতই না মাঠঘাট-নদীনালা-সবুজক্ষেত-টিলা-খোয়াই ….। চাকার ঘূর্ণনে একটানা বেজে চললো দশমীর বিষন্নতার আবহ। কত স্টেশন এলো। গেলো। কত মানুষ উঠলো। নামলো। সারাদিন ঝলসে-ঝলসে ক্লান্ত সূর্যটা ক্রমেই ঝিমিয়ে ফিকে হয়ে আসতে লাগলো। তারপর একটুএকটু করে নিভে গেলো দিনটা। সন্ধ্যে নামলো। সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত। সে রাত আরো গভীর হলো। জানালার বাইরে এখন ধূ ধূ অন্ধকার। আচমকাই আঁধারচোখে আলোকিত স্বাদবদল --- ঝড়ের গতিতে ছুটে এসে মুহূর্তের ঝাপটা মেরেই পিছন পানে হারিয়ে গেল কোন একটা অখ্যাত স্টেশন। চেয়ে থাকতেথাকতেই দুচোখের পাতায় যেন আসন পেতে জমিয়ে বসতে চাইলো ঘুম। যতই জমিয়ে বসতে চাক না কেন, ট্রেনের কামরায় কোনোকালেই আমার তেমন জমকালো ঘুম হয় না। তবুও প্রতিবার যা করি --- দেখাই যাক না একবার চেষ্টা করে।

    সকাল হলো। ঝকঝকে সকাল। ট্রেন থামলো। হলুদবোর্ডে কালো রঙে গোটা গোটা হরফে লেখা --- হরিদোয়ার। ট্রেন উজার করে লোক নামলো। সেই সাথে আমরাও।

    স্টেশনে পা রাখতেই চোখের তারায় সবুজ ছায়া ফেলে দৃষ্টি কেড়ে নিল 'শিবালিক'। পাথরের বুকে তার অফুরান ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা উজার করে অভ্যর্থনা জানালো আমাদের। কুয়াশাভরা নরম রোদ ধুয়েদিল দেহমনের বেবাক অবসাদ। একরাশ মিষ্টি বাতাস কোথা থেকে ছুটে এসে জনিয়ে গেল বিজয়ার প্রাণভরা শুভেচ্ছা। অনুভবে কান পেতে শুনি --- বেজে চলেছে কী এক ভালোলাগার অদ্ভুত রিনিঝিনি সুর!

    নতুন জায়গায় প্রথম ভাবনা আশ্রয়। তবে আমরা দিনদুই নিশ্চিন্ত। ব্যাঙ্কের একটি হলিডেহোম আগাম পাকা করেই এসেছি। হলিডেহোমের হদিস পেতেও বিশেষ নাকাল হতে হলো না। জায়গাটার নাম সবজিমন্ডি। জমজমাট এলাকা। দোকান-পসার। গাড়িঘোড়া। লোকজন। তবে কলকাতার মতই পরিচ্ছন্নতা বোধের অভাবটুকু এখানেও বড্ড বেশি চোখে লাগে।

    চা-জলখাবার খেয়ে, খানিক বিশ্রাম নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। উদ্দেশ্য তেমন কোথাও নয় --- নিছকই নতুনজায়গা দেখার তরে পায়েপায়ে পথচলা। পথের দুপাশে রকমারি দোকানের মেলা। হোটেল, লজ, ধরমশালা। চলমান মানুষের সারি। সাদামাটা চোখের দেখায় যেন অতি সাধারণ একটি শহর! কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের এতটুকু চিহ্নও। অথচ মহাকালের রথ যুগ থেকে যুগান্তরের যাত্রাপথে বারবার ছুঁয়ে গেছে এস্থান। হয়তো বা স্থান-মাহাত্ম্যের টানেই। এস্থান তাই অমর হয়ে আছে পুরাণ-আখ্যানের পাতায়পাতায়। মহাকাব্যের কাহিনীতে। ঐতিহাসিক বিবরণীতে। যুগভেদে ভিন্নভিন্ন নামে ডেকেছে মানুষ এইস্থানকে। কপিল, গঙ্গাদ্বার, মায়াপুরী, বক্ষপুরী, হরদ্বার হয়ে হালে হরিদ্বার। বৃহদ্ধর্ম, শিব, স্কন্দ, পদ্মপুরাণ --- এস্থানের আধ্যাত্মিক মহিমাবর্ণনে উচ্ছ্বসিত। বৃহদ্ধর্ম পুরাণ অনুসারে মায়া অর্থাৎ হরিদ্বার সপ্তমোক্ষদায়িকার অন্যতম। "অযোধ্যা, মথুরা মায়া কাশী কাঞ্চী অবন্তিকা/পুরী দ্বারাবতী দৈব সপ্তৈতে মোক্ষদায়িকাঃ।।"

    মহাভারতে রাজা ধৃতরাষ্ট্র বিষয়বাসনা ত্যাগ করে নির্লিপ্ত বার্ধক্যে এখানেই এসেছিলেন বানপ্রস্থে। সঙ্গে ছিলেন মহামতি বিদুর, স্ত্রী গান্ধারী এবং কুন্তী। তীর্থভ্রমণকালে এইস্থানটি দর্শন করেছিলেন জ্যেষ্ঠপাণ্ডব যুধিষ্ঠিরও। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ এই স্থানটিকে উল্লেখ করেছিলেন মায়া-য়া-লো নামে। তাঁর ভ্রমনবৃত্তান্তে স্থানটির আধ্যাত্মিক আবেদনের চিরন্তন স্বরূপটি ফুটে উঠেছে গভীর ব্যঞ্জনায়। মধ্যযুগে আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরীতেও হরিদ্বারের নামোল্লেখ পাওয়া যায়।

    পৌঁছে গেলাম বহুশ্রুত সেই হর-কি-পউরিতে। সামনে তরতর করে বয়ে চলেছে স্বচ্ছসলিলা পুণ্যতোয়া জাহ্নবী। দুইতীরে অবগাহনরত অসংখ্য মানুষ। ধনী-গরীব পাশাপাশি। বামুন-চাড়াল ছোঁয়াছুঁয়ি। ভেদাভেদের বালাই ঘুচে গেছে জাহ্নবীর খরস্রোতে। গঙ্গা-মাইজির কোলে সবার যেন একটাই পরিচয় --- মানুষ। সবাই অমৃতের পুত্রকন্যা।

 


 

    হর-কি-পউরির প্রাণকেন্দ্র ব্রম্মকুণ্ড। ভগীরথবংশীয় রাজা শ্বেত এখানেই তপস্যার দ্বারা ব্রহ্মাকে প্রসন্ন করেন এবং তার দর্শনলাভে সমর্থ হন। সেই থেকেই এইস্থান ব্রম্মকুণ্ড। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে মনে, কে নির্মাণ করলো এই পউরি (যার অর্থ সিঁড়ি)? এই কুণ্ড? কিংবদন্তী বলে --- রাজা বিক্রমাদিত্যের ভাই ভত্তৃহরি এখানে কঠিন তপশ্চারণে অমরত্ব লাভ করেন। ভায়ের অমরত্ব লাভের স্মারক হিসেবেই রাজা বিক্রমাদিত্যের অমরকীর্তি এই পউরি। এই কুণ্ড। জনমানসে চিরায়ত বিশ্বাস --- ব্রম্মকুন্ডের জল অমৃতময়। অবগাহনে ধুয়ে যায় জন্মজন্মান্তরের সব পাপ। কর্মফল। সেই বিশ্বাসেই যুগযুগান্ত ধরে, দূরদূরান্ত থেকে দলেদলে এসেছে মানুষ। অমৃতসলিলে অবগাহন করে পাপশুদ্ধির ভরসা নিয়ে ফিরে গেছে নিশ্চিন্তে।

    প্রয়াগের মতই পূর্ণকুম্ভের গৌরবে মহিমান্বিত হরিদ্বার। প্রতি বারোবছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয় এই পূর্ণকুম্ভ। পৌরাণিক কাহিনীর সূত্র ধরেই পূর্ণকুম্ভের আয়োজন। চিরবৈরিতা সত্ত্বেও একদা সমুদ্রমন্থনে সামিল হয়েছিল দেবতা এবং অসুররা। কথাছিল যা পাওয়া যাবে দুপক্ষের ভাগ হবে আধাআধি। কিন্তু দেববৈদ্য ধন্বন্তরি অমৃতকুম্ভ হাতে উঠে আসার পর দেবতারা অমৃতের ষোলোআনাই নিজেদের করায়ত্ত করতে চাইলো। ইন্দ্রপুত্র জয়ন্ত পিতার নির্দেশে ধন্বন্তরির কাছ থেকে অমৃতকুম্ভ চেয়ে নিয়ে ছুটতে শুরু করলো। কিন্তু ব্যাপারটা অসুরদের দৃষ্টিগোচর হওয়ামাত্রই তারা ধরে ফেললো দেবতাদের মতলব। তারাও সদলবলে জয়ন্তর পিছু নিল। একটানা তিনদিন ছুটতে ছুটতে বেদম হয়ে পড়লো জয়ন্ত। অমৃতকুম্ভ পাশে নামিয়ে রেখে একজায়গায় বিশ্রাম নিতে বসলো। কিন্তু অসুরদের ধেয়ে আসতে দেখে অনতিবিলম্বেই অমৃতকুম্ভ তুলে নিয়ে আবার ছুটতে শুরু করলো। এইভাবে ছুটতেছুটতে তিনদিন অন্ততঅন্তর চার জায়গায় বিশ্রাম নিতে বসেছিল জয়ন্ত। এই চারটি জায়গা --- হরিদ্বার, প্রয়াগ, নাসিক, উজ্জ্বয়িনী। প্রতি তিনবছর অন্তর এই চারটি জায়গায় তাই হয়ে থাকে কুম্ভমেলা। প্রয়াগ এবং হরিদ্বারে অমৃতকুম্ভ থেকে কয়েকফোঁটা অমৃত পতিত হওয়ায় এই দুটিস্থানে বারোবছর অন্তর হয় পূর্ণকুম্ভ।

    গঙ্গার উপরে বেশ কয়েকটি সুরম্য সেতু। যেন দুপারের মাঝে সৌহার্দ্যের বন্ধন। এই সেতুগুলোর উপর নিশ্চুপ দাড়িয়ে থেকে সুরোধুনীর পীতাভ-নীল স্বচ্ছ জলধারায় অপলক চেয়ে থাকা এক অনবদ্য অনুভবের অভিজ্ঞতা। প্রবাহিনীর চলার ছন্দে দোলা লাগে প্রাণে। বিভোরতায় পেয়ে বসে। পাশ কাটিয়ে তখন নিঃসাড়ে চলে যায় সময়।

    হর-কি-পউরি ছাড়াও আরো অনেকগুলো ঘাট প্রায় কাছাকাছি। কুশাবর্ত্ত ঘাট, গৌঘাট, বিষ্ণুঘাট, রামঘাট, সুভাষঘাট। প্রতিটি ঘাটের সাথেই জড়িয়ে আছে পৌরাণিক মাহাত্ম্য, কিংবদন্তী নয়তো কোনো স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব।

    গঙ্গায় স্নান সেরে, সুপ্রসিদ্ধ দাদাবৌদির হোটেলে আহারপর্ব সমাধা করে আমরা চলে গেলাম গঙ্গার অপরপারে। সেখান থেকে অটোয় চেপে সোজা চণ্ডীমন্দির। শহর থেকে ছ'কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মন্দিরটি একেবারে লিল-পর্বতের শীর্ষদেশে। তিনমাইল চড়াই ভেঙে হাঁটা পথে সেখানে পৌঁছানো গেলেও বিজ্ঞানের অগ্রগতির সুবাদে এপথ এখন অনেক সহজ এবং সুগম। রোপওয়ে ট্রলিতে ভাসতে ভাসতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই মন্দিরের নাগাল। শূন্যে ভাসমান চলার পথে মুহূর্তের দেখা ঘন-চিকন সবুজের পাহাড়িয়া-সৌন্দর্য স্মৃতির সম্পদ হয়ে থাকবে বহুদিন। পর্বতের উপর থেকে ভারী সুন্দর লাগে গোটা শহরটাকে। মনে হয় নিখুঁত তুলির টানে ফুটিয়ে তোলা কোনো ল্যান্ডস্কেপ। এইপর্বতের ঢালেই অঞ্জনাদেবীর মন্দির। গৌরীশঙ্কর এবং নীলেশ্বর মহাদেবের মন্দির। মন্দিরগুলো ঘন জঙ্গলাকীর্ণ। সেই জঙ্গলে নাকি চিতাদের অবাধ বিচরণ। তাহোক! ভক্তের প্রাণে ভয় তুচ্ছ। ভক্তিকে ভরসা করে তাই অনায়াসেই দর্শন করে আসা যায় মন্দিরগুলো।

    চণ্ডীমন্দির থেকে আবার হর-কি-পউরি। হাতে অনেকটা সময়। ভাবলাম একটা চক্কর দিয়ে আসলে কেমন হয়! আবার অটোয় সওয়ার হলাম। পশুপতিনাথের স্মৃতি বিজড়িত শ্রবণনাথের মন্দির। নাথ সম্প্রদায়ের গোরক্ষনাথ মন্দির। গীতাভবন। শান্তিকুঞ্জ। মায়াদেবীর মন্দির। দেখতে দেখতে দিনকাবার। হর-কি-পউরিতে যখন ফিরে এলাম তখন সুরনদীর স্রোতধারায় সায়াহ্নের মায়াবী রঙ লেগেছে।

    এখানে আসার অনেক আগে থেকেই শুনে আসছি --- হর-কি-পউরিতে গঙ্গা-আরতির দৃশ্য নাকি অসাধারণ। কানে শোনা সেই অসাধারণ দৃশ্যটি চোখের দেখায় যেন স্বর্গীয় মনে হোল। মন্দিরেমন্দিরে ঘণ্টার ধ্বনি। বন্দনাগীত। ধুপ-ধুনার ম ম গন্ধ। গঙ্গারবুকে অজস্র আরত্রিক প্রদীপশিখার বিম্বিত বর্ণচ্ছটা। সবমিলিয়ে এক অদ্ভুত ভাবগম্ভীর পরিবেশ। মন তখন সমস্ত জাগতিক আবিলতা খসিয়ে ফেলে এক স্নিগ্ধ পবিত্রতার আলোকে উদ্ভাসিত হয়ে উঠতে চায়।

 


 

    হরিদ্বার শহরের আরেক আকর্ষণ মনসা মন্দির। হর-কি-পউরি থেকে শিবালিক শিখরস্থিত এই মন্দিরটি এমনভাবে নজর কাড়ে যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। সে ডাকে সাড়া না দিয়ে যেন উপায় নেই। মনসা মন্দিরে যাবার দুটি পথ। একটা পাকা সিঁড়ি বেয়ে, অন্যটি পাকদন্ডীর পথ ভেঙে। হাঁটাহাঁটি যাদের নাপছন্দ তাদের ভরসা রোপওয়ে ট্রলি। অবিরাম উঠছে আর মন্দিরের বুড়ি ছুঁয়ে নামছে। তবে হাঁটাপথে মজা বেশি। দুপাশে গহন সবুজের অপরূপ বাহার। নিরিবিলি পথে রোদছায়ার আলপনা। পাখির কলতান। জংলা গন্ধ। চড়াই ভাঙার কষ্টটুকু যেন গায়েই লাগে না।

    মন্দিরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মনসা। ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন বলেই তিনি মনসা। দূর্গার প্রতিরূপ। দেবী ত্রি-আননা।

    পরেরদিন মনসা মন্দির দর্শন সেরে চলে গেলাম কনখল। হরিদ্বার থেকে মাত্র দুমাইল। এখানে পতিব্রতা সতীর আত্মাহুতির বেদনার্ত কাহিনী অমর হয়ে আছে কালের বুকে। সতীকুন্ডের অনলশিখা আজো অনির্বাণ। কনখলে দর্শনীয় স্থান বলতে সতীকুন্ড, সতীঘাট, দক্ষেশ্বরের মন্দির, নির্মল সন্তপুরা, আনন্দময়ী আশ্রম, অবধূত মন্ডল। অটোয় চুক্তি করে নিলে ঘণ্টা চার পাঁচেকের মধ্যেই সব ঘুরে দেখে নেওয়া যায়।

    ঠিক ছিল পরেরদিন চলে যাব হৃষিকেশে। হরিদ্বার-হৃষিকেশ-দেরাদুন-মুসৌরি। মোটামুটি এইছিল এবারকার সফরসূচি। কিন্তু ঘটনা ঘটলো অন্যরকম। বোধহয় এইরকমই ঘটে থাকে। আর ঘটে বলেই জীবন-মাঝারে এত বিস্ময়! এত বৈচিত্র্য! যিনি অতর্কিতে এমন ঘটালেন তার সাথে কয়েকমুহূর্তের আলাপচারিতায় পরিচয় হয়েছিল কোনো একসময়ে। প্রতিদিনকার জীবনে কত মুখেরই তো আনাগোনা! সেইসব অজস্র মুখের মিছিলে কবেই হারিয়ে গিয়েছিল ওই মানুষটার মুখও। তাই যখন মানুষটা জানতে চায় --- আপনাকে কোথায় দেখেছি বলুনতো? আমি নির্দ্বিধায় বলি, "আমি কিন্তু আপনাকে কখনো দেখিনি।" মানুষটা চিন্তান্বিত গলায় বলে, "উঁহু, নির্ঘাত কোথাও না কোথাও দেখেছি…" নিঝুম হয়ে মানুষটা ভাবে কিছুক্ষণ। তারপর সহসা বলে ওঠে, "মনে পড়েছে, ভূত বাংলোর ছাদে …. শিমুলতলায় …. অনেকদিন আগেরকথা …."

    স্মৃতির উপর থেকে ধূসর আস্তরণটা সরে যায়। একটুএকটু করে মনে করতে পারি যেন।

    "হ্যাঁ হ্যাঁ, ঠিক ঠিক। আপনার সঙ্গে আপনার স্ত্রী ছিল। আর একটা ছোট্ট বাচ্চা …"

    জমে গেলাম কথায়। একথা সেকথা কতকথা! একসময় এসে পড়লো এবারের ভ্রমণপ্রসঙ্গ।

    "সে কী মশাই, হরিদ্বারে এসেও কেদার-বদ্রী যাবেন না? বলেন কী? এই তো আমরা ঘুরে আসলাম।"

    বললাম, "আগেথেকে ঠিক করে আসি নি। হাতে সময়ও কম। সঙ্গে বয়স্ক মানুষও রয়েছেন দু-একজন।"

    মানুষটা উড়িয়ে দেবার মত করে বললো, "ওগুলো কোনো ধর্তব্যের মধ্যেই আসে না। কেদার-বদ্রি ঘুরে আসতে বড়জোর তিন-চার দিন সময় লাগবে। তারপরেও আপনি মুসৌরি-দেরাদুন ঘুরে নিতে পারবেন। দেরাদুনে দেখার তো ওই সহস্রধারা। আর মুসৌরিতে তো সৃষ্টিছাড়া খরচ! মাছভাত বাদ দিন, সব্জিভাতের একটা মিলের দাম শুনলেও তড়াক করে লাফিয়ে উঠতে হবে। যেমনতেমন একটা লজে থাকার খরচও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে বলতেই হবে, জায়গাটা অসাধারণ। তবে ওখানে না থেকে দিনেদিনে ঘুরে আসাই ভালো। যা বলছিলাম --- কেদার যদি না-ও যেতে পারেন বদ্রিটা ঘুরে আসুন।"

    প্রস্তাবটা মনে দাগ কাটলো। সাথীদের জানালাম। সানন্দে সায় দিল সবাই। তবু স্মরণ করিয়ে দিলাম --- ঠান্ডা কিন্তু মাইনাসে। ওদের ভাব কুচপরোয়া নেহি! তবে আর বেরিয়ে পড়তে বাঁধা কোথায়? প্রবীণেরা বলেন -- তীর্থে না টানলে নাকি যাওয়া যায় না! বোধহয় একেই বলে সেই টান।

    খোঁজখবর নিয়ে জানা গেল, গাড়োয়াল বিকাশ নিগমের বাস সোজা চলে যাচ্ছে বদ্রিনাথ। বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির অল্পসিটের ছোটছোট বাসেও যাওয়া যেতে পারে। আর আছে নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী ভাড়া করে যাওয়ার জন্য বিভিন্নরকমের যানবাহন। আমরা সেরকমই একটাকে কথা বলে ঠিক করলাম। যদিও দক্ষিণাটা ঈষৎ বেশি --- টেনেটুনে কোনোভাবেই তাকে সাধ্যের পরিসীমার মধ্যে বিবেচনা করা সম্ভব নয়! শুধু কী তাই --  পথে টোল-ট্যাক্সের যত দায় সব নিজেদেরকেই নিতে হবে। স্বভাবতই খরচে খচখচ করে ওঠে মন! মধ্যবিত্তের স্বভাবদোষ আর যাবে কোথায়? ভিতরের বাউল-মানুষটা মুচকিমুচকি হাসে। কৌতুকে বেজে উঠে বলে, "ওহে বাপু, নিক্তিমাপা নৈমিত্তিক জীবনের বাইরে এসে এমন বেহিসেবি হওয়াটাই ভ্রমণের অন্য এক আনন্দ! মুঠো খোলো হে মুঠো খোলো।"

    পরেরদিন সকাল নটা নাগাদ আমাদের গাড়ি ছুটলো বদ্রীনাথের পথে। হরিদ্বার থেকে বদ্রিনাথ তিনশো-বাইশ কিলোমিটার। উচ্চতা ১০৪০০ ফুট। হৃষিকেশ ছুঁতেই হিমালয়ের মুখোমুখি। যেন চোখের সামনে কোনো মৌনমূর্তি প্রকান্ড সুন্দরের আত্মপ্রকাশ ঘটলো। হিমালয় যেন এখানে গড়িয়ে এসে হারিয়ে ফেলেছে নিজেকে। চোখে ঘোর লাগে। দেখার সেই মুগ্ধতা কাটতে না কাটতেই দেখি আমার চারপাশে শুধুই হিমালয় আর হিমালয়! উদ্ধত। সুগম্ভীর। আহা! কী সুন্দর ওই অভ্রংলিহ হিমালয়কে পরম মমতায় জড়িয়ে থাকা শ্যামলিমা নিসর্গের অপরূপ প্রাণোচ্ছ্বাস! যেন সবুজে-সবুজে নিজেকে বিছিয়ে দিয়েছে স্বয়ং নগাধিরাজের সম্পূর্ণতা জুড়ে। পাহাড়-সবুজের বিহ্বলকরা অমন সৌন্দর্যকে দৃষ্টির গভীরতায় আরো নিবিড় করে আনতে বিভোর হয়ে উঠলো মন!

 


 

    দুর্গম হিমালয়ের বুকে পিচঢালা পথ। কালের বুকে হালের গৌরব! চোখে বিস্ময় লাগে। মানুষের অসাধ্যসাধনের কীর্তিতে স্ফীত হয়ে ওঠে বুক। পাশাপাশি মনেরমাঝে কোথাও যেন খচখচ করে। এপথ তো সে পথ নয়! যে পথে ধর্মেরটানে কৃচ্ছ্যসাধ্য পদযাত্রায় যুগে যুগে সামিল হয়েছে কত সহস্র তীর্থকামি মানুষ! কত রক্ত ঝরেছে। প্রাণ নিঁভেছে। তবু ভক্তি টলে নি এতটুকুও। ভক্তপ্রাণের সর্বকালীন বিশ্বাস --- এপথ ধরেই মোক্ষের সন্ধান। তাই সকল বিঘ্ন তুচ্ছ করে দুরত্যয় পথ ভেঙেছে মানুষ। কিন্তু আজ আর কোথায় সেই মহাপ্রস্থানের প্রাচীন পথচিহ্ন! ঢেকে গেছে ঘন জঙ্গলে। এপথ তার আধুনিক সংস্করণ! যার উপর দিয়ে ঝাঁ-চকচক চক্রযানের অহরহ মসৃণ আনাগোনা। যুগান্তরে পথ বদলেছে মানুষ। দুটি পা-কে ছুটি দিয়ে আজ নিশ্চিন্তে কণ্ঠলগ্ন যন্ত্রসভ্যতার। কিন্তু প্রাগৈতিহাসিক হিমালয়? বদলায় নি এতটুকুও। তেমনি অনাহত তার রঙ-রূপ-গন্ধের বিচিত্র সম্ভার। তাই আজো টেনে আনে মানুষকে। পাগল করে। বিহ্বল করে। বিভোর করে।

    গাড়ি এসে থামলো বেয়াসিতে। চোখ জুড়িয়ে গেল। হিমালয়ের পেলব সবুজে সোনালীরোদের ঝলমলে সোহাগ। আকাশের নীলসাগরে অলস ভাসমান শ্বেতহংস মেঘের দল। হিমালয়ের কানেকানে চুপিচুপি কি যেন বলে যায় তারা গোপনকথা। ভারী মনোরম স্থানটি। চারদিক অদ্ভুত শান্ত। নিরালা। শুধু আত্মভোলা বাতাস কী যেন সুর ভাঁজে আপনমনে। সহসা দুটিচোখ ওই আকাশ-পাহাড়-সবুজের মাঝে যেথাখুশি হারিয়ে যাওয়ার বাসনায় চঞ্চল হয়ে ওঠে!

    গরম চায়ে গলা ভিজিয়ে আবার চলা শুরু। দেখতেদেখতে চলা। একপাশে পাহাড়ি অরণ্য। অন্যপাশে গভীর খাদ। সমতলের মত মোটেও সরলসোজা নয় এপথের রকমসকম। একটার পর একটা টার্নিং। প্রতিটি টার্নিংয়ের পাশে পাথরের বুকে লেখা হুঁশিয়ারি --- ব্লো হর্ন। শুনশান পথ। দু-একজন মানুষ। স্থানেস্থানে পথজুড়ে বসে থাকা হনুমানের দল। মাঝেমাঝে বিপরীত দিক থেকে আসা হঠাৎ কোনো গাড়ির মন্থর পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়া।

    দেবপ্রয়াগে আবার যাত্রাবিরতি। হৃষিকেশ থেকে যার দূরত্ব সত্তর কিলোমিটার। প্রয়াগ অর্থে সঙ্গম। এখানে ভাগীরথী মিলেছে অলকনন্দার সাথে। দুয়ের মিলিজুলি রূপ গঙ্গা। নেমে এসেছে হরিদ্বারে। এই দেবপ্রয়াগেই রাবণবধের কারণে ব্রহ্মহত্যার পাপস্খলনের উদ্দেশ্যে তপস্যা করেছিলেন  শ্রীরামচন্দ্র। বহুপ্রাচীন এখানকার রামচন্দ্রের মন্দিরটি।

    সকালে তাড়া থাকায় সামান্য কিছু মুখে দিয়েই বেরিয়ে পড়তে হয়েছিল। এখন শূন্যউদরের  অগ্নিজ্বালায় যেন ঝালাপালা হয়ে উঠলাম। দ্বিপ্রাহরিক আহারপর্বটা তাই এখানেই সেরে নিতে হলো। দেবলোকের গোটাপথে আমিষ নিষিদ্ধ। নিরামিষ সবজিভাতও মোটেও উপাদেয় নয়। তবু খিদের মুখে সবই অমৃত।

    লতার মত পাহাড় পেঁচিয়ে উঠেগেছে পথ। সেপথ এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে। মাঝেমাঝে ছোটছোট সেতুতে পাহাড়েপাহাড়ে মেলবন্ধন। আমাদের পাশেপাশে কলস্বনা অলকনন্দা। উপলখণ্ডের সাথে সুতীব্র অভিঘাতে তার সফেদ ফেনা টুকরোটুকরো হয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে অজস্র মুক্তোরাশি। দৃষ্টির সীমানাজুড়ে কেবল পাহাড় আর পাহাড়। বিচিত্র আকারে। বিন্যাসে। বর্ণসুষমায়। কোনোটা ঢাল। কোনোটা খাঁড়াই। কোনোটা সবুজ মখমলে ঢাকা -- যেন চাবাগানের উদ্ভিন্নযৌবনার কোমল লাবণ্যময়তায় উদ্ভাসিত। কোনোটা আবার পাথরকাটা মেহনতি শ্রমিকের কঠিন মুখাবয়বের মত রুক্ষ। কর্কশ। হিমালয়ের এই বর্ণাঢ্য বৈচিত্র্যের ছোঁয়ায় মনের মগ্ন আবেশে জেগে ওঠে এক অনন্ত সুন্দরের অপার্থিব অনুভব। হিমালয়ের পথে এটাই বুঝি সবথেকে বড় পাওনা। শুনেছি মোক্ষের বাসনায় নাকি তীর্থের পথ ভাঙে মানুষ। সেই মোক্ষ কে কবে কোথায় পেয়েছে --- আমার জানা নেই। হিমালয়ের পথে যেতেযেতে, দুচোখ ভরে দেখতেদেখতে বারবার মনে হয়েছে, যদি কোথাও সেই মোক্ষ থেকে থাকে তবে তা' বুঝি পাওয়া যাবে এপথেরই দুপাশে, যা কিছু আঁক কেটে যায় দর্শনে-চিন্তায়-অনুভবে -- তারই মাঝে কোথাও কোনোখানে! কবির ভাষায় বললে --- "পথের প্রান্তে আমার তীর্থ নয়,/পথের দুধারে আছে মোর দেবালয়।"

    আরো পয়ঁত্রিশ কিলোমিটার পথ উজিয়ে গাড়োয়াল-শ্রীনগর। প্রশান্ত-গম্ভীর পাহাড়-প্রকৃতি ভোল পাল্টে হঠাৎই মেতে উঠলো ভিড়ের হট্টগোলে। তাজ্জব বনতে হলো দু-হাজার ফুট উচ্চে পাহাড় অধিত্যকায় এমন একটি নিটোল প্রাণবন্ত শহর দেখে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস-আদালত, হাসপাতাল --- কী নেই এখানে! ভিড়ঠাসা শহরের লোকজন, গাড়িঘোড়া কাটিয়ে কাটিয়ে দক্ষ ফরোয়ার্ডের মত আমাদের গাড়িটা একসময় পেরিয়ে এল শহরটাকে। সভ্যতার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে আপনস্বরূপে আবার নিজেকে মেলে ধরলো হিমালয়। পাশেপাশে ছায়াসঙ্গিনী চঞ্চলা অলকনন্দা।


    চলতেচলতেই কানে এসে বাজে চপলা নির্ঝরের চকিত সঙ্গীত। চেয়ে দেখি, পাহাড় থেকে হামাগুড়ি দিয়ে নেমে, পথ ভিজিয়ে, ঝাঁপ দিয়েছে পাশের খাদে। হঠাৎ থমকে গেল গাড়ির গতি। কী ব্যাপার, না সামনে মেষবাহিনীর লম্বা মিছিল! হর্ন শুনে বিরক্তি বোধ করে। তবু পথ ছেড়ে দেয়। কাঠেরবোঝা পিঠে নিয়ে ন্যুব্জ দেহে ছন্দের তালেতালে এগিয়ে চলে গাড়োয়ালি স্ত্রী-পুরুষ। অদূরের পাহাড়ে প্রাণময় জীবনের টুকরোটুকরো ছবি। ছোটছোট গ্রাম। ধাপচাষ। ফসলের ক্ষেত। সহজ-সরল মুখ। সেইমুখে কঠিন জীবনসংগ্রামে বেঁচে থাকার সফল হাসি।

    "চা পিয়েগা?" ড্রাইভার শর্মাজির প্রস্তাবে এককথায় রাজি। মন্দ কী!

    "হিঁয়াপর বহুত আচ্ছা চা মিলেগা।" বলেই গাড়িটা ঘ্যাঁচ করে রূখে দিল শর্মাজি।

    একেবারে ফাঁকা জায়গায়, রাস্তার ধারে ছোট্ট নিঃসঙ্গ চায়ের দোকান। দোকানের পাশে গাছের ছায়ায় গুটিকতক চেয়ারটেবিল পাতা। লোকজন নেই। একপাশে পাহাড়ের ঢালে বেশকিছু ঘরবাড়ি। অন্যপাশে অনেকদূরে নীলআকাশের গোটা অঙ্গনজুড়ে ঢেউ তুলেছে পর্বতশ্রেণী। চারপাশে অকৃপণ সবুজের সমারোহ। দারুণ জায়গা। শর্মাজিকে মনেমনে ধন্যবাদ জানালাম।

    কী নাম স্থানটির? গুলাবরাই। উসখুস করে ওঠে স্মৃতি। নামটা যেন কোথায় শুনেছিলাম … কোথায় শুনেছিলাম …!! মনে পড়েছে। শুনি নি, পড়েছিলাম --- জিম করবেটের রচনায়। এই সেই গুলাবরাই? যেন বিশ্বাস হয় না -- এই সেই গুলাবরাই, যেখানে এক ভয়ানক নরখাদক চিতার অন্তিম পরিণতি ইতিহাস হয়ে আছে কালেরবুকে।। ১৯১৮ থেকে ১৯২৬। রুদ্রপ্রয়াগের জনজীবনে দুরাত্মা নরখাদকটি ছিল এক দুর্ধর্ষ বিভীষিকা। যার উৎপাতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছিল গোটা অঞ্চলের মানুষ। কেড়ে নিয়েছিল রাতের ঘুম। শিকার হয়েছিল একশো-পঁচিশটা প্রাণ। অবশেষে সন্ত্রস্ত কালযাপনের অবসান ঘটে একদিন। আতঙ্কিত মানুষ হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। দিনটা ছিল, ১৯২৬-এর পয়লা মে। করবেট-সাহেবের মাত্র একটি গুলিতেই ভবলীলা সাঙ্গ হয়েছিল ভয়ঙ্কর সেই নরঘাতকের। সেই কবেকার কথা! কতবছর কেটে গেছে তারপর! কিন্তু এখনো এদিগরের মানুষজন কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে করবেট-সাহেবের নাম।

    পাহাড়ের জঙ্গলে আজো আছে চিতার দল। তবে তারা নরখাদক নয়। মাঝেমধ্যে নেমে আসে। পথেঘাটেও তাদের ঘুরে বেড়াতে দেখে কেউকেউ। কখনোসখনো দুএকটা ছাগল-বাছুর মারে। আবার ফিরে যায়।

    গুলাবরাই থেকে সামান্য পথ রুদ্রপ্রয়াগ। গাড়োয়াল-শ্রীনগর থেকে যার দূরত্ব চৌত্রিশ কিলোমিটার। আর হৃষিকেশ থেকে একশো ঊনচল্লিশ কিলোমিটার। উচ্চতা ছ'শ দশ মিটার। এখানে অলকনন্দার বুকে হারিয়ে গেছে মন্দাকিনী। রুদ্রনাথের প্রাচীন মন্দিরটিও এখানকার অন্যতম দ্রষ্টব্য।

    পঞ্চপ্রয়াগের অন্যতম কর্ণপ্রয়াগ। রুদ্রপ্ৰয়াগ থেকে মাত্র একত্রিশ কিলোমিটার। কর্ণপ্রয়াগে পিনারি হিমবাহ থেকে উৎসারিত পিন্ডারগঙ্গা একাত্ম হয়েছে অলকনন্দার সাথে। এখানে অলকনন্দা সগর্জনে রুদ্ররূপিনী। কর্ণপ্রয়াগ ছাড়িয়ে এগিয়ে চললাম আরো সামনে। অপরাহ্নের নিরুত্তাপ আলোয় যেন বিধুর রং লেগেছে পাহাড়িয়া নিসর্গে। সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে অপরাহ্ন। সময় থেকে সময়ান্তরে দিনের ঘন ঘন রংবদল। সেই রঙে নিজেকে রাঙিয়ে ক্ষণেক্ষণে রূপান্তরে অপরূপ হয়ে ওঠে হিমালয়।

 


 

    যান্ত্রিক আর্তনাদ তুলে হঠাৎই স্তব্ধ হয়ে গেল আমাদের গাড়িটা।

    --- কী ব্যাপার?

    একহাত জিব বার করে বসলো ড্রাইভার শর্মাজি।

    --- টায়ার পাংচার হো গিয়া।

    --- সর্বনাশ! সন্ধ্যে যে হয় হয়! তারউপর একেবারে পথের মাঝখানে! চারপাশেও তো দেখছি জনবসতির চিহ্নমাত্র নেই! যেতেও  তো হবে আরো অনেকটা পথ ...

    আমার এহেন ভাবনার মাঝেই শর্মাজি তার মাতৃভাষায় আশ্বস্ত করলো। যার বাংলা তর্জমা --- " ভগবানের কাছে যাবার এপথে ভয় পাবার কিছু নেই। চোরডাকাত এপথ মাড়ায় না। জঙ্গলে বাঘ আছে বটে। মানুষ তাকে ভয় খেলেও সে খামোকা মানুষকে ভয় দেখায় না …."

    না দেখালেই ভালো। মনেমনে ভাবলাম।

   শর্মাজি আবার বললো, "আপনারা বরং এক কাজ করুন, নির্ভয়ে হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে যান। খুব ভালো লাগবে। আমি টায়ার বদলে আপনাদের ধরে নেব।"

    আর সকলে উৎসাহ না দেখালেও প্রস্তাবটা মনে ধরলো আমার।

    সূর্য তখন অস্তাচলে। একটা মস্ত বড় লাল টুকটুকে বল যেন মন্থর গড়িয়ে নামছে পর্বতের ঢাল বেয়ে। মুঠোমুঠো লাল আবির ছড়িয়ে দিয়ে কে যেন রাঙিয়ে দিয়েছে পশ্চিমাকাশ। ঠিকরে পড়া রক্তিমাভায় হিমালয়কে মনে হলো -- ঠিক যেন কোনো এক রক্তবসন ধ্যানমৌন যোগী। অরণ্যের গহনেও শুরু হয়েছে রাত্রির আয়োজন। বেজে উঠেছে নৈশ-কনসার্টের একটানা সুর। প্রকৃতির বিষন্নতায় দিনান্তের বেদনা। বিচ্ছেদকাতর দিবস আসন্ন সন্ধ্যার কাছে রেখে যাবে তার আজিকার শেষ নিবেদনটুকু --- "হে মোর সন্ধ্যা যাহা কিছু ছিল সাথে/ রাখি তোমার অঞ্চলতলে ঢাকি।"

    হাঁটতে হাঁটতে কখন দাড়িয়ে গিয়েছিলাম জানিনা। হঠাৎ শুনি শর্মাজির গলা -- "উঠিয়ে।"

    নন্দপ্রয়াগ পেরিয়ে পিপুলকোটিতে যখন পৌঁছালাম তখন এই পাহাড়দেশে একপ্রহর রাত। এখানেই রাত্রিবাস। শর্মাজি জানিয়ে দিয়েছে, কাল দিনের আলো ফোটার আগেই আবার বেরিয়ে পড়তে হবে। বদ্রিনাথ এখান থেকে আরো ঊনআশি কিলোমিটার। সে রাতে কালিকমলি ধরমশালায় থাকার ব্যবস্থা হলো। শর্মাজি নিজেই উপযাচক হয়ে সব বন্দোবস্ত করে দিল। শুধু তাই নয়, কোন হোটেলের খাবার "মন্দের ভালো" --- সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে দেখিয়েও দিল। যাওয়ার আগে আবার বলে গেল, "ভোর চারটের আগে রেডি হয়ে থাকবেন। আমি এসে ডেকে নিয়ে যাব।" মুগ্ধ হলাম মানুষটার নিখাদ আন্তরিকতায়।

    পরেরদিন আবার যখন রওনা দিলাম রাত তখনো চরাচরের কোলে গভীর ঘুমে অচেতন। পিপুলকোটিতেই বেশ ঠান্ডা পেয়েছিলাম, এখন যতই এগোতে লাগলাম ততই "হি-হি" তীব্র হতে লাগলো।

    পুবেরআকাশে আঁকিবুকি কাটে দিনের রং। তরল হয়ে ঝরে পড়ে বিভাবরী। অস্ফুট আলোয় আবছা ধরা দেয় তরঙ্গায়িত পর্বতরেখা। একসময়ে রাত মুছে ঝিকমিকিয়ে ওঠে নতুনদিনের ঝকঝকে আলো।  সেই আলোকের কোমল আভায় সদ্যস্নাতা পূজারিনির পবিত্রতায় মূর্ত হয়ে ওঠে পর্বতশোভিতা অপরূপা বসুন্ধরা। জেগে ওঠে আকাশস্পর্শী ভয়ঙ্কর সুন্দর হিমালয়। পাশের গভীর খাদে চেয়ে থাকা যায় না। রক্ত যেন হিম হয়ে আসে।

    সূর্যের প্রথম কিরণ চুম্বন এঁকে যায় উত্তুঙ্গ তুষারশৃঙ্গে। ঝিকমিকিয়ে ওঠে নন্দাদেবীর তুষারশৃঙ্গ। নীলকন্ঠের গা বেয়ে নামে গলানো রূপো। অনেক নীচে নিঃসীম নীরবতাকে রোমাঞ্চিত করে ছুটে চলে অলকনন্দা। এখানে নদীর রোষান্বিত আত্মপ্রকাশ! যেমন উত্তাল গর্জন, তেমনি দুর্বার গতি! একঝলক নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলেই বুক যেন শুকিয়ে আসে! চারপাশের শান্ত-সমাহিত নিসর্গ কী অদ্ভুত মায়াবী! প্রকৃতির রঙ-রূপ-ধ্বনির এমন অনিন্দ্যসুন্দর ব্যঞ্জনা যেন দুচোখের অনুভবে এক অপার্থিব বিস্ময়! চিত্ত বিহ্বল হয়। কিন্তু যা দেখি তাকে যে ভাষায় ব্যক্ত করি --- এমন সাধ্য কোথায়?

    চমৎকৃত চেতনায় তখন সময়ের, পথের কোনো সাড়া ছিল না! তাই টেরও পাই নি, পেরিয়ে এসেছি আরো একত্রিশ কিলোমিটার পথ। গাড়ি থামলো যোশীমঠে। উচ্চতা প্রায় ৬২০০ ফুট। শোনা যায় --- এখানে বহুবছর আগে কল্পবৃক্ষতলে গভীর তপস্যায় সিদ্ধি লাভ করেছিলেন অদিগুরু শঙ্করাচার্য। এটিই তার প্রতিষ্ঠিত প্রথম মঠ। শীতকালে মূলমন্দির তুষারপাতের কারণে বন্ধ হয়ে গেলে এখানেই পূজিত হন বদ্রিনাথ। থাকার সুব্যবস্থা থাকায় এখানেও অনেকে রাত্রিবাস করে।

    যোশিমঠ ছাড়িয়ে আরো দশ কিলোমিটার এগোলে বিষ্ণুপ্রয়াগ। এখানে ধৌলিগঙ্গাকে বুকে টেনে নিয়েছে অলকনন্দা। উন্মত্ত অলকনন্দা এখানে আরো বেপরোয়া। আরো ভীষণ-ভয়ানক। বিষ্ণুপ্রয়াগের পর পান্ডুকেশর। জনশ্রুতি --- জীবনের শেষ ক'টাদিন এখানেই অতিবাহিত করেছিলেন রাজা পান্ডু। পাণ্ডবদের স্বর্গযাত্রাও নাকি এখানথেকেই।

    বদ্রিযাত্রার শেষপথটুকু চড়াই-উৎরাইয়ের বেশ দাপট। গাড়ি একবার ওঠে। আবার নামে। আবার ওঠে। মনে হয় --- হিমালয়ের পথে যেন জীবনের রঙ্গ দেখি। বেশ লাগে। নিচেরদিকে তাকিয়ে দেখি --- পাকদন্ডীর পথ  ঘুরে উঠে আসছে আরো অনেক গাড়ি। এত উপর থেকে রঙবেরঙের গাড়িগুলোকে দেখতে কী ভালোই না লাগে! ঠিক যেন খেলনা গাড়ির মত এতটুকুন! এপথের বেশ খানিকটা দূরত্ব খুবই সংকীর্ণ। বিপদসঙ্কুলও বটে। তাই ওই পথটুকুতে যান চলাচলে রাস টানতে হয়েছে নিয়ন্ত্রণের শক্ত রশি দিয়েই। গাড়ির গতি সব একমুখী। একদল উঠে গেলে আরেকদল নামবে।

    বদলে গেছে হিমালয়। সবুজবসন পরিহার করে, পাথুরে-নগ্নতায় এখন তার রুক্ষ-গাম্ভীর্য। মাথায় তুষারমুকুট। সূর্যকিরণে ঝলকে উঠছে রাশিরাশি হিরে-মুক্তো-চুনি-পান্না। চোখ ঝলসে যায় সেই ঐশী আলোর বিচ্ছুরণে। তবু চোখ ফেরে না!

 


 

হনুমানচটি পেরিয়ে এলাম। শর্মাজি জানালো --- আর মাত্র সাত কিলোমিটার দূরে বদ্রিনাথ। এই সাত কিলোমিটার আর কতটুকুই বা পথ! দেখতে দেখতেই শেষ হয়ে যাবে। তারপর দৃষ্টির সীমানায় ধরা দেবে উত্তরাখণ্ডের সেই দুর্গম পর্বততীর্থ। যার পৌরাণিক মাহাত্ম্য আসমুদ্র-হিমাচলের কোটিকোটি ধর্মপ্রাণের ভক্তির উচ্ছ্বাসে এক চিরন্তন ব্যাকুলতা। তাই মুনি-ঋষি-সাধু-সন্ন্যাসী থেকে শুরু করে কালের স্রোতে এসেছে কতশত মানুষ। মানুষের ভক্তির কাছে হার মেনেছে দুর্লঙ্ঘ্য পথের প্রতিকূলতা। বিশ্বাসের আবেগের কাছে তুচ্ছ হয়ে গেছে দেহমনের সকল কষ্ট, সকল ক্লান্তি। এই সেই মহাতীর্থ!

  

    তীর্থের দেবতা পদ্মাসনা। ধ্যানস্থ। শালগ্রাম শিলা নির্মিত মূর্তিটি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে নারদকুণ্ড থেকে উদ্ধার করে মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেন শঙ্করাচার্য। মন্দিরটি অতীব সুদৃশ্য। মন্দিরের স্বর্ণচূড়া ইন্দোরের রানী অহল্যাবাঈয়ের বিনম্র ভক্তির এক অক্ষয়কীর্তি। মন্দিরের নীচেই তপ্তকুণ্ড। যার উষ্ণসলিলে অবগাহনে নাকি ধুয়ে সাফ হয়ে যায় জন্মজন্মান্তরের যত পাপ। এসবই বিশ্বাসের কথা। বলে তারাই --- যারা আসে তীর্থের টানে! আমি তো সে টানে আসি নি। এসেছি পথের টানে। আরেকটু গিয়েই সেপথে লম্বা দাঁড়ি টানা হবে। চলার শেষ! দর্শন-ব্যাকুলতায় তীর্থকামির অস্থিরপ্রাণ যখন আনন্দে উথালপাথাল, আমার প্রাণে শুধুই বিষাদের সুর। আসলে তীর্থের বাসনা নিয়ে তো আসি নি যে পুণ্যের হিসেব কষে আত্মপ্রসাদ লাভ করবো। এসেছি অচেনা পথের অজানা আনন্দের স্বাদ নিতে আর দুচোখ ভরে দেখে নিজেকে পরিপূর্ণ করতে। কিন্তু না মিটলো মনের স্বাদ, না দুচোখের পিপাসা! আসলে হিমালয়কে দেখেদেখেও যেন আশ মেটে না! কী জানি, হয়তো এই অতৃপ্তিই হিমালয়ের চিরন্তন আকর্ষণ। তাকে একবার দেখা দিলে, সে তোমাকে বারবার টানবে। জানিনা সে টানেই ব্যস্তজীবনের টানাপোড়েন কাটিয়ে, পথের রেস্ত জোগাড় করে আবার কখনো আসা হবে কিনা! তবে হোক আর নাই হোক, এটুকু নিশ্চিত জানি, শিমুলতলায় পরিচয় হওয়া সত্ত্বেও হরিদ্বারে যাকে আমি চিনতে পারি নি --- তাকে আর নতুনকরে কখনোই চিনতে ভুল করেবো না। কারণ বদ্রিনাথের পথে হিমালয়ের স্মৃতি কোনোদিনই ভোলার নয়।।

 =======================================

 


 

 

 

 

 

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়, হৃদয়পুর, উত্তর ২৪ পরগণা।

 

 

 

 

 

 

 

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। পর্ব : ৩ ।। বসন্ত ও রঙ বিষয়ক

    : শুভেচ্ছা-বার্তা : বর্ণময় বাসন্তী-দিনে সকলের হৃদয় উঠুক রেঙে। বর্ণালী বিচ্ছুরণে উজ্জ্বল হোক জীবন। ধুসর সময় পেরিয়ে বসন্তের বাহারি রঙে ঝলমল করে উঠুক প্রেমের পৃথিবী।  নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে বাসন্তী-শুভেচ্ছা।  —নিরাশাহরণ নস্কর। (স. / ন.প্র. )   'বসন্ত ও রঙ' বিষয়ক লেখাগুচ্ছের সূচি বসন্তের রঙ ।। জয়নাল আবেদিন রঙ ।। মনোজ ঘোষ রঙ || নীল ডায়েরি এসো, পলাশের রঙে সাজি ।। জয়শ্রী সরকার দোল ।। বিজিত মন্ডল 'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দোল এল ফাগুনে ।। মুক্তি দাশ এলো যে বসন্ত ।। দীনেশ সরকার রং ।। গণেশ ভট্টাচার্য রঙ ।। বিবেকানন্দ নস্কর রং ।। দীপক জানা রঙ ।। মেশকাতুন নাহার বসন্ত ঋতুর সন্ধ্যায় রবি ।। রাজর্ষি দাশগুপ্ত তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার বসন্তের পদধ্বনি ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ঋতুশ্রী বসন্তে ।। রাজর্ষি রায় চৌধুরী অচেনা কথা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত রঙ ।। জীবন সরখেল রঙ ।। সুবীর কুমার ভট্টাচার্য রাঙিয়ে দিয়ে যাও ।। তাপসী প্রামাণিক অন্য বসন্ত ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)      

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন

দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন এখন  তোমার হাতে খেমতা ছিল বলে কষে বসাও বুকে একটা লাথি অধীন দেশে ছিল এমনতর স্বাধীন দেশেও বাড়ছে সংখ্যাটি। বিচার ছাড়াই গারদ এখনো যে আইন করে পাস করছ কেন ক্ষমতা অপব্যবহারে তুমি অভিযুক্ত মান কি না মান। স্বাধীন দেশেও বিচার ব্যবস্থাকে নানান রঙের সুতোয় কেন বাধ বছর বছর গড়গড়িয়ে চলা ন্যায় কাঁদে বাড়ে অবসাধও। টাকা কেন সাদা কালো হবে মানব মন উত্তোলিত নয়  মানুষ গড়ার বিদ্যালয় গুলি লজ্জা নত বাড়ছে অবক্ষয়। ধর্ম নিয়ে বিভেদ কেন গড়  প্রতিবেশী কেন যে অবিশ্বাসী হিংসা বাড়ে মারণাস্ত্র আসে জীবন কি দ্বন্দ্বের ই প্রত্যাশী। আমি একটা দুটো করে নামের পেছনে  দাগ দিতে থাকি আর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি  সারা পৃষ্ঠা দাগ দিতে পারলেই ছুটি তখন আমাকে পায় কে ! আমি নদীর কিনারায় পৌঁছে যাব সাদা রুমাল উড়াবো আর ওপারে সংকেত পাঠাব আয় সাঁতরে চলে আয়  আমরা মাঠে অপেক্ষায় আছি খেলার সময় বয়ে যায়। এখন হাতে ধরা কাগজের পৃষ্ঠার দিকে তাকিয়ে দেখছি  কে যে  সংখ্যালঘু আর  কারা কারা সংখ্যাগুরু !! ============== সুশান্ত সেন  ৩২বি শরৎ বোস রোড কলিকাতা,৭০০০২০ ...

উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

উদভ্রান্ত আমি জয়িতা চট্টোপাধ্যায় একটা জীবন্ত আমি ঘুরে বেড়াই খাতার পৃষ্ঠায় ব্যর্থ প্রেম থেকে তুলে আনি নতুন অহংকার বস্তু কণার মতো ছড়িয়ে দিই দুঃখকে মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত গড়ে ওঠে একটা বিরাট পথ যা তুমি পেরুতে পারো না আবার সরাতেও পারো না আর আমি সমস্ত মানুষের থেকে আলাদা হয়ে হেঁটে বেড়াই নিজেরই কবিতার পংক্তিতে আমার দুহাতে এখন উপচে পড়ে দয়া গোটা পৃথিবীই মনে হয় ভীষণ আপন কেবল তুমি একদিন ফিরিয়ে দিয়েছিলে বলে... ============== জয়িতা চট্টোপাধ্যায় শ্যামনগর উত্তর চব্বিশ পরগনা ভারত

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

রিভিউ ।। উপন্যাসঃ এক নদী দুই স্রোত ।। লেখকঃ বিশ্বনাথ প্রামানিক ।। আলোচকঃ জয়শ্রী ব্যানার্জি

গভীর এক উপলব্ধির প্রেমের উপন্যাস 'এক নদী দুই স্রোত' জয়শ্রী ব্যানার্জি    এই গল্প গড়ে উঠেছে শ্রীমন্ত, লক্ষ্মী,হাসিনাকে কেন্দ্র করে। তাদের ত্রিকোণ প্রেমের বাতাবরণে যেমন এক গভীর গোপন ভালোবাসার জন্ম নিয়েছে তেমনই প্রকাশিত হয়েছে মানুষের মধ্যে ঈর্ষা, সংকীর্ণতা, দুর্বলের প্রতি সবলদের দম্ভ ! যেসব চরিত্রগুলো উঠে এসেছে তাদের সবাই আর পাঁচজনের মতোই আলো আঁধারে মিশে আছে । কখনও ভালো কখনও কিছু মন্দ দিক দেখি । শ্রীমন্ত যাকে ভালো শান্ত, পরোপকারী হিসাবে দেখি, হাসিনার প্রতি তার যে গোপন এক  ভালোবাসা, ভালোলাগা ..আবার লক্ষ্মীকেও সে ঠিক উপেক্ষা করতে পারে না, এর মধ্যে কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ঠিক যেনো পাড়ার ছেলেটি! তার ভালোবাসা স্বপ্ন, ইচ্ছা, হতাশা অভিমান, অপেক্ষা, রাগ ক্ষোভ তার বেকারত্ব  তার প্রতি কিছুজনের কটূক্তি বা উপেক্ষা তার ভিতরের পুরুষকে কখনো জাগিয়ে তোলে কখনও যেন দমিয়ে রাখে!  অপরদিকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা হাসিনাকে দেখি লাজুক, শান্ত পড়াশোনায় ভালো মেয়েটি । সেও যেনো খুব চেনা কোনো মেয়েটি । শ্রীমন্তর প্রতি তার যে আকর্ষণ তা পবিত্র লাগে । ওর জন্য নিজের জীবন দেওয়া হাসিনার...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

কবিতা ।। অন্ধমনে ।। সায়নী আচার্য্য

 অন্ধমনে  সায়নী আচার্য্য পথচলার প্রতিক্ষণে ধাওয়া করেছে বিপদ। জেতার জন্যে উন্মাদ হয়ে ভাঙতে চাইছে গরাদ। অন্ধমনে বদ্ধ ঘরে একলা বসে ভাবে। ভাগ্য কেন দুঃখ দেয়? বাঁচিয়ে রাখে ভবে। প্রবল তার মনের জোর, মানে না কোনো বারণ। মানে না কোনো বঞ্চনা, লড়বে আমরণ। ভাগ্য শুধু সুযোগ আনে, মনকে করে শক্ত। পায়ের বেড়ী ভেঙে দিয়ে বেরিয়ে আসে ভক্ত। অন্ধ কেবল সাহায্য চায় , পারে না কোনো কাজ। এমনভাবে ছোটো করা বন্ধ করো আজ। ===================       সায়নী আচার্য্য     ইলিয়াস রোড, আগর পাড়া                 কোলকাতা-৭০০০৫৮

চৈনিক লোককথা ।। এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র

চৈনিক লোককথা এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ইংরেজি থেকে বাংলা রূপান্তর : চন্দন মিত্র এক কৃষকের ছিল নাশপাতির বাগান। তাঁর বাগানের নাশপাতি ছিল স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। তিনি ঠেলাগাড়িতে ডালপাতাসহ নাশপাতি চাপিয়ে বাজারে গিয়ে বিক্রি করতেন। টাটকাতাজা নাশপাতি কেনার জন্য তার গাড়ির সামনে ভিড় জমে যেত। একদিন এক বৌদ্ধ ভিক্ষু কৃষকের গাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে একটি নাশপাতি চাইলেন। ভিক্ষুর মাথায় ছেঁড়া টুপি ও পরনে জীর্ণ চীবর দেখে কৃষক বুঝলেন নাশপাতি কিনে খাওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। কৃষক তাঁকে সরে যেতে বললেন, কিন্তু তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন, এক পাও নড়লেন না। কৃষক এবার ভিক্ষুকে গালিগালাজ শুরু করলেন। ভিক্ষু অকম্পিত কণ্ঠে ধীরভাবে বললেন, আপনার গাড়িতে কয়েকশ নাশপাতি আছে, সেখান থেকে একটা ছোটো মতো আমাকে দিলে আপনার খুব বেশি ক্ষতি হত না বোধহয়। ঠিক আছে বুঝলাম আপনি কৃপণ মানুষ। কিন্তু আমাকে গালিগালাজ করছেন কেন? উপস্থিত লোকজন কৃষককে বললেন, ভাই একটা ছোটো দেখে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। কৃষক অনড়, কারও কথায় তিনি কর্ণপাত করলেন না। ভিড়ের ভিতর থেকে একজন কারিগর এসে একটি নাশপাতি কিনে ভিক্ষুর হাতে তুলে দিলেন। ভিক্ষু তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে উপস্থিত ল...